Hot!

Other News

More news for your entertainment

ভারতের তিন রাজ্যে 'পোড়ামন ২'


ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম আর বিহার রাজ্যে মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশের ছবি ‘পোড়ামন ২’। রায়হান রাফির পরিচালনায় ছবিটিতে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ ও পূজা চেরী।  ছবিটি বাংলাদেশের ২২ হলে মুক্তি পেয়েছিল।
এবার ভারতেও ‘পোড়ামন ২’র মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ। ভারতের ওই রাজ্যগুলোতে ছবিটি মুক্তি দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শীর্ষ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস।
আবদুল আজিজ জানিয়েছেন, শুধু ভারত নয়, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ইতালি ও সুইডেনে দেখানো হবে 'পোড়ামন ২'। 
সিয়াম ও পূজা ছাড়াও 'পোড়ামন ২' ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন আনোয়ারা, বাপ্পারাজ, নাদের চৌধুরী, ফজলুর রহমান বাবু, সাঈদ বাবু প্রমুখ।

মেসি-রোনালদো-নেইমারকে ছাপিয়ে রদ্রিগেজই সেরা


২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের ভেতরে সবচেয়ে সফল ফুটবলারের নাম বলতে বললেই হয়তো প্রথম সারিতে মেসি, রোনালদো, নেইমার বা মুলারের নাম চলে আসবে। তবে এই জায়গায় সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার হামিস রদ্রিগেজ।
২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন রদ্রিগেজ। সর্বোচ্চ ৬টি গোল করেছিলেন তিনি। কিন্তু এই তারকা ফুটবলার মূলত দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আরও ৪টি গোলে সহায়তা করে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। 
গত বিশ্বকাপে ২টি ও রাশিয়া বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২টি গোলে সহায়তা করেছে রদ্রিগেজ। পোল্যান্ডের বিপক্ষে কলম্বিয়ার ৩-০ গোলে জয়ের ম্যাচে ২টিতেই তিনি সহায়তা করেন। যদিও এবারের আসরে রদ্রিগেজ এখনও কোনো গোল করতে পারেননি। 

ইরফানকে লন্ডনের বাড়ির চাবি দিলেন শাহরুখ


সাহেবজাদা ইরফান আলী খান। বলিউডে যিনি ইরফান খান নামেই পরিচিত। এ খ্যাতিমান অভিনেতা বর্তমানে নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমারে আক্রান্ত। দুরারোগ্য এ রোগের সঙ্গে কঠিন লড়াই করে যেতে হচ্ছে লাইফ অব পাই অভিনেতাকে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এ অভিনেতা।
ইরফানের সহকর্মী ও ভক্তরা প্রতিনিয়ত তার সুস্থতা কামনা করছেন। আবার অনেকেই বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। তাদের একজন বলিউড কিং শাহরুখ খান।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শাহরুখ ও ইরফান খুব ভালো বন্ধু। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে যাওয়ার আগে ইরফানের স্ত্রী সুদীপ্তা শাহরুখকে ফোন করে জানান, ইরফান তার সঙ্গে দেখা করতে চান। ডুব অভিনেতার বাড়ির পাশের একটি স্টুডিওতে শুটিং করছিলেন শাহরুখ। তাই খবর পেয়েই সেখানে ছুটে যান তিনি। প্রায় দুই ঘণ্টা ইরফানের বাড়িতে অবস্থান করেন। এরপর ফেরার সময় ইরফানের হাতে তার লন্ডনের বাড়ির চাবি তুলে দেন শাহরুখ। যেন সেখানে গিয়ে নিজেদের মতো করে থাকতে পারেন তারা। প্রথমে ইরফান রাজি না হলেও শাহরুখের জোরাজুরিতে চাবি নিতে বাধ্য হন।
অসুস্থ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই সেই খবর জানিয়েছেন ইরফান। এরপর বিভিন্ন সময় রোগ সম্পর্কে ভক্তদের তথ্য জানিয়েছেন এবং গুজব থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। কয়েকদিন আগে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে রোগের সঙ্গে তার লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা জানান ইরফান।

নিকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন প্রিয়াঙ্কার মা!


প্রথমবারের মতো ভারতে এসেছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মার্কিন বয়ফ্রেন্ড নিক জোনাস। প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তার সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই তিনি প্রিয়াঙ্কার মা মধু চোপড়ার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। 
সূত্রের খবর, প্রিয়াঙ্কার কাছে তার মা মধু চোপড়ার মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কারণেই প্রিয়াঙ্কা নিককে মুম্বাই নিয়ে এসেছেন তার মা'র সঙ্গে আলাপ করাতে। নিক নিয়ে মা মধু চোপড়ার মতামতই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রিয়াঙ্কার কাছে। মেয়ে প্রিয়াঙ্কা ও তার বয়ফ্রেন্ড নিক জোনাসকে নিয়ে ডিনারে যান মধু চোপড়া।
মার্কিন পপ গায়ক নিক জোনাসকে নিয়ে প্রিয়াঙ্কার মা মধু চোপড়াকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ''আমি নিককে নিয়ে ডিনারে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে আরও ১০জন লোক ছিল। তাই আমি ওর সঙ্গে সেভাবেও আলাদা করে কথা বলে উঠতে পারিনি। আমি প্রথমবার ওর সঙ্গে দেখা করলাম। আর এত তাড়াতাড়ি কোনও মতামত দেওয়া খুবই মুশকিল। '' 
তাহলে কি নিককে জানতে আর বুঝতে আরও বেশি সময় কাটাতে চাইছেন প্রিয়াঙ্কার মা। যদিও এর আগে অবশ্য মধু চোপড়া মন্তব্য করেছিলেন, তিনি প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে কোনও বিদেশির বিয়ের কথা ভাবতেই পারেন না। বিয়ে সবসময় এক সমাজ, সংস্কৃতির মানুষের মধ্যেই হওয়া ভালো।
প্রসঙ্গত, মা ছাড়াও বিশেষ ডিনার পার্টিতে নিকের সঙ্গে তার অন্যান্য বলিউডের বন্ধুদের সঙ্গেও আলাপ করিয়ে দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। শোনা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই নিকের জন্য আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলসে থাকার কথাই 

সার্বিয়া ম্যাচে মাঠে নামবেন সম্পূর্ণ সুস্থ নেইমার

পায়ের গুরুতর ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন বিশ্বকাপ মঞ্চে। প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল পাননি। কুতিনহোর গোলে ম্যাচটি ড্র করে ব্রাজিল। দ্বিতীয় ম্যাচে কুতিনহো-নেইমারের গোলে কোস্টারিকাকে উড়িয়ে দেয় হেক্সা মিশনে থাকা তিতের শিষ্যরা। ম্যাচের যোগ করা সময়ের ৯৭তম মিনিটে গোল করে নিজেকে জানান দেন নেইমার। তবে ওই ম্যাচটির আগে তাকে পুরোপুরি ফিট বলতে পারছিলেন না কোচ তিতে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী ২৭ জুন বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় সার্বিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল। এই ম্যাচের আগেই নেইমার সম্পূর্ণ ফিট হয়ে উঠেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ব্রাজিল দলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার। সংবাদ সম্মেলনে লাসমার বলেন, 'ডান পায়ে তার যে সমস্যা ছিল, এখন সেটি নেই। সে সম্পূর্ণ সেরে উঠেছে। কিন্তু রিদম আর আত্মবিশ্বাস এখনো খুঁজে ফিরছে।'
পরের রাউন্ডে যেতে হলে এই ম্যাচে জিততেই হবে কঠিন সমীকরণে থাকা ব্রাজিলকে। ওই ম্যাচে সুস্থ নেইমারকে পাওয়া গেলেও সার্বিয়ার বিপক্ষে ইনজুরি আক্রান্ত ডগলাস কস্তা এবং দানিলোকে পাচ্ছে না ব্রাজিল। চলতি রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হালকা ইনজুরিতে পড়েন নেইমার। ব্রাজিলের ইনডোর অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি। তবে দলের প্রয়োজনেই পুরো সময় খেলেছিলেন কোস্টারিকার বিপক্ষে।

মৃত্যুর তিন মাস পর ব্ল্যাক হোলের কাছে হকিংয়ের কন্ঠস্বর!


বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে স্টিফেন হকিং শুধু কিংবদন্তি বিজ্ঞানীই ছিলেন না, তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘সেলিব্রিটি বিজ্ঞানী’। হকিং ছিলেন ব্ল্যাক হোল তত্ত্বের জনক। তার গবেষণার বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে স্বাভাবিকভাবে জটিল হলেও, হকিংয়ের বোঝানোর জন্যই তা সহজ হয়ে গিয়েছিল বিজ্ঞান থেকে দূরে থাকা মানুষের কাছেও।
চলতি বছরের ১৪ মার্চ, ৭৬ বছর বয়সে পৃথিবীকে বিদায় জানান বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। ঘটনার পরে কেটে গেছে তিন মাস। কিন্তু গত ১৬ জুন, পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৫০০ আলোকবর্ষ দূরত্বের একটি ব্ল্যাক হোলের (1A 0620-00) কাছে শোনা যায় স্টিফেন হকিং-এর কণ্ঠস্বর।
নাহ! ভৌতিক বা অলৌকিক কোনো ঘটনা নয়। পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক ব্যাপার। ‘1A 0620-00’ নামের ব্ল্যাক হোলটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৭৫ সালে। সেখানেই রেডিও ওয়েভের সাহায্যে স্টিফেন হকিং-এর কণ্ঠস্বর ট্রান্সমিট করা হয়। স্পেনের ‘ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি’ এই কাণ্ড ঘটায়। মিনিট ছয়েকের হকিং-এর সেই বক্তৃতার সঙ্গে সংগীত সংযোজন করেছিলেন গ্রিক সংগীত পরিচালক ভানজেলিস। 
এ ব্যাপারে সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, স্পেস এজেন্সির এই সম্মান জ্ঞাপনে আপ্লুত বৈজ্ঞানিক হকিং-এর মেয়ে লুসি হকিং। তিনি বলেন, তার মহাকাশ অন্ত প্রাণ বাবা ও পৃথিবীর মধ্যে খুব সুন্দর এক সংযোগ স্থাপন করেছে এই ট্রান্সমিশন।

