Hot!

Other News

More news for your entertainment

অ্যালার্জি সমস্যায় ভুগছেন? সমাধানের সহজ উপায়


অ্যালার্জির সমস্যা কম বেশি আমাদের প্রায় অনেকেরই রয়েছে। অ্যালার্জির সমস্যা অনেক কিছু থেকেই হতে পারে। যেমন- ধুলাবালি থেকে হতে পারে ডাস্ট অ্যালার্জি, ঠাণ্ডার সমস্যা থেকে হতে পারে কোল্ড অ্যালার্জি, অ্যালার্জি জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে হতে পারে ফুড অ্যালার্জি। সব ধরনের অ্যালার্জির মধ্যে ফুড অ্যালার্জিটা সবচেয়ে বেশি মানুষের মাঝে দেখা যায়।
মূলত গরুর মাংস, ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ, বেগুন, ডিম ইত্যাদি খাবারে অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাবটা বেশি থাকে। তাই জেনে নিন কোন খাবারগুলো আপনার অ্যালার্জির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। যেমন-
লেবু : লেবু হলো অন্যতম সাইট্রাস জাতীয় ফল যা অ্যালার্জির ক্ষেত্রে দারুণ কাজ করে থাকে। পানি এবং মধুর সঙ্গে লেবুর রস মেশালে শরীরের জন্য দারুণ এক ডিটক্সিফাইং পানীয় তৈরি হয়ে যায়। নিয়মিত এই পানীয় পান করলে শরীরের টক্সিক পদার্থগুলো বের হয়ে যেতে সাহায্য করবে এবং অ্যালার্জির সমস্যা কমে আসবে।
কলা : কলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে কম বেশি আমরা সকলেই জানি। তবে খুব দারুণ একটা ব্যাপার হচ্ছে, অ্যালার্জি জাতীয় কোনো খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে তার প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে কলা খুবই উপকারী একটি খাদ্য। শরীরে লাল রঙের ছোট র‍্যাশ দেখা দিলে অথবা পেটের সমস্যা দেখা দিলে কলা খুবই উপকারী একটি খাদ্য।
শসা ও গাজরের রস : কোনো খাবার খাওয়ার পরে হুট করেই শরীরে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিলে শসা এবং গাজরের রস একসঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে ফেললে খুব দ্রুত কাজে দেবে। শসা এবং গাজর দুইটি সবজিতেই এন্টি অ্যালার্জিক উপাদান শরীরে অ্যালার্জির সমস্যাকে কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
আদা ও আদা চা : আদা গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল এবং অ্যালার্জির সমস্যার ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজে দেয়। প্রদাহজনক বিরোধী এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট মূলক উপাদান আদাতে থাকায় বমি ভাব, মাথা ঘোরানো, হজমের সমস্যার এমনকি ডায়েরিয়ার ক্ষেত্রেও খুব কাজে দেয় আদা।
গ্রিন টি : গ্রিন টি শুধুমাত্র ওজন কমাতেই নয় অ্যালার্জির সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে থাকে। গ্রিনটিতে থাকা এন্টি-অক্সিডেন্ট, এন্টি-হিস্টাসিন এবং প্রদাহ বিরোধী উপাদানের জন্য অ্যালার্জিক খাবার খাওয়ার ফলে যে সকল সমস্যা দেখা দেয় তা বাঁধা দিয়ে থাকে।

নিরামিষেই উচ্চ প্রোটিন

খাবারের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে প্রোটিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুস্বাস্থ্য গঠনে প্রোটিন বেশ কাজে দেয়। শুধু নিরামিষ খেয়েও প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এমন নিরামিষ খাবারের তালিকা নিয়েই আজকের টিপস।
মটরশুটি
মটরশুটিতে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিনসহ পুষ্টিসমৃদ্ধ নানা উপাদান। এতে ফ্যাট ও ক্যালরি কম থাকায় এটি দেহের সঠিক ওজন বজায় রাখতেও সহায়তা করে।
ডাল
বিভিন্ন ধরনের ডালে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। তবে এক ধরনের ডালে শরীরের সব ধরনের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয় না। সে ক্ষেত্রে কয়েক ধরনের ডাল একসঙ্গে করে রান্না করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
শিমের বীজ
শিম কিংবা শিমের বীজে যথেষ্ট পরিমাণে প্রোটিন আছে। বিশেষ করে লাল শিমের পুষ্ট বীজ বেশি পুষ্টিকর। এতে প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট ও আঁশ আছে।
ডাবলি বুট
ডাবলি বুটে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। এটি দিয়ে নানা মজাদার তরকারি বানানো যায়। গমের লাল আটার রুটি দিয়ে এটি খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
বেসনের রুটি
বেসন যেমন মজাদার তেমন প্রোটিনেরও ভালো উৎস। এটি ক্ষতিকর গ্লুটেনমুক্ত। বেসন খাওয়ার ভালো উপায় হতে পারে বেসনের রুটি, পরোটা কিংবা পিঠা।

