Hot!

Other News

More news for your entertainment

সিজারিয়ান পরবর্তী পরামর্শসিজারিয়ান পরবর্তী পরামর্শ

ইদানীং সিজারিয়ানের হার বেশ বেড়ে গেছে। সিজারিয়ান পরবর্তী সময়ে মাকে অবশ্যই নিজের কিছু যত্ন নিতে  হবে। কারণ সঠিক পরিচর্যা ও পরামর্শ অনুযায়ী না চলে তবে সিজারিয়ান মাকেই অনেক অহেতুক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। যা তার কাম্য নয়। প্রথমত, সিজারিয়ান মাকে সুষম খাবার খেতে হবে। প্রচুর পানি পান করতে হবে। প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না। রাতে ৮ ঘণ্টা এবং দিনে ২ ঘণ্টা মোট ১০ ঘণ্টা বিশ্রাম নিতে হবে। অনেকে বাচ্চার জন্য রাতে ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে পারেন না সেক্ষেত্রে বাচ্চা যখন ঘুমাবে তখন আপনিও ঘুমিয়ে নিতে পারবেন। সিজারের পর বেশ কিছুদিন পেটে ব্যথা অনুভূত হয়। সেই সময় ব্যথার ওষুধ ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সেবন করতে হবে। সিজারের পরবর্তী ৩ মাস ভারি কাজ করবেন না। তবে স্বাভাবিক কাজকর্ম করা যাবে। ড্রেসিং খুলে দেয়ার পর নিয়মিত গোসল করবেন এবং কাটা স্থানে সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। অনেকেই মনে করেন কাটা স্থানে সাবান বা পানি লাগানো যাবে না এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ড্রেসিংয়ের পর সাধারণত ডাক্তার একটা মলম লিখে দেন সেটা কাটা স্থানে দিনে ২ বার ৭ দিন লাগাবেন। অনেকের কাটা স্থানে একটু চুলকায় আর চুলকাতে চুলকাতে কাটা স্থান ফুলে যায় আবার একটু পানি পানি কষ বের হতে দেখা যায় যদি কারও এই রকম হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। অনেকের এ্যালার্জির কারণেও এটা হতে পারে। যদি আপনি বুঝতে পারেন যে বিশেষ কোন খবারÑ যেমন গরুর মাংস, ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ, পুঁইশাক ইত্যাদির কারণে কাটা স্থানে চুলকানি বাড়ে তবে তা পরিহার বা খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিন। ইদানীং আধুনিক চিকিৎসার দরুন কসমেটিক সিজারিয়ান করানো হয় এতে সেলাই খোলার পর অর্থাৎ ড্রেসিংয়ের পর পরই কাটা স্থান শুকিয়ে যায়। আর কাটা স্থানে তেমন কোন দাগ থাকে না বা তেমনভাবে বোঝা যায় না। তবে কাটা স্থানে দাগ না হওয়ার জন্য এক রকম জেল পাওয়া যায় ওটা ব্যবহার করতে পারেন। আর ২ বছরের মধ্যে যেন ঈড়হপরাব না করেন সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখবেন।

কোচিং বাণিজ্য: ঢাকার ২৫ স্কুল শিক্ষক বদলি

কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে রাজধানীর আট প্রতিষ্ঠানের ৯৭ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল দুদক। এর মধ্যে ২৫ জন শিক্ষককে বিভিন্ন জেলায় বদলি করেছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর গতকাল সোমবার এক আদেশে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া শিক্ষকদের ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের পুরনো কর্মস্থল ছাড়তে হবে।     সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২ জন, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনজন, সরকারি ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের আটজন এবং নিউ গভমেন্ট হাই স্কুল ও খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন করে শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।

কোনো অভিনেতাকে বিয়ে করবো না : পরিণীতি চোপড়া

গোলমাল এগেইনের সাফল্যের পর এবার পরবর্তী ছবি দিবাকর ব্যানার্জির সন্দীপ অর পিঙ্কি ফরার মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন পরিণীতি চোপড়া। এই ছবিতে পরিণীতির বিপরীতে দেখা যাবে অর্জুন কাপুরকে। এরপর নমস্তে কানাডা নামে আরও একটি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করবেন পরিণীতি ও অর্জুন। আর একাধিক ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করলেই সেই জুটিকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই বলতে শুরু করেন, দু’জনের মধ্যে কিছু একটা চলছে। পরিণীতির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে, অর্জুনের সঙ্গে সম্পর্কের সবরকম সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় পরিণীতি এও জানিয়েছেন যে, কোনও অভিনেতার সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে আগ্রহী নন তিনি। কিন্তু, এমন কেন বললেন পরিণীতি? পরিচালক মনীশ শর্মার সঙ্গে একসময় সম্পর্ক ছিল পরিণীতির। তিন বছর পর তা ভেঙে যায়। বিচ্ছেদের কারণ জানা না গেলেও পরিণীতি এখন বলেন ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা খুব শক্ত। তিনি বলেন, আমার মনে হয় না, আমি কোনও অভিনেতার সঙ্গে প্রেম অথবা বিয়ে করব। এই ইন্ডাস্ট্রিতে বন্ধুত্ব বজায় রাখাই দুষ্কর। আর সম্পর্কের ক্ষেত্রে তো ব্যাপারটা আরও জটিল হয়ে যায়। তাঁর আরও সংযোজন, আমি নিজেই নিজের বিল মেটাই, কোথাও যেতে হলে নিজেই গাড়ি চালাই আর তাছাড়া নিজের সবরকম চাহিদা মেটানোর ক্ষমতাও আমার আছে। গতবছর ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে পরিণীতির সম্পর্কে রয়েছেন বলে গুজব রটেছিল। কিন্তু, ইলি আভ্রাম ও হার্দিক পান্ডিয়া প্রেম করছেন, এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তা ফিকে হয়ে যায়। আর, তাই বলা যায়, এই মুহূর্তে সিঙ্গল পরিণীতি। খুব তাড়াতাড়ি কোনও সম্পর্কে জড়ানোর ইচ্ছাও তার নেই।

বলিউড নায়িকা জিনাত আমান শ্লীলতাহানির শিকার

বেশ কিছুদিন ধরেই নাকি তাকে অনুসরণ করছেন একজন। শুধু তাই নয়, মোবাইলে বার বার মেসেজ, এমনকি নানা ধরনের ভিডিও ক্লিপও আসছিল! শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে যেতে বাধ্য হলেন বলিউড অভিনেত্রী জিনাত আমন। তার দাবি, পূর্বপরিচিত ওই ব্যক্তি তার শ্লীলতাহানিও করেছেন। সোমবার জুহু থানায় অমর খান্না নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন ৬৬ বছরের অভিনেত্রী। মুম্বই লাইভের খবর অনুযায়ী, ডিসিপি পরমজিত্ সিংহ দাহিয়া জানিয়েছেন, সরফরাজ ওরফে অমর খান্না পেশায় ব্যবসায়ী। বহুদিন ধরেই জিনাত ও তার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে অমরের। কিছুদিন আগে দু’জনের সম্পর্কের অবনতি হয়। দুই পরিবারের মধ্যে কথাও বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু, জিনাতের মোবাইলে মেসেজ, ভিডিও ক্লিপস পাঠিয়ে বিরক্ত করতে থাকেন অমর। বার বার অভিনেত্রীকে দেখা করার জন্য চাপও দিচ্ছিলেন তিনি। যদিও কোনোবারই দেখা করতে রাজি হননি জিনাত।এর আগেও নাকি তিন বার, জিনাতের অ্যাপার্টমেন্টের সিকিউরিটি গার্ডের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে অমরের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে জুহু থানায় গিয়ে সোমবার রাতে অভিযোগ দায়ের করেন জিনাত। অমরের বিরুদ্ধে তাকে হুমকি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন নায়িকা। অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ৩৫৪ (ডি) ও ৫০৯ ধারায় অনুসরণ এবং শ্লীলতাহানির মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত। তদন্তের স্বার্থে, কী কারণে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল, তা-ও জানতে চায় পুলিশ। ১৯৮৫ সালে অভিনেতা মাজহার খানকে বিয়ে করেছিলেন জিনাত। পরে অভিনেতা সঞ্জয় খানের সঙ্গেও বিয়ে হয়েছিল। জিনাতের দুই স্বামীই মারা গেছেন। তার দুই ছেলে রয়েছে, আজান ও জাহান।


ছিনিয়ে নিল দুই আসামি ॥ জঙ্গী স্টাইলে প্রিজনভ্যান ভাঙল বিএনপি কর্মীরা

এবার জঙ্গী স্টাইলে পুলিশকে মারধর করে প্রিজনভ্যান ভেঙ্গে বিএনপির দুই নেতাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার ফেরার পথে ঘটনাটি ঘটে। বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ছিনিয়ে নেয়া নেতাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় অজ্ঞাত শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজন বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এর আগে একই মামলায় হাজিরা শেষে ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মীরা শতাধিক যানবাহন ভাংচুর করে রীতিমতো হাইকোর্টসহ আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত করেছিল। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের খেলার মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে হাজিরা দিতে যান। বরাবরের মতো এবারও তাঁর হাজিরা উপলক্ষে আদালত চত্বর, হাইকোর্টসহ আশপাশের এলাকায় বিএনপি-জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা আগ থেকে অবস্থান করতে থাকেন। পুলিশ জানায়, সকালেই কয়েক দফায় নেতাকর্মীরা ঝামেলা করার চেষ্টা করেন। পুলিশ খুবই ধৈর্য ধরে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীরা অনেকটা ইচ্ছাকৃতভাবেই পুলিশের সঙ্গে ঝামেলা করতে যান। এ সময় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা সোহাগ মজুমদার (৩৮) ও ওবায়দুল হক মিলনকে (৪০) আটক করে। তাদের রাখা হয় হাইকোর্ট চত্বরের সামনে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের গেটের কাছে রাখা একটি প্রিজনভ্যানে। বেলা তিনটার দিকে খালেদা জিয়া যথারীতি আদালত থেকে গুলশানের উদ্দেশে রওনা হন। রাস্তায় নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার গাড়ির সামনে পেছনে মিছিল করতে থাকেন। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে একদল নেতাকর্মী স্লেøাগান দিয়ে হাইকোর্টের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সেখানে থাকা প্রিজনভ্যানের ভেতর থেকে আটককৃত দুই নেতা অন্য নেতাকর্মীদের জোরে ডাক দেন। তাদের সেখান থেকে নিয়ে যেতে বলেন। ডাক দেয়ার পর নেতাকর্মীরা হাতের কাছে যা কিছু পায়, তাই দিয়েই প্রিজনভ্যানে ঢিল ছুড়তে থাকেন। এক পর্যায়ে প্রিজনভ্যানে থাকা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা নেতাকর্মীদের বাধা দেন। এ অবস্থায় বিএনপি কর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় পুলিশের ওপর চড়াও হন। পুলিশকে বেধড়ক মারধর করেন। দুই পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পুলিশের একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে হামলাকারীরা। এরপর প্রিজনভ্যান ভেঙ্গে ভেতরে থাকা দুই নেতাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। শত শত নেতাকর্মীর সঙ্গে মিশে যাওয়ার কারণে পুলিশ আর তাদের শনাক্ত করতে পারেনি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বাবু, জাভেদ ও হুমায়ুন নামে বিএনপির তিন নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জনকণ্ঠকে বলেন, খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে সকাল থেকেই পুলিশ খুবই সর্তক অবস্থায় ছিল। আগে থেকেই জড়ো হওয়া নেতাকর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশের সঙ্গে আগের কয়েকবারের মতো ঝামেলা করার চেষ্টা করেছে। পুলিশ তাদের সেই পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। কয়েক দফায় ঝামেলা করার চেষ্টা করলে বিএনপির দুই নেতাকে আটক করা হয়। আটককৃত বিএনপির কোন বড় নেতা ছিলেন না। তাদের রাখা হয়েছিল প্রিজনভ্যানে। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে প্রিজনভ্যান থেকে আটককৃত দুই নেতা ডাক দিয়ে তাদের নিয়ে যেতে বলেন। আর তখনই বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রিজনভ্যানের ওপর হামলা করে। পুলিশকে মারধর করে আটককৃত দুইজনকে ছিনিয়ে নেয়। ছিনিয়ে নেয়া নেতাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে শাহবাগ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সন্ধ্যা সাতটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি। প্রিজনভ্যান থেকে ছিনিয়ে নেয়া দুই নেতার সন্ধান চলছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা চলছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েক বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রসঙ্গত, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি শেষে খালেদা জিয়া আদালত থেকে ফেরার পথে গত দুই মাসে এ নিয়ে চার দফায় তা-ব চালাল বিএনপি-জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। এর আগে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার একই মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় মারাত্মক তা-ব চালিয়ে রীতিমতো হাইকোর্ট, বকশীবাজার, দোয়েল চত্বর, প্রেসক্লাবসহ আশপাশের এলাকায় রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত করেছিল বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। ওই দিন নেতাকর্মীরা বহু যানবাহন ভাংচুর করেছিল। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। তাতে অন্তত ২৫জন আহত হয়েছিলেন। পুলিশ ২৬ জনকে আটক করেছিল। এমন তা-বে রীতিমতো বিপাকে পড়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সেগুনবাগিচা বারডেম-২ হাসপাতাল, বারডেম হাসপাতাল ও হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়া রোগী ও তাদের স্বজনরা। তা-বের সময় মানুষ প্রাণভয়ে দোকানপাট, প্রিয়গাড়িসহ অন্যান্য সামগ্রী ফেলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। ওই দিনের তা-ববিএনপি-জামায়াত-শিবিরের ২০১৪ ও ২০১৫ সালের তা-বের চেয়ে কোন অংশে কম ছিল না।

