Hot!

Other News

More news for your entertainment

বন্ধুত্ব সহযোগিতার নতুন অঙ্গীকার

দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার নতুন অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করে তাঁরা এই অঙ্গীকার করেন। ভারতের সঙ্গে ঝুলে থাকা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির কথা সরাসরি উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা সমাধান করা যায় বলে মন্তব্য করেছেন। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে বিশ্বের জন্য মডেল উল্লেখ করে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামীতেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনকে বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রগতি, সমৃদ্ধি, শান্তি ও ঐক্যের জন্য দরকার ভারত এবং বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা। বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। তিনি তিস্তার প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক আরো অনেক অনেক ভালো হবে।’
মোদি তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ অভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন স্বাধীন চিন্তার মানুষ। রবীন্দ্রনাথ যতটা ভারতের, ততটা বাংলাদেশেরও। বঙ্গবন্ধুও রবীন্দ্রনাথের বড় ভক্ত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম সীমান্তের ওপারে (বাংলাদেশে) হয়েছে। কিন্তু অনুপ্রেরণা গেছে এপার থেকে। রক্তপাতের কষ্ট এপারেও (ভারতে) অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের পর ওই ভবনেই আধাঘণ্টা একান্ত বৈঠক করেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি বৈঠকে ছিলাম না। তবে আমরা বলতে পারি, দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলোতে আলোচনা হয়েছে। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও রাজনীতি বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’
 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বাসস জানায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে কলকাতা থেকে ১৮০ কিলোমিটার উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে যান। তিনি শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্র ভবনে পৌঁছালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য্য নরেন্দ্র মোদি তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁরা দুজনই পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর তাঁরা বিশ্বভারতীর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।
নরেন্দ্র মোদি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেই সম্মানের পাত্র। তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ ও মহাত্মা গান্ধীর কথাও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা পুরোপুরি কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত বন্ধুত্ব অপরাপর বিশ্বের জন্য ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিতে পারি যে উভয় দেশ সহযোগিতার এই মনোভাব ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ভবন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে ছোট এক টুকরো বাংলাদেশ। এখান থেকে বাংলাদেশের চেতনা প্রতিপালিত হবে। রবীন্দ্রনাথের এই প্রভাব নিজস্বভাবেই অনন্য হয়ে উঠবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে একত্রে চলতে চায় এবং এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যকার সব সমস্যার নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে আমাদের এখনো কিছু সমস্যা রয়েছে, যা আমি এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের স্বার্থে এখানে তা উত্থাপন করতে চাই না। অবশ্য আমি বিশ্বাস করি যে বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা যায়।’
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বভারতী চত্বরে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ভারত সরকার, ভারতের বন্ধুভাবাপন্ন জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন ক্ষুধা দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও বিশ্বাস করতেন, সমাজে বৈষম্য দূর না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব কখনোই উন্নতি লাভ করবে না।
শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর বিশ্ব সম্প্রদায়কে চাপ দেওয়ারও আহ্বান জানান। মিয়ানমার থেকে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক কারণে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। তারা দ্রুত তাদের স্বদেশে ফিরে যাক—আমরা সেটাই চাই। আমরা কিন্তু নির্যাতিত মানুষকে আশ্রয় না দিয়ে পারি না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার পর ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দির গান্ধী তাঁকে এবং তাঁর বোন শেখ রেহানাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারতের জনগণের প্রতি তিনি ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের জনগণ এই সমর্থন কখনো ভুলবে না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, সন্ত্রাস ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্মিলিত প্রয়াস বাংলাদেশ ভবনের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুই রাষ্ট্র। তবে তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
গত কয়েক বছর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে স্থল সীমান্তসহ বিভিন্ন ইস্যু নিষ্পত্তির উদাহরণ দেন মোদি। বক্তৃতার শুরুতে তিনি বাংলায় বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করা তাঁর সৌভাগ্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশেরই জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। কবি গুরুর শান্তিনিকেতনে আসার জন্য শেখ হাসিনাকে অশেষ ধন্যবাদ জানান মোদি।
এদিকে বাংলাদেশ ভবন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বক্তব্য দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আমার খুব ভালো লেগেছে, এটা দারুণ হয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধুর কথা মনে পড়ছে বারবার। কারণ ভারতবর্ষ ও বাংলাদেশের সম্পর্ক সেই ১৯৭১ সাল থেকে।’
তিস্তার প্রসঙ্গ এড়িয়ে মমতা বলেন, ‘অবিরল-অবিচল, একেবারে পদ্ম-মেঘনা-যমুনার মতো, অনেক জল গড়িয়ে গেছে, অনেক জল গড়াবে। কিন্তু দুই দেশের সম্পর্ক আরো অনেক অনেক ভালো হবে, এটা আমি বিশ্বাস করি।’
মমতা পশ্চিমবঙ্গে কবি নজরুল ইসলামের নামে বিমানবন্দর, একাডেমি প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর নামেও একটি বঙ্গবন্ধু ভবন করতে চাই। যখনই আমাদের সুযোগ দেবেন, আমরা করব।’
প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা এবং সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, কবি, গায়ক, শিল্পীসহ উভয় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতা ফেরার পথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি ঘুরে দেখেন। তিনি সেখানে কবির আবক্ষমূর্তিতে ফুলের মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। পশ্চিমবঙ্গের নগর ও পৌর মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম তাঁদের ঠাকুরবাড়ি ঘুরিয়ে দেখান। প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৪০ মিনিট ঠাকুরবাড়িতে অবস্থান করেন। এরপর সন্ধ্যায় কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতারা বৈঠক করেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী আসানসোলে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। সেখানে তিনি এক বিশেষ সমাবর্তনে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি গ্রহণ করবেন। তিনি সেখানে অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বর্ণপদক বিতরণ করবেন। আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করবেন। সফর শেষে আজ রাতে প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ফিরবেন।
নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিস্তা চুক্তিসহ সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিস্তা চুক্তিসহ বেশ কিছু বিষয় অনিষ্পন্ন আছে। আমরা সেগুলো শিগগিরই সমাধান করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘তিস্তা চুক্তির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন। চাপ দিয়েছেন। আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি হবে। কিন্তু তারিখ দেওয়া (চুক্তি সইয়ের) খুবই অসম্ভব আপাতত।’

কলকাতা কে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে গেল হাইদ্রাবাদ


শেষমেষ নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়াল ১০ বলে রশিদ খানের সেই ৩৪ রানের ইনিংস৷ আফগান স্পিনারের ব্যাটিং ঝড়ই কেকেআরকে ১৩ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠল সানরাইজার্স৷ এই নিয়ে দু’বার ফাইনালে উঠল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ৷ শেষবার ২০১৬ সালে আইপিএল ফাইনালে উঠেছিল তারা। ফাইনালে মুম্বাইয়ে চেন্নাইয়ের মুখোমুখি হবে হায়দরাবাদ৷
চলতি আইপিএলে সেরা বোলিং লাইন আপ যে হায়দরাবাদেরই, সে কথা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বলে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। যে দলে ভুবনেশ্বর কুমার, সাকিব-আল-হাসান এবং অবশ্যই রশিদ খানের মতো বোলার থাকেন, সে দলে বোধহয় অধিনায়কের কাজটাও সহজ হয়ে যায় অনেকটা। এদিনও কেকেআরকে হারানোর কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে সানরাইজার্স বোলারদেরই প্রাপ্য।
 রাতে টস হেরে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে  ব্যাট করতে নেমে ঋদ্ধিমান সাহা ও শিখর ধাওয়ান দলকে এনে দেন ভালো শুরু। ঋদ্ধিমান ২৭ বলে করেন ৩৫ ও আরেক ওপেনার ধাওয়ান ২৪ বলে  ৩৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন।দারুণ ছন্দে থাকা হায়দরাবাদ অধিনায়ক উইলিয়ামসন  ফিরে যান মাত্র ৩ রান করে। মিডল অর্ডারে দলকে টানেন সাকিব।
সুনিল নারাইনকে টানা দুই চার হাঁকিয়ে ঝড়ের আভাস দেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু ২৪ বলে চারটি চারে ২৮ রান দুর্ভাগ্যজনক রান আউট হন এই অলরাউউন্ডার। শেষের দিকে রশিদ খান খেলেন টর্নেডো এক ইনিংস। রশিদ খানের মাত্র ১০ বলে চারটি ছক্কা আর দুটি চারে অপরাজিত ৩৪ রানের সেই ইনিংসের ওপর ভর করে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে হায়দরাবাদ।
১৭৫ রানের লক্ষ্য ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই লিন ও নারাইনের ঝড়ে এলোমেলো হয়ে যাওয়া হায়দরাবাদের বোলিং।  তবে সাকিব আল হাসান ও রশিদ খানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিজ ছন্দে ফিরে আসে তারা। সব মিলিয়ে সাকিব ৩ ওভারে ১৬ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। লেগ স্পিনার রশিদ ১৯ রানে নেন ৩ উইকেট। দুটি করে উইকেট নেন সিদ্ধার্থ কাউল ও ব্র্যাথওয়েট।
কলকাতার পক্ষে লিন ৩১ বলে ৪৮, নারাইনের ১৩ বলে ২৬ রান করেন। এরপর পর দলকে টানেন শুভমান গিল। তিনি ফিরে যান ২০ বলে ৩০ রান করে। আগামী রবিবার ফাইনালে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে খেলবে হায়দরাবাদ।