'হ্যাকিং অসম্ভব' ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করছে চীন

হ্যাকারদের যন্ত্রণায় আর ভয়ে প্রযুক্তির দুনিয়া কখনো স্বস্তিতে থাকে না। নিরপত্তাহীনতার শঙ্কায় ভুগতে হয় সব সময়। যতই শক্তপোক্ত নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে দেওয়া হোক না কেন, হ্যাকাররা ফাঁকফোকর ঠিকই বের করে নেয়। তাদের যন্ত্রণায় বিভিন্ন দেশের সরকারের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও নাকানি-চুবানি খায় মাঝে মাঝেই। কিন্তু এ অবস্থা আর নয় বলে বদ্ধপরিকর চীন। তারা এমন ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে যা কিনা হ্যাকিং সম্ভব নয়। এটাকে 'আনহ্যাকেবল' ইন্টারনেট বলা হচ্ছে। 
এই প্রযুক্তি কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি হতে চলেছে। গতানুগতিক এনক্রিপশন পদ্ধতি থেকে পুরাই আলাদা এক পন্থা এটি। জিয়ান শহরে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যবস্থাকে মাইলস্টোন বলে অভিহিত করেছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া। 
এর পেছনে আরেকটি বড় গল্প সৃষ্টি করতে চলেছে চীন। তারা এমন এক প্রযুক্তি প্রথমবারের মতো ব্যবহার করতে চলেছে, যেখানে বিনিয়োগ করতে দীর্ঘদিন ধরেই সিদ্ধন্তহীনতায় ভুগছে পশ্চিমা বিশ্ব। এ ক্ষেত্রে চীন নেতৃত্বের হাল ধরবে। 
আপাতত জিনান নেটওয়ার্কের মধ্যে সেনাবাহিনী, সরকার, অর্থনীতি ও ইলেকট্রিসিটি অংশের ২০০ জন বাছাইকৃত মানুষ এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদে মেসেজ পাঠাতে পারবেন। একমাত্র তারাই এটি পড়তে পারবেন। 
কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন খাতে চীন বড় ধরনের পদক্ষেপ যে নিতে চলেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা ক্রমশ নিরাপত্তাহীন হতে থাকে ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত ব্যবস্থা গোটা বিশ্বে বিক্রি শুরু করবে চীন। এটাই হবে ভবিষ্যত চীনের বিশাল অর্থনৈতিক উৎস। কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন পদ্ধতিতে অনলাইন নিরাপত্তায় ঢেকে যাবে।   
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের প্রফেসর মাইয়ুংশিক কিম জানান, আসলে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা অনুভব করেনি। হতে পারে প্রযুক্তি বাণিজ্যিক পণ্য নির্মাতারা এর প্রয়োজন দেখায়নি মানুষকে। তাছাড়া বর্তমান কোডিং সিস্টেমও কিন্তু শক্তিশালী। তাই নতুন প্রযুক্তি আনার কথা মনে করা হয়নি কখনো। যে প্রযুক্তি নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করছে চীন, তা যে একেবারে নতুন চিন্তা তা নয়। তবে চীন প্রথমবারের মতো একে আয়ত্ত করছে। কাজেই ভবিষ্যতে এ বিষয়ে যাবতীয় সুবিধা চীনই পাবে। 
অস্ট্রেলিয়ার ভিয়েনা ইউনিভার্সিটির কোয়ান্টাম ফিজিসিস্ট প্রফেসর অ্যান্টন জেলিংগার বলেন, এ ক্ষেত্রে ইউরোপ স্রেফ নৌকাটা মিস করেছে। সেই ২০০৪ সাল থেকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কোয়ান্টাম-ভিত্তিক প্রযুক্তি সম্পর্কে অবহিত। কিন্তু এর পেছনে খুব অল্প সময় ব্যয় করেছে তারা। 
ইউরোপ এবং আমেরিকাতে কোয়ান্টাম-ভিত্তিক বেশ কিছু প্রজেক্ট চলছে। তবে সেগুলো কেবলই গবেষণার পর্যায়েই রয়েছে। 
বাণিজ্যিক দিক থেকে  একটা সমস্যা অবশ্য উঠে এসেছে। জিনান নেটওয়ার্কের মতো বড় মাপের ও দামি খাতে অ্যাপ্লিকেশনের কোনো বাজার এখনো নেই। তাই দরকার সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু চীন বিনিয়োগ করতে চলেছে। কাজেই বাজারটি তাদের দখলেই থাকবে। অন্যরা হবে সেই বাজারে ক্রেতা। আর এর জন্য চাইনিজ মিলিটারির অর্থনৈতিক ও লোকবল রয়েছে যথেষ্ট। গত বছরই তারা কোয়ান্টাম কমিউনিকেশনে ভরপুর যন্ত্রপাতি দিয়ে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে মহাশূন্যে। এই যোগাযোগ ক্যাবলের মাধ্যমে আনা সম্ভব নয়। সংযোগ ঘটনো হচ্ছে দেশের বেইজিং এবং শাংহাইয়ের মতো দুটো মূল হাবে। 
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন এই প্রযুক্তির বাজার তৈরি হচ্ছে। একবার চীন এই প্রযুক্তি যখন বিক্রি শুরু করবে, তখন বিশ্বব্যাপী তাদের ক্রেতা তৈরি হবে। সেই সঙ্গে তাদের ইন্টারনেটব্যবস্থা হবে হ্যাকিং সম্ভব হবে না। 

শীতকালীন উৎসবকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করা ভয়ঙ্কর কিছু দানবের গল্প


মধ্যযুগে সেন্ট নিকোলাস নামে এক সাধু গোপনে উপহার দেবার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তার স্মরণে প্রতি বছর ৬ ডিসেম্বর হল্যাণ্ডে সেন্ট নিকোলাস ডে পালিত হতো। তাছাড়া শীতের আগেই শস্য ঘরে তুলে উৎসবের প্রচলন ইউরোপে ছিল হাজার বছর ধরেই। ডিসেম্বর ব্যাপী এই উৎসবের সময় নরওয়ে, জার্মানি, ডেনমার্ক এবং সুইডেনের মানুষজন তাদের প্যাগান দেবতার উদ্দেশ্যে পশু বলি দিত। এদিকে রোমানেরা তাদের সূর্যদেবতার পূজা করত। অবশেষে ষোড়শ শতাব্দীর দিকে ক্যাথলিক চার্চ এই উপাসকদের ধর্মান্তরিত করতে সক্ষম হলো। তবে যে উৎসব তাদের রক্তে মিশে আছে, তা থেকে বের করে আনা সম্ভব হচ্ছিলো না। তাই ইতিহাসের কিছু অদলবদল করে ২৫শে ডিসেম্বর খ্রিস্টানদের প্রধান উৎসব ঘোষণা করা হলো। আর সেন্ট নিকোলাসের আদলে জন্ম নিলো 'সান্তা ক্লজ' চরিত্রটির।