সিলেটে নৌকার জোয়ার

প্রান্তিক জেলা সিলেটে জোয়ার উঠেছে। নৌকার নির্বাচনী জোয়ার। এই জোয়ার সারা দেশকে ভাসিয়ে নেবে। উপস্থিত জনতার এমন ধারণায় পরিবেষ্টিত মঙ্গলবার সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা ময়দানের জনসমুদ্রে প্রধান অতিথির ভাষণে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার জন্য উপস্থিত জনতাকে হাত তুলে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর এমন আহ্বানে উপস্থিত সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাত তুলে সাড়া দিয়ে নৌকাকে বিজয়ী করার পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার আলীয়া মাদ্রাসা ময়দান ছিল কানায় কানায় ভর্তি। মাঠ উপচে মানুষের ঢল ছিল বহু দূর পর্যন্ত। নির্বাচনী আমেজে ফুরফুরে মেজাজে শীতের বিকালে মাদ্রাসা ময়দানে উপস্থিত মানুষের মধ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রচারণা আহ্বানের অপেক্ষা। মঙ্গলবার সিলেটে হযরত শাহজালাল (র), হযরত শাহপরান (র) ও সিলেটের প্রথম মুসলিম গাজী বুরহান উদ্দিনের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু করেন। সভা শুরুর পূর্বে ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৬টি প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দিন। আওয়ামী লীগ সরকারে এলেই দেশের উন্নয়ন হয়। দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী নির্বাচনেও নৌকা মার্কাকে নির্বাচিত করতে হবে। নৌকাকে নির্বাচিত করলে দেশ এগিয়ে যায়। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসলে দেশে লুটপাট হয়, দেশ দুর্নীতিতে বারবার চ্যাম্পিয়ন হয়। তাই দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে আগামীতেও আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করতে হবে। তাই আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন আগামীতেও নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে বিশ্ব দরবারে দেশ সম্মানের সাথে এগিয়ে যাবে। ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করুন। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত মাদ্রাসা মাঠের সভার মঞ্চটি তৈরি করা হয় নৌকার আদলে। এই মঞ্চে বক্তব্যের মাধ্যমে সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন শেখ হাসিনা। নৌকার আদলে সভা মঞ্চ তৈরির ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা বলেন ‘নৌকা’ আওয়ামী লীগের প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক। তাই, নৌকার আদলে এ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করে চার বছর পূর্ণ করে পাঁচ বছরে পদার্পণ করেছি। সামনে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনকে সামনে নিয়ে আমরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। এবং সেটা শুরু করছি আমরা পুণ্যভূমি সিলেট থেকে। বিগত নির্বাচনে নৌকায় সবাই ভোট দিয়েছিলেন। তাই আজ বাংলার সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁঁয়া লেগেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের যৌথ পরিচালনায় জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ধ্বংস্তূপ বাংলাদেশকে গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, জাতির জনককে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট নির্মমভবে হত্যা করা হয়। ১৯৭৫ এর পর বাংলার মানুষের উন্নয়নের চাকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সংবিধান লঙ্ঘন করা শুরু হয়েছিল। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে উন্নয়ন শুরু হয়। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি সিলেটসহ সারাদেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। ২০০৪ সালে হযরত শাহজালালের মাজারে গ্রেনেড হামলা হয়। পরপর দুবার গ্রেনেড হামলায় ৯ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। ৭ আগস্ট আমাদের সাবেক মেয়র কামরানের ওপর আক্রমণ হয়। সে আক্রমণে আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম আলী মৃত্যুবরণ করেন। একাধিকবার কামরানের ওপর হামলা হয়েছে। মহিলা আওয়ামী লীগের সভা চলাকালীন সেখানে বোমা হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির হত্যাযজ্ঞ চলে সারাদেশে। তাদের হাত থেকে মা-বোনেরা রেহাই পায়নি। সারাদেশে অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়, গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হয়, বহু নেতাকে গুম করা হয়। দীর্ঘ ৪০ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সে নির্বাচন ঠেকানোর নামে সন্ত্রাস-নাশকতা চালায়। সিলেটে শহীদ মিনারে হামলা ও ভাংচুর চালায়। ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি দেশে ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালায়। আমরা গাছ লাগাই, তারা গাছ কাটে; আমরা রাস্তা বানাই, তারা রাস্তা কাটে। আমরা কঠোর হস্তে সেসব সন্ত্রাসী কর্মকা- প্রতিহত করি। বিএনপির সময় বাংলা ভাই, আবদুর রহমান তৈরি হয়, সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা হয়। বিএনপি ঢাকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে আমাদের নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। তারা ২৯টি রেলগাড়িতে আগুন দিয়েছে, ৯টি লঞ্চে আগুন দিয়েছে, ২৫২টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে, প্রায় ১৪ শ’ সরকারী অফিস তারা জ্বালিয়ে দিয়েছে। জ্বালাও-পোড়াও আর অগ্নি-সংযোগ হচ্ছে তাদের আন্দোলন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি ধ্বংস করতে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না। মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করতে জানে। বিএনপি পেট্রোলবোমায় মানুষ মেরেছে। তাদের আগুন, পেট্রোলবোমায় বহু মানুষ জীবন দিয়েছে। তারা প্রায় ৫শ’ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ তাদের আগুন সন্ত্রাসের শিকার হয়ে এখন ধুঁকছেন। তাদের অগ্নিসন্ত্রাসের কারণে তিন হাজার ৩৬ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তারা হাজার হাজার গাড়ি, সরকারী অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছে। এ রকম ধ্বংসাত্মক আন্দোলন আমরা দেখিনি। তিনি বলেন, ‘আন্দোলন হবে মানুষের জন্য। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন ধ্বংস করার জন্য। তারা পারে দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করতে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করে, উন্নয়নে বিশ্বাস করে, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করে। আজ সিলেট থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সিলেট এসেছি আপনাদের উপকার করতে। আজ অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছি। সামনে আরও কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হবে, সেগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দেশে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার ছিল। ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে পেয়েছিলাম মাত্র ১৬শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত। আজ আমরা দেশে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত দিচ্ছি। আমরা কম্পিউটারের ওপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করে তা সহজলভ্য করেছি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা শিক্ষার হার ৬৫.৫ ভাগে উন্নীত করেছিলাম। বিএনপি ক্ষমতায় এসে সাক্ষরতার হার কমিয়ে ৪৫ ভাগে নিয়ে আসেন। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা এ হারকে ৭২ ভাগের উপরে নিয়ে গেছি। আমরা প্রতিটি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। বিভিন্ন বহুমুখী বিশ্ববিদ্যালয় করছি, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করে শিক্ষাকে বহুমুখী করে দিচ্ছি। অমরা বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়েছি। আমরা চলতি জানুয়ারি মাসে ৩৫ কোটি ৪২ লক্ষ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করেছি। যাতে আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারে। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠঅনগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করে দিয়েছি। আমরা বেসককারী অনেক কলেজকে সরকারী করে দিয়েছি। জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দিচ্ছি। যাতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। প্রাইমারি লেভেলে দুই কোটি ৩০ লক্ষ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা চালু করেছি। যাতে তারা উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী হয়ে উঠে। একটি দেশকে উন্নত করতে হলে একটি জাতিকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। প্রযুক্তি খাতে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে ১৪ কোটি সিম ব্যবহার করা হয়। অনেকে দুইটা/তিনটা করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। দেশের ৮ কোটি মানুষ আজ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। আমরা আজ সব জায়গায় ইন্টারনেট পৌঁছাতে পেরেছি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন গবেষণা পদ্ধতি চালিয়ে যাচ্ছি। কৃষকদের ভর্তুকি প্রদান করছি। মাত্র ১০ টাকায় কৃষকদের জন্য ব্যাংক একাউন্ট খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। যাতে কৃষকদের নিজ একাউন্টে আমরা ভর্তুকির টাকা পৌঁছে দিতে পারি। দুই কোটির উপর কৃষক এ সেবা পাচ্ছে। সিলেটের চা শিল্পের উন্নয়নের কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য, তাদের সন্তানের শিক্ষার উন্নয়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সিলেট থেকে যাতে চা’র নিলাম হতে পারে সেজন্য আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সিলেটে যেসব পণ্য উৎপাদন হয় যেমনÑ ভ্ট্টুা, আগর, কমলালেবুসহ অন্যান্য উৎপাদনের জন্য এখানে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের সম্প্রসারণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সে লক্ষ্যে প্রত্যেক অঞ্চলে আমরা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সিলেটে আমরা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি যেখানে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ হবে। আমাদের প্রবাসী বাঙালীরা সেখানে অগ্রাধিকার পাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব। আমরা তা করতে পেরেছি। ৮ হাজার ৫৪৫টি রিসার্চ সেন্টার গড়ে তুলেছি। আমরা ঘরে বসে সেবা পাওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ দেশে ১৪ কোটি সিমকার্ড ব্যবহৃত হয়। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করছি। মাত্র ১০ টাকায় কৃষক এ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। দুই কোটির উপর কৃষক উপকরণ কার্ড পাচ্ছে। এক কোটির উপর কৃষক ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলে ভর্তুকির টাকা পাচ্ছে। যেখানে বন্যায় আক্রান্ত, সেখানে বীজ, সারসহ অনান্য উপকরণ আমরা দিচ্ছি। কৃষকের ঋণ আদায় যেন স্থগিত থাকে তার ব্যবস্থা করছি। সিলেটের চা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবস্থা করছি। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সিলেট থেকে যাতে চায়ের নিলাম হয়, তার জন্য নিলাম কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। দেশের প্রত্যেক এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। সিলেটে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। ঘরে বসে প্রবাসে থাকা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার প্রযুক্তিগত সুযোগ আমরা দিয়েছি। ৮ হাজার ৫শ’ পোস্ট অফিসকে আমরা ডিজিটাল সেন্টারে রূপান্তর করেছি। ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিনা পয়সায় স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি, ওষুধ দিচ্ছি। সিলেটে আমরা একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, গ্রামের জনগণের উন্নতি। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন দেশের প্রতিটি মানুষ পেট ভরে খাবার খাবে। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। আমরা জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছি। আজ আমরা বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছি। যারা হতদরিদ্র, শ্রমিক শ্রেণী, সেসব মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন সময়ের জন্য ভাতা দিচ্ছি। ছেলেমেয়েরা যেন উচ্চশিক্ষা নিতে পারে, সেজন্য প্রাইমারী থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছি। দেশকে উন্নত করতে হলে, জাতিকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে হলে জাতিকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের টাকায় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পায়। প্রবাসীদের জন্য তিনটি ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি হয়ে গেছে। আমরা চাই, দেশ এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের সুনাম হয়। দেশ পুরস্কার পায়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস হয়ে যায় তাদের মূল কাজ। এ দেশকে উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলে দেশে এতো উন্নয়ন হতো না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় না। নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে দেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেল হয়েছে। আমরা কথা দিয়েছিলাম, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব। তা করেছি। জাতির জনকের খুনীদের বিচার করেছি। বাংলার মাটিতে জঙ্গীবাদের স্থান হবে না। প্রত্যেক মা, বোন, শিক্ষক, সচেতন নাগরিক, সকল অভিভাবক সবাইকে নিজেদের ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তারা কোথায় যায়, কার সাথে মিশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেশিদিন অনুপস্থিত কিনা, তা খেয়াল রাখতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। ইসলাম জঙ্গীবাদ সমর্থন করে না। শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘সিলেট আজ শান্তির নগরী। এই শান্তি যেন বজায় থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে একসঙ্গে মিলে কাজ করতে হবে, যাতে সিলেটের সকল পাড়া-মহল্লায় শান্তি বজায় থাকে। আমরা বীরের জাতি, বিজয়ী জাতি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ দেশকে আমরা উন্নত করে গড়ে তুলব। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত করব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যের জন্য বাংলাদেশকে কারও কাছে ভিক্ষা চাইতে হবে না। আমরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, বিএনপির খালেদা জিয়া, তাদের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বলেছিলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ভাল না। তাতে বিদেশী সাহায্য পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা ভিক্ষা করতে চাই না। যারা নিজেদেরকে ভিক্ষুক হিসেবে অন্যের কাছে পরিচিত করতে চায়, তারা কিভাবে দেশের উন্নয়ন করবে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্ব দরবারে সম্মানের সাথে এগিয়ে যাবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী নিজের বক্তব্যে প্রয়াতমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ, শাহ এএমএস কিবরিয়া, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, দেওয়ান ফরিদ গাজীসহ প্রয়াত জাতীয় নেতাদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ডাঃ দীপু মনি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, আব্দুর রহমান, যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক আতিক প্রমুখ। জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, তৌফিক-ই-এলাহী, আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল, সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম কবির রব্বানী চিনু, আনোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন অপু, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) তারিক আহমেদ সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেটে জনসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে, একই বছরের ২৩ নবেম্বর তিনি সিলেটে সেনাবাহিনীর ১৭-পদাতিক ডিভিশনের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ঐ দিন জনসভায় বক্তব্য দেয়ার কথা থাকলেও জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল। মুহিত ॥ সমাবেশে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার এগোচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য এগোচ্ছেন। দুইবার নির্বাচিত হয়ে নয় বছর সাংসদ হিসেবে তাকে নির্বাচিত করায় উপস্থিত জনতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দেশের দারিদ্র দূরীকরণে সরকারের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় দেশের ৩০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত, বর্তমান সরকার সেই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করে মানুষের উন্নয়ন ঘটিয়েছে। বাজেটের আকার বড় করে চার লক্ষ দুই কোটি টাকা করা হয়েছে। পৃথিবীর অন্য কোন দেশে এভাবে বাজেটের আয়তন এত বড় করা হয়নি। আমরা সিলেটের উন্নয়ন কর্মকা- সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। দুইশত বছরে সিলেটের উন্নয়ন যতটুকু হয়েছিল গত ৯ বছরে ততটুকু হয়েছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে পুনরায় সরকার গঠনের সুযোগ দেয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। ওবায়দুল কাদের ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ-সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, গত বছরে সিলেটের সকল আসনে আওয়ামী লীগ একশতে একশো হয়ে জয় লাভ করেছে। বিএনপির অপপ্রচারে কিছুই হয়নি বলে তিনি বলেন, সিলেটে উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনার সরকার অনেকগুলো প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে পুনরায় সরকার গঠনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার জন্য তিনি উপস্থিত জনতার প্রতি আহ্বান জানান।মতিয়া চৌধুরী ॥ মতিয়া চৌধুরী বলেন সরকার গঠনের ৪৯তম দিনের মধ্যে ঢাকায় বিডিআর বিদ্রোহ হয়। সেই দিনের ঘটনায় সরকার তছনছ হয়ে যেতে পারতো, সবার দোয়ায় ও প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে এই বিডিআর বাহিনীকে সুশৃঙ্খল বিজিবি বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরে মতিয়া চৌধুরী বলেন, আমরা প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই দিতে পেরেছি। বাংলাদেশের আশেপাশের কোন দেশই এখন পর্যন্ত বিনামূল্যে এতোগুলো বই দিতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে এবং হবে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন সাঈদী চান্দে গেছে বইলা বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তছনছ করেছে বিএনপি জামাত। জঙ্গী সন্ত্রাসের কথা উল্লেখ করে ইসলাম কি বলে সুইসাইডের কথা? এমন প্রশ্ন রেখে কৃষিমন্ত্রী বলেন জঙ্গীরা সুইসাইড ভেস্ট পরে সন্ত্রাসী কর্মকা- করে। এতো কিছুর পরও শেখ হাসিনা এগিয়ে যাচ্ছেন। জিএসপি সুবিধা বাতিলের জন্য খালেদা জিয়া চিঠি দিয়েছে বলে জানান মতিয়া চৌধুরী।

প্রিয় নবীজি (স:) দরবারে একটি গাছ আগমনের অবিস্মরণীয় ঘটনা

মদীনার বুকে একজন জনসন্মুখ্যে, প্রিয় নবীজি হুজুর পাক (স.) কে অপদস্থ করার এক কু বাসনা নিয়ে, নবীজির কাছে এসে বললেন, ‘হে মুহাম্মদ, তুমি দাবী করেছো, তুমি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নবী, এবং তোমার কাছে নাকি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী ( আল্লাহর বাণী) আসে। তুমি যদি তোমার দাবীতে সত্য হও, তাহলে এমন কিছু করে দেখাও যা সাধারণ কারো পক্ষে সম্ভব না।’ এই কথা শুনে তখন নবীজি (স.) বললেন, ঠিক আছে কি দেখতে চাও তুমি-ই বল। তখন সেই ইহুদী দুরের একটা গাছ কে দেখিয়ে বললো, দেখি এক মুহুর্তে কোন হাতের স্পর্স ছাডা গাছটিকে এইখানে হাজির করে দেখাও তো। তখন নবীজি (স.) মুচকি হেসে বললেন,আমি কোন কিছুই বলবো না, তুমি-ই সেই গাছটির কাছে গিয়ে এতটুকু বল যে,আল্লাহর প্রেরিত রাসুল (স.) তোমাকে ডাকছেন। কথামত সেই ইহুদী,তার মনের সেই কুবাসনা পূর্ণ হওয়ার আশা নিয়ে নিশ্চিন্ত মনে,গাছটির কাছে গিয়ে বললো, তোমাকে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল (স.) ডাকছেন। ইহুদী এই কথাটি বলার সাথে সাথেই,গাছটি কম্পন করতে আরম্ভ করে দিলো, এবং মাটির সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে,লাফিয়ে লাফিয়ে নবীজির (স.) সামনে উপস্থিত হয়ে বললেন, আসলাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ। গাছের এই অবস্থা দেখে সেই ইহুদী অবাক হয়ে আবার বললো, দেখি গাছটিকে আবার তার সেই আগের জায়গায় প্রতিস্থাপন করে দেখান। তখন নবীজি (স.) গাছটিকে বললেন, যাও তুমি তোমার নিজের স্থানে ফিরে যাও। সাথে সাথে গাছটি আবার তার পূর্বের স্থানে ফিরে গেলো। নবীজির এই অলৌকিক মোজেজা দেখে ইহুদী লোকটি সাথে সাথে উচ্চস্বরে কলিমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলো। এবং পরে তার পরিবার কে ও মুসলমান করালো। আবু দাউদ- নুজহাতুল মাজালিছ- হুজ্জাতুল্লাহে আলাল আলামিন- ৪৫৮ পৃষ্ঠা)