বিরাট-আনুশকাকে আইনি নোটিস


ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি এবং তার স্ত্রী অভিনেত্রী আনুশকা শর্মাকে আইনি নোটিস পাঠালেন আরহান সিং নামে এক ব্যক্তি। কিছুদিন আগে যাকে সচেতন করতে বেশ কয়েকটি কথা শুনিয়েছিলেন আনুশকা শর্মা। শনিবার তাদের কাছে সেই আইনি নোটিসটি আরহানই পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।
দিন কয়েক আগে নিজের বিলাস বহুল গাড়ি থেকে রাস্তায় ময়লা ফেলছিলেন অরহান। চলন্ত গাড়ি থেকে সেটা দেখতে পেয়ে আরহানকে সচেতন করেছিলেন অভিনেত্রী। অনুষ্কার এই কর্মকাণ্ড মোবাইলে ভিডিও করে সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন বিরাট। সেই সঙ্গে আরহানকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন, বিলাসবহুল গাড়িতে ঘুরেও যাদের এই মানসিকতা তারা নাকি পরিচ্ছন্ন রাখবে দেশ। 
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল বিরাটের সেই পোস্ট। তার প্রেক্ষিতে আরহান টুইটে লিখেছিলেন, ‘‌গাড়িতে যাওয়ার সময় ছোট্ট একটি প্লাস্টিকের টুকরা রাস্তায় ফেলেছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে আনুশকা গাড়ির কাচ নামিয়ে চিৎকার শুরু করেন, ঠিক মনে হচ্ছিল রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে যাঁরা তাদের মত। নিজের ভুল স্বীকার করে নেওয়ার পরেও থামেননি তিনি। তার মত তারকার মুখে এধরনের ভাষা মানায় না। পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বচন ভঙ্গিও জানাও জরুরি। আনুশকা সেটা জানেন না। বিরাট সেটি ক্যামেরা বন্দী করেছেন কেবল মাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার জন্য।’‌
তারপরেও আরহান বিরাট এবং আনুশকাকে আইনি নোটিস পাঠান। তবে সেই নোটিসে কী লেখা হয়েছে তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে চাননি আরহান। শুধু বলেছেন, ‘‌আমার আইনজীবী বিরাট এবং আনুশকাকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছে। তাদের জবাবেবর অপেক্ষায় রয়েছি।’‌‌‌

যে কারণে হাঁটু গেড়ে বসে ছেলেরা বিয়ের প্রস্তাব দেয়!


বিয়ে ও প্রেম-ভালবাসার ক্ষেত্রে প্রিয়তমাকে জীবনসঙ্গী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব ভঙ্গি বা মৌলিকত্বে অনেকেই বিশ্বাসী। কিন্তু পাশ্চাত্যে হাঁটু গেড়ে বসে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার চল রয়েছে। কিন্তু কেন এমন রীতি চলে আসছে জানেন?
কয়েকটি তত্ত্ব থেকে বিষয়টি জানা যেতে পারে। মধ্যযুগে সৌজন্যতা প্রকাশের ওপর খুবই জোর দেওয়া হতো বলে শোনা যায়। বহু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হাঁটু গেড়ে বসার প্রথা প্রচলিত ছিল। কখনও বশ্যতা, কখনো বা সম্মান প্রদর্শনে এই রীতি ছিল জনপ্রিয়। এমনকি শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হিসেবে নাইটরা প্রভুর প্রতি এভাবে বসেই শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখাত বা অভিজাত অভিজাত নারীর সামনেও এভাবে হাঁটু গেড়ে বসে শ্রদ্ধা-ভালোবাসা প্রকাশ করতো।
যখন কাছের মানুষটি সম্মুখে এক হাঁটু গেড়ে বসে আংটি দিয়ে প্রপোজ করে, সেখানে শুধু তিনি ‘হ্যাঁ’ বলার প্রত্যাশা তো ব্যক্ত করেই, তার পাশাপাশি আপনাকে আরও জানান যে, আপনি যোগ্য সম্মানের অধিকারী। আর বিনয়-শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় মোড়া এই রীতি তাই অনেকেই নিজের করে নিয়েছেন।

ঝুলে আছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ভাগ্য


‘ব্রাজিল বিস্ময়কর ফুটবল খেলেছে। কী বল ব্রাজিলের বন্ধু?’ প্রশ্ন শুনে ভ্রু কুঁচকে তাকালেন অগাস্তু। ব্রাজিলের এক নামকরা দৈনিকের রিপোর্টার। তারপর কথায় কথায় জানালেন অনেক কিছু। ব্রাজিল ফুটবল দলটা আর আগের মতো নেই। ফুটবলের দর্শনটাই এখন বদলে গেছে ব্রাজিলে। ‘জোগো বোনিতো’র উত্তরাধিকার আর বহন করছে না ব্রাজিল। পেলেদের ‘বিউটিফুল গেম’ কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। নেইমার, কটিনহো, উইলিয়ান, জেসুসরা জয় দিয়ে ভক্তদের সন্তুষ্ট করলেও ব্রাজিলের ফুটবলে সেই আবেগ কোথায়! শিল্প কোথায়! পঞ্চাশোর্ধ্ব অগাস্তু জীবনে কম দেখেননি। কিন্তু গত কয়েক বছরের ব্রাজিল দল যেন মরূদ্যান খুঁজতে খুঁজতে পথ হারিয়ে ভিন্ন কোনো এক বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে। যে বাঁক থেকে ছড়িয়ে গেছে অনেক পথ। সঠিক পথটাই বেছে নিতে পারছে না তারা। বিশ্বকাপে তাই ব্রাজিলকে নিয়ে খুব বড় কিছু আশা করেন না ব্রাজিলীয় সাংবাদিকরা। আর্জেন্টিনার অবস্থাও একই। মস্কোর স্পার্টাক স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে আর্জেন্টাইন সাংবাদিক কায়েতানোর বক্তব্য ছিল, এই দলটার গ্রুপ পর্ব পাড়ি দেওয়াই কঠিন হবে। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সাংবাদিকরা বিশ্বকাপে এসে নিজেদের হতাশা প্রকাশ করছেন। কারণ, তারা অনেক খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করেন। সমর্থকদের এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই। তারা দেখেন, আর্জেন্টিনায় আছেন লিওনেল মেসি। ব্রাজিলে আছেন নেইমার। দুই দলের দুই মহাতারকা। যারা বিশ্ব ফুটবলে এরই মধ্যে আলোড়ন তুলেছেন। ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন। সমর্থকরা ভাবেন, নেইমার ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের হেক্সা উপহার দেবেন। মেসি আর্জেন্টিনাকে ত্রিমুকুট এনে দেবেন। কিন্তু গ্রুপ পর্বের প্রথম দুটি করে ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের দুই ফেবারিট নিজেদের পথ অনেকটাই অমসৃণ করে তুলেছে। দুই দলকেই এখন কঠিন হিসাব কষতে হচ্ছে। এ যেন একেকটা ভয়ঙ্কর রকমের গণিত পরীক্ষা! তবে এখনো আশা জেগে রয়েছে দুই দলের।
ব্রাজিলের সামনে পথ অনেকটা সহজ। গ্রুপ পর্ব পাড়ি দিতে হলে তাদের শুধু পরের ম্যাচটা জিততে হবে সার্বিয়ার বিপক্ষে। হারলেই মহাবিপদ। সে ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড আর সার্বিয়া নকআউট পর্বের পথ ধরবে। অবশ্য ব্রাজিলকে ড্র করলেও চলবে। গ্রুপ পর্বের বাধা পাড়ি দিতে পারবে সিলেকাওরা। কিন্তু তাতে বিপদ কমবে না। রানার্স-আপ হলেই ব্রাজিলের দ্বিতীয় রাউন্ডে দেখা হতে পারে এফ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে। সে ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ব্রাজিলকে তাই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই লড়াই করতে হবে। ব্রাজিলের সামনে সমীকরণ সহজ হলেও আর্জেন্টিনাকে বেশ কঠিন অঙ্ক কষতে হচ্ছে। ডি গ্রুপে প্রথম ম্যাচ আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্র এবং পরের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে পরাজয়, আর্জেন্টিনাকে ঠেলে দিয়েছে খাদের একেবারে কিনারে। ২৬ জুন সেন্ট পিটার্সবার্গে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে নাইজেরিয়ার। এ ম্যাচ জিতলেই কেবল দ্বিতীয় রাউন্ড খেলার সুযোগ আসবে আলবেসিলেস্তদের সামনে। তাও তাকিয়ে থাকতে হবে আইসল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের দিকে। এ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া জিতলে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে গ্রুপ রানার্স-আপ হিসেবে। একটা বিষয় এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে। আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলতে পারছে না দ্বিতীয় রাউন্ডে। এর অর্থই হলো, নকআউট পর্বের শুরুতেই মেসিদের মুখোমুখি হতে হবে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল ফ্রান্সের। টানা দুই ম্যাচ জিতে সি গ্রুপে শীর্ষে থেকে দ্বিতীয় রাউন্ড এরই মধ্যে মোটামুটি নিশ্চিত করে নিয়েছে ফরাসিরা।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার আশা টিকে আছে। কিন্তু দুই ফেবারিটকেই দ্বিতীয় রাউন্ডে কঠিন বাধার মুখে পড়তে হবে। পাড়ি দিতে হবে কঠিন পথ। শেষ ম্যাচ পর্যন্ত ঝুলে আছে দুই দলেরই ভাগ্য।

উত্তেজনা ছড়িয়ে এডেন উপসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ


আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়ে এডেন উপসাগরে দু'টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে ইরান।  মোতায়েন করা যুদ্ধজাহাজ দু'টির একটি হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার এবং অন্যটি ন্যাভাল ডেস্ট্রয়ার বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হোদাইদা বন্দরকে কেন্দ্র করে ইয়েমেনের সৈন্য ও হাউছি বিদ্রোহীদের লড়াই এ স্থানেও ছড়িয়ে পড়েছিল।
এদিকে,সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সদস্যরা হোদাইদার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হাউছি বিদ্রোহীদের হাত থেকে পুনঃদখল করে। ইয়েমেনের বর্তমান সরকার অভিযোগ, হাউছি বিদ্রোহীরা হোদাইদা বন্দর ব্যবহার করে ইরান থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র আমদানি করে থাকে।

