Hot!

Other News

More news for your entertainment

সুস্থ আছেন কিনা প্রশ্নোত্তরে জেনে নিন!


সম্প্রতি বিশ্ব স্বস্থ্য সংস্থার একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে বিশ্বে প্রতি বছর যতজন মানুষ অসুস্থতার কারণে মারা যান, তাদের বেশিরভাগকেই বাঁচানো সম্ভব হত যদি ঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা যেত। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমনটা করা যায়নি। কারণ নিজের শরীর সম্পর্কে আমাদের মতো দেশের বেশিরভাগ মানুষই কিছু জানেন না। ফলে শরীরে বাসা বেঁধে থাকা একাধিক রোগের উপস্থিতি তারা টেরও পান না। এমন অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব, যদি এই লেখায় আলোচিত প্রশ্নগুলির ঠিক ঠিক জবাব দিতে পারেন। কারণ এই প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার মাধ্যমেই আপনারা নিজেদের শরীর সম্পর্কে এমন অনেক কিছু জেনে যাবেন, যা এতদিন পর্যন্ত অজানা ছিল।

প্রশ্নগুলির জবাব দেওয়ার পর লেখার শেষে দেওয়া স্কোর কার্ডের সঙ্গে আপনার উত্তর মিলিয়ে দেখে নিন কোনও রোগ আপনার শরীরে চুপিসারে বাসা বেঁধেছে কিনা। প্রশ্নগুলি হল...

১. দিনে কতবার ধূমপান করেন?
# প্রতিদিন (স্কোর= -১০)
# কিছু কিছু সময় (স্কোর= -৭)
# খুব কম (স্কোর=-২)
# কোনও দিন না (স্কোর= ৩)

২.মদ্যপান করেন?
# প্রতিদিন (স্কোর= -১০)
# কিছু কিছু সময় (স্কোর= -৭)
# খুব কম (স্কোর= -২)
# একেবারেই না (স্কোর=৩)

৩. কতটা চিনি খান?
# খুব বেশি মাত্রায় (-১০)
# খুব বেশিও না, আবার কমও না (-৩)
# খুব কম (৩)

৪. প্যাকেটজাত মাংস খান?
# প্রতিদিন (-৭)
# সপ্তাহে ২-৩ বার (-৫)
# সপ্তাহে ১ বার (০)
# একেবারেই খাই না (৩)

৫. সবজি খান কি?
# দিনে ৩ বার খাই (৩)
# দিনে ২ বার খাই (২)
# দিনে একবার মাত্র খাই (১)
# খুব কমই সবজি খাওয়া হয় (০)

৬. কোল্ড ড্রিঙ্ক খান?
# প্রতিদিন (-৫)
# কিছু কিছু সময় (-১)
# খুব কম খাওয়া হয় (০)
# একেবারেই খাই না (৩)

৭. রাতে ৮ ঘন্টা ঘুমান?
# প্রতিদিন (৩)
# কিছু কিছু দিন (২)
# খুব কম সময়ই তেমন সুযোগ পাই (১)
# একেবারেই নয় (০)

৮. কাজের এনার্জি থাকে তো?
# প্রতিদিনই থাকে (৩)
# কিছু কিছু সময় থাকে (২)
# খুব কম থাকে (১)
# একেবারেই এনার্জি পাই না (০)

৯. কত দিন অন্তর অন্তর উপোস করেন?
# সপ্তাহে ১ বার (৩)
# মাসে ১ বার (২)
# কখনও নয় (০)

১০. প্রতিদিন কটা করে ফল খান?
# ৩-৪ টে (৩)
# ২-৩ টে (২)
# ১-২ (১)
# ০ (০ পয়েন্ট)

১১. সকালে কি বাজার চলতি সিরিয়াল জাতীয় খাবার খান?
# প্রতিদিন (-৫)
# শুধু শনিবার আর রবিবার (-২)
# অফিসে যেতে দেরি হয়ে যায় যেদিন সেদিন শুধু (-১)
# কখনও নয় (৩)

১২. শরীরচর্চা করেন নাকি?
# প্রতিদিন (৩)
# কিছু কিছু দিন (২)
# শুধু সপ্তাহের শেষে (১)
# একেবারেই করা হয়ে ওঠে না (০)

১৩. মেডিটেশন করেন?
# প্রতিদিন (৩)
# এক দিন বাদে বাদে (২)
# সপ্তাহে একবার (১)
# একেবারেই করা হয় না (০)

১৪. আপনার শরীরে সূর্যের আলো লাগে?
# প্রায়ই লাগে (৩)
# কখনও কখনও (২)
# খুব কম (০)

১৫. স্যালাড খান?
# প্রতিটি খাবারের সঙ্গে খাই (৩)
#দিনে ১ বার খাই (২)
# মূল খাবার খাওয়ার সময় শুধু খাই (১)
# কখনও খাওয়া হয় না (০)

১৬. আপনি কি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে জীবন চালান?
# প্রতিদিন (৩)
# মাঝে মাঝে (১)
# কখনও নয় (০)

১৭. আপনার পেটে কি চর্বি রয়েছে?
# অনেক মাত্রায় রয়েছে (-৫)
# খুব না হলেও রয়েছে। দেখে মনে হয় ৩ মাসের প্রেগন্যান্ট (-২)
# অল্প রয়েছে (০)
# একেবারেই নেই (৩)

১৮. গণ পরিবহনে যাতায়াত করেন?
# প্রতিদিন (-৩)
# কিছু কিছু সময় (-১)
# অল্প কয়েক দিন (০)
# একেবারেই নয় (৩)

১৯. নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর হেলথ চেকআপ করান?
# অবশ্যই (৩)
# এমনটা করা হয়ে ওঠে না (-৩)

এবার জেনে নিন আপনার শরীরের অবস্থা সম্পর্কে:
০-১৫: সবকটি প্রশ্নের উত্তর যোগ করার পর যোগফল যদি ০-১৫ মধ্যে থাকে তাহলে বুঝবেন আপনার শরীরের অবস্থা একেবারেই ভাল নেয়। তাই আপনাকে প্রতিদিন সবুজ শাক-সবজি খেতে হবে। সেই সঙ্গে নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো মাস্ট! প্রসঙ্গত, এমন মানুষদের ধূমপান এহং মদ্যপান একেবারে ছেড়ে দিতে হবে।

১৬-৪২: এর মধ্যে যারা আছেন তারা সেভাবে অসুস্থ না হলেও আপনাদের শরীরের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। আর জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে শরীর এবং মনকে আরও চাঙ্গা করে তোলা উচিত।

৪৩-৫৭: এদের শরীরের অবস্থা খুব ভাল। সুস্থভাবে দীর্ঘদিন বাঁচতে এইভাবেই থাকার চেষ্টা করুন।

