Hot!

Other News

More news for your entertainment

রাসূল (সা.)-কে স্বপ্নে দেখার বিষয়টি কতটা সত্য?

আল্লাহ এই পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তা মানুষের কল্যাণের জন্য। আর মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আল্লাহর তৌহিদকে বাস্তবায়ন করার জন্য। সেটি আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। কোনো সন্দেহ নেই, রাসূলুল্লাহ (সা.) এই ভালোবাসা ইমানের দলিল, রাসূল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা আমাদের থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তির অন্তরের মধ্যে যদি রাসূলের (সা.) প্রতি ভালোবাসা না থাকে, তাহলে সে ইমানদার হতে পারবে না। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় বেসরকারি একটি টেলিভিশনের জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।প্রশ্ন : রাসূল (সা.) কি স্বপ্নে এসে কাউকে উপদেশ দিতে পারবেন? উত্তর : হ্যাঁ। রাসূল (সা.)-কে স্বপ্নে দেখা জায়েজ, বৈধ ও তাঁকে বাস্তব দেখা যায়। এটি প্রমাণিত হয়েছে। এটি রাসূল (সা.)-এর হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। ‘যে আমাকে স্বপ্নের মধ্যে দেখল, সে সত্যিকার আমাকেই দেখল।’ তাই রাসূল (সা.)-কে স্বপ্নে দেখা বৈধ বিষয়। স্বপ্নে রাসূল (সা.)-কে যদি কেউ দেখেন, তাহলে তাঁকে রাসূল (সা.) কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে উপদেশ দিতেও পারেন। এটাও জায়েজ। তবে শরিয়ার কোনো বিষয়ে, রাসূল (সা.) যেগুলো নির্দেশ দিয়ে গেছেন, সেগুলোর বিপরীত নির্দেশনা তাঁকে দেবেন না। যদি বিপরীত কোনো নির্দেশনা আসে, তাহলে বুঝতে হবে তিনি আল্লাহর নবী (সা.)-কে স্বপ্নে দেখেননি, অন্য কাউকে স্বপ্নে দেখেছেন। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সেটি হলো, রাসূল (সা.)-কে স্বপ্নে দেখার বিষয়টি সেভাবেই হতে হবে, যেভাবে রাসূল (সা.)-এর অবয়ব, শারীরিক কাঠামো, হুলিয়া মুবারক বর্ণিত হয়েছে। হুবহু সেভাবে যদি কেউ না দেখেন, তাহলে তিনি রাসূল (সা.)-কে স্বপ্নে দেখেননি। হতে পারে শয়তান তাঁকে ওয়াসওসা দিয়েছে। তাই যিনি স্বপ্নে দেখবেন, তিনি হুবহু রাসূল (সা.)-এর শারীরিক কাঠামো সম্পর্কে, শামায়েলে যেভাবে এসেছে, ঠিক সেভাবে যদি মেলে, তাহলেই সত্যিকার অর্থে তিনি রাসূল (সা.)-কে স্বপ্নে দেখেছেন।

যেসব খাবার মিলিয়ে খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি

দৈনন্দিন জীবনে ব্যস্ত থাকায় খাওয়া-দাওয়ায় নানা অনিয়মের কারণে আমরা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগি। শুধু অনিয়ম নয়, বরং কিছু খাবার একসঙ্গে খাওয়ার কারণেও আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। হজমের জন্য বিভিন্ন খাবার আলাদা আলাদাভাবে খাওয়া প্রয়োজন। অনেকেই আছেন যারা খাবারের স্বাদ বাড়াতে এক খাবারের সঙ্গে অন্য আরেক খাবার মিলিয়ে খেতে পছন্দ করেন। কেউ মাংসের সঙ্গে পনির, ফলমূলের সঙ্গে সালাদ খেতে পছন্দ করেন। কেউ আবার দুধের সঙ্গে ফল খেতে ভালোবাসেন। যাহোক, এভাবে এক খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে আরেক খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।  বিজ্ঞানীরা বলেছেন, খাবারের সম্বন্বয় যদি ভালো না হয় তা হলে শ্বাসে সমস্যাসহ শুষ্ক ত্বক, দাগ, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, কম ঘুম, দুর্বল বোধ করা এবং দীর্ঘস্থায়ী হজম সংক্রন্ত নানা সমস্যা হতে পারে। কারণ কিছু খাবার আছে যেগুলো হজম হতে কিছুটা সময় নেয়। অন্যদিকে কিছু খাবার তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায়। এ কারণে মিলিয়ে খেতে চাইয়ে খাবারের সঠিক সম্বন্বয় থাকা জরুরি। না হলে স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে।  এবার লাইফস্টাইলবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘বোল্ডস্কাই ডট কম’ অবলম্বনে জেনে নিন কোন খাবারের সঙ্গে কোন খাবার মিলিয়ে খাওয়া ক্ষতিকর- একসঙ্গে দুই উচ্চমাত্রার প্রোটিন খাবেন না উচ্চমাত্রার দুই প্রোটিন বিশেষ করে ডিম এবং মাংস একসঙ্গে খাওয়া কখনই উচিত নয়। দুটো খাবারই হজম হতে অনেক সময় নেয়। এ কারণে স্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়াতে এ দুটি খাবার একসঙ্গে এড়িয়ে চলাই পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন কার্বোহাইড্রেটের এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার হজম হতে অনেক সময় লাগে। তাই এ দুটো কাবার মিলিয়ে খেলে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রোটিনের সঙ্গে কার্বহাইড্রেট খাওয়া এড়িয়ে চলুন।  খাবারের পর ফল যে কোন ফল খেলে তা বেশিক্ষণ পেটে থাকে না। অন্যদিকে চর্বি এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার হজম হতে অনেক সময় লাগে। এতে খাবারের পর ফল খেলে তা পাকস্থলীতে অনেকক্ষণ থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই খাবারের পর পরই ফল খাওয়া এড়িয়ে চলুন। ফলের সঙ্গে পানি/জুস খাবার খাওয়ার সময় পানি কিংবা ফলের জুস পান করবেন না। কারণ খাওয়ার সময় পানি খেলে তা আপনার পাকস্থলীতে পৌঁছে প্রোটিন, কার্বহাইড্রেট এবং চর্বিযুক্ত খাবারের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাওয়ার ১০ মিনিট পর পানি পানের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাস্তার সঙ্গে টমেটো টমেটোতে প্রাকৃতিকভাবে অম্লিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় তা পাস্তার সঙ্গে মিলিয়ে খাওয়া উচিত নয়। এতে হজমে সমস্যা হতে পারে। একই সঙ্গে এই খাবার খেলে আপনাকে অনেক ক্লান্ত দেখাবে। খাদ্যশস্যের সঙ্গে দুধ এবং কমলার জুস দুধে বিদ্যমান কেসিন এবং কমলার জুসে অ্যাসিড রয়েছে। এ দুটো খাবার একসঙ্গে খেলে তা খাদ্যশস্যে এনজাইমের উপস্থিতিকে নষ্ট করে দেয়। তাই স্বাস্থ্য ক্ষতি এড়াতে খাদ্যশস্য খাওয়ার একঘণ্টা আগে কিংবা পরে দুধ এবং কমলার জুস খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।  বীজ​ এবং পনির এই দুটো খাবার একসঙ্গে খেলে গ্যাসসহ হজমের সমস্যা বাড়তে পারে। আপনার ইমিউন সিস্টেম যদি দুর্বল হয় তাহলে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শিম এবং পনির আলাদাভাবেই খান।  কলা এবং দুধ আয়ুর্বেদে এই দুই খাবারের মিশ্রণকে ‌'বিষাক্ত' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কলা এবং দুধ একসঙ্গে খেলে তা আপনার মধ্যে হতাশা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এই খাবারে আপনার মেজাজাটাও ভালো থাকে না।  দইয়ের সঙ্গে ফল স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দইয়ের সঙ্গে ফল মিশিয়ে খাওয়াও ঠিক নয়। এ দুটো খাবার একসঙ্গে খেলে ঠাণ্ডা, কফ, অ্যালার্জি এবং সাইনাসের সমস্যা হতে পারে।  আলু, শসা এবং টমেটোর সালাদ আপনি যদি সালাদ খেতে পছন্দ করেন তাহলে আলু, শসা এবং টমেটো একসঙ্গে খাবেন না। এই খাবারে আপনার হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই খাবারগুলো একসঙ্গে খাওয়া এড়িয়ে চলুন। তবে চাইলে সালাদে অলিভ অয়েল যোগ করতে পারেন।

ইবির ভর্তি ফরমের মূল্যে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের অনার্স (স্নাতক) ১ম বর্ষের ভর্তি আবেদনের তারিখ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে এবছর থেকে প্রতিটি ভর্তি আবেদন ফরমের মূল্য ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। ফরমের মূল্য বৃদ্ধি করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে। তারা মনে করছেন শিক্ষকদের পকেট ভারী করতে এ মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।vএ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ‘ফরমের মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে নয় বরং শিক্ষকদের পকেট ভারী করতে। ভর্তি পরীক্ষা থেকে মাত্র ২০-২৫ শতাংশ টাকা ফান্ডে জমা হয় আর মোটা অংকের টাকা শিক্ষকদের পকেটে চলে যায়। অনেক শিক্ষক আছেন যারা ভর্তি পরীক্ষা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত পান।’এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ইবি শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত তিমির বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যবসায় পরিণত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সম্পূর্ন অযৌক্তিক। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে প্রশাসনকে এ ব্যাপারে নতুন সিদ্ধন্ত নেয়া উচিত। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, আমি গত বছর ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করেছি। এবার ৪০ শতাংশ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল বাজেটে যোগ করা হবে। খুব শীঘ্রই আমাদের এফসির সভায় এটা পাশ করা হবে। ভর্তি ফরমের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আমাদের ভর্তি ফরমের মূল্য তুলনামুলক কম। বিভাগ বৃদ্ধির কারনে ব্যায় বেড়ে গেছে তাই প্রাসংঙ্গিক কারনে মূল্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

টেলিভিশন চ্যানেলের কদর্য ভাষা প্রয়োগ দিশা পাটানির ওপর!

খবরকে উত্তেজক করে তোলা। এই নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। বিশেষ করে যে ভাবে টিআরপি বাড়াতে টেলিভিশন নিউজ চ্যানেলগুলির একটা অংশ খবরকে সেনসেশন-এর তকমা দিতে চায়- তাতে বিপদ আরো বাড়ে। এবার তেমনই এক ঘটনা ঘটল। আর এই কর্দয ভাষা এবং ভাবনার শিকার হলেন বলিউডের অভিনেত্রী দিশা পাটানি। নিউজ ২৪ বলে একটি টেলিভিশন নিউজ চ্যানেল সম্প্রতি দিশা পাটানির একটি স্কুল জীবনের ছবিকে সামনে নিয়ে আসে। স্কুল ছাত্রী দিশাকে সুন্দরী দেখালেও ছবিটি তাঁর বর্তমান লুকের মতো গ্ল্যামারাস ছিল না। আর এই ছবিকেই জঘন্য পাবলিসিটি এবং টিআরপি-র জন্য নিউজ ২৪ হাতিয়ার করে বলে অভিযোগ। দিশা-র স্কুল জীবনের ছবির পাশে তাঁর বর্তমান ছবি লাগিয়ে টুইট করে নিউজ ২৪। ইংরাজিতে করা এই টুইটি ছিল- ‘ক্যান ইউ বিলিভ হাউ আগলি দিশা পাটানি লুকড ওয়ান্স, সি দ্য কন্ট্রাস্ট’। এর বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় ‘বিশ্বাস করতে পারবেন যে দিশা পাটানি দেখতে কতটা কুরূপা ছিলেন, দেখুন অদল-বদল’।এই টুইট দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন দিশা পাটানি। তবে মার্জিত ভাষাতেই তিনি নিউজ ২৪-এর এমন কদর্য খবর পরিবেশনকে আক্রমণ করেন। তিনিও পাল্টা টুইট করে জানান, ‘নিউজ ২৪ আপনারা ঠিকই বলেছেন, ক্লাস সেভেনে পড়া মেয়ের তো উচিত লিপস্টিক লাগিয়ে, মেক আপ করে স্কুলে যাওয়া’। নিউজ ২৪-এর এমন খবর পরিবেশনকে অন্যরাও টুইটারে তুলোধনা করেন। যদিও, এমন কদর্য খবর পরিবেশনের পরে নিউজ ২৪-এর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি সুন্দরী অভিনেত্রী দিশা পাটানিকে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও কদর্য ভাষায় একজন আক্রমণ করেন। জিও- ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড-এর অনুষ্ঠানে বক্ষ চেরা গাউন পরেছিলেন দিশা। আর এতে তাঁকে নোংরা নারী এবং নিজের স্তন যুগল সকলকে তিনি প্রদর্শিত করছেন বলেও মন্তব্য সইতে হয়। যদিও এই নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া সে সময় দেননি দিশা। আসলে, নারীদের উদ্দেশ্যে নোংরা মন্তব্য করারর যে চল আগেও ছিল এখন তা যেন উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সাধারণ মানুষ এখন সেলিব্রিটির সঙ্গে যোগাযোগ করার সহজ উপায় পেয়ে গিয়েছেন। আর এখানেই হচ্ছে সমস্যার। কারণ, কোন কথা প্রকাশ্যে বলতে হয় কোনটা হয় না সেই বোধটাই হারিয়ে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মন থেকে। যার দোষে দুষ্ট এখন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও।

নিরবের বিপরীতে এবার চিত্রনায়িকা জলি

চিত্রনায়ক নিরবের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করতে যাচ্ছেন চিত্রনায়িকা জলি। এ দুই চিত্রতারকার নতুন ছবির নাম ‘অফিসার রিটার্নস’। রবিবার সন্ধ্যায় নিরব-জলি দুজনেই ‘অফিসার রিটার্নস’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। ছবিটি পরিচালনা করবেন বন্ধন বিশ্বাস, যিনি এর আগে ওমর সানি ও রেসিকে নিয়ে ‘শূন্য’ ছবিটি নির্মাণ করেছিলেন। বন্ধন বিশ্বাস বলেন,  প্রথমে নাম পছন্দ করেছিলাম ‘অফিসার’। কিন্তু পরিচালক সমিতিতে নাম এন্ট্রি করতে দেখা যায় ২০১৩ সালে ‘অফিসার’ নামে আগেই অন্য একটি ছবির নাম এন্ট্রি করা হয়েছে। যদিও ওই ছবি তিনদিন শুটিং করার পর আর কাজ হয়নি।  আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ‘অফিসার রিটার্নস’ ছবির মহরত অনুষ্ঠিত হবে এফডিসির ঝর্ণা শুটিং স্পটে। মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুটিং শুরু হবে। এ প্রসঙ্গে নিরব বলেন, এই ছবিতে আমাকে পুলিশ অফিসারের চরিত্রে দেখা যাবে। ছবি গল্পটি আমাকে মুগ্ধ করেছে। চরিত্রের জন্য নিজের লুকে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। যে প্ল্যানিং নিয়ে এই ছবিটি করতে যাচ্ছি, সবকিছু ঠিকভাবে শেষ করতে পারলে একটি সাকসেসফুল প্রজেক্ট হবে ‘অফিসার রিটার্নস’। জলি বলেন, ‘অফিসার রিটার্নস’ ছবিতে আমি একজন বার ডান্সার। আমাকে ঘিরে দুটো জমজমাট গান থাকবে। চরিত্রের গভীরতা অনেক বেশি। একেবারে নতুন চরিত্র নিয়ে দর্শকদের সামনে আসবো। নিরব ভাইয়ের সঙ্গে প্রথমবার জুটি বাঁধতে যাচ্ছি। সবমিলিয়ে বলবো, ভালো একটি কাজ হতে যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, অফিসার রিটার্নসে অভিনয় করবেন কলকাতার একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। এই ছবির গল্প লিখেছেন নির্মাতা বন্ধন বিশ্বাস নিজেই, প্রযোজনা করছেন আব্দুল বাছেদ