তবে এসবের পাশাপাশি অনেক ভয়জাগানিয়া দৈত্য-দানবের উপকথাও প্রচলিত ছিল যুগে যুগে। ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত বাচ্চাদের ঘুমপাড়ানি গল্পে এমন অনেক রাক্ষস-খোক্কসের খোঁজ পাওয়া যায়, যারা কি না শিকারে বের হয় ক্রিসমাসের এই উৎসবমুখর মৌসুমেই। তেমনিভাবে 'সেন্ট নিকোলাস ডে'র সাথে সম্পর্কিত অনেকগুলো চরিত্রগুলোর দেখাও পাওয়া যায়। চলুন আজ জেনে আসি এরকমই ভয়ঙ্কর কিছু দানবের কথা।

গ্রিলা
আইসল্যান্ডের শিশুদের কাছে বহুল পরিচিত এই দানবী। শিশুখাদক হিসেবে পরিচিত গ্রিলা থাকে দুর্গম পাহাড়ের গুহার ভেতরে। এই আইসল্যান্ডিক ট্রোলের আছে তেরো সন্তান, যাদেরকে বলা হয় ‘ইয়ুল ল্যাডস’। এই ইয়ুল ল্যাডসদের একেকজনের কাজ একেকরকম আর নামগুলোও অদ্ভুত- মিট হুকস, উইন্ডো পিপার ইত্যাদি। কেউ বাচ্চাদের খেলনা চুরি করে, আবার কেউ তাদের জানালা দিয়ে উঁকি মারতে গিয়ে কোনো অবাধ্য শিশুকে দেখতে পেলে এক দৌড়ে গিয়ে খবর দেয় মাকে। রাতের অন্ধকারে কঠিন সাঁড়াশির মতো শীতল হাত বাড়িয়ে সেসব দুষ্ট শিশুদের বস্তাবন্দী করে ধরে নিয়ে যায় গ্রিলা। পরে তাদেরকে হাঁড়িভর্তি গরম পানিতে চুবিয়ে সিদ্ধ করে উদরপূর্তি করে গ্রিলা আর ইয়ুল ল্যাডের দল।
গ্রিলা; Source: centralfloridapost.com

প্রথমবার গ্রিলার কথা বলা হয়েছিল স্নোরি স্টার্লসনের ‘প্রোস এডা’ বইতে। তবে সপ্তদশ শতকের আগপর্যন্ত ক্রিসমাসের মৌসুমের সাথে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। আইসল্যান্ডের শিশুরা গ্রিলার উপকথা এত বেশি ভয় পেত যে সেটা মানসিক নির্যাতনের সমকক্ষ বিবেচনা করে আইসল্যান্ডিক সরকার। অবাধ্য শিশুদের শাসনের জন্য এই উপকথা শোনানোর ব্যাপারে কঠোরভাবে বাবা-মায়েদের নিষেধ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে সেই উপকথা পাল্টিয়ে উৎসবের সাথে মানানসই একটি চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। বিংশ শতাব্দীর উপকথা অনুযায়ী, বড়দিনের সময়ে আসা ইয়ুল ল্যাডেরা কোনো দুষ্ট শিশুর নামে গ্রিলাকে কিছু বলে না, তাদের ঘরের মধ্যে পঁচা আলু ফেলে যায় শুধু। এদিকে নরওয়েতেও এই ধরনের একটি চরিত্র প্রচলিত আছে। হুলেনিসে নামক সেই ট্রোল শিশুদের জুতোর মধ্যে উপহার ভরে রেখে যায়, যদি তাদের আচরণ ঠিকঠাক থাকে সারা বছর।

ইয়োলাক্যাট্টোরিয়ান
ক্রিসমাসের সময়ে অনেকেই হয়তো পোশাক উপহার পেতে পছন্দ করে না। তবে ক্রিসমাসের সময়ে দেখা দেয়া আইসল্যান্ডের আরেক ভয়ানক দানব ইয়োলাক্যাট্টোরিয়ানের কথা জানলে হয়তো কেউই এ ব্যাপারে কোনো আপত্তি করত না। শীতের মাঝামাঝি সময়ে নিমেষেই ফুরিয়ে যাওয়া ছোট্ট দিনের পরে যখন দীর্ঘ রাত নেমে আসে, তখন ইয়োলাক্যাট্টোরিয়ান বা ইয়ুল ক্যাটদের বিচরণ শুরু হয়। অলসতার কারণে নিজেদের ঘরের কাজ শেষ না করার কারণে নতুন পোশাক উপহার পায়নি যেসব শিশু, তাদের সন্ধানে থাকে ইয়ুল ক্যাটেরা। ভালোমতো খাটাখাটনি করে কোনো পোশাক উপহার পেলেই কেবল ইয়ুল ক্যাটের হাত থেকে বাঁচা যায়।
ইয়ুল ক্যাট; Source: Wilderutopia

