Hot!

Other News

More news for your entertainment

সূর্যের প্রায় দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল নাসা'র মহাকাশযান


এই প্রথম সূর্যের প্রায় দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল মানুষের তৈরি কোন মহাকাশযান। নাসা এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, গত ২৯ তারিখ স্থানীয় সময় দুপুর ১.‌০৪ মিনিট নাগাদ সূর্যের পৃষ্ঠের ৪২.‌৭৩ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে ‘‌পার্কার সোলার প্রোব’‌। 
এর আগে ১৯৭৬ সালের এপ্রিলে জার্মান-আমেরিকান মহাকাশযান 'হেলিওস-২' সূর্যের পৃষ্ঠের ২৪৬৯৬০ কিলোমিটার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। জানা গেছে, বুধবার প্রথমবার সূর্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছাবে পার্কার। সূর্যকে নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য মোট ২৪টা ফ্লাইবাই করবে এই মহাকাশযান। এখনও পর্যন্ত সব থেকে দ্রুতগামী মহাকাশযানের রেকর্ড তৈরি করেছে পার্কার সোলার প্রোব।  
প্রসঙ্গত, গত অগাস্টে সূর্যবলয়ের রহস্য ভেদ করতে মহাকাশে পার্কার সোলার প্রোব উৎক্ষেপণ করে নাসা। মোট ১০৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে তৈরি এই মহাকাশযান এমন বিশেষভাবে তৈরি যে সূর্যবলয়ের চরম তাপেও তা নষ্ট হবে না।  

প্রিয়াঙ্কার বিয়েতে আমন্ত্রণ পাবেন না তার সাবেকরা, বাদ শাহরুখ খানও


চলতি বছরের ডিসেম্বরে গাঁটছড়া বাঁধবেন নিক জোনাস এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ভারতের রাজস্থানের উমেদ ভবনে বসবে নিক-প্রিয়াঙ্কার বিয়ের আসর। কিন্তু প্রিয়াঙ্কার বিয়েতে কারা কারা হাজির থাকবেন আর কারা বাদ পড়বেন, তাই নিয়ে এখন বলিউড পাড়ায় কানাঘুষো চলছে।
সূত্রের খবর, বিয়ের পিঁড়িতে বসে কোনরকম অস্বস্তির মধ্যে পড়তে চান না প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। আর সেই কারণেই নাকি সাবেক প্রেমিকদের বিয়ের আমন্ত্রণ পত্র থেকে ছেটে ফেলতে চাইছেন তিনি। আর সেই কারণেই প্রিয়াঙ্কার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র থেকে বাদ পড়তে পারেন অক্ষয় কুমার, শহিদ কাপুর, হারমান বাওয়েজারা। এমনকি, বাদ পড়তে পারেন শাহরুখ খানও। 
এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানা না গেলেও, নিক-প্রিয়াঙ্কার বিয়েতে আমন্ত্রিতদের তালিকা নিয়ে নাকি ইতিমধ্যেই নির্বাচন পর্ব শুরু করে দিয়েছে চোপড়া পরিবার। বিয়ের আসরে বসে মেয়েকে যাতে কোনভাবে অস্বস্তিকর পরিবেশের মধ্যে না পড়তে হয়, তার জন্য সজাগ প্রিয়াঙ্কার মা মধু চোপড়াও।
সম্প্রতি ধুমধাম করে বাগদান পর্ব সারার পর শোনা যায় মার্কিন মুলুকে নাকি বিয়ে সারবেন নিক-প্রিয়াঙ্কা। হওয়াই দ্বীপে বসবে নিক-প্রিয়াঙ্কার বিয়ের আসর। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়ে জানা যায়, রাজস্থানের বিলাসবহুল উমেদ ভবনে সাতপাকে বাঁধা পড়বেন নিক-প্রিয়াঙ্কা। আর তাদের বিয়েতে অতিথির সংখ্যাও থাকবে একেবারে হাতে গুনে। অর্থাৎ হলিউড এবং বলিউডের ঘনিষ্ঠরা ছাড়া অন্য কেউ নিক-প্রিয়াঙ্কার বিয়েতে নিমন্ত্রণ পাবেন না অলেই শোনা যাচ্ছে।

নির্বাচনে অযোগ্য খালেদা জিয়া!