খালেদা জিয়ার সিলেটযাত্রায় কর্মীরা পুলিশি বাধায়

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গতকাল ঢাকা থেকে সড়কপথে সিলেটে গিয়ে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন। যাত্রাপথে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে সড়কের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। নারায়ণগঞ্জসহ অনেক পয়েন্টে তারা দাঁড়াতেই পারেনি। বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে ভৈরবে। তবে হবিগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে বিএনপিপ্রধানকে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানাতে সক্ষম হয়েছে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। সিলেট সফর শেষে খালেদা জিয়া গত রাতেই ঢাকায় ফেরার জন্য রওনা হন। বিএনপির অভিযোগ, তাদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। নেত্রীর গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে জুতা প্রদর্শন, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে। খালেদা জিয়া সকাল সোয়া ৯টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে রওনা দিয়ে বিকেলে সিলেটে পৌঁছান। সিলেট সার্কিট হাউসে নেতারা তাঁকে স্বাগত জানান। এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে মাগরিবের নামাজের আগে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে যান তিনি। সেখানে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত কক্ষে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। সার্কিট হাউস থেকে মাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার নারী-পুরুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের নেত্রীকে করতালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। তারা ‘আমার নেত্রী আমার মা, বন্দি হতে দেব না’ ‘খালেদা জিয়া এসেছে রাজপথ কেঁপেছে’ ইত্যাদি স্লোগানও দেয়। শাহজালালের মাজার থেকে খালেদা জিয়া খাদিমনগরে গিয়ে হযরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজারও জিয়ারত করেন। সিলেট পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ার করেন খালেদা জিয়া।    যাত্রা শুরুর সময় গুলশানে বিএনপিপ্রধানের বাড়ির সামনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) এবং হজরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যাচ্ছেন। তিনি কোনো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে সেখানে যাচ্ছেন না। এক বছর আগে নির্বাচনী প্রচারণার কোনো সুযোগ নেই। এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। সকাল সোয়া ৯টায় খালেদা জিয়া একটি নিশান পাজারো জিপের সামনের সিটে বসেই রওনা হন। তাঁর পরনে ছিল অফ ওয়াইট শাড়ি ও শাল। আমাদের সিলেট অফিস ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের পাঠানো পথের চিত্র— নারায়ণগঞ্জে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি নেতাকর্মীদের : কালের কণ্ঠ’র নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার ভেতর দিয়ে যাওয়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দাঁড়াতেই পারেনি বিএনপির নেতাকর্মীরা। কয়েকটি স্থানে পুলিশ তাদের ধাওয়া ও লাঠিচার্জ করে। গ্রেপ্তার করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানসহ সাতজনকে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে সাইনবোর্ড থেকে রূপগঞ্জ পর্যন্ত মহাসড়ক অতিক্রম করে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। সাইনবোর্ড এলাকায় মহানগর সেক্রেটারি এ টি এম কামালের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তারা সানারপাড় এলাকাতে জড়ো হতে চাইলে সেখানেও বাধা দেওয়া হয়। কামাল বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পুলিশ তো দাঁড়াতেই দেয়নি।’ সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় মহাসড়ক থেকে সাখাওয়াত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার প্রধান ও আইনজীবী ফোরামের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাঈনুদ্দিন রেজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পৌনে ১০টার দিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মহাসড়কে ওঠার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সকাল ১১টার দিকে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের পিটিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ছিনিয়ে নেয়। পুলিশের লাঠির আঘাতে সাতজন আহত হয়েছে। সাড়ে ১০টায় আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখি এলাকায় বাড়ির সামনে থেকে গ্রেপ্তার হন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ। উপজেলা যুবদলের সভাপতি জুয়েল আহমেদ, সহসভাপতি সালাউদ্দিন ও ছাত্রদল নেতা রাজিব আহমেদকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ওসি মাহবুবর রহমান বলেন, বাসা থেকে আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে নাশকতার চেষ্টাসহ বিভিন্ন পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রূপগঞ্জে বাধা : আমাদের রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রূপগঞ্জে পুলিশি বাধায় নেতাকর্মীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দাঁড়াতে পারেনি। নেতাকর্মীরা ভুলতা এলাকায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। খালেদার গাড়িবহর ভুলতা অতিক্রমকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু সমর্থিতরা মহাসড়কে ওঠার চেষ্টা করে। পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা দৌড়ে গাউছিয়া কাপড়ের বাজারে চলে যায়। বিএনপি দাঁড়াতে না পারলেও সড়কের কয়েকটি স্পটে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যাতে না হয়, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। নরসিংদীতে কয়েকজন আটক : নরসিংদী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, খালেদার গাড়িবহর সাড়ে ১১টার দিকে নরসিংদী শহর অতিক্রম করে। এখানেও বিএনপিকে দাঁড়াতে দেয়নি পুলিশ। মহাসড়কের শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকা থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন ও গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়াকে এবং ভেলানগর জেলখানা মোড় এলাকা থেকে নরসিংদী জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সুলতান উদ্দিন মোল্লা, শহর বিএনপির সভাপতি এ কে এম গোলাম কবির কামাল এবং মাধবদী থেকে তিনজন, বেলাব থেকে চারজন ও রায়পুরা থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। দুপুরের দিকে সানাউল্লাহ মিয়াকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সাইদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সানাউল্লাহ মিয়াকে আটক করি নাই। উনি মহাসড়কে উঠতে চাইলে আমরা সরিয়ে দিয়েছি। আর সুলতান মোল্লা ও গোলাম কবির কামালকে আমাদের প্রয়োজনে কথা বলার জন্য নিয়ে এসেছি। কোনো আটক কিংবা গ্রেপ্তার করা হয়নি। জেলার কোথাও আর কেউ আটক আছে কি না আমার জানা নেই।’ ভৈরবে বিএনপির সভাপতিসহ ৬ জন গ্রেপ্তার, ৪ পুলিশ আহত : আমাদের ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মহাসড়কের ভৈরবে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলির ঘটনা ঘটেছে। ইটপাটকেলের আঘাতে ভৈরব থানার ওসি মোখলেছুর রহমান, তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, সাব-ইন্সপেক্টর মাজারুল ইসলাম ও সাব-ইন্সপেক্টর আজিজ আহত হন। সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়া যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, এ সময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহার উদ্দিন, ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারিকুজ্জামান পানেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, তাদের ভৈরব বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগের দিন রাতে যুবদল নেতা মাসুদ ও গোলাম রসুলকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ভৈরব ও শায়েস্তাগঞ্জে শুভেচ্ছা জানাতে পেরেছে নেতাকর্মীরা : আমাদের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টেও নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়াকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। যেখানে নেতাকর্মীদের ভিড় বেশি ছিল সেখানে তাঁর গাড়ি ধীরে চলেছে। দুপুর সোয়া ১টার দিকে গাড়িবহর উপজেলা সদরে পৌঁছলে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে নেত্রীকে স্বাগত জানায়। দেউন্দি সড়কের পাশে ছিল জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক সেলিমের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা। বাহুবল উপজেলার মীরপুর গোল চত্বরেও শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত হয়। নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি গোল চত্বরে জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়ার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। দুপুর আড়াইটায় খালেদা জিয়া চুনারুঘাট উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ অতিক্রম করার সময় কয়েক শ নেতাকর্মী তাঁকে শুভেচ্ছা জানায়। এ সময় কয়েক হাজার নেতাকর্মী মহাসড়কের দুই পাশে জড়ো হয়। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ, সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, ইসলাম তরফদার তনু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ লিয়াকত হাসান, সেক্রেটারি প্রফেসর মোজাম্মেল হক তালুকদার প্রমুখ। তবে নতুন ব্রিজ এলাকায় খালেদা জিয়ার পথসভার জন্য মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল; যদিও এ রকম কোনো কর্মসূচি ছিল না বিএনপি প্রধানের। পুলিশ ওই মঞ্চ ভেঙে দেয়। তবে চুনারুঘাট থানার ওসি আজমীর হোসেন জানান, পুলিশ মঞ্চ ভাঙেনি। পুলিশের নির্দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরাই স্টেজ ভেঙে নেয়। কারণ এই স্টেজের কোনো অনুমতি ছিল না এবং খালেদা জিয়ার এখানে নামারও কোনো কর্মসূচি ছিল না। মৌলভীবাজারে আটক ৭ : মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, বিতেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে খালেদার গাড়িবহর মৌলভীবাজার জেলার শেরপুর এলাকা অতিক্রম করে। এখানেও বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশ বাধা দেয়। জেলার একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেছে, শেরপুর এলাকা থেকে বিএনপির সাত নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। খালেদা জিয়া গত রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকায় ফেরার জন্য রওনা দেন। রাত ১২টার দিকে তাঁর গাড়িবহর বিশ্বনাথ পার হয়ে শেরপুরের কাছাকাছি ছিল। প্রসঙ্গত, সর্বশেষ তিনি সিলেট গিয়েছিলেন দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর। তখন আলিয়া মাদরাসা মাঠে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।

৮ ফেব্রুয়ারি ঘিরে উত্তেজনা শঙ্কা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায় সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে রাজধানীসহ সারা দেশে জনমনেও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ওই রায় ঘোষণা হওয়ার কথা। প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একে ঘিরে প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উভয় দলেই আছে প্রস্তুতি। বিএনপির একটি সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার দিন খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়ার সময় গুলশান থেকে বকশীবাজার পর্যন্ত পথের দুই ধারে নেতাকর্মীরা জমায়েত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর বিএনপির জমায়েত থেকে ভাঙচুর, আগুন লাগানো বা অন্য কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনসহ সমর্থক বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন। যানবাহন ভাঙচুর বা আগুন সন্ত্রাস হলে আন্দোলনে নামবে পরিবহন শ্রমিকরা। নাশকতা এড়াতে ঢাকাকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখারও প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে আজ মঙ্গলবার ঢাকায় পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন দেড় শতাধিক পরিবহন মালিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, ৮ ফেব্রুয়ারির পর আরো তিন-চার দিনের পরিস্থিতি মাথায় রেখে নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল বুধবার থেকে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বা তল্লাশি চৌকি বসানো হবে। তল্লাশির পর যানবাহন ঢাকার ভেতর ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। এ ছাড়া পথেও বিভিন্ন স্থানে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হবে। রাজধানীর আবাসিক হোটেলগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রায়ের দিন ঢাকার কোনো স্থানেই বিএনপির নেতাকর্মীসহ কাউকেই জড়ো হতে দেবে না পুলিশ। কেউ জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করলেই পুলিশ ছররা গুলি চালাবে। এদিকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াত নেতারা। স্থানীয় বিএনপি নেতারা ফোনও বন্ধ রেখেছেন। আগুন সন্ত্রাস বা কোনো নাশকতা হলে তা ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থাকবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি সন্দেহভাজন নাশকতাকারী ধরতে এরই মধ্যে অভিযানে নেমেছে তারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় দিনে বিএনপির ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে। নাশকতার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়ক বুধ ও বৃহস্পতিবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে আজ রাত থেকে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও আজ রাত থেকে সড়ক পরিবহন পরিচালনা করা হবে সীমিত আকারে। নাশকতা প্রতিরোধের কর্মকৌশল ঠিক করতে সরকারের নীতিনির্ধারকরা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। গতকাল সোমবারও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপিকে নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি সদর দপ্তরে বৈঠক করছেন ঊর্ধ্বতন পুুলিশ কর্মকর্তারা। নাশকতার আশঙ্কা করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য এসেছে, সড়ক ও রেলপথে হামলা চালানো হতে পারে। এমনকি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রায় ঘোষণার দিন বা আগের দিন অগ্নিসন্ত্রাসের আশঙ্কা করছে পরিবহন শ্রমিকরা। যানবাহন ও পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য রাজধানীর সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রাখা বা পরিবহন সীমিত রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আজ দুপুরে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের যৌথ সভা হবে মতিঝিলে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে। সভায় ঢাকার বাস ও মিনিবাসের কমপক্ষে ১৫০ জন মালিক উপস্থিত থাকবেন। ঢাকার সায়েদাবাদ, মহাখালীসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালের মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাতে অংশ নেবেন। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা হলে আমরা কী করব? সতর্ক থাকব। তবে আর কী করা যায় তা চূড়ান্ত হবে মঙ্গলবারের বৈঠকে। ’ জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভা হয়েছে গত শুক্র ও শনিবার সেগুনবাগিচায়। তাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৩৫০ পরিবহন শ্রমিক নেতা অংশ নেন। ওই ফেডারেশনের ২৩০টি পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন রয়েছে দেশজুড়ে। সভায় ৮ ফেব্রুয়ারির বিষয়ে শ্রমিক নেতারা হামলা হলে প্রতিরোধ ও আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করার পক্ষে মত দেন। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হামলা হলে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। আমার গায়ের ওপর পড়লে আমি তো ধাক্কা দেবই। ’ তিনি জানান, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালে আগুন-সন্ত্রাসে তিন হাজার গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। ৯২ জন পরিবহন শ্রমিক প্রাণ হারায় তাতে। আহত হয় আড়াই হাজার পরিবহন শ্রমিক। ১৮০ জন পরিবহন শ্রমিক সম্পূর্ণভাবে পঙ্গু হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো দলের নই। তবে রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হতে হয় সড়ক পরিবহনকেই। যেকোনো খারাপ পরিস্থিতি হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে ঢাকা। ’ ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল থেকে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বসাবে পুলিশ ও র‌্যাব। যানবাহন তল্লাশি করার পরই ঢাকায় ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। এমনকি বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যানবাহনগুলো যেকোনো স্থানে থামিয়ে তল্লাশি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালে সাদা পোশাকধারী পুলিশ সক্রিয় থাকবে। ট্রেন ও লঞ্চে ওৎ পেতে থাকবে গোয়েন্দারা। সন্দেহ হলেই যে কাউকে আটক করা হবে। ঢাকার আবাসিক হোটেলগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বোর্ডারদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করার পর থানা পুলিশকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। পুলিশ অনুমতি দিলে বোর্ডারদের রাখা যাবে হোটেলে। রায়কে কেন্দ্র করে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক ও পুলিশ সুপারদের কাছে একটি বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিএনপি, জামায়াতসহ একটি চক্র নাশকতার চেষ্টা করবে। এই জন্য পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে। অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে দুষ্কৃতকারীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরের দিকে আসতে পারে। তারা ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে পারে। পুলিশ বা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালাতে পারে। নাশকতা করতে পারে। গণপরিবহনে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রেলপথে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করতে পারে। জেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সম্পাদকীয় পদের নেতাদের তালিকা করে দ্রুত আটক করতে হবে। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের পলাতক নেতাদের খুঁজে বের করতে হবে। নাশকতাকারীদের প্রতিরোধ করতে হবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, নাশকতা চালালে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। জানমালের রক্ষার জন্য যা যা করার দরকার তাই করবে পুলিশ। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে থাকবে পুলিশ। তবে অহেতুক কাউকে হয়রানি করা হবে না। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আতঙ্ক ও অপপ্রচার রোধ করতে এবং নিরাপত্তার ছক সাজাতে পুলিশের কর্তা-ব্যক্তিরা বৈঠক করছেন। গতকালও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ প্রধান অংশ নিয়েছেন। তা ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (গোপনীয়) মো. মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, জানমাল রক্ষার্থে পুলিশ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাড়ানো, চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা, থানাসহ পুলিশের সব স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানো, পুলিশের সব সিসি ক্যামেরা সচল রাখা, যেসব স্থানে আগে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করা, গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পুলিশের নিয়মিত অভিযান হচ্ছে। পুুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য আছে, বিএনপি বড় ধরনের গোলযোগ করবে। দলের নেতাকর্মীরা ছদ্মবেশে আবাসিক হোটেলে উঠবে। মূলত এই কারণেই হোটেলগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ’ বিমানবন্দরের আশকোনায় হোটেল সিরাজের পরিচালক মন্তাজ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে রুম ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক নেতাদেরও ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না। থানা-পুলিশকে বোর্ডারদের ব্যাপারে অবহিত করা হয়। বনানীর-কাকলীতে হোটেল পূর্ণিমার ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না। থানা-পুলিশ আমাদের কিছু দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছে। বোর্ডারদের সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশকে জানানো হচ্ছে। মাঝেমধ্যে পুলিশ আসে। ’ তোপখানা রোডে হোটেল সম্রাটের এক কর্মকর্তা বলেন, তিন দিন আগে শাহবাগ থানার পুলিশ সদস্যরা এসে নির্দেশনা দিয়েছেন। বাড্ডার হোটেল বন্ধুর কর্মচারী রহিমউল্লাহ জানান, আইডি কার্ড ছাড়াও তাদের রাজনৈতিক কানেকশন আছে কি না তা দেখে বোর্ডারদের ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বলছে, ৮ ফেব্রুয়ারি তাদের কোনো কর্মসূচি নেই। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত রবিবার রাজধানীতে এক যুব সমাবেশে বলেন, ‘আমরা কারো সঙ্গে পাল্টাপাল্টিতে যাব না। আমাদের ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের নেত্রী ৮ তারিখে কোনো কর্মসূচি দিতে বলেননি। আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। বিএনপি যদি বিশৃঙ্খলা করে, রাস্তা দখল করে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে। ’ বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়া গতকাল সড়কপথে সিলেটে যান। পথে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হলে তাদের বাধা দেওয়া এবং ধরপাকড় করা হয়। গতকাল নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে আটক করা হয় মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান ও সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদসহ ১০ জনকে। নরসিংদীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়াকে আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সেতু ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, দুর্নীতির মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিএনপি চেয়ারপারসন সড়কপথে সিলেটে শোডাউন করতে গেছেন। তিনি বলেন, ‘এটার কোনো দরকার ছিল না, কারণ তাঁর এজেন্ডা হচ্ছে সেখানে মাজার জিয়ারত করা। মাজার জিয়ারত করার জন্য তিনি রাস্তায় শোডাউন করবেন! রাস্তা দখল করলে পুলিশ সেখানে বাধা দেবেই। ’ ৮ ফেব্রুয়ারি রায়কে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাঠে থাকবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাউন্সিলররা। ডিএসসিসির নগর ভবনে গতকাল দুপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে এক সভায় উপস্থিত কাউন্সিলররা মাঠে থাকার কথা জানান। চট্টগ্রাম থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়ক বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে নগর পুলিশ। একই সঙ্গে মঙ্গলবার রাত থেকেই ঢাকামুখী বাস চলাচল ‘নয়ন্ত্রণ করে অঘোষিত হরতাল’ পরিস্থিতি তৈরি করতে যাচ্ছে। গতকাল বিকেলে নিজ কার্যালয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার মো. ইকবাল বাহার। বৈঠকে নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের অন্তত ৩০ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নগর পুলিশ কমিশনার বলেন, ২০১৩-১৪ সাল এবং ২০১৮ সালের পরিস্থিতি এক নয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে নগরের সিমেন্ট ক্রসিং থেকে পতেঙ্গা ১১ নম্বর ঘাট পর্যন্ত সড়ক দুই দিন বন্ধ থাকবে। নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢাকায় যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা বা নির্দেশনা নেই। তাই চট্টগ্রাম থেকে কেউ ঢাকায় যাবে না। পুলিশের বাস চলাচলের নিয়ন্ত্রণ হতে পারে সরকারের ঢাকা অবরোধ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ। ’ রংপুর অফিস জানায়, রায় ঘোষণার দিন দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। গতকাল রংপুর মহানগর বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ময়মনসিংহ থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক নেতা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। অনেকে ঢাকা আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় বাস ও ট্রেনের টিকিট বিক্রি স্বাভাবিক আছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকা আসতে পারেন।