রাসুল সাঃ বলেন- ‘যে ব্যক্তি এই সূরা প্রতি রাতে পাঠ করবেন তাঁকে কখনই দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না’

অন্তিম রোগশয্যায় আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)— এর শিক্ষাপ্রদ কথোপকথনঃ ইবনে—কাসীর ইবনে আসাকীরের বরাত দিয়ে এই ঘটনা বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) যখন অন্তিম রোগশয্যায় শায়িত ছিলেন, তখন আমীরুল মু’মিনীন হযরত ওসমান (রাঃ) তাঁকে দেখতে যান৷ তখন তাঁদের মধ্যে শিক্ষাপ্রদ যে কথোপকথন হয় তা নিম্নরুপঃ- হযরত ওসমানঃ ما تشتكي আপনার অসুখটা কি? হযরত ইবনে মাসউদঃ ذنوبي আমার পাপসমূহই আমার অসুখ৷ ওসমান গণীঃ ما تشتهي আপনার বাসনা কি? ইবনে মাসউদঃ رحمة ربي আমার পালনকর্তার রহমত কামনা করি৷ ওসমান গণীঃ আমি আপনার জন্যে কোন চিকিৎসক ডাকব কি? ইবনে মাসউদঃ الطبيب امرضني চিকিৎসকই আমাকে রোগাক্রান্ত করেছেন৷ ওসমান গনীঃ আমি আপনার জন্যে সরকারী বায়তুল মাল থেকে কোন উপটৌকন পাঠিয়ে দেব কি? ইবনে মাসউদঃ لاحاجة لي فيها এর কোন প্রয়োজন নেই৷ ইবনে মাসউদঃ আপনি চিন্তা করছেন যে, আমার কন্যারা দারিদ্র ও উপবাসে পতিত হবে৷ কিন্তু আমি এরুপ চিন্তা করি না৷ কারণ, আমি কন্যাদেরকে জোর নির্দেশ দিয়ে রেখেছি যে, তারা যেন প্রতিরাত্রে সূরা ওয়াক্কিয়া পাঠ করে৷ আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)— কে বলতে শুনেছি, من قرأ سورةالواقعة كل ليلة لم تصبه فاقة ابدا” অর্থাৎ, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াক্কিয়া পাঠ করবে, সে কখনও উপবাস করবে না৷ হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ [রা.] বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে সুরা ওয়াক্বিয়াহ তেলাওয়াত করবে তাকে কখনো দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না। হজরত ইবনে মাসউদ [রা.] তাঁর মেয়েদেরকে প্রত্যেক রাতে এ সুরা তেলাওয়াত করার আদেশ করতেন। [বাইহাকি:শুআবুল ঈমান-২৪৯৮] সুরা আর রাহমান, সুরা হাদিদ ও সুরা ওয়াকিয়া’র তেলাওয়াতকারীকে কেয়ামতের দিন জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী হিসেবে ডাকা হবে। অন্য এক হাদিসে আছে, সুরা ওয়াকিয়াহ হলো ধনাঢ্যতার সুরা, সুতরাং তোমরা নিজেরা তা পড় এবং তোমাদের সন্তানদেরকেও এ সুরার শিক্ষা দাও। অন্য এক বর্ণনায় আছে: তোমাদের নারীদেরকে এ সুরার শিক্ষা দাও। আম্মাজান হজরত আয়েশা [রা.] কে এ সুরা তেলাওয়াত করার জন্য আদেশ করা হয়েছিল। তাছাড়া অভাবের সময় এ সুরার আমলের কথাটা তো হাদিস দ্বারাই প্রমানিত। এমনকি বর্ণিত আছে যে হজরত ইবনে মাসউদ [রা.] কে যখন তার সন্তানদের জন্য একটি দিনারও রেখে না যাওয়ার কারণে তিরস্কার করা হলো তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন, তাদের জন্য আমি সুরা ওয়াকিয়াহ রেখে গেলাম। [ফয়জুল কাদির-৪/৪১] সুবহানাল্লাহ! মহান রাব্বুল ইজ্জতের পবিত্র কালামের বরকত কত পাওয়ারফুল আপনি-আমি তা অনুধাবন করতে পারি কি? তাই আসুন সকলে সূরা ওয়াক্কিয়া পাঠের এই অতি মূল্যবান আমলটি প্রতিদিন আদায় করার চেষ্টা করি৷ আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে আমল করার তাওফিক দিন৷ আমীনওসমান গণীঃ উপটৌকন গ্রহণ করুন৷ তা আপনার পর আপনার কন্যাদের উপকারে আসবে৷

এসএসসির সময় নজরদারিতে থাকবে ফেইসবুক

এসএসসি পরীক্ষার সময় ফেইসবুক নজরদারিতে রাখবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ফেইসবুকে নজরদারি করতে বাড়তি লোকবলও নিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে বিটিআরসির কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। আর তার ভিত্তিতেই তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ। শাহজাহান মাহমুদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা নিবিড়িভাবে কাজ করবেন। তবে ফেইসবুক বন্ধ করার মতো ঘটনা হয়তো তাদেরকে ঘটাতে হবে না।সাংবাদিকদেরকে তিনি জানান, কমিশন বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে সেটি আগে থেকে বলে ফেলতে চান না। কারণ, তাহলে নজরদারির বিষয়টি আর কাজ নাও করতে পারে।গত ২৩ জানুয়ারি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ফেইসবুক বন্ধ রাখা যায় কিনা তা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।পরে গত রোববার জাতীয় সংসদেও এ নিয়ে কথা বলেন তিনি।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা ফেইসবুক বন্ধ করে দেবো এমন কথা বলিনি। বরং বেশিভাগর ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর কিছু আগে ফেইসবুকে আসার অভিযোগ ওঠে। এমন অভিযোগ যেনো কেউ করতে না পারে এজন্য আমরা বিটিআরসির সঙ্গে কাজ করবো।এর আগে ২০১৫ সালের নভেম্বরে একবার ফেইসবুকসহ অন্য বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টানা ২২ দিন বন্ধ রাখে সরকার। তখন এটি নিয়ে গোটা দুনিয়ায় সমালোচনা হয়।

নতুন আইপ্যাডে থাকছে ফেইস আইডি

মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য অ্যাপল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ডেভেলাপার্স কনফারেন্সে বরাবরের মতো এবারো নতুন আইপ্যাড আনার কথা রয়েছে। তবে অন্যান্যবারের মতো আসন্ন আইপ্যাডেও সর্বশেষ আইফোন প্রসেসরের আরও শক্তিশালী সংস্করণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।স্ক্রিনের সাইজ ৯ দশমিক ৭ ইঞ্চি থেকে ১২ দশমিক ৫ ইঞ্চির মধ্যে থাকবে ও স্টোরেজ শুরু হবে ৬৪ গিগাবাইট থেকে এমনটা ধারণা করা হচ্ছে।সম্প্রতি আইওএস ১১ দশমিক ৩ বেটা সংস্করণে মডার্ন আইপ্যাড নামক ডিভাইসের কথা সেটিংস অ্যাপের কোডে পাওয়া গেছে। নাম ছাড়া ডিভাইস সম্পর্কে আর কিছু বলা হয়নি। এর আগে আইফোন ১০ এর ক্ষেত্রেও একই ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছিল। ‌আইফোন ১০ এর সঙ্গে মিল থাকায় অনেকেই বলছেন, নতুন আইপ্যাডেও আইফোন ১০ এর মত বেজেলবিহীন ডিসপ্লে ও ফেইসআইডি ব্যবহার করা হতে পারে। বাদ পড়তে পারে এলসিডি ডিসপ্লে।তবে ডিসপ্লেতে ওলেড প্যানেল ব্যবহারের ফলে মূল্য বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন আইপ্যাডের নাম কী দেয়া হবে তা জানা যায়নি।ট্যাবলেটের বাজার দিন দিন ছোট হয়ে এলেও তার মধ্যে আইপ্যাডের দখলেই রয়েছে সিংহভাগ বাজার। সেটি ধরে রাখতে অ্যাপল চেষ্টা চালিয়ে যাবে সন্দেহ নেই।

সাফল্য পাবেন কী করে?‌

হয়তো অনেকের মধ্যেই রয়ে গিয়েছে অনেক অপূর্ণতা। কিন্তু এবার আর একই ভুলে পুনরাবৃত্তি করলে চলবে না। নতুন বছরকে সফল করতে আজ থেকেই পরিকল্পনা করুন। ‌ প্রথমেই মনে রাখবেন সব সমস্যার সমাধান আপনার হাতে নেই। তাই কিছু জিনিস সময়ের হাতে ছাড়তে শিখুন। পরিকল্পনা করুন। কিন্তু কোনও কিছু নিয়েই অতিরিক্ত আশা করবেন না। কাউকে নকল করবেন না। নিজের পথ নিজে বেছে নিন। যে‌ কোনও নেতিবাচক আলোচনা থেকে দূরে থাকুন। কোনও বন্ধু ক্রমাগত নেতিবাচক আলোচনা করলে তার থেকে দূরে থাকুন। তর্ক আর ঝগড়ার মধ্যে একটা সূক্ষ্ম ফারাক আছে। সেটা বুঝতে শিখুন। তর্ক করুন। ঝগড়া করবেন না।কথা বলার সময় সচেতন থাকুন ৷ ভেবে কথা বলুন। কারণ মুখের কথা আর হাতের তির, বেরিয়ে গেলে আর ফেরে না। বছরে অন্তত দু’‌বার ঘুরতে যান। বই পড়া, সিনেমা দেখা, গান শোনা— আপনার শখ যাই হোক না কেন, সেটাকে যথেষ্ট সময় দিন।

ঘুম না এলেই এই ছোট কাজটি করুন

কড়া অনিদ্রারোগীদের কথা হচ্ছে না। সাধারণ সুস্থ মানুষেরও মাঝে মাঝে বিনিদ্র রাত কাটে। আর পরের সকালটাকে মনে হয় রাতের চেয়েও অন্ধকার। এই সমস্যার দাওয়াই ঢুঁড়তে ইন্টারনেটের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ান প্রায়শই। সাইটে-সাইটে অজস্র টোটকা। সে সব ট্রাই করে আপনি হেদিয়ে গিয়েছেন। ঘুম কিন্তু আসেনি। এই সমস্যাকেই মেটাতে এগিয়ে এসেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল স্কুলিন। তিনি ও তাঁর গবেষকদল ৫৭ জন ১৯-২০ বছর বয়সি মানুষের উপরে একটি সমীক্ষা চালান। এঁদের দু’টি দলে ভাগ করে তাঁদের পরীক্ষাগারে ঘুমোতে বলেন। ঘুমোনোর আগে তাঁদের তিনি মনে মনে একটা তালিকা তৈরি করতে বলেন, যাতে তাঁদের করা ও না-করা কাজগুলি বিশদে থাকবে। অর্থাৎ যে কাজগুলি তাঁরা করেছেন এবং যেগুলি করার ইচ্ছা তাঁদের রয়েছে, সেগুলির একটি তালিকা তাঁদের তৈরি করতে বলা হয়। ঘুম ভাঙার পরে দুই দলকে আলাদা করে সেই তালিকাটি তিনি লিখতে বলেন। যাঁরা ইতিমধ্যে করা কাজগুলির তালিকা লিখলেন, দেখা গেল তাঁদের ঘুম সহজে আসেনি। কিন্তু যাঁরা না-করা কাজের তালিকা লিখেছেন, তাঁরা তালিকা প্রস্তুতের ১৬ মিনিটের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। এ থেকে স্কুলিন ও তাঁর সহযোগীরা সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, ভবিষ্যত-কর্মতালিকা নির্মাণ নিশ্চিত ভাবে অনিদ্রাকে দূর করে। তাঁদের গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘এক্সপেরিমেন্টাল সাইকোলজি’ নামের বিখ্যাত জার্নালে।

চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়ে সিরিজ শুরু আজ

এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে নামার পালা বাংলাদেশের। আজই চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট দিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে। সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হবে টেস্ট। এ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যকার ১৮টি টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। একটি টেস্টে জিতে বাংলাদেশ। দুটি টেস্টে ড্র করে। ১৫ টেস্টেই হারে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে নাকানিচুবানি খায় বাংলাদেশ। ২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টানা ১২ টেস্টে হারে। প্রতিবারই বড় ব্যবধানে হার হয় বাংলাদেশের। ৭টি টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারে। এরপর ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট খেলা থেকেই বদলে যায় দৃশ্যপট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টেও দাপট দেখানো শুরু করে বাংলাদেশ। ২০০৯ সালের পর ৬ টেস্ট খেলে তিনটিতে হারে। একটিতে জিতে। দুটি টেস্টে ড্র করে। সর্বশেষ গত বছর শ্রীলঙ্কার মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে আবার ড্র’ও করে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো কোন টেস্ট সিরিজে ড্র করে বাংলাদেশ। দুই দলের মধ্যকার সর্বশেষ টেস্টে আবার জিতে বাংলাদেশ। সেটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের শততম টেস্ট ম্যাচ ছিল। সেই ম্যাচটিতে জিতে শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর ক্ষমতাও দেখায় বাংলাদেশ। এই একটি ম্যাচেই শ্রীলঙ্কাকে হারানোর যোগ্যতা দেখায় বাংলাদেশ। আজ যে টেস্টটি শুরু হবে সেটি দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে। স্বাভাবিকভাবেই দেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা যে কোন দলের জন্যই এখন কঠিন। কারণ দেশের মাটিতে বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী দল। দেশের মাটিতে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে টেস্টে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এবার শ্রীলঙ্কাকেও হারানোর পালা। কিন্তু এমন ম্যাচে আবার দুর্বল হয়েই নামছে বাংলাদেশ। দলে যে নেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে আঙ্গুলে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন। এরপর প্রথম টেস্টের দল থেকে সাকিবকে সরিয়ে নেয়া হয়। তিনিই টেস্টের নতুন অধিনায়ক ছিলেন। কিন্তু নেতৃত্ব আর দিতে পারলেন না। সাকিব দলের সেরা অলরাউন্ডার। যে টেস্টগুলোতে বাংলাদেশ জিতেছে তাতে সাকিবের অবদান ছিল অসাধারণ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে সর্বশেষ দেশের মাটিতে টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ, সেই টেস্টে তো সাকিব ব্যাট-বল হাতে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন। কিন্তু এবার সাকিবকে ছাড়াই দেশের মাটিতে টেস্ট খেলতে হবে বাংলাদেশকে। এমন এক দলের বিপক্ষে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ যে দলের কোচ আবার বাংলাদেশের সাবেক কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে। হাতুরাসিংহে বাংলাদেশের স্টেডিয়ামগুলোর উইকেট, ক্রিকেটারদের শক্তি-দুর্বলতা ভাল করেই জানেন। তা তো প্রমাণও করেছেন। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালসহ টানা দুই ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়েছে তার দল শ্রীলঙ্কা। হাতুরাসিংহের যে গেম প্ল্যান ছিল তা পুরোপুরি কাজে লেগেছে। যেমন মাদুশঙ্কাকে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে খেলান। মাদুশঙ্কা হ্যাটট্রিক করে দেখান। হাতুরাসিংহে নিশ্চয়ই এবারও বিশেষ পরিকল্পনা করবেন। সাকিব না থাকাতে শ্রীলঙ্কা এমনিতেই এগিয়ে থাকছে। ওয়ানডেতে যেমনই হোক টেস্টে শ্রীলঙ্কা অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। সেটি বাংলাদেশ এর আগেও বুঝেছে। আর সাকিব না থাকা মানে তো বাংলাদেশ দল আগেই পিছিয়ে পড়ছে। তবে বাংলাদেশ দলে চমক রয়েছে। নাঈম হাসান রয়েছেন। সঙ্গে অভিজ্ঞ আব্দুর রাজ্জাকও আছেন। নাঈম হাসানকে নিয়ে বিশেষ গবেষণা করার সুযোগ পাবেন না শ্রীলঙ্কানরা। তবে হাতুরাসিংহে এর আগেও নাঈমকে দেখেছেন। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে নাইম খেলেন। হাতুরাসিংহে তাকে দেখে আরও নিজেকে প্রস্তুত করার কথা বলেন। সেই নাঈমই এবার হাতুরাসিংহের দলের বিপক্ষে খেলার জন্য প্রস্তুত। সেই সঙ্গে রাজ্জাক যদি অভিজ্ঞতার মূল্য দেখিয়ে দিতে পারেন তাহলে বাংলাদেশের টেস্টে ভাল করার সম্ভাবনা অনেক বেশি। টেস্টে ব্যাটিংটার সঙ্গে যে স্পিনারদের দাপট থাকবে তাতো বোঝাই যায়। বাংলাদেশ দল স্পিনে শক্তিশালী। সেই স্পিন যদি কাজে লাগে তাহলে বিপদে পড়বে শ্রীলঙ্কা। এখন শ্রীলঙ্কাকে বিপদে ফেলা গেলেই হলো। অবশ্য বাংলাদেশকেও অনেক সাবধান হয়ে খেলতে হবে। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ শ্রীলঙ্কা দলেও আছেন রঙ্গনা হেরাথের মতো অভিজ্ঞ স্পিনার। স্পিনার লাকসান সান্দাকান ও ধনঞ্জয়াও রয়েছেন। এ স্পিনারদের দিয়ে নিশ্চয়ই শ্রীলঙ্কাও চাইবে ভাল কিছু করে দেখাতে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের খুবই সতর্ক থাকতে হবে। যদি ব্যাটসম্যানরা ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ দুই ওয়ানডের মতো খেলেন, তাহলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হবে। যদি তামিম, ইমরুল, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহরা শুরুতেই হাল ধরতে না পারেন তাহলে বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে টেস্টেও। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে হেরে এমনিতেই ক্রিকেটারদের মানসিকতায় আঘাত এসেছে। আত্মবিশ্বাসেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আবার নেই সাকিব। তাতে দলের অবস্থা এমনিতেই বেহাল। এখন এই বেহাল দশা বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা কাটিয়ে উঠতে পারলেই হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে আজ দুই দলের মধ্যকার চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট দিয়ে সিরিজ শুরু হচ্ছে। এই ম্যাচেই সেই অবস্থা কাটিয়ে ওঠার প্রমাণ দেয়ার সময় এসে পড়েছে।

পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে ভারতের যুবারা

বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই অন্যরকম উত্তেজনা। সেটা যে লেভেলেই হোক। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ফেবারিট হয়েও চিরশত্রুদের কাছে হেরে গিয়েছিল বিরাট কোহলির দল। এবার ছোটরা বদলা নিল। অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিতে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠে গেল ভারতের যুবারা। জয়টা এলো ২০৩ রানের ব্যবধানে। মঙ্গলবার ক্রাইস্টাচার্চে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৭২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে ভারত অনুর্ধ-১৯ দল। জবাবে ইসহান পোরেল ও শিভা সিংয়ের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ২৯.৩ ওভারে মাত্র ৬৯ রানেই অলআউট পাকিস্তান। শনিবার মাউন্ট ম্যাঙ্গানিউয়ের ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে ভারতের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত ভারত অনুর্ধ-১৯ অধিনায়ক পৃথ¦ী শাহ বলেন, ‘দলের সবাই দুর্দান্ত খেলেছে। সত্যিকার অর্থেই আমরা সবদিক থেকে ছিলাম সফল।’ রেকর্ডের দিক থেকে পাকিস্তান যুবাদের এটি তৃতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এবারের টুর্নামেন্টে শুরু থেকেই অবশ্য তাদের ব্যাটিং মোটেই সুবিধার ছিল না। কোন ম্যাচেই পাকিস্তানীরা ২০০ রানের কোটা পার করতে পারেনি। এছাড়াও উন্মাদনার সেমিতে এমন লজ্জার পরাজয়ে ফিল্ডারদের বাজে ফিল্ডিংও অনেকাংশেই দায়ী। পুরো ম্যাচে তারা সাতটি রানআউটের সুযোগ নষ্ট করেছে। পাকিস্তান যুব অধিনায়ক হাসান খান বলেন, দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ব্যাটসম্যানরা মোটেই ভাল খেলতে পারেনি। শুরু থেকে কোন কিছুই আমাদের অনুকূলে ছিল না। আমরা বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেছি। মোট কথা আমরা কোন দিক থেকেই সঠিক পথে ছিলাম না।’ ভারতকে দারুণ সূচনা এনে দেন উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যান পৃথ¦ী শাহ ও মানজাত কালরা। উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৮৯ রান। পৃথ¦ী ৪১ ও কালরা করেন ৪৭ রান। তাদের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন শুবম্যান গিল। এক প্রান্ত ধরে খেলে তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। অপর প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারানোয় ২৭২ রানে থামে ভারতের ইনিংস। সর্বোচ্চ ১০২ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন ওয়ান ডাউনে নামা শুবম্যান। বল হাতে পাকিস্তান যুবাদের হয়ে ৪টি উইকেট নেন মোহাম্মদ মুসা। ৩টি উইকেট পান আরশাদ ইকবাল। জয়ের জন্য ২৭৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান শুরু থেকেই ছিল ছন্নছাড়া। প্রতিপক্ষ বোলাদের বোলিং তোপে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে আসা-যাওয়ার মাঝে ২৯.৩ ওভারে মাত্র ৬৯ রানে অলআউট হয় দলটি। সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন রোহাইল নাজির। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ করেন সাদ খান। ফাইনালে দুই হেভিওয়েট দলের লড়াইটা যে বেশ জমাট হবে তা সহজেই অনুমেয়। দুটি দলই তিনবার করে বিশ্বকাপের শিরোপা দখল করেছে। ২০১২ সালে ভারত ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবারের টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা ভারত আগের পাঁচ ম্যাচে দাপটের সঙ্গে জয় তুলে নিয়েছে। এর মধ্যে গ্রুপপর্বে অস্ট্রেলিয়াকে ১০০ রানে পরাজিত করেছিল। অস্ট্রেলিয়াও কম যায়নি, কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১ রানের জয়টা ছিল দুর্দান্ত। ওই ম্যাচে লেগ স্পিনার লয়েড পোপ ৯.৪ ওভারে ৩৫ রানে ৮ উইকেট দখল করে অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়েন।

পেন্টাগনের নয়া আফগান নীতি

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন আফগানিস্তান সম্পর্কিত নীতি পরিবর্তন করতে যাচ্ছে। এই নীতি অনুসারে দেশটির কতটুকু অংশ আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণে আর কতটুকু তালেবানের নিয়ন্ত্রণে তা প্রকাশ করা হবে না। ১৬ বছর আফগান যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত এই তথ্য প্রকাশ করে আসছে। এএফপি স্পেশাল ইনস্পেক্টর জেনারেল ফর আফগানিস্তান রিকন্সট্রাকশনের (এসআইজিএআর) দফতর মঙ্গলবার জানিয়েছে, আফগানিস্তানে তালেবান নিয়ন্ত্রিত অংশের তথ্য প্রকাশ না করার জন্য পেন্টাগনকে বলা হয়েছে। এর মধ্যে আফগানিস্তানের কয়টি জেলা কার নিয়ন্ত্রণে এবং এই জেলাগুলোর লোকসংখ্যা কত সে তথ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। তালেবানের সঙ্গে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতার ব্যবধান তুলে ধরার জন্য পেন্টাগন সময় সময় এসব তথ্য প্রকাশ করত। স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল ফর আফগানিস্তান রিকন্সট্রাকশন জন সপকো তাদের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক রিপোর্টে বলেছেন, ‘আফগানিস্তান সম্পর্কিত এসব তথ্য প্রকাশ নানা কারণে সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে। তাই মার্কিন করদাতাদের উদ্বেগ না বাড়ানোর জন্য এসব গোপন তথ্য আর প্রকাশ না করার জন্য পেন্টাগনকে বলা হয়েছে। গত বছর দেশটিতে বিভিন্ন হামলায় প্রচুর সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হওয়ার পর সেখানে এই তথ্য প্রকাশ না করার জন্য কাবুল সরকার ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ করেছিল। এসআইজিএআর জানিয়েছে, পেন্টাগন ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ও তালেবান নিয়ন্ত্রণাধীন নিরাপত্তা এলাকার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আফগানিস্তানে মার্র্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জন নিকলসন বলেছেন, বর্তমানে দেশটির দুই-তৃতীয়াংশের কম ভূখ-ের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আগামী দুবছরের মধ্যে ৮০ শতাংশ জায়গা কাবুল সরকারের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে। তবে এই লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে কি না তা নজরদারির জন্য এ সম্পর্কিত তথ্যগুলো প্রকাশ করা প্রয়োজন। এসআইজিএআর এই সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু করার পর থেকে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিমাণ কমেছে। অন্যদিকে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিমাণ বেড়েছে বলে সপকো জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এরচেয়েও উদ্বেগের বিষয় হলো এ সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। তালেবান ও ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গী গ্রুপগুলো গত কয়েক মাসে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের ওপর হামলা বাড়িয়েছে। আফগান এ বাহিনীগুলোর অবস্থা বর্তমানে বেশ শোচনীয়। শনিবার তালেবান জঙ্গীদের আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় রাজধানী কাবুলের ব্যস্ততম জায়গায় অন্তত ১০৩ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। বিস্ফোরক বোঝাই এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে তারা ওই হামলা চালায়। এই ঘটনায় আহত হয়েছে ২৩৫ জন। হতাহতের বেশিরভাগই বেসামরিক লোকজন। ওই এলাকায় বিগত অনেক বছরের মধ্যে এমন হামলার ঘটনা আর ঘটেনি। সোমবার কাবুলের একটি সেনাঘাঁটিতে বন্দুকধারীদের আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়। ২১ জানুয়ারি কাবুলের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অতর্কিত জঙ্গী হামলায় ২২ জন নিহত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার পর দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তালেবান উৎখাতে আফগানিস্তানে যুদ্ধ শুরু করেন। ২০১৪ সালে ওই যুদ্ধ শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী এখনও সেখানে রয়ে গেছে। তারা আফগান সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। গত বছর জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে সৈন্য সংখ্যা সাড়ে ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৪ হাজারে উন্নীত করেন।

রাশিয়া মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করতে পারে। চলতি বছর নবেম্বরে কংগ্রেসের এই মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো এটিও পুরোপুরি রুশ হস্তক্ষেপ মুক্ত থাকবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। বিবিসি। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে সিআইএর পরিচালক মাইক পম্পেও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নির্বাচন ব্যবস্থা টার্গেট করে রাশিয়ার তৎপরতা আগের মতোই আছে। এটি কমার কোন লক্ষণ এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেছেন আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল, মার্কিন গোয়েন্দা মহল এ বিষয়ে মোটামুটি নিশ্চিত। পম্পেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেশিরভাগ দিন সর্বশেষ গোয়েন্দা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করে থাকেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত নন, সম্প্রতি এ রকম একটি কথার গুঞ্জরণ শোনা যাচ্ছে। তবে পম্পেও একে ‘নির্বোধের মতো কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের অধীনে সিআইএ পরিচালক হিসেবে নিজের করণীয় সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন রয়েছেন পম্পেও। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সেরা গোয়েন্দা সংস্থা। আমাদের কি করতে হবে সেটি আমরা জানি এবং আমেরিকার জনগণের পক্ষে সেই দায়িত্ব আমরা পালন করে যাব। এক বছর দায়িত্ব পালন শেষে পম্পেও বলেন, সিআইএকে ভারমুক্ত রাখতেই তিনি সব সময় চেষ্টা করেছেন।’ বর্তমান সময় গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে সিআইএর কাজের ধরণে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এক সময় এই সংস্থাটিকে কাজ করতে হত কেবল সামরিক গোয়েন্দা সংগ্রহের জন্য। কিন্তু এখন রাজনৈতিক প্রয়োজনেও তাদের মাঠে থাকতে হচ্ছে। রাজনৈতিক বিতর্কগুলো সমাধানে এখনও সিআইএকে কাজে লাগানো হচ্ছে। সন্ত্রাস দমন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে সিআইএর সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আছে উল্লেখ করে পম্পেও বলেন, গত বছর সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি হামলার ঝুঁকি নস্যাত করতে তার ভূমিকা রাখেন। এসব সত্ত্বেও রাশিয়ার আচরণ বৈরিতামূলক বলে তিনি মনে করেন। পম্পেও বলেন, ‘আমি মনে করি না আমাদের প্রতি রাশিয়ার বৈরি আচরণ একটুও কমেছে।’ এ বছর নবেম্বরে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও রাশিয়ার নাক গলানোর আশঙ্কা আছে কি না এমন এক প্রশ্নের উত্তরে পম্পেও বলেন, ‘অবশ্যই, আমি আশঙ্কা করি তারা এতে হস্তক্ষেপের সব রকম চেষ্টাই করবে। তবে আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে পারব বলে আমি আশাবাদী’। তিনি জানিয়েছেন, রুশ হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা প্রতিরোধের জন্য সিআইএ এখন কাজ করে যাচ্ছে। যদিও এটি সিআইএর মিশনের মধ্যে পড়ে না।

সকল বিত্তশালীদের জন্য ইতিহাসে এই রাজার সকরুন ইতিহাস হতে পারে সবচেয়ে বড় উদাহরন !