অ্যান্ড্রয়েডের যে ৫টি তথ্য আপনি জানেন না


হাতে হাতে ফোন মানেই এখন স্মার্টফোন। আর স্মার্টফোন মানেই তাতে থাকতে হবে অ্যান্ড্রয়েড। অ্যান্ড্রয়েড ছাড়া স্মার্টফোন ভাবাই যায় না। অপারেটিং সিস্টেমগুলির মধ্যে এখন সবথেকে জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড। কিন্তু এই অ্যান্ড্রয়েডের সম্পর্কে কতটা জানেন? জেনে নিন অ্যান্ড্রয়েডের অজানা ৫টি তথ্য।

১) সারা বিশ্বে যত স্মার্টফোন রয়েছে, তার মধ্যে ৮১ শতাংশ স্মার্টফোনেই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে।
২) আমরা অনেকেই মনে করি গুগল আর অ্যান্ড্রয়েড একই কোম্পানি। কিন্তু আসলে তা নয়, গুগল অ্যান্ড্রয়েড তৈরি করেনি।
৩) প্রথম অ্যান্ড্রয়েড প্রোটোটাইপ অনেকটা ব্ল্যাকবেরির মতো দেখতে ছিল।
৪) ২০০৮ সালে প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন লঞ্চ করেছিল।
৫) এখনও পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েডের সব ভার্সনের নামই মিষ্টির নামে রাখা হয়েছে।

বিলুপ্ত কয়েকটি কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা


স্বৈরাচারী বা অগণতান্ত্রিক সরকারগুলোতে জনগণের ওপরে নজরদারি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় কাজ। বর্তমানে অবশ্য পৃথিবীর অনেক দেশেই নজরদারির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেসব সংস্থা এই কাজগুলো করে তাদেরকে গুপ্ত পুলিশ বা ওই ঘরানার নাম দেওয়া হয়। এই বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনীগুলোর সদস্যরা সরকারি সমর্থনের ফলে কখনো কখনো এত ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে যে দেশের ইতিহাসেই এরা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। গুপ্ত পুলিশ বা সিক্রেট পুলিশ যদি লাগামছাড়া শক্তি পেয়ে বসে, তবে দেশের মানুষের কাছে তারা হয়ে ওঠে আতংকের অন্য নাম। বিলুপ্ত করে দেওয়া এমনই কয়েকটি কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থার কথা আজ বলবো।

স্তাসি (পূর্ব জার্মানি)
১৯৪৯ সালে সোভিয়েত সমর্থিত পূর্ব জার্মানী গঠিত হওয়ার মাস চারেকের মধ্যে স্তাসি গঠন করা হয়। স্তাসি শব্দটি জার্মান মিনিস্ট্রি ফর স্টেট সিকিউরিটি এর সংক্ষিপ্ত রূপ। শুরু দিকে এই সংস্থা খুব ছোট ছিল। মূলত পশ্চিমা গুপ্তচর আর নাৎসীদের ওপরে নজরদারি করাই এর কাজ ছিল। তবে ১৯৫৭ সালে এরিখ মিয়েল্কে এর প্রধান হয়ে আসার পর সব বদলে যায়। ১৯৮৯ সাল স্তাসিতে কর্মরত ছিল এক লক্ষ মানুষ। এর বাইরে অনিয়মিত এজেন্ট আর ইনফরমার ছিল প্রায় ২০ লক্ষ। মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ স্তাসির নজরদারির আওতায় ছিল। ইরাক সহ এশিয়া আর আফ্রিকার বহু দেশে স্তাসি এজেন্টরা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছে।
source: pinterest

মিয়েল্কেকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম বলতো ‘মাস্টার অব ফিয়ার’। সোভিয়েতদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মিয়েল্কে এর আমলে স্তাসি বিশ্বের সবথেকে দক্ষ এবং কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থায় পরিণত হয়। সে আমলে পূর্ব জার্মানি থেকে অনেকেই পালিয়ে পশ্চিম জার্মানিতে চলে যেত। স্তাসি কর্মকর্তারা এসব পালিয়ে যাওয়া লোকদেরকে অপহরণ করে ফেরত আনতেন। পূর্ব জার্মানীর নাগরিকদের ওপরে সার্বক্ষণিক নজরদারি করবার জন্য স্তাসি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে প্রচুর এজেন্ট নিয়োগ করতো। সমাজে সৃষ্টি হয়েছিল এক চাপা আতংক। কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারতো না। ফলে সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অসন্তোষ দানা বাধতে পারতো না। বার্লিন প্রাচীর টপকে পালাবার সময় অনেক মানুষ স্তাসি এজেন্টদের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
source: wikimedia commons

১৯৮৯ সালে মিয়েল্কে সংসদে বক্তৃতা দিতে গেলে তাকে খুব বাজেভাবে অপদস্থ করা হয়। সেই ফুটেজ আবার সম্প্রচারও করা হয়। সবাই বুঝতে পারে স্তাসি আর টিকবে না। কয়েক মাসের মধ্যে, ১৯৯০ সালে স্তাসি বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়। ‘দ্য লাইভস অব আদার্স’ নামের বিখ্যাত চলচ্চিত্রটি জনৈক স্তাসি কর্মকর্তাকে নিয়ে বানানো হয়েছে।

সাভাক (ইরান)
অর্গানাইজেশন অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ওরফে সাভাক ছিল ইরানের শাসক রেজা শাহ পাহ্লবী এর গোয়েন্দা সংস্থা। ১৯৫৭ সালে সিআইএ আর মোসাদের আদলে এটি গড়ে তোলা হয়। ইরানের সবথেকে ভয়ংকর সংগঠন ছিল এই সাভাক।

রেজ শাহ কম্যুনিস্ট আর ধর্মীয় সংগঠনগুলিকে ভীষণ ভয় পেতেন। তার নির্দেশে সাভাক গোটা দেশ জুড়ে যথেচ্ছ ধড়পাকড় চালাতো। বিশেষ করে সাভাকের অত্যাচার আর জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি ছিল ভয়ংকর। বন্দীকে প্রয়োজনে অপহরণ করে খুন করে ফেলতেও সাভাক এজেন্টদের বাধতো না। বিদেশে পড়তে যাওয়া ইরানি ছাত্রদের ওপরেও নজরদারি চালাতো এই সংগঠন।

ঘুমাতে না দেওয়া, একলা আটকে রাখা, পায়ের পাতায় চাবুক মারা, নখ উপড়ে ফেলা, বৈদ্যুতিক শক, সাপ দিয়ে ভয় দেখানো, নাকে এসিড ঢেলে দেওয়া, ধর্ষণ, বন্দীর গায়ে মূত্র বিসর্জন- সাভাকের অত্যাচারের ধরণ তালিকা করেও শেষ হবে না। বন্দীরা শেষমেষ বাধ্য হয়ে টিভিতে এসে স্বীকার করতেন নিজেদের দোষ। তারা ইরান সরকারের গুণগাণ করতেন। না করলেই আবার অত্যাচার। সাভাক তেহরানের কুখ্যাত এভরিন কারাগারসহ দেশজুড়ে অনেকগুলো নিজস্ব কারাগার পরিচালনা করতো। ১৯৭৯ সালে শাহের পতনের কিছুদিন আগে সাভাক বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়। ‘পার্সেপোলিস’ নামক সিনেমাটিতে সাভাকের অত্যাচারকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