এই ভয়ঙ্কর অ্যাপগুলি এখনই মোবাইল থেকে সরিয়ে ফেলুন

গুগল প্লে স্টোরকে সুরক্ষিত অ্যাপ স্টোর বানাতে গতবছরই গুগল ৭ লাখ ক্ষতিকর অ্যাপকে প্লে স্টোর থেকে সরিয়ে ফেলেছে। তারপরও বহু ম্যালওয়্যার সমৃদ্ধ অ্যাপ এখনও প্লে স্টোরে রয়েছে। আপনার মোবাইলেও তা ইনস্টল রয়েছে। ফলে কোন অ্যাপকে এখনই আনইনস্টল করতে হবে তা জেনে নিয়ে নিজের মোবাইলকে সুরক্ষিত রাখুন।১. ওয়াইফাই অ্যাপ বিভিন্ন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ওয়াই ফাই কি, ক্রেডেনশিয়াল, হটস্পট, স্পিড অ্যানালাইজার ও বুস্টার অফার করে। একইসঙ্গে নেটওয়ার্ক গার্ড করার দাবি করে। এগুলি ভয়ঙ্কর ক্ষতিকারক। এমন কিছু ডাউনলোড করে থাকলে আন ইনস্টল করুন। ২. ফ্লাশলাইট অ্যাপ অনেকেই মোবাইলে ফ্লাশলাইট অ্যাপ ইনস্টল করেন। এর মাধ্যমে খুব সহজেই ম্যালওয়্য়ার ছড়ায়। স্মার্টফোনের ফ্লাশলাইট অ্যাপ ব্যবহারের জন্য কোনো থার্ড পার্টি অ্যাপ প্রয়োজন পড়ে না। তাই মোবাইল বাঁচাতে এগুলি ইনস্টল করবেন না।  ৩. ফাইল শেয়ার ও ট্রান্সফারিং অ্যাপ এই ধরনের অ্যাপের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ বা ডেটা কেবল ছাড়াই যেকোনো ধরনের গেম, মিউজিক, ভিডিও, ফোটো শেয়ার করা যায়। কিন্তু এর থেকে সাবধান। ৪. কল রেকর্ডার কল রেকর্ডার অ্যাপও ইনস্টল করা উচিত নয়। এতেও মোবাইলের ক্ষতি হয়। বেশিরভাগ মোবাইলেরই ইনবিল্ট ভয়েস বা কল রেকর্ডার অ্যাপ থাকে। তাই আলাদা করে তা ডাউনলোড করার প্রয়োজন নেই। ৫. ডিভাইস ক্লিনিং ও বুস্টিং অ্যাপ ডিভাইস অপ্টিমাইজেশন, বুস্টিং, ব্যাটারি সেভিং, অ্যাপ লক, জাঙ্ক ক্লিনার, সিপিইউ কুলার, গেম বুস্টারের মতো অ্যাপ মোবাইলে ইনস্টল না করাই উচিত। এতে ম্যালওয়্যার ছড়ায়।

অফিসে অতিরিক্ত বন্ধুর সংখ্যা ভাল ফলাফল বয়ে আনে না

কর্মক্ষেত্রে কলিগদের সাথে বন্ধুত্ব কাজের পরিবেশকে সহজ-সাবলীল করে। কাজের প্রতি আগ্রহ এবং কাজের গতি বাড়িয়ে তোলে। ভাল সম্পর্ক থেকে অফিসে বন্ধুত্ব গড়ে উঠতেই পারে। কিন্তু অফিসে অতিরিক্ত বন্ধুর সংখ্যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাল ফলাফল বয়ে নাও আনতে পারে। কর্তৃপক্ষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বন্ধুত্বে গল্পগুজব আর আড্ডা হওয়াটাই স্বাভাবিক। অফিসে বন্ধু বেশি হলে গল্পও বেশি হবে এবং কর্তৃপক্ষ এটিকে কাজের ব্যাঘাত বলেই ধরে নেবে। তাই আপনার অতিরিক্ত বন্ধুর সংখ্যাকে অফিসের ঊর্ধ্বতন বাঁকা নজরেই দেখবেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের পথে বাঁধা অতিরিক্ত বন্ধু প্রায়শই কাজে ফাঁকির কারণ হয় যা আপনার পারফরমেন্স গ্রাফে প্রভাব ফেলবে। আপনার কাজের মূল্যায়ন বন্ধুর মাধ্যমে হলেও তাতে সঠিক তথ্য না আসাটাই স্বাভাবিক। অপেশাদারি আচরণ অফিসে অধিকাংশ কলিগের সাথে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক কোম্পানির চেইন অব কমান্ড, প্রটোকলের লঙ্ঘন করে থাকে। এই ধরনের অপেশাদারি আচরণ আপনার ক্যারিয়ারের ক্ষতিসাধন করবে। ব্যক্তিগত জীবনের জন্য ক্ষতিকারক বন্ধুসুলভ কলিগের সাথে স্বাভাবিকভাবেই ব্যক্তিগত খুঁটিনাটি শেয়ার করলেন, কিন্তু এই বন্ধুত্ব যদি কখনও তিক্ততায় রূপ নেয় তখন এর ফলাফল কি হতে পারে তা আগেই ভেবে নেয়া উচিত। এতসব নেতিবাচক দিকের কথা চিন্তা করে কর্মক্ষেত্রে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ব্যাপারে বিমুখ হয়ে যেতে পারেন অনেকেই। তবে কর্মক্ষেত্রে যথেষ্ট বন্ধু থাকার অনেক ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অফিসে পর্যাপ্ত বন্ধু থাকলে তা কাজের একঘেয়েমি দূর করে মনকে প্রফুল্ল রাখে। এছাড়াও চাকরিসংক্রান্ত যেকোন সমস্যা সহজে শেয়ার করা আর সমাধান পাওয়াও যায় সহজে। ঊর্ধ্বতন কারো সাথে বন্ধুত্ব আপনার কাজের সঠিক মূল্যায়ন এনে দিয়ে আপনার পদোন্নতির পথকেও সুগম করে। কাজেই দেখা যাচ্ছে কর্মক্ষেত্রে বন্ধুত্বের ভাল দিকও কম নয়। কিছু সহজ উপায়ে কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত বন্ধুর বিষয়টিকে নিজের সফলতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।  কর্মক্ষেত্রে বন্ধুদের সাথে সম্পর্কের/ব্যবহারের সীমানা নির্ধারণ করুন। অফিস চলাকালীন সময়ে একে অপরের সাথে কলিগের মতই আচরণ করবেন। কাজের সময় আড্ডায় মেতে উঠবেন না বরং নিজের কাজ নিষ্ঠার সাথে করুন। - ‘পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং ব্লগ’-এর একটি গবেষণা আর্টিকেলে অফিসে কোনো বন্ধু কলিগের সাথে টুকটাক ঝামেলাও তাৎক্ষণিকভাবে মিটিয়ে ফেলার প্রতি জোর দেয়া হয়েছে, সব কিছুকে ব্যক্তিগতভাবে না নেয়াই ভাল। নিজেদের মধ্যে টিমওয়ার্ক আর প্রতিযোগিতা বজায় রেখে কম্পানিকে সাফল্য এনে দিন। এতে করে আপনাদের বন্ধুত্বকে কম্পানি নিজের সাফল্যের হাতিয়ার বলে ভাবতে বাধ্য হবে। কর্মক্ষেত্রে বন্ধুত্বের ব্যাপারে কম্পানির কোনো পলিসি আছে কিনা তা খুঁজে বের করে সেটার নিয়মকানুন অনুসরণ করলে এ বিষয়টি অনেক সহজেই নিজের আয়ত্তে রাখা যায়।  সর্বোপরি পেশাদারি মনোভাব বজায় রাখুন ও ইতিবাচক থাকুন। কর্মক্ষেত্রে সুস্থ-সুন্দর বন্ধুত্ব কাজের গতি বাড়িয়ে উন্নতির পথ প্রসারিত করে। তবে বন্ধুর সংখ্যা আর ব্যবহারের ধরন হতে হবে কর্মক্ষেত্রের নিয়মমাফিক। কর্মক্ষেত্রের বন্ধুত্বকে দায়বদ্ধতা নয় বরং উন্নতির হাতিয়ারে পরিণত করতে পারলেই তা আপনার কর্মজীবনকে করবে উপভোগ্য ও সাফল্যমণ্ডিত।

কর্মক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়

উদ্দেশ্য নির্ধারণ নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি আসলে কী করতে চান কিংবা কেন কাজ করছেন। যেভাবেই হোক এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিন। আর উত্তর খুঁজে পেলেই আপনি চিনে নিতে পারবেন পথ, যে পথে হেঁটে আপনি গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন। নৈতিকতা জরুরি প্রত্যেকের ভেতরই কমবেশি এই গুণ থাকে। আর এ কথা মাথায় রাখা জরুরি যে নৈতিকতাই মানসিক দৃঢ়তার ভিত। এর চর্চা করুন। সাফল্য আসবেই। সব কিছুর নিয়ন্ত্রক নন এ বিষয়ে কোনোই দ্বিধা নেই। আপনি যত ক্ষমতাবানই হন, আপনার একার পক্ষে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সুতরাং এই চিন্তা ভুলেও মাথায় আনবেন না। এটা কেবল চিন্তাশক্তিকেই খর্ব করে না, কর্মস্পৃহাও নষ্ট করে। পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি মানুষের জীবনে পরিবর্তন আসে। আর এই পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারাটাই ইতিবাচক মানসিকতার প্রকাশ। কর্মক্ষেত্রেও বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আবেগকে প্রশ্রয় নয় আবেগ থাকবেই। তবে সব কিছু আবেগ দিয়ে মোকাবেলা করলে চলবে না। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে। সেখানে সমস্যা হলে তা মোকাবেলা করতে হবে পেশাদারি দিয়ে। নইলে মানসিক দৃঢ়তার বড় রকমের অবনতি ঘটতে পারে। নিজেকে যাচাই এটা জরুরি। প্রতিবার একটি ভালো কাজ করার পর নিজেকে যাচাই করুন। আত্মতৃপ্তি হতে পারে, তবে আত্ম-অহংকার থাকা চলবে না।




পুত্র সন্তানের বাবা হলেন মুশফিক

গত নবেম্বরে সহধর্মিণী জান্নাতুল কিফায়াত মন্ডিকে নিয়ে থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন। তখনই জানা যায় বাবা হতে চলেছেন মুশফিকুর রহীম। অবশেষে সোমবার তার প্রথম সন্তান পৃথিবীর আলোয় এসেছে। রাজধানী ঢাকার এক হাসপাতালে তার স্ত্রী সোমবার সকালে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। মুশফিকের বাবা মাহবুব হামিদ ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেন। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে সময় দিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বিশ্রাম চেয়েছিলেন মুশফিক। সেটা হয়তো পেয়েও যেতেন। কিন্তু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের হঠাৎ ইনজুরিতে ছুটি দেয়া হয়নি তাকে। এমন পরিস্থিতিতেও চট্টগ্রাম টেস্টে খেলতে হয়েছে মুশফিককে। এরপরও প্রথম ইনিংসে ৯২ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেন। যদিও দ্বিতীয় ইনিংসে ২ রানেই সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। তবে চরম চাপের মুখে পড়েও দলগতভাবে দারুণ খেলে ঠিকই ম্যাচ ড্র করেছে বাংলাদেশ। টেস্ট ম্যাচ শেষ হওয়ার পরদিনই প্রথম সন্তানের বাবা হয়েছেন মুশফিক। রবিবার টেস্ট শেষ হতেই ঢাকায় ফিরে স্ত্রীর পাশে দাঁড়াতে পেরেছিলেন মুশফিক। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের অক্টোবরে জান্নাতুল কিফায়াত মন্ডির সঙ্গে মুশফিকের বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। এর বছর খানেক পর ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এই জুটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