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন হাইকোর্ট। অপর দুই আসামি সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ রায়ের পর মামলাটিতে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। একই সঙ্গে এ রায়ের মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন খালেদা জিয়া।
গতকাল রায় ঘোষণার পর প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ব্যানারে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ১টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতেই এ কর্মসূচি বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন। তিনি বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান।
খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত কোনো পর্যবেক্ষণ দেননি। তবে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, এ মামলায় খালেদা জিয়া মুখ্য আসামি। নিম্ন আদালত তাঁকে সাজা দিয়েছেন পাঁচ বছর। আর সহযোগীদের দিয়েছেন ১০ বছর। আর এ কারণেই হয়তো হাইকোর্ট মুখ্য আসামি খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, এই রায় ইঙ্গিত বহন করে যে রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে কেউ অন্যায় করলে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, এ রায় রাজনীতিবিদদের জন্য একটি মেসেজ।
নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে গেলেন : নির্বাচনে অযোগ্যতা প্রসঙ্গে সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘একজন অযোগ্য হবেন যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’ এ হিসাবে হাইকোর্টের রায়ের পর আপাতদৃষ্টিতে খালেদা জিয়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন। তবে রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া যদি আপিল করেন এবং যদি সাজা বাতিল হয় তবে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও বলেছেন, যতক্ষণ সাজা বাতিল না হয়, ততক্ষণ তিনি অযোগ্য। সাজা স্থগিত যদি হয়, আপাতত জেল খাটা থেকে হয়তো তিনি অব্যাহতি পেতে পারেন, কিন্তু নির্বাচন করতে পারবেন না। একই অভিমত দেন দুদকের আইজীবী খুরশীদ আলম খান এবং অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম।
গতকালের রায়ের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী রায়ের কপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। শুধু কারাবন্দিরাই আপিল করতে পারবেন। এ মামলায় খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ কারাগারে বন্দি। গতকাল থেকে এই দিন গণনা শুরু হলেও রায়ের কপি যতদিন না পাচ্ছে ততদিন ওই ৩০ কার্যদিবস থেকে বাদ যাবে।
আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়ের কপি কবে নাগাদ পাওয়া যাবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় না। আবার রায়ের কপি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া আপিল করলেও সেই আপিল নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এ দেশে সচরাচর এ ধরনের দুর্নীতি মামলায় আপিল নিষ্পত্তি হতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছরও পেরিয়ে যায়। অথচ সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই। এই হিসেব অনুয়ায়ী, খালেদা জিয়া আপিল করলেও মাত্র তিন মাসে সেই আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই সংশ্লিষ্টদের মত। কাজেই গতকালের রায়ের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না, তা এক রকম নিশ্চিত হয়ে গেল।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের জেল হয়। এরপর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদক আবেদন করে। এ আবেদন মঞ্জুর এবং নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের করা আপিল খারিজ করে গতকাল রায় দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলা নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগের নির্দেশ থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রায় ঘোষণা করা হলো। এ মামলায় নিম্ন আদালতে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মোমিনুর রহমান পলাতক থাকায় তাঁরা আপিল করার সুযোগ পাননি। এ কারণে তাঁদের সাজা বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
গতকাল রায় ঘোষণার আগে এজলাসে বসেই বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম বলেন, ‘আমরা শুধু আদেশের অংশ পাঠ করব।’ এরপর আদালত রায় ঘোষণা করে বলেন, ‘আসামিপক্ষে করা তিনটি আপিল খারিজ করা হলো। খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করা হলো। খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হলো।’ মাত্র এক মিনিটের মধ্যে রায় ঘোষণা করে বিচারপতিদ্বয় এজলাস থেকে নেমে যান। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা খুশি। কারণ দুদক সাজা বাড়ানোর আবেদন করেছিল।’
রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মোমতাজউদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু, একরামুল হক টুটুলসহ রাষ্ট্রপক্ষের শতাধিক আইন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট আজহার উল্লাহ ভুইয়াসহ সরকার সমর্থক আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খুরশীদ আলম খান, মোশাররফ হোসেন কাজল। আদালত কক্ষে আসামিপক্ষের জন্য রক্ষিত আইনজীবীদের বেঞ্চ (সামনের সারি) ফাঁকা থাকায় সেখানে বসেন আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। বিচারপতিরা এজলাসে বসে এ দৃশ্য দেখার পর আদালত বলেন, ‘আপনারা ডিফেন্সের (আসামিপক্ষ) বেঞ্চে বসেছেন কেন?’ জবাবে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘এটা তো আইনজীবীদের বসার স্থান।’ এ সময় আদালত বলেন, ‘এটা ডিফেন্সের জন্য। ডিফেন্সের আইনজীবীদের বসতে দিন।’ এরপর শ ম রেজাউল করিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল উঠে অন্য বেঞ্চে বসেন। এরপর আসামি শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে একজন জুনিয়র আইনজীবী সেখানে বসেন। এরপর রায় ঘোষণা করেন আদালত।
অনাস্থার আবেদন প্রত্যাখ্যাত : গতকাল সকাল সোয়া ৯টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগে একটি লিখিত আবেদন নিয়ে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সে আবেদনে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রতি অনাস্থা জানানো হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী আবেদনটি উপস্থাপন করতে গেলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এভাবে হবে না। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাখিল করুন।’  জবাবে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপনারা বলেছিলেন ৩০ অক্টোবরের মধ্যে আমাদের আবেদন (অর্থের উৎস জানতে একজন সাক্ষীর অধিকতর সাক্ষ্যগ্রহণ) নিষ্পত্তি করতে। কিন্তু হাইকোর্ট আমাদের বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন। এ অবস্থায় আমাদের বিশ্বাস হয়েছে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন না।’ তিনি আবেদনটি গ্রহণের আরজি জানিয়ে বলেন, সরাসরি আপিল বিভাগে দাখিল করার অনেক নজির রয়েছে। এর পরও প্রধান বিচারপতি আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
বর্জনের ঘোষণা : রায় ঘোষণার পরপরই বিএনপিপন্থী কিছু আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট ভবনে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাঁরা রায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা জরুরি বৈঠকে আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ১টা পর্যন্ত আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। দুপুরে সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য এবং এ রকম একটা বেআইনি রায় দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে আদালত বর্জনের কর্মসূচি দেওয়া হলো।
অন্যান্য দিন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও গতকাল এ আদালত কক্ষে ঢুকতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সাংবাদিকরাও বাধার মুখে পড়লে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এসে তাঁদের ঢোকার ব্যবস্থা করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন হাইকোর্ট। অপর দুই আসামি সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ রায়ের পর মামলাটিতে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। একই সঙ্গে এ রায়ের মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন খালেদা জিয়া।
গতকাল রায় ঘোষণার পর প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ব্যানারে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ১টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতেই এ কর্মসূচি বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন। তিনি বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান।
খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত কোনো পর্যবেক্ষণ দেননি। তবে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, এ মামলায় খালেদা জিয়া মুখ্য আসামি। নিম্ন আদালত তাঁকে সাজা দিয়েছেন পাঁচ বছর। আর সহযোগীদের দিয়েছেন ১০ বছর। আর এ কারণেই হয়তো হাইকোর্ট মুখ্য আসামি খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, এই রায় ইঙ্গিত বহন করে যে রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে কেউ অন্যায় করলে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, এ রায় রাজনীতিবিদদের জন্য একটি মেসেজ।
নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে গেলেন : নির্বাচনে অযোগ্যতা প্রসঙ্গে সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘একজন অযোগ্য হবেন যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’ এ হিসাবে হাইকোর্টের রায়ের পর আপাতদৃষ্টিতে খালেদা জিয়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন। তবে রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া যদি আপিল করেন এবং যদি সাজা বাতিল হয় তবে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও বলেছেন, যতক্ষণ সাজা বাতিল না হয়, ততক্ষণ তিনি অযোগ্য। সাজা স্থগিত যদি হয়, আপাতত জেল খাটা থেকে হয়তো তিনি অব্যাহতি পেতে পারেন, কিন্তু নির্বাচন করতে পারবেন না। একই অভিমত দেন দুদকের আইজীবী খুরশীদ আলম খান এবং অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম।
গতকালের রায়ের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী রায়ের কপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। শুধু কারাবন্দিরাই আপিল করতে পারবেন। এ মামলায় খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ কারাগারে বন্দি। গতকাল থেকে এই দিন গণনা শুরু হলেও রায়ের কপি যতদিন না পাচ্ছে ততদিন ওই ৩০ কার্যদিবস থেকে বাদ যাবে।
আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়ের কপি কবে নাগাদ পাওয়া যাবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় না। আবার রায়ের কপি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া আপিল করলেও সেই আপিল নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এ দেশে সচরাচর এ ধরনের দুর্নীতি মামলায় আপিল নিষ্পত্তি হতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছরও পেরিয়ে যায়। অথচ সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই। এই হিসেব অনুয়ায়ী, খালেদা জিয়া আপিল করলেও মাত্র তিন মাসে সেই আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই সংশ্লিষ্টদের মত। কাজেই গতকালের রায়ের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না, তা এক রকম নিশ্চিত হয়ে গেল।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের জেল হয়। এরপর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদক আবেদন করে। এ আবেদন মঞ্জুর এবং নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের করা আপিল খারিজ করে গতকাল রায় দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলা নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগের নির্দেশ থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রায় ঘোষণা করা হলো। এ মামলায় নিম্ন আদালতে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মোমিনুর রহমান পলাতক থাকায় তাঁরা আপিল করার সুযোগ পাননি। এ কারণে তাঁদের সাজা বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
গতকাল রায় ঘোষণার আগে এজলাসে বসেই বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম বলেন, ‘আমরা শুধু আদেশের অংশ পাঠ করব।’ এরপর আদালত রায় ঘোষণা করে বলেন, ‘আসামিপক্ষে করা তিনটি আপিল খারিজ করা হলো। খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করা হলো। খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হলো।’ মাত্র এক মিনিটের মধ্যে রায় ঘোষণা করে বিচারপতিদ্বয় এজলাস থেকে নেমে যান। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা খুশি। কারণ দুদক সাজা বাড়ানোর আবেদন করেছিল।’
রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মোমতাজউদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু, একরামুল হক টুটুলসহ রাষ্ট্রপক্ষের শতাধিক আইন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট আজহার উল্লাহ ভুইয়াসহ সরকার সমর্থক আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খুরশীদ আলম খান, মোশাররফ হোসেন কাজল। আদালত কক্ষে আসামিপক্ষের জন্য রক্ষিত আইনজীবীদের বেঞ্চ (সামনের সারি) ফাঁকা থাকায় সেখানে বসেন আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। বিচারপতিরা এজলাসে বসে এ দৃশ্য দেখার পর আদালত বলেন, ‘আপনারা ডিফেন্সের (আসামিপক্ষ) বেঞ্চে বসেছেন কেন?’ জবাবে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘এটা তো আইনজীবীদের বসার স্থান।’ এ সময় আদালত বলেন, ‘এটা ডিফেন্সের জন্য। ডিফেন্সের আইনজীবীদের বসতে দিন।’ এরপর শ ম রেজাউল করিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল উঠে অন্য বেঞ্চে বসেন। এরপর আসামি শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে একজন জুনিয়র আইনজীবী সেখানে বসেন। এরপর রায় ঘোষণা করেন আদালত।
অনাস্থার আবেদন প্রত্যাখ্যাত : গতকাল সকাল সোয়া ৯টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগে একটি লিখিত আবেদন নিয়ে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সে আবেদনে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রতি অনাস্থা জানানো হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী আবেদনটি উপস্থাপন করতে গেলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এভাবে হবে না। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাখিল করুন।’  জবাবে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপনারা বলেছিলেন ৩০ অক্টোবরের মধ্যে আমাদের আবেদন (অর্থের উৎস জানতে একজন সাক্ষীর অধিকতর সাক্ষ্যগ্রহণ) নিষ্পত্তি করতে। কিন্তু হাইকোর্ট আমাদের বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন। এ অবস্থায় আমাদের বিশ্বাস হয়েছে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন না।’ তিনি আবেদনটি গ্রহণের আরজি জানিয়ে বলেন, সরাসরি আপিল বিভাগে দাখিল করার অনেক নজির রয়েছে। এর পরও প্রধান বিচারপতি আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
বর্জনের ঘোষণা : রায় ঘোষণার পরপরই বিএনপিপন্থী কিছু আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট ভবনে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাঁরা রায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা জরুরি বৈঠকে আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ১টা পর্যন্ত আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। দুপুরে সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য এবং এ রকম একটা বেআইনি রায় দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে আদালত বর্জনের কর্মসূচি দেওয়া হলো।
অন্যান্য দিন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও গতকাল এ আদালত কক্ষে ঢুকতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সাংবাদিকরাও বাধার মুখে পড়লে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এসে তাঁদের ঢোকার ব্যবস্থা করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন হাইকোর্ট। অপর দুই আসামি সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ রায়ের পর মামলাটিতে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। একই সঙ্গে এ রায়ের মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন খালেদা জিয়া।
গতকাল রায় ঘোষণার পর প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ব্যানারে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ১টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতেই এ কর্মসূচি বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন। তিনি বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান।
খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত কোনো পর্যবেক্ষণ দেননি। তবে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, এ মামলায় খালেদা জিয়া মুখ্য আসামি। নিম্ন আদালত তাঁকে সাজা দিয়েছেন পাঁচ বছর। আর সহযোগীদের দিয়েছেন ১০ বছর। আর এ কারণেই হয়তো হাইকোর্ট মুখ্য আসামি খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, এই রায় ইঙ্গিত বহন করে যে রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে কেউ অন্যায় করলে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, এ রায় রাজনীতিবিদদের জন্য একটি মেসেজ।
নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে গেলেন : নির্বাচনে অযোগ্যতা প্রসঙ্গে সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘একজন অযোগ্য হবেন যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’ এ হিসাবে হাইকোর্টের রায়ের পর আপাতদৃষ্টিতে খালেদা জিয়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন। তবে রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া যদি আপিল করেন এবং যদি সাজা বাতিল হয় তবে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও বলেছেন, যতক্ষণ সাজা বাতিল না হয়, ততক্ষণ তিনি অযোগ্য। সাজা স্থগিত যদি হয়, আপাতত জেল খাটা থেকে হয়তো তিনি অব্যাহতি পেতে পারেন, কিন্তু নির্বাচন করতে পারবেন না। একই অভিমত দেন দুদকের আইজীবী খুরশীদ আলম খান এবং অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম।
গতকালের রায়ের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী রায়ের কপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। শুধু কারাবন্দিরাই আপিল করতে পারবেন। এ মামলায় খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ কারাগারে বন্দি। গতকাল থেকে এই দিন গণনা শুরু হলেও রায়ের কপি যতদিন না পাচ্ছে ততদিন ওই ৩০ কার্যদিবস থেকে বাদ যাবে।
আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়ের কপি কবে নাগাদ পাওয়া যাবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় না। আবার রায়ের কপি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া আপিল করলেও সেই আপিল নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এ দেশে সচরাচর এ ধরনের দুর্নীতি মামলায় আপিল নিষ্পত্তি হতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছরও পেরিয়ে যায়। অথচ সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই। এই হিসেব অনুয়ায়ী, খালেদা জিয়া আপিল করলেও মাত্র তিন মাসে সেই আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই সংশ্লিষ্টদের মত। কাজেই গতকালের রায়ের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না, তা এক রকম নিশ্চিত হয়ে গেল।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের জেল হয়। এরপর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদক আবেদন করে। এ আবেদন মঞ্জুর এবং নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের করা আপিল খারিজ করে গতকাল রায় দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলা নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগের নির্দেশ থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রায় ঘোষণা করা হলো। এ মামলায় নিম্ন আদালতে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মোমিনুর রহমান পলাতক থাকায় তাঁরা আপিল করার সুযোগ পাননি। এ কারণে তাঁদের সাজা বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
গতকাল রায় ঘোষণার আগে এজলাসে বসেই বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম বলেন, ‘আমরা শুধু আদেশের অংশ পাঠ করব।’ এরপর আদালত রায় ঘোষণা করে বলেন, ‘আসামিপক্ষে করা তিনটি আপিল খারিজ করা হলো। খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করা হলো। খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হলো।’ মাত্র এক মিনিটের মধ্যে রায় ঘোষণা করে বিচারপতিদ্বয় এজলাস থেকে নেমে যান। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা খুশি। কারণ দুদক সাজা বাড়ানোর আবেদন করেছিল।’
রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মোমতাজউদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু, একরামুল হক টুটুলসহ রাষ্ট্রপক্ষের শতাধিক আইন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট আজহার উল্লাহ ভুইয়াসহ সরকার সমর্থক আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খুরশীদ আলম খান, মোশাররফ হোসেন কাজল। আদালত কক্ষে আসামিপক্ষের জন্য রক্ষিত আইনজীবীদের বেঞ্চ (সামনের সারি) ফাঁকা থাকায় সেখানে বসেন আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। বিচারপতিরা এজলাসে বসে এ দৃশ্য দেখার পর আদালত বলেন, ‘আপনারা ডিফেন্সের (আসামিপক্ষ) বেঞ্চে বসেছেন কেন?’ জবাবে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘এটা তো আইনজীবীদের বসার স্থান।’ এ সময় আদালত বলেন, ‘এটা ডিফেন্সের জন্য। ডিফেন্সের আইনজীবীদের বসতে দিন।’ এরপর শ ম রেজাউল করিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল উঠে অন্য বেঞ্চে বসেন। এরপর আসামি শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে একজন জুনিয়র আইনজীবী সেখানে বসেন। এরপর রায় ঘোষণা করেন আদালত।