এবার কলকাতা উড়িয়ে দিল রাজস্থান কে


আইপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে রাজস্থানকে ২৫ রানে হারিয়েছে কলকাতা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে কোয়ালিফায়ার-২ এ সাকিবের হায়দারাবাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে নাম লেখালেন দীনেশ কার্তিকরা। 
 ইডেন গার্ডেনে এলিমিনেটরের নক আউট ম্যাচে কলকাতার দেয়া ১৭০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেন রাজস্থান রয়্যালস। দুই ওপেনার আজিঙ্কা রাহানে ও রাহুল ত্রিপাঠি জুটিতে ৪৭ রান ওঠে।  ১৩ বলে ২০ রান করে কলকাতার লেগ স্পিনার পিযুষ চাওলার ঘূর্ণিতে ক্যাচ তোলে বিদায় নেন রাহুল। পরে রাজস্থানের অধিনায়ক রাহানে আর সাঞ্জু স্যামসন ১০৯ পর্যন্ত রান টেনে নেয়ার পর কুলদীপ যাদবের বলে বোলারের হাতেই ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন রাহানে। তারপরও ক্রিজে ছিলেন স্যামসন। তবে দলীয় ১২৬ রানের মাথায় তার বিদায়ে খেই হারিয়ে ফেলে রাজস্থান। এবারের উইকেট শিকারিও চাওলা। 
কলকাতার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রানে থামে রাজস্থানের ইনিংস। ২৫ রানে জয় পায় কলকাতা। 
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেন রাজস্থানের অধিনায়ক রাহানে। নির্ধারিত ২০ ওভারে কলকাতা ৭ উইকেটের বিনিময়ে তোলে ১৬৯ রান।
এই জয়ে কোয়ালিফায়ার-২ এ সাকিবদের হায়দারাবাদের সঙ্গী হলো কলকাতা। সেই ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে মোকাবেলা করবে চেন্নাইয়ের। 

কক্ষপথে নিজ অবস্থানে পৌঁছে গেছে ‘বঙ্গবন্ধু-১’


দেশের প্রথম নিজস্ব যোগাযোগ স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ উৎক্ষেপণের ১০ দিন পর গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজ কক্ষপথ ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের খুব কাছে অবস্থান করছিল। বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে স্যাটেলাইটটি ১১৮ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে অবস্থান করছে।
’ এতে বলা যায়, স্যাটেলাইটটি নিজ কক্ষপথের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে গেছে। এর মাধ্যমে এর লঞ্চ অ্যান্ড ইয়ারলি অরবিট ফেইজ (LEOP) সম্পন্ন হয়েছে। এরপর শুরু হবে শেষ পর্ব ইন অরবিট টেস্ট  (IOT)|
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ইন অরবিট টেস্টেও কমপক্ষে ১৯ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর দেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে পূর্ণ যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হবে ‘বঙ্গবন্ধু-১’।
এ স্যাটেলাইট প্রকল্পের পরিচালক মো. মোজবাউজ্জামান  বলেন, ‘সাধারণত  উৎক্ষেপণের পর এ ধরনের স্যাটেলাইটের নিজের অরবিটাল পজিশনে যেতে ১১ দিনের মতো সময় লাগে। সেই হিসাবে আমাদের ধারণা, ২২ মে এটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে যাবে। এর আগে এটি এখনো লিওপ ফেইজে রয়েছে। অরবিটাল পজিশনে পৌঁছানোর পর শুরু হবে আইওটি টেস্ট। এতেও ১৯ দিন বা এরও বেশি সময় লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার জন্য আগামী মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। ’
এদিকে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কম্পানির একজন কর্মকর্তা জানান, ‘বঙ্গবন্ধু-১’-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থালিস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে কম্পানির একজন প্রকৌশলী অবস্থান করছেন। তিনি সেখান থেকে এ স্যাটেলাইট সম্পর্কিত সব তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং তা বাংলাদেশকে জানাচ্ছেন। ওই প্রকৌশলীর কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুসারে সব প্রক্রিয়া স্বাবাভিক রয়েছে।
প্রসঙ্গত,  ১১ মে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিট) ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে স্যাটেলাইটটির সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়। স্যাটেলাইটটি নিয়ে মহাকাশে রওনা হয় যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কম্পানি স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ ব্লক-৫ রকেট। এ স্যাটেলাইটে ২৬ কেইউ ব্যান্ড ও ১৪ সি-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এটি পরিচালনা করবে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)।
বাংলাদেশ ও আশপাশের এলাকায় সেবা দিতে পারবে এ স্যাটেলাইট। বাংলাদেশ ও বঙ্গোপসাগরের জলসীমা এর কেইউ-ব্যান্ডের অধীনে থাকবে। এর সঙ্গে ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় সেবা দিতে পারবে। কমপক্ষে ১৫ বছর এর মিশন অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ জিওস্টেশনারিতে বা মহাকাশে ভূকেন্দ্রিক অবস্থান থেকে প্রতি সেকেন্ড ১ দশমিক ৯১  মাইল বা ঘণ্টায় ছয় হাজার ৮৫৮ মাইল বেগে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরবে। আর পৃথিবী তার অক্ষে ঘুরছে প্রতিঘণ্টায় এক হাজার ৪১ মাইল গতিতে। ৩৬ হাজার কিলোমিটার ওপরে থাকার কারণে নিজ অক্ষে পৃথিবীর গতির চেয়ে বেশি গতিতে ছুটবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এভাবে ভারসাম্য রক্ষা করে পৃথিবীর ওপরে নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিয়ে যাবে।

সাকিব হায়দরাবাদের অধিনায়ক হওয়ার যোগ্য : লক্ষণ

জমে উঠেছে আইপিএলের একাদশ আসর। সেইসঙ্গে প্রতি ম্যাচেই জমিয়ে পারফর্ম করছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলা বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সানরাইজার্সের কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন তাকে প্রতি ম্যাচেই সঠিক ভাবে ব্যবহার করছেন। অধিনায়কের আস্থার যোগ্য প্রতিদান দিচ্ছেন সাকিব। তাকে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটাঙ্গণে প্রশংসা চলছেই। এবার 'ময়না'র প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন ভিভিএস লক্ষণ।
ভারতের জাতীয় দলের সাবেক এই ব্যাটিং লিজেন্ড বলেছেন, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক হওয়ার যোগ্যতার রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দ্বিতীয় দফায় জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর খুব একটা উপভোগ করতে পারেননি। কারণ, ইনজুরিতে তাকে মাঠের বাইরেই থাকতে হয়েছে বেশিরভাগ সময়। বল টেম্পারিং করে নিষিদ্ধ ডেভিড ওয়ার্নারের জায়গায় হায়দরাবাদে নেতৃত্ব না পেলেও নিজের নেতৃত্বগুণের প্রদর্শনী ঠিকই দেখিয়েছেন সাকিব।
চলতি মৌসুমে ১১ ম্যাচে মাঠে নেমে ব্যাট হাতে ১৫৮ রান করেছেন সাকিব। আর বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ১২ টি। সাকিবের এই পারফর্মেন্স দেখেই লক্ষণ বললেন, 'চলতি মৌসুমে আমরা ডেভিড ওয়ার্নারকে পাব না তা আগে থেকে জানতাম না। তবে আমরা তার বিষয়টি সামলাতে সক্ষম হয়েছি। ভাগ্য ভালো আমাদের দলে উইলিয়ামসন, সাকিব, ধাওয়ানের মত ক্রিকেটার আছে, যারা নেতা হওয়ার যোগ্য। ওয়ার্নার অধিনায়ক থাকার সময়টাতেও দলের সবাই কেনকে সম্মান করত। এমনকি সাকিব। সে নিজেও একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও অধিনায়ক। সুতরাং আমাদের হাতে অনেক অপশন ছিল।'