১৫ বছর পর পাশাপাশি পৃথিবী-মঙ্গল


সৌরজগত নিয়ে মানুষের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। এ নিয়ে বহু আগেই গবেষণা শুরু করেছে নাসা। আর তারই জের ধরে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবারও পাশাপাশি অবস্থান করবে দু'টি গ্রহ। পৃথিবী এবং মঙ্গল। জুলাইয়ের একেবারে শেষে সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছতে দেখা যাবে গ্রহগুলোকে।
নাসার তথ্য বলছে, চলতি বছরে মঙ্গলের ‘বিপরীতমুখী অবস্থান’দেখা যাবে ২৭ জুলাই। এই অবস্থানটির জন্যই মঙ্গলকে দেখাবে অনেক বেশি উজ্জ্বল।
এ ব্যাপারে নাসার সদস্যরা বলেন, যদিও মঙ্গল এবং সূর্যকে দেখা যাবে একে অপরের বিপরীতে। তাই, আমরা বলব মঙ্গল ‘বিপরীতপন্থী’। মঙ্গলের কক্ষপথের যেকোন জায়গায় এই বিপরীতমুখী যেতে দেখা যেতে পারে। আর যখনই এটা ঘটবে তখনই লাল-গ্রহটিকে দেখা যাবে সূর্যের কাছাকাছি। পৃথিবীর খুব কাছাকাছি অবস্থান করতে চলেছে মঙ্গল আগামী মাসে।

নেইমারকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্রাজিল

রাশিয়া বিশ্বকাপের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। মাঠের লড়াই চলছে পয়েন্ট টেবিলেও। এরইমধ্যে আসরে চমক দেখাতে শুরু করেছেন বিশ্বের তারকা খেলোয়াড়রা। তবে ব্রাজিলের প্রাণ ভোমরা নেইমারকে নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশটি। কারণটাও অবশ্য বেশ যৌক্তিক। কোস্টারিকার বিপক্ষে রেফারির সঙ্গে অসদাচরণের দায়ে হলুদ কার্ড দেখেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। আর একটা হলুদ কার্ড দেখলেই এক ম্যাচ নিষিদ্ধের খাড়ায় পড়বেন নেইমার।
কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচের ৮২ মিনিটে প্রতিপক্ষের ডি বক্সে নাটকীয়ভাবে পড়ে গেলে বলকে ঘুষি মেরে বসেন নেইমার। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে হলুদ কার্ড দেখান। মূলত তার সাথে সহজ সংঘর্ষে কোস্টারিকান একজন ফুটবলার পড়ে গেলে হতাশা থেকে অমন কান্ড করেন নেইমার।
রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ আর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সাথে দ্বন্দ্বে জড়ানোর এই প্রবণতা পরের তিন ম্যাচের যেকোন এক ম্যাচে প্রকাশ পেলে আবারও হলুদ কার্ড দেখতে হতে পারে নেইমারকে।
অর্থাৎ, যদি ব্রাজিল শেষ ষোলতে উঠতে সক্ষম হয়, সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখলে পরের ম্যাচেই নেইমারকে পাওয়া যাবে না।

শেষবেলায় হাসল ব্রাজিল

বিশ্বকাপের আকাশজুড়ে আশঙ্কার এই মেঘের ওড়াউড়ি পরশু থেকেই। কালও তা ছিল অনেকক্ষণ। ব্রাজিল-কোস্টারিকা ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়েও। আগের দিন আর্জেন্টিনার পরাজয়ে যে বিষণ্নতায় ডুব বিশ্বকাপের, সেখান থেকে ভেসে ওঠার লক্ষণ তো দেখা যাচ্ছিল না! গোলশূন্য ড্রয়ে যদি এ দ্বৈরথ শেষ হয়, তাহলে যে আলবিলেস্তেদের মতো সেলেসাওদের বিশ্বকাপ ভাগ্যও ঝুলে যাবে!
সেটি হতে দেয়নি ব্রাজিল। হতে দেননি ফিলিপে কৌতিনিয়ো, নেইমাররা। যে কোস্টারিকার দেয়ালে ৯০ মিনিট মাথা কুটে মরেছেন লিওনার্দো বাচ্চি তিতের দল, সে দেয়াল হলুদ জোয়ারে ভাসিয়ে দেয় ইনজুরি সময়ে। প্রথমে কৌতিনিয়ো, এরপর নেইমার। আর এই কোস্টারিকার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে শুধু নিজেরা বাঁচেনি ব্রাজিল; বাঁচিয়ে রেখেছে বিশ্বকাপকেও। অন্য ম্যাচগুলোর ফল পক্ষে না গিয়ে আর্জেন্টিনার বিদায় হলে আর ব্রাজিলও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে টুর্নামেন্টের সিংহভাগ আকর্ষণই যে মরে যাবে!
অথচ আর্জেন্টিনার মতো কালকের ব্রাজিলও হারিয়ে যেতে বসেছিল ব্যর্থতার চোরাবালিতে। না হয় প্রবল প্রতিপক্ষের মতো তিন গোল খায়নি, কিন্তু নিজেরাও তো গোল দিতে পারছিল না। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে ইনজুরি সময়ে আসে অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বাঁ দিক থেকে মার্সেলোর ক্রস ধরেছিলেন বদলি হিসেবে নামা রবের্তো ফিরমিনো। বল দেন গাব্রিয়েল জেসুসকে। এই ফরোয়ার্ডের ফার্স্ট টাচ মোটেই জুতসই হয়নি। কিন্তু সেটিই চমৎকারভাবে পড়ে কৌতিনিয়োর সামনে। ওই ফাঁকা পোস্টের সামনে গোল মিস করার কোনো সুযোগ ছিল না। ইনজুরির সময়ের প্রথম মিনিটে টুর্নামেন্টে কৌতিনিয়োর এই দ্বিতীয় গোল আর শেষ মিনিটের নিজের প্রাপ্য গোলটি পেয়ে যান নেইমার। ডান প্রান্ত দিয়ে দগলাস কোস্তার দৌড়ের পর বলটি তুলে দেন নেইমারের পাতে; ওই ফাঁকা তেকাঠির সামনে। চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করতে তাতে মোটেই অসুবিধা হয়নি তাঁর।
ইনজুরি সময়ের দুই গোল, না-ও তো হতে পারত! সমালোচকরা তা বলতেই পারেন। কিন্তু অমন কিছু হলে সেটি হতো ব্রাজিলের প্রতি বড্ড অন্যায়। কোচ তিতের ফুটবল-দর্শনের প্রতি বড় অবিচার। গড়পড়তা প্রথমার্ধের পর দলকে জাগিয়ে তুলতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই উইলিয়ানের জায়গায় কোস্তাকে নামিয়েছেন। মিডফিল্ডার পাউলিনিয়োকে তুলে দ্বিতীয় ফরোয়ার্ড হিসেবে ফিরমিনোকেও মিনিট বিশেক পর। দ্বিতীয়ার্ধে তাই বল পায়ে সাম্বার সুর তুলেছে সেলেসাওরা। আক্রমণে আক্রমণে কোণঠাসা করে ফেলেছিল কোস্টারিকাকে। গোলটাই শুধু পাচ্ছিল না। ৭৮তম মিনিটে যা-ও রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান, সেটিও বাতিল হয়ে যায় ভিএআরে। এত কিছুর পরও জয়টা ব্রাজিলের প্রাপ্য না— সেটি অন্তত কেউ বলতে পারবে না।
প্রথমার্ধে ব্রাজিল অবশ্য ঠিক ব্রাজিলে ছিল না। কোস্টারিকার গা-জোয়ারি ফুটবলে সেটি থাকার উপায়ও নেই। সুইজারল্যান্ডের মতোই নেইমারকে টার্গেট করে নেমেছিল তারা। প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে চারবার ফাউল করা হয় তাঁকে। কিছু হাফ চান্স তৈরি হচ্ছিল, তবে তুলনামূলক পরিষ্কার গোলের সুযোগ পায় কোস্টারিকাই। ওপরে উঠে যাওয়া মার্সেলোর পেছনের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে ওখান থেকে কাটব্যাক, বোর্হেসের শট একটুর জন্য চলে যান পোস্ট ঘেঁষে। ওদিকে ২৬তম মিনিটে জেসুস বল একবার জালে পাঠান ঠিক; তবে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় তা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে উইলিয়ানের বদলে দগলাস কোস্তাকে নামান ব্রাজিল কোচ। তাতেই ব্রাজিলের খেলা হয়ে হয়ে আরো শাণিত। অ্যাটাকিং থার্ডে আছড়ে পড়ে একের পর এক আক্রমণ। তবু শুরুর ১৫ মিনিটের ঝড়ে কিভাবে যে গোল পায়নি ব্রাজিল!
৪৮তম মিনিটে দ্রুতগতিতে দারুণ কিছু ওয়ান-টু পাসে কোস্টারিকার গোলমুখ খুলে ফেলে ব্রাজিল। ডান দিক থেকে পাউলিনিয়ো ক্রস করেছিলেন দ্বিতীয় পোস্টে। নেইমারের পায়ে বল গেলেই গোল; কিন্তু ঝাঁপিয়ে নিজেকে সামনে ফেলে দেন কেইলর নাভাস। মিনিট দুয়েক পরের ত্রাতা বারপোস্ট। দানিলোর বদলে রাইটব্যাকে খেলতে নামা ফাগনেরের নিখুঁত ক্রস খুঁজে নেয় গাব্রিয়েল জেসুসের মাথা। হেডটি করেছিলেনও দুর্দান্ত। কিন্তু কোস্টারিকার গোলরক্ষককে তা ফাঁকি দিলেও ক্রসবারে প্রতিহত হয়ে ফেরত আসে। ওই মুভেই ফিলিপে কৌতিনিয়োর শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বেরিয়ে গেলে আবারও বেঁচে যায় কোস্টারিকা।
তবে এসব কিছু ছাপিয়ে গেছে ৫৬তম মিনিটে নাভাসের সেই অবিশ্বাস্য সেভে। কোস্তার বল কেড়ে নেওয়ায় সে মুভের শুরু, এরপর কাটব্যাক। কোস্টারিকার গোলমুখ তখন হাঁ হয়ে খুলে গেছে নেইমারের সামনে। প্রথম প্রচেষ্টায় বলে-পায়ে দারুণ সংযোগও হয়। কিন্তু পাখির উড়ালে অবিশ্বাস্যভাবে গোলমুখী সেই বলকে বাইরে ঠেলে দেন নাভাস। সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয় অবিশ্বাস্যের অনুরণন। একই রকম অবিশ্বাস ৭২তম মিনিটেও। এবার রক্ষণ থেকে ক্লিয়ার করা বলে দ্রুতগতিতে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে আসে ব্রাজিল। মার্সেলোর কাছ থেকে বল পেয়ে কৌতিনিয়োর পাসটি ভালো হয়নি। কিন্তু কোস্টারিকার ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল খানিকটা ফাঁকা জায়গা পেলে মুহূর্তে সুযোগটি নিয়ে নেন নেইমার। চোখের পলকে সে বল ধরে এগিয়ে যান বিদ্যুত্গতিতে। তিন ডিফেন্ডারের সাধ্যি নেই তাঁকে আটকে রাখার! পেনাল্টি এরিয়ার কাছাকাছি চলে যান। এ রকম জায়গা থেকে ক্যারিয়ারে কত গোল করেছেন নেইমার! কিন্তু এ শটকে তেকাঠির মধ্যে রাখতে পারেন না।
সেন্ট পিটার্সবার্গের হলুদের ঢেউয়ে ততক্ষণে হতাশার বুদ্বুদ ছড়িয়ে পড়ছে। এ দিন নীল জার্সি পরা ব্রাজিল বেদনায় রাঙায় কিনা হৃদয়, এ আশঙ্কা হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আসছিল ক্রমশ। তা কেটে যাওযার উপক্রম ৭৮তম মিনিটে; যখন নেইমারকে ফাউল করায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কোস্টারিকানরা যে তেড়েফুঁড়ে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছে, তা নয়। কিন্তু রেফারি ভিএআরের সাহায্য নেন। টাচলাইনের পাশে ঘটনার রিপ্লে দেখে বদলান নিজের সিদ্ধান্ত। ব্রাজিলের পেনাল্টি বাতিল! আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বলা ব্রাজিল কোচ লিওনার্দি বাচ্চি তিতের কথাটি তখন কানে বাজছিল গ্যালারির গর্জনেও, ‘আমি ভিএআর নিয়ে কিছু বলব না। বললেই মনে হবে পরের ম্যাচের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে চাইছি।’ কোস্টারিকার বিপক্ষে ৩ পয়েন্ট না পেলে কিন্তু এই পেনাল্টি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক কিছুই বলতে হতো তিতেকে।
এর প্রয়োজন পড়েনি। বিশ্বকাপকেও বিষাদকাব্য হতে দেয়নি ব্রাজিল। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নক আউট পর্বে ওঠার পথে ভালোভাবেই রয়েছে তিতের দল। সেন্ট পিটার্সবার্গের কখনো আঁধার না হওয়া রাতে তাই বেজে ওঠে সাম্বার সুর। যে সুরের দোলায় দুলছে এখন সবুজ এ গ্রহের আনাচ-কানাচ!

