Hot!

Other News

More news for your entertainment

জেনে নিন কিবোর্ডের শর্টকার্ট


আপনি কী কম্পিউটারে টাইপিংয়ে এক্সপার্ট? ঝড়ের মতো টাইপ করেন? ctrl+c মানে কপি, ctrl+v মানে পেস্ট,ctrl+a মানে সবটা সিলেক্ট। এসব তো সবারই জানা।  কিন্তু কি বোর্ডে আরও কিছু শর্টকার্ট কি আছে সেটা জানেন কী। আপনাকে কিবোর্ড সম্বন্ধে যে তথ্য দেবো আশা করছি আপনার জানা নেই। যদি জানেন ভাল, না জানলে আরও ভাল।
উপরে ছবি দেখে শিখে নিন কী টাইপ করলে কোন সিম্বল আসে। কীভাবে করবেন? মাইক্রোসফ্ট ওয়ার্ড ফাইল খুলুন। আপনার পছন্দের মতো সিম্বল পেতে ছবি দেখে টাইপ করুন। দেখুন তো আপনার কাজে আসে কিনা?

মঙ্গল থেকে ‘সেলফি’ পাঠাল কিউরিসিটি

কিউরিসিটি মঙ্গলের বালি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত রয়েছে। কিন্তু কাজের ফাঁকে নিজের সেলফি তুলতে তার জুড়ি নেই। অত্যাধুনিক যন্ত্রগুলির মধ্যে এটিকে অনেকটাই সেলফি অবসেসড বলা যায়। তেমনই সেলফি পাঠাল সে মঙ্গল থেকে।
মঙ্গল গ্রহে লিজস্ব ছন্দে বিচরণ করছে সে। মঙ্গলের লাল ধুলো, পাথর আর পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে নাসা-র ‘কিউরিসিটি রোভার’। চলমান এই গবেষণাগার তার নিজস্ব কাজের ফাঁকে ফাঁকে তুলে ফেলছে সেলফি।
গত দুই মাস যাবৎ কিউরিওসিটি মঙ্গলের বালি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত রয়েছে। সেখানে বাতাসের গতিবিধির প্রতিও লক্ষ রাখছে সে। এহেন ব্যস্ততার মধ্যে সে তার নিজের ৫৭টি ছবি তুলেছে। সঙ্গের ছবিগুলি 'নামিব ড্যুন' নামের এক বালি-পাহাড়ের কাছে তোলা। সেখানে নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে খানিকটা যান্ত্রিক সমস্যাতেও পড়ে কিউরিসিটি। তখনই সে তার কাজ বন্ধ রেখে সেলফি তুলে তার নিজ-গ্রহে পাঠায়। এর কারণ একটাই, মঙ্গলে তার অবস্থান বোঝানো। 

আপনার শিশু কি খুব মোটা? এটি হতে পারে ঘুমের অভাবে

আপনার শিশু কি মোটা হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, অপর্যাপ্ত ঘুম এর জন্য অনেকাংশে দায়ী হতে পারে। কেবল শিশুদের বেলায় নয়, কিশোর বয়সের আগে ও পরেও এমনটি হতে পারে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর স্থূলতা ও অপর্যাপ্ত ঘুমের অভাবের মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণার ফল অনুযায়ী, শিশু-কিশোররা যারা পর্যাপ্ত ঘুমায় তাদের তুলনায় যারা কম ঘুমায় তারা বেশি মোটা।
চিকিৎসকরা বলেন, অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে কিশোর বয়সের আগে ও পরে স্থূলতা দেখা দেয়। এই স্থূলতা পুরো শরীরজুড়ে হয় না। কেবল পেটের এলাকাজুড়ে এই অবস্থা দেখা দেয় এবং যেসব বাচ্চার ভালো ঘুম হয় না তাদের ক্ষেত্রে এটি খুবই স্বাভাবিক। 
ঘুমের অভাবে কিভাবে স্থূলতা আসে?
ভালো ঘুম না হলে তিনটি উপায়ে স্থূলতা সৃষ্টি হয়।
১। ঘুমের অভাবে শিশুরা সারাদিন অলস সময় পার করে। তাদের মেজাজ থাকে খিটখিটে। এতে তাদের শারীরিক সক্রিয়তার অভাব দেখা দেয় যা স্থূলতার কারণ হয়।
২। অপর্যাপ্ত ঘুম শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যথেষ্ট ঘুম না হলে মানসিক সতর্কতা কাজ করে না। এতে তাদের জ্ঞানীয় আচরণ, উদাসীনতা প্রবণতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায় এবং খাবার গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। ফলে মোটা হয়ে যায় তারা।
৩। প্রত্যেক শিশুর ঘুমের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আরইএম (র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট) থাকতে হবে। এতে চোখের দ্রুত গতি, আরো স্বপ্নময় এবং শারীরিক আন্দোলন হয়। আর নন-আরইএম ঘুমে নাড়ির স্পন্দন এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বৃদ্ধি পায়। যে শিশুরা এর দুটোই যথেষ্ট পায় না, তারা ক্রন্দনশীল হতে থাকে। এতে তাদের বুকের দুধ কিংবা বোতলের দুধ আরো বেশি খাওয়ানো হয়। ফলে শৈশবেই বাড়ে তাদের স্থূলতা।
কেন বাচ্চাদের যথেষ্ট ঘুম হয় না?
চিকিৎসকদের মতে, ভালো ঘুমের জন্য আপনার সন্তানের শোবার ঘরের ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো প্রথমেই সরাতে হবে। এ ছাড়া অপর্যাপ্ত ঘুমের পেছনে বেশিরভাগই কাজ করে  ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি বজায় না রাখা। এর অর্থ হলো শিশুটির শোবার ঘরে টেলিভিশন সেট এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস রয়েছে। অনেক জায়গায় ঘুমপাড়ানি গান বাজানো হয় মোবাইলে। এসব বন্ধ করতে হবে। কারণ এগুলো ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
দ্বিতীয়ত, অনেক বাবা-মা বাচ্চাদের ঘুমের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ করেন না। তাঁরা পেশাগত কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেন। ফলে সন্তানকে আগেভাগে ঘুমিয়ে রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এটি সন্তানের জ্ঞানীয় আচরণে প্রভাব ফেলছে।
শারীরিক কার্যকলাপের অভাবও শিশুর ঘুমের ঘাটতির বড় কারণ। বাড়তি একাডেমিক চাপ থাকার কারণে শিশুরা অন্যান্য কার্যক্রম থেকে খুব ছোট বয়স থেকেই সরিয়ে রাখে। তারা ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পারে না।
আপনার সন্তান কতক্ষণ ঘুমাবে?
ঘুমের অভাবে যে স্থূলতা সৃষ্টি হয় তা শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়। হৃদযন্ত্রের সমস্যার পর দেখা দেয় ডায়াবেটিস। ফলে শিশুরা যাতে প্রয়োজন মতো ঘুমাতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
চিকিৎসকরা বলেন, একজন নবজাতক দিনে ২০ ঘণ্টার মতো ঘুমাতে পারে। নবজাতক থেকে শিশুকালে উত্তীর্ণের পর শিশুর প্রতিদিন ১৫-১৬ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত, যার মধ্যে তিন থেকে চার ঘণ্টা থাকবে একেবারে নির্ভেজাল ঘুম। এক বছর বয়স থেকে শিশুর প্রয়োজন অন্তত ১০-১২ ঘণ্টা ঘুম।
শিশুর বয়স যখন দুই বছর হবে, তখন বিকেলে অন্তত এক-দেড় ঘণ্টা ঘুমাবে আর রাতে ঘুমাবে আট থেকে ১০ ঘন্টা। যেহেতু বেশিরভাগ শিশুর স্কুলের জন্য ভোরে জেগে উঠতে হয়, তাই তাদের সন্ধ্যা রাতেই ঘুমাতে যাওয়া ভালো। এতে তারা সবচেয়ে ভালো আরইএম এবং নন-আরইএম ঘুম পাবে।  

কর্মক্ষেত্রে নজরদারির শিকার হচ্ছেন?


কর্মক্ষেত্রে আপনার কার্যক্রমের ওপর অন্যায়ভাবে কেউ নজরদারি করছে কি? এমন হতে পারে যে, আপনার বস বা উর্দ্ধতন কেউ কিংবা নিচের পদের কোনো ব্যক্তি আপনার সব কার্যক্রমের ওপর নজরদারি করছেন। এ ক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী হবে? কিভাবে এড়াবেন সে নজরদারি? এ লেখায় থাকছে এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ইনডিপেনডেন্ট।
১. আপনার নিয়োগপত্র খেয়াল করুন
কর্মক্ষেত্রে আপনার ওপর যদি ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নজরদারি করা হয় তাহলে সবার আগে কয়েকটি আইনগত বিষয় জেনে রাখতে হবে। আপনার কর্মক্ষেত্রের সব যন্ত্রপাতি যদি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহ করা হয় তাহলে তা নজরদারি করার অধিকার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের থাকতে পারে। এ বিষয়ে আপনার নিয়োগের সময় করা নিয়োগপত্র দেখে নিন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের কোনো হ্যান্ডবুক, কাজের নিয়মাবলী কিংবা গাইডলাইন থাকলে তাও দেখে নিন।
২. আইটি বিভাগে খবর নিন
আপনার কম্পিউটারে কোনো সন্দেহজনক বিষয় দেখা গেলে সে বিষয়ে আইটি বিভাগে খবর নিন। সন্দেহজনক বিষয়টি সম্পর্কে তাদের ব্যাখ্যা জেনে নিন। এমন হতে পারে যে তারা কোনো সফটওয়্যার আপডেট কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কাজে আপনার কম্পিউটার মনিটর করে। তবে তা যদি নজরদারির মতো কারণে হয়ে থাকে তাহলে তাও জেনে নিন।
৩. সতর্ক হোন
প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কম্পিউটারে ব্যক্তিগত কাজকর্ম করার অভ্যাস ত্যাগ করুন। ব্যক্তিগত কাজ থাকলে সেজন্য অন্য বিকল্পগুলো ব্যবহার করুন।
৪. প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিন
বহু প্রতিষ্ঠানই তাদের কর্মীদের জন্য সীমিত পর্যায়ে ব্যক্তিগত কাজকর্ম করার অনুমতি দেয়। এ ক্ষেত্রে সীমিত পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কিংবা ইমেইল চেক করার মতো কাজে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি রয়েছে কি না, জেনে নিন। প্রয়োজনের তাগিদে আপনার এ কাজগুলো করা হলে তা প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে রাখুন।
৫. ব্যক্তিগত ডিভাইস ব্যবহার করুন
যেকোনো কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান সরবরাহকৃত ডিভাইসগুলো আইটি বিভাগের নজরদারির আওতায় থাকতেই পারে। আর এ নজরদারি এড়াতে আপনার নিজস্ব ডিভাইস ব্যবহার হতে পারে সবচেয়ে ভালো সমাধান।