সুপার হিরো’তে ভিন্ন লুকে শাকিব খান


ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে আশিকুর রহমান পরিচালিত ‘সুপার হিরো’। আর এ ছবিতে ভিন্ন লুকে দেখা যাবে জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খানকে। রাতে সিনেমাটির ফাস্ট লুক পোস্টার প্রকাশের পরেই তাতে যোদ্ধার সাজে দেখা গেছে ঢাকাই সিনেমার সুপাস্টার শাকিব খানকে। এতে শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করেছেন বুবলী। তবে প্রথম পোস্টারে বুবলীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
‘সুপার হিরো’ ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন দেলোয়ার হোসেন দিল। ছবিটির বেশিরভাগ শুটিং হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। 
দেশীয় চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ছবিটি প্রসঙ্গে আশিকুর রহমান বলেন, এই সপ্তাহেই আমরা ‘সুপার হিরো’র ফাস্ট লুক টিজার উন্মুক্ত করবো। 

বন্ধুত্বের সম্পর্কে কোনও পার্থক্য আনেননি গেইল


বাইশ গজে আজ তারা প্রতিপক্ষ। কিন্তু আজও গেইলের তিনি খুব কাছের মিত্র ৷ তিনি যজুবেন্দ্র চাহাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে আরও একবার নিজেদের পুরানো স্মৃতি উস্কে দিলেন ভারতের উঠতি এই স্পিনার ৷
এই মুহূর্তে আরসিবির হয়ে খেলছেন চাহাল আর গেইলকে ধরে রাখেনি তারা ৷ তাই আজ তিনি কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের ক্রিকেটার তিনি৷এই দুই বন্ধু একে অপরের বিরুদ্ধে ক্রিকেটও খেলেছেন ৷ কিংস ইলেভেন ৮৮ রানে অলআউট হয়ে যায় ৷ অন্যদিকে ১০ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় আরসিবি ৷
এদিন ম্যাচ শেষে যখন দুই দলের ক্রিকেটাররা হাত মেলাচ্ছিলেন তখন বিরাট কোহলিকে আলিঙ্গনও করেন গেইল ৷ ধরা পড়ছিল উষ্ণতার টুকরো ছবি ৷ সেটাই আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল যখন চাহাল তাদের দু‘জনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন ৷
এর নিচে তিনি যখন পারফেক্ট ক্যাপশন চান তখন তাতে গেইল কমেন্ট করেন 'হি মিস মি' ৷ অর্থাৎ ও আমাকে মিস করে ৷ এর উত্তরে আবার চাহাল লেখেন, 'হ্যাঁ আমি করি' ৷ আসলে ফ্রাঞ্চাইজিদের  সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও ক্রিকেটারদের সঙ্গে তার সম্পর্কে কোনও পার্থক্য আনেননি গেইল। আর সেটাই প্রমাণ করল এই ছবি ৷

দিনে ১১ ঘণ্টা বসে কাজ করলে হতে পারে বিপদ!


শুধু আপনি নন, বরং গোটা দুনিয়ার বেশিরভাগ মানুষই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দিনে প্রায় ১১ ঘণ্টা বা তারও বেশি কাজ করেন৷ আর এর থেকেই নাকি আসতে পারে ভীষণ বিপদ ৷ এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসকরা ৷
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, গবেষণায় দেখা গেছে বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষই প্রায় দিনের ১১ ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করে থাকেন৷ যা কিনা ডেকে আনছে বাতের সমস্যা, লিভারের সমস্যা৷ এমনকী, মানসিক অবসাদের পরিমাণ বাড়ছে এর ফেলে৷
চিকিৎসকরা বলছেন, বেশিরভাগ সময় ধরে এক ভাবে বসে থাকলে, আমাদের শরীর তার সহজাত ফিটনেস হারিয়ে ফেলে ৷ এর ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ল্যার্থাজি দেখতে পাওয়া যায় ৷ হাঁটুর সমস্যা, শরীরের হার দুর্বল হয়ে পড়তে পারে ৷
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, মূলত যারা ডেস্কে কাজ করেন, তাদের উচিত অন্তত প্রত্যেক ঘণ্টা অন্তর একটু উঠে হাঁটা চলা করা উচিত৷ সুযোগ পেলে বন্ধ অফিস ঘরে বন্দি না থেকে মুক্ত জায়গায় ঘোরাফেরা করা উচিত৷ এতে শরীরের মধ্যে রক্তসঞ্চালন বেশিমাত্রায় ঘটে৷ যার ফলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷

অঘটন ঘটতে দেয়নি কেকেআর


প্লে-অফের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখল কেকেআর। রাজস্থান রয়্যালসকে হারানোর পর ১৩ ম্যাচে কেকেআরের পয়েন্ট এখন ১৪৷ প্লে-অফ নিশ্চিত করতে লাগবে ম্যাজিক ফিগার ১৬ পয়েন্ট৷ আজকের ম্যাচ হারলেও রাস্তা কঠিন হত শাহরুখের ফ্যাঞ্চাইজির৷ ঘরের মাঠে সেই অঘটন ঘটতে দেয়নি দীনেশরা৷
১৪২ রান তাড়া করতে নেমে রাজস্থানের বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় কেকেআর৷ তুলে নেয় গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট৷ ফলে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় তিন নম্বর স্থান ধরে রাখল দীনেশরা৷ ৪১ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ ফিনিশ করে আসেন নাইট অধিনায়ক৷ 
কার্তিকের ইনিংস সাজানো ৫টি চার ও ১টি ছয় দিয়ে৷ রান তাড়া করতে নেমে ওপেনিংয়ে নারিনের ২১(৭ বলে) ও লিনের ৪৫ রান নাইটদের ব্যাটিং ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়৷ রাজস্থানের বিরুদ্ধে ২০ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছেন কুলদীপ যাদব৷ এটিই কুলদীপের টি-টোয়েন্টি কেরিয়ারের সেরা বোলিং স্পেল৷

ম্যাচ জিতেও অবশ্য স্বস্তি নেই নাইটদের৷ শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করতে শেষ ম্যাচ জিততে হবে তাদের৷ কোয়ালিফায়ারে পৌঁছনোর জন্য তাই ১৯মে সারাইজার্সের বিরুদ্ধে উপ্পলের ম্যাচই এখন কেকেআরের কাছে শেষ সুযোগ৷ সেই ম্যাচ হারলে অবশ্য অন্য দলের হার-জিতের উপর নির্ভর করবে নাইট ফ্র্যাঞ্চাইজির ভাগ্য৷ 

খুলনা সিটিতে কাউন্সিলর হলেন যারা


খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক মেয়রপদে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া ৩১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বেরসকারিভাবে নির্বাচিতরা হলেন:
শেখ আব্দুর রাজ্জাক (১ নম্বর ওয়ার্ড), সাইফুল ইসলাম (২), আব্দুস সালাম (৩), কবির হোসেন মোল্লা কবু মোল্লা (৪), মোহাম্মদ আলী (৫),  শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স (৬), শেখ সেলিম আহমেদ পিন্টু (৭),  সাইদুর রহমান ডালিম (৮), লিটন (৯), কাজী তালাত হোসেন কাউট (১০), মুন্সী আব্দুল ওয়াদুদ (১১), মনিরুজ্জামান মনি (১২),  খুরশিদ আহমেদ টোনা (১৩),  মোশাররফ হোসেন (১৪),  আমিনুল ইসলাম মুন্না (১৫),  আনিসুর রহমান বিশ্বাস (১৬), হাফিজুর রহমান হাফিজ (১৭),  কামরুল ইসলাম মনি (১৮), আশফাকুর রহমান কাকন (১৯),  গাউসুল আজম (২০),শেখ সামুছুদ্দিন মিয়া স্বপন (২১),  আবুল কালাম আজাদ বিকু (২২), ইমাম হাসান চৌধুরী ময়না (২৩),  শমসের আলী মিন্টু (২৪), আলী আকবর টিপু (২৫), গোলাম মওলা শানু (২৬),  জেড এ মাহমুদ ডন (২৭), আজমল আহমেদ তপন (২৮),  ফকির সাইফুল ইসলাম (২৯),  এসএম মোজাফ্ফর রশিদী রেজা (৩০) এবং আরিফ হোসেন মিঠু (৩১)।

শাহবাগে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা বাতিলের জন্য প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করে রাস্তা অবরোধ করে দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেওয়ার ফলে এ মুহূর্তে শাহবাগে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে শাহবাগ মোড়। কিন্তু সড়ক অবধরোধের ফলে নগরবাসী নানা বিপাকে পড়েছে।
শাহবাগে অবস্থানকারী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি না করা পর্যন্ত তারা শাহবাগে অবস্থান করবেন।
 আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষেভ মিছিল শুরু হয়। এতে হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশী অংশ নেয়।
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা থেকেও আন্দোলনের খবর পাওয়া গেছে।

এক নজরে 'আইপিএল লড়াই'