মিরপুরে সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ের অপেক্ষা

ঠিক চার বছর আগে সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরে এসেছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। সেবার দুই টেস্টের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে হিতে গিয়েছিল তারা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট দারুণ খেলে ড্র করতে সক্ষম হয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল হক সৌরভ অপরাজিত সেঞ্চুরি হাঁকান বলেই সেটা সম্ভব হয়েছিল। আবার সেই সাগরিকাতেই বাংলাদেশের মাটিতে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হলো এবং আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এবারও মুমিনুলের শতকেই স্মরণীয় একটি ড্র পেয়েছে বাংলাদেশ দল। ড্রয়ে শেষ হয়েছিল, এবার ড্রয়ে শুরু। লড়াই এখন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টে সিরিজ নির্ধারণের। চার বছর আগে এই মাঠে হওয়া সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ২৪৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল স্বাগতিক দল। সেখানে এবার লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজের ফয়সালা হওয়ার লড়াই। আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। চট্টগ্রাম টেস্ট রবিবার শেষ হয়েছে, সোমবার সকালেই ঢাকা ফিরেছে উভয় দল। তবে এদিন অনুশীলন না করে বিশ্রাম নিয়েছে দু’দলের ক্রিকেটাররা। চট্টগ্রাম টেস্টের শেষদিন জমে উঠেছিল। চতুর্থ দিনশেষে বাংলাদেশ দল ছিল চাপের মুখে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রানেই হারিয়ে ফেলেছিল ৩ উইকেট। তখনও ১১৯ রানে পিছিয়ে থাকায় আরেকটি পরাজয়ের শঙ্কা উঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু মুমিনুল হকের টানা দ্বিতীয় ইনিংসে করা সেঞ্চুরি এবং লিটন কুমার দাসের ৯৪ রানের অবিস্মরণীয় ইনিংসে দারুণ এক ড্র করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। সেই দুর্দান্ত ড্রয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে এই সাগরিকার মাঠেই করা ড্র ম্যাচটিকে। সেবার প্রথম টেস্টে লঙ্কানদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ দল, ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের লজ্জা হয়েছিল সঙ্গী। এরপরও চট্টগ্রামের সেই ড্র ছিল মুমিনুলের বীরোচিত সেঞ্চুরির সুবাদে। ৪৬৭ রানের জয়েল লক্ষ্যে নেমে ৩ উইকেটে ২৭১ রান তোলে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে। ১৬৭ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন মুমিনুল। এবার চট্টগ্রাম টেস্টে যেন সেই স্মৃতিটাকেই ফিরিয়ে আনলেন এ টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও করলেন ১০৫ রান। উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করার প্রথম রেকর্ড এটি বাংলাদেশের পক্ষে। দুই ইনিংসে ২৮১ রান করে এক টেস্টে সর্বাধিক রান করার দেশীয় রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। এই টেস্টে মুমিনুল বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুততম ২ হাজার রানও পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারে। অবিস্মরণীয় সেই জয়ে এখন বেশ উজ্জীবিত দল বাংলাদেশ। তবে মিরপুর টেস্টে কিছুটা পরিবর্তন থাকবে একাদশে সেটা নিশ্চিত। কারণ চট্টগ্রামে অভিষেক হওয়া বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম বাদ পড়েছেন দ্বিতীয় টেস্টে। এ কারণে একাদশে ফেরার প্রায় নিশ্চিত হয়েই গেছে অভিজ্ঞ বাঁহাতি আব্দুর রাজ্জাকের। এছাড়া গত টেস্টের দলে না থাকলেও ঢাকা টেস্টের স্কোয়াডে ফিরেছেন সাব্বির রহমান। না খেলেও বাদ পড়েছেন পেসার রুবেল হোসেন। এ কারণে মিরপুর টেস্টে নিশ্চিতভাবেই ভিন্ন স্কোয়াড নিয়ে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। আর মিরপুরের উইকেট বৈচিত্র্যময়তায় ভরপুর। যেকোন সময় ভাবনাতীত আচরণ দেখানোর অতীত অনেক দৃষ্টান্তই আছে এখানে। তবে সেই বৈচিত্র্যময়তার ফাঁদে বেশিরভাগ সময় বলি হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলই। যেমনটা এবার ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালেও দেখা গেছে। এই টেস্টের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে সিরিজের ট্রফি কার ঘরে উঠবে সেটা। আবারও ড্র হয়ে গেলে সিরিজ নিষ্পত্তিহীনই থাকবে। চট্টগ্রাম টেস্টের উভয় ইনিংসে শতক হাঁকানোয় আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে মুমিনুল উঠে এসেছেন ২৭ নম্বরে। তিনি ১৫ ধাপ এগিয়েছেন। আর তামিম ইকবাল ২১, সাকিব আল হাসান ২২, মুশফিকুর রহীম ২৫ এবং অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৬ ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ৪৮ নম্বর পজিশনে জায়গা করে নিয়েছেন। আর ৯৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলে ৮১ নম্বরে লিটন কুমার দাস। র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদেরও। কুসাল মেন্ডিস ২৩, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ৩৮ এবং রোশেন সিলভা ১০৬ নম্বরে উঠে এসেছেন। মিরপুরেও সচরাচর স্পিনবান্ধব উইকেটই দেখা যায় টেস্টে। সেজন্য সুসংবাদ আছে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের জন্য। দু’জনই ১ ধাপ করে এগিয়ে যথাক্রমে ৩৬ ও ৩৮ নম্বরে আছেন। আর মিরপুর বেশ পয়মন্ত ডানহাতি অফস্পিনার মিরাজের জন্য, এখানেই অভিষেক টেস্টে তিনি ধসিয়ে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়াকে। এখন শুধু আরেকটি লড়াইয়ে নামার অপেক্ষা। সোমবার বিশ্রাম নিয়ে আজ থেকেই সেজন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করবে দু’দল। দু’দিন অনুশীলন করার সুযোগ রয়েছে ক্রিকেটারদের।

সিরীয় শরণার্থীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠাবেন না

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাতা সংস্থা আশ্রয় প্রদানকারী মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শরণার্থীদের সিরিয়াতে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সতর্ক করে বলেছে, সংঘাতপূর্ণ দেশটিতে এখনও চরম নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। এ অবস্থায় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হলে তারা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। সোমবার এক প্রতিবেদনে দাতা সংস্থাগুলো এই সতর্কতার কথা প্রকাশ করে। খবর এএফপির। যে কয়টি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা যৌথভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, নরওয়েজিয়ান রিফ্যুজি কাউন্সিল (এনআরসি), এ্যাকশন এগনেস্ট হাঙ্গার ও ড্যানিশ রিফ্যুজি কাউন্সিল। এতে বলা হয়, দেশটিতে বোমা বিস্ফোরণ, হামলা-পাল্টা হামলা, বিমান আক্রমণসহ সন্ত্রাস অব্যাহত থাকায় শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর অর্থ তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া। ‘ভয়ঙ্কর উপত্যকা’ নামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, আশ্রয় প্রদানকারী দেশগুলো সিরিয়ার নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে বা আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। অথচ সিরিয়ার সামরিক পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন ঘটেনি। সিরিয়াতে গত ২০০১ সাল থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৪০ হাজার লোক নিহত হয়েছে। দেশটির বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর বেশিরভাগ লেবানন, জর্দান ও তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছে। মাত্র ৩ ভাগ শরণার্থী সম্পদশালী দেশগুলোতে আশ্রয় পেয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্রসজ্জা

স্থায়ুযুদ্ধের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অস্ত্রভা-ারে যে সব দূরপাল্লার পারমাণবিক সমরাস্ত্র মজুদ ছিল সেগুলো সর্বনিম্ন পর্যায়ে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে দেশ দু’টি আট বছর আগে যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল সোমবারে তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরকালে তদানীন্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা এই মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এটি ভবিষ্যতে আরও বেশি অস্ত্র হ্রাসের প্রাথমিক ছোট্ট পদক্ষেপ- যা শেষ পর্যন্ত একটি পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। কিন্তু বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ওবামার সেই আশাবাদের কোন প্রতিফলন দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না- বরং তার উল্টোটাই ঘটতে দেখা যাচ্ছে। কারণ গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি নতুন পারমাণবিক নীতি গ্রহণ করেছে যা ভদিমির পুতিনের আধুনিকায়িত রুশবাহিনীকে রুখে দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে। এতে ওবামা স্বাক্ষরিত চুক্তির কোন বরখেলাপ হবে না বরং নতুন মাত্রায় পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা হবে। নতুন এই মার্কিন কৌশল অনুযায়ী পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটবে না অথচ অস্ত্র প্রযুক্তির উন্নত ও সূক্ষ্ম ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। যাতে প্রতিপক্ষের রণকৌশল মার খেয়ে যায় এবং রণাঙ্গনে হতবুদ্ধিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পেন্টাগনের দৃষ্টিতে এই নতুন পারমাণবিক নীতি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার আরও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। এই কৌশলের অংশ হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্রগুলো সীমিত পরিধিতে ব্যবহার্য এবং অপেক্ষাকৃত কম বিধ্বংসী কার্যকরী সক্ষমতায় তৈরি করা হবে। নতুন পরমাণু অস্ত্র নীতির সমর্থকদের বক্তব্য হচ্ছে যে, এটি রুশদের অগ্রাভিযান ঠেকাতে বেশ কার্যকরী হবে। পক্ষান্তরে এই নীতির সমালোচকদের বক্তব্য হচ্ছে, দ্রুত পরিবহন ও মোতায়েন করতে সক্ষম এসব পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে যে কোন প্রেসিডেন্ট প্রলুব্ধ হতে পারেন। এক্ষেত্রে ট্রাম্পের মতো অস্থিরচিত্ত প্রেসিডেন্টকে ইঙ্গিত করেই বিশ্লেষকরা এ ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ইতোমধ্যেই ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে শায়েস্তা করার জন্য ‘ফায়ার এ্যান্ড ফিউরি’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু গত সপ্তাহে স্টেট অব দ্য ইউনিয়নের ভাষণে ট্রাম্প একবারের জন্যও রাশিয়াকে মোকাবেলার জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের আধুনিকায়নের কথা বলেন নি। তিনি পারমাণবিক অস্ত্রের আধুনিকায়নে এক দশমিক দুই ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও তা অনুমোদনের পক্ষে তার অভিমত প্রকাশ করেছেন। স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে ট্রাম্প তার বক্তৃতায় প্রধানত উত্তর কোরিয়া ও সন্ত্রাসী কর্মকা- দমনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। কিন্তু উত্তর কোরিয়া যে যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলা করার মতো কোন প্রতিপক্ষ নয় বরং আরও বড় কোন শক্তি দেশটির প্রতিপক্ষ এটি কয়েকদিন আগেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ নয়, বরং পরাশক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হচ্ছে বর্তমান মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার মূল লক্ষ্য। প্রেসিডেন্ট তার স্টেট ইউনিয়ন ভাষণে যে কথা উল্লেখ করেননি তা শুক্রবারে প্রকাশিতÑ পারমাণবিক অবস্থা পর্যালোচনা শীর্ষক এক প্রতিবেদনে রাশিয়াকে ইঙ্গিত করে মার্কিন সমরসজ্জার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এতে বলা হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সামরিক কর্মকা- যুক্তরাষ্ট্রকে তার পারমাণবিক যুদ্ধ সরঞ্জাম পুনর্গঠনে বাধ্য করছে। এই প্রতিবেদনে পেন্টাগন ও প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তুতকৃত বেশ কিছু দলিল সংযুক্ত করা হয়। এসব প্রতিবেদনে রাশিয়ার আগ্রাসী সামরিক তৎপরতার বেশ কিছু তথ্য সন্নিবেশিত হয়। এরমধ্যে রুশ নির্মিত স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক টর্পেডোর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। এই পরমাণু প্রযুক্তিসম্পন্ন টর্পেডো প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মোতায়েনের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। এটির চলাচল ও গতিবিধি শনাক্ত করা যায় না- এবং এই টর্পোডো আঘাত হানলে মারাত্মক তেজষ্ক্রিয় ধুম্রকু-লির সৃষ্টি হবে। যাতে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলবর্তী বিশাল অঞ্চল জনমানব শূন্য হয়ে পড়বে। রাশিয়ার সঙ্গে ওবামা স্বাক্ষরিত চুক্তি যা নিউ স্টার্ট (নব যাত্রা) নামে তখন প্রকাশিত হয়েছিল তাতে কিন্তু এই রুশ নির্মিত পারমাণবিক টর্পেডোর কোন উল্লেখ নেই। চুক্তির ফাঁক ফোকর দিয়ে রাশিয়া তার সমরসজ্জা অব্যাহত রেখেছে তাই যুক্তরাষ্ট্রকে তার নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রতিরক্ষা কার্যক্রম আরও সুসংহত করতে হবে বলে এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নতুন পারমাণবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করা হলে তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য জেনারেল ম্যাটিস ও লেঃ জেনারেল ম্যাক মাস্টারকে মতামত প্রদানের জন্য দায়িত্ব দেন। পরে বিস্তারিতভাবে অবগত হয়ে সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তিনি রাশিয়াকে প্রথম এবং চীনকে দ্বিতীয় স্থানে রাখার পরামর্শ দেন। এ সময় ট্রাম্পকে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতার বেশ কিছু দিক তুলে ধরা হয়। রাশিয়ার বোমারু বিমানগুলোর সুনিপুণ লক্ষ্যভেদ প্রক্রিয়া, জলে স্থলে দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ছাড়াও নতুন দুটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির কথা ট্রাম্পকে জানানো হয় এবং এসবই ওবামা স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির লঙ্ঘন। সবকিছু অবহিত হওয়ার পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কিছু না বললেও এক দশমিক দুই ট্রিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নে অনুমোদনের কথা বলেন।

শিশু সন্তান আইসিইউ’তে, বিল মেটাতে রাস্তায় রাস্তায় বুকের দুধ বিক্রি মায়ের

সদ্যজাত জমজ সন্তানের এক কন্যাসন্তান হাসপাতালের আইসিইউতে। হাসপাতালে বাকি লাখ ইউয়ান। বিল মেটাতে বাধ্য হয়ে রাস্তায় রাস্তায় নিজের বুকের দুধ বিক্রি করছেন তরুণী মা। সম্প্রতি চীনের গুয়াংডং প্রদেশের প্রধান শহর শেনজেনে এ ঘটনা ঘটেছে।মিয়াওপাই ভিডিও ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয় ভিডিওটি। চীনের সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম সিনা ওয়েইবো’তে শেয়ারের পর এরই মধ্যে ভিডিওটি প্রায় ২৫ লাখ ভিউ হয়েছে। এবং এটির নিচে ৫ হাজারের বেশি কমেন্ট পড়েছে। শেনজেনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি শিশুপার্কের ভিডিওটি চিত্রায়িত হয়েছে। এতে ওই তরুণী মা ও তার স্বামী বলেন, তার নবজাতক জমজ সন্তানের একজন শেনজেনের বাওন জেলা পিপলস হসপিটালের আইসিইউতে রয়েছে। তার চিকিৎসা খরচের জন্য দ্রুত অর্থ জোগাড় করতে তিনি বুকের দুধ বিক্রি করছেন। তার স্বামী বলেন, এরই মধ্যে হাসপাতালে হাজার হাজার ইউয়ান জমা পড়েছে। ডাক্তার বলেছে যে, তার নবজাতক শিশুসন্তান সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। এখন আমাদের কমপক্ষে এক লাখ ইউয়ান পরিশোধ করতে হবে।

এখনও বেঁচে আছে নিউটনের সেই আপেল গাছ

মাধ্যাকর্ষণ সূত্র আবিষ্কার করেন আইজ্যাক নিউটন। একদা তিনি তাঁর বাড়ির আঙিনার একটি আপেল গাছের নিচে বসে ছিলেন। এ সময় সেই গাছ থেকে একটি আপেল তার মাথায় পড়ে। আপেল কেন ওপরে কিংবা আশপাশে না গিয়ে সোজা নিচের দিকে এলো, এই চিন্তা করতে করতে তিনি মাধ্যাকর্ষণের ধারণা পেয়ে যান। সেই আপেল গাছটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে যুক্তরাজ্যে নিউটনের লিংকনশায়ারের বাড়িতে। নিউটনের মাথায় আপেল পড়ার ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে অষ্টাদশ শতাব্দীর একটি পাণ্ডুলিপিতে। যেটির লেখক নিউটনের বন্ধু উইলিয়াম স্টুকিল। পাণ্ডুলিপিতে তিনি লিখেছেন, নিউটন আমাকে বলেছিলেন আপেল গাছটির নিচে তিনি গভীর চিন্তামগ্ন ছিলেন। এ সময় আপেলটি মাথার ওপর পড়ার কারণেই তিনি বিষয়টি নিয়ে ভাবতে বসেছিলেন। এই ভাবনা থেকে বের হয়ে আসে আজকের মাধ্যাকর্ষণ সূত্র। স্টুকিল ওই পাণ্ডুলিপিতে লিখেছেন, নিউটন এবং তিনি এই আপেল গাছটার নিচে বসে একদিন চা খাচ্ছিলেন। এমন সময় নিউটন তাকে বলেন, তুমি কি জানো আমি যুবক বয়সে এই গাছের নিচে বসা অবস্থায় মাধ্যাকর্ষণের ধারণা পেয়েছিলাম? আমি তখন কথাটি রসিকতা মনে করে বলেছিলাম। কিন্তু পরে কথাটি নিউটন যখন তার ছাত্রদেরও একাধিকবার বলেছেন তখন বুঝতে পারি সেটি রসিকতা ছিল না।

প্রস্রাবে ফেনা হতে পারে ভয়ানক কোনো রোগের লক্ষণ!