চলতি বছরে টেক দুনিয়ার সেরা ১৫ আবিস্কার

২০১৫ শেষ হতে আর বাকি মাত্র কয়েকদিন। প্রতিবছরই কিছু না কিছু নতুন জিনিস আবিস্কার হচ্ছে। ঠিক তেমনই ২০১৫তেও আবিস্কার হয়েছে অনেক জিনিস। তাঁর মধ্যে 'বেস্ট' ১৫টি গেজেটকে আমরা বেছে নিয়েছি। আসুন দেখা যাক এই 'বেস্ট' ১৫টি গেজেট কি কি?
১. নতুন এই 'Leica' ক্যমেরাটি 24-megapixel। যে কোনও প্রফেশনাল ফোটোগ্রাফার প্রথমবার দেখলেই এর প্রেমে পড়ে যাবে। এই ক্যমেরাটিতে যে ফিচার রয়েছে তা হল, 1.7 অ্যাপারচার, 28mm লেন্স, 4K ভিডিও, আর এই ক্যামেরায় সব থেকে ইন্ট্রেস্টিং ফিচার হল ছবি তুলতে গিয়ে ISO 50,000 পর্যন্ত রাখতে পারবে। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই সত্যি। এই ক্যামেরায় রয়েছে ফিক্সড ফোকাস রিং। যা সাবজেক্টকে খুব সুন্দর ফোকাস করতে সাহায্য করবে। এছারা রয়েছে WiFi এবং টাচ স্ক্রিন।
২. অ্যাপেল এর কথা শুনলে সবার মাথায় প্রথমে একটা কথা মাথায় আসে তা হল, তাঁদের নতুন ফোন অথবা কম্পিউটার। কিন্তু অ্যাপেল এর ঘড়ি যদি বলা হয় তবে? এবছর বাজারে এসেছে অ্যাপেল এর নতুন প্রযুক্তির 'রিস্ট ওয়াচ'। এই রিস্ট ওয়াচকে ফোনের বিকল্প বলা যেতে পারে। তাঁর কারণ এতে ফোনের মত যাবতীয় সব ফিচার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাইক্রোফোন যার মাধ্যমে ফোন কল এবং রিসিভ দুটোই করতে পারা যাবে। সব থেকে মজার জিনিস হল এই রিস্ট ওয়াচে মেসেজ 'dictating' করা যাবে। এছাড়াও রয়েছে অনেক অ্যাপ।  
৩.  তিন নম্বরে আমরা রেখেছি স্যামসাং এই ফোনটিকে। স্যামসাং এর এই ফোনটির লুক অনান্য মডেলগুলোর থেকে আলাদা। ফিচার গুলো বেশ আকর্ষণীয়। এতে রয়েছে সুপার 'AMOLED' স্ক্রিন। যেখান থেকে দেখা হোক না কেন ফোনটিকে সমান ভাবে দেখা যাবে। আর রয়েছে14 মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং ফোনটি 7mm পাতলা। ফোনটিতে রয়েছে 'আপগ্রেডেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্কেনার'।
৪. প্রথমে টিফটি মনিটর টেলিভিশন ছিল এরপর আরও ঝকঝকে ছবি দেখার জন্যে বাজারে এলো এলসিডি এবং এলেডি টিভি। কিন্তু এসবকেও টেক্কা দিয়ে আরও পরিষ্কার  ছবি দেখার জন্যে এবছরে বাজারে এলো '4k OLED'। এলজি সংস্থা এটি এবছরে বাজারে নিয়ে এসেছে। এর বিশেষত্ব হল এর 4k রেজোলিউশান। ছবির কোয়ালিটি হবে একদম লাইভ। কোনও খেলার দেখার সময় আপনার মনে হবে আপনি যেন মাঠে বসে আছেন।
৫. এই বছরের সব থেকে মজার জিনিস সেলফ  ব্যালেন্সিং ইলেক্ট্রনিক স্কেটবোর্টে। কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে হলে শুধু উঠে পড়ুন দু'চাকার এই ইলেক্ট্রনিক স্কেটবোর্টে সহজেই পৌঁছে যাবেন আপনার গন্তব্যে। এই ইলেক্ট্রনিক স্কেটবোর্টের নির্মাতা হল অস্ট্রেলিয়ান সংস্থা 'কাইসের বাস'। এই স্কেটবোর্টটি চালানোর আগে আপনাকে কিছুদিন অনুশীলন করে নিতে হবে না হয় কিন্তু পরে গিয়ে বিপদঘটার আশঙ্খা রয়েছে।    
৬. মাইক্রোসফটের নতুন এই ল্যাপটপটি এ বছরে বাজারে এসেছে। এরমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নতুন এই ল্যাপটপ। এই ল্যাপটপে রয়েছে 'Intel Core i7 chip,16GB RAM' এবং 13.5-inch স্ক্রিন। ল্যাপটপটির লুক মাইক্রোসফটের অনান্য ল্যাপটপের থেকে অনেক বেশি সুন্দর এবং ক্লাসিক।
৭.  এবছরই অ্যাপেল বাজারে নিয়ে এসেছে প্রথম 3D আইফোন। এই 3D আইফোন বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে এর চাহিদাও রয়েছে বেশ তুঙ্গে। এই ফোনের মডেল নম্বর 6S। এতে রয়েছে 12 মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, 3D টাচ। এই ফোনের ক্যামেরাটি খুব দুর্দান্ত বলা যেতে পারে তাঁর কারণ এতে রয়েছে ইমেজ স্টেব্লাইজেশন। ছবি নষ্ট না করে যেকোনো মোশান মুহূর্তকে খুব সহজে ক্যাপচার করতে পারবে ।  
৮.  এ বছরের স্যামসাং এর আরেকটি দুর্দান্ত গেজেট হল 'স্মার্টওয়াচ'। বাজারে আরও অনেক কোম্পানির স্মার্টওয়াচ বাজারে পাওয়া গেলেও স্যামসাং এর এই নতুন স্মার্টওয়াচটি সব থেকে আলাদা এতে আছে 1.2 inch স্ক্রিন। এই স্মার্টওয়াচটি ফিটনেস টিপস থেকে শুরু করে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে আপনাকে।
৯. গোপ্রো ক্যামেরাতে পুরনো সব খুঁটিনাটি সমস্যাগুলোকে সরিয়ে ফেলে নতুন মোড়কে বাজারে এলো। এখন গোপ্রোতে স্লো মোশান ভিডিও শুট করা যাবে। ভিডিও রেজোলিউশান 4K এবং 8 মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। তা হলে আর দেরি কেন পুরনো গোপ্রো পাল্টে নিয়ে আসুন নতুন গোপ্রো।
১০. যারা সাইকেল চালাতে বেশী পছন্দ করেন তাঁদের সেফটির জন্যে এ বছরেই বাজারে এসেছে নতুন এই গেজেট। সাইকেলের হ্যান্ডেলের সঙ্গে লাগানো থাকবে এই গেজেটটি পাশ দিয়ে অথবা পিছন দিক দিয়ে কোনও গাড়ি এলে তা আগে থেকে অ্যালার্ট করে দেবে সাইকেল আরোহীকে।
১১. গুগল নেক্সাস এর এই ফোনটি ফিচারগুলো অনান্য ফোনের থেকে অনেকটা আলাদা। প্রিমিয়াম অ্যালুমনিয়াম দিয়ে ফোনের বডি তৈরি হয়েছে। ফোনটিতে রয়েছে  '2GHz octa-core' চিপ, অ্যান্ড্রোয়েড 'Marshmallow' সফটওয়্যার এবং ইউএসবি পোর্ট। এই ফোনের সব থেকে জনপ্রিয় ফিচার ক্যামেরা। লো-লাইটে ছবি  তোলার জন্যে রয়েছে 2.0 অ্যাপারচার, 12.3 মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।
১২. এবছরের আরেকটি সেরা আবিষ্কার পোর্টাবল ফোল্ডিং কি বোর্ড। এর নির্মাতা মাইক্রোসফট। অফিসে কিংবা বাড়িতে যেখানেই দরকার সেখানেই  সহজে ব্যাগে ভাজ করে সঙ্গে নিয়ে ঘোরা যাবে। আর দরকার পরলে যেকোনো জায়গা থেকে এটি দিয়ে কম্পিউটার অপারেট করা যাবে।
১৩. ছবিতে যেটি দেখা যাচ্ছে তা হল Star Wars: Episode VII এর মত দেখতে একটি গেজেট। এই গজেট বেশ মজাদার, এটি আসলে একটি দ্রোন। আপনার স্মার্টফোন  দিয়ে ঘরের ভিতর দ্রোনটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন খুব সহজে। এ বছরের সেরা আবিষ্কারের মধ্যে এটি একটি অন্যতম। এটিকে খেলনা দ্রোন হিসেবে অনেকে ব্যবহার করতে পারবেন।
১৪. লাল রঙের ঘড়ির মত দেখতে মনে হলেও এটি আসলে ঘড়ি নয়। এ বছরের সেরা গেজেট এর মধ্যে  একটি অন্যতম গেজেট। এই গেজেটটির নাম হার্টবিট এটি আসলে ফিটনেস ওয়াচ। মানুষের শরীরের হৃদস্পন্ধন, কত তাপমাত্রা রয়েছে শরীরে এই সব সহজে বলে দেওয়া যাবে এই রিস্ট ওয়াচ যন্ত্রের সাহায্যে।
১৫. সর্বশেষ এই গেজেটটি সাউন্ড সিস্টেম। এর নাম প্লে-5। এই সাউন্ড সিস্টেম এতই দুর্দান্ত ঘরের যেকোনো কোনায় এর পরিষ্কার সাউন্ড পৌঁছে যাবে।

বিয়ের প্রথম রাতে স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা ভাল না খারাপ?