জমে উঠেছে আইপিএলের এগারোতম আসর।  এরই মধ্যে নিজেদের সেরাটা মেলে ধরেছেন বিশ্বসেরা সব ত্রিকেটাররা।  সেই ধারাবাহিকতায় রাতে প্রায় একার হাতে রাজস্থান রয়্যালসকে মুম্বাইয়ের বিরুদ্ধে জয় এনে দিয়েছেন জস বাটলার।  আর এর ফলে একেবারে জমে গেছে প্লে অফে ওঠার লড়াই।  হায়দরাবাদ এবং চেন্নাই প্লে অফে উঠে গেছে। দিল্লি ছিটকে গিয়েছে আগেই। এখন শেষ দুই স্থানের জন্য লড়াই পাঁচটি দলের। 
দেখে নেওয়া যাক প্লে অফের লড়াইয়ে কোন দল কী অবস্থান।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: আট দলের মধ্যে সবার আগে প্লে অফে উঠেছে সাকিব আল হাসানের দল।  লিগ টেবিলের যা অবস্থা, তাতে সানরাইজার্স প্রথম দুই দলের মধ্যে অন্যতম থেকেই প্লে অফ খেলবে। 
চেন্নাই সুপার কিংস: মুম্বাইকে রাজস্থান হারানোর সঙ্গে সঙ্গে প্লে অফে পৌঁছে যায় চেন্নাই। শেষ দুই ম্যাচের একটি জিতলেই প্রথম দুই দল হিসাবে প্লে অফে খেলবেন ধেনিরা। 
কিংস ইলেভেন পঞ্জাব: ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে এখনও সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে অশ্বিনের দল। কিন্তু সোমবার বিরাট কোহালির আরসিবির বিরুদ্ধে হেরে গেলে প্রীতি জিন্তার দলের প্লে-অফে ওঠার কাজটা অনেকটাই কঠিন হয়ে যাবে।
কলকাতা নাইট রাইডার্স: এই মুহুর্তে চার নম্বরে থাকলেও কলকাতার প্লে অফে ওঠার সহজতম শর্ত বাকি দুই ম্যাচ জেতা। একটি ম্যাচ জিতলেও প্লে অফে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে, তবে সে ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা নেবে নেট রান রেট। 
রাজস্থান রয়্যালস: রাজস্থানের শেষ দুই ম্যাচ কলকাতা এবং বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে। এই দুই দলকে হারাতে পারলেই প্লে অফে যাবে রাজস্থান। একটি ম্যাচ জিতলেও প্লে অফে যেতে পারে রাজস্থান, তবে সে ক্ষেত্রে রান রেটের অনেকটাই উন্নতি করতে হবে। 
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স: বাটলারের হাতে রবিবার রাতে হেরে প্লে অফের লড়াইয়ে বেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে মুম্বাই। প্লে অফে উঠতে হলে শেষ দুই ম্যাচে পঞ্জাব এবং দিল্লির বিরুদ্ধে শুধু জিতলেই চলবে না, বিশাল ব্যবধানে জিততে হবে মুস্তাফিজদের। 
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: প্লে অফে ওঠা বেশ কষ্টকর হলেও সামান্য আশা রয়েছে বেঙ্গালুরুরও। শর্ত একটাই, বাকি সব ম্যাচ জিততে হবে এবং বড় ব্যবধানে। 
দিল্লি ডেয়ারডেভিলস: প্লে অফের লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়া একমাত্র দল। ১২ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৩টিতে জিতেছে দিল্লি। বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্টে পৌঁছতে পারবেন শ্রেয়াস আইয়াররা।

গড়লেন সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড, পেলেন গোল্ডেন বুট


সারা বিশ্বের ভক্তদের নজর ছিল তার দিকে। শেষমেশ ভক্তদের হতাশ করেনি তিনি। প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড করে আরও উঁচুতে পৌঁছে গেলেন সালাহ। তার রেকর্ড গড়া ম্যাচে ব্রাইটনের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় তুলে পরবর্তী চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিট নিশ্চিত করেছে লিভারপুল। আর সালাহ হাতে নিয়েছেন সোনালি জুতা।
অবশ্য, অলরেড কোচ ইর্য়্যুগেন ক্লপ বলেন, আরও উন্নতি করার সুযোগ আছে তার সালাহর।
ম্যাচ শেষে প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ গোল করায় গোল্ডেন বুট তুলে দেয়া হয় তাকে। পেয়েছেন ক্লাবের 'প্লেয়ার অফ দ্যা ইয়ার' ট্রফিও। স্ত্রী-মেয়ের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন মিসরের রাজা। 
মোহাম্মদ সালাহ মৌসুমে এরইমধ্যে ৩৪টি ব্যক্তিগত পুরস্কার অর্জন করেছেন। চলতি মৌসুমে লিগে ৩৫ ম্যাচে ৩১ গোল করেছেন তিনি।

ভারতে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ও ধূলি ঝড়ে নিহত ৪০


দিল্লি, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ও ধূলি ঝড়ে কমপক্ষে ৪০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধিক।
 গতকাল বিকালের পর থেকেই কালো মেঘে ছেয়ে যায় ভারতের রাজধানী দিল্লির আকাশ। শুরু হয় ধূলি ঝড় ও বৃষ্টিপাত। দিল্লির একাধিক জায়গায় ১০৯ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়। তাতে ২ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ১৮ জনের মতো। ঝড়ের দাপটে একাধিক জায়গায় অন্তত ১৯০ টির মতো ছোট-বড় গাছ এবং ৪০ টির মতো বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। বিপর্যস্ত সড়ক ও ট্রেন পরিষেবা। ঝড়ের দাপটে কিছুক্ষণের জন্য ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক বিমান ওঠা-নামায় ব্যহত হয় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। 
বিমানবন্দর সূত্রে খবর, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে প্রায় ৭০ টি বিমানকে এদিন অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রায় ২৪ টির বেশি বিমান দেরীতে চলছে বলে জানা গেছে। মেট্রো পরিষেবাও বিঘ্নিত। সব মিলিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেছে রাজধানীর জনজীবন। 
অন্ধ্রপ্রদেশে বজ্রাঘাতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলায় সাত জন এবং কাদাপা এলাকায় দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আহত ৩ জন। কয়েকদিন ধরেই অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্র সহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে এদিন সন্ধ্যার পর থেকে তা ভয়াবহ আকার ধার করে।

রবিবারের বজ্র সহ বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের দাপটে উত্তরপ্রদেশেও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত কমপক্ষে ২৮ জন। রাজ্যটির প্রধান সচিব (তথ্য) অবনীশ আবস্তি এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান কাশগঞ্জে ৪ জন, বুলন্দশহরে ২ জন এবং কনৌজ, আলিগড়, সম্বল, গাজিয়াবাদ ও নয়ডা’য় ১ জন করে মৃত্যু হয়েছে। বাজ পড়ে কয়েকটি কাঁচা বাড়িতে আগুন ধরে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে এই রাজ্যটিতে।

পশ্চিমবঙ্গেও এদিন সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় বজ্র সহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে এখনও পযৃন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা ১৫। রাজ্যটির হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়ায় মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের, এর মধ্যে এদিন বিকালে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রাঘাতে চার বালকের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর চব্বিশ পরগনা ও নদীয়া জেলায় দুই জন করে নিহত হয়েছে এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় মৃত্যু হয়েছে এক জনের।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমস্ত রকমের সহায়তা করার পাশাপাশি যাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে পড়েছে বা ফসলের ক্ষতি হয়েছে তাদের কেও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। 
এদিন রাতে মমতা জানান ‘প্রকৃতির ওপর আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। এই দুর্যোগে যারা নিহত হয়েছেন তাদেরকে হয়তো আমরা ফিরিয়ে আনতে পারবো না কিন্তু আমাদের সরকার সেই সমস্ত পরিবারের পাশে আছে এবং যতটা সম্ভব তাদেরকে সহায়তা করা হবে’।