অলস প্রকৃতির শিশুদের ওপর ইয়ুল ক্যাটের নজর পড়লে মুহূর্তেই তারা পরিণত হয়ে যেতে পারে বিড়ালের খাবারে। বিশালাকৃতির এই কদাকার বিড়ালকে গ্রিলা এবং ইয়ুল ল্যাডদের সহচর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সঙ্গত কারণেই তাই দুষ্টু শিশুদের লোভনীয় মাংস বেশ আকর্ষণ করে এদের। অবশ্য অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, শিশুদের মাঝে উদারতা ছড়িয়ে দেয়াও এই উপকথার আরেকটি প্রধান উদ্দেশ্য। কারণ দুস্থদের মাঝে কাপড়-চোপড় বিতরণ করলেও এই হিংস্র শ্বাপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে যত ভয়ঙ্করই হোক না কেন, এই উপকথার প্রধান উদ্দেশ্য বেশ সফল হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়। কাজের সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক ওভারটাইম খাটার সুনাম আছে গোটা আইসল্যান্ডবাসীর। সাম্প্রতিককালে কাউকেই তাই খাবার হয়ে কোনো বিশাল বিড়ালের পেটে যেতে দেখা যায়নি!

পিয়ের ফুয়িতা
পিয়ের ফুয়িতার উপকথার উৎস জানতে হলে যেতে হবে সেই দ্বাদশ শতাব্দীর ফ্রান্সে। সেই সময়কার একজন সরাইখানা মালিক ছিল পিয়ের ফুয়িতা। কেউ কেউ অবশ্য বলে থাকে যে সে কসাই ছিল। ধর্মের দোহাই দিয়ে তিন শিশুকে চুরি করে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল সে। হত্যার চিহ্ন লুকানোর জন্য ফুয়িতা এবং তার স্ত্রী তাদের কেটে রান্না করে ফেলে। পরবর্তীতে সেন্ট নিকোলাস এই ব্যাপারে জানতে পারেন। তিনি ঐ হতভাগা তিন শিশুকে পুনরুজ্জীবন দান করেন।
 সেন্ট নিকোলাসের সাথে ফাদার হুইপার; Source: frenchentree.com

এই পৈশাচিক কাজের প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখে সেন্ট নিকোলাসের সাথে ভ্রমণ করতে বাধ্য করা হয় শিকলবদ্ধ পিয়েরে ফুয়িতাকে। দীর্ঘ কালো রোব পরিহিত কৃশকায় চেহারার ফুয়িতা দুষ্টু শিশুদের পিঠে চাবুক মেরে শাসন করে। এমনকি অনেককে তুলে নিয়ে গিয়ে তার পিঠের খাঁচায় ভরে ফেলে, পরে রান্না করে ফেলার জন্য। ফরাসি ভাষায় পিয়ের ফুয়িতা শব্দের অর্থই হলো চাবুকমারা ব্যক্তি। যুক্তরাষ্ট্রে ফুয়িতা এবং তার স্ত্রীকে ‘ফাদার ফ্লগ’ এবং ‘মাদার ফ্লগ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তারা চাবুক মেরে কিংবা বাচ্চাদের জিভ কেটে দিয়ে তাদের অবাধ্যতার শাস্তি দেয়। গায়ের রঙ কালো হওয়ায় ডাচেরা একে ব্ল্যাক পিটার নামেও ডেকে থাকে। তবে কথাটি কিছুটা বর্ণবাদঘেঁষা হওয়ায় ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই নামটি বাদ দিয়ে দেয়া হয়। মজার ব্যাপার, এই উপকথার একটি ইরানী সংস্করণও আছে।

ক্র্যাম্পাস

ইংরেজিতে 'Krampus' শব্দের অর্থ থাবা। বড়দিনের সময় আল্পস পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত গ্রামগুলোতে ভয়ানক চেহারার বড় বড় থাবাওয়ালা এক দৈত্যকে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই উৎসবে সান্তা ক্লজের পাশাপাশি এই ক্র্যাম্পাসের সাজেও অনেককে অংশ নিতে দেখা যায়। ভেড়ার চামড়া, শিং আর বার্চ গাছের তৈরি চাবুক দিয়ে তারা কাল্পনিক ক্র্যাম্পাসের পোশাক বানিয়ে নেন। ক্র্যাম্পাসকে অনেকটা সান্তা ক্লজের বিপরীত হিসেবে ধরা হয়। সারা বছর যারা ভালো কাজ করেছে, তাদেরকে উপহার দেয়া যেমন সান্তা ক্লজের কাজ; তেমনি সারা বছর যারা বিভিন্ন অপকর্ম করেছে, তাদেরকে শাস্তি দেয়া হলো ক্র্যাম্পাসের কাজ।

ক্র্যাম্পাস; Source: Ranker.com

ক্র্যাম্পাসের আদি উৎস নৃবিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তবে তাদের ধারণা, আদিমযুগের কোনো শিংওয়ালা দেবতার সাথে খ্রিস্টান মিথোলজির শয়তানকে মিলিয়ে ক্র্যাম্পাসের কিংবদন্তির উদ্ভব। পঞ্চদশ এবং ষোড়শ দশকের সময় থেকে চার্চে বড়দিন পূর্ববর্তী সময়ে বিভিন্ন ধর্মীয় নাটকের আয়োজন করা শুরু হয়। সেখানে মুখোশ পরা শয়তানের একটি চরিত্র থাকত সবসময়ই, তাছাড়াও বিভিন্ন হাস্যকর এবং উদ্ভট চরিত্রের সমাহার দেখা যায়। আধুনিক যুগে ক্র্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পালন করা হয় ক্র্যাম্পাস নাইট।