অনাস্থার আবেদন প্রত্যাখ্যাত : গতকাল সকাল সোয়া ৯টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগে একটি লিখিত আবেদন নিয়ে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সে আবেদনে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রতি অনাস্থা জানানো হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী আবেদনটি উপস্থাপন করতে গেলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এভাবে হবে না। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাখিল করুন।’  জবাবে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপনারা বলেছিলেন ৩০ অক্টোবরের মধ্যে আমাদের আবেদন (অর্থের উৎস জানতে একজন সাক্ষীর অধিকতর সাক্ষ্যগ্রহণ) নিষ্পত্তি করতে। কিন্তু হাইকোর্ট আমাদের বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন। এ অবস্থায় আমাদের বিশ্বাস হয়েছে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন না।’ তিনি আবেদনটি গ্রহণের আরজি জানিয়ে বলেন, সরাসরি আপিল বিভাগে দাখিল করার অনেক নজির রয়েছে। এর পরও প্রধান বিচারপতি আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
বর্জনের ঘোষণা : রায় ঘোষণার পরপরই বিএনপিপন্থী কিছু আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট ভবনে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাঁরা রায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা জরুরি বৈঠকে আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ১টা পর্যন্ত আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। দুপুরে সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য এবং এ রকম একটা বেআইনি রায় দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে আদালত বর্জনের কর্মসূচি দেওয়া হলো।
অন্যান্য দিন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও গতকাল এ আদালত কক্ষে ঢুকতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সাংবাদিকরাও বাধার মুখে পড়লে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এসে তাঁদের ঢোকার ব্যবস্থা করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন হাইকোর্ট। অপর দুই আসামি সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ রায়ের পর মামলাটিতে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। একই সঙ্গে এ রায়ের মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন খালেদা জিয়া।
গতকাল রায় ঘোষণার পর প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ব্যানারে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ১টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতেই এ কর্মসূচি বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন। তিনি বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান।
খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত কোনো পর্যবেক্ষণ দেননি। তবে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, এ মামলায় খালেদা জিয়া মুখ্য আসামি। নিম্ন আদালত তাঁকে সাজা দিয়েছেন পাঁচ বছর। আর সহযোগীদের দিয়েছেন ১০ বছর। আর এ কারণেই হয়তো হাইকোর্ট মুখ্য আসামি খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, এই রায় ইঙ্গিত বহন করে যে রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে কেউ অন্যায় করলে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, এ রায় রাজনীতিবিদদের জন্য একটি মেসেজ।
নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে গেলেন : নির্বাচনে অযোগ্যতা প্রসঙ্গে সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘একজন অযোগ্য হবেন যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’ এ হিসাবে হাইকোর্টের রায়ের পর আপাতদৃষ্টিতে খালেদা জিয়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন। তবে রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া যদি আপিল করেন এবং যদি সাজা বাতিল হয় তবে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও বলেছেন, যতক্ষণ সাজা বাতিল না হয়, ততক্ষণ তিনি অযোগ্য। সাজা স্থগিত যদি হয়, আপাতত জেল খাটা থেকে হয়তো তিনি অব্যাহতি পেতে পারেন, কিন্তু নির্বাচন করতে পারবেন না। একই অভিমত দেন দুদকের আইজীবী খুরশীদ আলম খান এবং অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম।
গতকালের রায়ের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী রায়ের কপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। শুধু কারাবন্দিরাই আপিল করতে পারবেন। এ মামলায় খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ কারাগারে বন্দি। গতকাল থেকে এই দিন গণনা শুরু হলেও রায়ের কপি যতদিন না পাচ্ছে ততদিন ওই ৩০ কার্যদিবস থেকে বাদ যাবে।
আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়ের কপি কবে নাগাদ পাওয়া যাবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় না। আবার রায়ের কপি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া আপিল করলেও সেই আপিল নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এ দেশে সচরাচর এ ধরনের দুর্নীতি মামলায় আপিল নিষ্পত্তি হতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছরও পেরিয়ে যায়। অথচ সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই। এই হিসেব অনুয়ায়ী, খালেদা জিয়া আপিল করলেও মাত্র তিন মাসে সেই আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই সংশ্লিষ্টদের মত। কাজেই গতকালের রায়ের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না, তা এক রকম নিশ্চিত হয়ে গেল।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের জেল হয়। এরপর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদক আবেদন করে। এ আবেদন মঞ্জুর এবং নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের করা আপিল খারিজ করে গতকাল রায় দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলা নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগের নির্দেশ থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রায় ঘোষণা করা হলো। এ মামলায় নিম্ন আদালতে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মোমিনুর রহমান পলাতক থাকায় তাঁরা আপিল করার সুযোগ পাননি। এ কারণে তাঁদের সাজা বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
গতকাল রায় ঘোষণার আগে এজলাসে বসেই বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম বলেন, ‘আমরা শুধু আদেশের অংশ পাঠ করব।’ এরপর আদালত রায় ঘোষণা করে বলেন, ‘আসামিপক্ষে করা তিনটি আপিল খারিজ করা হলো। খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করা হলো। খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হলো।’ মাত্র এক মিনিটের মধ্যে রায় ঘোষণা করে বিচারপতিদ্বয় এজলাস থেকে নেমে যান। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা খুশি। কারণ দুদক সাজা বাড়ানোর আবেদন করেছিল।’
রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মোমতাজউদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু, একরামুল হক টুটুলসহ রাষ্ট্রপক্ষের শতাধিক আইন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট আজহার উল্লাহ ভুইয়াসহ সরকার সমর্থক আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খুরশীদ আলম খান, মোশাররফ হোসেন কাজল। আদালত কক্ষে আসামিপক্ষের জন্য রক্ষিত আইনজীবীদের বেঞ্চ (সামনের সারি) ফাঁকা থাকায় সেখানে বসেন আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। বিচারপতিরা এজলাসে বসে এ দৃশ্য দেখার পর আদালত বলেন, ‘আপনারা ডিফেন্সের (আসামিপক্ষ) বেঞ্চে বসেছেন কেন?’ জবাবে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘এটা তো আইনজীবীদের বসার স্থান।’ এ সময় আদালত বলেন, ‘এটা ডিফেন্সের জন্য। ডিফেন্সের আইনজীবীদের বসতে দিন।’ এরপর শ ম রেজাউল করিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল উঠে অন্য বেঞ্চে বসেন। এরপর আসামি শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে একজন জুনিয়র আইনজীবী সেখানে বসেন। এরপর রায় ঘোষণা করেন আদালত।
অনাস্থার আবেদন প্রত্যাখ্যাত : গতকাল সকাল সোয়া ৯টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগে একটি লিখিত আবেদন নিয়ে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সে আবেদনে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রতি অনাস্থা জানানো হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী আবেদনটি উপস্থাপন করতে গেলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এভাবে হবে না। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাখিল করুন।’  জবাবে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপনারা বলেছিলেন ৩০ অক্টোবরের মধ্যে আমাদের আবেদন (অর্থের উৎস জানতে একজন সাক্ষীর অধিকতর সাক্ষ্যগ্রহণ) নিষ্পত্তি করতে। কিন্তু হাইকোর্ট আমাদের বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন। এ অবস্থায় আমাদের বিশ্বাস হয়েছে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন না।’ তিনি আবেদনটি গ্রহণের আরজি জানিয়ে বলেন, সরাসরি আপিল বিভাগে দাখিল করার অনেক নজির রয়েছে। এর পরও প্রধান বিচারপতি আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
বর্জনের ঘোষণা : রায় ঘোষণার পরপরই বিএনপিপন্থী কিছু আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট ভবনে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাঁরা রায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা জরুরি বৈঠকে আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ১টা পর্যন্ত আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। দুপুরে সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য এবং এ রকম একটা বেআইনি রায় দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে আদালত বর্জনের কর্মসূচি দেওয়া হলো।
অন্যান্য দিন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও গতকাল এ আদালত কক্ষে ঢুকতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সাংবাদিকরাও বাধার মুখে পড়লে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এসে তাঁদের ঢোকার ব্যবস্থা করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন হাইকোর্ট। অপর দুই আসামি সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ রায়ের পর মামলাটিতে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। একই সঙ্গে এ রায়ের মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন খালেদা জিয়া।
গতকাল রায় ঘোষণার পর প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ব্যানারে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ১টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতেই এ কর্মসূচি বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন। তিনি বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান।
খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত কোনো পর্যবেক্ষণ দেননি। তবে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, এ মামলায় খালেদা জিয়া মুখ্য আসামি। নিম্ন আদালত তাঁকে সাজা দিয়েছেন পাঁচ বছর। আর সহযোগীদের দিয়েছেন ১০ বছর। আর এ কারণেই হয়তো হাইকোর্ট মুখ্য আসামি খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, এই রায় ইঙ্গিত বহন করে যে রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে কেউ অন্যায় করলে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, এ রায় রাজনীতিবিদদের জন্য একটি মেসেজ।
নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে গেলেন : নির্বাচনে অযোগ্যতা প্রসঙ্গে সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘একজন অযোগ্য হবেন যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’ এ হিসাবে হাইকোর্টের রায়ের পর আপাতদৃষ্টিতে খালেদা জিয়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন। তবে রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া যদি আপিল করেন এবং যদি সাজা বাতিল হয় তবে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও বলেছেন, যতক্ষণ সাজা বাতিল না হয়, ততক্ষণ তিনি অযোগ্য। সাজা স্থগিত যদি হয়, আপাতত জেল খাটা থেকে হয়তো তিনি অব্যাহতি পেতে পারেন, কিন্তু নির্বাচন করতে পারবেন না। একই অভিমত দেন দুদকের আইজীবী খুরশীদ আলম খান এবং অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম।
গতকালের রায়ের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী রায়ের কপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। শুধু কারাবন্দিরাই আপিল করতে পারবেন। এ মামলায় খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ কারাগারে বন্দি। গতকাল থেকে এই দিন গণনা শুরু হলেও রায়ের কপি যতদিন না পাচ্ছে ততদিন ওই ৩০ কার্যদিবস থেকে বাদ যাবে।
আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়ের কপি কবে নাগাদ পাওয়া যাবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় না। আবার রায়ের কপি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া আপিল করলেও সেই আপিল নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এ দেশে সচরাচর এ ধরনের দুর্নীতি মামলায় আপিল নিষ্পত্তি হতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছরও পেরিয়ে যায়। অথচ সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই। এই হিসেব অনুয়ায়ী, খালেদা জিয়া আপিল করলেও মাত্র তিন মাসে সেই আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই সংশ্লিষ্টদের মত। কাজেই গতকালের রায়ের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না, তা এক রকম নিশ্চিত হয়ে গেল।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের জেল হয়। এরপর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদক আবেদন করে। এ আবেদন মঞ্জুর এবং নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের করা আপিল খারিজ করে গতকাল রায় দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলা নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগের নির্দেশ থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রায় ঘোষণা করা হলো। এ মামলায় নিম্ন আদালতে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মোমিনুর রহমান পলাতক থাকায় তাঁরা আপিল করার সুযোগ পাননি। এ কারণে তাঁদের সাজা বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
গতকাল রায় ঘোষণার আগে এজলাসে বসেই বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম বলেন, ‘আমরা শুধু আদেশের অংশ পাঠ করব।’ এরপর আদালত রায় ঘোষণা করে বলেন, ‘আসামিপক্ষে করা তিনটি আপিল খারিজ করা হলো। খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করা হলো। খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হলো।’ মাত্র এক মিনিটের মধ্যে রায় ঘোষণা করে বিচারপতিদ্বয় এজলাস থেকে নেমে যান। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা খুশি। কারণ দুদক সাজা বাড়ানোর আবেদন করেছিল।’
রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মোমতাজউদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু, একরামুল হক টুটুলসহ রাষ্ট্রপক্ষের শতাধিক আইন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট আজহার উল্লাহ ভুইয়াসহ সরকার সমর্থক আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খুরশীদ আলম খান, মোশাররফ হোসেন কাজল। আদালত কক্ষে আসামিপক্ষের জন্য রক্ষিত আইনজীবীদের বেঞ্চ (সামনের সারি) ফাঁকা থাকায় সেখানে বসেন আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। বিচারপতিরা এজলাসে বসে এ দৃশ্য দেখার পর আদালত বলেন, ‘আপনারা ডিফেন্সের (আসামিপক্ষ) বেঞ্চে বসেছেন কেন?’ জবাবে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘এটা তো আইনজীবীদের বসার স্থান।’ এ সময় আদালত বলেন, ‘এটা ডিফেন্সের জন্য। ডিফেন্সের আইনজীবীদের বসতে দিন।’ এরপর শ ম রেজাউল করিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল উঠে অন্য বেঞ্চে বসেন। এরপর আসামি শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে একজন জুনিয়র আইনজীবী সেখানে বসেন। এরপর রায় ঘোষণা করেন আদালত।
অনাস্থার আবেদন প্রত্যাখ্যাত : গতকাল সকাল সোয়া ৯টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগে একটি লিখিত আবেদন নিয়ে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সে আবেদনে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রতি অনাস্থা জানানো হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী আবেদনটি উপস্থাপন করতে গেলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এভাবে হবে না। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাখিল করুন।’  জবাবে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপনারা বলেছিলেন ৩০ অক্টোবরের মধ্যে আমাদের আবেদন (অর্থের উৎস জানতে একজন সাক্ষীর অধিকতর সাক্ষ্যগ্রহণ) নিষ্পত্তি করতে। কিন্তু হাইকোর্ট আমাদের বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন। এ অবস্থায় আমাদের বিশ্বাস হয়েছে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন না।’ তিনি আবেদনটি গ্রহণের আরজি জানিয়ে বলেন, সরাসরি আপিল বিভাগে দাখিল করার অনেক নজির রয়েছে। এর পরও প্রধান বিচারপতি আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
বর্জনের ঘোষণা : রায় ঘোষণার পরপরই বিএনপিপন্থী কিছু আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট ভবনে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাঁরা রায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা জরুরি বৈঠকে আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ১টা পর্যন্ত আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। দুপুরে সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য এবং এ রকম একটা বেআইনি রায় দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে আদালত বর্জনের কর্মসূচি দেওয়া হলো।
অন্যান্য দিন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও গতকাল এ আদালত কক্ষে ঢুকতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সাংবাদিকরাও বাধার মুখে পড়লে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এসে তাঁদের ঢোকার ব্যবস্থা করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন হাইকোর্ট। অপর দুই আসামি সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ রায়ের পর মামলাটিতে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। একই সঙ্গে এ রায়ের মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন খালেদা জিয়া।
গতকাল রায় ঘোষণার পর প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ব্যানারে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ১টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতেই এ কর্মসূচি বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন। তিনি বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান।
খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত কোনো পর্যবেক্ষণ দেননি। তবে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, এ মামলায় খালেদা জিয়া মুখ্য আসামি। নিম্ন আদালত তাঁকে সাজা দিয়েছেন পাঁচ বছর। আর সহযোগীদের দিয়েছেন ১০ বছর। আর এ কারণেই হয়তো হাইকোর্ট মুখ্য আসামি খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, এই রায় ইঙ্গিত বহন করে যে রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে কেউ অন্যায় করলে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, এ রায় রাজনীতিবিদদের জন্য একটি মেসেজ।
নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে গেলেন : নির্বাচনে অযোগ্যতা প্রসঙ্গে সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘একজন অযোগ্য হবেন যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’ এ হিসাবে হাইকোর্টের রায়ের পর আপাতদৃষ্টিতে খালেদা জিয়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন। তবে রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া যদি আপিল করেন এবং যদি সাজা বাতিল হয় তবে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও বলেছেন, যতক্ষণ সাজা বাতিল না হয়, ততক্ষণ তিনি অযোগ্য। সাজা স্থগিত যদি হয়, আপাতত জেল খাটা থেকে হয়তো তিনি অব্যাহতি পেতে পারেন, কিন্তু নির্বাচন করতে পারবেন না। একই অভিমত দেন দুদকের আইজীবী খুরশীদ আলম খান এবং অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম।
গতকালের রায়ের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী রায়ের কপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। শুধু কারাবন্দিরাই আপিল করতে পারবেন। এ মামলায় খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ কারাগারে বন্দি। গতকাল থেকে এই দিন গণনা শুরু হলেও রায়ের কপি যতদিন না পাচ্ছে ততদিন ওই ৩০ কার্যদিবস থেকে বাদ যাবে।
আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়ের কপি কবে নাগাদ পাওয়া যাবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় না। আবার রায়ের কপি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া আপিল করলেও সেই আপিল নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এ দেশে সচরাচর এ ধরনের দুর্নীতি মামলায় আপিল নিষ্পত্তি হতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছরও পেরিয়ে যায়। অথচ সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই। এই হিসেব অনুয়ায়ী, খালেদা জিয়া আপিল করলেও মাত্র তিন মাসে সেই আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই সংশ্লিষ্টদের মত। কাজেই গতকালের রায়ের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না, তা এক রকম নিশ্চিত হয়ে গেল।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের জেল হয়। এরপর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদক আবেদন করে। এ আবেদন মঞ্জুর এবং নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের করা আপিল খারিজ করে গতকাল রায় দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলা নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগের নির্দেশ থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রায় ঘোষণা করা হলো। এ মামলায় নিম্ন আদালতে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মোমিনুর রহমান পলাতক থাকায় তাঁরা আপিল করার সুযোগ পাননি। এ কারণে তাঁদের সাজা বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
গতকাল রায় ঘোষণার আগে এজলাসে বসেই বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম বলেন, ‘আমরা শুধু আদেশের অংশ পাঠ করব।’ এরপর আদালত রায় ঘোষণা করে বলেন, ‘আসামিপক্ষে করা তিনটি আপিল খারিজ করা হলো। খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করা হলো। খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হলো।’ মাত্র এক মিনিটের মধ্যে রায় ঘোষণা করে বিচারপতিদ্বয় এজলাস থেকে নেমে যান। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা খুশি। কারণ দুদক সাজা বাড়ানোর আবেদন করেছিল।’
রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মোমতাজউদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু, একরামুল হক টুটুলসহ রাষ্ট্রপক্ষের শতাধিক আইন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট আজহার উল্লাহ ভুইয়াসহ সরকার সমর্থক আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খুরশীদ আলম খান, মোশাররফ হোসেন কাজল। আদালত কক্ষে আসামিপক্ষের জন্য রক্ষিত আইনজীবীদের বেঞ্চ (সামনের সারি) ফাঁকা থাকায় সেখানে বসেন আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। বিচারপতিরা এজলাসে বসে এ দৃশ্য দেখার পর আদালত বলেন, ‘আপনারা ডিফেন্সের (আসামিপক্ষ) বেঞ্চে বসেছেন কেন?’ জবাবে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘এটা তো আইনজীবীদের বসার স্থান।’ এ সময় আদালত বলেন, ‘এটা ডিফেন্সের জন্য। ডিফেন্সের আইনজীবীদের বসতে দিন।’ এরপর শ ম রেজাউল করিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল উঠে অন্য বেঞ্চে বসেন। এরপর আসামি শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে একজন জুনিয়র আইনজীবী সেখানে বসেন। এরপর রায় ঘোষণা করেন আদালত।
অনাস্থার আবেদন প্রত্যাখ্যাত : গতকাল সকাল সোয়া ৯টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগে একটি লিখিত আবেদন নিয়ে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সে আবেদনে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রতি অনাস্থা জানানো হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী আবেদনটি উপস্থাপন করতে গেলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এভাবে হবে না। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাখিল করুন।’  জবাবে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপনারা বলেছিলেন ৩০ অক্টোবরের মধ্যে আমাদের আবেদন (অর্থের উৎস জানতে একজন সাক্ষীর অধিকতর সাক্ষ্যগ্রহণ) নিষ্পত্তি করতে। কিন্তু হাইকোর্ট আমাদের বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন। এ অবস্থায় আমাদের বিশ্বাস হয়েছে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন না।’ তিনি আবেদনটি গ্রহণের আরজি জানিয়ে বলেন, সরাসরি আপিল বিভাগে দাখিল করার অনেক নজির রয়েছে। এর পরও প্রধান বিচারপতি আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
বর্জনের ঘোষণা : রায় ঘোষণার পরপরই বিএনপিপন্থী কিছু আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট ভবনে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাঁরা রায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা জরুরি বৈঠকে আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ১টা পর্যন্ত আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। দুপুরে সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য এবং এ রকম একটা বেআইনি রায় দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে আদালত বর্জনের কর্মসূচি দেওয়া হলো।
অন্যান্য দিন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও গতকাল এ আদালত কক্ষে ঢুকতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সাংবাদিকরাও বাধার মুখে পড়লে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এসে তাঁদের ঢোকার ব্যবস্থা করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন হাইকোর্ট। অপর দুই আসামি সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ রায়ের পর মামলাটিতে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। একই সঙ্গে এ রায়ের মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন খালেদা জিয়া।
গতকাল রায় ঘোষণার পর প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ব্যানারে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ১টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতেই এ কর্মসূচি বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন। তিনি বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান।
খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত কোনো পর্যবেক্ষণ দেননি। তবে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, এ মামলায় খালেদা জিয়া মুখ্য আসামি। নিম্ন আদালত তাঁকে সাজা দিয়েছেন পাঁচ বছর। আর সহযোগীদের দিয়েছেন ১০ বছর। আর এ কারণেই হয়তো হাইকোর্ট মুখ্য আসামি খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, এই রায় ইঙ্গিত বহন করে যে রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে কেউ অন্যায় করলে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, এ রায় রাজনীতিবিদদের জন্য একটি মেসেজ।
নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে গেলেন : নির্বাচনে অযোগ্যতা প্রসঙ্গে সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘একজন অযোগ্য হবেন যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’ এ হিসাবে হাইকোর্টের রায়ের পর আপাতদৃষ্টিতে খালেদা জিয়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন। তবে রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া যদি আপিল করেন এবং যদি সাজা বাতিল হয় তবে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও বলেছেন, যতক্ষণ সাজা বাতিল না হয়, ততক্ষণ তিনি অযোগ্য। সাজা স্থগিত যদি হয়, আপাতত জেল খাটা থেকে হয়তো তিনি অব্যাহতি পেতে পারেন, কিন্তু নির্বাচন করতে পারবেন না। একই অভিমত দেন দুদকের আইজীবী খুরশীদ আলম খান এবং অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম।
গতকালের রায়ের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী রায়ের কপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। শুধু কারাবন্দিরাই আপিল করতে পারবেন। এ মামলায় খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ কারাগারে বন্দি। গতকাল থেকে এই দিন গণনা শুরু হলেও রায়ের কপি যতদিন না পাচ্ছে ততদিন ওই ৩০ কার্যদিবস থেকে বাদ যাবে।
আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়ের কপি কবে নাগাদ পাওয়া যাবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় না। আবার রায়ের কপি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া আপিল করলেও সেই আপিল নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এ দেশে সচরাচর এ ধরনের দুর্নীতি মামলায় আপিল নিষ্পত্তি হতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছরও পেরিয়ে যায়। অথচ সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই। এই হিসেব অনুয়ায়ী, খালেদা জিয়া আপিল করলেও মাত্র তিন মাসে সেই আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই সংশ্লিষ্টদের মত। কাজেই গতকালের রায়ের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না, তা এক রকম নিশ্চিত হয়ে গেল।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের জেল হয়। এরপর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদক আবেদন করে। এ আবেদন মঞ্জুর এবং নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের করা আপিল খারিজ করে গতকাল রায় দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলা নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগের নির্দেশ থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রায় ঘোষণা করা হলো। এ মামলায় নিম্ন আদালতে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মোমিনুর রহমান পলাতক থাকায় তাঁরা আপিল করার সুযোগ পাননি। এ কারণে তাঁদের সাজা বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
গতকাল রায় ঘোষণার আগে এজলাসে বসেই বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম বলেন, ‘আমরা শুধু আদেশের অংশ পাঠ করব।’ এরপর আদালত রায় ঘোষণা করে বলেন, ‘আসামিপক্ষে করা তিনটি আপিল খারিজ করা হলো। খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করা হলো। খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হলো।’ মাত্র এক মিনিটের মধ্যে রায় ঘোষণা করে বিচারপতিদ্বয় এজলাস থেকে নেমে যান। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা খুশি। কারণ দুদক সাজা বাড়ানোর আবেদন করেছিল।’
রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মোমতাজউদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু, একরামুল হক টুটুলসহ রাষ্ট্রপক্ষের শতাধিক আইন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট আজহার উল্লাহ ভুইয়াসহ সরকার সমর্থক আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খুরশীদ আলম খান, মোশাররফ হোসেন কাজল। আদালত কক্ষে আসামিপক্ষের জন্য রক্ষিত আইনজীবীদের বেঞ্চ (সামনের সারি) ফাঁকা থাকায় সেখানে বসেন আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। বিচারপতিরা এজলাসে বসে এ দৃশ্য দেখার পর আদালত বলেন, ‘আপনারা ডিফেন্সের (আসামিপক্ষ) বেঞ্চে বসেছেন কেন?’ জবাবে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘এটা তো আইনজীবীদের বসার স্থান।’ এ সময় আদালত বলেন, ‘এটা ডিফেন্সের জন্য। ডিফেন্সের আইনজীবীদের বসতে দিন।’ এরপর শ ম রেজাউল করিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল উঠে অন্য বেঞ্চে বসেন। এরপর আসামি শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে একজন জুনিয়র আইনজীবী সেখানে বসেন। এরপর রায় ঘোষণা করেন আদালত।
অনাস্থার আবেদন প্রত্যাখ্যাত : গতকাল সকাল সোয়া ৯টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগে একটি লিখিত আবেদন নিয়ে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সে আবেদনে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রতি অনাস্থা জানানো হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী আবেদনটি উপস্থাপন করতে গেলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এভাবে হবে না। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাখিল করুন।’  জবাবে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপনারা বলেছিলেন ৩০ অক্টোবরের মধ্যে আমাদের আবেদন (অর্থের উৎস জানতে একজন সাক্ষীর অধিকতর সাক্ষ্যগ্রহণ) নিষ্পত্তি করতে। কিন্তু হাইকোর্ট আমাদের বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন। এ অবস্থায় আমাদের বিশ্বাস হয়েছে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন না।’ তিনি আবেদনটি গ্রহণের আরজি জানিয়ে বলেন, সরাসরি আপিল বিভাগে দাখিল করার অনেক নজির রয়েছে। এর পরও প্রধান বিচারপতি আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
বর্জনের ঘোষণা : রায় ঘোষণার পরপরই বিএনপিপন্থী কিছু আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট ভবনে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাঁরা রায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা জরুরি বৈঠকে আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ১টা পর্যন্ত আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। দুপুরে সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য এবং এ রকম একটা বেআইনি রায় দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে আদালত বর্জনের কর্মসূচি দেওয়া হলো।
অন্যান্য দিন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও গতকাল এ আদালত কক্ষে ঢুকতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সাংবাদিকরাও বাধার মুখে পড়লে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এসে তাঁদের ঢোকার ব্যবস্থা করেন।