ওখরানা (রাশিয়া)
১৮৮১ সালে ওখরানা প্রতিষ্ঠা করে রুশ জার। মূলত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নিহিলিস্টদের দমন করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। পরবর্তীতে কম্যুনিস্টদের বিরুদ্ধেও এরা প্রচুর কাজ করেছি। রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে নির্বাসিত আর পলাতক কম্যুনিস্টদের অন্যতম আড্ডা প্যারিসেও ওখরানা সক্রিয় ছিল।
source: rarehistoricalphotos.com

ওখরানা কুখ্যাত ছিল এর ভয়ানক অত্যাচার আর বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের জন্য। ওখরানা কর্মকর্তারা বিপ্লবীদের মধ্যে ঢুকে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকান্ড চালাতেন। অনেক প্রথম সারির বিপ্লবী তাদের এই প্রলোভনে পা দিয়ে বিপদে পড়েছেন। বলশেভিকেরা দাবি করে ‘ব্লাডি সানডে’ তে পাদ্রী গ্যাপন ওখরানা কর্মকর্তাদের নির্দেশমতো কাজ করছিলেন। ওখরানা বলশেভিকদের মোকাবেলা করবার জন্য শ্রমিকদের মধ্যে আলাদা ট্রেড ইউনিয়ন পর্যন্ত গড়ে তুলেছিল। তাদের গোপন সাহায্যে ১৯০৩ সালে রাশিয়ায় ‘দ্য প্রটোকলস অব দ্যা এল্ডার্স অব জায়ন’ নামের একটি ইহুদী বিদ্বেষী পুস্তিকা প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য, ট্রটস্কীসহ অনেক বিখ্যাত বলশেভিক নেতা ইহুদি পরিবারে জন্মেছিলেন। পরে হিটলারের সমর্থকেরা এই পুস্তিকাটিকে ইহুদীদের ওপরে আক্রমণ করবার জন্য অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতো।

১৯১৭ সালে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পরে উত্তেজিত জনতা ওখরানার কার্যালয় পুড়িয়ে দেয়।

এনকেভিডি (সোভিয়েত ইউনিয়ন)
নারোদনি কমিসারিয়েট ভনুত্রেন্নিখ ডেল ওরফে এনকেভিডি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯১৭ সালে। ১৯৩০ সাল পর্যন্ত এটি কেবল সাধারণ পুলিশ সংস্থা ছিল। পরে, ১৯৩৪ সালে গুপ্ত পুলিশ ওগপু কে এর সাথে জুড়ে দিলে এনকেভিডি দারুণ শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ও পরবর্তী সময়ে পূর্ব ইউরোপ আর সোভিয়েত ইউনিয়নে গজিয়ে ওঠে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনগুলোকে পিষে ফেলে এনকেভিডি। কাতিন গণহতার মতো অনেকগুলো গণহত্যা আর খুনের রক্ত লেগে আছে এই সংস্থার গায়ে। লক্ষাধিক মানুষ মরেছে এই সময়ে। এর বাইরে এনকেভিডির সবথেকে কুখ্যাত কাজ হল তিরিশের দশকে স্তালিনের নির্দেশে সোভিয়েত সমাজ আর কম্যুনিস্ট পার্টির লক্ষ লক্ষ মানুষকে বন্দী ও হত্যা করা, অত্যাচার, গুলাগে পাঠিয়ে দেওয়া ইত্যাদি। এনকেভিডির হাতে কেবল স্তালিনের সমালোচক হওয়ার অপরাধে বহু নিবেদিত কম্যুনিস্টকে প্রাণ খোয়াতে হয়েছে। ট্রটস্কিকেও হত্যা করে এক এনকেভিডি এজেন্ট।
source: pinterest

এনকেভিডি অবশ্য দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জার্মান বাহিনীর ওপরে অসংখ্য গুপ্ত হামলা চালিয়ে প্রভূত সাহায্য করেছিল মিত্রশক্তিকে। এর এজেন্টদের দক্ষতার কারণেই ১৯৪৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন অতি অল্প সময়ে পরমাণু শক্তিধর হয়ে ওঠে। এনকেভিডির প্রধানদের দুর্ভাগ্যও লক্ষ্য করবার মতো। লক্ষ মানুষের অভিশাপের কারণেই কিনা কে জানে, এর প্রথম পরিচালক গেন্নাদি ইয়াগোদাকে স্তালিনের নির্দেশে খুন করা হয়। পরবর্তী প্রধান নিকোলাই ইয়াজভেরও একই পরিণতি হয়। শেষজন, ল্যাভরেন্তি বেরিয়া কয়েক লক্ষ মানুষকে হত্যা করে, গুলাগে পাঠিয়ে শেষমেষ নিজেই এক সোভিয়েত জেনারেলের গুলি খেয়ে মরেন। ১৯৫৩ সালে এনকেভিডি ভেঙ্গে কেজিবি গঠন করা হয়।

 দিনা (চিলি)
দিরেক্তোরেত দে ইন্তেলিজন্সিয়া ন্যাশিওনাল ওরফে দিনা গঠন করা হয় ১৯৭৩ সালে, চিলিতে। জনপ্রিয় নেতা সালভাদর আয়েন্দেকে খুন করে তখন সদ্য ক্ষমতায় এসেছেন অগুস্তো পিনোশে। দেশব্যাপী বিক্ষুব্ধ মানুষকে বশে আনবার জন্য দিনা গঠন করা হয়। শুরুতে এটি সেনাবাহিনীর হাতে থাকলেও ১৯৭৪ সালে একে পৃথক সংস্থা করা হয়
source: The Santiago Times

দিনা চিলিতে হাজার হাজার মানুষের গুম আর হত্যার জন্য দায়ী। মেয়েদেরকে ধর্ষণ করা আর জীবিত বন্দীদের পায়ের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়া ছিল এর অত্যাচারের অন্যতম ধরণ। অপারেশন কন্ডোর আর অপারেশন কলম্বো নামের দুটি কুখ্যাত কম্যুনিস্ট বিরোধী কার্যক্রমে মার্কিন সিআইএর সাথে কাজ করেছে দিনা কর্মকর্তারা। হাজার হাজার বন্দীকে আতাকাম মরুভূমির বিরান অঞ্চলে আটকে রাখতো দিনা কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে, পিনোশের পতনের পর অনেক দিনা এজেন্টকে বিচারের আওতায় আনা হয়। পিনোশে অবশ্য বিচারকাজ শুরু হওয়ার আগেই মারা যান।

প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে হলে...


