Hot!

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাহি অসাল্লাম এই সিয়াম কখনো মিস করতেন না

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উত্তম চরিত্র ও আচার-ব্যবহারকে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু মুশকিল হলো, আমরা নামাজ-রোজার ন্যায় উত্তম চরিত্র ও আচার-ব্যবহারকেও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল হিসেবে তেমন গুরুত্ব দিই না। নবী (সাঃ) আমাদের যে পথ দেখিয়েছেন তা আমাদের জীবনের পথ সুগম করে ।এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য। [আন নিসা: ১৩] যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।. [আল আহযাব:২১] উপরের আয়াতে রাসূল(সা.)-কে মডেল মনে করাটাকে ঈমানের শর্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে! আর যে সব ব্যাপারে তিনি মডেল হবেন, স্বাভাবিকভাবে তার ভিতর ইবাদতই আসবে সর্বাগ্রে। সিয়াম ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয়। সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোযা। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি সবল মুসলমানের জন্য রমযান মাসের প্রতি দিন রোজা রাখা ফরজ (فرض ফ়ার্দ্ব্‌) বা অবশ্য পালনীয় প্রত্যেক আরবি মাসের মধ্যবর্তী সময় তথা ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা রাখা সুন্নাত। এ রোজাকে আইয়ামে বিজের রোজাও বলা হয়। হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘সফর অথবা মুকিম’ সর্বাবস্থায় তিনি (আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫) এ তিনদিন রোজা পালন করতেন। কখনো আইয়ামে বিজের রোজা ভাঙ্গতেন না। (নাসাঈ)রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ রোজা পালনে সাহাবাদের নির্দেশ দিতেন; তবে প্রিয়নবির এ নির্দেশে রোজা পালনে বাধ্যবাধকতা না থাকালেও তা ছিল মর্যাদাপূর্ণ নফল তথা অতিরিক্ত আমল। হজরত মালেক বিন কুদামা বিন মালহান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামে বিজের রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। আইয়ামে বিজের রোজা পালনের কারণে মানুষের নৈতিক ও আত্মিক উন্নতি সাধিত হয়। এমনিতেই রোজা মানুষকে দুনিয়ার যাবতীয় পাপাচার থেকে মুক্ত রাখে।সুতরাং কোনো মানুষ যদি প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের আইয়ামে বিজের রোজা পালন করে; স্বাভাবিকভাবেই তারা নিষ্কলুষ ও পাপমুক্ত জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠবে। চারিত্রিক উন্নতি লাভ করবে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের নির্দেশ ও প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ নিয়মতি আমল ‘আইয়ামে বিজ’-এর রোজা পালনের তাওফিক দান করুন। নৈতিক ও আত্মিক উন্নতি সাধনে আইয়ামে বিজ-এর রোজা পালনে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।