শব্দের থেকে ৮ গুণ দ্রুত ছুটবে রাশিয়ার নতুন মারণাস্ত্র


যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার অস্ত্রাগারে প্রস্তুত রয়েছে শব্দের চেয়ে আট গুণ বেশি গতি সম্পন্ন মিসাইল। এমনটাই জানানো হয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয়ের তরফ থেকে। মস্কোর সামরিক কাউন্সিলের প্রধান ভিক্টর বন্দারেভ জানিয়েছেন, ‘জিরকন’ নামের সেই ক্রুজ মিসাইল বর্তমানে রাশিয়ার অস্ত্রাগারে প্রস্তুত রয়েছে।
রাশিয়ার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সেই মিসাইলের গতি শব্দের থেকে আট গুন বেশি। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিতে রীতিমত তৈরি ওই মিসাইল। এমনকি এটি ন্যাটো মিসাইল ইন্টারেসপ্টরকেও গুঁড়িয়ে দিতে পারে বলে দাবি রাশিয়ার। 
২০ বছর ধরে তৈরি করা হয়েছে এই মিসাইল। ১৯৯৫ সালে প্রথম প্রকাশ্যে আনা হয় এই মিসাইল। রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, মিসাইল লঞ্চারে থাকবে এই মিসাইল। শত্রুপক্ষের জাহাজ নিধন করতে পারবে এটি ৬১৩৮ মাইল প্রতি ঘণ্টা বেগে এটি ৬৫০ মাইল যেতে পারবে।
বন্দারেভ আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে রাশিয়ার কাছে রয়েছে, বম্বার, ট্যাকটিক্যাল মিসাইল, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল, এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম, পরমাণু মিসাইল। ন্যাটোর সঙ্গে পাল্লা দিতে কয়েক বিলিয়ন খরচ করছে রাশিয়া। হাইপারসনিক মিসাইলের লড়াইতে মস্কো ১৫ বছর এগিয়ে থাকবে।

দামি গাড়ি নিয়ে প্রেমের প্রস্তাব, কিন্তু পরের কাণ্ড অভাবনীয়! (ভিডিও)


টাকা, গাড়ি ও দামি গিফট। এত কিছু দিয়ে যুবক ভেবেছিলেন হয়তো নিজের পছন্দের মানুষটির মন জিততে পারবেন। কিন্তু পরের কাণ্ড অভাবনীয়।
খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি চীনে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, ল্যামবোরগিনি করে এক যুবক রাস্তায় অপেক্ষা করছেন। আশেপাশের গোটা এলাকা সাজিয়ে রেখেছেন তিনি। কিছুক্ষণ পরেই নিজের পছন্দের মানুষটিকে আসতে দেখে, তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে প্রেম প্রস্তাব দেন ওই যুবক।
কিন্তু তারপরেই বিচিত্র কাণ্ড ঘটল। দামি গিফট, গাড়ি দেখেও ওই যুবকের প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া দিলেন না সেই যুবতী। এরপরেই ওই যুবক জোরাজুরি শুরু করেন। রেগে গিয়ে ওই তরুণী তাঁর বান্ধবীকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
স্বাভাবিকভাবেই রেগে যান ওই যুবক। গিফটের প্যাকেটগুলো নিজের বন্ধুদের দিকেই ছুঁড়ে মারতে থাকেন তিনি। তেড়ে গিয়ে মারতে যান সবাইকে। অনেক কষ্টে শান্ত করা হয় তাঁকে। ওই যুবক কিংবা যুবতীর নাম, পরিচয় জানা যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউ একজন গোটা ঘটনার ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেন। মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এটি।  .....https://youtu.be/RXsGw1J8O1g

খালেদার আপিলের রায় আজ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আপিলের রায় আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অন্য দুই আসামির আপিল ও খালেদার সাজা বাড়াতে দুদকের করা রিভিশনের রায় ঘোষণা করা হবে। এ রায় ঘোষণা করবেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো.মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে  পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। একইসঙ্গে খালেদা জিয়াসহ ছয় আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিদের সবাইকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। রায়ে এই অর্থদণ্ডের টাকা প্রত্যেককে সমান অঙ্কে প্রদান করার কথা বলা হয়।
কিন্তু আদালতের এই রায়ের(কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড) বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়াও সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন কারাগারে থাকা অপর আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ পৃথক আপিল করেন। অপরদিকে খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদক একটি আবেদন করে, যার ওপর শুনানি নিয়ে ২৮ মার্চ রুল দেন আদালত। এই পৃথক তিনটি আপিল ও দুদকের আবেদনের ওপর গতকাল সোমবার বিকেলে শুনানি হয়। পরে শুনানি শেষে এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন আদালত। 
আদালতে এদিন দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। তবে খালেদা জিয়ার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
আরো জানা গেছে, খালেদা জিয়াসহ তিন আসামির আপিল এবং দুদকের রিভিশন এক নম্বরে রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান বলেন, খালেদা জিয়ার করা আপিলসহ তিন আসামির আপিল ও দুদকের সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আবেদনের ওপর ৩২ দিন শুনানি হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট মঙ্গলবার রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