আজ যে রাজা কাল সে ফকির’! অনেক গল্পেই এমনটা শুনেছি আমরা। তবে সেসব গল্প বেশ আগের। বাস্তবে এমন ঘটনা চোখে পড়েনা খুব একটা । এবার সেই পুরোনো কথার সত্যতা মিললো বাস্তবের ঘটনায়। এক সময় তার ছিল ২৫টি গাড়ি ও ৩০ জন দাসী। অন্যান্য বহু কর্মচারীওরাজার সেবায় সর্বদা নিয়োজিত ছিল। তবে এভাবে তার সমগ্র জীবন কাটেনি। এক পর্যায়ে সবকিছু হারিয়ে তিনি বাস্তবেই ভিক্ষুক হয়ে পড়েছিলেন। বেঁচে ছিলেন গ্রামবাসীর দয়া দাক্ষিণ্যে। ভারতের ওড়িশার ওই রাজার মৃত্যু হয় প্রায় দেড় বছর আগে। অজ্ঞাত কারনেই সেসময় খবরটি চাউর হয়নি মিডিয়ায়। কেও কেও দাবি করছেন , এতটাই লোকচক্ষুর আড়ালেই চলে গিয়েছিলেন যে, মৃত্যুর খবরটিও পায়নি কেওই। তার প্রথম জীবন কেটেছিল আমোদ প্রমোদ বিলাসিতায়  কিন্তু শেষ জীবনে ভরসা ছিল গ্রামবাসীদের দেওয়া চাল ডাল। ভারতের একটি দৈনিকে ও দ্যা টেলিগ্রাফে প্রকাশিত খবরে উঠে এসেছে রাজার সকরুন ইতিহাস ।ইতিহাস তৈরি করা এই রাজার নাম ব্রজরাজ ক্ষত্রিয় বীরবর চমুপতি সিং মহাপাত্র। জন্ম ১৯২১ সালে। ব্রিটিশ ভারতের ওড়িশার রাজ্য স্টেট তিগিরিয়ায়। কলিঙ্গ থেকে ওড়িশায় পরিবর্তিত পর্বে টিকে ছিল ২৬ টি প্রিন্সলি স্টেট। এর মধ্যে সব থেকে ছোট তিগিরিয়া। ১২৪৫ খ্রিস্টাব্দে রাজস্থানের সোম বংশীয় শাসকদের একটি শাখা এসেছিল ওড়িশায়। প্রতিষ্ঠা করেছিল টুং রাজবংশ। প্রথমে পুরীর রাজার অমাত্য‚ পরে তিগিরিয়া স্টেটের শাসক হয়ে ওঠেন তাঁরা। সেই বংশেই জন্ম রাজা ব্রজরাজের। ভারতবর্ষে রাজতন্ত্র লোপ পাওয়ার আগে তিগিরিয়ার শেষ নৃপতি। তাঁর সেবায় অপেক্ষা করত ৩০ জন দাসী। দাঁড়িয়ে থাকত ২৫ টি বিলাসবহুল গাড়ি। ভারতের স্বাধীনতার পরে ভরসা ছিল বার্ষিক ভাতা। যিনি একসময় অনায়াসে মেরেছেন ১৩ টা বাঘ ও ২৮ টা লেপার্ড‚ সেই বারুদের গন্ধমাখা হাত পাততে হতো সরকারি দরবারে। সামান্য কিছু টাকার জন্য। মাসে এক হাজারেরও কম টাকা। শোনপুরের রাজকন্যা রসমঞ্জরী দেবীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু একসময় স্ত্রী‚ ছয় সন্তান সবাই একে একে নিজেদের জীবন থেকে বিছিন্ন করে তাঁকে। বিয়ে ভাঙার পরে রসমঞ্জরী রাজনীতিতে এসে হয়ে যান বিধায়ক। আর  ব্রজরাজ ডুবে যান নিদারুণ দারিদ্র্যে। অভাবে জেরবার হয়ে ১৯৬০ সালে বিক্রি করে দিলেন প্রাসাদ। তারপর সন্তানদের নিয়ে চলে গেলেন স্ত্রীও। ১৯৭৫ সালে বন্ধ হয়ে গেল সরকারি ভাতা। এরপর থেকে বেঁচে ছিলেন গ্রামবাসীদের দয়া-দাক্ষিণ্যে। মাটির বাড়িতে কাটতো দিনরাত । অতীতের প্রজাদের দেওয়া ভাত ডাল সামনের থালায়। মিটত রাজার খাবারের ক্ষুধা।একসময় তাকে ভুলে যান কাছের মানুষেরাও। রাজার নাকি অভিমান ছিলো প্রচন্ড এই জীবন নিয়ে । অনেক কাছের মানুষ থাকলেও তিনি আত্মগোপন করেছিলেন’ আত্মসম্মানের কারনেই’ । চরম অর্থকষ্টে রোগশয্যায় কেটেছিল শেষ কটা দিন। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ৯৪ বছর বয়সে প্রয়াত হন রাজা থেকে ফকির হওয়া ব্রজরাজ। হারিয়ে যান এভাবেই এই রাজা।


বয়স তাঁর ২৫৬ বছর বিয়ে করেছেন ২৩ বার আর সন্তান ২০০ জন!

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী মানুষটির বয়স কত ছিল? ইতিহাস ঘাঁটলে কিছু তথ্য তো মিলবেই। কিন্তু লি চিং ইউয়েনের নাম কি কখনো শুনেছেন? অবিশ্বাস্য ঠেকবে যদি বলা হয়, এই মানুষটি ২৫৬ বছর বেঁচেছিলেন! আর এটা কোনো লোককথা বা কিংবদন্তি নয়। ১৯৩০ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, চেংদু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর উ চুর-চেই গবেষণা করছিলেন চীনের রাজাদের পরিচালিত সরকারব্যবস্থার ইতিহাস নিয়ে। নথি-পত্রে মেলে যে, ১৮২৭ সালে লি চিং ইউয়েনকে ১৫০তম জন্মবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন প্রফেসর। পরবর্তিতে তিনি ১৮৭৭ সালে লিকে ২০০তম জন্মবার্ষিকীর শুভেচ্ছাও জানান। ১৯২৮ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ কর্মরত এ সাংবাদিক লিখেছেন, বেশ কয়েক জন বয়স্ক ব্যক্তি লি এর প্রতিবেশী ছিলেন। তারা নিজেরাই বলেছেন যে, তাদের দাদারাই লি-কে খুব চিনতেন। তখন নাকি রীতিমতো প্রাপ্তবয়স্ক এক মানুষ লি। এ খবর সবাই জানেন যে, বিস্ময়কর লি চিং মাত্র ১০ বছর বয়স থেকে হার্বাল বিজ্ঞানে হাত পাকাতে শুরু করেন। সেই উঁচু দুর্গম পাহাড়ে চলে যেতেন হার্বাল উদ্ভিদের খোঁজে। এগুলো নিয়ে গবেষণা করেই তিনি দীর্ঘায়ু লাভের গোপন মন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন। প্রায় ৪০ বছর তিনি কেবল হার্বাল উদ্ভিদে প্রস্তুত খাবার খেয়েই বেঁচে ছিলেন। তার খাদ্য তালিকায় ছিল লিংঝি, জোজি বেরি, বুনো জিনসেন, শু উ আর গোটু কোলার মতো হার্বাল। ১৭৪৯ সালে বয়স তার ৭১। চাইনিজ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন মার্শাল আর্টস এর শিক্ষক হিসাবে। বলা হয়, সেখানে তিনি দারুণ জনপ্রিয় এক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন। বিয়ে করেছিলেন ২৩ বার। প্রায় ২০০ সন্তানের জনক তিনি। তার জন্মস্থানে অনেক গল্প প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই বলেন, লি নাকি সেই ছোটকাল থেকেই খুব দ্রুত পড়তে ও লিখতে শেখেন। দশম জন্মদিনের আগেই ভ্রমণ করেছিলেন কানসু, শানসি, তিব্বত, আনাম, সিয়াম আর মাঞ্চুরিয়া। এসব অঞ্চল চষে বেড়িয়েছেন হার্বাল উদ্ভিদ সংগ্রহে। জীবনের প্রথম শত বছর পর্যন্ত তিনি নাকি হার্বালের গবেষণা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। তিনি একা নন! লি এর এক শিষ্য তো আরো মারাত্মক তথ্য দিচ্ছেন। ৫০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন এমন মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার দাবিও তিনি করছেন। সেই মানুষটি তাকে কুইগং পদ্ধতির ব্যায়াম আর খাবার নিয়ে অনেক পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে এই দাবি কতটা সত্য তা নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলবে। লি চুং এর বিষয়টি মানুষ দারুণ বিশ্বাস করে। এই দীর্ঘ জীবনের রহস্য কী? এক সময় লি`র কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তার দীর্ঘায়ুর রহস্য সম্পর্কে। তিনি বলেছিলেন, হৃদযন্ত্রটাকে শান্ত রাখুন। একেবারে কচ্ছপের মতো বসে থাকুন, কবুতরের মতো হাঁটুন আর কুকুরের মতো ঘুমান। এর সঙ্গে দেহ-মন-প্রাণের অভ্যন্তরের শান্তির জন্য তিনি শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত কিছু কৌশলের চর্চা চালাতেন। এসব করেই তিনি শিখেছিলেন দীর্ঘ জীবন লাভের সত্যিকার কৌশল। বিশ্বাস করা সত্যিই কঠিন পশ্চিমে মানুষের গড় জীবনকাল ৭০-৮৫ বছরের মধ্যেই থাকে। কেউ শত বছর বেঁচে আছেন শুনলে বেশ অবাক লাগে। কিন্তু কেউ একজন ২০০ বছরের বেশি জীবনকাল পার করেছেন শুনলে তা কি আর বিশ্বাস হয়? এমন দীর্ঘায়ুর কথা বিশ্বাস না হওয়ার কারণ কী হতে পারে? মানুষের জীবনের নানা টেনশন, মানসিক চাপ, পরিবেশ দূষণ- সব মিলিয়ে আয়ু তো দিন দিন কমে যাচ্ছে। মানুষ নিয়মিত শরীরচর্চাও করে না। খাদ্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও তারা সচেতন নয়। মানুষ হন্যে হয়ে পাহাড় চষে হার্বাল উদ্ভিদ বের করে আনে না। এসব খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টাও করে না। শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত বিশেষ কৌশলের চর্চাও করে না। তবুও লি চিং কোনো মিথলজি নয় বলেই শক্তপোক্ত প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। নথি-পত্র ঘাঁটলেও তার আয়ুষ্কাল সম্পর্কে ধারণা মেলে। সত্যিই এই মানুষটি ২৫৬ বছর বেঁচেছিলেন

শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তুলতে নিয়মিত পেঁপে খান

একটু খেয়াল করে দেখুন কী ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্যেই না বেঁছে আছি আমরা। একদিকে বাঁড়ছে বিষ ধোঁয়া। ফলে ফুলফুসের কর্মক্ষমতা যাচ্ছে কমে। অন্যদিকে স্ট্রেস বাড়াচ্ছে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। এখানেই শেষ নয়, এমন পরিস্থিতিতে যেখানে আমাদের নিজেদের খেয়াল রাখার প্রয়োজন বেড়েছে, সেখানে এই কাজটা মন দিয়ে না করে উল্টে জাঙ্ক ফুড খেয়ে কমাচ্ছি আয়ু। এখন প্রশ্ন হল এমন পরিস্থিতিতে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার উপায় কী? গবেষণা বলছে যখন শরীর প্রতি মুহূর্তে ভয়ানক ধাক্কা খাচ্ছে, তখন শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে। আর এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে পেঁপে, বিশেষত পেঁপের রস। কেন, রোজ এই ফলটি খেলে কী হতে পারে? বেশ কিছু স্টাডি অনুসারে পেঁপের অন্দরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং মিনারেল, যা নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। তাই তো সেই প্রাচীন কাল থেকে নানা রোগের চিকিৎসায় কাজে লাগানো হয়ে থাকে এই ফলটিকে। আর বর্তমানে আমরা সবাই যে ধরনের পরিবেশের মধ্যে শ্বাস নিচ্ছি, তাতে সুস্থ থাকতে বাস্তবিকই পেঁপের রস খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। গবেষণা বলছে নিয়মিত এক গ্লাস করে পেঁপের রস খেলে শরীরের অন্দরে ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি দূর হওয়ার পাশাপাশি পেপেইন নামক এক ধরনের উপকারি এনজাইমের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা নানাবিধ শারীরিক সমস্যার হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে। যেমন ধরুন... ১. ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে এই ফলটির অন্দরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, পেঁপেতে আরেকটি উপকারি উপাদান রয়েছে, যা লাইকোপেন নামে পরিচিত। এই উপাদানটিও ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ২. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায় প্রতিদিনের ডায়েটে পেঁপের রসকে অন্তর্ভুক্ত করলে শরীরে পেপেইনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এই উপাদানটি ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্কিন সুন্দর হয়ে উঠতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, নিয়মিত মুখে পেঁপের প্যাক লাগালেও সমান উপকার পাওয়া যায়। তাই বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বক বুড়িয়ে যাক, এমনটা যদি না চান, তাহলে পেঁপের সঙ্গে নিতে ভুলবেন না যেন! ৩. গ্যাস্ট্রিক সমস্যাকে দূরে রাখে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, পেপেইন হল এমন একটি উপাদান, যার মাত্রা শরীরে বাড়তে শুরু করলে পাকস্থলির কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে পাঁচক রসের ক্ষরণ এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে কোনো ধরনের পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, পেঁপেতে কার্পেইন নামেরও একটি উপাদান রয়েছে, যা নানাবিধ গ্যাস্ট্রিক সমস্যাকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ৪. কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার প্রকোপ কমায় পেঁপের রসে উপস্থিত ফাইবার, শরীরে প্রবেশ করার পর বর্জ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগের কষ্ট কমতে শুরু করে।  ৫. স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত পেঁপে খাওয়া শুরু করলে শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্ট্রোকের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। এই কারণেই তো হাই ব্লাড প্রেসারে আক্রান্ত রোগীদের প্রতিদিনের ডায়েটে পেঁপের রস খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। ৬. ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ে বায়ু দূষণের মাত্রা এত মাত্রায় বাড়ছে যে, সবারই ফুসফুসের কর্মক্ষমতা কমছে। ফলে বাড়ছে নানাবিধ রেসপিরেটরি প্রবলেমে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত পেঁপের রস খাওয়া শুরু করলে দারুন উপাকার পাওয়া যায়। কারণ এই ফলটির অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান ফুসফুসের অন্দরে সৃষ্টি হওয়া প্রদাহ কমায়। ফলে লাং-এর কোনো ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে। ৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায় শীতকালে শরীর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেড়ে যায়। কেন এমনটা হয় জানেন? কারণ এই সময় নানা কারণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নানাবিধ রোগ শরীরে এসে বাসা বাঁধে। তাই এই ঠান্ডায় যদি সুস্থ থাকতে চান, তাহলে নিয়মিত পেঁপের রস খেতে ভুলবেন না যেন! কারণ এই ফলটি, শরীরের অন্দরে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই দুটি ভিটামিন, ইমিউন সিস্টেমকে এত মাত্রায় শক্তিশালী করে তোলে যে রোগভোগের আশঙ্কা কমে।

পিএসসি'র অধীনে নার্স নিয়োগ পুনঃপরীক্ষা ৯ ফেব্রুয়ারি

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এর অধীনে ৪ হাজার ৬শ’ সিনিয়র নার্স নিয়োগের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়া সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগে পুনঃপরীক্ষা ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি লিখিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্র নির্বাচনের কাজ করা হচ্ছে। আগামী দুই একদিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে। নার্স নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিএসসির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত বছরের ৬ অক্টোবর সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় গত ৮ অক্টোবর রাতে পরীক্ষা বাতিল করে সংস্থাটি। পিএসসি’র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (নন-ক্যাডার) শেখ সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, অনিবার্য কারণবশত সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ পদে পরীক্ষার তারিখ ও সময় জানানো হবে। বাতিল পরীক্ষা পুনঃগ্রহণ প্রসঙ্গে পিএসসির তথ্য কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, স্থগিত হওয়া পিএসসির অধীনে নার্সের লিখিত পরীক্ষা পুনরায় নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। প্রসঙ্গত, সিনিয়র নার্স পদটিকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার পর থেকে পিএসসির মাধ্যমে এ পদে নিয়োগ পরীক্ষা হয়। এতে উত্তীর্ণদের সরাসরি মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। গত ৬ অক্টোবর রাজধানীর ১২টি কেন্দ্রে ১৬ হাজার ৯০০ জন নার্স এ পরীক্ষায় অংশ নেন। এখান থেকে ৪ হাজার ৬০০ জনের নিয়োগ পাওয়ার কথা ছিল।

তামান্নাকে জুতা ছুঁড়ে মারলেন ভক্ত

কোথায় সুন্দরী নায়িরকাকে ভালোবেসে ফুল ছুঁড়ে মারার কথা, কিন্তু তা নয়। ভক্ত পা থেকে খুলে ছুঁড়ে মারলেন জুতা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এমনই এক কাণ্ড ঘটেছে অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার সঙ্গে৷ জানা গেছে, সম্প্রতি হায়দরাবাদে একটি অলংকারের দোকানের উদ্বোধনে গিয়েছিলেন তামান্না ভাটিয়া ৷ নায়িকাকে একনজর দেখার জন্য প্রচুর লোক সমাগম ঘটে৷ উপস্থিত ছিলেন তামান্নার অন্ধ ভক্ত করিমুল্লাও! এই করিমুল্লাই জুতা ছুঁড়ে মারেন তামান্নাকে! অবশ্য তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তা এরকম কাণ্ড ঘটালেন কেন করিমুল্লা?করিমুল্লা সাংবাদিকদের জানান, ‘আমি তামান্নার অন্ধ ভক্ত ৷ কিন্তু বর্তমানে তামান্না যা করছেন তা একেবারেই ঠিক নয় ৷ দক্ষিণী ছবি ছেড়ে বলিউড নিয়েই মাথা ঘামাচ্ছেন সবচেয়ে বেশি ৷ আর যেটা আমার একেবারেই ভালো লাগে না ৷ অভিযুক্ত বলেন, আর এজন্য জুতা ছুঁড়ে মেরেছি তামান্নাকে!’ জানা গেছে, করিমুল্লার ছুঁড়ে মারা জুতা অল্পের জন্য লাগেনি তামান্নার গায়ে! ঘটনার পরেই তামান্না সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় নিরাপদ স্থানে।

বিবাহিত নন, লিভ ইন রিলেশন নুসরাতের!