যদি প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করে ধনী হতে চান, তবে ক্রমবর্ধমান কোনো পাবলিক কম্পানিতে বিনিয়োগ করা উচিত। বড় বড় সব টেক জায়ান্ট এমনই প্রতিষ্ঠান। মাত্র শুরু করেছে কিন্তু সম্ভাবনাময়, এমন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করলেও লগ্নি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এতে আপনার অবস্থান নিরপেক্ষভাবে নাও দেখা হতে পারে। আবার ৫ বছর ধরে যদি একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর পেছনে সময় দেন তবে ব্যর্থ হলেও প্রচুর অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। বিশেষজ্ঞরা এখানে জানিয়েছেন, টেক খাতে বিনিয়োগ করে ধনী হতে কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

১. প্রথমেই ঠিক করে নিন আপনি কি করবেন। নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দেবেন। নাকি পুরোনো কোনটিতে। আবার এ প্রতিষ্ঠানে নিজের কি ভূমিকা দেখতে চান, তাও ঠিক করুন। আপনি বিভিন্ন স্থানে গিয়ে কাজ করতে চান বা পরোক্ষভাবে কাজ করতে চান। আগে নিজের অবস্থান ঠিক করে নিতে চান।

২. নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে আপনি হলে নিজের চাহিদাগুলো ঠিক করে নিন। নতুন শ খানেক প্রতিষ্ঠান বের করুন। এদের মধ্যে ৫০টির সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ২০টি প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিন। সব প্রতিষ্ঠান থেকে ২-৩টি করে ভালো প্রস্তাব বেরিয়ে আসবে। এখান থেকে ঠিক করুন কি করতে চান।

৩. উন্নত সংস্কৃতি ও গুণসম্পন্ন মানুষে পূর্ণ প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার চেষ্টা করুন। প্রতিষ্ঠানটি আপনার চাহিদা না পূরণ করতে পারলেও তুষ্ট থাকতে পারবেন।

৪. অনেকেই প্রথমেই এমন আয়ের আশা করেন যা পুরোপুরি  অবাস্তবিক। এ ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত হোন। প্রযুক্তি কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে তারা শীর্ষস্থানীয় কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মতো আয় আশা করেন। এটা ভুল চিন্তা।

৫. যাই করেন না কেন, তা অর্জন করে নেওয়ার চেষ্টা করুন। এমনিতেই এসে ধরা দেবে না। বাড়তি সুবিধাভোগের চিন্তা তখনই করতে পারেন, যখন তা আপনার প্রাপ্য হবে। আপনার চাহিদা সুষ্ঠু থাকলে প্রতিষ্ঠানও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে পারবে।

৬. প্রতিষ্ঠান ও সেবাগ্রহণকারীর জন্যে কিছু করার ইচ্ছা মনে পুষে রাখুন। নির্দিষ্ট কিছু কাজ ছাড়া আপনার ভূমিকা হয়তো গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সার্বিকভাবে মানুষের জন্যে এমন কিছু করছে যা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক সবাই। প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত উন্নয়নের জন্যে কাজ করে যান। আপনারও উন্নয়ন ঘটবে।

৭. প্রতিষ্ঠান যে ব্যবসায় নেমেছে তার সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান রাখুন। এ বিষয়ে আপনাকে বিশেষজ্ঞ হতে হবে না। কিন্তু অজ্ঞ থাকাও চলবে না। প্রয়োজনে অভিজ্ঞজনদের কাছ থেকে জেনে নিন। প্রশ্ন প্রস্তুত করুন এবং তা ছুঁড়ে দিন। মৌলিক বিষয়ে জ্ঞান থাকলে আপনার উন্নতি রুখতে পারবে না কেউ।

৮. স্বচ্ছতার প্রতি আসক্ত থাকুন। প্রতিষ্ঠান হয়তো খুঁটিনাটি সব আপনাকে জানাতে পারবে না। এর জন্যে তার দিকে আঙুল তুলতে পারেন না। যে বিষয়গুলো জানলে গোটাটা পরিষ্কার হবে তা জেনে নিন। বুঝে নিন ওই প্রতিষ্ঠানে আপনার অংশ কতটুকু। যদি প্রতিষ্ঠান আপনাদের মিথ্যা তথ্য দেয়, তবে অন্যকিছু ভাবার চেষ্টা করুন।

ডাম্বেল নিয়ে সহজ ব্যায়াম

ডাম্বল নিয়ে ব্যায়ামের সঙ্গে আগেই পরিচিত হয়েছেন আপনি। আজ ডাম্বেল নিয়ে আরো কিছু ব্যায়ামের সঙ্গে পরিচিত হব আমরা। সহজ কিছু ব্যায়াম, যার জন্য প্রয়োজন শুধু দুটি ডাম্বল। এ জন্য ট্রেনিং সেন্টারে যেতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ঘরেও করা যেতে পারে সহজ এ ব্যায়ামগুলো। শুরুতে প্রয়োজন নেই ভারী ডাম্বেলেরও। হালকা দুটি ডাম্বল দিয়েই শুরু করা যেতে পারে।
স্কোয়াট জাম্প
১.  দুই হাতে দুটি ডাম্বেল নিয়ে মেঝেতে পা সমান্তরাল রেখে একটু নিচু হয়ে হালকা মতো বসতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, শরীরের পুরো ভরটা যেন পায়ের গোড়ালির ওপর থাকে এবং বুক সামনের দিকে থাকে।
২.   ডাম্বলসহ ওপরের দিকে এমনভাবে লাফ দিতে হবে, যেন দুই পা সোজা অবস্থায় আসে। লাফানোর পর পা মাটি স্পর্শ করার পর আবার হালকাভাবে বসতে এবং লাফ দিতে হবে।
বেন্ট ওভার রো হোল্ড
১.   দুই হাতে ডাম্বল নিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে ডাম্বল দুটি উঁচু করে বুকের কাছে আনতে হবে।
২.   ডাম্বল ধরা একটা হাত বুকের কাছে রেখে অন্য হাতটা নিচে নামাতে হবে। আবার হাতটা আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে হবে। এবার অন্য হাতটা একইভাবে নিচে নামিয়ে আবার আগের জায়গায় আনতে হবে।
রোলিং ফ্লোর প্রেস
১.   দুই হাতে দুটি ডাম্বল নিয়ে চিত হয়ে শুতে হবে। এ সময় দুই হাঁটু ভাঁজ করা থাকবে এবং দুই হাতের কনুই মেঝের সমান্তরালে রেখে ডাম্বল দুটি উঁচু করে ধরতে হবে, যাতে বুকের ওপর থাকে।
২.   এবার একপাশে কাত হয়ে অন্য হাত উঁচুতে তুলে ধরতে হবে। এবার বিপরীত পাশে ফিরে অন্য হাতে ওপরে তুলতে হবে এবং ওপরের হাতে নিচে নামাতে হবে।
আয়রন ক্রস
১.  দুই হাতে দুটি ডাম্বল নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ডাম্বল দুটি ধীরে ধীরে হাত সোজা অবস্থায় মাথার ওপর তুলতে হবে।
২.  ধীরে ধীরে হাতে ধরা ডাম্বল নিচে নামাতে হবে। হাত কাঁধ বরাবর আসার পর থামতে হবে, আবার ওপরে তুলতে হবে। এভাবে কয়েকবার অনুশীলন করতে হবে।

ফটোগ্রাফিক মেমোরি বলতে কি আসলেই কিছু আছে?