সে পাত্র হোক বা পাত্রী-বিয়ে ঘিরে উত্তেজনা কম থাকে না কারও। নতুন পরিবেশ, চেনা বা সম্পূর্ণ অচেনা এক মানুষের হাত ধরে এগিয়ে যাওয়া। তবে অধিক উত্তেজনায় এমন কিছু করবেন না যাতে আপনার নতুন জীবনের উপরে চিরকালীন ছাপ থেকে যায়। তাতে কিন্তু হিতে বিপরীত ঘটতে পারে!
বিয়ে ঠিক হওয়ার পর উচিত-অনুচিত নিয়ে অহেতুক ভেবে সময় নষ্ট করবেন না। হবু বউয়ের সঙ্গে চটজলদি বন্ধুত্বটা সেরে ফেলুন। বুঝে নিন তাঁর স্বভাব। সে কী পছন্দ করে, কী নয়। আপনার ইচ্ছে-অনিচ্ছাগুলোও তাঁকে বুঝিয়ে দিন। বিয়ের প্রথম রাতে মেয়েরা সাধারণত লাজুক হয়। চট করে ব্যক্তিগত কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা সে পছন্দ নাও করতেই পারে। এ ক্ষেত্রে অহেতুক রাগ করবেন না। তাঁর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলুন। আলোচনা করতে ভুলবেন না সেক্স নিয়েও। তবে প্রথমেই এই বিষয়ে কথা বলতে যাবেন না। আগে বন্ধুত্ব একটু গভীর হতে দিন।
যদিও বিয়ের রাতে সেক্স ভাল না খারাপ এই নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে সে বিতর্কে বেশি মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন, নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটাই সবচেয়ে বড়।

চুলের জন্য কোনটি ভালো, ঠাণ্ডা না-কি গরম পানি

শীতের শুরুতেই প্রসঙ্গটি আসে। ঠাণ্ডা পানি না-কি গরম পানি- গোসলে চুলের জন্য কোনটি ভালো। মনে রাখবেন, চুলের জন্য গরম পানিকে আপনি যতটা ক্ষতিকর মনে করেন এটি আসলে তার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর।
যদিও বলা হয়ে থাকে চুলের উপকারে উভয় তাপমাত্রার পানিই ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে কোনটি চুলের জন্য কী ভূমিকা রাখে সেটিই আগে জানা দরকার।
গরম পানি
প্রথমবার ধোয়ার সময় হালকা গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ এটি চুলের গোড়া ও গুটিকা জাতীয় কিছু থাকলে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। তবে বেশি ব্যবহার করা যাবে না। এতে চুল কুঁকড়ে যেতে পারে। তাছাড়া গরম পানি চুলকে শুষ্ক ও ভঙ্গুর করে তোলে, বাড়ে চুল পড়ার সম্ভাবনাও।
যদি আপনি চুলে রং করেন তবে মনে রাখবেন, গরম পানিতে রং দ্রুত ফিকে হয়ে আসবে।
ঠাণ্ডা পানি
ঝরনা বা ট্যাপ থেকে আসা ঠাণ্ডা পানি চুলের জন্য অবশ্যই ভালো। তবে সে জন্য ধৈর্য্য ধরে তা ব্যবহারের অভ্যাস করতে হবে।
ঠাণ্ডা পানি চুলকে মসৃণ করে কারণ এতে চুল কুঁকড়ে যায় না। এর সঙ্গে কন্ডিশনার ব্যবহার করা উত্তম, কারণ কন্ডিশনারে চুল আটকে যাবে না এবং ঝরঝরে হবে।
বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে চুলের জন্য পণ্যগুলো নির্বাচন করতে হবে। যদি আপনি বেশি সময় ধরে রোদ কিংবা দূষণের মধ্যে থাকেন তবে ব্যবহার করতে পারেন হেয়ার সিরাম (প্রোটিন সমৃদ্ধ তরল)। ভালো হয় পরিবারের সবার জন্য একই শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার। 

অ্যাজমার হাত থেকে বাঁচতে চাইলে জেনে রাখুন


পরিবেশদূষণ ক্রমেই বাড়ছে। সেই সঙ্গে মানুষের অ্যাজমার সমস্যাও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে গেছে। শহরাঞ্চলে তো কথাই নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, গোটা দুনিয়ায় অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা ৩০ কোটিরও বেশি। বিশ্বে প্রতি ২৫০টি মৃত্যুর একটির নেপথ্যে আছে অ্যাজমা। এর জন্য দায়ী বহু উপাদান ভেসে বেড়ায় বাতাসে। অ্যাজমায় আক্রান্তদের অবশ্যই বুঝতে হবে, কোন অ্যালার্জিতে তাদের অ্যাজমা দেখা দেয়। এসব খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। এ ছাড়া বেশ কিছু শারীরিক ক্রিয়াকলাপের কারণেও অ্যাজমা ভর করে। যেমন দীর্ঘ সময় ধরে পরিশ্রম করলে শ্বাস নিতে অনেক সময় কষ্ট হয়। ধুলা, ক্ষুদ্র পরজীবী, পরাগ রেণু, তেলাপোকা ও যেকোনো ধরনের সংক্রমণ থেকে এটি হতে পারে। শীতকাল ও আর্দ্রতাপূর্ণ আবহাওয়াও অনেক সময় দায়ী। মানসিক চাপও অ্যাজমার পরিস্থিতি তৈরি করে। অ্যাজমা থেকে রেহাই পেতে হলে—
পোষা প্রাণী থেকে দূরে
পোষা কুকুর, বিড়াল বা পাখির পালক ও লোমে অ্যালার্জির উপাদান থাকে। এতে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এদের সংস্পর্শে অনায়াসেই অ্যাজমা হয়। তাই অ্যাজমা থাকলে প্রাণী পোষার শখ বাদ দিতে হবে।
এয়ারফিল্টার
অনেকেই বাড়িতে এয়ারপিউরিফিয়ার বা এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহার করেন। অ্যাজমার প্রভাব থাকলে এসব যন্ত্রে এয়ারফিল্টার ব্যবহার করতে ভুলবেন না। এতে ঘরের মধ্যে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান থাকলে তা বেরিয়ে যাবে।
মাস্ক
বাইরের ধুলাবালি থেকে বাঁচতে মুখে মাস্ক ব্যবহার করুন। শুধু এ কাজেই অনেক উপকার মিলবে। আর যদি ভ্রমণের ওপর থাকতে হয়, তবে ভালোমানের একটি মাস্ক তো খুবই জরুরি।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
বাইরে এত ধুলাবালি যে ঘরের ভেতরও সব সময় এর বিচরণ দেখা যায়। কাজেই বাসা বাসযোগ্য করে তুলুন। নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করুন। নয়তো অ্যালার্জির প্রকোপ বাড়বে।
পারফিউম
সুগিন্ধ জাতীয় স্প্রে অ্যালার্জির উদ্রেক ঘটায়। তাই এসব কম কম ব্যবহার করাই ভালো। তা ছাড়া কড়া গন্ধের কোনো সুগন্ধি দেহে লাগাবেন না।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
কোন ধরনের খাবারে আপনার অ্যালার্জি হয় ও অ্যাজমায় প্রভাব ফেলে, তা খেয়াল করুন। এসব খাবার বাড়িতেই আনবেন না। ভিটামিন সি এবং ই, বেটা-ক্যারোটিন, ওমেগা ফ্যাটি এসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ম্যাগনেশিয়াম এবং সেলেনিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাবেন বেশি বেশি।

মধুর রয়েছে বহু উপকার

মধুর বহু ঔষধি গুণ রয়েছে। এ কারণে প্রাচীনকাল থেকেই এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। মধুর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, আয়োডিন, জিংক ও কপার সহ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। তবে উপকার পাওয়ার জন্য খুব বেশি মধু খেতে হবে না। প্রতিদিন মাত্র এক চামচ মধুই যথেষ্ট।
১. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
প্রতিদিন মধু খাওয়া হলে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে আমাদের দেহে সহজে অসুখ বিসুখ ও জীবাণুর সংক্রমণ হয় না।
২. ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে
মধু হিউম্যাকটেন্ট যৌগে সমৃদ্ধ। এই যৌগটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার কাজ করে এবং ত্বকের উপরিভাগের ইলাস্টিসিটি বজায় রাখে। হিউম্যাকটেন্ট যৌগটি ত্বককে নমনীয় করতেও সাহায্য করে। ফলে ত্বক থাকে দীর্ঘদিন বার্ধক্যের ছাপ মুক্ত।
৩. সংক্রমণ প্রতিরোধ
মধু শরীরের ক্ষত, পোড়া ও কাটা জায়গার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। মধুতে মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ক্ষত, পোড়া ও কাটা জায়গায় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। কোথাও পুড়ে বা কেটে গেলে ক্ষত স্থানে মধুর একটি পাতলা প্রলেপ দেওয়া যায়।
৪. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
মধুতে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির বিরুদ্ধে কাজ করে শরীরের চামড়াকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
৫. উদ্যম বৃদ্ধি
মধুতে রয়েছে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং শর্করা শরীরে শক্তি সবরাহের কাজ করে। প্রতিদিন সকালে ১ চামচ মধু সারাদিনের জন্য দেহের পেশীর ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে ও আপনাকে রাখে এনার্জিতে ভরপুর।
৬. রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ
প্রতিদিন ১ গ্লাস পানিতে ১ চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে মধুতে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম রক্তে প্রবেশ করে। এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের ভারসাম্য বজায় রাখে। এভাবে মধু রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে।
৭. কোলস্টেরল নিয়ন্ত্রণ
মধুর ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, সি কপার , আয়োডিন ও জিংক দেহে এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে মধু কোলেস্টেরল সংক্রান্ত রোগ থকে দেহকে মুক্ত রাখে। দিনে অন্তত এক চামচ মধু খেয়ে নিন,যেভাবে আপনার ভালো লাগে।
৮. ঠাণ্ডা সমস্যার উপশম
সাইনাসের কিংবা শ্বাসপ্রশ্বাসের যে কোন সমস্যা থেকে মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ দেহকে মুক্ত রাখে। চা কিংবা উষ্ণ পানির সাথে মধু মিশিয়ে প্রতিদিন পান করলে উপকার পাওয়া যাবে। এছাড়া যাদের হাহলকা কাশির সমস্যা আছে, তারা প্রতিদিন সামান্য আদার সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন।
৯. ওজন কমায়
মধু দেহের ওজন কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে আমাদের হজম শক্তি বাড়ে ও ফলে খাবারের ক্যালোরি দ্রুত ক্ষয় হয়। এতে ওজন কমে যায়। চিনির বদলে মধুর ব্যবহার মুটিয়ে যাওয়ার হাত থেকেও রক্ষা করে।

উইন্ডোজ ১০-এর 'কর্টানা' আসছে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসে

মাইক্রোসফট 'কর্টানা' এখন শুধু উইন্ডোজ ১০এ আবদ্ধ থাকছে না। জনপ্রিয় এ ফিচারটি এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড এবং অ্যাপলের আইওএস প্লাটফর্মে।
সম্প্রতি মাইক্রোসফট তাদের ব্লগপোস্টে বিষয়টি ঘোষণা করেছে। ব্লগপোস্টটিতে বলা হয়েছে, "আজ আমরা খুবই আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে মাইক্রোসফট কর্টানা এখন অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসে ব্যবহার করা যাবে। ওই দুই মোবাইল অপারেটিং প্লাটফর্ম থেকে ব্যবহারকারীরা এখন উইন্ডোজ ১০-এর স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন।''
নির্মাতা সংস্থাটি দাবি করেছে, ব্যবহারকারীরা ওই দুই প্ল্যাটফর্মেও পিসির মতো করেই কর্টানা ব্যবহার করতে পারবেন। কোনো বিষয়ে তথ্য খুঁজে বের করা, ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ইত্যাদি কাজের জন্য পিসির কর্টানা নোটবুকে সকল তথ্য যেমন আবহাওয়া, শখ, ট্যুরিজম ইত্যাদি সংরক্ষিত থাকে। সেই ডেটাগুলি এখন থেকে মোবাইলে সিনক্রোনাইজ করা যাবে। ফলে ভ্রমণের সময়ও পাশে থাকবে কথা বলা কর্টানা। যাকে 'হাই কর্টানা' বলেও সম্বোধন করা যাবে।
সংস্থাটি আরো দাবি করেছে, কর্টানা এখন উইন্ডোজ ৮.১-এর আপগ্রেড ভার্সনেও যুক্ত হয়েছে মাইক্রোসফটের এই 'পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট'। বালিকা কর্টানা এখনও শুধু ইংরেজিই বুঝতে পারে। তবে তাকে পর্যায়ক্রমে আরো ভাষা শেখানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রস্তুতকারকরা। যাই হোক এখনই প্লে স্টোর কিংবা অ্যাপল স্টোরে কর্টানাকে খুঁজে লাভ নেই। অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।

ইউটিউবে যোগ হলো ননস্টপ স্টেশন ও অরিজিনাল ট্র্যাক


ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব সম্প্রতি নতুন কয়েকটি সার্ভিস চালু করেছে। এর মধ্যে ননস্টপ স্টেশন ও অরিজিনাল ট্র্যাক ব্যবহারকারীরা পছন্দ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে এএফপি।
নতুন সহজে ব্যবহারযোগ্য এ সার্ভিসের মাধ্যমে মিউজিক স্ট্রিমিং সার্ভিসেও ভালো অবস্থান দখল করার আশা করছে ইউটিউব।
বিভিন্ন শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থের বিনিময়ে তাদের মূল মিউজিক সংগ্রহ করেছে ইউটিউব। এতে ব্যবহারকারীরা নিখুঁত মিউজিক শুনতে পারবে না থেমেই।
ইউটিউব মিউজিকে রয়েছে ভিডিও ও অডিও গানের সমাহার। ব্যবহারকারীরা ভিডিও কিংবা অডিও থেকে যে কোনোটি বেছে নিতে পারবেন। এতে থাকছে নন-স্টপ স্টেশন। এতে বহু স্টেশন রয়েছে।
ব্যবহারকারীদের এ স্ট্রিমিং সার্ভিসটি বর্তমানে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। তবে এতে কিছু বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হবে। বিজ্ঞাপনমুক্তভাবে এটি প্রদর্শনের জন্য প্রতি মানে ৯.৯৯ ডলার পরিশোধ করতে হবে।
বিশ্বের তৃতীয় জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইউটিউব তাদের অবস্থান ব্যবহার করে মিউজিক স্ট্রিমিং ব্যবহার একটি অংশ দখল করতে পারবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

ওষুধ কেনার সময় ফার্মাসিস্টের কাছে ছয়টি বিষয় জেনে নিন


কোনো রোগের কারণে আপনার চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। আর চিকিৎসক যদি কোনো ওষুধ দেন তাহলে তা কেনার সময় ব্যবহার পদ্ধতি সঠিকভাবে জেনে নিন। ওষুধ বিক্রির সময় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া ফার্মাসিস্টের দায়িত্ব। আপনি যে রোগের কারণেই ওষুধ নেন না কেন, ওষুধ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত। এ লেখায় থাকছে তেমন কয়েকটি বিষয়, যা ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
১. ওষুধটি কখন গ্রহণ করতে হবে?
কোনো ওষুধ গ্রহণ করার নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। এক্ষেত্রে খালি পেটে ওষুধ গ্রহণের সঙ্গে ভরা পেটে ওষুধ গ্রহণের রাত-দিন পার্থক্য রয়েছে। তাই এ বিষয়টি হেলাফেলা করা উচিত নয়।
২. ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী রয়েছে?
যে কোনো ওষুধেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। এক্ষেত্রে যদি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে। আর ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো জেনে রাখতে হবে আগে থেকেই।
৩. অন্য ওষুধের সঙ্গে সেবন করায় কোনো সমস্যা হবে কি?
আপনার শুধু একটিই ওষুধ নয় আরো ওষুধ থাকতে পারে সেবনের জন্য। আর এসব ওষুধ অন্য কোনোটির সঙ্গে বিক্রিয়া করতে পারে, যা আগেভাগেই জেনে রাখা উচিত।
৪. কোনো খাবার বা পানীয় ত্যাগ করতে হবে কি?
প্রত্যেক ওষুধই সাবধানে গ্রহণ করা উচিত। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে ওষুধটি যেন অন্য কোনো খাবার ও পানীয়ের সঙ্গে বিক্রিয়া না করে। এ কারণে আপনি যে ওষুধ গ্রহণ করছেন তার সঙ্গে কোনো খাবার বা পানীয়ের বিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, জেনে নিন।
৫. ওষুধের একটি ডোজ বাদ পড়লে কী করতে হবে?
আপনার ওষুধটি নিয়মিত সেবন করার গুরুত্ব জেনে নিন। ওষুধটি কোনো একবার বাদ পড়লে পরবর্তীতে কী করতে হবে, তা এ সময় জেনে নিন।
৬. ওষুধটি কতদিন সেবন করতে হবে?
কোনো ওষুধ সেবন করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। প্রত্যেক রোগীরই উচিত ওষুধ গ্রহণের এ সময়সীমা জেনে নেওয়া।

ঘুম থেকে উঠে এগুলি করেন নাকি? সর্বনাশ!

কথাই তো আছে, Morning shows the day। দিনটা আপনি কীভাবে শুরু করছেন তার উপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। জানি, সবটা আমাদের হাতে থাকে না। কিন্তু এমন অনেক কিছুই আছে, যা দিয়ে শত ব্যস্ততার মধ্যেও নির্ঝঞ্ঝাট রাখতে পারে আপনার গোটা দিন। যেকোনও চ্যালেঞ্জই আপনি কেড়ে নিতে পারেন হাসি মুখে …
১. সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠাটা কিন্তু খুব জরুরি। শুধু শরীর ভাল থাকে, তেমনটাই নয়। মনও চাঙ্গা রাখে।
২. চোখ খুলেই দু’হাত পাশাপাশি রেখে তালুর দিকে তাকান। চোখ খুলেই প্রথম দেখুন নিজের হাতের রেখা। মনে মনে ভগবানের নাম স্মরণ করুন। এরফলে ভাগ্যের বাধা কেটে যায়, এমনটাই বলছে শাস্ত্র।
৩. ঘুম ভেঙে উঠে অন্য কারও মুখ না দেখাই ভাল। তবে সকাল সকাল আয়নায় নিজের মুখ দেখাকেও অনেকেই দিনভর নেগেটিভ এনার্জির কারণ বলে মনে করেন।
৪. যে শক্তিতে আপনার সবথেকে বেশি ভরসা, প্রথম তাঁকেই দেখুন। হতে পারেন তিনি ইষ্ট দেবতা। হতে পারেন তিনি আপনার মা।
৫. ঘুম ভাঙতেই গুটিসুটি মেরে বিছানায় পড়ে থাকবেন না। হাত-পা মেলুন। নিজেকে যত প্রসারিত করবেন ততই বাড়বে আত্মবিশ্বাস। দিনভর তা আপনাকে খুশি রাখবে।
৬.  চোখ খুলতেই কি হাতের সামনে এক কাপ গরমাগরম কফি আপনার চাই-ই? এই অভ্যাসটা এখনই বদলান। কারণ সকাল ৮-৯টার মধ্যে আমাদের শরীরে এনার্জিবর্ধক এক ধরনের হরমোনের ক্ষরণ হয়। তাই সকাল সাড়ে ন’টার আগে যদি আপনি কফির কাপে চুমুকখানা মেরে দেন, তা হলে সবই গেল!

যেকোনো মাথা ব্যথা দূর হবে মাত্র ৫ মিনিটে

কথায় বলে, মাথা থাকলে মাথা ব্যথা হবেই। কথাটা নেহাত ভুল নয়। মাথা ব্যথায় কখনো না কখনো কষ্ট পেতে হয় না, এমন মানুষ বিরল। সময়ে সময়ে মাথার ব্যথা এতটাই অসহ্য হয়ে ওঠে যে, কাজকর্ম লাটে ওঠে। অনেকে এসব ক্ষেত্রে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু এ জাতীয় ওষুধের যে নানাবিধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে, তা বলাই বাহুল্য। তা ছাড়া এই সব ওষুধে হাতেনাতে ফলও সব সময়ে মেলে না। সবচেয়ে ভালো হয়, কোনো প্রাকৃতিক উপায়ে যদি মাথা ব্যথা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি পাওয়া যায়। তেমনই একটি উপায় বাতলে দিচ্ছে 'দ্য কমপ্লিমেন্টারি মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন'। তাদের প্রকাশিত একটি জার্নালে জানানো হচ্ছে, অ্যাকুপ্রেশারের সাহায্যে অতি সহজে মাত্র পাঁচ মিনিটে যেকোনো মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। 
অ্যাকুপ্রেশার এক ধরনের অলটারনেটিভ মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট যেখানে শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশে (অ্যাকুপ্রেসারের পরিভাষায় 'প্রেসার পয়েন্ট') ম্যাসাজের মাধ্যমে রোগ সারানো হয়। সে রকমই একটি প্রেসার পয়েন্টে ম্যাসাজের মাধ্যমে অতি দ্রুত মাথা ব্যথা সারিয়ে ফেলা সম্ভব বলেই দাবি করা হচ্ছে জার্নালে। 
কী ভাবে এবং কোথায় ম্যাসাজ করতে হবে? বলা হচ্ছে, অ্যাকুপ্রেসার শাস্ত্রে শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেসার পয়েন্ট হলো ইনত্যাং পয়েন্ট। এর অবস্থান দুটি চোখের ঠিক মাঝে, নাকের ঠিক ওপরে। মহিলারা কপালের যে অংশে টিপ পরেন, কিংবা ভারতীয় ঐতিহ্যে তৃতীয় নয়নের অবস্থান কপালের যে জায়গায় বলে মনে করা হয়, সেখানেই এই প্রেসার পয়েন্টের অবস্থান। এই পয়েন্টটিকে চিহ্নিত করার পরই শুরু করতে হবে ম্যাসাজ। 
এবার জেনে নিন ম্যাসাজের পদ্ধতি। নিজের যেকোনো একটি হাতের বুড়ো আঙুলটিকে রাখুন ইনত্যাং পয়েন্টে। তার পর আস্তে আস্তে আলতো ভাবে ক্লকওয়াইজ অথবা অ্যান্টি ক্লকওয়াইজ ম্যাসাজ করুন পয়েন্টটিকে। মিনিটখানেক এমনটা করুন। জার্নালে দাবি করা হচ্ছে, এই ম্যাসাজ শেষ হওয়ার মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই সম্পূর্ণ দূরীভূত হবে মাথা ব্যথা।