মুখোমুখি অপু-বুবলী

প্রথমবারের মতো অপু বিশ্বাস আর শবনম বুবলী মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তাও আবার খুশির ঈদে। না, বাস্তবে নয়, পর্দায়। মানে আসন্ন রমজানের ঈদে মুক্তি পেতে পারে এই দুই নায়িকার ছবি। ছবিগুলো হলো শাকিব-অপুর ‘পাঙ্কু জামাই’ আর শাকিব-বুবলীর ‘চিটাগাইংগ্যা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’। দুটি ছবির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে তারা তাদের ছবি দুটি ঈদে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। বিশেষ করে ‘পাঙ্কু জামাই’ ছবির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানায় শুটিং শুরু হওয়া এই ছবিটি তারা কোনো এক উৎসবে মুক্তি দিতে চাচ্ছিল। কিন্তু মধ্যে শাকিব-অপুর সম্পর্কের নানা জটিলতায় ছবিটির কাজ শেষ করতে দেরি হয়। গত বছর অপু তার শুটিং আর শাকিব ডাবিং শেষ করে দেওয়ার পর ছবিটির নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়। এরপর তারা গত পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ছবিটি মুক্তি দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তখন ‘একটি সিনেমার গল্প’ ও ‘বিজলী’ ছবি দুটির মুক্তি পূর্ব থেকে প্রস্তুত থাকায় এবং সিনেমা হল স্বল্পতার কারণে ‘পাঙ্কু জামাই’ আর মুক্তি দেওয়া হয়নি। এরপর এ ছবির প্রযোজক কোনো একটি উৎসবের দিনে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার জন্য আবার অপেক্ষা করছিলেন। ঈদে ‘ভাইজান এলোরে’, ‘সুলতান’, ‘সুপার হিরো’ ‘চিটাগাইংগ্যা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’, ‘পোড়ামন টুুসহ বেশ কটি ছবি মুক্তির তালিকায় থাকায় এই উৎসবে ‘পাঙ্কু জামাই’ নিয়ে আর এগোতে চাননি এর নির্মাতা। কিন্তু সম্প্রতি ‘ভাইজান এলোরে’ আর ‘সুলতান’ শিরোনামের কলকাতার ছবিগুলো উৎসবে মুক্তি পেতে পারবে না এমন আইনি নিষেধের কবলে পড়ায় এবং ‘সুপার হিরো’ ছবিটির কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ঈদে ছবিটি মুক্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে পাঙ্কু জামাইয়ের নির্মাতা ছবিটি ঈদে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। সেই হিসেবে এবারের ঈদে এখন পর্যন্ত মুক্তি পেতে পারে এমন ছবির তালিকায় আছে ‘পোড়ামন টু’, ‘চিটাগাইংগ্যা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’ ও ‘পাঙ্কু জামাই’। আর তাই যদি হয় তা হলে এবারই প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন শাকিবের দুই টানাপড়েনের নায়িকা অপু বিশ্বাস আর শবনম বুবলী। আর এই দুই ছবির নায়কই হলেন শাকিব খান। যদিও বাস্তবে নয়, তারপরেও দর্শক এখন অধীর আগ্রহে মুখিয়ে আছেন এই শত্রু শত্রু ভাবাপন্ন দুই নায়িকার পর্দা লড়াই দেখতে। ঈদে দেখা যাবে পর্দা লড়াইয়ে অপু নাকি বুবলী, মহা উৎসবের এই দিনে কে জিতে।

রমজানে সেহরি পৌঁছে দেবে ড্রোন


পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যেই। আর এমন সময় নতুন এক চমক নিয়ে এলো সংযুক্ত আরব অমিরাতের শহর দুবাই। জানা গেছে. রমজানে রোজাদারদের ঘরে ঘরে সেহরি পৌঁছে দেবে ড্রোন।
এ ব্যাপারে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গেছে, দুবাইয়ের এক বেসরকারি কোম্পানি শহুরে নাগরিকদের ভোর রাতে ঘরে ঘরে সেহরি পৌঁছে দিতে ড্রোন ব্যবহার করবে বলে ঠিক করেছে। ৮ ব্যাটারি চালিত এ ড্রোনটি একবারে ১০ কেজি ওজনের খাবার বহন করতে সক্ষম।
কেনো ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে সে বিষয়ে ওই কোম্পানি জানিয়েছে, দুবাই শহরে স্থানীয় নাগরিকের সংখ্যা একেবারেই কম। অধিকাংশই প্রবাসী। যারা বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থ উপার্জনের জন্য এখানে বসবাস করেন। দুবাইতে কাজের চাপের কারণে অনেক প্রবাসী রমজানে খাবার রান্না করার সময় পান না। আবার দূরে গিয়ে খাবার নিয়ে আসাও কঠিন। এছাড়া অনেক সময় খাবার অর্ডার দিয়ে রাখলেও তা সময়মত পৌঁছে না।
দ্রুতগামী এই ড্রোন ব্যবহার করে এ ধরণের সমস্যা সমাধান সম্ভব বলে মনে করছে কোম্পানিটি।

মেহেরপুরে বজ্রপাতে দিনমজুরের মৃত্যু, আহত ৪


মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার করমদী গ্রামে বজ্রপাতে জিয়াউর রহমান (৪০) নামে একজন দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। নিহত জিয়াউর রহমান গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকার আমিরুল ইসলামের ছেলে।
রবিবার সকাল ৯টার দিকে করমদী গ্রামের বহলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় আহত হয়েছে আরও চারজন। আহতরা হলেন একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে বোরহান উদ্দীন ((৩০), ফজলুর রহমানের ছেলে রাকিবুল ইসলাম (২০), লালন হোসেন (৩৫), আবুল হোসেন (৩২), লালন আলী (২৮), ভোলারদাড় গ্রামের শ্যালো ইঞ্জিনচালিত আলগামন চালক সাইদুল ইসলাম (৩২)।
স্থানীয়রা জানান, ধান কাটার এসব শ্রমিক শ্যালো ইঞ্জিনচালিত আলগামনে চড়ে ধানকাটার উদ্দেশে করমদী বহলপাড়া এলাকার মাঠে যাচ্ছিলেন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বজ্রপাত হলে তারা আহত হন। আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে বামুন্দীর একটি ক্লিনিকে নিলে জিয়াউর রহমানের মৃত্যু হয়। বাকিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মাঠেই বিরাটের পা ছুঁয়ে ভালবাসা প্রকাশ ভক্তের

ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি বেশ কয়েকবার এই অবস্থার শিকার হয়েছেন। তবে বিরাট কোহলির কাছে এটি ছিল নতুন এক অভিজ্ঞতা ৷ 
দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন নিরাপত্তাবলয় ভেদ বিরাট কোহলির এক ভক্ত ঢুকে পড়েন মাঠে ৷ মাঠে ঢুকে বিরাটের পা ছুঁয়ে ভালবাসা প্রকাশ করেন তিনি ৷  ততক্ষণে নিরাপত্তাকর্মীরা মাঠের দিকে ছুটে আসছেন ৷ এই সুযোগে বিরাট কোহলির সঙ্গে সেলফিও তুলে নেন তার ভক্ত ৷ 
নিরাপত্তারক্ষীরা এসে তাকে মাঠের বাইরে বার করে নিয়ে যান ৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল 

মে মাসেই পরমাণুকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে: উত্তর কোরিয়া


আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্র ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম।
কোরিয়া সেন্ট্রাল নিউজ এজন্সি (কেসিএনএ)
এক খবরে বলেছে, পাংগাই-রি পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্র আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে মে মাসের ২৩ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে ধ্বংস করা হবে। এই পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ওই কেন্দ্রের সব গবেষণা ভবন, পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও নিরাপত্তা চৌকি ধ্বংস করে দেওয়া।
কেসিএনএ তাদের প্রতিবেদনে বলে, ‘পরমাণু পরীক্ষা বন্ধ করা হয়েছে এটি নিশ্চিত করতে দ্য ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়ার উত্তরের পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্রের পরমাণু অস্ত্র ইনস্টিটিউট ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটের কারিগরি পদক্ষেপ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
সংবাদ সংস্থাটি জানায়, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের এই পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হবে।

সেনা সদস্যদের জন্য কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক। আমার ভাই শেখ কামাল মুক্তিযোদ্ধা সে ছিল ক্যাপ্টেন। আমার অপর ভাই শেখ জামাল ছিল লেফটেন্যান্ট। এমনকি আমার ছোট ভাই রাসেলকে জিজ্ঞাসা করা হলেও সে বলত সেও সেনাবাহিনীর সদস্য হবে। তাই সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে এই বাহিনীর উন্নয়ন করা আমাদের কর্তব্য।
আজ রবিবার ঢাকা সেনানিবাসে ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
সেনাবাহিনীর জন্য নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেনা সদস্যদের জন্য কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি। রসদ বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতা বাড়িয়েছি। তাদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। প্রথমবারের মতো আমরা সেনাবাহিনী প্যারা কমান্ডো ইউনিট চালু করেছি।
তিনি আরো বলেন, সেনা সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে। সৈনিক আবাসনের জন্য বহুতল ব্যারাক তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া আমরা প্যারা কমান্ড গঠন করেছি। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতাকে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করেছে। এ মর্যাদা ধরে রাখতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নমূলক কাজ যেমন সেনাবাহিনী করছে তেমন শান্তি শৃঙ্খলায় কাজ করছে।
তিনি সেনাবাহিনীর উদ্দেশে বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রেও আমরা আরো বেশি উন্নত হব, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করি।
শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নিতে দেশের সুনাম বহির্বিশ্বে বেড়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, চুক্তি হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো কিছু করছে না। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হবে।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটারদের সিরিজ বয়কটের হুমকি!


জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বেশ কয়েক বছর ধরেই আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। যার ফলে নিয়মিত বেতন ভাতা পাচ্ছে না দলের ক্রিকেটার ও স্টাফরা। তাই এবার আসন্ন অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান সিরিজে না খেলার হুমকি দিয়েছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটাররা।
এ ব্যাপারে  ক্রিকেটাররা বলেছে, বোর্ড যদি তাদের পাশে না দাঁড়ায় এবং বকেয়া পাওনা কবে দেয়া হবে সে বিষয়ে পরিস্কার না করে তবে তারা আসন্ন সিরিজ দু'টি খেলবে না।
জানা গেছে, এরইমধ্যে খেলোয়াড়দের পক্ষের আইনজীবী গেরাল্ড এমলতসোভা জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ও আইসিসি উভয়ের কাছে এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে দেনা পাওনা বিষয়ে আগামী ১৬ মে’র মধ্যে পরিস্কার সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কতিপয় খেলোয়াড় ২০১৭ সালের শ্রীলঙ্কা সফর থেকে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না এবং বোর্ডের কাছে তাদের পাওনা ৬০ হাজার ডলারের বেশি বলে জানা গেছে। 

কেউ নির্বাচনে না এলে কি জেলে পাঠাব?

বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, এটা সম্পূর্ণ তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আগামীতে কে সরকার গঠন করবে, সেই সিদ্ধান্ত দেশের জনগণই নেবে। একই সঙ্গে দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে আবারও বলেছেন তিনি। সরকারি চাকরিতে কোটা থাকছে না, তা আবারও জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী  বলেন, এ নিয়ে আর আলোচনারও কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফরের বিষয়ে তথ্য জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।
দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপিকে আগামী একাদশ নির্বাচনে আনতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনটা হচ্ছে গণতন্ত্র। কোন পার্টি নির্বাচন করবে, কোন পার্টি নির্বাচন করবে না, এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। একজনের দলীয় সিদ্ধান্তের ওপরে আমি তো আর চাপিয়ে দিতে পারি না, তোমাদের নির্বাচন করতেই হবে। তাহলে তো বলতে হবে, তোমাদেরকে নির্বাচন করতেই হবে, না করলে তোমাদেরকে ধরে নিয়ে যাব জেলে—এটা বলব, না কী বলব?’
গত নির্বাচনে বিএনপির না আসার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪-র ইলেকশনে তারা আসে নাই। তারা নির্বাচন ঠেকাতেও চেষ্টা করেছে। তিন হাজারেরও বেশি মানুষ হত্যা করেছে, ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়েছে, ৭০টি অফিস পুড়িয়ে দিয়েছে, গাছ কেটেছে, রাস্তা কেটেছে, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। পুলিশ হত্যা করেছে। কাজেই এখন নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, সেটা সম্পূর্ণই তাদের ওপর নির্ভর করে।’
আগামী নির্বাচনে নৌকার জয়ে আশাবাদী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইলেকশনে জেতাটা আমি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি। জনগণ যদি মনে করে যে তাদের উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত থাকুক, তাহলে তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবে, আমরা আবার ক্ষমতায় আসব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যে পরিকল্পনাগুলো নিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করে আজকে বাংলাদেশ যে উন্নয়নশীল দেশ, এই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশ একটা মধ্যম আয়ের দেশ তো হবেই হবে, একটা উন্নত দেশ হবে। ইনশাআল্লাহ, একমাত্র আওয়ামী লীগই সেটা করতে পারবে। আর কেউ পারবে না। নইলে এত দিন তো ক্ষমতায় ছিল, জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া, দেশের উন্নয়ন হয়নি কেন? এখন হচ্ছে কেন?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় না আসলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যে নষ্ট হয়ে যায়, সেটা তো... ৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত যে উন্নয়ন করেছিলাম, সেটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ২০০১-এ বিএনপি আসার পর থেকে, সেটা তো সকলেই জানেন। কাজেই ওইভাবে যাতে বাংলাদেশকে আবার ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে না চান, তাহলে নিশ্চয় আওয়ামী লীগকে সবাই ভোট দেবে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে।’ 
খালেদার মুক্তিতে কিছু করার নেই : দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি বলছে, খালেদা জিয়া মুক্ত না হলে তারা নির্বাচনে যাবে না। আমি তো আর খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠাইনি। আমি যদি চাইতাম রাজনৈতিক কারণে তাঁকে জেলে পাঠাতে পারতাম। ২০১৪, ’১৫-তে যেভাবে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, ৬৮ জন নিয়ে নিজেই নিজেকে বন্দি করল। সেখানে বসে হুকুম দিয়ে মানুষ মারল। আমি চাইলে তখনই তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারতাম। কিন্তু আমি রাজনৈতিক কারণে তাঁকে বন্দি করতে চাইনি। এমনকি তাঁর ছেলে মারা গেল, আমি দেখতে গেলাম। আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিল। আমাকে ভেতরে ঢুকতে দিল না। অন্য কোনো দেশ হলে কী করত? ওই দরজায় বাইরে দিয়ে আরেকটা তালা দিয়ে বন্ধ করে দিতে পারতাম, যাতে সেখান থেকে কেউ বেরোতে না পারে।’  
খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া জেলখানায় গেছেন। তাঁদের বড় বড় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরা আদালতে প্রমাণ করতে পারেননি যে খালেদা জিয়া নির্দোষ। আদালত তাঁকে সাজা দিয়েছেন। এখন আমাদের কাছে দাবি করার কী আছে?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বরং আমি একটা অন্যায় করেছি। খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকাকে তাঁর সঙ্গে জেলে থাকতে দিয়ে। বলেন তো কোন দেশে কবে কে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গৃহপরিচারিকা সরবরাহ করেছে? আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দয়াপরবশ হয়ে একজন গৃহপরিচারিকা সঙ্গে দিয়েছেন। আমি জানি না, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এত সোচ্চার, কিন্তু একজন নিরপরাধ মানুষ কেন কারাগারে থাকবে তা নিয়ে কথা বলছে না।’
কোটা নিয়ে এখন হা-হুতাশ কেন : সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে যে বোধোদয় আপনাদের হলো, কই এই আন্দোলন যখন ছাত্ররা করল তখন সবাই ছাত্রদের পক্ষে এমনভাবে নামলেন, তখন তো আপনারা কেউ ছাত্রদের থামাতে চেষ্টা করেন নাই। তখন তো কারো এই বোধোদয় হয় নাই। আরেকটা কথা, কারা এই আন্দোলনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে সেটা নিয়েও কাউকে সোচ্চার হতে দেখিনি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতায় যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁদের জন্য এই কোটা চালু করে দিয়েছিলেন। এটা ছিল খুবই বাস্তবসম্মত। কিন্তু হঠাৎ করে কথা নাই বার্তা নাই কোটা চাই না আন্দোলন। সেই আন্দোলনে হঠাৎ করে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হলো। এমনিতেই যানজট, তার মধ্যে রাস্তা বন্ধ। সেখানে তিন-চারটা হাসপাতাল, রোগীরা যেতে পারছে না। এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করা হলো।’
তিনি বলেন, ‘এটা তো ছাত্রদের বিষয় না। এটা সরকারের নীতিনির্ধারণের বিষয়। কোটা থাকবে কি না সেটা তো তাদের বিষয় না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ে, যে টাকায় তারা পড়ে, হলে থাকে, পরীক্ষা দেয় সেটা কি সম্ভব? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত হলেও সরকার তাদের টাকা দিয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে থাকে।...তার পরও যখন তারা কোটা চায় না, আন্দোলন। আমি তাদের দাবি মেনে নিয়েছি। এটা তো ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয় না। ছেলে-মেয়েরা দাবি করেছে আমি মেনে নিয়েছি।’