ফ্রাউ পার্চটা

পূর্ব ইউরোপের শিশুদের কাছে ঘুমপাড়ানি গল্পের একটি চরিত্র হিসেবে বহুল পরিচিত ফ্রাউ পার্চটা। অনেকে একে 'বার্চটা' বলেও ডেকে থাকে। প্রতি বছর ৬ জানুয়ারি খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসব ‘দ্য ফিস্ট অফ দ্য থ্রি কিংস’ এর দিনে আগমন ঘটে তার। এই দিবসকে জার্মানিতে 'বার্চটেনটাগ' নামে ডাকা হয়। সেখান থেকেই এই নামের উৎপত্তি। ঝাড়ুর পিঠে চড়ে আগমন ঘটে এই ডাইনির। বার্চটা কখনো ফিনফিনে পোশাক পরিহিত সুন্দরী তরুণীরূপে আবার কখনো রুক্ষ চেহারার বৃদ্ধারূপে দেখা দেয়। উপকথা অনুযায়ী, তার ডান পা তুলনামূলকভাবে বাঁ পায়ের থেকে আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে, হয়তো বা দীর্ঘসময় সেলাই করার জন্য। তাছাড়া যখন তখন হাঁসের রূপ নেবার ক্ষমতাও আছে তার। 'মাদার গুজ' নামক রূপকথাটির পেছনে ফ্রাউ পার্চটাই মূল প্রভাব রেখেছে।
ফ্রাউ পার্চটা ; Source: Hornet.com

খ্যাতনামা লোককাহিনী সংগ্রাহক জ্যাকব গ্রিম ফ্রাউ পার্চটাকে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কৃষ্টির দেবী ফ্রাউ হলদার সাথে বার্চটার তুলনা করেছেন। সুশীল বাচ্চাদের খুবই পছন্দ করে এই ডাইনি। তবে অবাধ্য শিশুদের জন্য ফ্রাউয়ের পক্ষ থেকে নেমে আসে চরম শাস্তি। ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের পেটের নাড়িভুড়ি খুলে বের করে ফেলে সে। পরে সে জায়গায় পাথর আর আবর্জনা ভরে সেলাই করে দেয়। তাছাড়া সে স্ট্র্যাগলার নামের শিংওয়ালা পিশাচদেরকেও নিয়ন্ত্রণ করে।

বেলসনিকেল

সেন্ট নিকোলাস ডের সাথে সম্পৃক্ত আরেক চরিত্র হলো বেলসনিকেল। একে পার্সনিকেল, বেল্টজনিকেল, ক্রিসক্রিঙ্কেলও বলা হয়। বেলসনিকেলের কাহিনীর উৎপত্তি জার্মানির রাইনল্যান্ড অঞ্চলে। তবে জার্মান ঔপনিবেশিকদের কল্যাণে উপকথাটি চলে যায় সুদূর উত্তর আমেরিকা অব্দি। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া, নিউ ইয়র্ক, ম্যারিল্যান্ডে একটি জনপ্রিয় উৎসবও অনুষ্ঠিত হয় একে ঘিরে। এই ভয়ানক চরিত্রটি সান্তা ক্লজের আরেকটি কাউন্টারপার্ট।
বেলসনিকেল; Source: centralfloridapost.com

পশুর চামড়া আর পশমের তৈরি জীর্ণ পোশাক পরে সে হাজির হয় সবার মনে ভীতি সঞ্চার করতে। ঠিক পিয়ের ফুয়িতার মতো বেলসনিকেলও অবাধ্য শিশুদের শাসন করার জন্য সাথে করে চাবুক নিয়ে ঘোরে। তবে তফাৎ হলো, সুবোধ শিশুদের সাথে সে ভালো আচরণ করে। মাঝে মধ্যে পকেট থেকে মিষ্টি বের করে খেতেও দেয়। কোনো শিশু যদি নিজের অপরাধ স্বীকার করে, তবে তাকে আস্তে করে একটু থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দেয় বেলসনিকেল। আর কেউ যদি অপরাধের ব্যাপারে মিথ্যা বলে, তবে তাকে ঘর থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে চাবুক মারা শুরু করে। এমনকি অনেকসময় নিজের বিশাল ঝোলায় ভরে নিয়ে চলেও যায়!

নেকট রুপরেখট

নেকট রুপরেখট নামক দানবটির ভূমিকাও অনেকটা বেলসনিকেলের মতোই। এরও আগমন ঘটে সেন্ট নিকোলাস ডের সময়। একে অনেকে 'রুপার্ট দ্য সারভেন্ট' বলেও ডাকে। কেউ কেউ বলে থাকে, সে দ্বাদশ শতাব্দীর এক কৃষক ছিল। আবার কেউ কেউ বলে, সে বন্য এক শিশু ছিল, যাকে সেন্ট নিকোলাস পেলে-পুষে বড় করেছেন। জার্মান মিথোলজির খুবই প্রচলিত একটি চরিত্র এই দানব, অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন অংশেও এর পরিচিতি আছে। এর কাজ হলো, বাচ্চারা ঠিকমতো স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করছে কি না, সে ব্যাপারে তদারকি করা। বাচ্চারা প্রার্থনা করলে তাদেরকে আপেল, বাদাম আর জিঞ্জারব্রেড উপহার দেয় নেকট রুপরেখট। আর না করলে তাদেরকে লাঠি কিংবা ছাইভর্তি বোঝা দিয়ে আঘাত করে।
নেকট রুপরেখট; Source: thoughtco.com