বিশ্বজুড়ে আলোচিত তুরস্কের যে ট্রেন


মানবসভ্যতার ইতিহাসে এশিয়া ও ইউরোপের মানুষের চলাচলের সেতু হিসেবে কাজ করেছে তুরস্ক। দেশটির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। তেমনি বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত হয়েছে তুরস্কের একটি ট্রেন। যে ট্রেনে চড়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে আর্মেনিয়ার সীমান্ত শহরে যাওয়া যায়। 
দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে এক সময় কেউ এই ট্রেনে চড়ার কথা ভাবতেন না।কিন্তু ট্রেন যাত্রায় চমৎকার সব প্রাকৃতিক দৃশ্যের বিবরণ যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হতে থাকে তখন তুরস্কের মানুষ তো বটেই বিদেশি পর্যটকরা এই ট্রেন ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করছেন। আসুন দেখে নেই তুরস্কের এই ট্রেন ভ্রমন কেমন।
১. ২৪ ঘণ্টার যাত্রা
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে প্রতিদিন যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি সাড়ে ২৪ ঘণ্টা পর আর্মেনিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত তুর্কি শহর কার্স-এ পৌঁছে। পথের দূরত্ব ১ হাজার ৩৬৫ কিলোমিটার।
২. জনপ্রিয় ছিল না
আঙ্কারা থেকে কার্স-এ বিমানে যেতে এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় লাগে। তাই ট্রেনে করে অনেক সময় খরচ করে এই পথ যাওয়ার বিষয়টিকে আগে পাগলামি মনে করা হত। যদিও টিকিটের দাম খুবই কম, মাত্র ১১ ডলার।
৩. এখন টিকিট পাওয়া দায়!
পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া শুরু করে বছর কয়েক আগে। সেই সময় একদল তরুণ তুর্কি সময়ের চিন্তা না করে স্লিপিং কোচের টিকিট কেটে ওই ট্রেনে ভ্রমণ করা শুরু করেছিল। সেই সঙ্গে তাঁরা যাত্রাপথের বিভিন্ন ছবি, অভিজ্ঞতা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছিল। আর এতেই ট্রেনটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
৪. চল্লিশ শতাংশ বেশি!
হিসেব বলছে, গতবছর প্রায় তিন লক্ষ যাত্রী এই ট্রেনে চড়েছেন। আগের বছরের তুলনায় সেটি প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। এখন যেদিন টিকিট বিক্রি শুরু হয় সেদিনই তা ফুরিয়ে যায়। যদিও পাঁচ বগির জায়গায় এখন ট্রেনে বগির সংখ্যা ১১।
৫. ‘দারুণ অভিজ্ঞতা’
৩৭ বছরের মেডিকেল টেকনিশিয়ান বুরচু ইলমাজ জানান, সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার হওয়া ছবি দেখে তিনি এই ট্রেন ভ্রমণে আগ্রহী হন৷ তবে টিকিট পেতে তাঁকে খুব বেগ পেতে হয়েছিল৷ ‘‘দারুণ নস্টালজিক অভিজ্ঞতা৷ নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, চলতি পথে কামরায় বসে পার্টি করা – এ সব আর অন্য কোনো ধরণের যাত্রায় সম্ভব নয়,’’ বলেন তিনি৷

৬. সামাজিক মাধ্যম ছবি দেয়ার রীতি
যেহেতু সামাজিক মাধ্যম দিয়েই এই ট্রেনের ব্যাপক পরিচিতি, তাই পর্যটকদের জন্য সামাজিক মাধ্যমে এই ট্রেন যাত্রার ছবি, ভিডিও পোস্ট করার বিষয়টি অলিখিত এক রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ট্রেনের কামরায় রুটের দিকে আঙুল নির্দেশ করে তোলা ছবি, মোমবাতি, বেলুন দিয়ে সাজানো কামরা, পার্টি করা, ছোট স্টেশনে নেমে নাচের ভিডিও – এমন সব কন্টেন্টের দেখা পাওয়া যাবে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।
৭. প্রাকৃতিক দৃশ্য
‘ইস্টার্ন এক্সপ্রেস’-এর দীর্ঘ যাত্রাপথে কৃষিজমি ছাড়াও দেখতে পাওয়া যাবে পাহাড়, বন আর নদী। আর পাড়ি দিতে হবে পাহাড় কেটে তৈরি করা দীর্ঘ সুড়ঙ্গ।
৮. বিয়ের প্রস্তাব
এমেরি আর মাইন নূরের পরিচয় ভ্রমণ পথে। বছর দুই প্রেম করার পর এই ট্রেনের কামরা যাত্রা সময় এমেরি বান্ধবী নূরকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ‘‘আমরা ঘুরতে পছন্দ করি। ফলে ট্রেনযাত্রার বিষয়টি আমাদের সঙ্গে দারুণ মিলে যাচ্ছে। সারা জীবনের যাত্রার এটি একটি ছোট ডেমো,’’ বলেন এমেরি।

নিখোঁজ ব্যক্তির প্রাণ বাঁচালো ড্রোন!

ব্রিটেনে এক ব্যক্তি ২২ ঘণ্টা নিখোঁজ ছিলেন। তাকে পানিতে ডুবে থাকা এবং অর্ধমৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ড্রোন। এ অভিযানে ড্রোনটি ব্যবহার করেছিল পুলিশ বিভাগ। 
জানা গেছে, ব্রিটেনের ব্র্যানক্যাস্টার এলাকার বাসিন্দা ওই ব্যক্তির নাম পিটার পাফ। ৭৫ বছর বয়সী এই লোক বিকেলে মাঠে হাঁটতে গিয়েছিলেন।  এরপর তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। 
রবিবার তার সন্ধানে অভিযান শুরু হয় । এক পর্যায়ে ড্রোন দিয়ে সন্ধান শুরু করা হয়। অবশেষে নলখাগড়ায় আচ্ছাদিত পানিতে পাওয়া যায় তাকে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,  ড্রোন ছাড়া ওই সময় আমরা নিখোঁজ ব্যক্তিটিকে শনাক্ত করতে পারতাম না। সেটি ছিল এমন এক এলাকা যেখানে যাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। কিন্তু ড্রোনের কারণেই তা সম্ভব হয়েছে। 