ধরুন, আগামীকাল আপনার কোনো একটা ফাইনাল পরীক্ষা, আপনি পড়ছেন, আরো পড়ছেন, কিন্তু সিলেবাস শেষ হচ্ছে না। যা-ই পড়ছেন, নতুন কিছু একটা শুরু করতে গিয়েই মনে হচ্ছে আগেরটা ভুলে গিয়েছেন। এমন অবস্থা তো আমাদের সবার জীবনেই হয়েছে, তা-ই না? তখন কি মনে হয় না, ইশ আমার যদি ফটোগ্রাফিক মেমোরি থাকতো, কতই না ভালো হতো! একবার দেখতাম, সব ঢুকে যেত মাথায়, পরীক্ষায় গিয়ে শুধু উগড়ে দিয়ে আসতাম! তারপর একদম কেল্লা ফতে! সেরা ফলাফল আর ঠেকায় কে!

শুনতে বেশ সিনেমাটিক লাগছে তাই না? সিনেমাটিকই বটে, সুপারম্যানের লেক্স লুথর, এক্স ম্যানের প্রোফেসর এক্সের মতো চরিত্রের মাঝে ফটোগ্রাফিক মেমোরি দেখতে দেখতেই আমাদের মনে গেঁথে গেছে ফটোগ্রাফিক মেমোরির অস্তিত্ব।

কিন্তু পর্দার বাইরের বাস্তব জীবনে কি আসলেই ফটোগ্রাফিক মেমোরি বলে কিছু আছে? মানুষের ভালো স্মৃতিশক্তি তো আমরা অহরহই দেখতে পাই। দাবার গ্র্যান্ডমাস্টাররা দাবা বোর্ডের দিকে পাঁচ সেকেন্ড তাকিয়েই স্মৃতিতে গেঁথে নিতে পারেন সবার অবস্থান। রুবিক্স কিউব যারা অনেক দ্রুত মেলান, তারাও একবার তাকিয়ে মনে রাখতে পারেন সম্পূর্ণ কিউবটা কীভাবে আছে। অবশ্য তাদের এটা পারেন কারণ তাদের কাছে দাবার ঘুঁটির বিভিন্ন অবস্থান আর রুবিক্স কিউবের সজ্জা মাথায় প্যাটার্নের মতো গেঁথে আছে।  তারপর হাইপারথেসমিয়া বা 'কিছু না ভোলার রোগ' বলে একটা ব্যাধি আছে, এ রোগ থাকলে মানুষ দৈনন্দিন জীবনের কিছুই ভুলতে পারে না এবং এ ব্যাপারটার উপর সে রোগীর কোনো নিয়ন্ত্রণও থাকে না। কিন্তু ফটোগ্রাফিক মেমোরি বলতে আমরা বুঝি একটু অন্যরকম কিছু- কোনো একজন মানুষ কোনোকিছুর দিকে তাকালো, একটি মানসিক ছবি নিয়ে নিলো, পরে সম্পূর্ণ একটি ছবির মতোই সেই দৃশ্যটাকে মনে করে ফেললো।

এধরনের ফটোগ্রাফিক মেমোরির আসলে কোনো নজির আছে কি না, তা জানতে আমরা একটু পেছনে তাকাই।

১৯৭০ সালে 'ন্যাচার' জার্নাল থেকে একটা স্টাডি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয় এলিজাবেথ নামক এক নারীর কথা, যিনি নাকি অনেকটাই ফটোগ্রাফিক মেমোরির অধিকারী। তার উপরে করা টেস্টটায় তাকে আলাদাভাবে এমন দুটো ডট প্যাটার্ন দেখানো হয়, যেগুলোকে এক করলে একটি পরিচিত চিহ্ন বা অক্ষর দেখা যাবে। এলিজাবেথকে সেগুলো দেখানোর পর তিনি বলে দিতে পারতেন, অক্ষর বা চিহ্নটি আসলে কী। তিনি নাকি বিদেশী ভাষা, অর্থাৎ যেই ভাষা তিনি জানেনই না, সে ভাষার কবিতাও মুখস্থ বলে দিতে পারতেন একবার দেখেই।
এলিজাবেথের উপরে নেয়া হয়েছিল এমনই একটি মেমোরি টেস্ট, এ দুটোর লাল ডট মিলিয়ে 'F' অক্ষরটি তৈরি করে; image source: drawinglics.com

এ স্টাডিটি তখন বিজ্ঞানীমহলে হৈচৈ ফেলে দেয়। অন্য বিজ্ঞানীরাও তখন ব্যাপারটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ১৯৭৯ সালে জন মেরিট নামের আরেকজন গবেষক একটি ফটোগ্রাফিক মেমোরি টেস্ট তৈরি করে জনপ্রিয় পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

প্রায় দশ লাখের মানুষ তার টেস্টটি সল্ভ করার চেষ্টা করেন, সফল হন মাত্র ৩০ জন। তাদের মধ্যে ১৫ জন মানুষের সাথে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করেন, কিন্তু সামনাসামনি সেই মানুষগুলো আর ফটোগ্রাফিক মেমোরির প্রমাণ দেখাতে পারেন না। তাই এলিজাবেথ তখনো অদ্বিতীয়ই থেকে যান।

কিন্তু এই এলিজাবেথ গল্পের সত্যতা সম্পর্কেই আসলে কোনো নিশ্চয়তা নেই। তার এই স্টাডিটি প্রকাশ হবার পর, তার উপর আরো টেস্ট করার প্রস্তাব করা হয়, কিন্তু তিনি আর রাজি হননি। এবং, স্টাডিটির লেখক আর এলিজাবেথ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কিছুদিনের মধ্যেই।

সুতরাং, সেই গবেষণাটির ফলাফল যে বৈজ্ঞানিক কৌতূহল ছাড়াও অন্য কোনো আবেগ দ্বারা প্রভাবিত ছিল না, তার নিশ্চয়তা কি আদৌ আছে?