ডায়াবেটিস রোগীরা সকালের নাস্তায় যা খাবেন

যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের অনেকেই সকালের নাস্তা খেতে চান না অথবা অপরিকল্পিতভাবে সকালের নাস্তা বা ব্রেকফাস্ট সেরে ফেলেন। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে, যদি আপনার ব্লাড সুগার হাই থাকে তাহলেও সকালের নাস্তা পরিহার করা ঠিক নয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ব্রেকফাস্ট পরিহার করলে ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরের ওজন বেড়ে যেতে পারে এবং পাশাপাশি ইনসুলিনও রেজিস্ট্যান্স হতে পারে। গবেষণায় এটাও দেখা যায় যে, ব্রেকফাস্ট ইটার্সদের লাঞ্চ-ডিনারে ফ্যাট ও হাই ক্যালরি ডায়েট আহার করলেও বেটার রেজিস্ট্যান্স হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন একই সময়ে ব্রেকফাস্ট করা উচিত। যাতে সারাদিনের ব্লাড সুগার একই রকমের থাকে। রিডার্স ডাইজেস্ট অবলম্বনে সকালের নাস্তা আহারের নানা পরামর্শ এখানে তুলে ধরা হলো-
সকালের নাস্তায় রাখতে হবে স্বাস্থ্য সম্মত কার্বোহাইড্রেট। যেমন: ওট মিল, সিরিয়াল, ব্রেড ইত্যাদি। বাসাতেই ব্রেকফাস্ট আহারের অভ্যাস করতে হবে। ব্রেকফাস্টে রাখতে হবে অন্তত: এক হাজার কিলো ক্যালরির মতো খাদ্য শক্তি। খাবার তালিকায় রাখতে পারেন শর্করা, ফ্যাট, চিজ, সসেজ মাফিন, ওটমিল, ফ্যাট ফ্রি মিল্ক ইত্যাদি। হোল গ্রেইন সিরিয়াল, আধাকাপ ফ্রেস ফ্রুইট, যেমন: স্ট্রবেরী, ব্লু বেরী ইত্যাদি। খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন সিরিয়াল ও ইয়োগার্ট।
সাধারণ কর্ন ফ্লেক্স-এর চেয়ে ওটমিল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো। যারা ওটমিল আহার করেন তাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি ৩৯ ভাগ কম। ব্রেকফাস্টে রাখতে পারেন লোফ্যাট মিল্প অথবা সুগার ফ্রি ইয়োগার্ট। অরেঞ্জ জুস না খেয়ে ফ্রেশ অরেঞ্জ খাওয়া ভালো। চা-কফি পানের সময় চিনি পরিহার করুন এবং সিনামন যোগ করতে পারেন।

ফেসবুক আনছে বেচাকেনার প্ল্যাটফর্ম


সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং-এর গণ্ডী ছাড়িয়ে এবার বাজারের প্ল্যাটফর্ম হতে চলেছে ফেসবুক। OLX, QUIKR-এর মতো ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছে বেচাকেনার দরবার খুলে দিতে নতুন মডেল লোকাল মার্কেটের পরীক্ষা-নীরিক্ষা ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা।

বিচরণের পরিধি বিস্তৃত করছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং জায়েন্ট ফেসবুক। খুব শিগগিরই সোশ্যাল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি তারা হতে চলেছে বাজারের প্ল্যাটফর্ম। টেক ক্রাঞ্চের খবর, যাঁরা ফেসবুক ব্যবহার করেন তাঁদের অনেকেই সম্প্রতি তাঁদের আই ফোন অ্যাপের ফেসবুকে প্রত্যক্ষ করেছেন একটা নতুন ফিচার। খুব কম সময়ের জন্যই দেখা গিয়েছে এই ফিচার। অনেকের আবার 'মেসেঞ্জার' বাটনে এই ফিচার শো করতে দেখা গিয়েছে।

ফিচারে দেখা গিয়েছে বেচাকেনার সংগঠিত একটা প্ল্যাটফর্ম হওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে ফেসবুক। FB ব্যবহারকারীদের জন্য অটো, অ্যাপ্লায়েন্স, জামাকাপড়, বাড়ির জিনিসপত্র, বই - এছাড়াও নানা দ্রব্য বিক্রি ও কেনাকাটার সুযোগ দেওয়া ছিল ফেসবুকের এই নতুন ফিচারে। প্রত্যেকটা জিনিসের ছবি ও দামেরও উল্লেখ ছিল। কিওয়ার্ড ব্যবহার করে বাজার থেকে কোনও জিনিস খুঁজে বের করার অপশনও ছিল সেখানে। ফেসবুকের এই নতুন ইনিংস কেমন হয় সেই অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ববাসী।

এবার আসছে ১৬ ক্যামেরার স্মার্টফোন!

১৬ ক্যামেরার স্মার্টফোন নিয়ে আসছে দক্ষিণ কোরিয়ান আরেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এলজি ইলেকট্রনিক্স। স্মার্টফোনটি বাজারে আনতে প্রাথমিক পদক্ষেপ সম্পন্ন করেছে কম্পানিটি। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার আরেক কম্পানি স্যামসাং চার ক্যামেরার স্মার্টফোন বাজারে আনার পর সবার মধ্যে সাড়া পড়ে যায়।
গেজেটস নাউয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে ১৬ ক্যামেরাযুক্ত স্মার্টফোন তৈরির প্যাটেন্ট পেয়েছে এলজি। ইউনাইটেড স্টেটস প্যাটেন্ট অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অফিস (ইউএসপিটিও) থেকে এই প্যাটেন্ট পেয়েছে তারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬টি লেন্স দিয়ে একই সাথে ছবি তোলা যাবে। এখান থেকে গ্রাহকের যে ছবিটি পছন্দ হবে সেটিই তিনি নির্বাচন বা সংরক্ষণ করতে পারবেন। এই ধরনের ক্যামেরা সিস্টেম দিয়ে অনেক ভালো মানের পোট্রেইট ছবি তোলা যাবে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
বর্তমানে ৪ লেন্সের একমাত্র স্মার্টফোন হিসেবে বাজারে রয়েছে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এ-নাইন। নোকিয়া ৫ লেন্সের স্মার্টফোন বাজারে আনবে বলে গুঞ্জন উঠেছিল। যদিও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কিছু বলা হয়নি।
এদিকে ১৬ লেন্সের ক্যামেরা নিয়েও কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এলজি কর্তৃপক্ষ। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রাহকদের চমক দিতে দ্রুতই এ ধরনের স্মার্টফোন তৈরি শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি।

ফেসবুকে আসছে ভয়েস পোস্ট

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে টেক্সট কিংবা ভিডিও শেয়ারের অপশন সম্পর্কে অনেকেই পরিচিত। কিন্তু ভয়েস বা অডিও নিয়ে একটি ঘাটতি ছিল এতদিন। তবে এবার সেই ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে ফেসবুকের মাধ্যমে আপনি ভয়েস স্ট্যাটাস বা পোস্ট দিতে পারবেন।
‘অ্যাড ভয়েস ক্লিপ’ নামে নতুন ফিচারটি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে ফেসবুক। এই ফিচারটি থেকেই স্ট্যাটাস হিসেবে ফেসবুকে যুক্ত করা যাবে আপনার কণ্ঠ কিংবা অন্য কোনো শব্দ।
শুধু পরীক্ষাই নয়, সম্প্রতি ভারতে পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্প সংখ্যক ব্যবহারকারীর মধ্যে ভয়েস শেয়ারিং অপশনটি চালু করেছে ফেসবুক।
যাদের ফেসবুকে এ অপশনটি এসেছে তারা স্ট্যাটাসের কম্পোজ মেন্যুতে ‘অ্যাড ভয়েস ক্লিপ’ লেখা বাটন পাবেন। সেখান থেকেই সংক্ষিপ্ত অডিও ক্লিপ রেকর্ড করে তা স্ট্যাটাস আকারে পোস্ট করা যাবে। এখনই না আসলেও শীঘ্রই সব ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এটি পাবেন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেখার তুলনায় ভয়েস বেশি জীবন ঘনিষ্ঠ এবং ভিডিও রেকর্ডিংয়ের তুলনায় সহজ। আর তাই ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভয়েস স্ট্যাটাস আরো বেশি ঘনিষ্ঠতা বাড়াবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যাদের ভিন্ন ভাষার কিবোর্ডের মোকাবিলা করতে হয়, ভয়েস ক্লিপ স্ট্যাটাস কোনো বাধা ছাড়াই তাদের মনে কথা প্রকাশের সুবিধা দেবে।
কবে নাগাদ ফেসবুকের সব ব্যবহারকারী এ সুবিধা পাবেন তা এখনো ঘোষণা করেনি ফেসবুক।

চুলপড়া রোধে...

বাদাম খান
বিভিন্ন ধরনের বাদামে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। চুলপড়া রোধ করার জন্য এগুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দেহের ভিটামিন ও মিনারেলের অভাবে অনেকেরই চুল পড়ে যায়। তাই কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, পেস্তাবাদাম, আখরোট বাদাম ও চিনাবাদাম রাখুন আপনার খাদ্য তালিকায়।
ঘৃতকুমারী লাগান
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীতে আছে এমন কিছু এনজাইম, যা চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে চুলপড়াও নিয়ন্ত্রণ হয়। এ জন্য পরিমাণমতো অ্যালোভেরা জেল নিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ফেলুন। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে হালকা গরম পানিতে ভালো করে মাথাটা ধুয়ে নিন। সপ্তাহে তিন-চারবার অ্যালোভেরা জেল মাথায় লাগালে দারুণ উপকার মেলে।
বিভিন্ন বীজ খান
বিভিন্ন ধরনের বীজে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান আছে। এর মধ্যে মিষ্টিকুমড়ার বীজ অন্যতম। এ ছাড়া সূর্যমুখীর বীজ, তিসির বীজ ইত্যাদিও অত্যন্ত পুষ্টিকর। আপনার খাদ্য তালিকায় রাখুন এসব বীজ। এতে দেহের বহু গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের চাহিদা পূরণ হবে, চুলপড়াও রোধ করা সম্ভব হবে।
পেঁয়াজ লাগান
চুলপড়া কমাতে পেঁয়াজ বেশ কার্যকর। পেঁয়াজের রসে আছে বিপুল পরিমাণে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ, যা স্কাল্পে ঘর বেঁধে থাকা জীবাণুদের মেরে ফেলে। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে চুলপড়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। সপ্তাহে দুই-তিনবার এটি ৩০ মিনিট করে রাখলেই ফল পাবেন।
পালংশাক খান
পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি ও আয়রন আছে। নিয়মিত পালং শাক খেলে ভিটামিনের অভাবে চুলপড়া রোধ হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্পর্কে প্রতারণা করেন যে ৬ ধরনের পুরুষ