মাঠে খোলামেলা পোশাকে ইরানের রক্ষণশীল নারীরা


রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজ নিজ দলের পক্ষে স্টেডিয়ামে বসে গলা ফাটাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তাই তো ফুটবল ভালোবাসে এমন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষের ভিড় এখন পৃথিবীর বৃহত্তম দেশটিতে। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই রক্ষণশীল দেশ ইরানও। দেশে গ্যালারিতে বসে নারীদের খেলা দেখার সুযোগ না থাকলেও রাশিয়ায় খেলা দেখতে গেছেন ইরানের বহু নারী। এদের মধ্যে কিয়ানা ও পারিয়া নামের ২২ বছরের দুই তরুণীও রয়েছেন। মাঠে গিয়ে খেলা দেখাটা তাদের কাছে অনেকটাই ইতিহাস গড়ার মতো। এদের মধ্যে একজন তো আবার খেলা দেখতে গিয়ে ধরা পড়ে জেলও খেটেছেন। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
পারিয়া বলেন, আমি খেলা ভালোবাসি, আমি ফুটবল ভালোবাসি। ইরানে নারীদের স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সুযোগ নেই। যদিও এক রাতে আমি চেষ্টা করি, খেলা দেখতে যাই এবং ধরা পড়ে জেলে যাই।
               দুই ইরানি কিয়ানা ও পারিয়া।
 একটা গুজব উঠে, খেলার প্রতি নারীদের আগ্রহের কারণে স্টেডিয়ামে বসে নারীদের খেলা দেখার কঠোর বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়েছে। আমি এটা সত্য ভেবেছিলাম। এবং ভেবেছিলাম আমাদের খেলা দেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এরপর তেহরানের ডার্বিতে খেলা দেখার জন্য আমার বয়ফ্রেন্ডকে পীড়াপীড়ি করি।
কিন্তু ওটা গুজবই ছিল। কারণ নিষেধাজ্ঞা উঠানো হয়নি। পারিয়া বলেন, ওই সময় আমরা ২৯ জন নারী আটক হয়েছিলাম। আমাকে পরবর্তীতে থানায় নেওয়া হয়। আমার অপরাধ ছিল, আমি ছেলেদের মতো মেকাপ নিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে আমিই একমাত্র এক রাতে কারাগারে ছিলাম। তবে পুলিশ আমার সাথে ভদ্র আচরণ করেছিল।
স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সুযোগ সেবার হাতছাড়া হলেও ইরান রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য কোয়ালিফাই করার পর কিয়ানা ও পারিয়া তাদের বয়ফ্রেন্ডের মাধ্যমে ইরানের প্রতিটি ম্যাচে টিকিটের ব্যবস্থা করে।
কয়েক হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে রাশিয়া আসা কিয়ানা বলেন, স্টেডিয়ামে বসে খেলার দেখার সুযোগ না থাকলেও ছোটবেলা থেকেই টেলিভিশনে খেলা দেখে বড় হয়েছি। এখানে নারী-পুরুষ মিলে ইরানের ৩০ হাজার ফ্যান রয়েছে বলেও তিনি। তার মধ্যে ১০ হাজার নারী রয়েছে সেটাও জানাতো ভুলেননি তিনি।
গায়ে ইরানের জার্সি ও হাফ প্যান্ট পরার ব্যাপারে কিয়ানা বলেন, এখানে আমরা যে পোশাকে এসেছি, দেশে সে পোশাকে বাইরে বের হতে পারি না। তবে আমরা কিন্তু ঘরের মধ্যে এ ধরনের পোশাক পরে খেলা দেখি। তিনি আরও বলেন, আমাদের হিজাব পরতে হবে এমন না, কিন্তু চুল ঢেকে রাখতে হয়।

অমিতাভ-শাহরুখের ক্রাইম-থ্রিলার ‘বদলা’


বলিউডের শাহেনশাহ খ্যাত অমিতাভ বচ্চন ও বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানকে নিয়ে 'বদলা' শিরোনামে নতুন ছবি তৈরি হতে যাচ্ছে। সুজয় ঘোষের  ক্রাইম-থ্রিলারধর্মী আপকামিং সিনেমা ‘বদলা’। এতে মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে বিগ-বি কে। সিনেমাটির সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানও।
এই সিনেমায় অমিতাভের বিপরীতে দেখা যাবে তাপসী পান্নুকে। এর আগে এই জুটি ‘পিংক’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। অমিতাভ-তাপসী অভিনীত আপকামিং ‘বদলা’য় শাহরুখ নিজেকে যুক্ত করেছেন প্রযোজক হিসেবে।
মুম্বাই মিররকে এ প্রসঙ্গে সুজয় ঘোষ বলেন, ‘আপনি যখন অমিতাভের মতো একজন অভিনেতা পাবেন তখন পরিচালনার যুদ্ধে আপনি অর্ধেক বিজয়ী হয়ে যাবেন, প্রত্যেক পরিচালকের জন্য তিনি আনন্দের। আমি খুবই উত্তেজনায় রয়েছি তাকে ডিরেক্ট করার সুযোগ পেয়ে। এছাড়া তাপসী রয়েছে, সে এই সিনেমার গল্পকে ফুটিয়ে তোলার জন্য একেবারে ‍নিখুঁত। আমার উত্তেজনা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে কারণ সিনেমাটির প্রযোজনায় এখন শাহরুখ যুক্ত হয়েছেন।’ জনপ্রিয় ‘কাহানি’ সিনেমার নির্মাতা সুজয় ঘোষের ‘বদলা’য় অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন এবং প্রযোজক শাহরুখ খান হওয়ায় চমক সৃষ্টি হয়েছে।  
‘বদলা’ সিনেমাটি স্প্যানিশ সিনেমা ‘কনট্রাটিয়েম্পো’ (দ্য ইনভিজিবল গেস্ট)-এর রিমেক। সিনেমাটি সম্পর্কে সুজয় ঘোষ বলেন, ‘আমি মনে করি এ সিনেমার ম্যাটেরিয়াল অমিতাভ বচ্চন স্যারের জন্য অত্যন্ত চমৎকার, তাপসী তো আছেই এবং শাহরুখও বেশ পছন্দ করেছে সিনেমাটির গল্প। সব মিলিয়ে দারুণ এক সমন্বয়।’
চমকপ্রদ থ্রিলারধর্মী গল্পের কারণেই মূলত শাহরুখ এ সিনেমার একটি অংশ হতে আগ্রহী ছিলেন। এজন্য তিনি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আজুর এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে কথা বলে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্টকে যুক্ত করেন।

কপিল দেবের স্ত্রী হচ্ছেন ক্যাটরিনা!

১৯৮৩ সালে ভারতের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়কে নিয়ে তৈরি হচ্ছে সিনেমা। অনেকটা বায়োপিক ধর্মী হলেও গুরুত্বপাবেন বিশ্বকাপজয়ী সব ক্রিকেটাররাই। আর এ ছবিতে বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার কপিল দেবের স্ত্রী'র চরিত্রে দেখা যেতে পারে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফকে। 
সিনেমায় কপিল দেবের স্ত্রী রোমি দেবের ভূমিকায় দেখা যাবে ক্যাটরিনাকে। ছবিটি পরিচালনা করবেন কবির খান। এর আগে কবির খান পরিচালিত ‘নিউ ইয়র্ক’, ‘এক থা টাইগার’ এবং ‘ফ্যান্টম’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন ক্যাটরিনা।
আর ছবিতে কিংবদন্তি অলরাউন্ডারের ভূমিকায় নায়ক হিসেবে অভিনয় করবেন রণবীর সিং। 
তবে ছবির প্রচারণায় জড়িত একজন জানান, ‘এখনও পরিচালক ছবির শীর্ষ অভিনেত্রীর নাম ঠিক করেননি। তবে বাকি দু’জনের নাম প্রায় চূড়ান্ত। একজন নতুন মুখ এবং অন্য একজনের নাম সাজেস্ট করেছেন রণবীর নিজেই।’
জানা গেছে, সিনেমাটি মোটেই কপিল দেবের বায়োপিক হবে না। ভারতের প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়কেই গুরুত্ব দেয়া হবে ছবির গল্পে। 
কপিল দেবও জানান, ‘কোনোভাবেই এটা আমার জীবনীমূলক সিনেমা নয়। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয় নিয়েই সিনেমা। সিনেমায় তার পাশাপাশি সুনীল গাভাস্কার, মোহিন্দর অমরনাথসহ অন্যান্য ক্রিকেটারদেরও গুরুত্ব দেয়া হবে।’

আইভরি কোস্টে ভয়াবহ বন্যা, ১৮ জনের প্রাণহানি

আইভরি কোস্টের রাজধানী আবিদজানে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই বন্যায় গৃহহীন হয়েছে শত শত মানুষ। আইভরি কোস্টের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  সিদিকি দিয়াকাইট এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 
সিদিকি দিয়াকাইট জানান, কয়েকদিন ধরে টানা প্রবল বর্ষণে হয়েছে। এ কারণে আবিদজানে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। 
তিনি জানান, এই বন্যার কারণে নিহত হয়েছে অন্তত ১৮ জন। অনেকের বাড়িঘর বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। শত শত পরিবার গৃহহীন হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, জরুরি সংস্থাগুলো উদ্ধারকাজ চালিয়েছে। পুরো অঞ্চলজুড়ে ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১১৫ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে। 

