Hot!

Other News

More news for your entertainment

একা এভারেস্টে ওঠা নিষেধ

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টসহ কোনো পর্বতেই কেউ একা উঠতে পারবেন না। একই সঙ্গে দুই হাত না থাকা বা অন্ধ পর্বতারোহীরাও পর্বতে উঠতে পারবেন না। দুর্ঘটনা কমানোর পদক্ষেপ হিসেবে নেপাল নতুন এক আইনে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আজ শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

দেশটির পর্যটন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, পর্বতারোহণ নিরাপদ করতে এবং মৃত্যুর ঘটনা কমাতে আইন সংশোধন করা হয়েছে।

চলতি বছর এভারেস্টে উঠতে গিয়ে রেকর্ড সংখ্যক পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। চলতি মৌসুমে মারা গেছেন ছয়জন পর্বতারোহী। এর মধ্যে রয়েছেন ৮৫ বছরের মিন বাহাদুর শেরচান নামের এক ব্যক্তি। বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে এভারেস্ট জয়ের রেকর্ড করতে গিয়ে প্রাণ হারান তিনি। মৃত্যুর তালিকায় রয়েছেন বিশ্বে সুপরিচিত সুইজারল্যান্ডের পর্বতারোহী উয়েলি স্টেক, যিনি ‘সুইস মেশিন’ নামে পরিচিত। হিমালয়ের পাশের একটি পর্বতে এককভাবে উঠতে গিয়ে প্রাণ হারান তিনি।

নেপালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি পর্বতারোহীকে অবশ্যই একজন গাইড নিতে হবে। কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন এই আইন আরও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে।

তবে দুই হাত না থাকা এবং অন্ধ পর্বতারোহীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছেন কেউ কেউ।

হামলায় ফিলিস্তিনি নিহত এবার ইউনেসকো ত্যাগ ইসরায়েলের

এবার ইউনেসকো ত্যাগ ইসরায়েলের জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো) থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইসরায়েল। ইউনেসকো ইসরায়েলবিরোধী পক্ষপাত করছে, এমন অভিযোগ তুলে ওই সংস্থা থেকে গত অক্টোবরে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর দুই মাসের মাথায় সরে গেল খোদ ইসরায়েল। প্যারিসভিত্তিক ইউনেসকো ২০১১ সালে ফিলিস্তিনকে পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ দেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় তারা এমন কিছু প্রস্তাব নিয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ক্ষুব্ধ হয়েছে। ইউনেসকোর মহাপরিচালক অঁদ্রে আজুলে বলেন, শুক্রবার ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে আর ইউনেসকোর সদস্য থাকছে না তারা। এ এদিকে গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে শনিবার ২০ বছরের এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হয়েছে। নিহত জামান মুসলিহ গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-বুরিজ শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা।  অটল গুয়াতেমালা বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মধ্যে গুয়াতেমালার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্দ্রা জোভেল বলেছেন, ইসরায়েলে তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই। দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জিমি মোরালেসের পরিকল্পনার কোনো পরিবর্তন করা হবে না। 



অবরোধেও পণ্য আমদানি বেড়েছে কাতারে

অব্যাহত অবরোধে বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি আরও সুগম করার ল‌ক্ষ্যে কাতার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সাফল্যের মুখ দেখছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। গত ছয় মাসে কাতারে পণ্য আমদানির বিকল্প বাজার খুঁজে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে কাতার সরকারের আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট বিভাগও পণ্য আমদানি ও খালাসে আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে কাজ করছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত নভেম্বরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কাতারে পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল ৯৭ ভাগ, যা মে মাসে ছিল ৮২ দশমিক ৮ ভাগ। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থানীয় চাহিদা প্রায় পুরোটা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।
কাতার কাস্টমস কর্তৃপ‌ক্ষের চেয়ারম্যান আহমদ আবদুল্লাহ মনে করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এই পণ্য আমদানি কাতারের জনগণ ও স্থানীয় অর্থনীতিকে সংকটমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এটা কাতার সরকারের দক্ষতারই প্রমাণ।
এ নিয়ে কথা হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও। বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, নির্মাণ খাতসহ অন্যান্য খাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী এখন কাতারের বাজারে মজুত রয়েছে। তবে দাম আরেকটু সহনীয় পর্যায়ে এলে তা তাঁদের জন্য ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। নির্মাণসামগ্রীর বেশির ভাগ পণ্য বর্তমানে ওমান হয়ে জাহাজে সমুদ্রপথে কাতারে ঢুকছে।
নিয়মিত বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ থেকে খাদ্যপণ্য আমদানি করেন এমন ব্যবসায়ীরা প্রথম আলোকে জানান, তাঁরা গত ছয় মাসে আমদানির পরিমাণ আগের চেয়ে বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের বাজার থেকে তা সংগ্রহ করে কাতারের বাজারে আমদানিতে তাঁরা কাতার সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছেন। ব্যবসায়ী হাজি বাশার সরকার বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে স্বাভাবিক। আমরা বিকল্প উপায়ে আমদানি অব্যাহত রেখেছি। অামদানি খরচ কিছুটা বাড়লেও পণ্য সংকট নেই।’
আরেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শরিফুল হক সাজু বলেন, ‘বেশির ভাগ পণ্য এখন সমুদ্রপথে আসছে। ফলে পণ্য পৌঁছানোর সময়ে কিছু পরিবর্তন হলেও তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আপাতত আর সংকটের সম্ভাবনা দেখছি না।’
এ ছাড়া কাতারের অর্থনীতি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্য এবং সেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানির ব্যাপারে তথ্য দিয়ে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করছে। ফলে কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপকারী আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ হলেও অল্প সময়ে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত পণ্যের বাজার খুঁজে পেয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

গুরুতর একজিমায় আক্রান্তদের জন্য নতুন আশার আলো

প্রদাহজনিত এই চর্মরোগটির চিকিৎসা ঐতিহাসিকভাবেই একটু কঠিন ছিল। কারণ এর চিকিৎসায় বাজারে যেসব ওষুধ পাওয়া যায় সেগুলো তেমন একটা কার্যকর নয়। বিশেষ করে মাঝারি বা তীব্র একজিমার ক্ষেত্রে তা একদমই কার্যকর নয়।
এ ছাড়া বাজারে যেসব ওষুধ পাওয়া যায় সেগুলোর মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। যেগুলো আবার বিষাক্তও হতে পারে।
এখন অবশ্য ডুপিলুম্যাব নামের একটি নতুন ওষুধ চলমান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বেশ কার্যকারিতা প্রদর্শন করছে। ওই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৩৮ শতাংশ লোক তাদের ত্বকে প্রদাহজনিত লাল ও আঁশযুক্ত ক্ষতগুলো থেকে মুক্তিলাভ করেছেন। ১৬ সপ্তাহের চিকিৎসা শেষে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। ক্ষত ও র‌্যাশ দূর এবং মানসিক অবসাদ, উদ্বেগ ও জীবনমানের পরিস্থিতির উন্নয়নেও এই চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। ওষুধটি ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজে নিজেই দেহে প্রয়োগ করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) একে একটি যুগান্তকারী চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। যার মানে হলো, সরকারের অনুমোদনের জন্য এটি এখন প্রথম সারিতে অপেক্ষায় রয়েছে।জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের তিন শতাংশই মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার একজিমায় আক্রান্ত এবং এ থেকে মুক্তির জন্য তাদের পদ্ধতিগত চিকিৎসাও দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একজিমা অ্যাসোসিয়েশনও তেমনটাই জানিয়েছে।আর একজিমার যেহেতু নির্ভরযোগ্যভাবে নিরাপদ, সুবিধাজনক এবং কার্যকর কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি নেই সেহেতু ডুপিলুম্যাব এর মতো ওষুধের বিশাল প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যদি এটি নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়।ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. এরিক সিম্পসন বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক মতো এগোলে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই এফডিএ ওষুধটি বাজারজাতকরণের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। যদি ওষুধটি অনুমোদন পায় তাহলে স্যানোফি ও রিজেনারোন এর তৈরি ওষুধটি এর পরপরই বাজারে পাওয়া যাবে। কতটা দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয় এই প্রক্রিয়া? সাধারণত একটি নতুন ওষুধের অনুমোদন পেতে দুই বছর সময় লাগে। তৃতীয় পর্যায়ের সফল পরীক্ষার পর থেকে শুরু করে ওই সময় লাগে।

মাইগ্রেনের ব্যথার কারণ মুখের ব্যাকটেরিয়া

যারা মাইগ্রেনে ভোগেন তাদের প্রায়ই বলতে শোনা যায় যে, বিশেষ কিছু খাবারের কারণে মাথাব্যথা প্রচণ্ড বেড়ে যায়। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এ অবস্থা সৃষ্টির পেছনে মুখের ব্যাকটেরিয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, যাদের মাইগ্রেন হয় তাদের মুখে অনেক বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে যা নাইট্রেট নামের রাসায়নিক পদার্থকে পরিবর্তিত করতে সক্ষম। অন্যান্য মানুষের মুখে এমনটা দেখা যায় না। মাইগ্রেনের ব্যথা বৃদ্ধি করে এমন খাবারে থাকে নাইট্রেট। প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং সবুজ পাতাবহুল শাকসহ বেশ কয়েক ধরনের চিকিৎসাব্যবস্থায় নাইট্রেট উৎপন্ন হয়।

গবেষকরা দেখেছেন, মাইগ্রেনের রোগীদের মুখে ব্যাকটেরিয়াল সংখ্যা বেশি। এগুলো নাইট্রেটকে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত করে। আর রূপান্তরিত এই এসিড মাথাব্যথার সৃষ্টি করে। এমসিস্টেমস জার্নালে এমনটাই লিখেছেন গবেষকরা।

তবে এখন পর্যন্ত গবেষণায় ব্যাকটেরিয়া ও মাইগ্রেনের মধ্যে একটি সম্পর্কই খুঁজে পাওয়া গেছে। ব্যথার কারণ হিসাবে যে ব্যাকটেরিয়া সরাসরি জড়িত তার স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। আরো বিস্তৃত পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার প্রোগ্রামার অ্যানালিস্ট এবং এ গবেষণা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ অ্যান্টোনিয়ো গঞ্জালেস জানান, যদি নাইট্রেস মাইগ্রেনের ব্যথা সৃষ্টিতে কাজ করে, তবে একে এড়িয়ে চলতে হবে। গবেষণাকর্মে বিশেষজ্ঞরা আমেরিকান গাট প্রজেক্ট থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। তারা ২০০০ ফেকাল নমুনা থেকে ১৭২টি ওরাল নমুনা গ্রহণ করেন।

অসুস্থ দাঁত শরীরের যেসব ক্ষতি করতে পারে

দাঁতের ‘ইনফেকশন’ কিংবা ব্যথাকে হালকাভাবে না নেয়ার কথা বলেন চিকিৎসকরা৷ কারণ দাঁতে জীবাণুর সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা থেকে নাকি স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, ডায়বেটিস বা ফুসফুসের মতো অঙ্গ আক্রান্ত হয়ে দেখা দিতে পারে জটিল সমস্যা।
ডায়বেটিস দাঁতে ইনফেকশন আর ডায়বেটিস রোগের যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তা এরই মধ্যে প্রমাণিত। ডায়বেটিস রোগীদের দাঁতের ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে একজন সুস্থ মানুষের চেয়ে শতকরা সাড়ে তিন ভাগ বেশি। তেমনি এর উলটোটাও হয়ে থাকে৷ তাছাড়া ডায়বেটিস রোগীদের দাঁতের সংক্রমণ হলে তাঁদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়
দাঁতে ইনফেকশন বা পেরিওডেন্টাইটিস রোগ যদি জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ কথা বেশ স্পষ্টভাবেই জানান জার্মানির দন্ত বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ক্রিস্টফ ড্যরফার। আক্রান্ত হতে পারে ফুসফুস
দাঁতে বাসা বাঁধা জীবাণু নিঃশ্বাসের মধ্য দিয়ে ফুসফুসেকে আক্রান্ত করতে পারে৷ তবে এটা সাধারণত হয়ে থাকে যাঁরা বেশি সময় ধরে বিছানায় শুয়ে থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে৷ বিশেষ করে হাসপাতালের বিছানায় বেশিদিন শুয়ে থাকলে এমনটা হতে পারে।
হার্টে সমস্যা হতে পারে দাঁতের ইনফেকশন বা পেরিওডেন্টাইটিস এবং হৃদরোগ, এই দু’টোর একে-অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে৷ এ বিষয়ে করা বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানান বিশেষজ্ঞ ড্যরফার। মুখ পেরিওডেন্টাইটিস বা দাঁতের ইনফেকশন রোগ দীর্ঘস্থায়ী হলে দাঁতের চোয়ালের হাড়ের ক্ষয় হয় এবং তখন দাঁত নড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত দাঁতটিকে হারাতেও হয়৷ জীবাণু ঢোকার রাস্তা মুখের ভেতর নানা ধরনের ৭০০টি জীবাণুর বাস, যা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় অনেক বেশি৷ এ সব জীবাণু ঢোক গেলা এবং নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে। তাছাড়া রক্ত চলাচলে মধ্য দিয়েও জীবাণু মুখে ঢুকতে পারে। অর্থাৎ দাঁতে জীবাণু ঢোকার প্রবেশ পথ অনেক৷ তাই সকলেরই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। পরামর্শ শরীরের যে কোনো অঙ্গের মতো দাঁতের যত্নও অত্যন্ত জরুরি। তাই দাঁতকে ভালোভাবে সংরক্ষণ করতে নিয়মিত যত্ন ছাড়াও ডাক্তারি চেকআপ প্রয়োজন৷ তাছাড়া দাঁতে ইনফেকশন থাকা অবস্থায় কোনো রোগীর চোখ, কান, মস্তিষ্ক বা হার্টের মতো অঙ্গে অপারেশন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সময় মতো গুরুত্ব না দেয়া এ কথা সত্য যে দাঁতের কোনো সমস্যা হলে অনেকেই প্রথমদিকে তেমন গুরুত্ব দেন না৷ আবার অনেকক্ষেত্রে ব্যথা উপশমের জন্য ‘পেইন কিলারের’ আশ্রয় নিয়ে থাকেন অনেকে৷ অথচ দাঁতের সমস্যা সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে সমস্যার শুরুতেই সমাধান সম্ভব, মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

যশোরে গণিতে বিপর্যয়

যশোর শিক্ষা বোর্ডে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় গণিতে এবার ফল খারাপ হয়েছে। এ বছর গণিতে ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। গত বছর যা ছিল ৯৮ শতাংশের চেয়ে বেশি। এ কারণে গত তিন বছরের তুলনায় এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ও জিপিএ-৫ উভয় ক্ষেত্রে বিপর্যয় ঘটেছে।

গণিত বিষয়ে পরীক্ষার্থীরা এ বছর কেন খারাপ করলো? জানতে চাইলে যশোর শিক্ষা বোর্ডের গণিত বিষয়ের সাবেক প্রধান পরীক্ষক ও বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল যশোরের প্রধান শিক্ষক মো. আবু দাউদ বলেন, ‘সৃজনশীল প্রশ্নের নিয়মনীতি মেনে জেএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র করা হয়নি। যেমন ৬ দাগের ‘ক’ নম্বর প্রশ্ন সর্বোচ্চ তিন মিনিটের মধ্যে সমাধান করতে হবে। অথচ, দুই নম্বর মানের ওই প্রশ্নের সমাধান করতে সাত থেকে আট মিনিট সময় লেগেছে। তারপরও অনেকে অঙ্কটির সমাধান করতে পারেনি। এ ধরনের অনেক অসংগতি ছিল এবারের গণিতের প্রশ্নপত্রে।’