এই ঘটনার পরও, বেশকিছু মানুষই দাবি করেছেন যে তাদের ফটোগ্রাফিক মেমোরি আছে। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করার পর দেখা গেছে, তাদের কারোরই আসলে এধরনের কিছু ছিল না, কেউ হয়তো ক্ষেত্রবিশেষে খুব ভালো স্মৃতিশক্তির নজির দেখিয়ে ফেলেছিলেন, কারো দাবিটিই ছিল নিতান্ত মিথ্যে।

তবে ফটোগ্রাফিক মেমোরির কাছাকাছি একটা ব্যাপার কিন্তু প্রকৃতিতে আছে। এর নাম 'আইডেটিক ইমেজারি'। পুরোপুরি ফটোগ্রাফিক মেমোরির মতো না হলেও আইডেটিক ইমেজারি ব্যাপারটাও বেশ মজার।

আইডেটিক ইমেজারি যাদের থাকে, তাদেরকে বলা হয় আইডেটিকারস। তারা বাস্তবে কোনো একটা ছবি দেখার পর চোখ সরিয়ে নিলেও সে ছবিটি দেখা চালিয়ে যেতে পারে, বিবরণ দিতে পারে খুব ছোট ছোট ডিটেইলের। তাদের সেই ছবি দেখার অভিজ্ঞতাও হয় একদম আসলটা যখন দেখেছিল, ঠিক তেমন। এছাড়াও মনের মধ্যেও তারা তৈরি করে ফেলতে পারে এরকম ছবি, যেটা দেখার অভিজ্ঞতার সাথে বাস্তব ছবি দেখার অভিজ্ঞতার কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু ছবিটা সাধারণত ধীরে ধীরে কয়েক মিনিটের মধ্যে উধাও হয়ে যায় চোখের সামনে থেকে, আর চোখ বন্ধ করলে বা পলক ফেললেও উধাও হয়ে যায় এমনিতেই। আর যদি একবার চোখের সামনে থেকে উধাও হয়ে যায়, তখন সেটা আর ফিরেও আসে না। এছাড়া যখন ছবিটা চোখের সামনে থাকেও, এমন না যে সেখান থেকে লেখা পড়ে লিখে ফেলা যাবে খুব, তাই আমরা ফটোগ্রাফিক মেমোরি দিয়ে যা করার কথা ভাবি, তা আসলে আইডেটিক ইমেজারি দিয়ে করা সম্ভব নয়।

তবে অদ্ভুত বিষয় হলো, এই আইডেটিক ইমেজারিটা শুধুমাত্র শিশুদের মধ্যেই দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এর নজির এখনো একবারও পাওয়া যায়নি। আর শিশুদের জন্যেও, তারা যত বড় হতে থাকে, এই ইমেজ দেখার ক্ষমতা কমতে থাকে।  তাই গবেষকরা ভাবছেন, আইডেটিক ইমেজারি হারিয়ে যাওয়া সম্ভব স্বাভাবিক বিকাশেরই অংশ। তবে অনেকে এও বলেন যে, আমরা যত বড় হই, আমাদের চিন্তা তত ভাষাভিত্তিক হয়। আমরা শব্দে ভাবি, ছবিতে নয়। আর যখন কোনো একটা বস্তুর জন্য আমরা শব্দ তৈরি করে ফেলি, তখন সে বস্তুর আইডেটিক ইমেজ আর আমরা তৈরি করতে পারি না। এ কারণেই আইডেটিক ইমেজারি হারিয়ে যেতে থাকে ভাষায় দক্ষ হবার সাথে সাথেই।

তবে একটি শিশুর ভাষার দক্ষতা বাড়ার সাথে সাথেই তার আইডেটিক ইমেজারি কমে যাচ্ছে, এটা সবসময়ই হয় না, কিছু স্টাডিতে এর ব্যতিক্রমও দেখা গেছে। তাই এই ব্যাখ্যাটি ভুলও হতে পারে।

আবার এও দেখা গেছে যে, আইডেটিক ইমেজারি মস্তিষ্কের অক্সিপিটাল লোবে আলফা-ওয়েভ অ্যাক্টিভিটির জন্ম দেয়। আলফা-ওয়েভ অ্যাক্টিভিটি সাধারণত মানুষের হয় জাগ্রত অবস্থায় চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নেবার সময়, অথচ আইডেটিক ইমেজারি দেখবার সময় চোখ থাকে বন্ধ। এসব তথ্যে বিজ্ঞানীরা বেশ বিভ্রান্তই আছেন এখনো।
আইডেটিক ইমেজারি মস্তিষ্কের অক্সিপিটাল লোবে আলফা-ওয়েভ অ্যাক্টিভিটির জন্ম দেয়; image source: imcreator.com

তাই আইডেটিক ইমেজারির প্রকৃতি ও কারণ এখনো একদম নিশ্চিতভাবে বের করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

কিন্তু ফটোগ্রাফিক মেমোরি যে আসলে বাস্তবে নেই, সেটা বিজ্ঞানীরা মোটামুটি নিশ্চিত। তাই এক ঝলকেই স্মৃতিতে গেঁথে ফেলব, এরকম শর্টকাটও আসলে নেই। স্মৃতিশক্তিকে তুখোড় করার উপায় তাই নিয়মিত অনুশীলন। এছাড়া নেমোনিক (Mnemonics) ব্যবহার করে মনে রাখাও একটা ভালো উপায়। নেমোনিক হচ্ছে ছড়া, ছন্দ বা কোনো গল্প- এধরনের বিভিন্ন স্মৃতিসহায়ক দিয়ে কিছু মনে রাখার পদ্ধতি। এই নেমোনিক ব্যবহারকে পাকাভাবে রপ্ত করেই বিভিন্ন স্মৃতিশক্তি প্রতিযোগিতার প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতায় সয়লাব করে থাকে। মোদ্দা কথা, চর্চা আর অধ্যবসায় আপনাকে করতেই হবে।  তবে এই প্রবন্ধ পড়ার পর থেকে নিশ্চয়ই আপনি আর আপনার ফটোগ্রাফিক মেমোরি থাকার আশা করবেন না। এ নিয়ে আফসোস করারও কিছু নেই, এটা আপনার যেমন নেই, তেমনি পৃথিবীর কারোরই নেই।

ল্যুভর: দুর্গ থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর্ট মিউজিয়াম হয়ে ওঠা


শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর আমাদের দেশে জাদুঘরগুলোর মধ্যে বৃহত্তম। কিন্তু এর চাইতেও বড়; পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর্ট মিউজিয়ামটি (শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জাদুঘর) যদি আপনার শহরে হতো, তাহলে কেমন হতো? কেমন লাগতো ১৫ একরের এক জাদুঘর প্রতিদিনই একটু একটু ঘুরে দেখতে আর প্রতিদিনই অজানা নানা তথ্য জানতে?