নরওয়েতে ইলেকট্রিক ব্যাটারিচালিত পরিবহন বিপ্লব

নরওয়ে হচ্ছে পুরো বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেশ যারা তাদের পুরো পরিবহন ব্যবস্থাকে বৈদ্যুতিক জ্বালানি নির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে। একটি  লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৪০ সাল নাগাদ নরওয়ের সব স্বল্প দূরত্বের প্লেন ইলেকট্রিক ব্যাটারি দিয়ে চালানো।
২০২৫ সাল নাগাদ দেশটিতে বৈদ্যুতিক ব্যাটারি চালিত গাড়ি ছাড়া আর সব গাড়ি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। কীভাবে এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে নরওয়ে, তা দেখতে গিয়েছিলেন বিবিসির রজার হারাবিন:
অসলো বিমান বন্দরের এক হ্যাঙ্গারে জড়ো হয়েছেন সাংবাদিকরা। ইলেকট্রিক ব্যাটারিচালিত যে বিমানটি একটু পরে আকাশে উড়বে, তার প্রস্তুতি চলছে।
নরওয়ে তার পুরো পরিবহন ব্যবস্থাকে বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করতে চায়। সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা এই বিমান। আকারে একেবারেই ছোট। এতটাই ছোট যে, তার ভেতর একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ঢোকা এবং আসনে বসাটা যেন রীতিমতো একটা লড়াই।
একটা কাগজের মতো যেন নিজেকে ভাঁজ করতে হলো এই আসনে বসতে গিয়ে। যেন অনেকটা বাচ্চাদের পার্কের কোনো রাইডে চড়ার মতো ব্যাপার। কিন্তু এটি আসলে বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক বিমানগুলোর একটি। এই বিমানটির ইঞ্জিনের শব্দ অন্য বিমানের মতো নয়। মনে হবে যেন কোনো বড় ফ্যান ঘুরছে। আর কোনো  ধোঁয়া বের হয় না এই ইঞ্জিন থেকে।
২০৪০ সাল নাগাদ নরওয়ে চাইছে তাদের সব স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইট এই ব্যাটারি চালিত বিমান দিয়ে চলবে। এটা কি আসলেই বাস্তবে সম্ভব?
এই ইলেকট্রিক প্লেনের উদ্ভাবক টিনা টিমোজোয়েকি বলছেন, খুবই সম্ভব। নরওয়ে স্বল্প দূরত্বের যেসব ফ্লাইট ইলেকট্রিক ব্যাটারিচালিত বিমান দিয়ে পরিচালনার কথা বলছে, সেগুলো মূলত দুশো হতে তিনশো কিলোমিটারের পথ পাড়ি দেয়।
টিনা টিমোজোয়েকির ভাষায়, 'আমাদের হাতে এখনই যে প্রযুক্তি আছে সেটাকে কিন্তু আরো বড় পরিসরে ব্যবহারের বিরাট সুযোগ রয়েছে। আমাদের স্বপ্ন হচ্ছে এমন একটি মেশিন তৈরি করা বোতাম চাপা মাত্র যেটি আপনাকে নিঃশব্দে এবং অনেকটা অগোচরে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাবে। এটি হবে এক নতুন প্রজন্মের ফ্লাইং মেশিন।'
শুধু বিমান নয়, নরওয়েতে আরও অনেক ধরনের যানবাহনকেই ইলেকট্রিক ব্যাটারিচালিত বাহনে পরিণত করা হচ্ছে। পশ্চিম নরওয়েতে ইলেকট্রিক ব্যাটারিচালিত ফেরি চলাচল শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। এই ফেরিটিতে শব্দ বলতে গেলে শোনাই যায় না। কেউ ফেরিটিতে চড়লে মনে করতে পারেন, তিনি ফেরিতেই নেই।
স্টাইন ইয়োহানসন এরকম একটি ফেরির ক্যাপ্টেন।
একটি মজার অভিজ্ঞতার কথা বললেন তিনি। 'কয়েক মাস আগে আমি আমাদের একটি পুরোনো ফেরিতে ওভারটাইম করতে যাই। সেই ফেরিটি ছিল ডিজেল ইঞ্জিনচালিত। এক সপ্তাহ আমি সেই জাহাজে ছিলাম। তারপর আমি এখানে এসে এই ব্যাটারিচালিত ফেরি চালাতে শুরু করলাম। তো শুরুতে আমার মনে হলো, আমি বোধহয় আমার ফেরির ইঞ্জিন স্টার্ট দিতে ভুলে গেছি। কারণ এই ফেরির ইঞ্জিন শব্দ এত কম করে....। আমি আসলে ইঞ্জিন স্টার্ট দিতে ভুলিনি। আমি ভুলে গিয়েছিলাম যে এই ইঞ্জিনে আসলে প্রায় কোনো শব্দই হয় না... আর এই ইঞ্জিন থেকে কোন ধোঁয়াও বের হয় না।'
বার্গেনের রাস্তায় উনিস ফেয়ারেন একটি ইলেকট্রিক কার চালান। নরওয়ের সরকার এই ইলেকট্রিক গাড়ি চালানোর জন্য তাকে বেশ ভালোই ভর্তুকি দেয়। এটিতে করেই তিনি বাচ্চাদের স্কুলে আনা নেয়া করেন।
'এটি দামে সস্তা, এটির চালানোর এবং মেরামত করার খরচও বেশ কম। নরওয়েতে সরকার আমাদেরকে ইলেকট্রিক কার চালানোর জন্য প্রচুর ভর্তুকি দেয়। ইলেকট্রিক কারের জন্য এমনকি পার্কি এবং ফেরি পারাপারের ফি পর্যন্ত কম। এটা তো পরিবেশের জন্যও খুব ভালো', বলেন তিনি।
নরওয়েতে তেলের ইঞ্জিনের গাড়ি ২০২৫ সালে নিষিদ্ধ করা হবে। বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে নরওয়ে যে অন্যদের তুলনায় অনেক দূর এগিয়ে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। 

মেসির পায়ে শেকল পরাতে চায় ক্রোয়েশিয়া

‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ এ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি। তাই তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিততে পাঁচবারের বর্ষসেরা এই খেলোয়াড়ের দিকেই তাকিয়ে আছে আর্জেন্টিনা।  নিজেদের প্রথম ম্যাচে বিশ্বকাপে নবাগত আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে দর্শক-সমর্থকদের হতাশ করেছে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তাই আজ বৃহস্পতিবার রাতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জ্বলে উঠতে মরিয়া হয়ে থাকবেন মেসি। 
তাই মেসির পায়ে শেকল পরিয়েই মূলত আর্জেন্টিনা বধের ছক কষছে ক্রোয়েশিয়া। কেননা, মেসিই যে আর্জেন্টিনার প্রাণভ্রমরা এটা খুব ভালো করেই জানেন ক্রোয়েশিয়ার মাতেও কোভাচিচ ও আন্তে রেভিচ।

বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় ‘ডি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় বিশ্বকাপ শুরু করা ক্রোয়েশিয়া।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনতে মেসির পায়ে শিকল পরানোর বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মেসির বিপক্ষে লড়ার ভালো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোভাচিচ বলেন, ‘আর্জেন্টিনা মেসির ওপর অনেক বেশি নির্ভর করে। যদিও তারা অসাধারণ একটি দল। অবশ্যই তাদের অন্য দিকগুলো নিয়েও সতর্ক হতে হবে। তবে মেসিকে আটকাতে পারলে অর্ধেক কাজ হয়ে যাবে।'
‘ডি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে ক্রোয়েশিয়া। বিপরীতে আর্জেন্টিনা ও মেসির বিশ্বকাপ যাত্রাটা আশানুরূপ হয়নি। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা। এমনকি ওই ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি।

বিশ্বকাপে রুশ নারীদের জন্য সতর্কবার্তা


ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে বলা হয় 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ'। রাশিয়ার মস্কোতে লুজনিকি স্টেডিয়ামে পর্দা উঠছে এবারের আসরের। বিশ্বের ৩২টি দেশের খেলোয়াড়, কোচ, স্টাফ ও গণমাধ্যম কর্মীরা তো অবধারিতভাবেই থাকছেন এ মহাযজ্ঞে। সেই সঙ্গে প্রায় ৫ লাখ ভক্ত-সমর্থকও হাজির হবেন রাশিয়ায়। মাসব্যাপী এ আয়োজনে রাশিয়ার প্রতিটি শহর যেন সেজেছে নতুন রূপে। আর এরই মধ্যে আগত পর্যটকদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে
রাশিয়ান নারী ও যুবতীদের সতর্ক করেছেন দেশটির পার্লামেন্টারি কমিটির প্রধান তামারা প্লেটনিওভা। তিনি দুমা নামে রাশিয়ান পার্লামেন্টের পরিবার, নারী ও শিশু বিষয়ক কমিটির প্রধান। 
তামারা বলেছেন, এমন সম্পর্কে অসংখ্য শিশুর জন্ম হতে পারে, যাদের কোনো পিতৃপরিচয় থাকবে না। সৃষ্টি হবে ‘ব্রোকেন ফ্যামিলি’। অর্থাৎ পরিবারের পিতা থাকবেন এক দেশে। মা থাকবেন আরেক দেশে। 
 এক সাক্ষাৎকারে তামারা আরও সতর্ক করে বলেছেন, এমন সব শিশু পরে ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রণায় ভুগবে। সোভিয়েত যুগে এমনটা ঘটেছে। তিনি বলেছেন, ১৯৮০ সালে মস্কোতে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের পর এ ঘটনা দেখা দিয়েছিল। তাই রাশিয়ানরা যেন কোনো বিদেশীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে না জড়ান সে জন্য এমন আহ্বান তার। 
স্থানীয় গভোরিত মস্কভা রেডিওকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, অনেক যুবতী বিদেশী অনেক পুরুষের সান্নিধ্য পাবেন। এ সময় তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠবে। এর ফল হিসেবে তারা জন্ম দেবেন সন্তান। এমনও হতে পারে তারা বিদেশী নাগরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধও হতে পারেন। আবার এমনটা নাও হতে পারে। কিন্তু যা-ই ঘটুক, এভাবে জন্ম নেয়া শিশুরা দুর্ভোগ পোহাবে। যদি এক্ষেত্রে পুরুষ ও নারী দু’জনেই একই গোত্রের বা বর্ণের হন বা না হন, তাহলেও ওই সন্তান মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করবে। অনেকেই বলে থাকেন রাশিয়া শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য এক উদার জমিন। সেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে, বিভিন্ন বয়সের কয়েক লাখ ফুটবল ভক্ত গিজগিজ করছে এখন। কি হোটেল, কি এপার্টমেন্ট- সব জায়গায় শুধু বিদেশী আর বিদেশী। তাদেরকে মনোরঞ্জনের জন্য এরই মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে ‘সেক্স রোবটের’ পতিতালয়। কিন্তু এর বাইরে দেহপসারিণীরা সাজিয়েছেন পসরা। তারা এ সময়টাকে বাড়তি অর্থ উপার্জনের মওসুম হিসেবে দেখছেন। 
আর যেসব বিদেশী রাশিয়ায় গিয়েছেন বা যাচ্ছে, তাদের সবাই যে শুধু ফুটবল যুদ্ধ ভোগ করতে যাচ্ছেন তা কেউ হলফ করে বলতে পারেন না। তাদের অনেকের মধ্যে চাড়া দিয়ে উঠবে আদিম নেশা। তা নিয়েই আতঙ্কিত তামারা। এ জন্যই তিনি রাশিয়ান নারী ও যুবতীদের সতর্ক করেছেন, যেন বিদেশীদের সঙ্গে তারা যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করেন। তবে এক্ষেত্রে কনডম ব্যবহার করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অবলম্বনের কথা তিনি উল্লেখ করেন নি। 
উল্লেখ্য, ইউরোপে সবচেচয়ে বেশি এইচআইভির সংক্রমণ। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হারে এইচআইভিতে আক্রান্ত হচ্ছে এই দেশেই। যারা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের অর্ধেকের বেশি অপ্রকৃত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে।

ভিডিও গেমের নেশা ছাড়াতে...

