Hot!

সুবর্ণজয়ন্তীতে উদীচীর জাতীয় সাংস্কৃতিক সম্মেলন

১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে ৫০ বছর সংগঠনটি নিরবচ্ছিন্নভাবে সংস্কৃতিচর্চা করছে। সুবর্ণজয়ন্তীতে রাজধানীজুড়ে বছরব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন করছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। আগামী শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় সাংস্কৃতিক সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সূচনা হবে।

আজ মঙ্গলবার সকালে এক সাংবাদ সম্মেলনে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সদস্যরা এ তথ্য জানান। সংগঠনটির তোপখানা রোডের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, ‘দ্রোহে বিদ্রোহে বিপ্লবে, গড়ি বিশ্ব সপ্তসুরে’ শিরোনামে শুক্রবার শুরু হবে সাংস্কৃতিক সম্মেলন। চলবে আগামী রোববার পর্যন্ত।

শুক্রবার বেলা তিনটায় সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রবীণ কৃষকনেতা ও লোকশিল্পী আবদুল হাশিম। তিন দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাসান ইমাম, কামাল লোহানী ও গোলাম মোহাম্মদ ইদু। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদীচীর ৫০টি জেলা ও শাখার শিল্পীরা ঐতিহ্যসমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতির পরিবেশনা নিয়ে উপস্থিত হবেন এই সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উদীচীর সহসভাপতি কাজী মোহাম্মদ শীশ, মাহমুদ সেলিম, প্রবীর সরদার ও সহসাধারণ সম্পাদক সংগীতা ইমাম, প্রচার সম্পাদক কংকন নাগ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এই সাংস্কৃতিক সম্মেলন। এখানে জানানো হয়, তিন দিনের এই সম্মেলনে থাকছে বাংলার লোক-ঐতিহ্যের গৌরবোজ্জ্বল স্মারক পরিবেশনা। থাকছে গম্ভীরা, গাজির গান, অষ্টক, ধামাইল, জারিগান, পালাগান, গণসংগীত, লোকোন, আদিবাসী নৃত্য, নৃত্যালেখ্য, গীতি-আলেখ্য, নাটক, মূকাভিনয়, আবৃত্তি প্রভৃতি।

প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন জেলা ও শাখার পরিবেশনা ছাড়াও থাকবে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের প্রদর্শনী। এখানে ৪০টি দেশীয় বাদ্যযন্ত্র প্রদর্শিত হবে। থাকবে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও বইয়ের দোকান।

উদীচীর সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বছরব্যাপী সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনের বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় দিবস ও অন্যান্য দিবস ছাড়াও বছরব্যাপী ধারাবাহিকভাবে নানা কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানান উদীচীর সাধারণ সম্পাদক। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গান, কবিতা উৎসব আয়োজন, চলচ্চিত্র উৎসব, গ্রন্থ পাঠ প্রতিযোগিতা, গণসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পীদের জীবন ও কর্মভিত্তিক প্রকাশনা ও অনুষ্ঠান আয়োজন, লোক গায়কদের জীবন ও কর্মভিত্তিক প্রকাশনা ও অনুষ্ঠান আয়োজন, উদীচীর ইতিহাস গ্রন্থ প্রণয়ন।