জীবন বড়ই গোলমেলে। কোন বাঁকে যে মৃত্যু লুকিয়ে, তা বোঝা খুবই কঠিন কাজ। তাই তো সময় থাকতে শরীরের ভাষাকে রপ্ত করতে শিখুন। জানার চেষ্টা করুন শরীরের সেই সব ছোট ছোট লক্ষণকে, যা দেখে সহজেই বোঝা সম্ভব দেহে কোনো রোগ বাসা বেঁধেছে কিনা। যেমন ধরুন প্রস্রাব। ইউরিন দেখে শরীরের অন্দরের একাধিক গোপন রদবদল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা করে নেওয়া সম্ভব। শুধু শিখে নিতে হবে শরীরের ভাষাটা। তাহলেই কেল্লাফতে! অনেকেরই প্রস্রাব করার সময় ফেনা হয়। কেন এমনটা হয় জানা আছে? সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে এক্ষেত্রে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ মনে করেন প্রস্রাব খুব স্পিডে বেরোনোর কারণেই এমনটা হয়ে থাকে। যদিও এই ধরণা একেবারে ভুল নয়। তবে প্রস্রাবে ফেনা হওয়ার পিছনে অনেক সময় কোনো না কোনো রোগের ভূমিকাও থাকে। তবে সেক্ষেত্রে ইউরিনে ফেনার হওয়ার সঙ্গে আরও কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন... প্রস্রাবে ফেনা এবং আরো কিছ কোনো রোগের কারণে যদি প্রস্রাবের ধরনে এমন বদল আসে, তাহলে হাতের তালু, পা এবং মুখ ঘামতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে ক্লান্তি, ক্ষুধা কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, বমি, ঘুম কমে আসা, প্রস্রাবের রং গাড় হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলিও প্রকাশ পেতে শুরু করবে। কী কী কারণে প্রস্রাবে এমন ফেনা হতে পারে? ব্লাডার থেকে খুব দ্রত গতিতে প্রস্রাব বের হলে সাধারণত এমন ধরনের ফেনা হয়ে থাকে। কিন্তু যদি রোগের প্রসঙ্গে আসেন, তাহলে বলতে হয় শরীরে যখন পানির অভাব দেখে দেয়, তখন প্রথম লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবে ফেনা দেখা দেয়। তাছাড়া প্রস্রাবে প্রোটিন বা অ্যালবুমিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে, কিডনির কর্মক্ষমতা কমতে থাকলে এবং স্পার্মের ক্ষরণ ঠিক মতো না হলে এমন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে  কিডনির কাজ হল রক্তে উপস্থিত টক্সিক উপাদান প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়া। কিন্তু যখন কিডনির ক্ষমতা কমতে থাকে, তখন প্রস্রাবের সঙ্গে বর্জ্য পদার্থের পাশাপাশি প্রোটিনও বের হতে শুরু করে। প্রোটিন বায়ুর সংস্পর্শে এলে ফেনায় পরিণত হয়। তাই টানা কয়েক দিন ধরেই যদি প্রস্রাবে ফেনা হতে থাকে, তাহলে যত শীঘ্র সম্ভব চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। ভয়ের কারণ আছে কী? শরীরের ভাইটাল অর্গানগুলির মধ্যে অন্যতম হল কিডনি। তাই এই অঙ্গটি যদি ঠিক মতো কাজ করতে না পারে তাহলে তো বিপদ। সেই কারণেই প্রস্রাবে ফেনা হওয়াটাকে হাল্কা চালে নেওয়া উচিত নয়। প্রসঙ্গত, যে যে কারণে কিডনির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেই কারণগুলি হল- ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনি ডিজজ, উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি।  তাই কারো যদি এই রোগগুলির মধ্যে কোনোটা থাকে এবং প্রস্রাবে ফেনা হওয়ার মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়, তাহলে সাবধান হতে হবে। এক্ষেত্রে কী কারণে এমন লক্ষণ দেখা দিচ্ছে সে সম্পর্কে জেনে নিয়ে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করতে হবে। না হলে কিন্তু মৃত্যু মুখে পড়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। আরেকটি রোগের কারণেও অনেক সময় প্রস্রাবে ফেনা হয়ে থাকে, কী সেই রোগ? শরীরের নিয়ম অনুসারে বীর্য ইউরেটার হয়ে শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু এমনটা না হয়ে যখন বীর্য উল্টো পথে ইউরিনারি ব্লাডারের দিকে চলে যায়, তখন নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। যার অন্যতম হল প্রস্রাবে ফেনা হওয়া। এই রোগকে চিকিৎসা পরিভাষায় রেট্রোগেড ইজেকুলেশন বলা হয়ে থাকে। ইউরিনে ফেনা হচ্ছে কেন তা জানতে কী করণীয়? এক্ষেত্রে প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি যদি প্রয়োজন বোধ করেন তাহলে ইউরিনের নমুনা নিয়ে কয়েকটি টেস্ট করলেই ধরা পরে যাবে ফেনা হওয়ার কারণ কী। এক্ষেত্রে চিকিৎসা কী? কী কারণে এমনটা হচ্ছে জানার পর সেই মতো চিকিৎসা শুরু করতে হয়। যদি কিডনির কোনো রোগের কারণে প্রস্রাবে ফেনা হয়ে থাকে তাহলে সেই রোগের চিকিৎসা শুরু করতে হবে। একবার রোগ সেরে গেলেই লক্ষণও কমে যেতে শুরু করবে। ফেনা কোনো রোগের কারণে হচ্ছে কিনা জানার কোনো সহজ পদ্ধিত আছে? মাঝে মধ্যে প্রস্রাবে ফেনা হওয়াটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে চিন্তার কোনো কারণ নেই। কিন্তু যদি দেখেন বেশ কয়েকদিন ধরেই এমনটা হচ্ছে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না। এছাড়াও যে যে বিষয়গুলির প্রতি খেয়াল রাখতে হবে, সেগুলি হল, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়ছে কিনা এবং অন্য কোনো শারীরিক অসুবিধা দেখা দিচ্ছে কিনা।

অভিনয়ের বিনিময়ে প্রসূনকে 'অনৈতিক প্রস্তাব' প্রযোজকের

ক'দিন আগেই অভিনেত্রী ফারিয়া শাহরিন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন এদেশের শোবিজের কাস্টিং কাউচের কথা। শোবিজ অঙ্গন থেকে 'অনৈতিক প্রস্তাব' পাওয়ার কথাও তিনি তুলে ধরেছিলেন। আর এর ফলে দেশের শোবিজ অঙ্গনে যেন আগুন ধরে যায়। সেই আগুন নিভতে না নিভতেই আগুনে যেন ঘি ঢেলে দিলেন আরেক অভিনেত্রী প্রসূন আজাদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন প্রযোজকের 'চাহিদা'র কথা তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী। জানা গেছে, মাধ্যম দিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব আসে প্রসূনের কাছে।   প্রসূন সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে লিখেছেন, 'একজন কল দিয়ে বললো- আপা আমাদের কিছু এক ঘণ্টার নাটক আর টেলিফিল্ম বানানো হবে। কথাটা কিভাবে বলবো... মানে প্রডিউসার... আপা নির্ভয়ে বলবো? আমি বললাম প্রডিউসার কি? শুতে চায়? উনি বললেন- জ্বী আপা মানে পারিশ্রমিকতো দিবেন উনি, তা বাদে কত টাকা নিবেন জানতে চাইলো।' প্রসূন জবাবে বলেছিলেন অনেক কঠিন কথা। সেটা তিনি স্পষ্ট করে লিখেছেন। প্রসূন বলেন, 'বললাম প্রডিউসার এর মা কে কল করেন। প্রডিউসার এর মা কত নেয় জানতে চান।' যদিও প্রসূন আজাদ উল্লেখ করেন নি কে ওই প্রযোজক কিংবা প্রস্তাবের মাধ্যমই বা কে! তবে ইতোমধ্যে লাক্স তারকার এই বক্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে শোবিজপাড়ায়।

গান গাইতে রাজি না হওয়ায় পাকিস্তানি শিল্পীকে গুলি করে হত্যা

ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে গান গাইতে রাজি না হওয়ার কারণে এক গায়িকাকে নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ২৫ বছর বয়সী ওই গায়িকার নাম সুম্বুল খান। তিনি পাকিস্তানের খাইবারপাখতুন খোয়াপ্রদেশের মার্দান এলাকার শেখ মারতুন শহরে বসবাস করেন। সুম্বুলের বাড়িতে জোর করে ঢুকে পড়ে তিনজন। তারা নিজেদের পার্টিতে গান গাওয়ার জন্য সুম্বুলকে প্রস্তাব দেন। কিন্তু সুম্বুল গান গাইতে রাজি না হওয়ায় তাকে উপর্যুপরি গুলি করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান এ শিল্পী। নিহত সুম্বুল পাকিস্তানে বেশ পরিচিত কণ্ঠশিল্পী। তিনি দেশটির বিভিন্ন টেলিভিশন শো’তে গান করেন। সুম্বুলকে হত্যার দায়ে নইম খাট্টাক নামে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তার সঙ্গে থাকা আরও দুজনকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি।

সিরাজগঞ্জে যত্রতত্র ৫০ ইটভাঁটি

রায়গঞ্জ উপজেলার ইটভাঁটিগুলো গিলে খাচ্ছে হাজার হাজার একর উর্বর আবাদী জমির মাটি ও কাঠ। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অনুমোদনবিহীন ৫০টি ইটভাঁটিতে ব্যবহৃত হচ্ছে রেজিস্ট্রেশনবিহীন অসংখ্য ট্রাক। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তা, সরকার হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, কমে যাচ্ছে ফসল উৎপাদন। এছাড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ইটভাঁটিতে অবাধে কাঠ ও ফলজ গাছ কেটে পোড়ানো হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে রায়গঞ্জ উপজেলাতেই নতুন পুরাতন মিলে ৫০টি ইটভাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালেই গড়ে উঠেছে ১৬টি নতুন ভাটা। এসব ভাটার মধ্যে নামমাত্র কাজগপত্র রয়েছে মাত্র ২৪টির। বাকি ২৬টি রেজিস্ট্রেশনসহ বৈধ কাগজপত্র নেই। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, কৃষি অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর, আয়কর বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে অবাধে ব্যবসা করে যাচ্ছেন প্রভাবশালী ভাঁটি মালিকরা। ফলে মোটা অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজার হাজার একর কৃষি জমি, কমে যাচ্ছে ফসলী জমির পরিমাণ, সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে খাদ্যশস্যের, উজাড় হচ্ছে ফলজ ও ওষুধি গাছ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাঁটির কর্মরত কয়েকজন কর্মচারী জানান, পরিবেশ অধিদফতর, আয়কর বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে চলছে এসব ভাঁটির কার্যক্রম। এসব ভাঁটি থেকে মাটি ও ইট বহনকারী বৈধ কাগজবিহীন ট্রাক ব্যবহৃত হচ্ছে। ড্রাইভিং সনদবিহীন, অপ্রশিক্ষিত ও অদক্ষ চালকের কারণে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ দিতে হচ্ছে নিরীহ পথচারীদের। এসব ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ না নেয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভাঁটি মালিকসহ সংশ্লিষ্ট যানবাহন চালকরা। এসব ভাঁটিতে ইট তৈরির জন্য অবাধে বিশাল বিশাল এলাকা জড়ে পুকুর আকৃতির গর্ত করে উর্বর ফসলী জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। অনাবাদী ২ একর জমি ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও প্রতিটি ইটভাঁটি নির্মাণে ১০ একরের অধিক দো-ফসলি আবাদী কৃষি জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিধিমালা অনুযায়ী ভাঁটির ১ কিঃমিঃ এর মধ্যে আবাসিক বাড়ি, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এলজিইডির পাকা রাস্তা থাকা চলবে না। ভবিষ্যতে কৃষি বিভাগ কর্তৃক ইটভাঁটির জন্য নির্ধারিত স্থানটি কৃষি জমি হিসেবে দাবী করলে এবং এ অফিস কর্তৃক ইটভাঁটি বন্ধ করার নির্দেশ প্রদান করা হলে উদ্যোক্তা ইটভাঁটি বন্ধ করতে বাধ্য থাকবে এবং কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে না। বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা, স্থানীয় কৃষি অফিস দাবি তো দূরের কথা তাদের চোখের সামনে একের পর এক গড়ে ওঠা প্রতিটি ভাঁটি নির্মাণে ৩০ একরেরও বেশি কৃষি জমি ব্যবহার করছে ভাঁটি মালিকরা। ইটভাঁটির জন্য যে স্থান হতে মাটি কাটা হবে ওই স্থানকে পাড় বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ পুকুরে পরিণত করতে হবে যাতে সেখানে মৎস্য চাষ করা যায় এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনসাপেক্ষে মজা পুকুর, খাল, খাড়ি, দিঘী, নদ-নদী, হাওড়-বাঁওড়, চরাঞ্চল বা তৎসমতূল্য জায়গা থেকে ইট তৈরির মাটি সংগ্রহ করার কথা থাকলেও তা যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। এ ভাঁটিগুলো এসব নিয়মের প্রতি বুড়ো আঙ্গুল দেখালেও কর্তৃপক্ষ অজানা কারণে নিশ্চুপ। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কসহ গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা ব্যবহারে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। কাঁচা রাস্তায় ভাঁটির কাজে নিয়োজিত যানবাহনগুলোর যাতায়াতের ফলে সাধারণ পথচারীসহ স্কুল-কলেজগামী শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। সকালে স্কুলব্যাগ নিয়ে পরিষ্কার কাপড় চোপড় পরে বেরিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরা বিকেলে যখন বাড়ি ফেরে তখন দেখা যায় পা থেকে মাথা পর্যন্ত শরীরের আদ্যপান্ত ধূলায় জড়ানো। এতে এসব শিশুরা আক্রান্ত হয়ে পড়ছে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ কাঁচা-পাকা এ রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যা পুনঃনির্মাণে সরকারের অপচয় করতে হবে প্রচুর অর্থ। এ দিকে যেনতেনভাবে ট্রাক কিনে কাগজপত্র ছাড়াই সরকারী সম্পদ ধ্বংস করে উপজেলার মধ্যে অবাধে ভাঁটির ইট, বালি, মাটি বহন করে লাখ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করছে ট্রাক মালিকগণ। ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারী সম্পদ যেমন- রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট। ভোগান্তির শিকার হচ্ছে উপজেলার ৪ লক্ষাধিক মানুষ। এ দিকে সম্প্রতি নির্মাণাধীন একাধিক ইটভাঁটির একটি তৈরি করা হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স, রায়গঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, রায়গঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা সংলগ্ন নিচু দোফসলী জমিতে। এ ব্যাপারে ভাটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান- পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের মৌখিক অনুমোদনসাপেক্ষে নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। ইটভাঁটিসহ এসব ট্রাকের বিরুদ্ধে সঠিক আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বৃদ্ধিসহ সরকারী সম্পদ রক্ষা হবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও প্রশাসনের নীরবতায় বিবেকবান মানুষের মনে জন্ম নিচ্ছে নানা প্রশ্ন ও জনমনে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। রায়গঞ্জ ইটভাঁটি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ খান বলেন, ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র অনুমোদনহীন ভাঁটি করা হচ্ছে। কেউ কোন নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করছেন না। এটি প্রশাসনের দেখার বিষয়। এতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল আখতার খান বলেন, গত বছর বেশ কয়েকটি মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছিল। সেই সময় ওই ইটভাঁটিগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া ছিল। কিন্তু চলতি নতুন বছরে ওই ইটভাঁটিগুলো পরিবেশ অধিদফতরের সনদ এনে পুনরায় চালু করছে। এতে আমি কি করব। তিনি আরও বলেন, গতবারের বন্ধ ইটভাঁটিগুলো চালু হওয়ার কারণে ইটভাঁটির সংখ্যা বাড়ছে মনে হলেও আসলে বাড়ছে না।