উপকথা অনুযায়ী, এর চেহারা অনেকটা ক্র্যাম্পাসের মতো। শিশুদেরকে দরজায় ডেকে নিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রশ্নের উত্তর শুনে উপহার দেয় সে। আবার কোনো কোনো জায়গায় বলা আছে, সে বাচ্চাদের সাথে দেখা না করেই ঘুমন্ত বাচ্চাদের জুতোয় উপহার ভরে দিয়ে যায়। আর ঘুমন্ত বাচ্চাদের ছুঁড়ে ফেলে দেয় নদীর ঠাণ্ডা পানিতে। ব্ল্যাক পিটার তথা পিয়ের ফুয়িতার সাথে বিভিন্ন দিক দিয়ে এর মিল আছে। জ্যাকব গ্রিমের ধারণা, ঠিক ব্ল্যাক পিটারের মতোই খ্রিস্টপূর্ব প্যাগান বিশ্বাস থেকে উৎপত্তি হয়েছে রুপরেখটের উপকথার। 'এলফ' এর সাথে সাথে এসব উপকথার মাধ্যমে সমাজকে সুশৃঙ্খল রাখাই ছিল এসব উপকথার উদ্দেশ্য।

হ্যান্স ট্র্যাপ

ফ্রান্সের অ্যালসাস এবং লরেন্স প্রদেশে বাচ্চাদের হ্যান্স ট্র্যাপের কথা বলে ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়ানো হয়। এই উপকথার উৎপত্তি পঞ্চদশ শতাব্দীতে। হ্যান্স ট্র্যাপ ছিল মহাধনী নিষ্ঠুর এক ব্যক্তি। তার লোভ ছিল অনেক, সেজন্যই সে একসময় শয়তানের পূজা করা শুরু করে। ক্যাথলিক চার্চ প্রশাসন এই ব্যাপারে জানতে পেরে তাকে একঘরে করে ফেলে। এলাকার যেসব লোকজন একসময় তাকে মান্যগণ্য করত, তারা চরম ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করে তাকে। অবশেষে তার সকল সহায়-সম্পত্তি কেড়ে নেয়া হয়। কর্পদকহীন অবস্থায় হ্যান্স ট্র্যাপ পালিয়ে যায় বনে। 
হ্যান্স ট্র্যাপ; Source: Ranker.com

পাহাড়ের চূড়ায় একা থাকতে থাকতে একসময় সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। মানুষের মাংস খাওয়ার ইচ্ছা জেগে ওঠে তার মাথায়। একদিন দশ বছরের একটি ছেলে তার আস্তানার কাছাকাছি চলে যায়। বাচ্চাটিকে আচমকা ধরে কেটে আগুনে ঝলসিয়ে ফেলে হ্যান্স। তবে সেটা মুখে দেবার আগেই আকাশ থেকে বিশাল এক বজ্রপাত হয় হ্যান্সের উপর। তারপর থেকে বাচ্চাদের ভয় দেখানো এক চরিত্রে পরিণত হয় হ্যান্স। বাচ্চাদেরকে ভয় দেখানো জন্য বলা হয়, দুষ্টুমি করলেই হ্যান্সের অতৃপ্ত আত্মা এসে ধরে নিয়ে যাবে। "হ্যান্স ট্র্যাপ আসছে", একথা শুনলেই তাদের কাঁপুনি উঠে যায় সেজন্য। প্রতি বছর ক্রিসমাসের সময় হ্যান্সের অতৃপ্ত আত্মা দাঁড়কাকের বেশ ধরে শিকারের লোভে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ায়।