প্যারিসে যারা থাকেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর্ট মিউজিয়ামটি হাতের নাগালে পাওয়ার সৌভাগ্যটা তাদেরই। এখন নিশ্চয়ই বুঝতে বাকি নেই কোন জাদুঘরের কথা বলা হচ্ছিলো। প্যারিসে প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে অবস্থান করছে বিশ্ব বিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘর। এটি বিশ্বের পুরনো জাদুঘরগুলোর একটি। শুধু জাদুঘর নয়, রয়েছে আর্ট গ্যালারিও। মধ্যযুগ থেকে শুরু করে ১৮৪৮ অর্থাৎ ১৯ শতক পর্যন্ত পশ্চিমা শিল্পের এক বিশাল সমাহার রয়েছে ল্যুভরে। পাশাপাশি রয়েছে প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন।

মজার ব্যাপার হলো, দর্শনার্থীরা যে ভবনে শিল্প আর সভ্যতার নিদর্শনগুলো দেখতে যায়, সেটি নিজেই কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে এটি ছাড়াও পরে বেশ কিছু স্থাপনা তৈরি হয়েছে। তাই এখানে শুধু শিল্প আর সভ্যতার নিদর্শনগুলো নয়, লক্ষ্য করা যায় ১২ শতক থেকে ২১ শতকের স্থাপত্যের বির্বতের নিদর্শনও।

দুর্গ থেকে রাজপ্রাসাদ
অনেকের মধ্যে একটা ভুল ধারণা কাজ করে যে, ল্যুভরকে জাদুঘর করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিলো। আর এ ধারণাটিকে আরো জোরালো করে ল্যুভরে অবস্থিত কাঁচের পিরামিডটি। অনেকের জন্য এটা বিশ্বাস করা কঠিন হতে পারে, যে জাদুঘরে মোনালিসার মতো জগৎ বিখ্যাত চিত্রকর্মের ঠাঁই হয়েছে, সেটি ছিলো প্রকৃতপক্ষে এক দুর্গ। সিন নদীর তিরে আবস্থিত এ দুর্গটিতে পরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজা বসবাস করেছেন।

রাজা দ্বিতীয় ফিলিপের শাসনামলে, বারো থেকে তেরো শতকের মাঝে ল্যুভর তৈরি করা হয়, দুর্গ হিসেবে। অনেকের ধারণা, রাজা ফিলিপ অগাস্টের নির্দেশে ১১৯০ সালে দুর্গটির নির্মাণ শুরু হয়। ক্রুসেডের যুদ্ধে যাওয়ার আগে প্যারিস শহরকে ভাইকিং দস্যুদের হাত থেকে রক্ষার জন্য তিনি এ দুর্গ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। সিন নদী আর শহরের সংযোগস্থলে নির্মিত হয় ল্যুভর। শহরকে বর্হিরাক্রমণ হতে রক্ষার জন্য এই স্থানটি ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। ল্যুভরের অবস্থান এখন যেমন শহরের কেন্দ্রে, তখন এর অবস্থান এমন ছিলো না। এর অবস্থান ছিলো শহরের বাইরের দিকে আর এর কাজ ছিলো শহরের উপর প্রতিরক্ষামূলক নজরদারি করা।
পঞ্চশ চার্লসের সময় ল্যুভর (১৩৮০); Sketch: Theodor Josef Hubert Hoffbauer

প্রতিরক্ষার দিকে খেয়াল রেখেই করা হয় এ দুর্গের নকশা। ভবনের আকৃতি ছিলো চতুষ্কোণ, যার চারপাশ ছিলো পরিখাবেষ্টিত। প্রাচীরের সাথে চারদিক দিয়ে ছিলো বেশ কিছু প্রতিরক্ষামূলক টাওয়ার। প্রধান টাওয়ারটি ছিলো ঠিক মাঠের মাঝখানে আলাদা এক পরিখায় ঘেরা। আরো ছিলো রাজসিন্দুক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কারাদণ্ডের জন্য বিশেষ সিলিন্ডার আকৃতির এক ভবন।

তবে পরবর্তীতে নগরের পরিধি বাড়ার ফলে প্রতিরক্ষার কাজে এ দুর্গটি আর ব্যবহৃত হয়নি। এখনও জাদুঘরের বেইসমেন্টে (ভবনের সর্বনিম্ন তলা, যা ভূগর্ভস্থ) পুরনো সেই দুর্গের অংশ দেখা যায়, যা সেইন্ট লুইসের (১২২৬-৭০) আমলে তৈরি। বিভিন্ন নথিপত্র ও এর আগের নকশা বিশ্লেষণ করে বলা যায়, ফিলিপ অগাস্ট যে ল্যুভর তৈরি করেছিলেন, সেটিকে কোনোভাবেই রাজপ্রাসাদ বলা চলে না, বরং এটি ছিলো পুরোদস্তর গ্যারিসন।
ল্যুভরের আদি নকশা; Source: Plan of medieval Louvre - Berty 1866

১৫৪৬ সালে রাজা প্রথম ফ্রান্সিস এতে থাকার ব্যবস্থা করে প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। এরপর থেকেই পর্যায়ক্রমে এটি ফরাসি রাজাদের প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। প্রথম ফ্রান্সিসের সময় বর্তমানে যে প্রাসাদটি দেখা যায় তার অল্পই তৈরি হয়েছিলো। তার আমলে ল্যুভরের কাজ হয়েছিলো পিয়েরে লেসটের তত্ত্বাবধায়নে। ল্যুভরের বেশিরভাগ কাজ হয়েছিলো সতের শতকে ত্রয়োদশ লুইস ও চতুর্দশ লুইসের সময়। তাদের দুজনেরই শিল্পের প্রতি বিশেষ অনুরাগ ছিলো। তাদের মন্ত্রীগণ তাদের জন্য নানা স্থান থেকে মূল্যবান শিল্পকর্ম সংগ্রহ করতো। ১৬৪২ সালে চতুর্দশ লুইস ল্যুভরকে রাজসংগ্রহ প্রদর্শনীর জন্য ছেড়ে দিয়ে ভার্সিলিসে চলে যায়। তখন ল্যুভরে ঠাঁই হয় বিভিন্ন আর্ট একাডেমির। এই একাডেমিগুলো নিয়মিত তাদের সদস্যদের শিল্পকর্মের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতো।
১৫ শতকের ল্যুভর; Source: Très Riches Heures du Duc de Berry

আর্ট মিউজিয়াম হয়ে ওঠা
ল্যুভরকে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার শুরু হয় ১৮ শতকে। ফরাসি বিপ্লবের সময় চতুর্দশ লুইস ও তার স্ত্রীকে টুইলারিস প্রাসাদে কারারুদ্ধ করা হয় এবং ১৭৯৩ সালে সেখানেই তাদের শিরোচ্ছেদ করা হয়। টুইলারিস প্রাসাদটি ছিলো ল্যুভর সংলগ্ন। সে বছরই আগস্টে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নির্দেশে ল্যুভরকে জাদুঘর হিসেবে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ৫৩৭টি চিত্রকর্ম নিয়ে ল্যুভর আনুষ্ঠানিকভাবে গণ-জাদুঘর হিসেবে এর যাত্রা শুরু করে।
ল্যুভরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার; Sketch: Israël Silvestre, c. 1650

জ্ঞানের স্বার্থে অনেকেই রাজ সংগ্রহের গণপ্রদর্শনীর দাবি করছিলেন বহুকাল ধরে। এর ফলে মাঝে মাঝে জনগণের জন্য কিছু প্রদর্শনীর আয়োজন করা হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা ছিলো না। ফরাসি লেখক ও দার্শনিক ডেনি ডিডোরো তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন, যাঁরা প্রথম জাতীয় পর্যায়ের একটি জাদুঘরের দাবি তুলেছিলেন। তবে ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব সংঘটনের পূর্ব পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ের একটি স্থায়ী জাদুঘর তৈরির কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। ১৭৯৩ সালের ১০ আগস্ট ফ্রান্সের বৈপ্লবিক সরকার ল্যুভরের গ্র্যান্ড গ্যালারিতে মিউজি সেন্তাল ডি আ(খ) (Musée Central des Arts) চালু করে।