ভিডিও গেমের নেশা অনেকের ক্ষেত্রেই অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। আর কোনো নেশাই যে ভালো নয়, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। সম্পতি এমনই এক নেশার কবলে পড়েছিল নয় বছরের শিশু। এরপর তার সেই নেশা ছাড়াতে রীতিমতো পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠাতে হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। শিশুটির মা ক্যারোল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার কন্যা ফোর্টনাইট নামে একটি গেমের জন্য রীতিমতো অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল।
সারা রাত সে লুকিয়ে গেমটি খেলত। এরপর দিনের বেলা স্কুলে গিয়ে ঘুমাত। দৈনন্দিন কার্যক্রমে গণ্ডগোল বাধায় তার পড়াশোনা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।
শুধু তাই নয়, শিশুটি তার বাবা-মায়ের ক্রেডিট কার্ড চুরি করে অনলাইনে গেমের জন্য অর্থ ব্যয় করে। এভাবে রীতিমতো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে তার নেশা।
এমনকি নানাভাবে সেই নেশা থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও বিফল হন তার বাবা-মা। এরপর বিষয়টি নিয়ে মানসিক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন তার বাবা-মা। তারা তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখতে সম্মত হন। সেখানেই চিকিৎসা শেষে হয়ত গেমের নেশা ছাড়ানো সম্ভব হবে শিশুটির।

বিশ্বকাপে রোজা রাখা নিয়ে বিতর্ক

রোজার ঈদ ঘনিয়ে এসেছে, বাঁশি বেজে উঠেছে বিশ্বকাপেরও। এমন বিগ ইভেন্টের আগে শীর্ষ ক্রীড়াবিদদের রোজা রাখার যৌক্তিকতা নিয়েই শুরু হয়েছে এখন বিতর্ক। এর প্রধান কারণ হচ্ছে আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে চারটি মুসলিম দেশ। টুর্নামেন্টের আগেই পবিত্র রমজানের মাস শুরু হওয়ায় তাদের প্রস্তুতি বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে কিনা, বিতর্ক শুরু হয়েছে তা নিয়ে।
আসন্ন ২০১৮ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে চার মুসলিম প্রধান দেশ মিশর, তিউনিশিয়া, সৌদি আরব ও মরক্কো। পবিত্র রমজান শেষ হবার সাথে সাথে তাদের নেমে পড়তে হবে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে। অথচ পুরো রমজান জুড়ে মুসলমানরা রোজা রেখে থাকেন। ঐতিহ্যগত ভাবে প্রতি বছর মুসলিম ধর্মাবলম্বী, খেলোয়াড়, কোচ থেকে শুরু করে সমর্থকরা সবাই রমজান মাসের রোজা পালন করে থাকেন। এবারও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
এর প্রভাব দলের মধ্যে পড়েছে। যেমন মিশর রমজান মাসে তিনটি প্রীতি র্ম্যাচে অংশ নিলেও একটিতেও জয় পায়নি। যা নিয়ে সমর্থকরা সমালোচনা করছে। পারফর্মেন্সের ঘাটতি থাকলেও ফারওরা গোটা রমজান মাস রোজা পালন করবে বলে এসোসিয়েশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
 মিশর কলম্বিয়ার সঙ্গে গোল শুন্য ড্র করার পর তাদের আর্জেন্টাইন কোচ হেক্টর কুপার বলেছেন, 'রোজা রাখার প্রভাব পড়েছে ছেলেদের মধ্যে। এর পরপরই লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে রোজা না রেখেই রিয়াল মাদ্রিদের মোকাবেলা করার কথা জানিয়েছিলেন মিশরীয় ফুটবল সুপারস্টার মোহাম্মদ সালাহ। ওই ম্যাচে তিনি কাঁধের ইনজুরিতে পড়েন এবং লিভারপুল ৩-১ গোলে পরাজিত হয়। এই ঘটনাটিকে 'খোদা প্রদত্ত শাস্তি' বলে মন্তব্য করেছেন কুয়েতের একজন শেখ। তবে এর পরপরই সালাহর সমর্থনে এগিয়ে আসে মিশরসহ গোটা আরব বিশ্ব।
এদিকে চলতি বছরের শুরুতে মুসলামনদের তীর্থ ভুমি সৌদি আরবের ফুটবল ফেডারেশনের একটি ঘোষনা মুহূর্তেই বিতর্কের জন্ম দেয়। তারা ঘোষণা করেছিল যে, কোনো খেলোয়াড় যদি রোজা রাখা থেকে বিরত থাকার আবেদন করেন তাহলে তার আবেদন মঞ্জুর করা হবে।' এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সৌদি সামাজিক মাধ্যমে এর বিরোধী সমালোচনায় মেতে উঠে। তবে ধর্মীয় নেতা সালেহ আল মাগামসি ফতোয়া দিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটান। তিনি বলেন, 'যেহেতু খেলোয়াড়রা ভ্রমণে যাচ্ছে, সেহেতু ইচ্ছে করলে তারা রোজা রাখা থেকে বিরত থাকতে পারবেন।'
তিউনিশিয়ায় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে রমজান মাস মাথায় রেখেই। ইফতারের অনেক আগেই যেটি শেষ করে দেয়া হয়। দেশটির ফরাসি ভাষার সংবাদ পত্র লা প্রেসের রিপোর্টে লেখা হয়েছে, 'ক্রীড়া এবং রোজা'র সমন্বয়ের বিষয়টি বেশ জটিল। এটি নিয়ে বিতর্কের অবসান এত সহজেই হচ্ছে না।'
মরক্কোর প্রধান কোচ হার্ভে রেনার্ড মে মাসের শেষ দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, 'এই বিতর্ক নিয়ে তিনি কিছু বলতে চান না। কারণ এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এ বিষয়ে ফতোয়া দেয়ার একমাত্র অধিকার রয়েছে মরক্কোর শীর্ষ ধর্মীয় পরিষদ হায়ার কাউন্সিল অব ওলমার। তারাও নিরবতা পালন করেছে বিষয়টি নিয়ে।
মিশরের শীর্ষ সুন্নি কর্তৃপক্ষ আল আজহার এ বিষয়ে একটি প্রস্তবনা দিয়েছে, 'কোনো ক্রীড়াবিদ যদি রোজা রেখে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সময় খুব বেশি সমস্যাবোধ করেন, তাহলে রোজা পূর্ণ না করেই ভাঙ্গতে পারবে।'
তবে অন্য রকম চিন্তুা-ভাবনা মিশরের ক্রীড়া চিকিৎসক শরিফ আজমির। তিনি বলেন, 'কোনো ক্রীড়াবিদের বিশেষ করে ফুটবলারের অবশ্যই রমজানের সময় ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।'
তিনি বলেন, ফিফার নিয়মেও রোজাদার খেলোয়াড়দের কিছু সুবিধা করে দিয়েছে। নিয়মে বলা হয়েছে, 'ইফতারের তিন থেকে চার ঘন্টা আগে কোনো খেলা অনুষ্ঠিত হবে না।' যাতে করে ইফতার করার পর রোজাদার খেলোয়াড় তার শরীরের জন্য পর্যাপ্ত উপাদান গ্রহণ করতে পারেন।

জিন্স প্যান্টের সামনে ক্ষুদ্র পকেট থাকে কেন?


বর্তমানে পোশাকের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় জিনসের প্যান্ট। কম-বেশি সবাই জিনসের প্যান্ট পরে। সবার জিনসের সামনে ডানদিকের পকেটের ভিতরে একটি ছোট্ট পকেট থাকে। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, আপনার জিনসের সামনে ডান দিকে ওই ছোট্ট পকেটটা কেন থাকে?
পিছনে দু'টি পকেট, সামনে প্রমাণ সাইজের পকেট তো আছেই। তাহলে! অনেকে ভাবতে পারেন ওই পকেটটা নিছকই স্টাইল করার জন্য। কেউ ভাবতে পারেন খুচরো পয়সা রাখার জন্য।
আসলে উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ায় আমেরিকার কাউবয়রা এই জিনস পরা শুরু করেন। জিনসের সামনে ওই ছোট্ট পকেটটি রাখা শুরু হয় তখনই। ওই ছোট্ট পকেটে তারা পকেট ঘড়ি রাখতেন। সেই ঘড়ি একটি চেন দিয়ে বেঁধে রাখা থাকত।
আজ আর পকেট ঘড়ির ব্যবহার নেই। কিন্তু ঘড়ির পকেটটি ঠিকই রয়ে গেছে।

সাইবার দুনিয়া নিরাপদ রাখতে পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত টিপস