ক্র্যাম্পাসের বিষয়ে আরো কিছু জানতে রোর বাংলার এই লেখাটি আপনাকে সাহায্য করবে,


ক্র্যাম্পাস: দুষ্টু শিশুদের শাস্তিদাতা সান্তা ক্লজ


বিশ্বসেরা ২০টি স্মার্টফোনের বিস্তারিত জেনে নিন


স্মার্টফোনের জগতটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। এখানে আজকে যে স্মার্টফোনটিকে সেনা বলে মনে হবে, তা পরদিনই সে অবস্থানে নাও থাকতে পারে। তাই আগে যে স্মার্টফোনগুলোকে সেরা হিসেবে গণ্য করা হত, তা এবার নাও হতে পারে। এ লেখায় তুলে ধরা হলো সেরা কয়েকটি স্মার্টফোন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
১. আইফোন ৬এস
দারুণ নকশা, সহজ ব্যবহার ও টেকসই উপাদানের সমন্বয়ের কারণে জনপ্রিয় হয়েছে আইফোন ৬ এস। নতুন আইফোন সম্পর্কে অ্যাপলের টিম কুক বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত স্মার্টফোন।’ এই স্মার্টফোনে রয়েছে অ্যাপলের আইওএস ৯ অপারেটিং সিস্টেমে। ফোরকে মানের ভিডিও ধারণ করার জন্য এই ফোনের পেছনে উন্নত আই-সাইট ক্যামেরা যুক্ত করেছে অ্যাপল। ফোরকে ডিসপ্লেতে রেজুলেশন থাকে ৩৮৪০ বাই ২১৬০ যাতে পিক্সেল ঘনত্ব হয় ইঞ্চি প্রতি ৮০৬। গত বছরে বাজারে আসা আইফোন ৬ এ আট মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকলেও নতুন আইফোনের পেছনে ১২ মেগাপিক্সেল ও সামনে পাঁচ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা যুক্ত হয়েছে। লাইভ ফটোজ নামের নতুন একটি ফিচারও যুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আইওএস ৯ এ ফিচার হিসেবে রয়েছে ডিজিটাল সহকারী সিরির উন্নত সংস্করণ। এমনকি এটি ব্যাটারির চার্জ বাড়তি এক ঘণ্টা পর্যন্ত বাঁচাতে পারে। ১৬ জিবি, ৬৪ জিবি ও ১২৮ জিবি এই তিনটি সংস্করণে বাজারে এসেছে নতুন আইফোন। বাজারে এর মূল্য কমপক্ষে ৬৪৯ ডলার।
২. আইফোন ৬এক্স প্লাস
আপনি যদি বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ও বড় স্মার্টফোন চান তাহলে এটি ব্যবহার করতে পারেন। স্যামসাংয়ের গালাক্সি নোট এর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও আইফোনের ডিজাইন, হার্ডওয়্যার ও অন্যান্য অ্যাপের কারণে এ ফোনটিকেই সেরা মানছেন অনেকে। এ বছরের আইফোন ৬এস প্লাস আগের তুলনায় গতিশীল। এতে রয়েছে ভালো ক্যামেরা ও উন্নত ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার। পাশাপাশি এতে রয়েছে অ্যাপলের সর্বশেষ প্রযুক্তির প্রেসার-সেনসিং টলজি। মূল্য কমপক্ষে ৭৪৯ ডলার।
৩. আইফোন এসই
চার ইঞ্চি স্ক্রিনের আইফোন এসই এখন অনেকেরই সেরা স্মার্টফোনের তালিকায় স্থান নিয়েছে। এ স্মার্টফোনটিতে রয়েছে অ্যাপলের যাবতীয় অ্যাপ, ইকোসিস্টেম, সাপোর্ট ও সেরা স্মার্টফোনের পারফরমেন্স। এর মূল্য কম হওয়ায় অনেকেই একে দামের তুলনায় সেরা ফোন বলে মনে করছেন। এর ব্যাটারি লাইফ যেমন ভালো তেমন অন্যান্য ফিচারও মন্দ নয়। মূল্য কমপক্ষে ৩৯৯ ডলার।
৪. নেক্সাস ৬পি
গুগল নেক্সাস ৬পি হলো নেক্সাস ৫এক্স-এর সামান্য বড় ভার্সন। গুগলের পক্ষ থেকে এটি তৈরি করেছে হুয়াউয়েই। এটি নেক্সাস ৫এক্স-এর মতোই গুগলের নানা সুযোগ সুবিধা পাবে। যে কারণে স্মার্টফোনটিতে সবার আগে আপডেটেড অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যারের নিখুঁত পারফর্মেন্স পাওয়া যাবে। মূল্য কমপক্ষে ৪৯৯ ডলার।
৫. গুগল নেক্সাস ৫এক্স
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মধ্যে মানসম্মত ও কিছুটা কমদামের ভার্সন খুঁজলে গুগল নেক্সাস ৫এক্স এর তুলনা নেই। এ স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৫.২ ইঞ্চি স্ক্রিন ও ১২.৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। গুগল দাবি করছে বিশেষ প্রযুক্তির কারণে এ স্মার্টফোনের ছবি অন্যদের থেকে অনেক উন্নত। এতে রয়েছে সম্পূর্ণ অক্ষত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম, যা এর পারফর্মেন্স উন্নত করবে। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েডের যে কোনো আপডেট সবার আগে এ স্মার্টফোন পাবে। মূল্য প্রায় ৩৪৯ ডলার।
৬. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এজ
স্যামসাংয়ের সবচেয়ে উন্নত স্মার্টফোন হিসেবে গ্যালাক্সি এস৭ এজকে পরিচিত করিয়েছে গুগল। এটি আগের ভার্সনের তুলনায় বহুদিক দিয়েই উন্নত। স্যামসাং জানিয়েছে সম্পূর্ণ নতুনভাবে স্মার্টফোনটির ডিজাইন করা হয়েছে। এতে রয়েছে ৫.৫ ইঞ্চি স্ক্রিন। মূল্য কমপক্ষে
৬৬৯ ডলার।
৭. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭
স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি স্মার্টফোনের এ মডেলটিতে রয়েছে সবচেয়ে উন্নত ক্যামেরা। এ স্মার্টফোনের ক্যামেরা এমনকি আইফোন ৬এস প্লাসের চেয়েও উন্নত। এছাড়া এটি অত্যন্ত শক্তিশালী কিছু ফিচার রয়েছে। স্মার্টফোনটি পানিরোধক। এতে রয়েছে মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট। এছাড়া আপনি স্যামসাং পে  ব্যবহার করতে পারবেন এর মাধ্যমে। মূল্য কমপক্ষে ৫৬৮ ডলার।