সম্পর্কে কে প্রতারণা করবে আর কে করবে না তা বোঝা সহজ কাজ নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক ধরনের পুরুষ আছে যাদের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তাদের মধ্যে প্রতারণার প্রবণতা দেখা গেছে। এখানে এমনই ৬ ধরনের পুরুষের কথা তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা।
১. মা-ভক্ত নন : দারুণ মা-ভক্ত ছেলেদের বিরক্তির চোখেই দেখেন মেয়েরা। তারা নাকি ছিঁচকাঁদুনে হয়ে থাকেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল পুরুষ একেবারেই মা-ভক্ত নন, তাদের মধ্যে প্রতারণার স্বভাব প্রবল। সাধারণ অর্থেই বোঝা যায়, অতি প্রিয় মানুষের আশপাশেও এরা বেশিক্ষণ থাকতে পছন্দ করেন না। কাজেই প্রিয়তমার কাছে কিভাবে থাকবেন?
২. সব বিষয়ে রহস্যময় : হয়তো চরিত্রের সহস্যময়তা দেখেই মেয়েটি তার প্রেমে পড়েছেন। কিন্তু তিনি যদি সব ব্যাপারেই গোপনীয়তা রক্ষা করে চলেন, তবে তাকে এতটা বিশ্বাস করা ঠিক নয়। এমন গোপন থাকার স্বভাব প্রতারণার প্রথম লক্ষণ। তবে তার চরিত্রে সঙ্গিনীর বিষয়ে ভালোবাসার প্রকাশের কোনো কমতি হয়তো থাকে না। কিন্তু লুকোচুরি স্বভাবে পুরুষরা প্রতারণায় পারদর্শী।
৩. মনের টান নেই : প্রেমিকের এক কথাতেই প্রেমিকারা হয়তো বিগলিত হয়ে পড়েন। তাকে সবকিছু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত হয়ে যান। ছেলেটিও তার ভাবভঙ্গিতে সঙ্গিনীর প্রতি দারুণ আন্তরিকতা প্রকাশ করেন। কিন্তু বিষয়টি যখন মনের টান, তখন ছেলেটি তা মোটেও অনুভব করেন না। দৈহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে হয়তো ছেলেটি আন্তরিক, কিন্তু সঙ্গিনীর মানসিক সমস্যা বা অন্য কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে তাকে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত দেখা যায়। এমন ছেলেরা প্রতারক না হয়ে পারে না।
৪. শুধু ভুলে যান : আগামীকাল হয়তো দুজন মিলে কোনো রেস্টুরেন্টে বসার পরিকল্পনা করেছেন। কিন্তু ছেলেটার কাজ পড়ে গেছে। সমস্যাটা হলো, পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার বিষয়টি তিনি সঙ্গিনীকে জানানোর কথা বেমালুম ভুলে যান। পরে দেখা হলে অতি আন্তরিকতার সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই ঘটনা শপিংয়ে যাওয়া বা ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও করে থাকেন তিনি। এমন স্বভাবের ছেলেরাও প্রতারকদের লক্ষণ প্রকাশ করেন।
৫. সঙ্গিনীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান : এ ধরনের ছেলেরা সঙ্গিনীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পছন্দ করেন। তিনি নিজের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে চান না। কিন্তু সঙ্গিনীর যাবতীয় তথ্য নিতে ওস্তাদ। বাইরে কোথায় অবস্থান করছেন তা কখনো প্রেমিকাকে জানাতে চান না। এরাও প্রতারক পুরুষদের কাতারে পড়েন।
৬. সম্পর্ক গোপন রাখেন : সঠিক সময়ের আগে এই পুরুষরা কখনো সম্পর্কের কথা প্রকাশ করতে চান না। তিনি তার বন্ধু বা স্বজনের সঙ্গে কখনো সঙ্গিনীর পরিচয় করিয়ে দেন না। পরিচিত কাউকে দেখলে চট করে প্রেমিকাকে নিয়ে আড়ালে চলে যান। ফেসবুকে তিনি নিজের সিঙ্গেল স্ট্যাটাস দিয়ে থাকেন। এদের মধ্যেও প্রতারকের স্বভাব স্পষ্ট।

গর্ভাবস্থায় সামান্য সমস্যাতেও সতর্ক থাকুন

বর্তমান সময়ে গর্ভাবস্থা মানেই ঝুঁকি বেশি। প্রবল মানসিক চাপ ও মেদবাহুল্য, যার সূত্রে ডায়াবেটিস বা হাইপ্রেশারও থাকে অনেকের। সঙ্গে ধূমপান বা মদ্যপানের অভ্যাস যুক্ত হলে তো হয়েই গেল!
চিকিৎসকরা বলছেন, সে কারণে টেনশন করার দরকার নেই। বেশি টেনশনে সমস্যা বাড়ে। তা ছাড়া আজকাল এত রকম আধুনিক পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও চিকিৎসা বেরিয়ে গেছে যে একটু সাবধানে থাকলে, শুরু থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ও যথাযথ ব্যবস্থা নিলে বিপদ সামলানো যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই।
দেখে নিন, কী কী সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন, এমন জটিলতার কারণ ও লক্ষণই বা কী।
জটিলতার কারণ
হবু মায়ের বয়স ৩৫ বছরের চেয়ে যত বেশি হয়, তত সমস্যা। ধূমপান, মদ্যপান বা ড্রাগের নেশা। আগে গর্ভপাত, মৃত সন্তানের জন্ম বা জন্মের পরই সন্তান মারা যাওয়ার ইতিহাস যদি থাকে, তা হলে কিছু ক্ষেত্রে সময়ের আগে বা কম ওজনের সন্তান জন্মায়।
হবু মায়ের কিছু অসুখ যেমন, ডায়াবেটিস, হাইপ্রেশার, মৃগি, রক্তস্বল্পতা, কোনো জটিল সংক্রমণ, মানসিক রোগ বা পরিবারে জেনেটিক অসুখও জটিলতার কারণ।
গর্ভাবস্থায় যদি প্রেশার–সুগার বাড়ে, জরায়ু–জরায়ুমুখ–প্ল্যাসেন্টা সমস্যা হয়, ভ্রূণ যে তরলে ডুবে থাকে তার পরিমাণ খুব হেরফের হয়। কখনো বাড়ে, কখনো কমে। নেগেটিভ ব্লাডগ্রুপের মায়ের গর্ভে পজিটিভ ব্লাডগ্রুপের সন্তান আসে,  ভ্রূণের বৃদ্ধি থমকে যায়।
গর্ভে একাধিক সন্তান থাকলেও জটিলতা আসে অনেক সময়।
সমস্যা ঠেকাতে করণীয়
প্রি–ন্যাটাল কাউন্সিলিং করে তবে গর্ভসঞ্চারের কথা ভাবুন। গর্ভসঞ্চারের পর নিয়মিত ডাক্তার দেখান, যাতে সমস্যা হওয়ামাত্র ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সুষম খাবার খান। ভিটামিন–মিনারেল সাপ্লিমেন্টও খেতে হতে পারে।
ওজন বেশি বাড়তে শুরু করলে মা–বাচ্চা, দু’জনেরই ক্ষতি।  কাজেই কতটা ওজন বাড়া স্বাভাবিক, তা জেনে সেই মতো সাবধান হয়ে চলুন। পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন। সিগারেট–মদ–ড্রাগ ছোঁওয়া পর্যন্ত যাবে না।
কথায় কথায় ওষুধ খাবেন না। ছোটখাটো ব্যাপারেও চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। আইভিএফ হলে জেনে নিন জরায়ুতে ক’টা ভ্রূণ দেওয়া হবে। দুই বা তার বেশি ভ্রুণ জরায়ুতে এলে সময়ের আগে প্রসবের আশঙ্কা বাড়ে। বাড়ে বিপদের আশঙ্কা।

জটিলতা আছে বুঝলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পরীক্ষা–নিরীক্ষা
সাধারণ পরীক্ষার পাশাপাশি করতে হয় কিছু বিশেষ পরীক্ষা। যেমন, ভ্রূণের শারীরিক ত্রুটি ধরতে স্পেশাল বা টার্গেটেড আলট্রা সাউন্ড।
গর্ভস্থ সন্তানের জেনেটিক কোনো সমস্যা, মস্তিষ্ক বা শিরদাঁড়ার সমস্যা আছে বলে সন্দেহ হলে অ্যামনিওসিন্টেসিস বা কোরিওনিক ভিলাস স্যাম্পলিং করানো উচিত।
সামান্য কিছু ক্ষেত্রে ভ্রূণের ক্রোমোজোমের ত্রুটি, রক্তের অসুখ ও জটিল কোনো সংক্রমণ আছে কি না জানতে আম্বেলিকাল কর্ড থেকে রক্ত নিয়ে কর্ডোসেন্টেসিস বা পারকিউটেনিয়াস আম্বেলিকাল ব্লাড স্যাম্পলিং করা হ।
সময়ের আগেই প্রসব হয়ে যেতে পারে মনে হলে স্ক্যান করে জরায়ুমুখের মাপ নেন চিকিৎসক। ভ্যাজাইনা থেকে রস নিয়ে তাতে ফিটাল ফাইব্রোনেকটিন আছে কি না দেখা যায়।
সন্তানের সুস্থতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে নন–স্ট্রেস টেস্ট পদ্ধতিতে ভ্রূণের হার্ট রেট মনিটর করা হয়।  সঙ্গে করা হয় বিশেষ ফিটাল আলট্রাসাউন্ড।
ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা মানেই টেনশন। যা মাত্রা ছাড়ালে সন্তান ও মা— উভয়েরই ক্ষতি। কাজেই ডাক্তারের উপর ভরসা রাখুন। ধ্যান, আড্ডা, বই পড়া, গান শোনা— মোদ্দা কথা যাতে টেনশন কমে, তাই করুন।
বিপদের লক্ষণ
রক্তপাত, অবিরাম মাথাব্যথা, তলপেট কামড়ানো বা ব্যথা, ভ্যাজাইনা দিয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে বা এক ধাক্কায় অনেকটা জল বেরিয়ে যাওয়া, লাগাতার বা ঘন ঘন পেটে শক্ত ভাব অনুভব, বাচ্চার নড়াচড়া কমে যাওয়া, প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালা হওয়া, চোখে আবছা দেখা বা একই জিনিস দু’টো–তিনটে করে দেখ।
চিকিৎসা
এ ক্ষেত্রে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ্রামে থাকতে হয় হবু মাকে। কড়া নজরদারির প্রয়োজন হলে এক–আধবার দু’–এক দিনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ারও দরকার হতে পারে। কিছু ওষুধপত্র চলে। সন্তান অপুষ্ট হতে পারে মনে হলে তারও কিছু চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। এর পর অবশ্যই সময় মতো মা ও নবজাতকের চিকিৎসার সুব্যবস্থা আছে এমন হাসপাতালে প্রসব করাতে হবে, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ঘুমের সমস্যা এড়াতে...