যৌতুকের জন্য পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া গৃহবধূর মৃত্যু

যৌতুকের দাবিতে শরীরে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেয়ার ১৭ দিন পর মারা গেলেন গৃহবধূ লিমা পারভীন (১৯)। তিনি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের পাইকাড়া গ্রামের আকরাম সানার স্ত্রী। শনিবার সন্ধ্যায় খুলনা আড়াইশ বেড হাসপাতালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় নারী ও শিশুনির্যাতন আইনে গৃহবধূর স্বামীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান নিহতের পিতা গফফার গাজী। পুলিশ জানায়, উপজেলার বরেয়া গ্রামের গফফার গাজীর মেয়ে লিমা পারভীনের সঙ্গে প্রায় ২ বছর আগে পারিবারিকভাবে পাশর্^বর্তী পাইকাড়া গ্রামের আকবর সানার ছেলে আকরাম সানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ব্যবসার জন্য আকরাম ও তার পিতা আকবর সানা যৌতুক হিসেবে ৭৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মোটরসাইকেলের দাবিতে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি বিভিন্ন সময়ে আবারও শারীরিকভাবে তাকে নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে পিতার বাড়িতে আশ্রয় নেয় লিমা পারভীন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় লিমাকে পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে ফিরিয়ে নেয়া হয়। কিছুদিন না যেতেই আবারও শুরু হয় স্বামী, শ^শুর ও শাশুড়ির নির্যাতন। এরই জের ধরে গত ১৭ জানুয়ারি দুপুরে শাশুড়ি জাহানারা পুত্রবধূ লিমা পারভীনকে ঝাড়ু দিয়ে বেদম মারপিট করে। এরপর গৃহবধূর স্বামী আকরাম ও শ্বশুর আকবর সানা তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে ম্যাচ ঠুকে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। গৃহবধূর চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ঘরের দরজার শিকল লাগিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান আকরাম, তার পিতা আকবর ও মাতা জাহানারা। এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার ১৭ দিন পর শনিবার লিমা পারভীনের মৃত্যু হয়।

শিক্ষা সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী চাপ দিয়ে কিছু আদায় করা যাবে না

সরকারকে চাপ দিয়ে কিছু আদায় করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষকদের একটি অংশের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বিক্ষোভ করলেই সরকারের পক্ষে দাবি পূরণ সম্ভব নয়। কারণ সরকার পরিকল্পনা ও বাজেট ছাড়া দাবি পূরণ করতে পারে না। গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহস্রাধিক কলেজ অধ্যক্ষের অংশগ্রহণে ‘শিক্ষা সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এটুকু বলব, চাপ দিয়ে কিন্তু কেউ কিছু আদায় করতে পারবে না। কেউ যদি মনে করেন সরকারের এটা শেষ বছর, অমনি দাবি করলেই আমরা সব শুনে ফেলব, সেটা সম্ভব নয়। আমি কিন্তু ক্ষমতার পরোয়া করি না। ক্ষমতায় থাকি বা না থাকি, আমার কিছু আসে যায় না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোথায় কোনটা সরকারি করতে হবে, কোনটা করতে হবে না, কোন নীতিমালার ভিত্তিতে হবে, সেটাও তো একটা নীতিমালার ভিত্তিতে হবে। যখন-তখন যে কেউ দাবি করলে সেটা তো পূরণ করা সম্ভব নয়। এটা সকলকে অনুধাবন করতে হবে, বুঝতে হবে। এটুকু ভরসা রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ যতক্ষণ ক্ষমতায় আছে, কাউকে বঞ্চিত করে নাই, কাউকে বঞ্চিত করবে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা, আপনাদের হাতেই রয়েছে জাতির ভবিষ্যৎ। একজন শিক্ষকের কাছে আমি এটুকুই চাই, আপনারা কতটুকু দিতে পারলেন, করতে পারলেন। কী ধরনের শিক্ষাটা আপনারা দিয়ে যেতে পারলেন যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে, দেশকে আরো উন্নত করতে পারবে, সেটাই হচ্ছে বড় কথা।’ শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সেবা বাড়িয়ে যাচ্ছি। আমরা কখনো কাউকে বঞ্চিত করছি না।’ তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষকদের আরো আধুনিক হতে হবে। জাতির জনকের স্বপ্ন অনুয়ায়ী দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তাঁর লক্ষ্য উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে নিজের বা দলের সম্পদ গড়ে তোলা বা নিজেরা সম্পদশালী হওয়া তাঁর নীতি নয়। এ সময় তিনি নিজেদের (তাঁর ও ছোট বোন শেখ রেহানার) সামান্য সম্পদটুকুও রাষ্ট্রের জন্য ট্রাস্ট করে দান করে দেওয়া এবং তাঁদের সন্তানরা নিজেদের উপার্জিত অর্থ দিয়েই অত্যন্ত কষ্ট করে লেখাপড়া শিখে আজকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কলেজ র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষদের হাতে সম্মাননা স্মারক, পুরস্কারের চেক এবং বঙ্গবন্ধুর লেখা দুটি বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ তুলে দেন। এবার জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয়েছে রাজশাহী কলেজ, দ্বিতীয় পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ, তৃতীয় রংপুরের কারমাইকেল কলেজ, চতুর্থ বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, পঞ্চম বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ, সেরা মহিলা কলেজ ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ এবং সেরা বেসরকারি কলেজ ঢাকা কমার্স কলেজ। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ভবন, প্রকল্প ও স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে ‘গর্ভপাত’

 ভ্রুন হত্যা ও কন্যাসন্তান হত্যা করার প্রবনতা, এই ধরনের ঘৃন্য মানসিকতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের এই বস্তুবাদী সমাজে, ব্যভিচার, য়েনা, দারিদ্রতার ভয়ে তাদের সন্তানকে জন্মের আগেই গর্ভে মেরে ফেলা হচ্ছে বা জন্মের পর মেরে ফেলা হচ্ছে। আধুনিক য়ুগে শিক্ষিত থেকে মুর্খ সবার একই অবস্থা। এই সংক্রমক রোগ এমনই প্রকট আকার ধারন করেছে য়া দিন দিন ক্রমবর্ধমান। গর্ভপাত একজন মায়ের জন্য শারীরিক এবং মানসিকভাবে খুব কষ্টের বিষয়। তাই গর্ভধারণের পর সতর্ক থাকা জরুরি। গর্ভপাত যে কেবল নারীদের বিষয়, ব্যাপারটি মোটেও তা নয়। একটি গর্ভপাত মানে একটি সন্তানের মৃত্যু। বিষয়টি নারীর জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, পুরুষের জন্যও ঠিক ততটাই। কেননা তিনি সন্তানের বাবা। আজকাল অকাল গর্ভপাতের বিষয়টি বেড়ে গিয়েছে খুব। গর্ভপাত নিয়ে যে দেশেই জরিপ করা হোক না কেন, তার ফলাফল ভিন্ন হতে বাধ্য৷ যেমন চেক প্রজাতন্ত্রে মহিলাদের গর্ভপাতের অধিকার সমর্থন করেন অধিকাংশ মানুষ, কিন্তু পোল্যান্ডে সেই সংখ্যা তত বেশি নয়৷ উত্তর অ্যামেরিকায় ক্যানাডা আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটা অনুরূপ প্রভেদ লক্ষ্য করা যায়৷ অপরদিকে মেক্সিকোর মতো দেশে জনগণের একটা বড় অংশ গর্ভপাতের বিরোধী৷ এক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা মেক্সিকোর তুলনায় বেশি উদার৷ অপরদিকে ব্রাজিল কিংবা কলম্বিয়ার জনসাধারণের একটা বড় অংশ গর্ভপাত বৈধ করা উচিত নয়, বলে মনে করেন৷ এবারে চলুন দেখি কোরআন কি বলছে: কোরানে উল্লেখ নেই, তবে… কোরান শরিফে স্পষ্টভাবে গর্ভপাতের বিষয়ে কিছু বলা নেই৷ তবে কিছু নির্দেশনা আছে যেগুলো গর্ভপাতের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে বলে ইসলামি বিষয়ে পণ্ডিতরা মনে করেন৷ ভ্রুণই জীবন সূরা আল-মায়দাহের ৩০তম আয়াতে বলা হয়েছে, ‘‘যে বা যারা একটি আত্মার জীবনকে হত্যা থেকে বিরত থেকেছে, সে বা তারা যেন সব মানুষের জীবনকে হত্যা থেকে বিরত থেকেছে৷ যে বা যারা একটি আত্মাকে হত্যা করেছে, সে বা তারা যেন পুরো মানবজাতিকেই হত্যা করেছে৷’’ আর অধিকাংশ মুসলিম পণ্ডিত মনে করেন, গর্ভে থাকা ভ্রুণকেই ইসলাম জীবন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়৷ মায়ের জীবন রক্ষা যদি মায়ের প্রাণ হুমকির মুখে থাকে তাহলে গর্ভপাত সমর্থন করে ইসলাম৷ মুসলিম আইন ‘দু’টি মন্দ জিনিসের মধ্যে যেটি কম মন্দ তাকে’ বেছে নেয়ার প্রতি সমর্থন জানায়৷ এক্ষেত্রে গর্ভপাতকেই ‘কম মন্দ’ মনে করা হয়৷ এর পক্ষে কয়েকটি যুক্তি হচ্ছে মা-ই ভ্রুণের ‘জন্মদাতা’, মায়ের জীবন আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত, মায়ের অন্যান্য দায়িত্ব আছে, মা একটি পরিবারের অংশ এবং মাকে মরতে দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভ্রুণও মরে যায়৷ দারিদ্র্যতার ভয়ে গর্ভপাত কেউ যদি মনে করেন আগত শিশুকে লালনপালন করা তার পক্ষে হয়ত সম্ভব হবে না এবং সেই ভয়ে ভ্রুণকে মেরে ফেলেন, তাহলে সেটি মহাপাপ বলে বিবেচিত হবে৷ সুরা আর ইসরার ৩২ আয়াত বলছে, ‘‘তোমরা তোমাদের সন্তানকে দারিদ্রতার ভয়ে হত্যা করো না৷ আমরা তোমাকে এবং তোমার সন্তানকে দেখেশুনে রাখি৷ তাই তাদের হত্যা করে সত্যিকার অর্থেই একটি মহাপাপ৷’’ত্রুটি ধরা পড়লে গর্ভধারণের চার মাসের মধ্যে যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভ্রুণ ত্রুটি নিয়ে বাড়ছে এবং এর সমাধান সম্ভব নয়, এবং এই সমস্যা পরবর্তীতে শিশুর জীবন দুর্বিসহ করে তুলতে পারে, তাহলে সেক্ষেত্রে গর্ভপাত সমর্থন করেন অনেক পণ্ডিত৷ এক্ষেত্রে অন্তত দু’জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে৷ অবশ্য এক্ষেত্রেও গর্ভপাতের পক্ষে নন এমন পণ্ডিতও আছেন৷ চার মাস পর… গর্ভধারণের সময় ১২০ দিন পেরিয়ে গেলে গর্ভপাত সমর্থন না করার পক্ষে মোটামুটি পণ্ডিতদের মধ্যে মিল রয়েছে৷ তবে এক্ষেত্রে যদি ভ্রুণের ত্রুটি মায়ের জীবন হুমকির মুখে ফেলে দেয় তাহলে অন্য কথা৷ মুসলিম দেশের জরিপে বাংলাদেশ শীর্ষে ২০১৩ সালে প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপ বলছে, বাংলাদেশের প্রায় ১৮ শতাংশ মুসলিম নাগরিক নৈতিক বিবেচনায় গর্ভপাত সমর্থন করেন৷ অর্থাৎ প্রতি পাঁচজন বাংলাদেশি মুসলমানের মধ্যে একজন গর্ভপাতের পক্ষে৷ ৩৭টি দেশের মসুলমানদের উপর পরিচালিত এই জরিপে বাংলাদেশেই গর্ভপাতের পক্ষে সবচেয়ে বেশি মানুষ পাওয়া গেছে৷ আরও জানতে উপরের ‘+’ চিহ্নে ক্লিক করুন৷ ভ্রুণ কি ব্যথা পায়? ২০০৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্রুণের বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে তার মধ্যে ব্যথা, এমনকি তার আশেপাশে কী ঘটছে, তা বোঝার মতো নার্ভাস সিস্টেম গড়ে ওঠে না৷ আরেক গবেষণা বলছে, ব্যথা পাওয়ার জন্য যে ‘নিউরো-অ্যানাটোমিকাল অ্যাপারেটাস’ প্রয়োজন তা গড়ে ওঠার কাজ গর্ভধারণের ২৬ সপ্তাহ আগে সম্পূর্ণ হয় না৷ গর্ভপাত যদি ইচ্ছাকৃতভাবে হয়ে থাকে, কোনো ধরনের কারণ যদি এর মধ্যে না আসে তাহলে এটি হারাম। এটি যে অবস্থা বা যত দিনেই হোক না কেন। কারণ যেহেতু একটি বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরে সেটাকে ধ্বংস করা আর সেটা যদি মানবভ্রূণ হয়ে থাকে তাহলে কোনো অবস্থাতেই এটি হালাল নয়, যেহেতু রাসুল (স.) বলেছেন, ‘জা-লিকাল ওয়াদুল খাফি’ অর্থাৎ এটি গোপন হত্যা। এটি গোপনীয়ভাবেই ভ্রূণ হত্যা যেটি সম্পূর্ণ হারাম করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) এ বিষয়ে তাহদিদ করেছেন, কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন এবং সতর্কবাণী দিয়েছেন। তাই এটি হারাম তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কোরআনে কারিমের মধ্যে আল্লাহু সুবহানাহুতায়ালা বলেছেন, কেয়ামতের দিন তাদের এই প্রশ্ন করা হবে যারা ইচ্ছাকৃত ভাবে হত্যা করেছে, ইয়া আয়্যিদামবিন কুতিলাত। ওয়া ইজাল মায়ুদু তুছইলাত? (অর্থাৎ কোন অপরাধে এদেরকে হত্যা করা হয়েছে? ) এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যেতে হবে। এটি আমরা বলছিলাম ইনটেনশন সম্পর্কে। আর আল্লাহু সুবহানাহুতায়ালা তাঁর বান্দাদের, তারা যদি অপরাধ করে থাকে, ক্ষমা করবেনই। অপরাধ বোধে সত্যিকারভাবে যদি কেউ অনুতপ্ত হতে পারে এবং তওবা করে আল্লাহু রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রত্যাবর্তন করেন, ঠিক যেভাবে প্রত্যাবর্তন করা দরকার, অবশ্যই আল্লাহতায়ালা ক্ষমা করে দেবেন। হতাশ হওয়ার কারণ নেই। আর রাসুলুল্লাহ (স.) এ বিষয়টি হাদিসের মধ্যে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, তওবাকারী ব্যক্তি হচ্ছে ওই ব্যক্তির মতো যার কোনো গুনাহই নেই। সুতরাং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যদি কাউকে ক্ষমা করেন, তাহলে বান্দাকে আল্লাহু সুবহানাহুতায়ালা শুধু তাকে ক্ষমা করবেন এটাই নয়, বরং তাকে একেবারে গুনাহমুক্ত করে দেবেন।

‘যে ব্যক্তি মনোযোগ দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত শুনবে, তাকে কয়েক গুণ বেশি সওয়াব প্রদান করা হবে’

আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি রহমত প্রদানে বলেন, ‘আর যখন কুরআন পড়া হয় তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষিত হয়। (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৪) এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দার জন্য রহমত বর্ষণে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণকে উপলক্ষ্য বানিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘কুরআনুল কারিম মুমিনদের জন্য রহমতস্বরূপ; তবে এই রহমত থেকে পরিপূর্ণ ফায়েদা হাসিলে বান্দার জন্য কিছু শর্ত ও আদব রক্ষা করাও জরুরি। বিজ্ঞাপন – বান্দার প্রতি ওই আদবের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েই আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন কুরআন পড়া হয় তখন চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত শোনো; যখনি মনোযোগের সঙ্গে কুরআন পাঠ শুনবে তখনই বান্দার প্রতি রহমত বর্ষিত হবে। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরে কুরতুবিতে এসেছে, কুরআন তিলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনার আদেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর বাণী অনুযায়ী পরিপূর্ণ আমলের প্রতি সচেষ্ট হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।আর আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, ‘যাতে তোমাদের প্রতি রহমত করা হয়।’ এ কথা থেকে বুঝা যায় যে, কুরআন রহমতস্বরূপ হওয়ার জন্য শর্ত হলো তার আদব রক্ষা করা। সুতরাং যারা এর পরিপন্থী কাজ করবে, তারা সে রহমত থেকে বঞ্চিত হবে এবং শাস্তির উপযোগী হবে। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মনোযোগ দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত শুনবে, তাকে কয়েক গুণ বেশি ছাওয়াব প্রদান করা হবে, আর যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করবে, তা (কুরআন) তার জন্য কেয়ামতের দিন আলো হয়ে উদ্ভাসিত হবে।’ (মুসনাদে আহমদ) আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করার এবং কুরআন তিলাওয়াত মনোযোগের সঙ্গে শোনার তাওফিক দান করুন। কুরআন ও হাদিসে ঘোষিত রহমত, অধিক ছাওয়াব লাভ এবং কুরআনকে আলোকবর্তিকা হিসেবে পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কম দামে মাইক্রোসফটের ল্যাপটপ!