যশোর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এ বছর যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে দুই লাশ ৯ হাজার ৫১৫ জন জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৭৬ জন। পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ৬১২ জন। যেখানে গত বছর দুই লাশ ১৩ হাজার ৩৪০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সব বিষয়ে পাশ করে দুই লাশ ৩ হাজার ৪২৮ জন। পাশের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ২২ হাজার ৩ জন। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে পাশের হার ছিল যথাক্রমে ৯৫ দশমিক ৪৪ ও ৯১ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এ বছর পাশের হার ও জিপিএ-৫ উভয় কমে গেল কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীরা খারাপ করেছে। যার প্রভাব পড়েছে গোটা ফলাফলে। এ কারণে পাশের হার ও জিপিএ-৫ উভয় কমে গেছে। এ বছর যশোর বোর্ডে গণিত বিষয়ে পাশের হার ৮৮ শতাংশ। অন্যান্য বিষয়ে পাশের হার ৯৫ শতাংশের বেশি। ফলে সামগ্রিকভাবে ফল খারাপ হয়েছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় যশোরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা গণিত বিষয়ে ততটা ভালো না। গণিতের শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের বিষয়ে বেশি আন্তরিক হতে হবে। এ জন্য শিক্ষা বোর্ড থেকেও শিক্ষকদের আরও প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে।

শহরের নামী স্কুলের তুলনায় গ্রামের স্কুলের শিক্ষার্থীরা গণিতে বেশি খারাপ করেছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯টি বিদ্যালয় থেকে এ বছর কোনো শিক্ষার্থী কৃতকার্য হতে পারেনি। বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—মাগুরা সদর উপজেলার পোড়াগাছাই সপ্তপল্লী মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কোমারভোগ রামনাথপুর মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পারফেক্ট ইংলিশ ভারসন সেকেন্ডারি স্কুল, বাগেরহাটের কোদালিয়া এমএইচবি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নড়াইলের বালিয়াডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সাতক্ষীরার নাকনা বিদ্যানিকেতন, খুলনার সোনারতরী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও যশোরের খড়িঞ্চা বালিকা বিদ্যালয়। গত বছর এ ৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫টি থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাশ করে। এ বছর এসব বিদ্যালয় থেকে কেউ পাশ করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, এই ৯টি বিদ্যালয়ের সবাই গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। যে কারণে কেউ পাশ করতে পারেনি।

যশোর শহরের এমএসটিপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ জানান, এ বছর তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৩০৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সব বিষয়ে পাশ করেছে ২৮৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ জন। পাশে হার ৯৪ শতাংশ। যেখানে গত বছর গণিতে পাশের হার ছিলো ৯৮ শতাংশ। গণিত বিষয়ের শিক্ষকদের শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের ব্যাপারে আন্তরিকতা কম। তারা কোচিং এ বেশি আন্তরিক। স্কুলের প্রতি নিজ থেকে আন্তরিকতা না থাকলে বলে বলে আন্তরিকতা সৃষ্টি করা যায় না। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে বেশি আন্তরিকতা বাড়াতে।

যশোর পুলিশ লাইনস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল আজিজ বলেন, ‘প্রত্যেক স্কুলে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পাঠদানের জন্য যোগ্য শিক্ষকের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। সরকারিভাবে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা না করতে এ দুটি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা আরও খারাপ করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রাথমিকে আড়াই লাখের বেশি জিপিএ-৫

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৯৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৬০৯ শিক্ষার্থী। ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান গণভবনে ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। সচিবালয়ে বেলা একটায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এবং বেলা দুইটায় শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

গত ১ নভেম্বর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। শেষ হয় ১৮ নভেম্বর। এই দুই পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ লাখ ৬৯ হাজার। অন্যদিকে ১৯ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৩১ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি লক্ষ্য শুধু সনদ নয়

ক্লাস চলছে। ক্লাসরুমের দেয়ালটা কাঠ আর কাচের। স্বচ্ছ কাচের ওপাশে দেখা গেল, কয়েকজন চোখ মুছছেন। একটু পর আবার তাঁদের মুখে হাসি। হচ্ছেটা কী? ক্লাস শেষ হওয়ার পর একজন বললেন, ‘আর্ট অব লিভিং ক্লাস করছিলাম তো, তাই।’ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠক্রমেরই একটি অংশ এই ‘আর্ট অব লিভিং’ ক্লাস। বাস্তব উদাহরণ দিয়ে শিক্ষকেরা এই ক্লাসে এমনভাবে পড়ান, অনেক শিক্ষার্থীই নাকি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। নীতি-নৈতিকতা, মূল্যবোধ, আচার-আচরণ থেকে শুরু করে পারিবারিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, সবকিছুই শেখানো হয় এই বিষয়ের ক্লাসে। কারণ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান সবুর খান বললেন, তাঁদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মানুষের মতো মানুষ বানানো; নম্বর ছেপে সনদ ধরিয়ে দেওয়া নয়। আশুলিয়ার দত্তপাড়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিশাল সবুজ ক্যাম্পাস। ধানমন্ডি ও উত্তরার ক্যাম্পাসেও চলে পাঠদানের কার্যক্রম। শেষ হিসাব অনুযায়ী মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। স্বপ্ন নিয়ের এবারের আয়োজন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে। পড়ালেখায় আধুনিকতাএখানে পাঁচটি অনুষদের আওতায় আছে মোট ২৫টি বিভাগ। ভর্তি তথ্যকেন্দ্র থেকে জানা গেল, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অনুষদের অন্তর্ভুক্ত কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। বাকি চারটি অনুষদ হচ্ছে ব্যবসা ও অর্থনীতি, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং ‘অ্যালাইড হেলথ সায়েন্সেস’। স্নাতকের পর ১৩টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর করার সুযোগ আছে। সফটওয়্যার বিভাগের নওরীন নুহা বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের পড়ানোর জন্য শিক্ষকেরা “গুগল ক্লাসরুম” ব্যবহার করেন। গুগল ক্লাসরুমে শিক্ষকেরা লেকচারশিটগুলো আপলোড করে দেন। কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে বাসায় বসেও আমরা লেকচারগুলো দেখে নিতে পারি। কখনো কখনো ইউটিউবের ভিডিও দেখিয়ে আমাদের শেখানো হয়।’ গতানুগতিক মুখস্থ করার ধারা থেকে বের হয়ে এসে কীভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে জ্ঞান অর্জন করা যায়, সেটার চর্চা হয় ক্লাসরুমে। শিক্ষার্থীর আচরণ ও পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে ভর্তির এক বছর পর বিনা মূল্যে তাঁদের ল্যাপটপ দেওয়া হয়। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে একজন উপদেষ্টা-শিক্ষক। পড়াশোনা, এমনকি ব্যক্তিগত সমস্যাও এই শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করে পরামর্শ নেওয়া যায়। মনের সুস্থতার দিকেও জোর দেওয়া হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্যাম্পাসে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ তো আছেই, আছেন মনোবিদও। পরীক্ষার ফল ভালো না হলে শিক্ষার্থী যেন ভেঙে না পড়েন, মনোবিদ সেদিকে নজর রাখেন। বৃত্তি নিয়ে দেশের বাইরে ‘এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’-এ যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। সবুর খান বললেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমরা চুক্তি করেছি। আমাদের শিক্ষার্থী বৃত্তি নিয়ে নির্ধারিত সময়ের জন্য সেখান থেকে পড়াশোনা করে আসে। আবার ভিনদেশি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বিদেশি শিক্ষার্থী বৃত্তি নিয়ে আমাদের এখানে পড়তে আসে।’ প্রতিভা বিকাশের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকগুলো বিভাগভিত্তিক ক্লাবের পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন। বিতর্ক, ইংরেজি সাহিত্য, আলোকচিত্র, সামাজিক কার্যক্রম, পরিবেশ, স্বাস্থ্যসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছে শিক্ষার্থীদের মোট ২৮টি সংগঠন। ক্যাম্পাসে, দেশে ও দেশের বাইরে এই সংগঠনগুলোর সদস্যরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। পুরস্কারও আসছে। অনলাইনভিত্তিক ক্যাম্পাস রেডিও ও ক্যাম্পাস টিভির অনুষ্ঠানে রয়েছে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করে ক্যাম্পাস টিভি। শিক্ষার্থীদের তৈরি অন্যান্য অনুষ্ঠান তো আছেই। সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ক্লাবগুলো, যেন বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে কর্মক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করতে পারেন। ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী অমিত সাহা বললেন, ‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে ক্লাবগুলোই বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা বহন করে।’ সারা বছর সরব ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সারা বছর বিভিন্ন আয়োজন লেগেই থাকে। অ্যাসাইনমেন্ট ও প্রেজেন্টেশন-বিষয়ক কর্মশালা হয়। কীভাবে মঞ্চে দাঁড়িয়ে অনেক মানুষের সামনে কথা বলতে হয়, সেটি শেখানোর জন্য ‘স্পিক আউট’ নামে একটি সংগঠন প্রতি সপ্তাহে সেশন আয়োজন করে। বিভিন্ন কোম্পানির মানব সম্পদ বা বিপণন বিভাগের কর্মীরা এসে ক্লাস নেন, যেন শিক্ষার্থীরা বর্তমান সময়ের কাজের ধরন সম্পর্কে জানতে পারেন। ‘লেকচার সিরিজ’ নামে একটি আয়োজন করা হয় নিয়মিত। এই আয়োজনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বা চেয়ারম্যানরা নিজেদের গল্প শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেন। বিবিএ বিভাগের ফারুক হোসাইন বললেন, সফল মানুষদের কাছ থেকে তাঁদের গল্প শুনে ভীষণ অনুপ্রাণিত হন তাঁরা। অন্য রকম একটি আয়োজনের খবর জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান। প্রতি সেমিস্টারে আয়োজন করা হয় ‘প্যারেন্টস ডে’, দিনটা অভিভাবকদের জন্য। ‘আর্ট অব লিভিং’ বিষয়ের আওতাধীন এই আয়োজনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মতামত, অনুভূতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন, মা-বাবার কতটা কষ্টের আয়ে তাঁরা পড়াশোনা করছেন।
পড়ালেখার বাইরে আশুলিয়া ক্যাম্পাসে পা রাখলেই শিক্ষার্থীদের মন ভালো হয়ে যায়। বিশাল মাঠ, বুকভরে দম নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। ক্যানটিন, মিলনায়তন, বারান্দা, সিঁড়িকোঠা, হোস্টেল চত্বর—আড্ডা জমে সর্বত্র। কোথাও আড্ডার সঙ্গে যোগ হয় গান কিংবা চায়ের কাপে চুমুক। শহুরে ক্যাম্পাসগুলোতেও আড্ডার জায়গা খুঁজে নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ধানমন্ডি ক্যাম্পাসে ক্লাস করেন সিএসই বিভাগের ছাত্রী দেবাঞ্জনা সাহা। বললেন, ‘ছাত্রজীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়ই তো এটা। প্রিন্স প্লাজার গলি, কৃষ্ণচূড়াতলা, ধানমন্ডি লেক, রবীন্দ্রসরোবর...আশপাশের জায়গাগুলোতে আমরা দলবেঁধে বসি। প্রতিদিন কুইজ, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, মিড, ফাইনালের চাপে এই আড্ডাগুলো আসলে মন ভালো করে দেয়।’
লক্ষ্য ও সাফল্ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সবুর খান বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা। সেটা আমরা পেরেছি। দ্বিতীয় লক্ষ্য ছিল দেশের বাইরে ড্যাফোডিলের সুনাম ছড়িয়ে দেওয়া। এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যপূরণে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি। তৃতীয় লক্ষ্য, পাস করার পরপরই শিক্ষার্থীদের চাকরি দেওয়া। আমরা এ জন্য শিক্ষানবিশ প্রকল্প চালু করেছি। আমাদের এখানেই যেন আমাদের শিক্ষার্থীদের চাকরি দেওয়া যায়। চতুর্থ লক্ষ্য হলো উদ্যোক্তা তৈরি করা। এটা এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চাকরি তাদের পেতে হবে না, তারা অন্যকে চাকরি দেবে। এ জন্য আমরা চালু করেছি এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগ।’প্রয়োজন দায়িত্ববোধ, যোগাযোগের দক্ষতা ও চিন্তার ক্ষমতা
ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম উপাচার্য, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি চাকরিক্ষেত্রে বা পেশাজীবনে প্রবেশ করার আগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নির্ভর করে তিনটি ভিত্তির ওপর। প্রথমত, শিক্ষার্থীদের চিন্তা করার ক্ষমতা দরকার। দ্বিতীয়ত, দরকার দায়িত্ববোধ। তৃতীয়ত, প্রয়োজন যোগাযোগের দক্ষতা। এই জিনিসগুলো পাঠ্যক্রমে নেই। কিন্তু ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এ নিয়ে কাজ করছে। যেমন, আমাদের এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য একটা কর্মশালা আয়োজন করানো হয়। শিরোনাম, ‘এমপ্লয়েবিলিটি ৩৬০’। কর্মাশালা শেষে তাঁদের দেওয়া হয় চাকরিক্ষেত্রে দক্ষতার সনদ। এই সনদের স্বীকৃতি দিচ্ছে ‘স্কটিশ কোয়ালিফিকেশন অথোরিটি’। আমাদের দেশের অভিভাবকদের বড় সমস্যা হলো তাঁরা সন্তানদের তথাকথিত কিছু বিষয়ের বাইরে পড়াশোনা করতে দিতে চান না। অনেকে বুঝতে চান না সন্তান যে বিষয়টা পড়ে মজা পাবে সেই বিষয়টাতেই ভালো ফল করতে পারবে, কর্মক্ষেত্রে সফল হবে। এই সমস্যার সমাধানে আমরা খুব শিগগিরই মালয়েশিয়ায় একটা ক্যাম্পের আয়োজন করতে যাচ্ছি। সেখানে আমাদের দেশের ও বিদেশের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা থাকবেন। জানিয়ে রাখি, নিয়োগের পর আমাদের শিক্ষকদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব কারণেই ড্যাফোডিল অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা।

তিলে তিলে নিঃশেষ হলো মেয়েটি

মেয়েটি ছিল ঘরবন্দী। জানালাবিহীন ছোট্ট সে ঘর। দিনে একবার মাত্র খাবার জুটত তার। পানির একটা নল ছিল। তেষ্টা পেলে পানি পান করার সেটাই উপায়। এই করে করে বন্দী জীবনের ১৫টি বছর পার। মুক্তি মিলল মৃত্যুতে। মেয়েটিকে বন্দী করে রেখেছিল কে? তাঁর নিজেরই মা–বাবা। মৃত অবস্থায় মেয়েটিকে ওই ঘর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর মা-বাবাকে। ৩৩ বছর বয়সে মেয়েটির ওজন ছিল মাত্র ৪২ পাউন্ড। জাপানের ওসাকায় ভয়াবহ এ ঘটনাটি ঘটে। গত শনিবার মেয়েটির লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, বাড়ির শীতল একটি ঘরে মেয়েকে বন্দী করে রেখেছিলেন মা-বাবা। ঘরটির আয়তন ৩৯ বর্গফুট। গ্রেপ্তার করা মা-বাবাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। মা-বাবার তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, মানসিকভাবে অসুস্থ আর উন্মত্ত হওয়ার কারণে তাঁরা এভাবে সন্তানকে ঘরে আটকে রেখেছিলেন। ওসাকা পুলিশ ২৩ দিনের মধ্যে ওই মা-বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেবে। আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

ভুল বিমানে ওঠায়...