দিনে ঘুমাবেন না
অনেকেই দিনে ঘুমান। ফলে রাতে ঘুম আসে না। এ জন্য দিনে যদি খুব ঘুম পায় সে ক্ষেত্রে ২০ মিনিটের বেশি ঘুমানো যাবে না।
অ্যালার্ম দিন
নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তা অনেকেই ভুলে যান। সে কারণে ঘুম থেকে ওঠার মতো ঘুমাতে যাওয়ার জন্যও অ্যালার্ম ব্যবহার করতে পারেন।
মাছ খান
গবেষণায় দেখা গেছে, তৈলাক্ত মাছে পাওয়া ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ঘুম আনতে সহায়তা করে। অন্যদিকে বিভিন্ন গুরুপাক খাবার হজমে সমস্যা করে এবং ঘুমাতে ব্যাঘাত তৈরি করে। তাই সেসব খাবার বাদ দিয়ে মাছ খান।
মোবাইল-টিভি বন্ধ করুন
অনেকেই ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন, ট্যাব বা টিভি দেখেন। এসব ডিভাইস থেকে বিচ্ছুরিত নীল আলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। তাই ঘুমাতে যাওয়ার কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে এসব ডিভাইস বন্ধ করুন।
শারীরিক পরিশ্রম করুন
যারা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করে, তাদের ঘুম ভালো হয়। তাই ভালো ঘুমের জন্য নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা দরকার। তবে ঠিক ঘুমের আগে নয়, দিনের বেলা বা ঘুমের কয়েক ঘণ্টা আগে করলেই চলবে।
ক্যাফেইন ও ধূমপান নয়
ক্যাফেইন জাতীয় খাবার ও নিকোটিন ঘুম তাড়িয়ে দেয়। তাই ঘুমের অন্তত পাঁচ ঘণ্টা আগে শেষ চা বা কফিটুকু পান করতে হবে। এমনকি যাদের রাতে ভালো ঘুম হয় না, তাদের উচিত দুপুরের খাবারের পর কফি বা চা না পান করা। পাশাপাশি ধূমপানও পরিহার করতে হবে। কারণ নিকোটিন মস্তিষ্কে ঘুমের সমস্যা তৈরি করে।
বই পড়ুন
ঘুমের আগে বই পড়লে তা খুবই কার্যকরভাবে ঘুম আনতে পারে। তাই ঘুম না এলে বিছানায় শুয়ে ঘুমের জন্য চেষ্টা করার বদলে একটি বই নিয়ে পড়তে থাকুন।
অল্প খান
ঘুমের আগে বেশি খাবার খেলে তা ঘুমের সমস্যা তৈরি করে। এ জন্য সন্ধ্যাতেই খাবার খেয়ে নিন। পরে খাবার খেতে চাইলে হালকা খাবার খান।
বিছানা ঠিক করুন
বিছানাতে অন্য কোনো কাজ করবেন না। শুধু ঘুমের জন্যই বিছানা বরাদ্দ রাখুন। অন্য সব কাজ শেষ করে তবেই ঘুমের জন্য বিছানায় যান।

খাবারের শেষে মিষ্টি খান? জানেন তো আদৌ ঠিক না ভুল?

খাওয়া-দাওয়ার পর মিষ্টি এই অঞ্চলের মানুষের প্রাচীন অভ্যাস। বিয়েবাড়ি হোক কিংবা রেস্তোরাঁ, সবশেষে মিষ্টি ছাড়া খাওয়া যেন শেষই হয় না।
অনেকের তো আবার খাওয়া শেষে মিষ্টি খাওয়ার নেশা আছে। তাই বাড়িতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে অন্যতম এই মিষ্টি।
আজকাল নবীন প্রজন্ম যদিও চেহারার কারণে মিষ্টি থেকে দূরে থাকতেই ভালোবাসে। তার পরেও খাওয়ার পর একটু মিষ্টিতে অনেকেই আস্থা রাখেন।
কিন্তু জানেন কি, সব শেষে কেন মিষ্টি খাওয়ার নিয়ম? আদৌ এই অভ্যাস ক্ষতিকর কি না?
একজন বিশেষজ্হ জানান, খাওয়ার পর মিষ্টি খাওয়ার নিয়ম নতুন নয়। আসলে তেল-মশলার খাবার শরীরে রক্তচাপ বাড়ায়। মিষ্টি সেই চাপকে কমাতে সাহায্য করে।
তিনি আরো বলেন, ভাজা বা মশলাদার খাবার অ্যাসিড ক্ষরণের মাত্রা বৃদ্ধি করে। এদিকে মিষ্টি সেসব অ্যাসিড ক্ষরণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে হজমজনিত সুবিধা হয়।
সে কারণে খাওয়ার পর শেষে একটা মিষ্টি ক্ষতিকর নয়। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, এই মিষ্টির পরিমাণ যেন কখনো মাত্রা না ছাড়ায়। তা হলেই কিন্তু ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকবে।

যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনার শরীরে ডায়াবেটিস


ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ। যাকে বলা হয় নীরব ঘাতক। ওষুধ, শরীরচর্চা ও খাওয়া-দাওয়া নিয়ম মেনে করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে ডায়াবেটিস কোনোভাবেই পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়। তাই সঠিক সময়ে শারীরিক লক্ষণগুলো চিহ্নিত করে ডায়াবেটিসের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারলে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে দীর্ঘ স্বাভাবিক জীবন পাওয়া সম্ভব। আসুন ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো এক নজরে দেখে নেওয়া যাক -

তৃষ্ণা ও প্রস্রাবের মাত্রা বৃদ্ধি : পিপাসা বেড়ে যাওয়া বা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া ডায়াবেটিস রোগের দুটি সাধারণ লক্ষণ। সাধারণত একজন সুস্থ মানুষ সারাদিনে ৬-৭ বার প্রস্রাব করেন। পরিবেশ বা পরিস্থিতি পরিবর্তনে দিনে ৪-১০ বার প্রস্রাবকেও স্বাভাবিক ধরা হয়। তার বেশি হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া : ডায়াবেটিসের তিনটি প্রধান লক্ষণের মধ্যে অন্যতম হলো ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া। বারবার খাবার খাওয়ার পরেও ক্ষুধা ক্ষুধা ভাব থেকে যায়। এমন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

অবসাদ বা ক্লান্তি বোধ : পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও যদি সারাদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত বোধ করেন তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ ডায়াবেটিসের ফলে শরীর পর্যাপ্ত গ্লুকোজ পায় না। পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রস্রাবের ফলে শরীরে পানির ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই শরীর ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

অস্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস : খাদ্যাভ্যাসে কোনো ধরনের বিশেষ পরিবর্তন বা শরীরচর্চা ছাড়াই অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাওয়া ডায়াবেটিসের একটি অন্যতম লক্ষণ। ডায়াবেটিসের ফলে শরীর পর্যাপ্ত গ্লুকোজ পায় না। শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়। আর সেই ঘাটতি পূরণের জন্য শরীর তার ফ্যাট ব্যবহার করা শুরু করে। ফলে শরীর ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে ও ওজন কমতে থাকে।

ত্বকে কালচে ভাব : অ্যাকান্থসিস নিগ্রিকানস হলো ত্বকের এক ধরনের সমস্যা, যার ফলে ত্বকের উপরিভাগের কিছু অংশে পিচ্ছিলভাব তৈরি হয় ও সেখানে কালো ছোপ পড়তে থাকে। ত্বকের এই সমস্যা সাধারণত ঘাড়, কনুই, বগল, আঙুল, হাঁটুর পেছনের অংশে বেশি দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ত্বকের এই সমস্যাকে ডায়াবেটিসের প্রাথমিক উপসর্গগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ত্বকে চুলকানি ভাব : ডায়াবেটিসের ফলে শরীরে পানির ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। শুষ্ক ত্বকের উপরিভাগে সংক্রমণ দেখা দেয়। ত্বকে চুলকানি, জ্বালাভাব অস্বস্তি তৈরি করে। ত্বকের সংক্রমণ বা চুলকানির আর একটি কারণ হলো ইস্ট ইনফেকশন, যেটি ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে খুবই স্বাভাবিক সমস্যা।

অস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তি : দৃষ্টি হঠাৎ করে যদি অস্পষ্ট বা ঝাপসা হতে থাকে এবং তার জন্য যদি চোখের কোনো সমস্যা না থাকে, তবে বুঝতে হবে ডায়াবেটিসের সমস্যার জন্যই এমনটা হচ্ছে। শরীরের অভ্যন্তরে তরলের মাত্রার তারতম্য হওয়ায় চোখ ফুলে যায়। ফলে দৃষ্টি হঠাৎ করে অস্পষ্ট বা ঝাপসা হতে থাকে। এমন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ক্ষতস্থান নিরাময়ে সময় লাগা : শরীরের যেকোনো কাটা-ছেঁড়া ও ক্ষতস্থান শুকতে বা সেরে উঠতে যদি অনেক বেশি সময় লাগে তবে তা ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আলেক্সান্দ্রিয়ার বাতিঘর: ধ্বংস হয়ে যাওয়া এক প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস


প্রাচীন পৃথিবীর অনেক কিছুই আজও রহস্যময় রয়ে গিয়েছে। মিশরের আশ্চর্য সব পিরামিড থেকে শুরু করে ব্যবিলনের ঝুলন্ত উদ্যানসহ প্রাচীন বহু স্থাপত্যই এখনো মানুষের কাছে অপার রহস্যময় হয়ে রয়েছে। আলেক্সান্দ্রিয়ার বাতিঘর তেমনি এক রহস্যের নাম।

আলেক্সান্দ্রিয়ার বাতিঘর ছিল প্রযুক্তিগতভাবে বিশাল এক বিজয়। এর স্থাপত্যকলা এমনই ছিল যে একে তখনকার সময়ে মডেল মেনে অন্য সকল বাতিঘর তৈরি হতো। প্রাসাদতুল্য এই বাতিঘর এর স্থাপত্যকলার কৌশলের জন্য প্রাচীন সপ্তমাশ্চর্যের তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছিল। প্রাচীনত্বের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত ছিল এটি।
আলেক্সান্দ্রিয়ার বাতিঘরের ইলাস্ট্রেশন; Image Source: ancient.eu