এবার ল্যাপটপ ক্রয় করা আরও সহজ করে দিল মাইক্রোসফট সারফেস । টু-ইন-ওয়ান হাইব্রিড নোটবুক সারফেস প্রো এর নতুন একটি সংস্করণ বাজারে এনেছে মাইক্রোসফট।এর বাজারমূল্য অন্যগুলোর থেকে অনেক কম হবে বলে জানাগেছে। এই সংস্করণটিতে আছে ইনটেল কোর এম৩ প্রসেসর, ৪জিবি র‌্যাম ও ১২৮জিবি স্টোরেজ। কম মানের প্রসেসর ব্যবহার করায় এই সংস্করণটি আগের ৯৯৯ ডলার দামের সংস্করণটির চেয়ে ধীর গতির হবে। আগের সংস্করণটিতে কোর আই৫ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছিল। নতুন এই সংস্করণে ১২.৩ ইঞ্চি ডিসপ্লে, ইন্টেল এইচডি গ্রাফিক্স ৬১৫, ডুয়েল ক্যামেরা এবং ১৩.৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ রয়েছে।এই ল্যাপটপের শুরুর দাম হবে ৭৯৯ মার্কিন ডলার।

দেশের বাজারে সিম্ফনির ফোরজি ফোন

জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সিম্ফনি এবার বাজারে নিয়ে এলো তাদের ‘আই’ সিরিজের ফুলভিশন ডিসপ্লে এবং ফোরজি নেটওয়ার্ক সাপোর্টেড নতুন স্মার্টফোন ‘সিম্ফনি আই১১০’। ৮.৭ মিলিমিটার স্লিম এবং নন ট্রাডিশনাল ডিজাইনের কারনে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন রঙে দেশের বাজারে এই নতুন ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে। ‘সিম্ফনি আই ১১০’ হ্যান্ডসেটটি হাতে দিয়ে চমৎকার গ্রিপিং অনুভূতি পাওয়া যাবে। ১৮:৯ বডি রেশিও এবং ফুল ভিশন ডিসপ্লের জন্য ফোনটি প্রিমিয়াম লুক পেয়েছে।  অ্যানড্রয়েড ৭.০ নুগাট অপারেটিং সিস্টেমচালিত এ স্মার্টফোনে ১ দশমিক ৩ গিগাহার্টজের কোয়াড-কোর প্রসেসর আছে। ২ গিগাবাইট র‌্যামের ডিভাইসটিতে ৩২ গিগাবাইট অভ্যন্তরীণ তথ্য সংরক্ষণের সুবিধা আছে। মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৬৪ গিগাবাইট পর্যন্ত বর্ধিত করা যাবে। ডিভাইসটিতে গ্রাফিক্স হিসেবে ব্যবহার হয়েছে মালি-টি৭২০। পাওয়ারফুল সনি আই এম এক্স সেন্সরে ১৩ মেগাপিক্সেল ব্যাক ক্যামেরায় আছে ফাইভ পি লেন্স এবং অ্যাপারচার ২.০ যার কারণে ব্যাক ক্যামেরাতে পাওয়া যাবে অসাধারণ ছবি। ৮ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা তো আছেই সুন্দর সেলফি তোলার জন্য। পোট্রেট মোড থাকায় ছবিতে পাওয়া যাবে অসাধারণ বোকেহ ইফেক্ট, এছাড়া অটো স্ক্রিন ডিটেকশন সুবিধা থাকায় যেকোন অবস্থায় পাওয়া যাবে বেস্ট আউটপুট। ফোরজি সমর্থিত এ স্মার্টফোন ডুয়াল সিম সমর্থন করবে। কানেক্টিভিটির জন্য আছে ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ভার্সন ৪.২, ওটিজি, জিপিএস নেভিগেশন, প্রোক্সিমিটি, গ্র্যাভিটি লাইট, নিরাপত্তার জন্য ফার্স্ট ফিঙ্গার প্রিন্ট সুবিধা ইত্যাদি।  ফোনটি বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যাবে ১০ হাজার ৯৯০ টাকায়।

বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন করবেন?

বিয়ের আগে পাত্রপাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিৎ।বিয়ে পরবর্তী বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা এড়াতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই। গোপনে হলেও অন্তত পাত্রপাত্রীর নিজ উদ্যোগে এ পরীক্ষাগুলো করলে অনেক ঝুঁকি থেকে রেহাই পেতে পারেন।বিয়ের আগে স্বাস্থ্যপরীক্ষা কেন করা উচিৎ এ সংক্রান্ত অনেক তথ্য জানিয়েছেন জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।এবার জেনে নিন সেগুলো। ১. বয়স পরীক্ষা : বয়সের আগে কিংবা দেরি করে বিয়ে উভয়েই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কম বয়সী মেয়েরা মা হলে ডিম্বাশয় ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। দেরি করে বিয়ে করলে অর্থাৎ ৩৫ বছরের পরে মা হলে সন্তান প্রসবে নানা জটিলতা হতে পারে। তাই পাত্রপাত্রীর বয়সের ব্যবধান যেন পাঁচ বছরের বেশি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ২. বন্ধ্যত্ব পরীক্ষা বিয়ের আগে গাইনোকোলজিস্টের কাছে গিয়ে পাত্রীর পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া উচিত ইউটেরাস ও ওভারিতে কোনো সমস্যা আছে কিনা। সেইসঙ্গে পাত্রের পুরুষত্ব ও বীর্যপাতজনিত কোনো সমস্যা আছে কিনা তা আগেই টেস্ট করে জেনে নেওয়া উচিত। ৩. যৌনরোগ পরীক্ষা বিয়ের আগে একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক থাকলে এইচআইভি, গনোরিয়া, সিফিলিসের মতো যৌনরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বিয়ের আগে এই পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। এই পরীক্ষাকে সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (এসটিডি) বলা হয়। ৪. রক্ত পরীক্ষা রক্তের বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে জন্মের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সন্তান মারা যেতে পারে। রক্তের নানা সংক্রমণে হিমোফিলিয়া এবং থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগ হতে পারে। তাই রক্ত পরীক্ষা করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের। ৫. জ্বীন পরীক্ষা একজনের স্তন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সারসহ কোনো রোগ রোগ থাকলে অপর সঙ্গীরও সেই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বিয়ের আগে প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।

দিনে দশ হাজার কদম হাঁটতেই হবে

শরীর সুস্থ রাখতে হলে হাঁটার বিকল্প নেই, এটা সবাই বলেন। কিন্তু কতদূর হাঁটবেন? দিনে কতটুকু হাঁটলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? এ নিয়ে বিতর্ক কম নয়। এতদিন পর্যন্ত বলা হয়েছে, ম্যাজিক নম্বরটা হচ্ছে দশ হাজার কদম। অর্থাৎ দিনে যদি আপনি দশ হাজার পদক্ষেপ ফেলতে পারেন, এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না। এই দশ হাজার কদমের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছেন, রাস্তায় এমন অনেক মানুষের দেখা মিলবে। এরা ঝড়ো গতিতে হাঁটার সময় আবার হাতের মোবাইলে বা কব্জির ডিজিটাল ঘড়িতে বার বার দেখে নেন দশ হাজার কদম হতে আর কত বাকী। দশ হাজার পদক্ষেপের এই সংখ্যাটা কোত্থেকে এলো? এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তিটা কী? এটি আসলে ১৯৬০ সালে জাপানে একটি পণ্য বাজারজাতকরণের বিজ্ঞাপন থেকে এসেছে। ১৯৬৪ সালে টোকিও অলিম্পিক গেমসের আগে জাপানের একটি কোম্পানি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের জন্য একটি যন্ত্র বাজারে ছাড়ে। এই যন্ত্রের নাম ছিল 'মানপো-কেই।' জাপানি ভাষায় মান এর মানে হচ্ছে দশ হাজার, পো মানে পদক্ষেপ আর কেই মানে মিটার। কাজেই মানপো-কেই মানে হচ্ছে দশ হাজার কদম মাপার মিটার। সেখান থেকেই আসলে এই 'দশ হাজার কদম' হাঁটার 'মিথ' তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শরীর ফিট রাখতে এটা কতটা কার্যকর? যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড হালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রব কোপল্যান্ড এ নিয়ে একটা ছোট্ট গবেষণা চালিয়েছেন। তিনি এক দল স্বেচ্ছাসেবককে বাছাই করলেন এই পরীক্ষার জন্য। তাদের দুটি গ্রুপে ভাগ করে দেয়া হলে। একটি গ্রুপকে বলা হলো দিনে দশ হাজার কদম, অর্থাৎ প্রায় পাঁচ মাইল হাঁটতে। আর অন্য গ্রুপকে বলা হলো তিন দফায় মোট তিন হাজার কদম বা দেড় মাইল হাঁটতে। তবে তাদেরকে হাঁটতে হবে একটু দ্রুপ পদক্ষেপে যাতে তাদের হার্ট বা হৃদযন্ত্রের গতি দ্রুততর হয়। তবে সেটা আবার এত জোরে নয় যে লোকে দম হারিয়ে ফেলবে। তো এই পরীক্ষা থেকে কী জানা গেল? দেখা গেল, দশ হাজার কদম হাঁটতে বলা হয়েছিল যাদের, তাদের প্রতি তিনজনের দুজনেই লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছেন। কিন্তু এদের সবারই দশ হাজার কদম হাঁটতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। অন্যদিকে যাদের তিন হাজার কদম বা দেড় মাইল হাঁটতে বলা হয়েছিল, তাদের সবাই বেশ সহজেই তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছেন। হাঁটার সময় এই দুই গ্রুপের সদস্যকেই সাথে রাখতে হয়েছিল মনিটর। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে রব কোপল্যান্ড দেখতে পেলেন, যারা দেড় মাইল হেঁটেছিলেন, তারাই আসলে বেশি উপকৃত হচ্ছেন। এর কারণও ব্যাখ্যা করলেন অধ্যাপক কোপল্যান্ড। "আপনি যখন মধ্যম মাত্রায় শরীরচর্চা করেন, তখনই আপনি আসলে বেশি উপকার পান। যদিও দ্বিতীয় গ্রুপের লোকজন অনেক কম হেঁটেছেন, কিন্তু তারা দ্রুতলয়ে হাঁটার কারণে তাদের হার্ট রেট অনেক বেড়ে গিয়েছিল। শরীরচর্চায় এই হার্টের গতি বাড়ানোটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।" "এভাবে হাঁটলে আপনি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং কিছু কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারেন।" এর পক্ষে আরেকটা যুক্তি হচ্ছে যে দিনে দশ হাজার কদম হাঁটার সময় অনেকেই বের করতে পারবেন না। কিন্তু তিন বারে মোট দেড় মাইল হাঁটার সময় ঠিকই বের করা সম্ভব। কাজেই দশ হাজার কদম নাকি তিন হাজার কদম হাঁটায় উপকার বেশি, তা এই পরীক্ষার ফল থেকে বেশ স্পষ্ট।

প্যারিসেও সুরভিত নেইমার

স্বদেশী ক্লাব সান্তোসে বিস্ফোরক ঘটেছিল নেইমারের। এখান থেকেই বিশ্ব ফুটবলের সেরা সেরা ক্লাবের মন জয় করেন তিনি। তার পারফর্মেন্সে মুগ্ধ হয়েই ২০১৩ সালে নেইমারকে দলে ভেড়ায় স্পেনের জায়ান্ট ক্লাব বার্সিলোনা। কিন্তু স্প্যানিশ লা লিগার ক্যারিয়াটাকে দীর্ঘায়িত করতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এই বিস্ময় তারকা। গত গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই ন্যুক্যাম্প ছেড়ে নতুন করে ঠিকানা গড়েন ফ্রেঞ্চ লীগ ওয়ানে। ফরাসী ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইতেও সৌরভ ছড়াচ্ছেন নেইমার। অসাধারণ সব পারফর্মেন্স উপহার দিয়ে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন অন্য এক উচ্চতায়। আজ সোমবার ২৬ বছরে পা রাখলেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নেইমার। তবে স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক এএস জানায়, একদিন আগেই জন্মদিনের পার্টির আয়োজন করেন বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে দামী ফুটবলার। প্যারিসের এক রেস্টুরেন্টে রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় নেইমারের পার্টি। যা নিয়ে আগেই ব্যাপক পরিকল্পনা করে রাখেন নেইমার। সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, নিজের ২৬তম জন্মদিনে শুধু ব্রাজিল থেকেই উড়িয়ে আনা হয় ৫০ জন অতিথিকে। তাদের জন্য রাখছেন থাকার সুব্যবস্থাও। পরিবারের পাশাপাশি প্যারিসের এই পার্টিতে টেলিভিশন সেলিব্রেটি, পোকার খেলোয়াড় এবং ব্রাজিলের রিয়েলিটি শো ‘বিগ ব্রাদারে’র তারকারা উপস্থিত হওয়ার কথা জানায় গণমাধ্যম। তবে নেইমারের জন্মদিনের পার্টিতে তার সাবেক ক্লাব বার্সিলোনার কেউ উপস্থিত থাকতে পারেননি। কেননা রবিবার এস্পানিওলের মুখোমুখি হয় মেসি-ইনিয়েস্তারা। যে কারণেই প্রিয় বন্ধুদের থাকতে পারেননি কেউ।
গত গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই বার্সিলোনা ছেড়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে নতুন করে ঠিকানা গড়েন নেইমার। দলবদলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড় হিসেবে প্যারিসের ক্লাবটিতে যোগ দেয়ার পর থেকেই উড়ছেন তিনি। দুর্দান্ত পারফর্মেন্স উপহার দিয়ে নিয়মিতই প্রমাণ করে চলেছেন যে কেন তিনি ইতিহাসের দামী ফুটবলার। শনিবার লিলির বিপক্ষে ম্যাচেও নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেন নেইমার। দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে গোল করে পিএসজিকে দারণ এক জয় উপহার দিতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সেই সঙ্গে পিএসজির হয়ে চলতি মৌসুমের ২৫তম গোলটি করেন সাবেক বার্সিলোনা ও সান্তোস ফরোয়ার্ড। তবে ফরাসী ক্লাবটিতে যোগ দেয়ার পর থেকেই নেইমারের ব্যাপারে নানান গুঞ্জন শোনা যায়। যার মধ্যে ছিল কোচ উনাই এমেরির সঙ্গে নেইমারের মতের অমিল। তবে সেসব গুঞ্জন-বিতর্ক এখন অতীত। বরং ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের পারফর্মেন্সে মুগ্ধ-বিমোহিত পিএসজির কোচ। লিলির বিপক্ষে ম্যাচের আগেও নেইমারকে প্রশংসায় ভাসানোর পাশাপাশি উনাই এমেরি জানিয়েছেন তাদের মধ্যে সুসম্পর্কের কথা। এ বিষয়ে উনাই এমেরি বলেন, ‘তার খেলার ধরন দেখলেই মনে হবে একটা শো। সে খুবই স্মার্ট। কেননা সে খুব ভাল করেই জানে যে দলকে কিভাবে জেতাতে হবে। তার খেলার ধরন সকলের জন্যই খুব ভাল, বিশেষ করে পিএসজির। তার সঙ্গে আমার খুব ভাল সম্পর্ক রয়েছে ঠিক অন্য খেলোয়াড়দের মতোই।’ এদিকে জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ দিনে লুকাস মৌরাকে টটেনহ্যাম হটস্পারের কাছে বিক্রি করে দেয় পিএসজি। এরপর সমালোচনার মুখে পড়েন এমেরি। স্বদেশী সতীর্থকে হারিয়ে নেইমার নিজেও পিএসজির এমন সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ ও ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে এই সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে বরং স্বাভাবিক বলেই মন্তব্য করেছেন পিএসজির কোচ। তিনি বলেন, ‘তারা ব্রাজিলিয়ান, একে অপরের খুব ভাল বন্ধু। জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলে তাই এটা স্বাভাবিক। তবে লুকাসের জন্য আমার শুভ কামনা। মূল খেলোয়াড় হিসেবে সে দলে সুযোগ পাচ্ছিল না। সেক্ষেত্রে প্যারিস ছাড়াটাই তার জন্য ভাল হয়েছে। টটেনহ্যামে যাওয়াটা তার খুব ভাল সিদ্ধান্ত। আশাকরি সে তার অগ্রযাত্রা ধরে রাখবে।’