কলকাতার নায়িকা নুসরাত জাহান বিবাহিত এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এ সময়ে টালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত জাহান কয়েক বছর আগেই নাকি বিয়ে করেছেন। ভারতের একটি বহুল প্রচারিত দৈনিকের অনলাইন ঘনিষ্ঠ সূত্রের মাধ্যমে জানায়, পাত্রের নাম ভিক্টর ঘোষ, জামশেদপুরের ছেলে ভিক্টর, সিভিল অ্যাভিয়েশনে চাকরি করেন। নুসরাত ও ভিক্টর অবশ্য জনসমক্ষে লিভ ইন রিলেশনশিপে আছেন বলে স্বীকার করেন। তবে বিয়ের কথা স্বীকার করেননি। ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণে নুসরাত বিয়ের কথা স্বীকার করছেন না বলে ধারণা করছেন অনেকে। তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও বিয়ের কথা জানে। এমনকি, নুসরাতের বুকে ভিক্টরের নামের একটি ট্যাট্যুও রয়েছে। রাজ চক্রবর্তীর ‘শক্র’ ছবি দিয়ে টালিউডে আত্মপ্রকাশ হয় নুসরাতের। তারপর একের পর এক ছবিতে সফল হন। ছবির শুটিংয়ের জন্য তাকে বিদেশ যেতে হত। তখন থেকেই ভিক্টরের সাথে তার পরিচয়।

কামাল উদ্দিনের পুত্রদের আর্থিক সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বৈরী সাক্ষী প্রয়াত কামাল উদ্দিন আহমদের দুই অসুস্থ পুত্র ও এক কন্যাকে ৯০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রয়াত কামাল উদ্দিনের দুই পুত্র কামরুল হাসান আহমেদ ও খায়রুল হাসান আহমেদ এবং কন্যা মেহের নিনি কামাল প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেক অনুদানের এই চেক গ্রহণ করেন। -খবর বাসসর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নৌ-উপদেষ্টা কামাল উদ্দিন জিয়াউর রহমানের শাসনামলে মারাত্মকভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন এবং কারাভোগ করেন। পরে তিনি শারীরিক যন্ত্রণায় কাতর হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

বিনিয়োগ সহায়ক মুদ্রা নীতি ঘোষিত হলো

বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে বেসরকারী খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার দুপুরে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গবর্নর ফজলে কবির ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জানুয়ারি-জুন সময়ের এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। ‘সরকারী অর্থায়নে ব্যাংক ঋণের ব্যবহার কমে যাওয়ায়’ বেসরকারী খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন গবর্নর। এদিকে ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডিআর যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ফজলে কবির। তবে এ অনুপাত কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে আগামী জুন মাস পর্যন্ত ব্যাংকগুলোকে সময় দেয়া হবে। মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে তিনি বলেন, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারী খাতের ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জানুয়ারি থেকে জুন সময়ের মধ্যে এ খাতে ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে সরকারী খাতে ঋণের প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারী খাতে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হলেও চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শুরু থেকেই বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়তে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসেবে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারী খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্র্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতে বেসরকারী খাতে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসেবে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারী খাতে ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৯ শতাংশে উঠেছে। অন্যদিকে নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারী ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্র আগের মতোই ১৫ দশমিক ৮ শতাংশে স্থির রাখা হয়েছে। নির্বাচনী বছরকে সামনে রেখে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সরকারী খাতে ঋণ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়তে পারে অর্থনীতিবিদদের এমন মতামতকে ‘সমর্থন’ করেই ঋণ প্রবাহের সীমাটা না কমিয়ে উল্টো বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গবর্নর বলেন, অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতির কারণেই বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘকাল বিরাজমান প্রবৃদ্ধি স্থবিরতা কাটিয়ে ব্যাপক-বিস্তৃত গতিশীলতা ফিরেছে। সেই সাথে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও উৎপাদন কর্মকা-ের মূলধনী যন্ত্রাদি ও উৎপাদন উকরণাদি আমদানির জোরালো প্রবৃদ্ধি এসেছে। এ সময়ে বেসরকারী খাতে ঋণের প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক দুই শতাংশ ছাড়িয়ে ১৮ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগ ও উৎপাদন কর্মকা-ে আসা অনেকটা আকস্মিক এ জোরালো গতিবেগ দেশজ প্রবৃদ্ধির জন্য বেশ ইতিবাচক। তবে প্রবৃদ্ধির এই জোরালো গতিবেগ বজায় রাখার স্বার্থেই মূল্যস্ফীতির চাপ ও বৈদেশিক লেনদেনে স্থিতিশীলতার ওপর চাপের বাড়তি ঝুঁকি কমিয়ে সহনীয় মাত্রায় আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিনিয়োগ ও উৎপাদন কর্মকা-ে প্রবৃদ্ধি গতিশীলতা বজায় রাখতে দ্বিতীয়ার্ধে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবাহে সংকোচন আনা হচ্ছে না। গবর্নর বলেন, জুন মাস পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবাহে বেসরকারী খাতের ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িয়ে এবার ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র মতে, আগের মুদ্রানীতিতে চলতি ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারী খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক দুই শতাংশ। আর আগামী জুন পর্যন্ত এ খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক তিন শতাংশ। এদিকে ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডিআর যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবির। তবে এই অনুপাত কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে আগামী জুন মাস পর্যন্ত ব্যাংকগুলোকে সময় দেয়া হবে। তবে কোন ধরনের ব্যাংকে এডিআর হার কত হবে তা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলে জানান গবর্নর। গবর্নর ফজলে কবির বলেন, আমরা ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডি রেশিও যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের জন্য একটি গাইড লাইন মেনে করি। এবারও সেই গাইড লাইন মেনে এ রেশিও নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সার্বিক অবস্থা, এনপিএলসহ (নন পারফরমিং লোন) বেশকিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ২০টি প্রচলিত ধারার ব্যাংক তাদের ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডিআর এর সীমা অতিক্রম করেছে। আমরা তাদের সীমার মধ্যে আসার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। যাতে আগামী ৬ মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক অবস্থানে আসতে পারে। তার মতে, ব্যাংকগুলো আমানত বাড়ানোর মাধ্যমে এটি করবে বলে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না। এসময় ডেপুটি গবর্নর এসকে সুর চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডিআর অনেক কম। কারণ তারা কোয়ালিটি ঋণের দিকে যাচ্ছে। তবে এসব ব্যাংক এডিআর হার বাড়াবে বলে মনে করেন তিনি। মূলত ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আমানত নিয়েই ঋণ বিতরণ করে। এতে সাধারণ ধারার ব্যাংক ১০০ টাকা আমানত সংগ্রহ করলে; তার সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করতে পারে। এক্ষেত্রে ইসলামী ধারার ব্যাংক আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে ৯০ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে। তবে সম্প্রতি বেশিরভাগ বেসরকারী ব্যাংকেরই এডিআর সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এতে ওই সব ব্যাংক ১০০ টাকার মধ্যে ৯০ টাকাই ঋণ বিরতণ করছে। এতেই সৃষ্টি হয়েছে তারল্য বা নগদ টাকার সঙ্কট। চুরি যাওয়া রিজার্ভের অর্থ ফেরতের বিষয়ে জানতে ফজলে কবির বলেন, মোট চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত ফেরত এসেছে ১৪ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এর বাইরে ৫০ মিলিয়ন ডলার ফেরত আসার বিষয়ে আদালতের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। তিনি বলেন, এক দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার (১২ লাখ ডলার) বাংলাদেশ ব্যাংকে ফেরত আসার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া আরও ছয় মিলিয়ন ডলার আসার ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এ ছয় মিলিয়ন ডলার আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিআইডির একটি দল আজ রাতে (সোমবার) ফিলিপাইনে যাচ্ছে। নতুন ব্যাংকের অনুমোদনে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন গবর্নর ফজলে কবির। তিনি বলেন, নতুন ব্যাংক আসা বন্ধ করার কারণ নেই। তবে আমি এটা বলছি না যে, নতুন ব্যাংক আমরা হঠাৎ করে ইউটার্ন করে নিচ্ছি। তা মোটেও নয়। আমরা সেটা অবশ্যই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। গবর্নর বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যদি আমরা দেখি বা বোর্ড যদি মনে করে সেটা হবে না, তবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটা কোনোভাবে রোধ করা যায় না। ফজলে কবির বলেন, চতুর্থ প্রজর ব্যাংকের অবস্থা খুব ভাল যাচ্ছে না। দুই একটা ব্যাংকের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটছে। অনেক সময় মার্জারের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু করার নেই। গত বছরের শেষ দিকে ব্যাংক খাতে চরম অস্থিরতা দেখা যায়। শুরুটা ইসলামী ব্যাংক দিয়েই। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ সভায় পরিবর্তন আনা হয়। তারপর আর থামেনি। সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংকের মালিকানা নিয়ে অস্থিরতা লেগেই ছিল। বিশেষ আলোচনা ছিল রাজনৈতিক বিবেচনায় আসা ৯ ব্যাংক। আলোচনায় বাদ যায়নি ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধন, মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ আর বেসিক ব্যাংকের কেলেঙ্কারি। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদরা দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে এক করে দেয়ার পরামর্শ দেন। গবর্নর ফজলে কবির বলেন, ব্যাংকগুলোর মার্জারের বিষয়টি তাদের অপশন। এক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন অর্থাৎ দেশের বিদ্যমান আইনে এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কিছু করার নেই। বা সরকার থেকে করার কিছু নেই। তিনি বলেন, কোন ব্যাংকের সঙ্গে কোন ব্যাংক মার্জ হবে সে সিদ্ধান্ত তারাই নেবে। তারা চাইবে মার্জিং এর জন্য। এখনো এটার ক্ষেত্রে অন্য কোনো আইন নেই। কিছু কিছু ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। মূলধনের অপর্যাপ্ততা হয়েছে। কিছু বোর্ড বা মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। এ ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ব্যাপারে গবর্নর বলেন, মালিকানা পরিবর্তন তো হতেই পারে। এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিজনেসের স্বাভাবিক নিয়ম। একজন মালিক তার শেয়ার অন্যজনের কাছে বিক্রি করতেই পারে।

রমজান মাসে নামাজ না পড়ে শুধু রোজা রাখলে কি রোজা হয়?

মাহে রমজানসহ সারা বছরে আল্লাহর কাছে বান্দার আনুগত্য প্রকাশের সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা হলো নামাজ। একজন ইমানদার নারী-পুরুষের প্রধান করণীয় ইবাদত নামাজ প্রতিষ্ঠা করা। নামাজের সময় শরীরের শ্রেষ্ঠ অঙ্গ মাথা মাটিতে লুটিয়ে সিজদায় পড়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়।কারণ, নামাজ হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্যের প্রধান নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা যেসব ইবাদত ফরজ করে দিয়েছেন তন্মধ্যে সালাত অন্যতম। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার সালাত কায়েম করার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত দাও এবং যারা রুকু করে তাদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪৩) রমজান মাসে সব ফরজ ইবাদতের মধ্যে নামাজই সবচেয়ে অগ্রগণ্য। নামাজ ইমানকে মজবুত করে। নামাজের মাধ্যমেই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি_ কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত। প্রথম তিনটি গরিব-ধনী প্রাপ্তবয়স্ক সব মুসলমানের ওপর ফরজ। আর শেষের দুইটি সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর ফরজ। নামাজ ইসলামের দ্বিতীয় রুকন বা স্তম্ভ। ইমানের পরই নামাজের স্থান। নামাজ বারো মাসই আদায় করতে হয়। আর রোজা শুধু মাহে রমজানে ফরজ। একজন মুমিন মুসলমান বছরজুড়ে নামাজ আদায় করবেন_ এটাই স্বাভাবিক। এর পর যখন পবিত্র মাহে রমজানের আগমন ঘটবে, তখন নামাজ আদায়ের পাশাপাশি রমজানের রোজাগুলোও পালন করবেন। একজন রোজাদার শুধু রোজা রাখবেন, নামাজ পড়বেন না_ এমনটা কখনও কল্পনা করা যায় না। নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে প্রচুর আলোচনা রয়েছে। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘নামাজ বেহেশতের চাবি।’ চাবি ছাড়া যেমন তালাবদ্ধ ঘরে প্রবেশ করা যায় না; নামাজ কায়েম করা ব্যতীত তেমনি বেহেশতে যাওয়া যাবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘মুসলমান ও অমুসলমানের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ।’ অর্থাৎ মুসলমানরা নামাজ পড়েন আর অমুসলমানরা নামাজ পড়েন না। সে হিসেবে যারা নামাজ পড়ে না, তারা নিঃসন্দেহে কুফরিতে লিপ্ত। আর কাফেরের রোজা, জাকাত, হজ কিছুই আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। মুমিনের জন্য প্রথম কাজ হলো নামাজির খাতায় নাম লেখানো। কাজেই নামাজ ছাড়া সব আমলই বৃথা_ এ ব্যাপারে কারও কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। হাদিস শরিফে আছে, ‘এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা করার জন্য দুই কোটি আটাশি লাখ বছর জাহান্নামে থাকতে হবে।’ আর রোজার বেলায় যারা সেহরি খেয়ে সময় হওয়ার পূর্বেই রোজা ভেঙে ফেলে, তাদের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি একসময় ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ দুইজন আগন্তুক এসে আমার হাত ধরে টেনে তুলে একটি উঁচু পর্বতের কাছে নিয়ে বলল, উপরে উঠুন। আমি বললাম, আমি উঠতে পারি না। তারা বলল, আমরা আপনাকে সাহায্য করব। এর পর আমি পর্বতের চূড়ায় উঠলাম। সেখানে আমি আর্ত-চিৎকার শুনতে পেলাম। আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কিসের আওয়াজ? তারা বলল, এটা হলো জাহান্নামবাসীদের আর্তনাদ। আমাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হলো এবং আমি দেখলাম, কিছু মানুষকে পায়ে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, আর তাদের মুখের পাশ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। আমি বললাম, ওরা কারা? তারা বলল, এরা হলো তারাই, যারা রোজা রেখে সময় হওয়ার পূর্বেই রোজা ভেঙে ফেলত।’ তাহলে একবার চিন্তা করুন, সারাদিন রোজা রেখেও শুধু একটু গুরুত্ব না দেওয়াতেই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে যারা মোটেও রোজা রাখে না, তাদের অবস্থা কী হবে? আর যারা নামাজ ছাড়া শুধু রোজা রাখে, তাদের অবস্থাই বা কী হবে? মোটকথা হলো, নামাজ ছাড়া কোনো প্রকার ইবাদতেই কোনো কাজ হবে না; যদিও সেটা যত ভালো ইবাদতই হোক। তাই মাহে রমজানের পরিপূর্ণ সওয়াব পেতে হলে রোজা পালনের পাশাপাশি অবশ্যই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে।