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর সরকারি চাকরিতে কোটা অনুসরণ হয়নি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭২ সালে জাতির পিতা মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা অংশ নিয়েছেন তাঁদের জন্য সরকারি চাকরিতে কোটা চালু করেন। কিন্তু ১৯৯৬ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন পর্যন্ত কোটায় কে চাকরি পেয়েছে? আপনারা নিজেরাই বিবেচনা করে দেখেন, ’৭৫-এর পর মুক্তিযোদ্ধারা কেউ কি চাকরি পেয়েছেন? আমি এমন অনেককে জানি, যারা নিজেরা মুক্তিযুদ্ধ করেছে কিন্তু ফরমে সেটা লেখেনি ভয়ে যে চাকরি পাবে না।...এখনকার ছেলে-মেয়েরা তারা এটা জানে না? তারা এটা পড়েনি? বোঝে না? ’৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেখলাম মুক্তিযোদ্ধাদের আর চাকরির বয়স নাই। তখন তাদের পরিবারের সদস্যদের, পরিবারের সদস্য কারা সে বিষয়েও বলা আছে—সন্তান-সন্ততি ও নাতিপুতি। যেহেতু দেখলাম অনেক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেরও আর চাকরির বয়স নাই তখন তাদের নাতিপুতিদের কোটা দেওয়া হলো। এখন সেটা নিয়ে যেহেতু কথা উঠেছে, কোটা বাদ দিলাম। মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যঙ্গ করে কথা বলা, অসম্মান করা আমার পক্ষে সম্ভব না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোটায় কী আছে? জেলা কোটা। আপনারা চিন্তা করে দেখেন, কোনো কোনো জেলা থেকে ১৫ জন চাকরি পেয়েছে, আর কোনো কোনো জেলা থেকে মাত্র দুজন চাকরি পেয়েছে। তা-ও কোটা আছে বলেই। আর যে ছেলেরা বিভিন্ন হোস্টেলে থাকছে তারা কি কোনো জেলা থেকে আসেনি?...যারা পরীক্ষা দিচ্ছে তারাও তো মেধাবী। পরীক্ষা নেওয়ার সময় তো আর কোটা বাছাই হচ্ছে না। পাস করার পর কোটা থেকে নেওয়া হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা চাই না, এত আন্দোলন, এত কিছু। ঠিক আছে, আমি দাবি মেনে নিয়েছি। এরা তো আমার নাতির বয়সী। আমার নাতি তো এখন কলেজে পড়ে। তারা যখন বলেছে, আমি দাবি মেনে নিলাম। সব কোটা বন্ধ। এখন আবার নতুন কোনো কথা উঠবে কেন, হা-হুতাশ কেন?’
কোটা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যেটা করে দিয়েছি, করে দিয়েছি। আর কোটার দরকার নাই। কারণ স্বাধীনতার প্রায় ৪৬ বছর হয়ে গেছে। এখন যে যার মতো করে পাবে। আর কেউ যদি না পায় আমাদের কিছু করার নাই। যারা আন্দোলন করেছে তাদের ছবি সংগ্রহ করা আছে। এখন দেখা যাবে ওই জেলার কারা কারা আন্দোলনে ছিল, সেটা আমরা দেখব। তারপর যদি এসে কান্নাকাটি করে, আমাদের কিছু করার নাই। আমার পরিষ্কার কথা।’
তারেককে দেশে ফেরাতে আলোচনা চলছে : লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানকে দেশে ফেরানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার যে অপরাধ সেটা আমাদের দেশে সংঘটিত। এফবিআই এসে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। দুইটা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, আরো মামলা আছে। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি লন্ডনে বসে আন্দোলন করে তার মায়ের মুক্তির জন্য। সেও তো সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। আমরা নিশ্চয় একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে নিয়ে আসব।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘অবাক হয়ে যাই বিএনপির বিষয়ে। একটা দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে গেলে তাকে কিন্তু নিজ দেশের পাসপোর্ট সারেন্ডার করতে হয়। তারপর সে ট্রাভেল ডকুমেন্টস পায়। সেখানে স্পষ্ট লেখা থাকে, যে দেশের সে পাসপোর্টধারী সেখানে সে আসতে পারবে না। কারণ আপনি আশ্রয় চেয়েছেন ওই দেশে। স্বদেশে যখনই আসবেন আর ওই দেশের আশ্রয় থাকবে না। এ ধরনের একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দল, তারা মনে করে সব থেকে শক্তিশালী দল, সবচেয়ে জনপ্রিয় দল, সেই দলে কি তারা বাংলাদেশ থেকে একজন নেতা খুঁজে পেল না? একজন পলাতক আসামিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করা হলো। এর চেয়ে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব আর কী আছে?’
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে বিশ্ব সম্প্রদায় : রোহিঙ্গা ইস্যুতে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কমনওয়েলথ মিয়ানমারকে অনুরোধ করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কমনওয়েলথ সম্মেলনে ৪৬টি সদস্য রাষ্ট্র অংশ নেয়। এতে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ আরো পাঁচ বিষয় নিয়ে কথা হয়। রোহিঙ্গা ইসু্যুতে মিয়ানমারকে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কমনওয়েলথ অনুরোধ করেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। সম্মেলনের ঘোষণায় রোহিঙ্গাবিষয়ক অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়েছে, যেটা আমাদের সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য বলে আমি মনে করি। এ ছাড়া চীন, জাপান, রাশিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও এ ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে একটা চাপ তো পড়বেই। কিন্তু এটাই তো মানবতা।...এখন আমাদের তেমন সমস্যা হচ্ছে না। আন্তর্জাতিকভাবে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। যে কারণে আমাদের ওপর তেমন কোনো চাপ পড়ে নাই। বড় কোনো চাপ এলে আমরা দেশের মানুষ ভাগ করে নেব।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছু সমস্যা তো হচ্ছেই। বিভিন্ন সংস্থা এগিয়ে এসেছে সহযোগিতা করতে। তবে আস্তে আস্তে তা কমে যাবে। সে জন্য আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। আর তাদের যেন দ্রুত ফেরত পাঠাতে পারি সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ভোটের মাধ্যমে ছাত্রলীগের উল্টাপাল্টা কমিটি গ্রহণযোগ্য নয় : আসন্ন ছাত্রলীগের সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রলীগের সম্মেলন যেভাবে হওয়ার হবে। আমাদের একটা নিয়ম আছে। সাধারণত সমঝোতা হয়। যদি সমঝোতা না হয় তবে ভোট হয়।’ তিনি বলেন, ‘ভোটের আবার কিছু ভালোও আছে মন্দও আছে। সেটাও দেখতে হবে। আমরা চাই একটা যোগ্য নেতৃত্ব এবং ছাত্র। একটা বয়সসীমা বাঁধা আছে। ওই বয়সসীমার মধ্যে সত্যিকারের যারা ছাত্র, মেধাবী, তারা যেন নেতৃত্বে আসে সেটাই আমরা চাই। যদি দেখা যায় ভোটের মাধ্যমে উল্টাপাল্টা হচ্ছে, সেটাও নিশ্চয় গ্রহণযোগ্য হবে না। এটাও মাথায় রাখতে হবে।’
সৌদি জোটে গেলেও যুদ্ধে জড়াবে না বাংলাদেশ : সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে অংশ নিলেও বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধে জড়াবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, জাতিসংঘের অধীনে হলেই কেবল যুদ্ধে জড়াবে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে গিয়ে মাইন পরিষ্কার বা অন্য কাজগুলো করবে বাংলাদেশের সেনারা। কিন্তু তারা যুদ্ধ করবে না।
পথচারীদেরও কিছু ট্রাফিক নিয়ম জানা ও মানা দরকার : সড়কে দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাস্তা পার হওয়ার জন্য হয় ফুট ওভারব্রিজ করা আছে না হয় আন্ডারপাস। আপনি ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে পার হন। একটা গাড়ি দ্রুতগতিতে আসছে। হঠাৎ আপনি একটা হাত উঁচু করে থামাতে দৌড় মারলেন। আপনি অ্যাকসিডেন্ট হলেন। কাকে দোষ দেবেন? চালকের নাকি আপনার নিজের? যারা পথচারী তাদেরও কিন্তু কিছু ট্রাফিক রুলস জানা দরকার, মানা দরকার।’
পথচারীদের সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা কয়েকটা সেকেন্ড একটু কাজে লাগান সচেতনতা তৈরিতে। রাস্তায় হাঁটার সময় কী করণীয়, পারাপারের সময় কী করণীয়। এভাবে বাচ্চাদের নিয়ে মা পার হচ্ছে, দেখা যাচ্ছে গাড়ি আসছে, দুই গাড়ির চাপায় পড়ে একজন মা মারা গেল। দুই গাড়ির চাপার মধ্যে মা ঢুকল কেন? কাকে শাস্তি দেবেন আমাকে বলেন? আমার কথাগুলো অনেকের পছন্দ হবে না জানি। কিন্তু যেটা বাস্তবতা আমি সেই কথাটাই বলতে চাই। আমি খুব ডিটেইল বিষয়টা অবজার্ভ করি।’