সড়কপথে ভুল বাসে উঠলে মাঝপথে নেমে যাওয়ার ‘আক্কেলসেলামি’ দিতে হয়। জলপথে ভুল লঞ্চ বা স্টিমারে উঠলে মাঝপথে অন্তত নৌকায় নেমে যাওয়ার সুযোগটুকু থাকে। কিন্তু আকাশপথে কেউ যদি এ কাণ্ড করে বসেন তখন! বলতে পারেন, তা কীভাবে সম্ভব? বিমানবন্দরে কয়েকটি তল্লাশি স্তর পেরিয়ে কীভাবে ভুল বিমানে ওঠা সম্ভব? বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন, লস অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দরে মঙ্গলবার ঠিক এ কাণ্ডই ঘটেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দর থেকে বেলা সাড়ে ১১টায় টোকিওর উদ্দেশে উড়াল দিয়েছিল অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) ফ্লাইট ১৭৫। মোট ১১ ঘণ্টা ভ্রমণসময়ের ফ্লাইটটি আকাশপথে চার ঘণ্টা উড়াল দেওয়ার পর প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর থেকে ‘ইউ-টার্ন’ নিয়ে আবারও ফিরে আসে লস অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দরে! যাত্রীরা জানতে পারেন, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের টিকিট নিয়ে এক ব্যক্তি ভুল করে সেই বিমানে উঠেছে। বিমানটিকে তাই অগত্যা ফিরিয়ে আনা হয়।
বিমানে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা মডেল ও টিভি ব্যক্তিত্ব ক্রিস্টিন টেইগেন এবং তাঁর সুরকার স্বামী জন লিজেন্ড। ফেরার সময় টেইগেন টুইট করেন, ‘ফ্লাইট টু নোহোয়ার।’ তাঁর কাছ থেকে বিবিসি জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও বিমানে যে ভুল টিকিটের ব্যক্তি উঠেছিলেন, তা নিশ্চিত। অবশ্য অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সূত্র দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ‘প্রশাসনিক ভুলে’র জন্য ২২৬ জন যাত্রীবাহী বিমানটি লস অ্যাঞ্জেলসে ফিরে এসেছে।
তবে বিমানের ক্রু এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্র মারফত আসল ঘটনা জানিয়েছে সিএনএন। সেটা হলো, টোকিওগামী দুই ভাই আলাদা দুটি ফ্লাইটে টিকিট বুকিং দিয়েছিলেন। কিন্তু অল নিপ্পন এয়ারওয়েজের কর্মীরা ভুল করে একই ফ্লাইটে দুই ভাইকে পাঠান। বিমান উড়াল দেওয়ার পর এক ক্রু ধরতে পারেন, ফ্লাইটে একজন অবৈধ যাত্রী আছেন! সেটা আসলে ওই দুই ভাইয়ের একজন, যাঁর কাছে ছিল নিপ্পনেরই আরেকটি ফ্লাইটের টিকিট।
পরে বিমানটির টোকিও যাওয়ার সময় পুনর্নির্ধারিত করা হলেও ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এএনএ কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাঁরা বলেছে, ‘গ্রাহকসেবায় আমরা গর্ব করলেও এই ফ্লাইটে সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছি।’

‘সু চির পদত্যাগ করা উচিত’

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদে দেশটির নেত্রী অং সান সু চির পদত্যাগ করা উচিত বলে মত দিয়েছেন আইরিশ রক ব্যান্ড ‘ইউ-টু’র প্রধান গায়ক পল ডেভিড হিউসন, যিনি বোনো নামেই বেশি পরিচিত।

সু চি গৃহবন্দী থাকাকালে গান গেয়ে তাঁর পক্ষে জনসমর্থন আদায়ে ভূমিকা রাখেন এই সংগীতশিল্পী। সু চির সমর্থনে ২০০০ সালে বোনোর ‘ওয়াক ওন’ গানটি সাড়া ফেলেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পাক্ষিক ম্যাগাজিন রোলিং স্টোনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংগীতশিল্পী বোনো বলেন, ‘আমি রীতিমতো অস্বস্তি বোধ করি। কারণ সবকিছু থেকে পরিষ্কার, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন চলছে। সু চি তা জানেন। এ কারণে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।’

বোনোর সাক্ষাৎকারটি নেন রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা জেন ওয়েননার। সু চির পদত্যাগের পক্ষে যুক্তি হিসেবে বোনো বলেছেন, অং সান সু চির অন্তত এ বিষয়ে (রোহিঙ্গা) আরও মুখ খোলা উচিত। কেউ তা না শুনলে তখন তাঁর উচিত হবে পদত্যাগ করা।

তবে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সু চির অবস্থানের কারণ হিসেবে বোনো এমনও বলেন, সু চি হয়তো চাইছেন না মিয়ানমারে আবার সামরিক শাসন জারি হোক। এ কারণেই তিনি নিশ্চুপ।

শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি মিয়ানমারে সামরিক জান্তার আমলে প্রায় দুই দশক গৃহবন্দী ছিলেন। সে সময়ে বোনোসহ অনেক তারকার সমর্থন পেয়েছেন তিনি।

মিয়ানমারে গত বছরের ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে দেশটির যাত্রা এবং স্টেট কাউন্সেলর হিসেবে সু চির ক্ষমতায় আসায় মানবাধিকারকর্মীরা উদ্বেলিত হয়েছিলেন। আশা করেছিলেন, এখন হয়তো দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির চিত্র বদলে যাবে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সু চির অবস্থান তাঁদের আশাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে।

৯ বদভ্যাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কিডনি

কিডনি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খুব ধীরে ধীরে এ অংশটি নষ্ট এবং অকেজো হয়। যদিও খুব সহজে তা বুঝা যায় না। কখনো কখনো আমাদের নিত্যদিনের কিছু বদঅভ্যাসের জন্যে কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে যা আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারি না। যখন আবিষ্কার করতে পারি তখন অনেক বেশি দেরী হয়ে যায়!

প্রতিটা মানুষের সুস্থ স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য দুটো কিডনিই সম্পূর্ণভাবে ভালো এবং কর্মক্ষম থাকাটা বাঞ্ছনীয়। কিডনি ভালো রাখার জন্য যে সকল বাজে অভ্যাস পরিত্যাগ করা উচিৎ সেগুলো জেনে নিন এই ফিচার থেকে।

১. অনেক বেশি কোমল পানীয় পান করার অভ্যাস

ওসাকা ইউনিভার্সিটি অব জাপান এর কর্মচারীদের উপরে করা একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, যারা দিনের মধ্যে দুই বা ততোধিকবার কোমল পানীয় (ডায়েট অথবা নরমাল) পান করেন, তাদের কিডনির সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে অনেক বেশী। ১২,০০০ কর্মচারীর মাঝে যারা অনেক বেশী কোমল পানীয় পান করেন তাদের মূত্রতে অনেক বেশি পরিমাণে প্রোটিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মূত্রতে প্রোটিনের আধিক্য কিডনি ড্যামেজের প্রাথমিক লক্ষণ।

২. শরীরচর্চার অপ্রতুলতা

শরীরচর্চা শুধুমাত্র ওজন কমাতেই সাহায্য করে না, কিডনি ভালো রাখতেো সাহায্য করে থাকে। ২০১৩ সালে জার্নাল অফ দ্যা আমেরিকা সোসাইটি অফ নেফ্রোলজি তাদের এক গবেষণায় প্রকাশ করেছে, মেনোপজের পরবর্তী সময়ের নারীদের মধ্যে যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাদের কিডনিতে পাথর হবার ঝুঁকি ৩১% কম হয়ে থাকে।

৩. পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া

কিডনি সচল থাকার জন্য এবং কিডনির কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলার জন্য প্রতিটি মানুষের প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়াটা বাধ্যতামূলক। যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না খাওয়া হয় তবে শরীরের ভেতরের বর্জ্য পদার্থগুলো রক্তের সাথে মিশে যাওয়া শুরু করে। ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন জানায়, প্রতিদিন অন্তত ১২ গ্লাস পানি খাওয়া উচিৎ একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়া হচ্ছে কী না তা জানা যায় মূত্রের রঙ থেকেই।

৪. প্রস্রাব চেপে রাখা

অনেকেরই এই বদভ্যাসটা থাকে। প্রস্রাবের বেগ পেলেও মূত্র বিসর্জন না করে চেপে রাখা। ব্লাডার যখন খালি হতে চাচ্ছে তখন প্রস্রাব আটকে রেখে দেওয়া ব্লাডারের উপর বাড়তি চাপ দিতে থাকে। নিয়মিতভাবে এই কাজটা করলে কিডনির ভয়াবহ ক্ষতি হয়। কারণ এর ফলে কিডনির উপরে প্রেশার পড়ে যা কিডনি ফেইল্যুর এর মতো সমস্যা তৈরি করে ফেলে।

৫. অনেক বেশি পরিমাণে সোডিয়াম গ্রহণ করা

লবণ শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি উপাদান, তবে এই লবণও খেতে হবে একদম পরিমিত পরিমাণে। অতিরিক্ত পরিমাণে লবণ খেলে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং কিডনির উপর অতিরিক্ত ধকল পড়ে যায়। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৫.৮ গ্রাম এর বেশী লবণ খাওয়া কোনভাবেই উচিৎ নয়।

৬. অনেক বেশি পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি’র মতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অনেক বেশী পরমাণে প্রোটিনযুক্ত খাবার কিডনির জন্য অনেক বেশী ক্ষতিকর। প্রোটিন খাওয়ার ফলে এমোনিয়া নামে একটি উপযাত তৈরি হয়, যা কিডনি পরিশোধিত করার চেষ্টা করে। অনেক বেশী প্রোটিন খাওয়া মানেই অনেক বেশি পরিমাণে এমোনিয়া তৈরি হওয়া। যার অর্থ, কিডনির উপর বাড়তি প্রেশার, যা কিনা কিডনির কর্মক্ষমতা কমিয়েও ফেলতে পারে।

৭. অনেক বেশি পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ করা

অনেক সময়ে অতিরিক্ত কাজের চাপে অথবা দুশ্চিন্তা কিংবা সাধারণ ভাবেই আমরা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশী অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত খাবার গ্রহণ করে ফেলি। এতে করে নিজেরা বুঝতে পারার আগেই, বেশীরভাগ সময় রক্তচাপ অনেক বেশী বেড়ে যাওয়ার ফলে কিডনির উপরে বাড়তি চাপ পড়ে থাকে।

৮. ঘুমের ব্যঘাত ঘটা

আমরা সকলেই যেমন খুব আরামদায়ক ঘুম পছন্দ করি, ঠিক তেমনভাবেই আমাদের কিডনিও একদম নিরবিচ্ছিন্ন আরামদায়ক ঘুম পছন্দ করে এবং সেই ঘুম তাদের খুব দরকার। সাইন্স ডেইলি রিপোর্ট করে, ক্রনিক ঘুমের ব্যাঘাতের সমস্যা কিডনির রোগের ঝুঁকি অনেক বেশী বাড়িয়ে দেয়।

৯. অসুস্থতার পরে পরিপূর্ণ সুস্থ না হওয়া

খুব সাধারণ একটা প্রবণতা সবার মধ্যে কম-বেশি দেখা যায়। ঠাণ্ডা লাগলে, জ্বর হলে আমরা ভালোমতো পাত্তা দেই না এবং সেই অবস্থাতেই কাজ করা শুরু করে দেই। যার ফলে অনেক সময় কিডনি ড্যামেজের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, যে ব্যক্তি অসুস্থতা থেকে পরিপূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে ওঠা এবং বিশ্রাম নেবার আগেই নিজেকে কাজের মধ্যে ব্যস্ত করে ফেলে, তার কিডনির সমস্যা দেখা দেবার সম্ভবনা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে কম বসুন বেশি হাঁটুন

গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবন যাপন বহুগুনে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ওই গবেষণার পর মানুষকে কম বসা এবং বেশি হাঁটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবন যাপনের ফলে ডায়াবেটিসের মতো প্রাণঘাতি রোগও হতে পারে। আর তাছাড়া এর ফলে যে কোনো কারণে মৃত্যু ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবন-যাপনের প্রধান অভ্যাসগুলো হলো, দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা, শুয়ে থাকা বা গা এলিয়ে দেওয়া; যখন কেউ জেগে আছেন, পড়ছেন, টেলিভিশন দেখছেন বা কম্পিউটারে কাজ করছেন।

এসব ‘নিষ্ক্রিয় তৎপরতায়’ শক্তি ব্যায় হয় মাত্র ১.৫ এমইটি’র চেয়েও কম। হালকা গৃহস্থালী কাজ বা ধীরগতির অথবা অবসরকালীন হাঁটাহাঁটিতে সাধারণত ২.৫ এমইটি শক্তি ব্যয় হয়। আর মাঝারি থেকে তীব্রমাত্রার শারীরিক তৎপরতায় সাধারণত ৩.০ বা আরো বেশি এমইটি শক্তি ব্যয় হয়।

তবে মাঝারি বা তীব্র শারীরিক তৎপরতার কারণে নিষ্ক্রিয়তার ফলে যে ক্ষতি হয় তা দূর হয় না। এমনকি শারীরিকভাবে যথেষ্ট সক্রিয় ব্যক্তিরাও যদি অধিক পরিমাণে নিষ্ক্রিয় সময় ব্যয় করেন তারাও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অত্যধিক ঝুঁকিতে থাকেন।

গবেষকদের মতে, কেউ শারীরিকভাবে কতটা সক্রিয় থাকলেন তাতে একাধারে দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার কুফল দূর হয় না। বরং একাধারে দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার ফলে হৃদপিণ্ড ও রক্তের শিরা-উপশিরাগুলো অনিবার্যভাবেই ক্ষতির শিকার হয়।

তবে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার ফলে স্বাস্থ্যের ঠিক কতটা ক্ষতি হয় তা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ‘কম বসুন বেশি হাঁটুন’।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়শনের এর মতে, বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রায় বা ৭৫ মিনিট তীব্র মাত্রায় ব্যায়াম করতে হবে।

তবে এক বা দুইদিনেই সব শরীর চর্চা না করে বরং প্রতিনিয়ত শারীরিকভাবে তৎপর থাকতে হবে।

২০১৮ শিক্ষাবর্ষের সরকারি/বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি

সরকারি/বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি অনুমোদন।

২০১৮ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি দেখতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

দেশের খবর

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি- ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় গ্রাম্য সালিশে দোররা মেরে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের বোন ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে গত ২১ ডিসেম্বর হরিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক নিয়ে স্বামী জাহাঙ্গীর আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে টানাপড়েন ছিল গৃহবধূ মৌসুমী আক্তারের। কয়েকবার মৌসুমীকে মারধর করে বাপেরবাড়ি পাঠিয়েও দেয়া হয়। তবে গত ২০ ডিসেম্বর মৌসুমীর জীবনে ঘটে সব থেকে ভয়ংকর ঘটনা।

পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে ওই রাতে মাতবরদের নিয়ে সালিশ ডাকে স্বামীর পরিবার। সালিশে দেয়া রায়ে ১০১ বার দোররা মারা হয় মৌসুমীকে। এর মাঝে কয়েকবার অজ্ঞান হয়ে গেলে জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর আবার চলে নির্যাতন। পরদিন ২১ ডিসেম্বর মারা যান মৌসুমী।

এদিকে মৌসুমীর মৃত্যুর পর তার স্বজনরা স্বামী জাহাঙ্গীর ও সালিশকারী সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ১০ জনের নামে হরিপুর থানায় ২১ ডিসেম্বর হত্যার অভিযোগ এনে একটি এজাহার দেন। তবে থানা পুলিশ এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে না নিয়ে অপমৃত্যু মামলা হিসেবে নিয়েছে। স্বজনদের চাপে মৌসুমীর ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নিলেও পুলিশ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, সালিশকারীদের অন্যতম কাজী আবুল কালামকে অপমৃত্যু মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত বাকিরা পলাতক আছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সালিশে গ্রামের কাজী আবুল কালাম ছাড়াও আব্দুল কাদের, সাবেক ইউপি সদস্য জামালসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সালিশের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাত ১১টায় জাহাঙ্গীরের বাসায় গ্রাম্য সালিশ বসিয়ে কাজী আবুল কালামের নির্দেশে ‘ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক’ মৌসুমীকে তওবা পড়ানো হয়। এরপর ১০১ দোররা মারা হয়। তখন মৌসুমীর চিৎকারে তিনি ও আশপাশের অনেকে ছুটে আসেন ওই বাড়িতে। কিন্তু গ্রাম্য মাতব্বরদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।

আমগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পাভেল ইসলাম বলেন, তিনি প্রথমে ঘটনা জানতেন না। পরে জানতে পেরেছেন। দেশে আইন-কানুন থাকতে এভাবে দোররা মেরে বিচার সালিশ করা আইনত দণ্ডনীয়। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ২৩ ডিসেম্বর মৌসুমীর মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, মৌসুমীর শরীরে দোররার আঘাতের একাধিক চিহ্ন ছিল।

তবে হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুসের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

এ ব্যাপারে জেলার পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ জানান, তিনি এ ঘটনা জানতেন না। কিছু মাধ্যমে জানতে পেরে অভিযুক্ত কালাম কাজীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে কালামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


ইউজিসির সুপারিশ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা যাবেন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে!