প্রযুক্তি নির্ভর যুগে আমাদের বসবাস। দিন যত যাচ্ছে মানুষ ততই প্রযুক্তি নির্ভর হচ্ছে। আর এই মাত্রাকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে ইন্টারনেট তথা সাইবার দুনিয়া। তবে সেক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যাও দেখা দিয়েছে। যেমন, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কম্পিউটারের তথ্য থেকে শুরু করে ফেসবুকের একাউন্ট, ব্যাংকের ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড, ই-মেইল ইত্যাদি অনেক কিছুই চলে যাচ্ছে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির কাছে।
তবে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব যদি আপনি এর পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত বিষয়ে একটু সচেতন থাকেন। 
১. শক্ত পাসওয়ার্ড তৈরি করুন
শক্ত পাসওয়ার্ড বলতে আপনার পাসওয়ার্ড ১০ থেকে ১৫ ক্যারেক্টারের হওয়া উচিত। এবং সেখানে স্মল লেটার, ক্যাপিটাল লেটার, সংখ্যা বা বিশেষ ক্যারেক্টার যেমন @, $ বা * রাখা দরকার। এবং সেটা আগের কোন পাসওয়ার্ডের মতো হওয়া যাবে না।
২. কোন জায়গায় আপনার পাসওয়ার্ড প্রবেশ করছেন সতর্ক থাকুন
কোন সাইট বা অ্যাপে প্রবেশ করার সময় বা পাবলিক কিউস্ক বা চার্জিং স্টেশনগুলোতে পাসওয়ার্ড প্রবেশ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। পাবলিক ওয়াইফাই, এয়ারপোর্ট, প্রিয় কফি শপ, হোটেল কক্ষ বা আপনার কলেজ ক্লাসরুমের কম্পিউটারে পাসওয়ার্ড ব্যবহারে বিরত থাকতে হবে। আর সেসব পাবলিক জায়গাগুলো থেকে কখনোই আপনার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করবেন না। ব্যক্তিগত স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকেই সেটা করতে হবে।
৩. কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবহার করুন
আপনার একাউন্টে প্রবেশ করার জন্য দু'স্তর বা তার চেয়ে বেশি স্তরের অথেন্টিকেশন ব্যবহার করুন। কোন একাউন্টে প্রবেশ করতে হলে আপনার ফোন নাম্বার বা কয়েক স্তরের পদক্ষেপ যেন নিতে হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।  
৪. প্রতিটি ওয়েবসাইট বা অ্যাপে অনন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
অনেকে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন একাউন্টে। ফেসবুক, মেইল, ইয়াহু বা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার মতো বোকামি করে অনেকে। কিন্তু এটা অনেক বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি। কোন মতে একটা পাসবওয়ার্ড ফাস হয়ে গেলে আপনার সব একাউন্ট কিন্তু ঝুঁকিতে পড়ে গেল।
৫. যুক্ত একাউন্ট এড়িয়ে চলুন
যুক্ত একাউন্ট বিষয়টি কি? ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে আপনি ইচ্ছে করলে অন্যান্য সাইটেরও একাউন্ট খুলতে পারেন। কিন্তু এটা না করে সেই ওয়েবসাইটে গিয়ে নতুন করে একাউন্ট খোলাই ভালো। যুক্ত একাউন্ট অনেক আরামদায়ক। কিন্তু এ আরামদায়ক ব্যবস্থার অনেক ঝুঁকি আছে!
৬. আপনার একাউন্টে আক্রমণ করার চেষ্টা হলে নোট রাখুন
যদি খবর পান আপনার ব্যবহৃত ওয়েবসাইট বা অ্যাপে কোন আক্রমণ হয়েছে তাহলে সেটা সতর্কতার সাথে আমলে নিতে হবে। অন্য কেউও যদি আক্রান্ত হয় তাহলেও নজর দিবেন। আর দ্রুত পাসওয়ার্ড পাল্টে ফেলাও জরুরী হতে পারে।
৭. সহজে অনলাইনে পাওয়া এমন তথ্য দিয়ে পাসওয়ার্ড নয়
ধরেন আপনার পোষা বিড়ালটাকে খুব পছন্দ করেন। তার নাম রাখলেন সুইটি। এখন সেটা দিয়ে যদি পাসওয়ার্ড রাখেন তাহলে অন্যরা কিন্তু ধরে ফেলতে পারেন। আপনি হ্যারি পটার ফ্যান তাই বলে হ্যারি পটার পাসওয়ার্ডে নিয়ে আসবেন না।

ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ভারত, কিনছে মার্কিন অ্যাপাচে চপার


বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে মরিয়া ক্ষমতাধর দেশগুলো। আর তারই জের ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর
জানিয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ৯৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ৬টি এএইচ ৬৪ই অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিক্রির চুক্তিতে সম্মতি দেশটির সরকার। তবে চুক্তিপত্রটি এখন মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে অনুমোদনের জন্য।
এ ব্যাপারে মার্কিন ডিফেন্স সিকিওরিটি কো-অপারেশন এজেন্সির দাবি, 'এতে ভারতীয় সেনাবাহিনী আরো আধুনিক হবে, এবং ভূমিতে কোনো অস্ত্র হামলা ঠেকানোর ক্ষমতা অনেকটাই বাড়বে।'
উল্লেখ্য, এমনিতে ভারতের একটি কারখানায় বোয়িং সংস্থা ও তাদের ভারতীয় অংশীদার টাটা অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের কাঠামো তৈরি করে। কিন্তু এই চুক্তিটি নিশ্চিত হলে, মার্কিন প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে সরাসরি সম্পূর্ণ হেলিকপ্টার কিনতে আর বাধা থাকবে না ভারতীয় সেনাবাহিনীর। 
এদিকে, তিনটি মার্কিন অস্ত্র, উড্ডয়ন ও ইঞ্জিনিয়ারিং সংক্রান্ত সংস্থা এই চুক্তি করতে আগ্রহী। সংস্থাগুলো হলো, লকহিড মার্টিন, জেনারেল ইলেক্ট্রিক ও রেথিয়ন।
এই চুক্তি অনুসারে প্রস্তুতকারী সংস্থাকে হেলিকপ্টারগুলো নাইট ভিশন সেন্সর, জিপিএস গাইডেন্স, অ্যান্টি আর্মার হেলফায়ার, ও স্টিঙ্গার এয়ার টু এয়ার মিসাইল-এ সমৃদ্ধ করে দিতে হবে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠছে আজ


আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এরপর পর্দা উঠবে ফুটবল মহাযজ্ঞের। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ৮১ হাজার দর্শক সেটির প্রত্যক্ষ সাক্ষী হতে যাচ্ছে। টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখবে আরও কত কোটি ফুটবলপ্রেমী- তার ইয়ত্তা নেই! যদিও অনেক আগে থেকে বিশ্বকাপের বাঁশির সুর কান পাতলে শোনা যাচ্ছে! তবে যেটা এতদিন কল্পনা আর আবেগে ঠাসা ছিল, তা এবার রূপ নিতে যাচ্ছে বাস্তবে। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। 
যদিও সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে মূলত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তাই ফুটবল মহারণ দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আরও দুই ঘণ্টা। এরপরই বাজবে ২১তম বিশ্বকাপ ফুটবলের বাঁশি। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক রাশিয়ার প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর তুলনায় দুর্বল হওয়ায় তাই খেলার চাইতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিকে বেশি ঝোঁক থাকবে ফুটবল প্রেমীদের। তবে পরদিন থেকে জমে উঠবে রাশিয়া বিশ্বকাপ। এদিন থাকা তিনটি ম্যাচের দুটিতে তারকায় ঠাসা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ৬টার ম্যাচে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে মিশর। উরুগুয়ের দলে যেমন রয়েছে  এডিনসন কাভানি ও লুইস সুয়ারেজের মতো বিশ্বসেরা তারকা। তেমনি মিশরের রয়েছে একজন মোহাম্মদ সালাহ। তবে এই ম্যাচে তিনি খেলবেন কিনা সেটা নিশ্চিত নন। দিনের পরের ম্যাচটি কম গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাত ১২টার ম্যাচটি হবে আবারও তারকায় ঠাসা। স্পেন ও পর্তুগালের এক ঝাঁক তারকা ফুটবলারের দেখা মিলবে এই ম্যাচে।
শনিবার রয়েছে গতবারের রানার্স আপ আর্জেন্টিনার ম্যাচ। আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মেসিরা। আর পরদিন রয়েছে ব্রাজিল ও জার্মানির মতো দলের ম্যাচ। সব মিলিয়ে প্রতিটি দিনই থাকছে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিনোদনে ভরা সেরা সেরা দলের খেলা।

বিশ্বকাপ দেখতে আর্জেন্টিনার কারাগারে অনশন!


রাশিয়া বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে গেছে শহর থেকে গ্রামে। বিশ্বের প্রতিটি দেশে চলছে এ উন্মাদনা। আর লাতিন দেশ আর্জেন্টিনায় যে এ উন্মাদনা আরও প্রকট তার প্রমাণ মিলল কারাবন্দীদের অনশনে। বিশ্বকাপ দেখার দাবিতে আর্জেন্টিনার কারাবন্দীরা অনশন করে কারা কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
কারণ নিজেদের প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসির খেলা দেখতে মরিয়া তারা। তাই মেসিদের খেলা দেখার জন্য আর্জেন্টিনার একটি কারাগারের বন্দিরা এবার শুরু করল অনশন। তাদের দাবি, অবিলম্ব কারাগারে টেলিভিশন ক্যাবল সিস্টেম সংস্কার করা হোক।
বুয়েন্স আয়ার্সের ৮ শত মাইল দক্ষিণে পুয়ের্তো ম্যাড্রিন কারাগারের ৯ করাবন্দীর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'ক্যাবল টেলিভিশন দেখা স্বাধীনতা বঞ্চিত বন্দিদের জন্য অপরিহার্য অধিকার। গত ৩ দিন ধরে এটা একেবারেই কাজ করছে না এবং কর্তৃপক্ষও গা ছাড়া ভাব দেখাচ্ছে। এ সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা কেউ কোনো প্রকার খাদ্য গ্রহণ করব না।'
জানা গেছে, কারাগার এলাকায় থাকা ক্যবল সিস্টেমটি সম্প্রতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তা সংস্কার করা হয়নি। এদিকে শুধু বিবৃতি আর অনশনই নয়, ওই ৯ বন্দি আর্জেন্টিনার আইন অনুসারে তাদের অধিকারের দাবিতে একটি মামলাও করেছে। এতেই টনক নড়েছে কারা কর্তৃপক্ষের।মস্কোতে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা। বৃহস্পতিবার স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ২১তম ফিফা বিশ্বকাপ।