যে সকল কারণে রোজা বা সাওম ভঙ্গ হয়

পবিত্র রমজান মাসে প্রায় সকল মুসলিমই মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্যে রোজা বা সাওম পালন করে থাকে। সুবহি সাদিক থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে সকল প্রকার পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকার নামই হচ্ছে সাওম বা রোজা। এ লেখায় রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ তুলে ধরা হলোঃ ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে ও ধূমপান করলে: রোজার রাখার অর্থ সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহারই নিষিদ্ধ। কিন্তু কেউ যদি রোজা থাকা অবস্থায় কোন প্রকার পানাহার বা ধূমপান করে তাহলে নিঃসন্দেহে তা রোজা ভঙ্গের একটি কারণ হবে। ডুবে ডুবে জল খাওয়ার মতো করে যদি কেউ সবার অজান্তে লুকিয়ে পানাহার করে সে ক্ষেত্রেও রোজা ভেঙ্গে যাবে। কারণ আর কেউ না দেখুক আল্লাহ তাআলা ঠিকই দেখছেন। তবে কেউ যদি অনিচ্ছাকৃত ভাবে পানি খেয়ে ফেলে বা অন্য কোন খাবার খেয়ে ফেলে তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না। খাওয়ার সময় যদি মনে পরে যে ব্যক্তি রোজা ছিলো তাহলে মুখের খাবার ফেলে দিতে হবে। এছাড়া যতটুকু অজান্তে খেয়ে ফেলেছে ততটুকুর জন্যে রোজা ভাঙ্গবে না। এ বিষয়ে নবী করিম (সা.) বলেছেন – ‘যদি কেউ ভুলক্রমে পানাহার করে তবে সে যেন তার সিয়াম পূর্ণ করে নেয়। কেননা আল্লাহ তায়ালাই তাকে এ পানাহার করিয়েছেন।’ (অর্থাৎ এতে তার রোযা ভাঙ্গেনি) – (বোখারিও মুসলিম শরিফ) অনেকেই মনে করতে পারেন ধূমপান তো পানাহারের মধ্যে পড়ে না। তাছাড়া ধূমপান করলে পেট ভরারও কিছু নেই তাই ধূমপান করা যাবে। এটা ভুল, ধূমপান করলেও রোজা সম্পুর্ণরূপে ভেঙ্গে যাবে। ধূমপানের আসক্তি বা নেশা ছেড়ে দেওয়ার জন্যে উপযুক্ত সময় হচ্ছে রমজান মাস। দীর্ঘ একমাস রোজা রাখার কারণে সারাদিনই মানুষ সিগারেট ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকে। যা এ ধরনের আসক্তি দূর করতে সাহায্য করে। ওযু করার সময় গড়গড়া করা যাবে না। আর নাকে পানি দেওয়ার সময় সাবধান থাকতে হবে যেন পানি ভেতরে চলে না যায়। ইচ্ছাকৃত ভাবে পানি ঢোকালে রোজা ভেঙ্গে যাবে, অনিচ্ছাকৃত হলে সেটা আলাদা। স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হলে: রোজা রাখা মানে শুধু পানাহার থেকে না, ইন্দ্রীয় তৃপ্তি থেকেও নিজেকে বিরত রাখা। সেই অর্থে রোজা থাকা অবস্থায় যদি কেউ সহবাস করে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এক্ষেত্রে তাকে কাজা ও কাফফারা দুটোই করতে হবে। কাফফারা আদায়ের নিয়ম হচ্ছে – কোনো মুসলিম দাস বা দাসী মুক্ত করে দেয়া। বর্তমানে যেহেতু দাস প্রথা নেই। ইসলাম ধাপে ধাপে দাস প্রথাকে উচ্ছেদ করেছে। তাই দাস-দাসী মুক্ত করে কাফফারা আদায় করার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে এক একটি রোজার পরিবর্তে দু মাস বিরতিহীন রোজা রাখতে হবে। বিরতিহীন রোজা পালন করতে গিয়ে সঙ্গত কারণ ছাড়া যদি বিরতি দেয়া হয়, তবে আবার নতুন করে দু মাস রোজা রাখতে হবে। যদি বিরতিহীন ভাবে দু মাস সিয়াম পালনের সামর্থ্য না রাখে তবে এক একটি রোজার পরিবর্তে ষাট জন অভাবী মানুষকে খাদ্য দান করতে হবে। প্রত্যেকের খাদ্য হবে এক ফিতরার সম পরিমাণ। ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে: ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়ে থাকে তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই। অনিচ্ছাকৃত বমি হলে, বমি করার পর সমস্ত মুখ ভালো করে পানি দিয়ে কুলি করে ধুয়ে নিতে হবে যেন মুখের কোথাও বিন্দুমাত্র খাবারের কণা জমে না থাকে। এ সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেন – ‘যে ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি করল তাকে উক্ত সিয়াম কাযা করতে হবে না। কিন্তু যে স্বেচ্ছায় বমি করল তাকে উক্ত সিয়াম অবশ্যই কাযা করতে হবে (আবূ দাউদ)। হস্তমৈথুন করলে: হস্তমৈথুন বা অন্য কোনভাবে যদি কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে বীর্যপাত ঘটায় তাহলে তা রোজা ভঙ্গের কারণ হবে। এক্ষেত্রে যদি কেউ কামভাবে স্ত্রীকে স্পর্শ করার মাধ্যমেও বীর্যপাত ঘটায় তাহলেও রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙ্গবে না। তবে স্বপ্নদোষ হয়েছে এমনটা বোঝামাত্রই ফরজ গোসল করে নিজেকে পবিত্র করে নিতে হবে।ঋতুস্রাব হলে: রোজা রাখা অবস্থায় যদি মহিলাদের মাসিকের রক্ত দেখা দেয় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। এমনিভাবে প্রসবজনিত রক্ত প্রবাহিত হতে থাকলে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে যে কয়টি রোজা নষ্ট হবে সে কয়টি পরে কাজা করে নিতে হবে। ইনজেকশন নিলে: ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করার জন্যে কিংবা অন্য কোন কারণে শরীরে ঔষুধ প্রবেশ করানো হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। যদি অবস্থা এমন হয় যে ইনজেকশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে ঔষুধ নিতেই হবে নয়তো বড়সড় কোন সমস্যা হয়ে যাবে সে ক্ষেত্রে কথা ভিন্ন। এ ব্যাপারে একাধিক মতামত রয়েছে। ইনজেকশন যদি এমন হয় যে তাহলে শরীরের বল বৃদ্ধি করবে (যেমন গ্লুকোজ) তাহলে সে জাতীয় ইনজেকশন ব্যবহারে রোজা ভেঙ্গে যাবে। কারণ খাবার যেই কাজ করে এক্ষেত্রে অনেকটা একই কাজ করছে এটি। তবে শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্যে যদি ইনজেকশন দেয়া হয় (যেমন ইনসুলিন, পেনিসিলিন) তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না। আরও কিছু কারণঃ দাঁতে আটকে থাকা ছোলা পরিমাণ বা তার চেয়ে বড় খাদ্য-দ্রব্য গিলে ফেললে, বমি মুখে আসার পর গিলে ফেললে, রাত্রি আছে মনে করে পানাহার করলো কিন্তু দেখা গেলো সুবহে সাদিক হয়ে গিয়েছে, মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর নিদ্রা হতে জাগরিত হলে। এসব ক্ষেত্রে রোজার কাজা করতে হবে। সুরমা ব্যবহার, চোখে বা কানে ঔষধ ব্যবহার করলে সিয়াম নষ্ট হয় না যদিও তার স্বাদ অনুভূত হয়। কোন কিছুর স্বাদ অনুভূত হলে সিয়াম ভঙ্গ হয় না। সিয়াম ভঙ্গ হওয়ার সম্পর্ক হল পানাহারের সাথে। কোন কিছুর স্বাদ পরীক্ষা করার কারণে সিয়াম ভঙ্গ হয় না, যদি না তা গিলে ফেলে। কোন কিছুর ঘ্রাণ নিলে সিয়াম ভঙ্গ হয় না। তবে ধুম জাতীয় ঘ্রাণ সিয়াম অবস্থায় গ্রহণ করবে না। যেমন আগরবাতি বা চন্দন কাঠের ধুয়া কিংবা ধুপ গ্রহণ করবে না। গর্ভবতী নারীর সন্তান বা নিজের প্রাণ নাশের আশঙ্কা হলে রোজা না রাখা বা ভঙ্গ করা বৈধ। তবে পরে কাজা আদায় করতে হবে। যে সব নারী তার সন্তানকে দুধ পান করান, রোজা রাখার ফলে যদি দুধ না আসে এবং এতে সন্তানের অসুবিধা হয় তবে রোজা না রাখার অনুমতি আছে। কিন্তু পরে কাজা আদায় করতে হবে। মুসাফির অবস্থায় রোযা না রাখার অনুমতি আছে। রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে রোজা পালনের তাওফিক দান করুন – আমিন।

১৫২ বছর পর দেখা যাবে 'সুপার ব্লু ব্লাড মুন'

১৫২ বছর পর 'সুপার ব্লু ব্লাড মুন' নামে পরিচিত চাঁদ দেখবে বিশ্ববাসী। ৩১ জানুয়ারি এ চাঁদ অবলোকন করা যাবে। 'সুপার ব্লু ব্লাড মুন'! কেমন অচেনা লাগছে তাই না? তবে এটিকে ভেঙে বললে বুঝতে সহজ হবে। 'সুপার', 'ব্লু', 'ব্লাড'। পৃথিবীর কক্ষপথের খুব কাছাকাছি যখন চাঁদ চলে আসে তখন এটিকে স্বাভাবিকের চেয়ে বড় দেখায়। তাই ওই চাঁদকে বলে সুপার মুন। ৩১ জানুয়ারি যে সুপারমুন দেখা যাবে সেটি স্বাভাবিক সময়ে চাঁদের চেয়ে ১৪ গুণ বেশি উজ্জ্বল হবে বলে জানিয়েছে নাসা। আর সুপারমুনের সঙ্গে ব্লু (নীল) শব্দটি জুড়ে দেয়া হয়েছে কারণ একই মাসে দুই বার সুপারমুন দেখা গেলে দ্বিতীয়টিকে ব্লু সুপারমুন বলা হয়। ২০১৮ সালের প্রথম দিনই প্রথম সুপারমুন দেখা গেছে। সেটিকে বছরের 'সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বল' বলে আখ্যা দিয়েছিল নাসা। মাসের শেষেও আরেকবার সুপারমুন দেখার সুযোগ মিলছে। প্রথমটির চেয়ে এটি আরও বেশি উজ্জ্বল। ব্লাড (রক্ত রঙের) শব্দটির কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। ৩১ জানুয়ারির চাঁদকে দেখতে লালচে ও তামাটে মনে হবে। তাই সুপার ব্লু মুনের সঙ্গে ব্লাড শব্দটি যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।১৮৬৬ সালের ৩১ মার্চ শেষ বার দেখা গিয়েছিল এ চাঁদ।

চাঁদে এবার যেভাবে মানুষ পাঠাবে নাসা

আবারো চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা। আগামী বছরের ডিসেম্বরেই কাজটি করতে চায় তারা। তবে এবার এপোলো মিশনের সম্পূর্ণ পৃথক এক কায়দায় চাঁদের মিশন সম্পন্ন করবে প্রতিষ্ঠানটি। এবার পৃথক প্রযুক্তিতে তৈরী ওরিওন স্পেস ক্যাপসুলের ভেতর মানুষ ভরে চাঁদের উদ্দেশে নিক্ষেপ করা হবে। নাসার দাবি, এই প্রযুক্তিতে ভবিষ্যতে মঙ্গলেও মানুষ পাঠাতে পারবে তারা। ইতিমধ্যে তারা মহাসাগরের মাঝে কয়েক দফা মহড়াও দিয়েছে। জানা গেছে, আগে নাসা মহাকাশে অভিযান চালাত স্পেস শাটলের মাধ্যমে। কিন্তু ২০১১ সালে স্পেস শাটল প্রোগ্রাম বন্ধ করে নতুন প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে তারা। যে ক্যাপসুলকে মানুষ বহনের কাজে ব্যবহার করা হবে সেটি কিভাবে চাঁদ পর্যন্ত পৌছাবে এ প্রশ্নে জবাবে নাসার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি এপোলো ক্যাপসুল থেকে বহুগুণে উন্নত মানের। একে একটি স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়া হবে। এরপর সিস্টেমটি চাঁদের দিকে উড়াল দেবে। চাঁদ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে গিয়ে সিস্টেমটি ওই ক্যাপসুলকে নির্দিষ্ট গতিপথে ছুড়ে মারবে। এরপর স্পেস লঞ্চ সিস্টেম আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবে। চাঁদ থেকে ক্যাপসুলটি ফিরে আসবে কিভাবে এ ব্যাপারে নাসা জানিয়েছে, যে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম ক্যাপসুলটিকে চাঁদে পৌঁছে দিয়ে পৃথিবীতে ফিরে এসেছিল সেটি আবার তাকে ফিরিয়ে আনতে যাবে। তবে এটি চাঁদের মাটিতে নামবে না। অনেক উপর থেকে আরেকটি লঞ্চার ছুড়ে দেবে। লঞ্চারটি চাঁদে উড়ে গিয়ে ওই ক্যাপসুলটিকে ধরে আবার ফিরে এসে স্পেস সিস্টেমে যুক্ত হবে। এরপর তারা পৃথিবীর দিকে রওনা হবে। পৃথিবী থেকে কয়েকশ’ কিলোমিটার উচুতে থাকা অবস্থাতেই লঞ্চারটি থেকে ক্যাপসুলটি মুক্ত হয়ে যাবে। এরপর একটি প্যারাস্যুট খুলে যাবে যেন ক্যাপসুলটি ধীরে ধীরে পৃথিবীতে এসে পড়ে। এমন স্থানে ক্যাপসুলটি ছাড়া হবে যাতে এটি কোনো একটি মহাসাগরে এসে পড়ে। আর মহাসাগরে জাহাজ নিয়ে আগে থেকেই তৈরী থাকবে আরেকটি বাহিনী। তারা দ্রুত গিয়ে সাগর থেকে ক্যাপসুলটি তুলে তার মধ্য থেকে মানুষটিকে বের করে আনবে। তবে দেশটির কোনো কোনো মহল নতুন এই অভিযানের সমালোচনা করে বলেছে, এতে আগের মিশনের চেয়ে কয়েক গুন বেশি ব্যয় হবে। এটাকে তারা অপচয় বলে অভিহিত করেছেন।