প্রতিষ্ঠিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তুলনামূলক কম প্রতিষ্ঠিত (নতুন) সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেষণে পাঠানোর সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে বলেছে সংস্থাটি।

ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন আরও বেশ কিছু সুপারিশ রয়েছে। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটি অতি সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

সুপারিশের কারণ হিসেবে ইউজিসি বলছে, অপেক্ষাকৃত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক নেই। ফলে সেখানে শিক্ষাক্ষেত্রে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
২০১৬ সালের তথ্য নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। ইউজিসি উচ্চশিক্ষা নিয়ে সরকারকে সুপারিশ করে। সরকার সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়।

দেশে বর্তমানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৪২টি। তবে ৩৭টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে বাকি ৩৪টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ এবং শিক্ষক ১৩ হাজার ৭২। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ১: ২০।

ইউজিসির একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এখন প্রতিনিয়ত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। জামালপুর ও নেত্রকোনায় আরও দুটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে যাচ্ছে। কিন্তু নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত মানসম্পন্ন পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। দলীয়করণ করতে গিয়ে আরও কম যোগ্য ব্যক্তিরাও শিক্ষক হচ্ছেন। সেগুলোতে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকও হাতে গোনা। ফলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা পাচ্ছেন না। ইউজিসি মনে করছে, পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রয়েছেন। সেখান থেকে কিছুসংখ্যক শিক্ষককে নতুনগুলোয় পাঠালে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

ইউজিসি নতুন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর পদগুলোয় স্থায়ীভাবে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে বলেছে। সংস্থাটি অবসরপ্রাপ্ত অথবা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রেষণে শিক্ষকদের ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়ে তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া অভিজ্ঞ শিক্ষকের ঘাটতি পূরণে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন, তাঁদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে ইউজিসি। এ জন্য প্রয়োজনে ইউজিসি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম-ঠিকানার (ডাইরেক্টরি) তালিকা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবে।

ইউজিসি বলছে, জাতীয়, উন্মুক্ত এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক নতুন সরকারি ও অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষকসংকট বিরাজ করছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানত প্রভাষক ও কনিষ্ঠ শিক্ষক দিয়ে চলছে। এ ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশের প্রথিতযশা অধ্যাপকদের বক্তৃতা (লেকচার) ভার্চ্যুয়াল ক্লাসের মাধ্যমে দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া দেশে দক্ষ শিক্ষক ও গবেষক (ফ্যাকাল্টি) তৈরির জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক বিশ্বমানের একটি ‘গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়’ অতি দ্রুত করা দরকার। যেখানে শুধু স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হবে এবং দেশের আর্থসামাজিক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করবে। ইউজিসি বলছে, বর্তমানে যেসব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, তারা প্রয়োজনীয় উচ্চ ডিগ্রিসম্পন্ন জনবল তৈরি করতে পারছে না।

এসব সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রস্তাবগুলো খুব ভালো। তবে নতুন ‘গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়’ করা বেশ জটিল হবে। তার চেয়ে বরং প্রতিষ্ঠিত যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যেখানে আলাদা করে গবেষণার জন্য অধ্যাপকেরা থাকবেন, তাঁদের মূল কাজই হবে গবেষণা করা ও করানো। তাঁরা মাঝেমধ্যে ক্লাস নেবেন। আর প্রেষণে পাঠানোর জন্য শিক্ষকদের প্রথমে পছন্দ দিতে হবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যবেক্ষক
দেশে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও ৮৬টির কার্যক্রম চলছে। ইউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায়ই দেখা যায়, বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সভা করে না। অনেকগুলোতে আচার্যের নিয়োগ করা উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নেই। প্রতিবছর এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিরীক্ষিত বার্ষিক হিসাব ইউজিসিতে জমা দেয় না, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব কার্যকলাপ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইউজিসি বোর্ড অব ট্রাস্টিজে ইউজিসির একজন সদস্য বা স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ২০ বছরের শিক্ষকতাসহ গবেষণা বা প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ একজন শিক্ষাবিদকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

এ ছাড়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা যাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে পারেন, সে জন্য নীতিমালা করতে বলেছে ইউজিসি।

প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসির ফল আজ

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল আজ শনিবার প্রকাশ করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেবেন। পরে সচিবালয়ে বেলা একটায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এবং বেলা দুইটায় শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত ফল প্রকাশ করবেন। গত ১ নভেম্বর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। শেষ হয় ১৮ নভেম্বর। এই দুই পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ লাখ ৬৯ হাজার। অন্যদিকে ১৯ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৩১ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।

আমি বাপ্পীকে ছাড়া বাঁচব না, অন্যমেয়েকে বিয়ে করলে আত্মহত্যা করব’

২০১৭ সাল শেষ। এখন চলছে বিগত বছরের হিসেব নিকেশ। শোবিজ তারকাদের নিয়ে এখন ভক্তরা হিসেব নিকেশ করছেন। বছরের আলোচিত নায়ক কে? এ নিয়ে দর্শক ভক্তদের যেন কৌতুলের শেষ নেই। ইতোমধ্যে গুগল জানিয়েছে বিদায়ী বছরে শাকিব খানের পরে সর্বাধিক বেশিবার খুঁজেছেন বাপ্পী চৌধুরীকে।
অভিনয় আর নতুন ছবির মুক্তির মতো নানা বিষয় নিয়েই বছর জুড়ে আলোচনায় ছিলেন বাপ্পী। এর বাইরে নানা সময় বিভিন্ন নায়িকাদের জড়িয়ে প্রেমের গুঞ্জন নিয়েও আলোচনায় ছিলেন এ নায়ক। রুপালি পর্দায় ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকেই প্রেমের গুঞ্জন তার পিছু ছাড়ছে না। আজ এই নায়িকা তো কাল ওই নায়িকা, পরশু অন্য কোনও কামিনীর সঙ্গে প্রেম করছেন এমন শিরোনোমের খবর তাকে নিয়ে প্রায়ই দেখা যায়। সম্প্রতি নায়িকা অপু বিশ্বাসকে ঘিরেও বাপ্পীর সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন উঠেছিল। বলা হচ্ছিল- শাকিবকে ছেড়ে বাপ্পীর দিকে এগোচ্ছেন অপু। অপুর কথিত প্রেমিক বাপ্পী এমন খবরও সরগম ছিল মিডিয়াপাড়া।
তবে সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে জিফান নামে এক মেয়ে লাইভে এসে বলেন, তিনি বাপ্পীকে ভালোবাসেন। বাপ্পী যদি তাকে ছাড়া অন্য কোনও মেয়েকে বিয়ে করে তবে তিনি আত্মহত্যা করবেন। মেয়েটি ভিডিওতে বলেন, ২০১২ সাল থেকে আমি চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরীর ফ্যান। কিছুদিন আগে শুনলাম তিনি বিয়ে করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে। বাপ্পী চৌধুরী যদি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করে তাহলে আমি আত্মহত্যা করবো। আমি তাকে অনেক ভালোবাসি। বাপ্পী চৌধুরী তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারো না। তুমি বিয়ে যদি করতেই হয় আমাকে করবে। কারণ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। প্লিজ আপনারা এই লাইভটি শেয়ার করবেন। শেয়ার করে বাপ্পী চৌধুরীর কাছে এই কথা গুলো পৌছে দিবেন। আমি বাপ্পী চৌধুরীকে ছাড়া বাঁচব না। উল্লেখ্য, গেলো ৬ ডিসেম্বর ছিল বাপ্পী চৌধুরীর জন্মদিন। আর এবারের জন্মদিনেই পরিবারকে সারপ্রাইজ হিসেবে নিজের বিয়ের সম্মতি দিয়েছেন তিনি। পরিবার থেকেও নাকি এরই মধ্যে পাত্রী খোঁজা শুরু হয়েছে। তবে কোনো নায়িকা বিয়ে করবেন না বলে জানিয়েছেন এই তরুণ নায়ক। পরিবারের পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করবেন তিনি।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বড় পর্দায় আসছেন মোদী

১১ মাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার মুক্তি পেতে চলেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনুপ্রাণিত ছবি ‘মোদী কাকা কা গাঁও‘৷ বিভিন্ন কারণে দেশটির সেনসর বোর্ডের গ্যাঁড়াকলে আটকে গিয়েছিল ছবিটি, তবে শেষ পর্যন্ত মুক্তির আলো দেখতে চলেছে ছবিটি৷ মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নমূলক কাজ কর্মকে ভিত্তি করেই তৈরি এই ছবি। বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে কিভাবে উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়েছে সেসবও তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। পাশাপাশি স্বচ্ছ ভারত থেকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, নোট বাতিলের মতো ইস্যু গুলিও একের পর এক এসেছে এখানে। তবে ছবিটি মোদীর বায়োপিক যে নয় তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন চিত্রনির্মাতা।
উল্লেখ্য, এখানে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রোহিত রাজ। তুষার এ গোয়েল পরিচালিত এই ছবিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চন্দ্রমণি এম এবং জেবা এ. প্রমুখ৷
ইতিমধ্যে ছবিটির ট্রেলার দেখা যাচ্ছে। ২৯ ডিসেম্বর, শুক্রবার মুক্তি পাবে ‘মোদী কাকা কা গাঁও’ ছবিটি।

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের দ্বিতীয় দিনের আয়োজন যা ছিল

পাঁচ দিনব্যাপী বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের দ্বিতীয় দিনের আয়োজন শুরু হয় ২৭ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে। শুরুতেই কত্থক নৃত্য পরিবেশন করে অদিতি মঙ্গলদাস ড্যান্স কোম্পানি-দৃষ্টিকোন ড্যান্স ফাউন্ডেশন। পুরো পরিবেশনাতে ছিলো তিনটি পর্ব – উৎসব, প্রিয়তমের খোঁজে এবং তারানা। নৃত্যাংশে ছিলেন অদিতি মঙ্গলদাস, গৌরী দিবাকর, মিনহাজ, আম্রপালি ভাণ্ডারী, অঞ্জনা কুমারী, মনোজ কুমার, সানি শিশোদিয়া।

এ ছাড়া, কণ্ঠ ও হারমোনিয়াম পরিবেশনে ছিলেন ফারাজ খান, তবলা ও পাঢ়ান্তে মোহিত গাঙ্গানি, পাখোয়াজ ও পাঢ়ান্তে আশীস গাঙ্গানি, বাঁশিতে রোহিত প্রসন্ন। পুরো পরিবেশনাটির মূলধারণা, কোরিওগ্রাফি ও পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন অদিতি মঙ্গলদাস।

উৎসব পর্বের মূল পারকাশন রচনা করেছেন গোবিন্দ চক্রবর্তী এবং শ্লোক লিখেছেন সামিউল্লাহ খান। প্রিয়তমের খোঁজে পর্বে ওস্তাদ আমির খসরুর সংগীত ভাষ্যে সংগীত রচনা করেছেন সামিউল্লাহ খান। তারানা পর্বের সংগীত রচনা করেছেন শুভা মুদগাল ও আনীশ প্রধান। পরিবেশন শেষে শিল্পীদের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার।

এরপর সুরেশ তলওয়ালকরের পরিচালনায় তবলা পরিবেশন করে বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ। তবলা দলে ছিলেন প্রশান্ত ভৌমিক, সুপান্থ মজুমদার, এম জে জেসাস ভুবন, ফাহমিদা নাজনিন, নুসরাত-ই-জাহান এবং শ্রেষ্ঠা প্রিয়দর্শিনী। তারা রাগ কিরওয়ানি নাগমায় তিন তালে কম্পোজিশন পরিবেশন করেন। পরিবেশনা শেষে শিল্পীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

তবলার পরিবেশনার পর মঞ্চে আসেন প্রখ্যাত সন্তুর শিল্পী পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা। তিনি পরিবেশন করেন রাগ ঝিঁঝোটিতে আলাপ, জোড়, ঝালা ও গৎ। তাঁর সঙ্গে তবলায় ছিলেন যোগেশ শামসি, তানপুরায় ছিলেন তাকাহিরো আরাই। পরিবেশনা শেষে পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এম পি।

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে আরও বাদন ও সংগীত পরিবেশন করেন পণ্ডিত উলহাস কশলকর (খেয়াল), ওস্তাদ শাহিদ পারভেজ খান (সেতার), অভিজিত কুণ্ডু ও বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয় (ধ্রুপদ), পণ্ডিত রনু মজুমদার (বাঁশি) এবং পণ্ডিত দেবজ্যোতি বোস (সরোদ)। উৎসব চলে ভোর ৫টা পর্যন্ত।

সংগীত উপভোগের পাশাপাশি খাবার ও পানীয়ের জন্য উৎসব প্রাঙ্গণে রয়েছে ফুড কোর্ট। পাশাপাশি উৎসব প্রাঙ্গণে আরও চলছে বাংলাদেশের সংগীত সাধক ও তাদের জীবনী নিয়ে একটি সচিত্র প্রদর্শনী এবং বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটলমেন্টস এর ‘সাধারণের জায়গা’ শীর্ষক প্রদর্শনী।

এ ছাড়া উৎসব প্রাঙ্গণে স্টল স্থাপন করেছে বেঙ্গল ডিজিটাল, বেঙ্গল এক্সপ্রেস, বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়, অরণ্য, বেঙ্গল ভিজ্যুয়াল আর্টস প্রোগ্রাম, বেঙ্গল বই, ব্র্যাক ব্যাংক ও স্কয়ার গ্রুপ। আছে ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথ। সাংবাদিকদের জন্য আছে ওয়াইফাই জোন।

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৭-এর নিবেদক স্কয়ার গ্রুপ। আয়োজন সর্মথন করছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, মেডিক্যাল পার্টনার স্কয়ার হাসপাতাল, অনুষ্ঠানে সম্প্রচার সহযোগী চ্যানেল আই, মিডিয়া পার্টনার আইস বিজনেস টাইমস, আতিথেয়তা সহযোগী প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও। আয়োজন সহযোগী ইনডেক্স গ্রুপ, বেঙ্গল ডিজিটাল, বেঙ্গল বই ও বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়। ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় ব্লুজ কমিউনিকেশনস। উৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে পারফেক্ট হারমনি, সিঙ্গাপুর।

গত পাঁচ বছর ধরে আয়োজিত ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব’ শিল্পী ও দর্শকের অংশগ্রহণের নিরিখে এরই মধ্যে এই উপমহাদেশ তথা বিশ্বের র্সবাধিক বড় পরিসরের উচ্চাঙ্গসংগীতের আসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

এ বছর উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সংস্কৃতিতাত্ত্বিক এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানকে।

ব্যয় করার অগ্রাধীকার খাতসমূহ

একজন মানুষ প্রতিদিন কোন না কোন খাতে অসংখ্য টাকা ব্যয় করে থাকে । ব্যয় করার ক্ষেত্রে একজন মুসলিম হিসেবে অবশ্যয় জানা দরকার, ইসলাম কোন কোন খাতে ব্যয় করার প্রতি উৎসাহ বা অগ্রাধীকার দেয়। তা না হলে এই ব্যয়টা অনেক সময় কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণের পথেই বেশি হয়ে থাকে। আর তা মনের অজান্তেই হয়ে যায়। ব্যয়টা যদি সৎ কাজের চেয়ে অসৎকাজে বেশি হয় তাহলে সমাজ ব্যবস্থার উপর এর নিতিবাচক প্রভাব পড়ে তখন সমাজে অস্থিরতা ও খারাপ কাজের প্রবনতা বেড়ে যায়। তাই ব্যয় করার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের সতর্ক দৃষ্টি রাখা আবশ্যক। কোন কোন খাতে ইসলাম ব্যয় করতে উৎসাহ দেই এ সম্পর্কে সূরা বাকারার ২১৫ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন- يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ ۖ قُلْ مَا أَنفَقْتُم مِّنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۗ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ﴾