নেপোলিয়নের সময় ল্যুভরের সংগ্রহ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। ফরাসি সৈন্যদের লুট করা সব শিল্পকর্ম আসতো এখানে। সেই সময়ে তিনি ল্যুভরকে নিজের নামে নামকরণও করেন। তবে ১৮১৫ সালে নেপোলিয়ানের পরাজয়ের পর অনেক বস্তুই তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এ কথা না বললেই নয় যে, এখন ল্যুভরে মিশরীয় পুরাকীর্তি বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগ সমৃদ্ধ হয়েছে নেপোলিয়নের অভিযানগুলোর ফলে।
১৮৫৯ সালে ল্যুভর © Gustave Le Gray

তৃতীয় নেপোলিয়ানের শাসনামলে ১৯ শতকে ল্যুভরের (ভবন) আরো দুটি অংশ বর্ধিত করা হয় এবং ১৮৫৭ সালের মধ্যে বহু ভবন বিশিষ্ট ল্যুভরের স্থায়ী কাঠামোটি সম্পূর্ণ হয়েছিলো। গত শতাব্দীর ৮০ ও ৯০-এর দশকে জাদুঘর হিসেবে ল্যুভরে আধুনিক সরঞ্জামাদি যুক্ত করা হয় ও প্রদর্শনীর স্থান কয়েক হাজার বর্গ মাইল বৃদ্ধি করে ল্যুভরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্র্যান্ড ল্যুভর নামকরণ করা হয়। ল্যুভরে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে কাঁচের পিরামিডটি তৈরি করা হয়। এটি স্থপতি আই. এম. পে নির্মাণ করেন ল্যুভরের মূল প্রবেশ পথে। পিরামিডটি ১৯৮৮ সালে উদ্বোধন করা হয়। এটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ল্যুভরে যেন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক সমন্বয় তৈরি হয়েছে। ল্যুভরে একটি অংশ ফরাসি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিলো। এ অংশটি ১৯৯৩ সালে ল্যুভরের ২০০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। আর তখন থেকেই পুরো ল্যুভর জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার হতে শুরু করে।

ল্যুভর নিয়ে অজানা ও চমকপ্রদ কিছু তথ্য
বিখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসা এতটাই দামী যে এটি চারদিক থেকে বুলেট প্রুফ কাঁচে ঘেরা এবং এটি পাহারা দেয়ার জন্য দেহরক্ষীর মতো সবসময় প্রহরী থাকে। তারপরও ১৯১১ সালে এটি চুরি হয়েছিল এবং দু’বছর পর পুনরুদ্ধার করা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনী ল্যুভরকে চুরি করা শিল্প সামগ্রীর সংরক্ষণাগার হিসেবে ব্যবহার করতো।

জাদুঘরে অনেক না-দেখা বস্তু দেখা যায়, তবে জাদুঘরে যে ভুত দেখা যায় তা কি আগে কখনও শুনেছেন? লুভরে বেলফেগার নামের এক মমি আছে। শোনা যায়, প্রতি রাতে নাকি এটি জাদুঘরে ঘুরে বেড়ায়।

ল্যুভরের সামনে যে কাঁচের তৈরি পিরামিডটি দেখা যায় সেটি ছাড়াও আরো তিনটি ছোট পিরামিড রয়েছে।

ল্যুভরের সংগ্রহে ৩৮০,০০০ বেশি দর্শনীয় বস্তু রয়েছে; কিন্তু এর সব প্রদর্শিত হয় না।

নেপোলিয়ানের শাসনামলে, মোনালিসার চিত্রকর্মটি ল্যুভর থেকে সরিয়ে নিজের শোবার ঘরে রেখেছিলেন তিনি।

খুব বেশি ঘুম হতে পারে মৃত্যুর কারণ

শীত আসলেই আমাদের মধ্যে প্রবণতা তৈরি হয় কম্বলের নিচে আটকে থাকার। ঘুম শরীরের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অতিরিক্ত ঘুম স্বাস্থ্যসম্মত নাও হতে পারে।
ইউরোপীয় হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এক নতুন গবেষণার ফল অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাতে ছয় থেকে আট ঘণ্টার বেশি ঘুম প্রাথমিক মৃত্যু ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গবেষণার ফলে বলা হয়েছে, ঘুম মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য এবং মানুষ দিনের প্রায় এক তৃতীয়াংশ সময় ব্যয় করে ঘুমের পেছনে। ঘুমের এই সময় আরো বৃদ্ধি পেলে তা কার্ডিওভাসকুলার রোগ (সিভিডি) এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। ঘুমের ঘাটতি হলে তা শক্তি ব্যয় হ্রাস, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তিত গ্লুকোজ বিপাকে অনিয়মের ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। আবার অত্যধিক ঘুমের ফলে বাড়ে সিভিডি বা মৃত্যুর ঝুঁকি।
গবেষণা কাজটির জন্য চায়না'স ম্যাকমাস্টার অ্যান্ড পিকিং ইউনিয়ন মেডিক্যাল কলেজের চুয়াংশি ওয়াং-এর নেতৃত্বে একটি দল বিশ্বের সাতটি ভৌগোলিক অঞ্চলের ২১টি দেশের এক লাখ ১৬ হাজার ৬৩২ জন প্রাপ্তবয়স্কের ঘুমের তথ্য পরীক্ষা করে। গবেষণার শুরুতে বিশ্বব্যাংকের শ্রেণি বিন্যাস অনুযায়ী মাথাপিছু জাতীয় আয়ের ওপর ভিত্তি করে দেশগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী চারটি আয়কর দেশ (কানাডা, সুইডেন, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত), ১২টি মধ্যম আয়ের দেশ (আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, চিলি, চীন, কলম্বিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তুরস্ক) এবং পাঁচটি নিম্ন আয়ের দেশ (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, তানজানিয়া এবং জিম্বাবুয়ে)।
গবেষণার প্রত্যেক স্তরে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় ভাষা ব্যবহার করে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বিষয়, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, জীবনধারা আচরণ (ঘুমের সময়, ধূমপান, মদ্যপান, শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং খাদ্য), রোগের ইতিহাস, রোগের পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য পেতে মানসম্মত প্রশ্ন ব্যবহার করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন আট ঘণ্টার বেশি ঘুমায় তাদের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়েছে। এসব ব্যক্তির মৃত্যু হার বেড়েছে ৪১% পর্যন্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিরাতে ছয় ঘণ্টার বেশি ঘুমিয়েছে তাদের হৃদরোগ ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়েছে যারা রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমিয়েছে তাদের তুলনায়।
ওয়াং-এর উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণার ফল অনুযায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমই সর্বোত্তম।