বাতিঘরটি তৈরি করা হয়েছিল ফারোস দ্বীপে। দ্বীপটি অবস্থিত ছিল মিশরের আলেক্সান্দ্রিয়া বন্দরের কাছে। পানির ওপর দিয়ে নির্মিত এক উঁচু পথের মাধ্যমে দ্বীপটি মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলো। সমসাময়িক লেখক পসিডিপ্পসের লেখা থেকে আমরা জানতে পারি, বাতিঘরটি মূলত নাবিকদের পথপ্রদর্শন ও নিরাপত্তার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। বাতিঘরটি জিউস সোটার (Zeus Soter) এবং গ্রিক সমুদ্রের দেবতা প্রোটিয়াসকে উৎসর্গ করা হয়েছিলো। প্রোটিয়াসকে 'সমুদ্রের বুড়ো' (Old man of the Sea) বলেও উল্লেখ করা হতো।

বাতিঘরটি একসময় মিশরের পিরামিডের পর সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা ছিলো। আলেক্সান্দ্রিয়া শহরের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট। মিশরের দীর্ঘতম নীল নদের পাড়ে অবস্থিত হওয়ায় এবং শহরের ধারে প্রাকৃতিক বন্দর হওয়ার কারণে শহরটি দ্রুত বাণিজ্যিক বন্দরনগরী হিসেবে উন্নতি লাভ করে। খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতকের কাছাকাছি কোনো এক সময়ে তৎকালীন মিশরের রাজা সোটার (১ম টলেমি বলেও তাকে অভিহিত করা হয়। তার বংশের শাসনামল টলেমি রাজবংশের শাসন হিসেবে খ্যাত, যা প্রায় তিন শতাব্দী যাবত বজায় ছিলো।) তার ক্ষমতা ও মহিমা প্রদর্শনের স্থায়ী স্মৃতিচিহ্ন এবং আলেক্সান্দ্রিয়াতে চলাচলকারী জাহাজসমূহকে তাদের চলাচলের পথ সঠিকভাবে প্রদর্শন করার জন্য এক বিশাল বাতিঘর ভবন স্থাপন করার অনুমোদন দেন।
আলেক্সান্দ্রিয়ার বাতিঘর; Source: britannica.com

বাতিঘরটি তৈরি করা শেষ হয় এই প্রকল্প গ্রহণ করার প্রায় ২০ বছর পর, ২য় টলেমির রাজত্বকালে। বিভিন্ন প্রাচীন তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়, বাতিঘরটির স্থপতি ছিলেন সস্ট্র্যাটাস অফ নিডাস। ১ম টলেমি ও তার ছেলের সাথে সস্ট্র্যাটাসের খুবই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিলো বিধায় তিনি অত্যন্ত ক্ষমতাবান ছিলেন। তথ্যসূত্রগুলো খুবই দুর্লভ এবং এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চয়তা না থাকায় স্থপতি সম্পর্কে জানা যায় খুব কম। কিছু তথ্যসূত্র আবার বলে, সস্ট্র্যাটাস শুধু এই প্রকল্পকে অর্থায়ন করেছিলেন। এটাও শোনা যায় যে, তার কাজে গর্বিত হয়ে তিনি এই স্থাপত্যটির গায়ে তার নাম খোদাই করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ২য় টলেমি এই স্থাপত্যের গায়ে কেবল তার নিজের নাম খোদাই করার ইচ্ছা থেকে সস্ট্র্যাটাসের নাম খোদাই করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। সস্ট্র্যাটাস খুবই চালাকি করে তার নিজের নাম এই বাতিঘরে খোদাইয়ের মাধ্যমে নিম্নোক্ত বর্ণনাটির মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করেন।

"SOSTRATUS SON OF DEXIPHANES OF KNIDOS ON BEHALF OF ALL MARINERS TO THE SAVIOR GODS"

এই লিপিটির ওপর প্লাস্টার করে সেই প্লাস্টারের ওপর টলেমির নাম খোদাই করা হয়। সময় অতিবাহিত হবার সাথে সাথে প্লাস্টারটি পুরাতন হয়ে যেতে থাকে। সস্ট্র্যাটাস ও টলেমি দুজনই মারা যাবার পর একসময় প্লাস্টারটি পুরো ভেঙে গেলে সস্ট্র্যাটাসের কৃতিত্ব প্রকাশ পায়।

বাতিঘর সম্পর্কে কিছু কিছু বর্ণনা থেকে জানা যায়, বাতিঘরের শীর্ষে একটি ভাস্কর্য স্থাপিত হয়েছিল। ভাস্কর্যটি সম্ভবত সূর্যদেবতা হিলিওসের রূপে ১ম টলেমি সোটার বা আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেটকে চিত্রিত করেছিলো। যদিও বাতিঘরটি অনেক আগে থেকেই বিখ্যাত ছিল, কিন্তু ৬০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে এটি প্রাচীন আশ্চর্যসমূহের তালিকায় ঠাঁই পায়নি (পূর্ববর্তী তালিকায় বাতিঘরটির পরিবর্তে ব্যাবিলনের দেয়ালের কথা উল্লেখ করা ছিলো)। মধ্যযুগে সুলতান আহমেদ ইবন তৌলুন বাতিঘরটিকে একটি ছোট মসজিদ হিসেবে পরিণত করেন। দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বাতিঘরটি সগর্বে তার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিলো। ১৪৭৭ শতাব্দীতে মামলুক সূলতান কা'ইত বে এর ধ্বংসাবশেষ থেকে একটি দুর্গ তৈরি করেন।
বাতিঘরের ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি করা কা'ইত বে দূর্গ; Source: britannica.com

বাতিঘরটি উচ্চতায় ৩৫০ ফুটেরও (১১০ মিটার) বেশি ছিলো বলে এর বর্ণনাসমূহ থেকে জানা যায়। সে সময় মানুষ দ্বারা নির্মিত এর চেয়ে বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট একমাত্র স্থাপনা ছিলো গিজার পিরামিড। উপকূলের ধারের এক চূনাপাথরের খনি থেকে প্রাপ্ত চুনাপাথর দ্বারা বাতিঘরটি তৈরি হয়েছিলো। বাতিঘরটির গঠনপ্রণালি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানা যায় হারম্যান থিয়েরশের ১৯০৯ সালের একটি গবেষণা (Pharos, antike, Islam und Occident) থেকে। থিয়েরশের আলোচিত প্রাচীন তথ্যসূত্রসমূহ থেকে জানা যায় যে, বাতিঘরটিকে মোট তিনটি ধাপে বানানো হয়েছিলো, যার সবগুলোই কিছুটা ঢালু হয়ে বাতিঘরের অভ্যন্তরের দিকে চলে যায়। এর সবচেয়ে নিচু পর্যায় ছিলো বর্গের মতো, দ্বিতীয় পর্যায়কে তৈরি করা হয়েছিলো অষ্টকোণাকৃতির করে, এবং বাতিঘরটির তৃতীয় পর্যায় তৈরি হয়েছিলো নলাকৃতিতে। বাতিঘরটির চূড়ায় পৌঁছানোর জন্য একটি চওড়া সর্পিল রাস্তা বানিয়ে দেয়া হয়েছিলো।

এর চূড়ায় সারারাত ধরে আগুনের বাতি জ্বালিয়ে রাখা হতো। খুবই জোরালোভাবে এ আগুন দিন-রাত সবসময় সতর্কতা ও রক্ষণাবেক্ষণের সাথে জ্বালিয়ে রাখা হতো। এই আগুন জ্বালিয়ে রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে কাঠ সবসময় বাতিঘরের প্রথমতলায় মজুদ করা থাকতো। দিনের বেলায় আগুন থেকে বের হওয়া ধোঁয়া ও রাতের বেলায় আগুনের উজ্জ্বলতার মাধ্যমে নাবিকেরা বুঝতে পারতো বাতিঘরটা কোনদিকে অবস্থিত। আলেক্সান্দ্রিয়ার বাতিঘরের চারপাশে প্রায় ৫০ কিলোমিটার অঞ্চল পর্যন্ত দৃশ্যমান ছিল।

বাতিঘরটি ঐতিহাসিক নথি থেকে মুছে যায় আনুমানিক চতুর্দশ শতকের পরের দিকে, সম্ভবত ১৩৩০ সালের এক ভূমিকম্পে পানিতে ধ্বসে পড়ার পর। উল্লেখ্য, এর আগেও বাতিঘরটির আশেপাশে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যেগুলো বাতিঘরটিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরবর্তীতে গবেষণার সময় নৌ প্রত্নতাত্ত্বিকরা বাতিঘর অঞ্চলে চল্লিশটিরও বেশি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেন।
ফারোস দ্বীপ; Source: beautynamazingworld.blogspot.com

১৯৯৪ সালে আলেক্সান্দ্রিয়ান অধ্যয়ন কেন্দ্রের (Centre d’Etudes Alexandrines) প্রতিষ্ঠাতা প্রত্নতত্ত্ববিদ জন-ইভস এমপেরার ফারোস দ্বীপের তলায় কিছু চমকপ্রদ জিনিস খুঁজে পান। ওই অঞ্চলে একটি বাঁধ তৈরি করার আগে মিশরীয় সরকার সমুদ্রগর্ভে যদি প্রত্নতাত্ত্বিক তাৎপর্যপূর্ণ কিছু থেকে থাকে, তবে তা শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে তাকে নিমন্ত্রণ করেছিল। তিনি কয়েকশ' রাজমিস্ত্রির তৈরি গাঁথুনি খুঁজে পেয়েছিলেন। ধারণা করা হয়, ত্রয়োদশ শতকে যখন বাতিঘরটি ধ্বংস হয়ে যায়, তখন এই গাঁথুনিগুলো সমুদ্রের পানিতে ডুবে গিয়েছিল।

এছাড়াও একটি ভাস্কর্য খুঁজে পাওয়া যায়, ২য় যাকে টলেমির চিত্রিত ভাস্কর্য বলে ধারণা করা হয়। ১৯৬০ সালে ওই এলাকা থেকে আইসিসের রূপকে চিত্রিত করা এক রানীর ভাস্কর্য আবিষ্কৃত হয়। এই আবিষ্কারগুলোকে কেন্দ্র করে এবং এদের গুরুত্ব সম্পর্কে বোঝার পর মিশরের সরকার ওই অঞ্চলে বাঁধ তৈরির চিন্তা ত্যাগ করে। সে জায়গায় তারা এক আন্ডারওয়াটার পার্ক তৈরির পরিকল্পনা করে, যেখান থেকে ডুবুরিরা এই প্রত্নতাত্ত্বিক ভাস্কর্যসমূহ, যেমন- স্টোন স্ফিংস (stone sphinxes) এবং বাতিঘরের অবশিষ্টাংশ দেখতে পারবে।