(হে নবী) লোকেরা আপনাকে জিজ্ঞেস করছে, আমরা কি ব্যয় করবো? আপনি বলেদিন , যে অর্থই তোমরা ব্যয় কর না কেন তা নিজেদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য ব্যয় করো৷ আর যে সৎকাজই তোমরা ব্যয় করবে সে সম্পর্কে আল্লাহ অবগত হবেন ৷

নিম্নে ব্যয়ের অগ্রাধীকার খাতসমূহ উল্লেখ করা হলো।

>>প্রথমে আল্লাহ্‌র পথে ব্যয়ঃ –

ব্যয় করার ক্ষেত্রে প্রথমেই যেটা ভাবতে হবে সেটা হলো ব্যয়টা সৎ পথে হচ্ছে না অসৎ পথে হচ্ছে? আর সৎ পথ বলতে আমি বুঝি আল্লাহর নির্দেশিত পথে বা আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে। অন্য ভাবে বলতে গেলে বলা যায় দ্বীন প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠার কাজে যে ব্যয় করা হয় তাই হলো আল্লাহর পথে ব্যয়। একজন মানুষ যখনই আল্লাহর পথে চলার ইচ্ছা পোষণ করে তখন থেকেই মূলত শুরু হয় আল্লাহর পথে ব্যয়। আল্লাহর পথে ব্যয় শুধু টাকা-পয়সাই বুঝায় না বরং এর থেকে আরো অনেক কিছু। যেমন হতে পারে অর্থ-সম্পদ, সংসারের মহাব্বত, ক্ষমতার লোভ, ভালবাসা, সম্পর্ক. সময় ইত্যাদি। এ সব কিছু আল্লাহর জন্য sacrifice করাই হলো আল্লাহর পথে ব্যয়। আল্লাহর পথে ব্যয়ের আগ্রহটা এমন পর্যায়ে পৌছতে হবে যে আল্লাহর সন্তুষ্ঠির মোকাবিলায় দুনিয়ার কোন জিনিসকেই সে প্রিয়তর মনে করবে না৷ আর যে জিনিসের প্রতি তার ভালোবাসা এমনভাবে প্রাধান্য বিস্তার করে যে, আল্লাহর পথে চলার জন্য সে তাকে ত্যাগ করতে পারছে না, তবে সেটিই হচ্ছে তার জন্য একটি দেবতা৷ এই দেবতাকে যতক্ষণ পর্যন্ত সে বিসর্জন দিতে বা ত্যাগ করতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত সে মুমিন হতে পারবে না। যেমন আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-

لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّى تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ তোমরা প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না সেই পর্যন্ত যে পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তুগুলো আল্লাহর পথে ব্যয় না করবে।’ সূরা আনফাল-192

অতএব মানুষ যে গুলোকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসে অথবা যে ভালবাসার টান তাকে আল্লাহর পথে চলতে তাকে বাধা প্রদান করে সেই বালবাসাকে আল্লাহর জন্য বিসর্জন দেয়াই হলো আল্লাহর পথে ব্যয়।

অন্যত্র আল্লাহা তা’য়ালা বলেন-وَأَنفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ۛ وَأَحْسِنُوا ۛ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ﴾

অর্থ- তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না ৷ আর অনুগ্রহ প্রদর্শনের পথ অবলম্বন করো, কেননা আল্লাহ অনুগ্রহ প্রদর্শনকারীদেরকে ভালোবাসেন ৷ বাকারা-১৯৫

এমন ব্যয়কেই রাসূলুল্লাহ্ (সা.) সুসংবাদ দেন এই বলে যে- مَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فِي سَبِيلِ اللهِ كَانَتْ لَهُ بِسَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোন কিছু ব্যয় করবে তাকে সাতশত গুণ ছওয়াব প্রদান করা হবে। (আহমাদ,সনদ ছহীহ)

অন্য একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেন-হে আদম সন্তান! তোমার হাতে তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা রয়েছে তা আল্লাহর পথে ব্যয় করাই তোমার জন্য মঙ্গলজনক এবং তা ব্যয় না করা তোমার জন্য ক্ষতিকর। তবে হ্যাঁ, নিজের প্রয়োজন অনুপাতে খরচ করায় তোমার প্রতি কোন ভর্ৎসনা নেই।’ (মুসলিম ১০৩)

>>নিজের জন্য ব্যয়-

অর্থ সম্পত্তি প্রথমে নিজের থেকে ব্যয় করা শুরু করতে হবে। ইসলাম চাই মানবিকতা, চাই একজন সুস্থ-সবল মানুষ। ইসলাম এমন চাই না যে, নিজে না খেয়ে না পরে সব কিছু উজাড় করে ব্যয় করতে থাকুক। ব্যক্তি নিজের চাহিদা, নিজের প্রয়োজন পূরণ না শুধু উজাড় করে ব্যয় করতে থাকলে সে, যে কোন সময় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে এবং আল্লাহর পথ থেকেই ছিটকে পড়তে পারে। তাই ইসলাম চায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন। যেখানে নিজের প্রয়োজন পূরণ করার পর সে মানবতার জন্য হাত প্রসারিত করুক। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ হে নবী আপনাকে করছেঃ আমরা আল্লাহর পথে কি ব্যয় করবো? বলেদিন- যা কিছু তোমাদের প্রয়োজন পূরণের পর অতিরিক্ত হয় (তার থেকে ব্যয় কর)

এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেন- প্রথমে তুমি তোমার নিজ থেকে দান আরম্ভ কর। তারপর অতিরিক্ত থাকলে ছেলেমেয়ের জন্য খরচ কর। এর পরেও থাকলে নিজের আত্মীয়-স্বজনের উপর সাদাকাহ কর। এর পরেও যদি থাকে তাহলে অন্যান্য অভাবগ্রস্থদের উপর সাদাকাহ কর।’ (মুসলিম ২/৬৯২)

>>পিতা-মাতার জন্য ব্যয়-

ইসলাম চায় একজন মানুষ যে, নিজের প্রয়োজন পূরণের পর সব থেকে আগে যাদের হক আদায় করবে তারা হলেন পিত-মাতা। কারণ পিতা-মাতার হক্ব আদায়ের সাথে আল্লাহর সন্তষ্টির সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সন্তুষ্টির উপর আল্লাহর সন্তুষ্টি আর তাদের অসুন্তষ্টির উপর আল্লাহর অসুন্তষ্টি নির্ভর করে। পিতা-মাতার অধিকারকে সন্তান নিজের অধিকার বলে মনে করব এবং তাদের ভরণ পোষনের পূর্ণ দায়িত্ব নিবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَاناً অর্থঃআমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি।

সন্তানের ধন-সম্পদের ওপর পিতা-মাতারই সর্বপ্রথম অধিকার রয়েছে। পিতা-মাতার জন্য তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সন্তানকে অবশ্যই সম্পদ ব্যয় করতে হবে। পিতা-মাতার জন্য খরচ না করে সম্পদ পুঞ্জীভূত করা কোনো অবস্থাতেই সন্তানের জন্য সঠিক নয়।

রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেন ঃ ‘তোমরা মায়ের সাথে, পিতার সাথে, বোনের সাথে, ভাইয়ের সাথে, অতঃপর নিকটতম আত্মীয়দের সাথে আদান প্রদান কর।’ (হাকিম ৩/৬১১) অতঃপর বলেন, ‘এগুলিই হচ্ছে খরচ করার স্থান। ঢোল-তবলা, ছবি এবং দেয়ালে কাপড় পরানো, এগুলো খরচের স্থান নয়।’ (ইব্ন আবী হাতিম ২/৬২০)

নিকট আত্মীয়ের মাঝে ব্যয় করা-

ইসলাম ব্যয় করার ক্ষেত্রে পিতামাতার পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় পিতা-মাতার আত্মীয় স্বজন বা নিকট আত্মীয়দেরর মাঝে। কেননা আত্মীয়তার সম্পর্ক যদি ভাল না থাকে তাহলে পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়। আর যদি ভাল থাকে তাহলে একটি শক্ত ও মজবুক পারিবারিক ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের মাঝে গড়ে উঠে ভালবাসা ও সম্পৃতির এক সূদৃঢ বন্ধন যার প্রভাব গোটা সমাজ ব্যবস্থার উপর পড়ে। এসব কিছুর পিছনে মূল ভুমিকা পালন করে পরিবারের সদস্যদের মাঝে ব্যয় বা আদান-প্রদান। বিশেষ করে নিকট আত্মীয়ের মাঝে যারা গরীব তাদের কে দান করার ক্ষেত্রে ইসলাম বেশি উৎসাহ দেই। শুধু তাই নয় ইসলাম আত্মীয়ের মাঝে ব্যয় করাকে দ্বিগুন ছওয়াব বলে ঘোষনা করেছে। যেমন হাদিসে আছে একবার দুজন মহিলা সাহাবী রাসূল (সঃ) এর বাসায় গেলেন এবং এক সাহাবীকে বললেন আপনি গিয়ে রাসুল (সাঃ) কে বলুন, দুজন মহিলা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে । তারা আপনার কাছে জানতে চাচ্ছে-যদি তারা তাদের সদাক্বাহ নিজ স্বামীকে দান করে এবং তাদের ঘরেই প্রতিপালিত ইয়াতীমদের দান করে তাহলে কি তা আদায় হবে তার প্রতিউত্তরে রাসুল (সাঃ) বলেন, তারা উভয়েই তাদের দানের জন্য দ্বিগুন ছওয়াব পাবে । এক আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সদ্বব্যবহারের জন্য; দুই সদাক্বাহ করার জন্য (সহীহ মুসলিম হাদিস ২১৮৯); এর মাধ্যমে বুঝা যায় নিকট আত্মীয়ের মাঝে ব্যয় করা কতটা গুরুত্ব।

গরীব-মিসকিনদের জন্য ব্যয়

ইসলাম এমন একটি জীবন ব্যবস্থা যা সকল মানুষকেই সমান চোখে দেখে। দান করার ক্ষেত্রে নিজের আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও যারা অসহায় গরীব-মিসকিন তাদের দানের ব্যপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। এরা এমন ব্যক্তি যারা নিজেদের অসহায়ত্বের কথা অন্যের কাছে বলতে পারেনা। আবার নিজেদের অর্থে নিজেদের নূন্যতম চাহীদাটুকুও তারা পূরণ করতে পারে না। এ জন্য যারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল আল্লাহ তা’য়ালা তাদের অর্থের মধ্যে রেখেছেন গরীব-মিসকিনদের হক। এ হক আদায় না করলে স্বচ্ছল ব্যক্তিরা তাদের কাছে ঋণী হয়ে থাকবে। এই দান সাদাকার মাধ্যমে মূলত আল্লাহ তা’য়ালা সমাজের উচু-নিচুর প্রভেদ তুলে দিতে চান, গড়তে চান সহানুভূতি, সম্পৃতির বন্ধনে আবদ্ধ এক সুন্দর সমাজ।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَعْلُومٌ، لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ

(ধনিদের) তাদের সম্পদে নির্দিষ্ট হক রয়েছে। ভিক্ষুক এবং বঞ্চিতদের (যারা অভাবী অথচ লজ্জায় কারো কাছে হাত পাতে না) সকলের হক রয়েছে। (মাআরেজ- ২৪-২৫)

যেমন রাসুল (সা:) বলেন “যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কারও অভাব কেবল তাকে খুশি করার জন্য পুরণ করে, সে আমাকে খুশি করে, আর যে আমাকে খুশি করে, সে আল্লাহকে খুশি করে । আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন।” (বায়হাকী)

অন্য হাদিসে রাসুল (সা:) বলেন “অভাবিকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয় । বরং তাকে দেখে আলালাহর নেয়ামত স্বরণ করা উচিত” ।বুখারি

প্রতি ভাল কাজই সদাক্বাহঃ

মুমিনের সকল কর্মকান্ডকে ইসলাম সাদাকাহ হিসেবে গন্য করছেন যদি তা আল্লাহর জন্য হয়ে থাকে। যেমন নবী করিম (সঃ) বলেন-
আবু যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুল (সাঃ) বলেছেন তোমার ভাইয়ের প্রতি তোমার হাস্যজ্জ্বল মুখ করাটাও একটা দান; কাউকে ভাল কাজের উপদেশ দেয়াটাও একটা দান; পথ ভুলা মানুষকে পথ দেখানোও একটা দান; কোন চক্ষুহীন ব্যক্তিকে সাহায্য করাও তোমার একটা দান; চলার পথ থেকে পাথর, কাঁটা বা হাড় সরিয়ে দেয়াও একটা দান এবং তোমার বালতি হতে তোমার (অপর) ভাইয়ের বালতি ভরে দেয়াও তোমার একটা দান (তিরমি্যী, মেশকাত হাদিস ১৮১৬/২৩);

পরিশেষে রাসূল (সঃ) এর এই হাদিস দিয়েই শেষ করলাম-

হে আদম সন্তান! তোমার হাতে তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা রয়েছে তা আল্লাহর পথে ব্যয় করাই তোমার জন্য মঙ্গলকর এবং তা ব্যয় না করা তোমার জন্য ক্ষতিকর। তবে হ্যা, নিজের প্রয়োজন অনুপাতে খরচ করায় তোমার প্রতি কোন ভর্ৎসনা নেই।’ (মুসলিম ১০৩)

জেনে নিন নামাজ ত্যাগকারীর ভয়াবহ পরিণতি

নামাজ ফরজ হওয়া সত্ত্বেও যারা নামাজ ত্যাগ করবে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে পদে পদে লাঞ্ছনা, অসহায়ত্ব, কষ্ট এবং কঠিন শাস্তি। যার কিছু তুলে ধরা হলো-

০১. দুনিয়ার জীবনে-
ক. আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার জীবনে সবকিছু থেকে বরকত কেড়ে নিবে।
খ. নামাজ ত্যাগকারীর চেহারায় কোনো নূর থাকবে না।
গ. আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আমলের পুরস্কার পাবে না।
ঘ. অন্য কোনো লোক তার জন্য দোয়া করলে, সে দোয়া তার কোনো কাজে আসবে না।
ঙ. দুনিয়ার সকল সৃষ্টিজীবের নিকট সে হবে ঘৃণিত ব্যক্তি।
০২. মৃত্যুকালীন অবস্থা-
ক. বেনামাজি অপদস্থ-লাঞ্ছিত হয়ে মৃত্যু বরণ করবে।
খ. প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে।
গ. এমন পিপাসিত হয়ে মৃত্যুবরণ করবে যে, দুনিয়ার সব সাগরের পানি পান করলেও তার পিপাসা মিটবে না।

০৩. কবরের অবস্থা-
ক. বেনামাজির কবরকে এমন সংকীর্ণ করা হবে যে, এক পাঁজরের হাড় অন্য পাঁজরে ঢুকে পড়বে।
খ. কবরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হবে, যে আগুনের আঙরা বা জ্বলন্ত কয়লার ওপর রাত-দিন পলটি খেতে থাকবে।
গ. কবরে এমন এক বিষাক্ত সাপ নিযুক্ত করা হবে। এ সাপটি দৈনিক পাঁচ বার বিষাক্ত ছোবল দিবে। ফজরের নামাজ তরক করার কারণে ফজর থেকে জোহর পর্যন্ত, জোহরের নামাজ তরক করার কারণে জোহর থেকে আছর পর্যন্ত, এভাবে ইশা পর্যন্ত। এর ছোবল এতটাই বিষাক্ত হবে যে, প্রতি ছোবলে বেনামাজি ৭০ গজ মাটির নিচে চলে যাবে।

০৪. কিয়ামতের দিবসের অবস্থা-
ক. আগুনের কয়লার উপর চেহারাকে টানা-হেঁচড়া করা হবে।
খ. হিসাবের সময় আল্লাহ তাআলা গজবের দৃষ্টি তাকাবে যার ফলে তার চেহারার গোস্ত খসে পড়ে যাবে।
গ. হিসাব হবে কঠিন। অতপর জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হবে।

আজ শুক্রবার পবিত্র জুম্মা: জানুন, জুম্মার নামাজ পড়ার ফজিলত !

 ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই দিনটির বিশেষ তাৎপর্য ও গুরুত্ব আমরা অনেকেই জানিনা ! শুক্রবার মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্ব পূর্ণ দিন। অনেকেরই জানা নেই যে শুক্রবার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ।ইসলামে শুক্রবারের দিনটি অনেক বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে প্রথম মানুষ হযরত আদম)আ( কে সৃষ্টি করা হয়েছে,এই দিনে তাকে বেহেশতে স্থান দেয়া হয়েছে, এই দিনেই তিনি পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং সপ্তাহের সাতটি দিনের মাঝে শুক্রবারই সে দিন যেদিন তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন। শুক্রবার দু’আকবুলেরও দিন,তবে দুয়ায় নিষিদ্ধ কিছু চাওয়া যাবে না।এই দিনেই সংঘটিত হবে কিয়ামত।আল্লাহ শুক্রবারকে অন্যান্য দিনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন!রাসুলুল্লাহ )স( দিনটির এরকম আরো কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন।হযরত আবু হুরায়রা)রা( এবং হুযাইফা)রা( থেকে বর্ণিত : রাসুলুল্লাহ )স( বলেন : “আমাদের পূর্বে যারা এসেছিলেন আল্লাহ তাদেরকে শুক্রবার থেকে দূরে রেখেছিলেন।ইহুদীদের ছিল শনিবার এবং খ্রিস্টানদের ছিল রবিবার। অতঃপর আল্লাহ আমাদেরকে শুক্রবারের ব্যাপারে জ্ঞান দিলেন ” প্রিয় নবীজী রাসুলুল্লাহ মুহাম্মদ)স( জবাবে বলেন, “আল্লাহ মাটিকে নিষেধ করেছেন নবীদের দেহ ভক্ষণ না করতে,তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক” )আবু দাউদ,সুনান আবু দাউদ ৪/২৭৩( .আবুলুবাবাহ ইবন আল-মুনধির হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ)স( বলেন, “শুক্রবার সব দিনের সেরা,এবং আল্লাহর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ।ঈদুল আজহা এবং ঈদুল ফিতরের চেয়েও এই দিন আল্লাহর কাছেমহান।” এই দিন আল্লাহ আদম\ )আ( কে সৃষ্টি করেন,এই দিনেই পৃথিবীতে প্রেরণ করেন,এই দিনেই তিনি মারা যান,এই দিনে এমন একটি সময় আছে যখন কেউ আল্লাহর কাছে যা চায় ,আল্লাহ তাকে তাই দেন, যতক্ষণ না হারাম কিছু চাওয়া হয়,এই দিনেই হবে কেয়ামত। এমন কোন ফেরেশতা নেই,নেই কোন আসমান, নেই কোন যমীন,নেই কোন পর্বত আর নেই কোন সাগর যে কিনা শুক্রবারের দিনটিকে ভয় করে না। ” ইবন মাজাহ : ০৮৪. বুখারী ও মুসলিম হতে বর্ণিত আছে,শুক্রবারের দিনটিতে এমন একটি নিদৃষ্ট সময় আছে যখন আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে যাই চাই না কেন আল্লাহ তা কবুল করেনযতক্ষণ পর্যন্ত না এমন কিছু চাওয়া হয় যা ইসলামে নিষিদ্ধ।এখানে হাদীসটি উল্লেখ করা হল,আবু হুরায়রা রা( হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ) জুমার দিনের ফযিলত সম্পর্কে বলেন, ” শুক্রবারে এমন একটি ক্ষণ আছে যখন একজন মুসলিম,সে নামাজ আদায় করেছে এবং দুয়া করেছে,সেইদুয়া কবুল করা হয়ে থাকে”. তিনি)স( তাঁর হাতের দ্বারা ইশারা করে বোঝান যে,তা খুব অল্প একটি সময় । শুক্রবারের আরেকটি ফযিলত হল জুমার নামায।এর গুরুত্ব এতই অধিক যে ,পবিত্র কুরআনে আল-জুমুয়াহনামে একটি পূর্ণ সুরা রয়েছে । আল্লাহ তায়ালা কুরআনে জুমার দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, “মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাজের আযান দেয়া হয়,তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে তাড়াতাড়ি করো এবং বেচাকেনা বন্ধ কর ।এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ ।

আল-জুমুয়াহ ৬২:৯ এটি এমন একটি দিন যেদিন আল্লাহ তায়ালা,পরম করুনাময় আমাদের সগীরা)ছোট( গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়ে থাকেন, শুধুমাত্র ঐ দিনেরই নয় বরং পুরো সপ্তাহের এবং সাথে অতিরিক্ত আরো তিন দিনের।সহীহ মুসলিমের হাদীসটি বর্ণিত হল :আবু হুরায়রা রা হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ স বলেন,যদি কেউ যথাযথভাবে ওযু)পবিত্রতা অর্জন( করল, এরপর জুমার নামাযে আসলো,মনোযোগের সাথে খুতবা শুনলো এবং নীরবতা পালন করে,তার ঐ শুক্রবার এবং পরবর্তীশুক্রবারের মধ্যবর্তী সকল ছোটোখাট গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে,সাথে অতিরিক্ত আরো তিনটি দিনেরও,…… ”)মুসলিম(.জুমআর আজান হওয়ার পর নামাজের প্রস্তুতি ব্যাতিত সকল কাজ হারাম হয়ে যায়। হযরত আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনযির (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, জুমু’আর দিন সকল দিনের সরদার। আল্লাহর নিকট সকল ‍দিনের চেয়ে মর্যাদাবান। কোরবানীর দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়ে বেশী মর্যাদাবান।

আবু হুরাইরা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমরা শেষে এসেছি কিন্তু কেয়ামতের দিন সকলের আগে থাকবো। যদিও অন্য সকল জাতিগুলো (ইহুদী ও খৃষ্টান) কে গ্রন্থ দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে, আমাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছে তাদের পরে। অত:পর জেনে রাখো এই (জুমার) দিনটি আল্লাহ আমাদের দান করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে আমাদের সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। আর অন্য লোকেরা এ ব্যাপারে আমাদের পিছনে আছে। ইহুদীরা জুমার পরের দিন (শনিবার) উদযাপন করে আর খৃষ্টানেরা তার পরের দিন (রবিবার) উদযাপন করে। (বর্ণনায়: বুখারী ও মুসলিম)

আসুন আমরা জুম্মার দিনে আগে ভাগে মসজিদে যাই, আমি আপনি যদি একটু আগে ভাগে মসজিদে যাই তবে এর জন্য অনেক ফজিলত রয়েছে। হাদিসে আছে জুম্মার দিনে আগে ভাগে মসজিদে গেলে দান-খয়রাত বা পশু কুরবানী করার সমতুল্য সওয়াব পাওয়া যায়। আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত এক হাদীসে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যাক্তি জু’আর দিন ফরজ গোসলের মত গোসল করে প্রথম দিকে মসজিদে হাজির হয়, সে যেন একটি উট কুরবানী করল, দ্বিতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি গরু কুরবানী করল, তৃতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ছাগল কুরবানী করল। অতঃপর চতুর্থ সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে গেল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। আর পঞ্চম সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। অতঃপর ইমাম যখন বেরিয়ে এসে মিম্বরে বসে গেলেন খুৎবার জন্য, তখন ফেরেশতারা লেখা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যায়।” (বুখারীঃ ৮৮১, ইফা ৮৩৭, আধুনিক ৮৩০)

যে ব্যাক্তি আদব রক্ষা করে জুম’আর সালাত আদায় করে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য পুরো এক বছরের রোজা পালন এবং রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার সমান সওয়াব লিখা হয়।

আউস বিন আউস আস সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:“জুম্মা’র দিন যে ব্যাক্তি গোসল করায় (অর্থাৎ সহবাস করে, ফলে স্ত্রী ফরজ গোসল করে এবং) নিজেও ফরজ গোসল করে, পূর্বাহ্ণে মসজিদে আগমন করে এবং নিজেও প্রথম ভাগে মসজিদে গমন করে, পায়ে হেঁটে মসজিদে যায় (অর্থাৎ কোন কিছুতে আরোহণ করে নয়), ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কোন কিছু নিয়ে খেল তামাশা করে না; সে ব্যাক্তির প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী রোজা পালন ও সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করার সমতুল্য সওয়াব।” (মুসনাদে আহমাদঃ ৬৯৫৪, ১৬২১িমি. আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন আমরা যখন মসজিদে যাই তখন সেখানে তিন ধরনের মানুষ দেখতে পাই, যা হুজুর (সা:) এর নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়:

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,“জুম’আর সালাতে তিন ধরনের লোক হাজির হয়। (ক) এক ধরনের লোক আছে যারা মসজিদে প্রবেশের পর তামাশা করে, তারা বিনিময়ে তামাশা ছাড়া কিছুই পাবে না। (খ) দ্বিতীয় আরেক ধরনের লোক আছে যারা জুম’আয় হাজির হয় সেখানে দু’আ মুনাজাত করে, ফলে আল্লাহ যাকে চান তাকে কিছু দেন আর যাকে ইচ্ছা দেন না। (গ) তৃতীয় প্র
কার লোক হল যারা জুম’আয় হাজির হয়, চুপচাপ থাকে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কারও ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে আগায় না, কাউকে কষ্ট দেয় না, তার দুই জুম’আর মধ্যবর্তী ৭ দিন সহ আরও তিনদিন যোগ করে মোট দশ দিনের গুনাহ খাতা আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন।” (আবু দাউদঃ ১১১৩)

যে সকল মসলমান জুম’আর নামাজ অত্যন্ত আদবের প্রতি লক্ষ্য রেখে আদায় করে, সেই সকল আদায়কারীদের জন্য দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময় গুনাহের কাফফারা স্বরূপ।

গুগল অ্যাকাউন্ট বাতিল করতে চান?

আপনি কি শঙ্কিত? গুগল আপনার সম্পর্কে অনেক কিছু জানে। তাই চাইছেন আপনার গুগল অ্যাকাউন্টটি বাতিল করে দিতে। আবার এমনও হতে পারে, বাতিল করার জন্য ইতিমধ্যে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু পারছেন না। জেনে নেওয়া যাক কীভাবে মুছে ফেলা যাবে গুগল অ্যাকাউন্ট।

 ধাপ ১: শুরুতে accounts.google.com–এ যেতে হবে।

ধাপ ২: এরপর আপনার গুগল অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়ে সাইন ইন করেন।

ধাপ ৩: এবার যেতে হবে Account Preferences > Delete your account or services–এ।

ধাপ ৪: এখন পর্দায় দেখতে পাবেন ‘সিলেক্ট ডিলেট অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড ডেটা’। আর তা নির্বাচন করুন।

ধাপ ৫: এই ধাপে গুগল আপনার ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড চাইবে। আর তা দিন।

ধাপ ৬: ওপরের ধাপ অনুযায়ী কাজ করে থাকলে অ্যাকাউন্ট বাতিলের জন্য ই-মেইল বার্তা পাবেন।

ধাপ ৭: ই-মেইল বার্তায় আসা লিংকে ক্লিক করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে নিন।

 অ্যাকাউন্ট বাতিল করলেন। কিন্তু হুট করে যদি আবার কোনো কারণে মত পরিবর্তন হয়, মানে অ্যাকাউন্টটি চালু করতে চাচ্ছেন, তাহলে তা করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য accounts.google.com/signin/recovery ঠিকানায় গিয়ে ওই জি–মেইল ঠিকানা লিখে সাইন ইন করবেন। ফিরিয়ে আনা সম্ভব কি না, তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গুগল জানিয়ে দেবে। কিংবা ওই ই-মেইলের ব্যাকআপ ঠিকানায় বার্তা পাঠাবে গুগল।

কম্পিউটার প্রতিদিন সাইবার হামলা বাড়ছে কেন?

সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে পর্যাপ্ত পেশাদার কর্মী নেই বলেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে। তাই সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উন্নত শিক্ষা এবং শিক্ষা-পরবর্তী শিক্ষানবিশি ব্যবস্থা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সাইবার নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সাম্প্রতিক এক জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, নিয়োগদাতা সংস্থাগুলোর ৮১ শতাংশ মনে করে, ডিজিটাল নিরাপত্তাকর্মীর চাহিদা বাড়বে কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর সেই চাহিদা পূরণ হবে বলে মনে করে তাদের মাত্র ১৬ শতাংশ। সাইবার নিরাপত্তা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টু-সেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম হোমান বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তাকর্মীদের চাহিদা আকাশচুম্বী। সাইবার হামলা মোকাবিলার খরচ বাড়তেই থাকছে। বিমা প্রিমিয়াম বাড়বে, হামলা-পরবর্তী কাজগুলোর খরচ বাড়বে।’ চলতি বছরে বেশ কিছু ‘বিধ্বংসী’ সাইবার হামলা দেখা গেছে। এরপর থেকেই পেশাদার সাইবার নিরাপত্তাকর্মীদের চাহিদা বাড়তে থাকে। মার্চে ‘থ্রি’ নামের মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা ভেঙে ২ লাখ গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এপ্রিলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘ওঙ্গা’র ২ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ফোন নম্বর এবং ই-মেইলের মতো সংবেদনশীল তথ্য চুরি হয়ে যায়। মে মাসে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ‘এনএইচএস আইটি’র তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোয় র‍্যানসমওয়্যার হামলার পর সবাই বুঝতে শুরু করে সাইবার হামলা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু একটি ‘সমস্যা’ না। সাইবার অপরাধ মোকাবিলা করার মতো দক্ষ পেশাদারদের অভাব জরুরি ভিত্তিতে কাটিয়ে উঠতে হবে বলে উল্লেখ করেন ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটির এক্সটারনাল বিষয়াবলি পরিচালক অ্যাডাম থিলথর্প। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছি দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তিকর্মীর ঘাটতি দেখা দেবে। শিক্ষা ও শিক্ষানবিশ ব্যবস্থায় সরকার ও ব্যবসায়ের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থা আমাদের দরকার। আমাদের উচিত নারী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের আরও বেশি নিয়োগ দেওয়া এবং বিদ্যমান কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি।’

প্রকাশিত গবেষণায় দাবি যন্ত্র মানুষের বিকল্প হবে না

মেশিন লার্নিং কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফলে দিন দিন চাকরি হারাতে পারে মানুষ, ইদানীং অনেকেই এমনটা বলছেন। কেউ আবার এমন উদাহরণ টেনে এই প্রযুক্তি ভালো ফল বয়ে আনবে না বলেও জানিয়েছেন। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, মেশিন লার্নিং কম্পিউটার সিস্টেম কর্মস্থলে কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারবে না। ওই গবেষণায় এটিও উল্লেখ করা হয়, মেশিন লার্নিং সিস্টেমকে অনেকটা উপযুক্ত করে তোলা যায়, প্রায়ই এটিকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে এবং নিয়মিত তথ্য প্রবেশ করিয়ে। তবু মানুষের মতো কাজ করাতে সক্ষম নয় এটি। তাই কর্মক্ষেত্রে মানুষের স্থানে এটি পুনঃস্থাপন করা যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একটি দল যৌথভাবে গবেষণাটি করেন। তাঁদের গবেষণায় ২১টি বিষয়কে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। গবেষক দলটির একজন বলেন, অর্থনীতিতে মেশিন লার্নিংয়ের প্রভাব এখনো সীমিত। তবে এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও খুব শিগগির মানুষ চাকরি হারাবে বলে মাঝেমধ্যে দাবি করা হলেও এর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কেন সম্ভাবনা কম? গবেষকদের দাবি, মেশিন লার্নিং ব্যবস্থা বানানো হয় নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য স্বয়ংক্রিয় কিংবা অর্ধস্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে। আর কর্মক্ষেত্রে একজন মানুষকে নানান কিছু করতে হয়। মেশিন লার্নিং ব্যবস্থা সেখানেই কেবল প্রয়োগ করা যাবে, যেখানে শুধু একটি কাজই করতে হবে। এটি সত্য যে এই বছর মেশিন লার্নিং কম্পিউটার সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কয়েকটি ক্ষেত্রে বেশ উন্নতি লাভ করেছে। যেমনটা বলা যেতে পারে চেহারা শনাক্তকরণ, ভাষা বুঝতে পারা এবং কম্পিউটার ভিশনের কথা। ইতিমধ্যে এই ব্যবস্থা ক্রেডিট কার্ড প্রতারণা রোধ, অনুমোদন ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক বাজার বিশ্লেষণে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর প্রতিটিই সুনির্দিষ্ট কোনো কাজে, একাধিক কাজে নয়।

সন্তান পালন কেন তুমি ওর চেয়ে কম পেলে?