আবার আসিব ফিরে এই সংসদে: প্রধানমন্ত্রী


সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘আবার আসিব ফিরে এই সংসদে’ বলে শেষ করেছেন জাতীয় সংসদের ২৩তম ও সমাপনী দিবসের সমাপণী ভাষণ। এর আগে জীবনানন্দ দাশের কবিতা আবৃত্তি করে তিনি বলেন, ‘আবার আসিব ফিরে ধান সিঁড়ি নদীটির তীরে, এই বাংলায়’, ..এরপর তুমুল করতালির মধ্যে তিনি হাসতে হাসতে কবিতার সুরেই বলেন ‘আবার আসিব ফিরে এই সংসদে’।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের সমাপনী দিবসের সমাপনী বক্তব্য এভাবেই শেষ করেন তিনি। এরআগে সুকান্ত চট্টপাধ্যায়ের ছাড়পত্র কবিতা থেকে উদ্ধৃত করে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, চলে যাব- তবু আজ যতণ দেহে আছে প্রাণ / প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল / এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গিকার। এ সময় তিনি আগামী নির্বাচনে জনগণকে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে আবার ক্ষমতায় আনলে দেশকে দারিদ্রমুক্ত করার অঙ্গিকার করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, কেমন বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই এটাই আমাদের চিন্তা। তাদের জন্য সুন্দর বাসযোগ্য দেশ হয় সেটার জন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকারের শেষ সময় এসে গেছে। এটা সংসদের শেষ অধিবেশন। যদি কোন দুর্ঘটনা না ঘটে বা যুদ্ধ-বিগ্রহ না ঘটে তাহলে এটাই শেষ অধিবেশন। এই অধিবেশন সংসদ পরিচালনায় রের্কড সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, আমরা ২২তম অধিবেশনে ১৮টি বিল পাস করেছি। চলতি অধিবশেনে ২৩টি বিল পাস করেছি। সত্যি এটা এই সংসদের রেকর্ড। 
এর আগে নবম অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত নবম সংসদে এই সংসদ ছিল গালিগালাজের। কথা-বার্তা ছিল অবমাননাকর। চেয়ার, মাইক এমনকি নিরিহ ফোল্ডারও রেহাই পায়নি তাদের হাত থেকে। শেখ হাসিনা বলেন, তখন ডিজিটাল বাংলাদেশ করব বলেছিলাম। তখন আমাদের অনেক কটুক্তি করা হয়েছে। কিন্তু আমরা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি, দেশের ৯০ ভাগ এলাকায় ব্রডব্যান্ড দিয়েছি, ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৫ কোটি সিম ব্যবহার হয়। দেশের মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছিল, আমরা তার মর্যাদা রেখেছি। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনলে আমরা দেশকে দারিদ্রমুক্ত করব। তিনি বলেন, আমেরিকার মতো দেশে ১৮ শতাংশ দরিদ্র মানুষ আছে। আমাদের লক্ষ্য আমাদের দেশে দরিদ্রের হার আমেরিকার থেকেও নিচে নিয়ে আসতে পারবো। আর সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়াও অবম্ভব নয়। 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে আরেকবার সুযোগ দেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, আমরা অনেক বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আরও কিছু সময় দরকার। জনগণ আমাদের ভোট দিলে আমরা সেই অসমাপ্তকাজগুলো শেষ করতে পারবো। আমাদেরকে আরেকবার সুযোগ দিন। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশবাসীর কাছে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের অদম্য অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। সারাদেশে যে উন্নয়নের ছোঁয়া বাংলাদেশ পেয়েছে, তাতে আমি বিশ্বাস করি- বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চই আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে। 
তিনি বলেন, ’আপনারা আরেকটিবার নৌকায় ভোট দিন, আরেকটি দেশ সেবার সুযোগ দিন- ইনশাল্লাহ এই বাংলাদেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে অদম্য গতিতে, এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের মানুষকে আর কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। দেশের জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা তাদের মর্যাদা রক্ষা করেছি। দেশের জনগণ আমাদের আবারও দেশ সেবার সুযোগ দিলে অবশ্যই দেশকে আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলবো। যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে, ততক্ষণ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাব। 
তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত হব। ইতিমধ্যে আমরা জাতিসংঘ ঘোষিত উন্নয়ণশীল দেশের মর্যাদা দিয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে এর পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি আসবে। এর জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা খুব দরকার। ’৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসেছিলাম, তখন অনেক কাজ করেছিলাম। ২০০১ সালে নির্বাচনে না জিততে পারায় আমার অসমাপ্ত অনেক পরিকল্পনা ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এরপর ২০০৮ সালে আবার আমরা ক্ষমতায় আসি। এখন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। দিন বদলের সনদ বাস্তবায়ন করে হচ্ছে। মানুষের স্বপ্ন পূরণ করতে পারছি। অবকাঠামো উন্নয়ন করছি, বাজেট সাতগুন বৃদ্ধি করেছি। নিজস্ব অর্থায়নে বেশিরভাগ বাস্তবায়ন করছি। বাংলাদশের মানুষের মাঝে আত্মমর্যাদাবোধ জেগেছে। পদ্মাসেতু নির্মাণ চ্যালেঞ্জ ছিল, সেটাও আমরা নিজের টাকায় করে চলেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার জীবনে কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। আমার বেঁচে থাকাটাই একটা দুর্ঘটনা। আমার ওপর বারবার আঘাত এসেছে। গুলি, বোমা, গ্রেনেড হামলা হয়েছে। আমি জানি যে কোন সময় আমি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারি। এটা জেনেই আমি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে, ততক্ষণ দেশের জন্য, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করে যাব। মানুষকে সুন্দর জীবন দেব, সেজন্য দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি কার স্বার্থে? কার জন্য? আমার নিজের কোন স্বার্থ নেই, জনগণের স্বার্থে-কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। তাই দেশবাসীর প্রতি আমার আবেদন, আবার নৌকায় ভোট দিয়ে দেশ সেবা করার সুযোগ দিন, বাংলাদেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। বাংলাদেশকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। বিশ্বে বাংলাদেশে যে সম্মান বইয়ে এনেছে, তা ধরে রাখতে হবে। লাখো শহীদের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না। 

বিয়ের পর শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকতে চান না দীপিকা!


বলিউড তারকা রণবীর সিং ও দীপিকা পাডুকোনের বিয়ে আগামী ১৪ ও ১৫ নভেম্বর। বি-টাউন আপাতত তাদের বিয়ে নিয়েই মেতে রয়েছে। তারই মাঝে শোনা যাচ্ছে, দীপিকা নাকি তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি অর্থাৎ রণবীর সিংয়ের বাবা-মা (জগজিৎ সিং ভবানি ও মা অঞ্জু সিং ভবানি) এর সঙ্গে থাকতে চান না। আর সেই কারণে নাকি নতুন করে বাড়ি সাজাতে হয়েছে রণবীরকে।
শোনা যাচ্ছে, রণবীরের নাকি ইচ্ছে ছিল বিয়ের পর তিনি তাঁর বাবা-মায়ের পুরনো বাড়িতে তাঁদের সঙ্গেই থাকবেন। তবে দীপিকার নাকি তাতে সম্মতি দেননি, যা শুনে রণবীর সিং ও তাঁর পরিবার কিছুটা দুঃখ পান। তবে দীপিকা যে এক্কেবারেই রণবীরের বাবা-মায়ের থেকে আলাদা থাকছেন তেমনটাও যদিও নয়। দীপিকার কথা মত, একই বাড়িতে থাকলেও বাড়ির দু'টো আলাদা দিকে থাকবেন তাঁরা। একদিকে থাকবেন দীপিকা ও রণবীর। অন্যদিকে থাকবেন রণবীরের বাবা-মা ও বোন। সেকারণে রণবীর সিং কিছুদিন আগে রণবীর মুম্বাইয়ে একই অ্যাপার্টমেন্টের দুটি ফ্লোর একসঙ্গে কিনেছেন। যার একটিতে থাকবেন রণবীরের বাবা-মা জগজিৎ সিং ভবানি ও অঞ্জু ভবানি এবং রণবীরের বোন ঋত্বিকা ভবানি। অন্য ফ্লোরে থাকবেন নববিবাহিত দীপিকা ও রণবীর। 
প্রসঙ্গত, যদিও দীপিকার সঙ্গে রণবীর সিংয়ের বাবা-মা ও বোনের সম্পর্ক কিন্তু বেশ ভালো। দীপিকার বহুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে মুম্বাইয়ে রণবীরের পরিবারকেই তাঁর পরিবার বলে মন্তব্য করেছিলেন।  

১ নভেম্বর ঐক্যফ্রন্টকে গণভবনে আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর


সংলাপের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের চিঠির জবাব নিয়ে তার বাসায় গেছেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ
সকাল সাড়ে সাতটায় বেইলি রোডের ড. কামাল হোসেনের বাসায় যান তিনি।
ড. কামাল হোসেনের বাসা থেকে বের হয়ে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ জানান, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সংবিধান সম্মত যে কোন বিষয়ে কথা বলতে প্রধানমন্ত্রীর দরজা খোলা। সংলাপের আহ্বান জানিয়ে ঐক্যফ্রন্ট যে চিঠি দিয়েছিলো তার সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের আজ আমার মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, ১ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ বিষয়ে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহাসিন মন্টু বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন। এ জন্য আমরা অর্থবহ সংলাপ চাই। সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধানমন্ত্রী আমাদের সহায়তা চাইলে ঐক্যফ্রন্ট সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আমরা সংলাপে যাবো। সেক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা ১৫ এর অধিক হতে পারে।
এর আগে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) সকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয় আওয়ামী লীগ। সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় আওয়ামী লীগের চিঠি নিয়ে যান দলটির দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে সাত দফা দাবি এবং ১১টি লক্ষ্য সংবলিত চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ধর্মঘটের পর রাজধানীতে শুরু হয়েছে যানবাহন চলাচল


পরিবহন শ্রমিকদের টানা ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘটের পর শুরু হয়েছে যানবাহন চলাচল। 
আজ সকাল রাজধানীর বিভিন্ন রোডে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। 
দুইদিনের ভোগান্তি শেষে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে জনমনে। 
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবি আদায়ে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে কার্যত অচল হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকাসহ গোটা দেশ।