এই পদ্ধতিগুলো মেনে চলুন,বয়সকে রাখুন নিয়ন্ত্রনে

বয়স বাড়লেও, চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ুন এটা আমরা কেউই চাই না। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার জন্য বয়সের ছাপ পড়ে। কিন্তু এমন কিছু পদ্ধতি রয়েছে, যার মাধ্যমে ত্বকের এই সমস্ত সমস্যা দূর হয়ে যাবে এবং আপনার যে বয়স হয়েছে, তাও বোঝা যাবে না।
১) একসঙ্গে অলিভ অয়েল এবং মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ২) একটি স্প্রে বোতলে অর্ধেকটা অ্যাপেল সিডার ভিনিগার এবং অর্ধেকটা জল মিশিয়ে রাখুন। প্রত্যেকদিন সেই মিশ্রন মুখে স্প্রে করুন। ৩) ত্বকের জন্য দই খুবই উপকারী। অর্ধেক কাপ দই নিয়ে ভালো করে লাগান। ২০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। ৪) এক কাপ মেথি গুঁড়ো করে নিন। এবার জলের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে মাখুন। সারা রাত রেখে দিন। সকালে ধুয়ে ফেলুন।৫) একটা জায়গায় পাকা পেঁপে নিন। এবার সেই পাকা পেঁপে চটকে মুখে লাগান। ২০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। ৬) গোলাপ জল, মধু এবং গ্লিসারিন একসঙ্গে মিশিয়ে তুলো দিয়ে মুখে লাগান। প্রত্যেকদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করুন।

নখের সৌন্দর্য বাড়াতে কিনে ফেলুন ব্ল্যাক ডায়মন্ড নেইল পলিশ

বিলাসবহুল জীবন–যাপন করতে ভালবাসেন? ‌না, না তার মানে এটা বলছি না আপনাকে বিমানে বিসনেস ক্লাসে যেতে হবে বা প্যারিসে একটা ছুটি কাটাতে হবে। একটু অন্যরকমের বিলাসবহুল জীবন যাপন যদি পেতে চান তবে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি করত চলে এসেছে এইনেইল পলিশটি। ভাবনা আসতেই পারে, নেল কালার কী করে ব্যাঙ্কের সব টাকা শেষ করে দিতে পারে? এটা ‌কোনও সাধারণ নেইল পলিশ নয়, একেবারে হিরে মেশানো নেইল পলিশ। লস এঞ্জেলেসের একটি গয়নার সংস্থা আজাটুর এই ব্ল্যাক ডায়মন্ড নেইল পলিশটি তৈরি করেছে। ২৬৭ ক্যারটের এই নেইল পলিশটির মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। তবে শুধু এই ১৪.‌৭ মিলিলিটার উচ্চস্তরের কালো নেইল পলিশটির দামই প্রায় ১ কোটি টাকা। সংস্থার পক্ষ থেকে এক প্রতিনিধি জানান, নেইল পলিশের মধ্যে যদি হিরেকে মিশিয়ে দেওয়া যায়, তবে নখের সৌন্দর্য আর বৃদ্ধি পাবে। আর তাই তাঁদের সংস্থা কালো হিরে অর্ডার দিয়ে এই অতিমূল্যবান নেইল পলিশটি তৈরি করেছে। এই নেইল পলিশ সহ ম্যানিকিউরের মূল্য খুব বেশি নয়, মাত্র ১ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা। দামের পরোয়া না করেই এই নেইল পলিশটি এখন হট কেকের মত বিক্রি হচ্ছে। কি কিনতে ইচ্ছুক নাকি ব্ল্যাক ডায়মন্ড নেল কালার? ‌

বয়স তো শুধুই একটা সংখ্যা ॥ রজার ফেদেরার

উড়ছেন ফেদেরার। ক্যারিয়ারের গোধূলিবেলাতেও প্রতিপক্ষের আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছেন তিনি। রবিবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও দেখা গেল বুড়ো ফেদেরারের চমক। দুর্দান্ত খেলেই মারিন চিলিচকে গুড়িয়ে দিলেন ফেড এক্সপ্রেস। জিতলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ষষ্ঠ শিরোপা। সেইসঙ্গে ক্যারিয়ারের ২০তম মেজর টুর্নামেন্ট জয়েরও স্বাদ পেলেন সুইজারল্যান্ডের এই জীবন্ত কিংবদন্তি। মেলবোর্নে ক্রোয়েশিয়ান তারকা মারিন চিলিচের বিপক্ষে পাঁচ সেটের কঠিন লড়াই জিতেই অবিস্মরণীয় এই কীর্তি গড়েন রজার ফেদেরার। অথচ, বয়সে ছত্রিশকেও ছাড়িয়ে গেছেন বর্তমান বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফেদেরার। এ বয়সেও কোর্টে দারুণ লড়াই করছেন তিনি। গত ১২ মাসে তিন গ্র্যান্ডসøাম জয়ের তথ্যটাই তো তার সুস্পষ্ট প্রমাণ। বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় নতুন গুঞ্জন। কেউ কেউ তো বলছেন এই বুঝি অবসর নিতে চলেছেন ফেড এক্সপ্রেস ...। তবে ফেদেরার এখনও দুর্বার। এখানেই থেমে যেতে নারাজ বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক এই নাম্বার ওয়ান। তবে কোথায় গিয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন সুইস তারকা? সেটাও নাকি জানেন না তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোন ধারণা নেই। সত্যি বলতে কি, এটা আমি নিজেও জানি না।’ গত বছর দুটি গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছিলেন ফেদেরার। ২০১২ সালের পর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই প্রথমবারের মতো মেজর টুর্নামেন্ট জয়ের স্বাদ পান তিনি। গতবারের ক্ল্যাসিক ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ ছিল রাফায়েল নাদাল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাফায়েল নাদালকে হারিয়েই স্বরূপে ফেরার ইঙ্গিতটা দিয়েছিলেন তিনি। রবিবার চিলিচকে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতলেন ফেদেরার। আর সব মিলিয়ে ক্যাঙ্গারুর দেশে তার জয়ের সংখ্যা ছয়। মারিন চিলিচের মতো তরুণকে হারানোর পথে মাত্র একটি সেটে পয়েন্ট হারান তিনি। মেলবোর্নের প্রিয় কোর্টে শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসার পরই ফেদেরার জানান তিনি এখনও ক্ষুধার্ত। এ বিষয়ে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ১২ মাসে তিনটি গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছি, এটা আমি নিজেই বিশ্বাস করতে পারি না। আমি শুধু সিডিউলটা ভাল মতো রেখেছি। সঙ্গে জয়ের ক্ষুধাটা। সেইসঙ্গে বিশ্বাস রেখেছি হয়ত ভাল কিছু ঘটতে পারে।’ আগামী আগস্টে ৩৭তম জন্মদিনের কেক কাটবেন ফেদেরার। কিন্তু তা নিয়ে মোটেও ভাবছেন না তিনি। বরং বরাবরের মতো এদিনও সাফ জানিয়ে দিলেন বয়সটা তার কাছে শুধুই একটা সংখ্যা। এ বিষয়ে ফেদেরার বলেন, ‘আমি মনে করি না বয়সটা কোন ইস্যু, এটা মাত্র একটা সংখ্যাই। কিন্তু নিজের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে খুব সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সত্যিই আমার লক্ষ্য কি, আমার অগ্রাধিকার কি, আমি কি চাই, তা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি মনে করি যে, কীভাবে সফল হব তা সঠিকভাবেই নির্ধারণ করে যাচ্ছি।’ ফেদেরারের চেয়ে বেশি বয়সে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল খেলেছেন কেবল একজন। ১৯৭২ সালে অস্ট্রেলিয়ারই কেন রোসেল খেলেছিলেন ৩৭ বছর বয়সে। সেবার রোসেলের প্রতিপক্ষ ছিলেন তার স্বদেশী ম্যাল এ্যান্ডারসন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা নিজের শোকেসে তুললেও র‌্যাঙ্কিংয়ে কোন অগ্রগতি হচ্ছে না তার। বরং দ্বিতীয় স্থানেই থাকছেন সুইস কিংবদন্তি। শীর্ষে যথারীতি তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাফায়েল নাদাল। মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট কাটার ফলে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল নাদালই থাকছেন এক নাম্বারে। ফেদেরারের মতো স্প্যানিশ তারকাও স্বরূপে ফেরেন গত বছরের একই সময়ে। তিনিও ফেড এক্সপ্রেসের মতো দুটি করে গ্র্যান্ডস্লাম ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন। কিন্তু ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শেষ আট থেকেই ছিটকে যান তিনি। এদিকে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ফেদেরারের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হওয়া চিলিচের অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই। ছয় থেকে তিন ধাপ এগিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন ইউএস ওপেনের সাবেক এই চ্যাম্পিয়ন।

সাফে সালাউদ্দিনের টানা তিন...

তিনি শুধু ফুটবলই খেলেননি। তিনবার পালন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচের দায়িত্বও (১৯৮৫, ৮৮ ও ৯৩ সালে)। সময়ের পরিক্রমায় এখন তিনি তৃতীয় দফায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন, কাজী মোঃ সালাউদ্দিনের কথাই বলছি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কুশলী ফুটবলার বলা হয় তাকে। বাফুফের পর সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনেও (সাফ) অন্যরকম হ্যাটট্রিক করতে যাচ্ছেন ৬৫ বছর বয়সী এই সাবেক তারকা। কিংবদন্তি এ ফুটবলার আগামী মার্চে টানা তৃতীয়বার নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন সাফের সভাপতি। জানা গেছে, ৪ বা ৫ মার্চ ঢাকায় হবে সাফের সাধারণ সভা ও নির্বাচন। সেখানে কোন প্রার্থী না থাকায় আগেরবারের মতোই আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাফ-সভাপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘আমি আবারও নির্বাচন করব।’ তবে নির্বাচন করলেও ভোটের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে না তাকে। কেননা এবারও তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কেউ নেই। সাফের সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশের আনোয়ারুল হক হেলালই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, ‘সভাপতি পদে আর কেউ নির্বাচন করার আগ্রহ দেখাননি। কাজী সালাউদ্দিনই যে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হবেন, তা এক প্রকার নিশ্চিত।’ উল্লেখ্য, সালাউদ্দিন সাফের সভাপতির দায়িত্বে আছেন ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনের প্রথম সভাপতি ছিলেন ভারতের পিপি লক্ষ্মণমানান (২০০১ পর্যন্ত)। এরপর নেপালের গণেশ থাপা ছিলেন ২০০৯ পর্যন্ত। সাফ গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল এই ছয় দেশ নিয়ে। ২০০০ সালে সাফের সদস্য হয় ভুটান এবং ২০০৫ সালে অষ্টম দেশ হিসেবে যোগ হয়েছিল আফগানিস্তান। তবে ২০১৫ সালে তারা সাফ থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নেয়। আশ্চর্য হলেও সত্যিÑ সাফের বয়স ২০ পেরিয়ে গেলেও এখনও সংগঠনটির কোন স্থায়ী সচিবালয় নেই। যখন যে দেশের সাধারণ সম্পাদক থাকেন, তখন সে দেশেই হয় অস্থায়ী সাফ সচিবালয়। সেই অনুযায়ী সাফের সচিবালয় এখন ঢাকায়। এ প্রসঙ্গে আনোয়ারুল হক হেলাল জানিয়েছেন তারা চেষ্টা করছেন স্থায়ী সাফ সচিবালয় করতে। এবার এজিএমেও তিনি বিষয়টি তুলবেন। গণেশ থাপার সময় সাফ বলতে গেলে একেবারেই জড় সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। সালাউদ্দিন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই এটা গতিশীল হয়। ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে টুর্নামেন্টের সংখ্যা। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দুই বিভাগের দুটি করে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টও এখন হচ্ছে নিয়মিত। এ বছরই সাফের টুর্নামেন্ট আছে পাঁচটি। আগস্টে অ-১৫ কিশোরী চ্যাম্পিয়নশিপ, সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, অ-১৮ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, নবেম্বরে বালক অ-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ডিসেম্বরে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। এখন দেখার বিষয়, তৃতীয়বারের মতো দায়িত্ব নিয়ে সাফকে আরও কতটা গতিশীল করতে পারেন সালাউদ্দিন।


গোপন তথ্য ফাঁস হচ্ছে ফিটনেস ট্র্যাকিং এ্যাপে

ইরাক ও সিরিয়ার মতো যুদ্ধ ক্ষেত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর সৈন্যদের গতিবিধি শনাক্ত করা যায় এরকম একটি মোবাইল এ্যাপের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এ্যাপটির নাম স্ট্রাভা ল্যাবস। এর মাধ্যমে গোপন ঘাঁটিতে সৈন্যদের অনুশীলনের পুরো মানচিত্র তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে সৈন্য বা ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এএফপি। স্ট্রাভা ল্যাব তাদের ফিটনেস ট্র্যাকিং এ্যাপে সারা বিশ্বে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের চলাচলের সুবিধার জন্য এই ম্যাপ তৈরি করেছে। জাভা প্রযুক্তি ব্যবহারকারীরা যাতে বিশ্বের গোলযোগপূর্ণ এলাকা যেখানে সামরিক সংঘাত বা তীব্রতা আছে সেগুলো পরিহার করতে পারে সে উদ্দেশ্যেই মূলতঃ এই ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। সেনা চলাচলের এসব রাস্তা যে একইভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে তা নয়। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যেমন, ইরাকের বেশ কিছু এলাকা, অন্ধকারবেষ্টিত আবার ইসলামিক স্টেট জঙ্গীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন ও জোট বাহিনীর অভিযানের গতিপথ বিস্তারিতভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে বাগদাদের উত্তরের তাজি এলাকা, মসুলের দক্ষিণে কাইয়ারাহ, তিকরিতের কাছে স্পেইশের এবং আনবার প্রদেশের আল আসাদ অঞ্চল। এই ম্যাপে ইরাকের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের ছোট ছোট স্থাপনা যা সকলের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত নয় এমন সামরিক ঘাঁটির অবস্থানও চিহ্নিত করা হয়েছে। মার্কিন ও জোটভুক্ত সেনাদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক যে দিকটি এই ম্যাপের মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে তা হচ্ছে সৈন্য চলাচলের এই গতিপথের দৈর্ঘ, প্রস্থ ও ভ্রমণকালে চলাচল উপযোগী কিনা তার বিস্তারিত তথ্য এই এ্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে। স্ট্রাভা ল্যাবের প্রণীত মানচিত্রে শুধু ইরাক নয়, আফগানিস্তান ও আফ্রিকার নাইজারে সেনা ঘাঁটির অবস্থানও চিহ্নিত করা আছে। আফগানিস্তানে তালেবান মোকাবেলায় মার্কিন বাহিনী সর্বশক্তি মোতায়েন করেছে। সে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি স্থানে মার্কিন ও জোটভুক্ত সৈন্যরা প্রতিদিনই বিদ্রোহ দমনে অভিযান পরিচালনা করছে। তারপরও খোদ রাজধানী শহর কাবুল ও আশপাশের সুরক্ষিত স্থানে তালেবানরা প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের কামিশলিতে মার্কিন জোটের মদদপুষ্ট কুর্দী বাহিনীর। গতিবিধি সম্বলিত তথ্যচিত্র এই স্ট্রাভা এ্যাপে পরিস্ফূটিত হয়েছে। স্ট্রাভা ম্যাপে অঙ্কিত সেনা ঘাঁটি ও সামরিক বাহিনীর গতিপথ চিহ্নিত হওয়ায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে দারুণ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। কারণ, সেনাঘাঁটিগুলো সুনির্দিষ্ট অবস্থান থেকে সরিয়ে নেয়া বা তা গোপন করে রাখা সম্ভব নয়।তাই এখানে মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনীর আসা যাওয়া দারুণ হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।