মাইশা (ছদ্মনাম) পড়ছে ইংরেজি মাধ্যমের একটি নামী স্কুলে ক্লাস ফোরে। ষাণ্মাসিক পরীক্ষার রিপোর্ট কার্ড দিয়েছে। মাইশার সঙ্গে আনতে গিয়েছিলেন তার মা। মাইশা কোনো বিষয়েই খারাপ করেনি, কিন্তু কয়েকটিতে সে তার প্রিয় বন্ধু ও সহপাঠী আইরিনের চেয়ে বেশ কম পেয়েছে। এটা দেখতে পেয়েই মাইশার মা রেগে আগুন। বারবার বলছেন, ‘কেন তুমি আইরিনের চাইতে অঙ্কে সাত সম্বর কম পেয়েছ’, ‘আইরিন কেন সাধারণ জ্ঞানে “এ-প্লাস” আর তুমি “এ” পেলে?”’ ইত্যাদি ইত্যাদি। স্কুলে তো বকেছেনই এমনকি বাসায় ফিরতে ফিরতে পুরো রাস্তায় তিনি মাইশাকে বকতে বকতে ফিরলেন। মাইশা সব বিষয়ে ভালো করেও মন খারাপ করে রইল। যেকোনো পরীক্ষার ফলাফলের পর এমনটা দেখা যায়। কোনো কোনো মা-বাবা আছেন যাঁরা স্কুলের ভেতরেই আরেক সহপাঠীর রিপোর্ট কার্ড টেনে নিয়ে নিজের সন্তানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে থাকেন। যখন দেখেন তার সন্তান অন্যের চেয়ে ভালো করেছে তখন আত্মতৃপ্তিতে অন্যদের নানা উপদেশ দিতে থাকেন, আর যদি দেখেন নিজের সন্তান অন্য কারও চেয়ে খারাপ করেছে তখন শিশুকে বকেন। হাত ধরে টানতে টানতে স্কুল থেকে বের করে নিয়ে যান, কখনো স্কুল কর্তৃপক্ষের ওপর নানা রকম দোষারোপ করেন। ফেরার পুরোটা পথ এমনকি বাড়িতে ফিরেও সন্তানকে আরেকজনের সঙ্গে তুলনা করে নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকেন! ফল প্রকাশের পর এভাবে অন্যের সঙ্গে তুলনা করতে থাকলে শিশুর বিকাশের প্রতিটি ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশুর মানসিক বিকাশের যে পর্যায়গুলো রয়েছে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জ্ঞানীয় বিকাশ বা ধারণার জগতের বিকাশ (কগনিটিভ ডেভেলপমেন্ট) এবং নৈতিকতার বিকাশ (মোরাল ডেভেলপমেন্ট)। আশপাশের মানুষের আচরণ, পরিবার আর সামাজিক অনুষঙ্গ শিশুর এই বিকাশের ধারাকে প্রভাবিত করে। মা-বাবা যখন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিশুকে আরেকজনের সঙ্গে তুলনা করে তখন শিশুর ধারণা—জগৎটা কেবলই এগিয়ে থাকার, এখানে যেকোনো উপায়েই হোক আরেকজনকে পেছনে ফেলে সামনে যেতে হবে। সহযোগিতামূলক মনোবৃত্তির বদলে তার মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোবৃত্তি জন্ম নেয়। সেভাবে পেছনে থাকা মানেই হেরে যাওয়া, পরাজয়কে মেনে নেওয়ার গুণাবলি সে ধারণ করতে পারে না, তার মধ্যে অস্থিরতা কাজ করে। এগুলো তার জ্ঞানীয় বিকাশের ধারাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। পাশাপাশি শিশুর প্রতি মা-বাবার কটাক্ষ আর ক্রমাগত আরেকজনের সঙ্গে তুলনা করতে থাকায় তার মধ্যে গড়ে ওঠে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব। ফলে সে যেকোনো উপায়ে জয়ী হতে চায়। এই জয়ী হতে চাওয়ার জন্য যেকোনো পন্থা অবলম্বন করাকেও সঠিক মনে করে। নিজের মধ্যে নানা যুক্তি তৈরি করে এবং নৈতিকতার চেয়েও নিজের জয়ী হওয়াকে প্রাধান্য দিতে থাকে। এতে শিশুর নৈতিকতার বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। নৈতিকতাকে নিজের মতো করে সংজ্ঞায়িত করে। এগিয়ে থাকার জন্য, আরেকজনকে পেছনে ফেলার জন্য তার রয়েছে পরোক্ষ পারিবারিক অনুমোদন। এসব কারণে নৈতিকভাবে দৃঢ় হতে পারে না। ফলে ভালো ফল করেও তার মধ্যে মানবীয় গুণাবলি আর সামাজিক দক্ষতার অভাব দেখা দেয়। বৈষয়িক দিকে সে সফল হলেও মানুষ হিসেবে পেছনেই পড়ে থাকে। বারবার আরেকজনের সঙ্গে তুলনা করতে থাকলে একদিকে হীনম্মন্য আর আত্মবিশ্বাসহীন হয়, আরেক দিকে যার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে তার প্রতি আগ্রাসী ও প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব পোষণ করে। এসব বিষয় তার ব্যক্তিত্বের সমস্যা সৃষ্টি করে। ফলে পেশাগত জীবনে সফল হলেও পারিবারিক আর সামাজিক জীবনে সে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না এবং একটা সময় পেশাগত দিকেও ব্যর্থ হতে থাকে। এই বিষয়টি মা-বাবা যত দ্রুত বুঝতে পারবেন ততই সন্তানের জন্য মঙ্গল। আরেকজন কী পেল, আরেকজনের সফলতা কতটুকু হলো এগুলো পরিমাপ করতে গিয়ে যদি দিনের বেশির ভাগ সময় চলে যায় তবে নিজের সন্তানের পেছনে দেওয়ার মতো গুণগত সময়ের ঘাটতি দেখা দেবে। বিশেষত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরে আরেকজনের সঙ্গে তুলনা করে সমালোচনা করতে বেশি দেখা যায়। এ ধরনের আচরণ অবশ্যই পরিহার করতে হবে, তাতে দিন শেষে নিজের সন্তানেরই মঙ্গল। সন্তানের পরীক্ষার ফল দেখে কী করবেন  সন্তান যে রকম ফলই করুক না কেন তাকে উৎসাহিত করুন। যদি আশানুরূপ ফল না হয় তবে ভবিষ্যতে সে ভালো করবে বলে তাকে আশ্বস্ত করুন। নেতিবাচক মন্তব্য করে তাকে নিরুৎসাহিত করবেন না। আরেক সহপাঠী কী ফল করেছে, সেদিকে দৃষ্টিপাত করবেন না। আরেকজনের ফল আপনার সন্তানের ফলাফলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। * অন্যের রিপোর্ট কার্ড নিতান্তই ব্যক্তিগত। তাই আরেকজনের রিপোর্ট কার্ড দেখতে চাওয়াটা মোটেই সমীচীন নয়।
* সহপাঠীর ফলের সঙ্গে সন্তানের ফল তুলনা করবেন না। এতে করে শিশুর মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি হয়। আত্মবিশ্বাস কমে যায়। সে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। * অপরের সঙ্গে তুলনা করার কারণে সে নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকে, ঠিকমতো সামাজিকতা রপ্ত করতে পারে না। * সন্তান স্বপ্রণোদিতভাবে না জানালে আপনি তার কাছেও জানতে চাইবেন না তার বন্ধু-সহপাঠী কী রকম ফল করেছে। * শিশুকে তার ফলাফল নিয়ে টিটকারি দেবেন না, ব্যঙ্গ করবেন না। * সন্তানের ফল আশানুরূপ না হলে সে জন্য স্কুল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে দায়ী করবেন না। সমাজ বা শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। * তার সহপাঠীর ভালো ফলের পেছনে সহপাঠীদের মা-বাবার কোনো কার্যক্রমকে সমালোচনা করবেন না। তাদের জড়িয়ে কোনো অনৈতিক বিষয়ের অবতারণা করবেন না। * সন্তানের ফলাফলের জন্য বাড়িতে মা-বাবা একে অপরকে দায়ী করবেন না। পারিবারিক শান্তি বজায় রাখুন। * সন্তানকে ব্যর্থতা মেনে নিতে শেখান। সফলতার মতো ব্যর্থতাও জীবনের একটি অনুষঙ্গ, এটিকে গ্রহণ করে নিতে পারাও একধরনের সামাজিক দক্ষতা। * ফল খুব ভালো হলে সংযতভাবে উদ্‌যাপন করুন। একটি ফলই জীবনের সব নয়। তাই সন্তানকে উৎসাহ দিন, প্রশংসা করুন কিন্তু অতি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।

হুট করে কি বাড়িভাড়া বাড়ানো যায়?

হুট করে কি বাড়িভাড়া বাড়ানো যায়? ভাড়া বাড়িতে থাকছেন। নতুন বছরের শুরুতে বাড়িভাড়া বাড়ানোর একটা প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু বাড়িওয়ালা ইচ্ছে করলেই ভাড়া বাড়াতে পারেন না।  ১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে। আইন অনুযায়ী কোনো বাড়ির ভাড়া মানসম্মত ভাড়ার বেশি নির্ধারণ করা যাবে না এবং যখন-তখন ভাড়া বাড়ানো যাবে না। মানসম্মত ভাড়া বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে আপসে নির্ধারিত হতে পারে। আবার ঘরভাড়া নিয়ন্ত্রকও এ ভাড়া নির্ধারণ করতে পারেন। কোনো ব্যক্তি ভাড়ার অতিরিক্ত প্রিমিয়াম, সালামি, জামানত বা অনুরূপ কোনো অর্থ দাবি করে তা দেওয়ার জন্য ভাড়াটিয়াকে বলতে পারবেন না। দুই বছরের আগে বাড়ির ভাড়া বাড়ানো যাবে না। বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়ার দরখাস্তের ভিত্তিতে দুই বছর পরপর নিয়ন্ত্রক মানসম্মত ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে পারবেন।  বাড়িওয়ালা যদি মানসম্মত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে আদায় করেন, তাহলে প্রথমবার অপরাধের জন্য অতিরিক্ত আদায়কৃত টাকার দ্বিগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিবার অপরাধের জন্য ওই অতিরিক্ত টাকার তিন গুণ দণ্ডিত হবেন। কোনো বাড়ি ভাড়া নিতে চাইলে বাড়িওয়ালা এক মাসের ভাড়ার বেশি ভাড়া অগ্রিম হিসেবে নিতে পারবেন না। অর্থাৎ এক মাসের ভাড়া অগ্রিম হিসেবে নিতে পারবেন-এর বেশি নয়। চুক্তিনামা সম্পাদন করুন  আইনমতে, বাড়িভাড়া নিতে গেলে একটি লিখিত চুক্তি করে নিতে হবে। চুক্তিপত্র করলে কোনো ঝুটঝামেলা দেখা দিলে অনেক হয়রানির হাত থেকে মুক্ত থাকা যাবে। এই চুক্তিপত্রে অবশ্যই বাড়িভাড়া নির্ধারণ, কত বছর পর ভাড়া বাড়ানো হবে, বাড়ি ছাড়ার আগে নোটিশ কেমন হবে প্রভৃতি শর্ত স্পষ্ট করে নিন। বাড়িভাড়ার চুক্তি ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করা যেতে পারে এবং প্রয়োজনে নিবন্ধন করে নেওয়া যেতে পারে। বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াকে ভাড়া গ্রহণের লিখিত রসিদ প্রদানে বাধ্য থাকবেন। এ রসিদ নির্ধারিত ফরমে করে ভাড়াটিয়াকে প্রদান করতে হবে। এ রসিদ সম্পন্ন করার দায়দায়িত্ব বাড়িওয়ালার।

উচ্ছেদ করা যাবে?
চুক্তি অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করে থাকলে ভাড়াটিয়াকে হঠাৎ করে উচ্ছেদ করা যায় না। চুক্তিপত্রের অবর্তমানে যদি কোনো ভাড়াটিয়া প্রতি মাসের ভাড়া পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করেন, অথবা ঘরভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা করতে থাকেন, তাহলেও ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করা যাবে না। যুক্তিসংগত কারণে ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করতে চাইলে যদি মাসিক ভাড়ায় কেউ থাকে তাহলে ১৫ দিন আগে নোটিশ দিতে হবে। চুক্তি যদি বার্ষিক ইজারা হয় বা শিল্পকারখানা হয়, তবে ছয় মাস আগে নোটিশ দিতে হবে। চুক্তিপত্রের মেয়াদ শেষ হলেও বাড়িওয়ালা যদি ভাড়া নিয়ে থাকেন, তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে বাড়িওয়ালা চুক্তিপত্রটি নবায়ন করেছেন। আদালতে ভাড়া জমা দেওয়া যায়
বাড়িওয়ালা কোনো কারণে ভাড়া গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে ভাড়াটিয়াকে চুক্তি
অনুযায়ী সময়ের মধ্যে অথবা চুক্তি না থাকলে পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মানি অর্ডারযোগে বাড়িওয়ালার ঠিকানায় ভাড়া পাঠাতে হবে। মানি অর্ডারযোগে পাঠানো ভাড়ার টাকাও যদি বাড়িওয়ালা গ্রহণ না করেন, তাহলে ওই টাকা ফেরত আসার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ভাড়াটিয়াকে ভাড়া নিয়ন্ত্রকের অর্থাৎ সহকারী জজের কাছে আইনজীবীর মাধ্যমে দরখাস্ত দিতে হবে। আদালত অনুমোদন দিলে প্রতি মাসে ভাড়া আদালতে জমা দেওয়া যাবে।