এক নজরে ওয়ানডে ক্রিকেটের নতুন র‌্যাঙ্কিং


৫ বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এলো ইংল্যান্ড। ভারতকে পেছনে ফেলে ১২৫ পয়েন্ট নিয়ে এ তালিকার প্রথম স্থানটি দখল করে নিয়েছে জো রুটরা। অন্যদিকে, ১২২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে চলে গেছে ভারত।
নতুন র‌্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দুই থেকে নেমে গেছে তিনে, তাদের পয়েন্ট ১১৩। নিউজিল্যান্ড ১১২ পয়েন্ট নিয়ে ৪ নম্বরেই রয়ে গেছে। ১০৪ পয়েন্ট নিয়ে ৫ নম্বরে আছে অস্ট্রেলিয়া। আর পাকিস্তান আছে ছয়ে, তাদের পয়েন্ট ১০২।
এরপরই আছে বাংলাদেশ। ৯৩ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম অবস্থানে আছে টাইগাররা। ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কা, ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে আফগানিস্থানের অবস্থান যথাক্রমে অষ্টম, নবম ও দশম। 
এছাড়া জিম্বাবুয়ে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে এগারো ও আয়ারল্যান্ড ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে বারো নম্বরে আছে।

মহান মে দিবস আজ

মহান মে দিবস আজ। মাঠে-ঘাটে, কলকারখানায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে রক্তঝরা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টির দিন। দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৬ সালের এদিন বুকের রক্ত ঝরিয়েছিলেন শ্রমিকরা।
এদিন শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। সে ডাকে শিকাগো শহরের তিন লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখেন। শ্রমিক সমাবেশকে ঘিরে শিকাগো শহরের হে মার্কেট রূপ নেয় লাখো শ্রমিকের বিক্ষোভ সমুদ্রে। ১ লাখ ৮৫ হাজার নির্মাণ শ্রমিকের সঙ্গে আরও অসংখ্য বিক্ষুব্ধ শ্রমিক লাল ঝান্ডা হাতে সমবেত হন সেখানে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান।
অন্যদিকে হে মার্কেটের ওই শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মুখে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
পরে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর রক্তঝরা অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে ওই ঘটনার স্মারক হিসেবে ১ মে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ‘মে দিবস’ হিসাবে পালন করতে শুরু করে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা শ্রমজীবী মানুষসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার সরকারি ছুটি। সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংক ও কলকারখানা বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও বেতারগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ প্রকাশ করবে।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রাষ্ট্রীয়ভাবে মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। সকাল ৭টায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। র‌্যালিটি দৈনিক বাংলা থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হবে।
মহান মে দিবস উপলক্ষে আজ বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন। 
এদিকে  মে দিবস উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক। 
এ ছাড়াও মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী এবং সাংস্কৃতিকগোষ্ঠী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

আইপিএলের নিলামে বিশ্বাসঘাতকতা হয়েছে : গেইল




এবার আইপিএলে ব্যাট হাতে বিস্ফোরণ ঘটানোর মধ্যেই কথাতেও বিস্ফোরক ক্রিস গেইল। এই মুহূর্তে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব থেকে কয়েকদিনের ব্রেক নিয়ে জবরদস্ত ছুটি কাটাচ্ছেন ক্যারিবিয়ান তারকা।
প্রথমে গোয়ায় একটি পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিলেন গেইল। তারপর সেখান থেকে সোজা চলে গেছেন তিনি। আসলে ওয়ার্ক হার্ড, পার্টি হার্ডার মন্ত্রে বিশ্বাসী গেইলের সাফল্যের এটাই রেসিপি। নিজের স্ত্রী, কন্যা, শাশুড়িকে নিয়ে এই মুহূ্র্তে কেরালে বিন্দাস গেইল।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিতর্ক গেইলকে পিছু করে বেরিয়েছে। তাতেও বিশেষ গা ঘামাননি ক্যালিপসো কিং। তবে এবারের আইপিএলের নিলামে তাকে কথা দিয়েও কথা রাখেনি আরসিবি। এরকম বিশ্বাসঘাতকার অভিযোগ আনলেন বিন্দাস বান্দা। 
গেইলের দাবি, আরসিবি তাকে কথা দিয়েছিল নিলামে তাকে তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু আইপিএল ২০১৮ -র নিলামের প্রথম দিনে এটাই ছিল অন্যতম ব্রেকিং নিউজ যে গেইলকে নিলামে -র প্রথম রাউন্ডে তোলেনি কোনও দল।
দ্বিতীয় দফায় বেস প্রাইস ২ কোটি টাকায় তাকে তুলে নেয় প্রীতি জিনতার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। হয়ত সদাই কুল বান্দা গেইলকে এই বিশ্বাসঘাতকতা এতটাই নাড়া দিয়েছে ফের একবার ব্যাট হাতেই আরসিবিকে দেখিয়ে দিচ্ছেন তিনি কাকে হারিয়েছে বিরাট কোহলির দল। এই মুহূর্তে লিগ টেবলের ৭ নম্বরে রয়েছে আরসিবি। ২টি মাত্র ম্যাচে জয় পেয়েছে তারা।
অন্যদিকে গেইলের অনেকটা অবদান রয়েছে কিংস ইলেভেনকে লিগ টেবলের ৩ নম্বরে রাখার। যাদের জয়ের সংখ্যা ৫টি।

কোরিয়া পারলে ভারত-পাকিস্তান কেন পারবে না?


দুই কোরিয়ার অবিশ্বাস্য পদক্ষেপ ছাপ ফেলল উপমহাদেশেও। দশকের পর দশক ধরে পরস্পরকে যুদ্ধের হুঙ্কার শোনাতে থাকা উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া অত্যন্ত দ্রুত বদলে ফেলছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি। কিম জং-উন এবং মুন জায়ে-ইনের বৈঠকের পরে বেনজির সম্প্রীতির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে কোরীয় উপদ্বীপে। তার প্রেক্ষিতেই পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন, ভারত-পাকিস্তান কেন এই ভাবে এগোতে পারবে না পরস্পরের দিকে? কেন হাত মেলাতে পারবেন না মোদি-আব্বাসি?
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে 'সমঝোতা গ্রাম' পানমুনজমে কয়েকদিন আগে যে ছবি তৈরি হয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচিতে তার কোনও সংস্থানই ছিল না। দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন সীমান্তের নিচু কংক্রিট বাউন্ডারির ধারে পৌঁছতেই, হাত বাড়িয়ে দেন উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং-উন। প্রথমে করমর্দন করেন, তার পরে হাত ধরে টেনে নিজের দেশে ঢুকিয়ে নেন মুনকে, ঘুরিয়ে আনেন উত্তর কোরিয়ার কিছুটা ভিতরের দিক থেকে।
পানমুনজমে কিম এবং মুনের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল ঠিকই। কিন্তু কিমের হাত ধরে উত্তর কোরিয়ার ভিতর দিকে ঢুকে যাবেন মুন, অভূতপূর্ব সম্প্রীতির ছবি তৈরি হবে, এমনটা বেশ অপ্রত্যাশিত ছিল।
দুই শাসকের বৈঠকেই কিন্তু শেষ হয়নি দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া। বৈঠকের পর থেকে দুই কোরিয়া পরস্পরের প্রতি একের পর এক সৌজন্যমূলক বার্তা দিতে শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়া নিজেদের ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে দিচ্ছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার টাইম জোনের সাথে মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার সময়কে। আর সীমান্তে লাউড স্পিকার লাগিয়ে উত্তরের কমিউনিস্ট রাজত্বের বিরুদ্ধে অবিরত যে প্রচার চালাত দক্ষিণ, সেই প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে লাউডস্পিকার।
কোরীয় উপদ্বীপের এই ছবি তুলে ধরে পাকিস্তানের 'ডন নিউজ' লিখেছে, ভারত এবং পাকিস্তানেরও উচিত এই পথই ধরা। ...দীর্ঘ দিনের সাংস্কৃতিক এবং অন্যান্য মিল ভারত ও পাকিস্তানে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে যে অভিন্ন ইতিহাস এবং অভিন্ন স্বপ্ন ও আকাঙ্খা দিয়েছে, তাতে সম্পর্কে স্বাভাবিকতা এবং শান্তি ফেরানো এই অঞ্চলের সবচেয়ে মহান লক্ষ্য।
যে সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে ভারত-পাকিস্তান শান্তি প্রক্রিয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে 'ডন', তাতে অটলবিহারী বাজপেয়ীর লাহৌর সফরের স্মৃতিচারণও করা হয়েছে। কিম জং-উন এবং মুন জায়ে-ইনের বৈঠক অবধারিত ভাবে ১৯৯৯ সালের সেই অভূতপূর্ব আশা-আকাঙ্খার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ঐতিহাসিক সফরে পাকিস্তানের লাহৌরে পা রেখেছিলেন— এমনই লেখা হয়েছে পাক সংবাদমাধ্যমে।
দুই কোরিয়াকে দেখে ভারত এবং পাকিস্তানের শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে মত 'ডন'-এর। সেখানে লেখা হয়েছে, আরও এক বার শান্তি ও মৈত্রীর পথে হাঁটুক ভারত এবং পাকিস্তানের নেতৃত্ব, সেই সময় এসে গেছে।