অবশেষে সাগরিকায় স্মরণীয় ড্র

প্রথম ইনিংসে ৫১৩ রানের বড় সংগ্রহ আর দ্বিতীয় ইনিংসে চতুর্থদিন শেষে ৩ উইকেটে ৮১। সাগরিকা টেস্টে বাংলাদেশের সবমিলিয়ে সংগ্রহ ৫৯৪। এরপরও শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজয়ের জোর শঙ্কা উঁকি দিচ্ছিল। কারণ দুটি, যার একটা তখনও ১১৯ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ এবং সময়- পুরো ১ দিন বাকি টেস্টের। এমন পরিস্থিতিতে পেছনে আছে অনেক ব্যর্থতার ইতিহাস যার সর্বশেষটি গত বছর নিউজিল্যান্ড সফরেই ছিল। তখন কোচ চান্দিকা হাতুরাসিংহের অধীনে ৫৬ রানের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে হেরে গিয়ে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এবার নিজেদের ইতিহাসই পাল্টে ফেললো টাইগাররা। চান্দিকা প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার কোচ, আর বাংলাদেশের কোন কোচই নেই। পরাজয়ের লাল চোখ উপেক্ষা করে সাগরিকায় পঞ্চমদিনে অবিস্মরণীয় ব্যাটিং উপহার দিয়ে বীরোচিত ড্র করেছে স্বাগতিক দল। এর পেছনে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মুমিনুল হকের টানা দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি ও লিটন কুমার দাসের ৯৪ রানের ইনিংস বড় ভূমিকা রেখেছে। ৫ উইকেটে ৩০৭ রান তোলার পর ম্যাচের ১৭ ওভার বাকি থাকতেই উভয় দল ড্র মেনে নিয়েছে। আর সৌভাগ্যবসত অধিনায়কত্ব পাওয়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তার প্রথম নেতৃত্বেই এমন একটি ড্রয়ের স্বাদ পেয়ে শুভ সূচনা করেছেন। সাগরিকায় শেষ দু’দিন স্পিনের ভেল্কিতে অনেকবারই টেস্টের ভাগ্য ঘুরে গেছে বিস্ময়করভাবে। এবারও পিচ রিপোর্টে তেমনই বলা হয়েছিল যে শেষ দু’দিন অন্তত কেউ খেলতে পারবে না, খেলবে স্পিন। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস ৯ উইকেটে ৭১৩ রানে ঘোষিত হওয়ার আগেই সেটার দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছিল। ২০০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে চতুর্থদিন শেষে বাংলাদেশ ৮১ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। ১১৯ রানে পিছিয়ে থাকা পুরো একটা দিন বাকি থাকার পর ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও স্বাগতিক বাংলাদেশের পরাজয়ই দেখতে পাচ্ছিলেন। কারণ ড্র করতে হলেও বাকি থাকা ৭ উইকেট নিয়ে অন্তত চা বিরতির পর পর্যন্ত ব্যাট চালাতে হবে। এমন চাপের মুখে থেকে সেই ব্যাটিং করাটা যে কোন দলের জন্যই চাপের। কিন্তু তখনও উইকেটে মুমিনুল ছিলেন বলে কেউ কেউ অনেক বড় স্বপ্ন দেখছিলেন। ড্রয়ের তো অবশ্যই আবার আকাশ কুসুম কল্পনায় জয়ের উচ্চাভিলাষও ছিল। ১৮ রান নিয়ে খেলতে নেমে মুমিনুল পঞ্চমদিনের শুরুতে নতুন সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটনকে। আগেরদিন মুশফিকুর রহীম আউট হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খেলা শেষ হয়ে গিয়েছিল। মুমিনুল-লিটনের ব্যাট যেন অনেক চওড়া হয়ে গেল। স্পিনত্রয়ী রঙ্গনা হেরাথ, দিলরুয়ান পেরেরা আর লক্ষণ সান্দাকানের ঘূর্ণি বলও তাতে কোন ফাটল তৈরি করতে পারেনি। যে কোন টেস্টের পঞ্চমদিনের প্রথম সেশনটা বেশ ভয়ানক। যত বিভীষিকাময় কা--কীর্তির সূচনা হয় এই সেশনেই। ভয়টা ছিল বাংলাদেশ দলকে নিয়েও। কারণ অনেকবারই বাংলাদেশ দল এমন পরিস্থিতিতে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ব্যতিক্রম ছিল ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে হওয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটি। সেই ম্যাচ ৬ দিনব্যাপী হয়েছিল, জাতীয় নির্বাচনের জন্য ২৯ ডিসেম্বর দেয়া হয়েছিল বিরতি। ৫২০ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ২৯২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে নিশ্চিত পরাজয় দেখছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সপ্তম উইকেটে মুশফিক-সাকিব আল হাসানের বীরত্বপূর্ণ ১১১ রানের জুটি অসম্ভব জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। সাকিব ৯৬ রানে সাজঘরে ফিরলে শেষ পর্যন্ত ১০৭ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ দল। আর গত বছর জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে ৮ উইকেটে ৫৯৫ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে কিউইদের ৫৩৯ রানে থামিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ৫৬ রানে এগিয়ে থেকে চতুর্থদিনের শেষেই সব বিপক্ষে যেতে শুরু করে। ৩ উইকেটে চতুর্থদিন শেষে ৬৬ রান তুলে উল্টো পরাজয়ের যে শঙ্কা দেখছিল দল, সেটাই সত্য হয়ে যায়। ১৬০ রানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায়। ২১৭ রানের জয়ের লক্ষ্যটা মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ছুঁয়ে জয় তুলে নেয় কিউইরা। কোচ চান্দিকার অধীনেই ওয়েলিংটনে হওয়া সেই ম্যাচটি হারে সফরকারীরা। এ কারণেই এবার পরাজয়ের শঙ্কাই উঁকিঝুঁকি মারছিল। সেটাকে সত্য হতে দেননি মুমিনুল। তার যুদ্ধটা ছিল চান্দিকার বঞ্চনার বিপক্ষেও, বাংলাদেশ দলের চ্যালেঞ্জ ছিল চান্দিকার অধীনে লঙ্কান শিবিরকে হতোদ্যম করে দেয়ার। পঞ্চমদিনের প্রথম সেশনে মুমিনুল-লিটন তুলে ফেলেন ১০৬ রান। তাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি চান্দিকার শিষ্য বোলাররা। কিন্তু বিপদটা কাটেনি তখনও, কারণ ১৩ রান পিছিয়ে বাংলাদেশ। আরেকটি ভাল সেশন কাটানোর কঠিন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষাতেও বেশ ভালভাবেই এগিয়ে যায় মুমিনুল-লিটন। তাদের ১৮০ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি যখন ভাঙ্গে তখন ৬১ রানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে এটিই রেকর্ড রানের জুটি। এর আগে চতুর্থ উইকেটে ২০১২ সালে নাঈম ইসলাম-সাকিব ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৬৭ রান করেছিলেন ঢাকায়। এর মধ্যেই রেকর্ড গড়েন মুমিনুল প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি হাঁকানোর রেকর্ড গড়েন। তবে এরপর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। ১৭৪ বলে মাত্র ৫ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ রান করার পর ধনঞ্জয়ার বলে সাজঘরে ফেরেন। দুই ইনিংসে ২৮১ রান করেও একটি রেকর্ড গড়েন তিনি। এর আগে এক টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে সর্বাধিক ২৩১ রান ছিল তামিম ইকবালের। এরপরও সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দেখা দিয়েছিল সময়। তখনও চা বিরতি হয়নি, খুব বেশি লিডও নেয়া যায়নি। চা বিরতির সামান্য আগেই সাজঘরে ফেরেন লিটনও, ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে। ১৮২ বলে ১১ চারে তিনি ৯৪ রান করেন, এরপর হেরাথকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে পেরেরার হাতে ধরা পড়েন তিনি। বিপদ নতুন করে দেখা দেয়। কিন্তু চা বিরতির পর অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে উইকেটে শামুকের মতো পড়ে থাকেন মোসাদ্দেক। ৫৩টি বল খেলে তিনি ৮ রান করেন মাত্র ১ চারে। সময় কাটিয়ে দেয়ার প্রয়োজন ছিল, সেটাই করেছেন তিনি। আর মাহমুদুল্লাহ সাবলীলভাবে খেলেই ৬৫ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৫ উইকেটে ৩০৭ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ, এগিয়ে যায় ১০৭ রানে। ওই সময় লঙ্কান অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল ড্র মেনে নিয়ে মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে করমর্দন করেন। ড্র মেনে নিতে বাধ্য হয় শ্রীলঙ্কা। আর বীরোচিত ড্রয়ে জয়ের আনন্দেই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল।

জার্মানি থেকে পরমাণু অস্ত্রের যন্ত্রাংশ কিনেছে উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ জার্মানি থেকে সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করেছে জার্মান অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিএফভি। সংস্থার প্রধান হ্যান্স-জর্জ মাসেন এক টিভি সাক্ষাতকারে এ দাবি করেছেন। সাক্ষাতকারটি সোমবার প্রচারিত হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই এর কিছু বিষয়বস্তু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। উত্তর কোরিয়া এখনও এ বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সাক্ষাতকারে মাসেন বলেন, বার্লিনে উত্তর কোরিয়ার দূতাবাস দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচীর জন্য যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছে। এ ধরনের যন্ত্রাংশ সামরিক এবং বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহার করা যায়। বিএফভির প্রধান বলেন, জার্মান কর্তৃপক্ষ সাধারণত এ ধরনের কাজ আটকে দেয়, কিন্তু আমরা সব ঘটনা শনাক্ত ও প্রতিহত করতে পারি বলে নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয়। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচীর বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুজাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। এছাড়া, গত বছরের আগস্টে উত্তর কোরিয়া একটি হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালানোর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ পিয়ংইয়ংয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপরও বছরের শেষদিকে উত্তর কোরিয়া একাধিক আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় যেগুলো দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোন স্থানে আঘাত হানা সম্ভব।

টার্গেট এফবিআই ও বিচার বিভাগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে এফবিআই এবং বিচার বিভাগের প্রতি শ্রদ্ধা রাখলেও এখন তিনি মনোভাব বদলেছেন। প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত ইমেইল সার্ভার নিয়ে তদন্ত চালানোর জন্য তিনি বিভাগ দুটোর ‘সাহসের’ প্রশংসা করেন। নিউইয়র্ক টাইমস। নির্বাচনের ১৬ মাস পর এসে এফবিআই এবং বিচার বিভাগের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছেন ট্রাম্প। তিনি শুক্রবার বলেন, এজেন্সিগুলোর উচিত নিজেদের ‘অসম্মানজনক’ কাজের জন্য লজ্জিত হওয়া। ট্রাম্পের এই সমালোচনার আগেই এফবিআইয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর এ্যান্ড্রু ম্যাককাবেকে কিছুদিন যাবত চাপে রাখেন ট্রাম্প। তিনি ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল রোড রোজেস্টেইনকে বরখাস্ত করার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। এফবিআইয়ের ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার ওয়ারি পদত্যাগ করতে পারেন বলেও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের অনেকে আশঙ্কা করছেন। প্রেসিডেন্ট এবং দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে দ্বন্দ্ব আমেরিকার আধুনিককালের ইতিহাসে নজিরবিহীন। ট্রাম্পের প্রচার টিম ২০১৬ সালে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাসাজশ করেছিল কিনা কিংবা ট্রাম্প গত বছর বিচার ব্যবস্থার ওপর হস্তক্ষেপ করেছিলেন  না - একজন বিশেষ কৌঁসুলি এখন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছেন। তবে তার এ কাজেও ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করছেন। তিনি যা করে যাচ্ছেন অতীতে কোন প্রেসিডেন্টই তা করেননি। কংগ্রেসের নিকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ইন্টেলিজেন্স কমিটির রিপাবলিকান সদস্যদের তৈরি করা একটি মেমোর খসড়ার দিকে এখন ট্রাম্পের মনোযোগ। খসড়াটি শুক্রবার প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, ট্রাম্পের ষড়যন্ত্রবাজ মানসিকতা অনেক পুরনো। প্রেসিডেন্ট হওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি এ ধরনের মানসিকতা লালন করে এসেছেন। দায়িত্বভার গ্রহণের প্রথম থেকে তিনি গোয়েন্দা বিভাগকে টার্গেট করে আক্রমণ হানা শুরু করেন। কারণ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তার সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের আক্রমণের আওতা বিস্তৃত হয়েছে। তার নিয়ন্ত্রণাধীন আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিকেও তিনি ছাড়ছেন না। যেমন ডিসেম্বরে তিনি মন্তব্য করেছেন এফবিআইয়ের মর্যাদা এখন ‘ধুলিস্যাত’ এবং ইতিহাসের ‘সবচেয়ে খারাপ অবস্থা’য় এজেন্সিটি রয়েছে। তার কথা অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগে এখন যড়যন্ত্রবাজরা ঢুকে পড়েছে যারা তার বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিচার বিভাগের বিশ্বাসযোগ্যতা বিতর্কিত করছেন বলে অনেকে মনে করেন। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক জ্যাক গোল্ডস্মিথ বলেন, আমি মনে করি না আর কোন সময় এ রকম ঘটনা ঘটেছে। এ রকমটি হচ্ছে কারণ প্রেসিডেন্ট এখন তদন্তাধীন। ট্রাম্প যা করছেন তা সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনার ওপরও প্রভাব ফেলছে। অ্যাক্সিওস নামে একটি সংবাদ ওয়েবসাইটের জন্য করা একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে শতকরা ৩৮ রিপাবলিকান এফবিআই সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে শতকরা ৩৮ রিপাবলিকান এফবিআই সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে। বিচার বিভাগ ও এফবিআই সম্প্রতি ত্যাগ করেছেন এরকম অনেক কর্মকর্তা সাক্ষাতকারে বলেছেন, তারা মনে করেন ট্রাম্প চান বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুয়েলারের তদন্ত আটকে দিতে। মুয়েলার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছেন। এই উদ্দেশে ট্রাম্প নিজের সাময়িক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য শতকরা ৩৮ রিপাবলিকান এফবিআই সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে। ট্রাম্প এখন এফবিআই ও বিচার বিভাগের বিশ্বাসযোগ্যতার বিনাশ ঘটাতে চান বলে সম্প্রতি সংস্থা দুটো ছেড়ে আসা অনেক কর্মকর্তা তাদের সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ট্রাম্প কংগ্রেস, আদালত, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম, গোয়েন্দা সংস্থা, পেশাদার ক্রীড়া সংস্থা এমনকি নিজের দলকে টার্গেট করেও আক্রমণ করেছেন। তবে এফবিআই ও বিচার বিভাগকে আক্রমণের নিশানা বানানো তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।