সবার সামনে রাগারাগি নয়

একটি বেসরকারি মুঠোফোন প্রতিষ্ঠানের কর্মী খালিদ হোসাইন (ছদ্মনাম)। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে ছয় বছর হলো পেশাজীবন নিয়ে ব্যস্ত। মাঝেমধ্যেই অফিসে বড় কর্তাদের রোষানলে পড়েন খালিদ। ছোটখাটো ভুলত্রুটির জন্যও অফিসে সবার সমানে বেশ অপদস্থ হয়েছেন। তাঁর অধীনেও ৯ জন কর্মী কাজ করছেন। তাঁদের সামনেও এমন ঘটনা ঘটে। তিনি বললেন, ভুল হলে কথা শুনতে সমস্যা নেই। কিন্তু সবার সামনে সব পরিস্থিতে শুনলে সেটা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কর্মস্থলে নেতিবাচক আচরণ নয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) বিবিএ প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান রিদওয়ানুল হক এমন আচরণকে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলের জন্য নেতিবাচক বলে মনে করেন। রিদওয়ানুল হক বলেন, প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের কাজের সমালোচনা করার অবশ্যই বিশেষ ধারা আছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাঁরা কর্তা পর্যায়ের ব্যক্তি, তাঁরা অধস্তনদের ওপর প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করেন। সবার সামনে রাগারাগি কিংবা ভিন্ন কোনো পরিবেশে নেতিবাচক আচরণ কর্মীদের মনে অসন্তোষ তৈরি করে। যেসব প্রতিষ্ঠানে এমন নেতিবাচকতার চর্চা আছে, সেখানে তরুণ মেধাবী কর্মীদের কাজের আগ্রহ থাকে না, দিন শেষে প্রতিষ্ঠানই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রকাশ্যে রাগারাগি করা দক্ষতা নয়, দুর্বলতা
২০১৫ সালে ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠান আমাজন ডটকম বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বিভিন্ন দাপ্তরিক সভায় আমাজনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রভাব খাটাতেন আর কর্মীদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে আমাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজস ক্ষমা চেয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানে সংস্কার আনার ঘোষণা দেন।
হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডিস ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক অ্যান্ডি মলিনস্কি লিখেছেন, ‘কর্মস্থলে কাজের সমালোচনা আর কর্মীদের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার একটি ধরন (স্টাইল) আছে, যা প্রতিষ্ঠানের “সংস্কৃতি” সংজ্ঞায়িত করে। কর্মীদের ভুলত্রুটিকে কেন্দ্র করে হট্টগোল, তর্কাতর্কি করা, সবার সামনে বকাঝকা করা আধুনিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি হতে পারে না।’ অফিসে আলাদা ঘরে ডেকে নিয়ে কর্মীদের ভুলত্রুটি সম্পর্কে বলা যায়। এমনভাবে বলতে হবে, যেন অন্য কর্মীরা কিছুই টের না পায়। কর্মীদের খুব বড় ভুল কিংবা ব্যর্থতার জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিজেদের ওপর দায় নেওয়া শিখতে হয়। জাপান, সুইডেন, নরওয়েসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন চর্চা দেখা যায়। দক্ষ ব্যবস্থাপকের সেরা ৫টি গুণের একটি হচ্ছে দলের ভুলের দায় নিজে নিয়ে কর্মীদের অনুপ্রেরণা দেন। বন্ধুকে ছোট করবেন না শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম থেকে শুরু করে বন্ধুদের আড্ডাতেও আমরা অন্যকে ছোট করার মতো কাজ করে থাকি। এ ধরনের আচরণে যে মানুষটিকে ছোট করা হচ্ছে, তিনি বেশ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন, যা হয়তো কারও সঙ্গে তিনি শেয়ারও করতে পারেন না। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলর ও প্রভাষক আয়েশা সিদ্দিকা জানান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার সময় আমরা অনেকেই অন্যকে ছোট করে কথা বলি, যা কিন্তু আসলে বুলিংয়ের মতো অপরাধ। অন্যের মনে আঘাত দেওয়া কিংবা তার ওপর যেকোনোভাবেই মানসিক চাপ তৈরি করা একধরনের সামাজিক অন্যায় আপনি যদি কোনো আড্ডায় কিংবা বন্ধুমহলে এমন অন্যায় আচরণের শিকার হন, তাহলে বন্ধুদের বোঝানোর চেষ্টা করুন কিংবা শিক্ষকদের শরণাপন্ন হতে পারেন। বিভিন্ন ঘরোয়া পার্টি বা অনুষ্ঠানে এমন আচরণ কখনোই করবেন না। যাঁরা এমন আচরণ করছেন, তাঁদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করুন। বন্ধুর কথাবার্তার ধরন, হাঁটাচলার স্টাইল কিংবা পোশাক-আশাক নিয়ে নেতিবাচক কথা বললে আসলে নিজেকেই ছোট ও অসম্মান করা হয়। পরিবারে ইতিবাচক আচরণ করুন
সন্তানকে অতিথির সামনে কিংবা আত্মীয়স্বজনের সামনে বকাঝকা করেন অনেক বাবা-মা। যেসব শিশু এমন পরিবেশে বড় হয়, তারা অন্যকে সম্মান করার নৈতিক শিক্ষা পায় না, সহিষ্ণুতাও শেখে না। নিজেকে ছোট ভাবার কারণে এমন শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে বাধা পায়। আয়েশা সিদ্দিকা জানান, সন্তানের পরীক্ষার খারাপ ফলাফল কিংবা যেকোনো কারণেই হোক না কেন, সবার সামনে কখনোই বকবেন না কিংবা তুলনা করে কথা বলবেন না। এতে আসলে আপনার সঙ্গে সন্তানের দূরত্ব তৈরি হয়, যার কারণে সন্তান মানসিক অস্থিরতায় ভোগে। ব্যর্থতা কিংবা ভুলত্রুটিতে সন্তানকে বোঝানোর চেষ্টা করুন একান্তে। আপনি আপনার সন্তানকে নিয়ে ভাবছেন, এমন ধারণা সন্তানের মনে প্রতিষ্ঠার দিকে গুরুত্ব দিন। পরিবারের এক সন্তানকে অন্য সন্তানের সামনে বকুনি দেওয়ার অভ্যাস থেকেও বিরত থাকুন। যেসব পরিবারে সন্তানকে অভিভাবকেরা প্রকাশ্যেই বকুনি দেন, সে পরিবারগুলোর মানসিক স্থিরতা বেশ ভঙ্গুর হয়। ইতিবাচকভাবে সমালোচনা একান্তে কথা বলুন: প্রকাশ্যে মেজাজ দেখানোর চেয়ে ব্যক্তিগতভাবে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলুন। এতে কর্মীরা ইতিবাচকভাবে কাজ করতে উৎসাহ বোধ করেন। পরিবারের ক্ষেত্রে সন্তানকে একান্তে তার ভুলগুলো ধরিয়ে আলোচনা করুন। বন্ধুদের কোনো কিছু বলতে চাইলে একান্তে বুঝিয়ে বলুন। দূরত্ব তৈরি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
ইতিবাচকভাবে সমালোচনা করুন: সন্তানকে ‘তোমার ফলাফল কেন খারাপ হয়েছে’, এমন বাক্যে বকুনি না দিয়ে ‘তোমার ভবিষ্যতে ফল যেন ভালো হয়। তুমি তো গণিতে ভালো, তাহলে কেন ইংরেজিতে ভালো করছ না?’, এভাবে ইতিবাচক উপায়ে কথা বলুন। প্রতিষ্ঠানে কর্মীকে কোনো ত্রুটি বা ভুলের সমালোচনা শুরু করুন এভাবে, আপনার কাজের মান বাড়ানোর জন্য আমার কিছু পরামর্শ আছে। আপনি কাজটি যেভাবে করেছেন, তা একটু অন্যভাবে করলে আমরা যা চাই, তা-ই করা সম্ভব কিন্তু! প্রশংসা বা ইতিবাচক বাক্য দিয়ে সমালোচনা বা ভুল ধরিয়ে দেওয়া শিখুন।
সমস্যা কোথায় তা খুঁজে বের করুন: কর্মক্ষেত্রে ভুলত্রুটি নিয়ে সমালোচনার ক্ষেত্রে আমিত্ব জাহিরের চেষ্টা করবেন না। কোথায় সমস্যা হয়েছে, তা খুঁজে বের করুন। অনুসন্ধিৎসু মনন তৈরির মাধ্যমে সমস্যার সূত্র খুঁজে বের করুন।
নির্দিষ্ট বর্ণনা দিন: সন্তানকে বকুনি দেওয়ার সময় ‘তোমার ফল এর-ওর চেয়ে ভালো না কেন?’, এমন ধরনের বাক্য পরিহার করে ‘তোমার জ্যামিতিতে ভালো করতে হবে’ কিংবা ‘তোমার প্রতিদিন আরও দুই ঘণ্টা বেশি পড়া উচিত ছিল’, এমন কথা বলুন।
কীভাবে উন্নতি করা যায়, তা নিয়ে পরামর্শ দিন: প্রতিষ্ঠানে কর্মীর ভুলত্রুটিতে তাঁকে জবাবদিহির সুযোগ দিয়ে তাঁর কাজকে আরও উন্নত করা যায় কীভাবে, তা নিয়ে পরামর্শ দেওয়ার চর্চা শুরু করুন। পরিবারের সন্তানের ভুল কীভাবে কমানো যায়, কিংবা পরীক্ষায় কীভাবে আরও ভালো করা যায়, তা সন্তানকে জানান।
নিয়মিত যোগাযোগের মধ্যে থাকুন: যেকোনো ভুলত্রুটি নিয়ে কথা বলার পরে নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। তাঁর উন্নতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলুন। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কিংবা দলের নেতা হিসেবে নিয়মিত জানতে হবে আপনার সহকর্মীর অগ্রগতির বিষয়ে। সারা বছর সন্তানের খোঁজ রাখেন না, অথচ ফলাফলের দিন সন্তানকে বেধড়ক পিটুনি দেওয়া একটি সামাজিক অপরাধ। এতে সন্তানের সঙ্গে আপনার দূরত্ব তৈরি হয়। এমন নেতিবাচক আচরণ পরিহার করুন।

এবার কিশোর পিটিয়ে শাস্তির মুখে সাব্বির

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এরই মধ্যে তিনটি ‘ডিমেরিট’ পয়েন্ট যোগ হয়েছে সাব্বির রহমানের নামে। গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আম্পায়ারকে গালি দিয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনেছেন টানা দুই বিপিএলে। কদিন পরপরই বাংলাদেশ দলের এই তরুণ ব্যাটসম্যান সংবাদ শিরোনাম হচ্ছেন নেতিবাচক ঘটনায়। এবার তিনি আলোচনায় এক কিশোর দর্শককে পিটিয়ে!

২১ ডিসেম্বর রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে জাতীয় লিগের শেষ রাউন্ডে রাজশাহী-ঢাকা মহানগরের ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে লাঞ্চের ঘণ্টা খানেক পর ঘটেছে ঘটনাটি। তখন মহানগর প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করছে। সাব্বির খেলেছেন রাজশাহীর হয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ড্রেসিংরুম থেকে নেমে সাব্বির যাচ্ছিলেন মাঠের দিকে। এ সময় গ্যালারি থেকে তখন তাঁকে উদ্দেশ করে কেউ একজন ‘ম্যাঁও’ বলে চিৎকার করে। ওই সূত্রটির অনুমান, সাব্বিরের ধূসর চোখের কারণেই হয়তো মজা করতে চেয়েছে সেই কিশোর।

খেলা চলার সময় পরিচিত কাউকে দিয়ে ওই দর্শককে ধরে আনেন সাব্বির। মাঠের দুই আম্পায়ার গাজী সোহেল ও তানভীর আহমেদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে খেলা ফেলেই সাইটস্ক্রিনের পেছনে ১০-১২ বছর বয়সী ওই কিশোর দর্শককে মারধর করেন এই ব্যাটসম্যান।
বেলা ৪টার সময় ম্যাচ রেফারি শওকাতুর রহমানকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানান রিজার্ভ আম্পায়ার শওকত আলী । ঘটনাস্থলে থাকা আকসুর প্রতিনিধি আহসান হাবিবও ম্যাচ রেফারিকে নিশ্চিত করেন ঘটনাটি । পরের দিন সাব্বির ও দলের ম্যানেজারকে ডাকেন ম্যাচ রেফারি।
ম্যাচ রেফারির সামনে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাব্বির। যদি এটা নিয়ে বিসিবিকে কোনো প্রতিবেদন দেওয়া হয় তবে অসুবিধা হবে বলে ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারদের হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি এও নাকি বলেন, এ ঘটনার বিচারের ভার মোটেও ম্যাচ রেফারির নয়!

ম্যাচ চলার সময়ই ২২ ডিসেম্বর সাব্বিরের বিরুদ্ধে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন ম্যাচ রেফারি শওকাতুর রহমান। কোনো খেলোয়াড় মাঠে কাউকে লাঞ্ছিত করলে শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও ঘরোয়া লিগে কয়েকটি ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার নিয়ম রয়েছে।
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এরই মধ্যে প্রতিবেদনটা শৃঙ্খলা কমিটিকে দিয়ে দিয়েছি। তারা বাকি সিদ্ধান্ত নেবে।’

যদিও ডিসিপ্লিনারি কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সোহেল জানালেন এখনো প্রতিবেদনটা পাননি, ‘মৌখিকভাবে শুনেছি ব্যাপারটা। যতটুকু শুনেছি তাতে মনে হচ্ছে বড় শাস্তিই সে পাবে। মাঠে সে মোবাইলও ব্যবহার করেছে শুনেছি। ম্যাচ চলার সময় মাঠে মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষেধ। প্রতিবেদন পাওয়া মাত্র তাকে ডাকব, তার কথা শুনব। আবার প্রতিবেদন দেখে যদি মনে হয় ওকে ডাকার প্রয়োজন নেই, তাহলে আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।’

আজ দুপুরে অনুশীলন শেষে বিসিবি থেকে বের হওয়ার সময় জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলেন সাব্বির, ‘আমি কিছু জানি না।’ পরক্ষণেই অবশ্য চিন্তিত মুখে বললেন, ‘দেখি, কী হয়...।’

এবার ডি মারিয়াকেও চায় বার্সেলোনা!

প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে যোগ দিয়ে তবে কি ভুল করছেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া? নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পে পিএসজিতে আসার পর থেকেই তিনি দলে অনিয়মিত। ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে পিএসজির ১৯ ম্যাচের মাত্র ৯টিতে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। আর্জেন্টাইন এ উইঙ্গার তাই কিছুদিন আগে সরাসরি ক্ষোভ উগরে বলেছিলেন, প্যারিস তাঁর ভালো লাগছে না। বার্সা এ সুযোগটাই নিতে চাচ্ছে? কাতালান ক্লাবটির রাডারে যে এখন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া!
ফ্রান্সের ওয়েবসাইট ‘প্যারিসফ্যানস’ জানিয়েছে, জানুয়ারিতে ডি মারিয়াকে দলে টানতে পিএসজির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বার্সা। পিএসজি উইঙ্গারকে গত দলবদলের মৌসুমেও কেনার চেষ্টা করেছিল কাতালানরা। তখন যে ট্রান্সফার ফি (৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো) বলা হয়েছিল, এবারও সেই একই দাম হাঁকানোর সঙ্গে আরও দেড় কোটি ইউরো ‘অ্যাড-অনস’ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বার্সা। তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ত’ জানিয়েছে, বার্সা ডি মারিয়ার জন্য ছুটছে আসলে একটি বিকল্প পথ খোলা রাখার অভিপ্রায় নিয়ে। ফিলিপ কুতিনহোকে কিনতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে লা লিগা টেবিলে শীর্ষস্থানীয় দলটি। সংবাদমাধ্যমের খবর ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারকে ১৫ কোটি ইউরোর নিচে বেচতে রাজি নয় লিভারপুল। এখন কোনোভাবে কুতিনহো হাত ফসকে গেলেই কেবল ডি মারিয়াকে দলে ভেড়াবে বার্সা। তবে ডি মারিয়া কিন্তু বার্সায় যেতে আগ্রহী। সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বার্সা-পিএসজি আলোচনায় ডি মারিয়া নাকি সবুজ সংকেত দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, এল ক্লাসিকোর পর বার্সার সব কটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে নাকি ডি মারিয়ার দেওয়া লাইকে ভরে গেছে!

ভয়ংকর রহস্যময় ভূখন্ড আওকিঘারা, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আত্মহত্যার স্থান!

জাপানের আওকিঘারা জঙ্গলটি একটি রহস্যময় ভূখণ্ড। এটা জাপানের ফুজি পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত। সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর স্থান জুড়ে অবস্থিত এই জঙ্গলটি কোঁকড়ানো ও মোচড়ানো গাছ পালায় পূর্ণ। গোটা এলাকাটি ভূতপ্রেতের অবাধ বিচরণ ভূমি বলে স্থানীয় জনগণের বিশ্বাস। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্থানটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আত্মহত্যার স্থান হিসেবে পরিচিত। পঞ্চাশের দশক থেকে এ পর্যন্ত ৫ শতাধিক লোক এখানে আত্মহত্যা করেছে।এই জঙ্গলটি জাপানীদের কাছে আত্মহত্যা করার জায়গা হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর এখান থেকে প্রায় শখানেক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। জাপানি নথিপত্রের হিসাব অনুযায়ী ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত এখানে গড়ে প্রতি বছর একশত লাশ পাওয়া গিয়েছে। ১৯৯৮ সালে ৭৪ টি, ২০০২ সালে ৭৮ টি লাশ পাওয়া যায়। ২০০৩ সালে এই সংখ্যা ১০০ তে গিয়ে পৌছায়। পরবর্তীতে ২০০৪সালে ১০৮ জন ব্যক্তি নিজেদেরকে এখানে হত্যা করে। ২০১০ সালে প্রায় ২৪৭ জন ব্যক্তি আত্মহত্যার উদ্যগ নিলেও মাত্র ৫৪ জন সফল হয়েছিলো। বর্তমানে দেশটির স্থানীয় সরকার এই হিসাব প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছে। আত্মহত্যা নিরুতশাহিত করবার জন্য এই অরণ্যর প্রবেশমুখেই লেখা আছে – ““Your life is a precious gift from your parents,” and “Please consult the police before you decide to die!” আত্মহত্যা করবার জন্য এইটি পৃথিবীর দ্বিতীয় জনপ্রিয় স্থান।