৮. ওয়ানপ্লাস ৩
কমদামে বড় মনিটরের স্মার্টফোন চাইলে ওয়ানপ্লাস ৩ সবচেয়ে ভালো। নতুন মডেলটিতে রয়েছে মেটাল বডি, প্রায় অক্ষত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম, স্ন্যাপড্রাগন ৮২০ প্রসেসর ও ৬ জিবি র‌্যাম। এতে রয়েছে ৬৪ জিবি স্টোরেজ। মূল্য কমপক্ষে ৪০০ ডলার।
৯. এইচটিসি ১০
এইচটিসি ১০ অত্যন্ত সুন্দর মডেলের দারুণ একটি স্মার্টফোন। এর অপারেটিং সিস্টেমটিও প্রায় অক্ষত অবস্থায় এ স্মার্টফোনে দেওয়া হয়েছে। এ স্মার্টফোনটি আনলক অবস্থায় কেনা যায়। মূল্য কমপক্ষে ৭০০ ডলার।
১০. এলজি জি৫
এলজির সর্বাধুনিক পণ্য জি৫ বাজারে এসেছে। এর বডি সম্পূর্ণ ধাতব। অনেকেই একে স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে সেরা বলছেন। দারুণ ছবি তোলা যায় এতে। এছাড়া এ ফোনটির বটমটি রিমোভেবল হওয়ায় সহজেই ব্যাটারি পরিবর্তন করা যায়। মূল্য কমপক্ষে ৬৫০ ডলার।
১১. স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫
স্মার্টফোনে বিনোদনের পাশাপাশি জরুরি কাজ করতে চাইলে সেরা ফোন স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫। বড় স্ক্রিনের এ স্মার্টফোনটিতে রয়েছে অসাধারণ সূক্ষ্ম ডিসপ্লে ও দারুণ ক্যামেরা। এছাড়া এতে রয়েছে স্টাইলাস সংযোজনের অপশন। এ বছরের গ্যালাক্সি নোটের সংস্করণটি আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় উন্নত। যেমন এতে গ্যালাক্সি এস৬-এর সঙ্গে মিল রেখে নানা সুবিধা সংযোজিত হয়েছে। এমনকি ডিসপ্লে বন্ধ রেখেও আপনি তার ওপর লিখতে পারবেন। স্মার্টফোনটির মূল্য কমপক্ষে ৫২০ ডলার।
১২. মটো এক্স পিওর
অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের মানসম্মত ভালো ফোনের একটি হলো মটোরোলা মটো এক্স পিউর। এ স্মার্টফোনটিতে রয়েছে সুপার শার্প কিউএইচডি স্ক্রিন ও ২১ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। পাশাপাশি স্মার্টফোনটিতে রয়েছে অ্যান্ড্রয়েডের সম্পূর্ণ অক্ষত ভার্সন। এতে কোনো বাড়তি অ্যাপ নেই, যা এর পারফর্মেন্সকে বাড়াতে সহায়ক। মূল্য কমপক্ষে ২৯৯.৯৯ ডলার।
১৩. আইফোন সিক্স
কিছুটা পুরনো মডেলের আইফোন সিক্স এখনও বাজারের অন্যতম সেরা ফোন। অ্যাপলের ফ্যানরা এখনো অনেকে নতুন মডেলের ফোন বাদ দিয়ে এ ফোন কিনছেন দামের কারণে। মূল্য কমপক্ষে ৫৪৯ ডলার।
১৪. আইফোন সিক্স প্লাস
আইফোন সিক্স প্লাস এখনও অনেকের বিচারে বাজারে দামের তুলনায় সেরা ফোন। অ্যাপলের বড় পর্দার ফোন হলেও অন্য মডেলের তুলনায় ১০০ ডলার কম মূল্য এ মডেলটির। আর এটি অনেককে আকর্ষণ করছে। মূল্য কমপক্ষে ৬৪৯ ডলার।
১৫. মটো জি৩
মটোরোলার নতুন মডেলের মটো জি একটি অসাধারণ ও কমদামের স্মার্টফোন। কমদামের এ স্মার্টফোনটিতে রয়েছে মানসম্মত ক্যামেরা, পানিরোধী বডি ও বড় পর্দা। এটি অন্য স্মার্টফোনের মতো শক্তিশালী না হলেও দামের দিক দিয়ে অসাধারণ। মূল্য কমপক্ষে ১৬০ ডলার।
১৬. এইচটিসি ওয়ান এ৯
অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো কয়েকটি স্মার্টফোনের কথা বলতে গেলে এ ফোনটির কথা আসবেই। এইচটিসির পুরনো ভার্সনের তুলনায় এটি সামান্য উন্নত। এতে রয়েছে পুরনো আকর্ষণীয় অ্যালুমিনিয়াম ডিজাইন, উন্নত ক্যামেরা ও দ্রুতগতির প্রসেসর। আপনি যদি এইচটিসির অন্য স্মার্টফোন পছন্দ করেন তাহলে সম্ভবত এটিও পছন্দ করবেন। আইফোনের ডিজাইন যাদের পছন্দ কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করতে চান তাদের জন্যও এইচটিসি এ৯ একটি আদর্শ ফোন। মূল্য কমপক্ষে ৪০০ ডলার।
১৭. ব্ল্যাকবেরি প্রিভ
ব্ল্যাকবেরির পুরনো ব্যবহারকারীদের মধ্যে যারা অ্যান্ড্রয়েড ফ্যান তাদের জন্য এ স্মার্টফোনটিই সেরা। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম চালিত ব্ল্যাকবেরির প্রথম ফোন এটি। এ ফোনটিতে রয়েছে স্লাইড আউট কিবোর্ড। আপনি যদি ব্ল্যাকবেরির কিবোর্ড ছাড়াও গুগলের অ্যাপ ব্যবহার করতে চান তাহলে এটি হতে পারে দারুণ একটি স্মার্টফোন। মূল্য কমপক্ষে ৪১৩ ডলার।
১৮. মাইক্রোসফট লুমিয়া ৯৫০
উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে লুমিয়া ৯৫০ নামের একটি উইন্ডোজ ফোন উন্মুক্ত করেছে মাইক্রোসফট। ৫ দশমিক ২ ইঞ্চি মাপের এই ফোনটির ওজন ১৫০ গ্রাম। ৩ জিবি র‍্যামের ফোনটির স্টোরেজ ৩২ জিবি। কোয়ালকমের প্রসেসরযুক্ত ফোনটির পেছনে ২০ ও সামনে ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা রয়েছে। মূল্য কমপক্ষে ৪৪৫ ডলার।
১৯. ব্ল্যাকবেরি ক্ল্যাসিক
স্বতন্ত্র অপারেটিং সিস্টেম ও নিরাপদ বার্তার কারণে ব্ল্যাকবেরিকে অনেকেই পছন্দ করেন। আপনি যদি ব্ল্যাকবেরির ফ্যান হন তাহলে ব্ল্যাকবেরি ক্ল্যাসিক হতে পারে আপনার প্রিয় স্মার্টফোন। এটি ব্যবহারে পুরনো ব্ল্যাকবেরির স্বাদ যেমন পাওয়া যাবে তেমন পরিষ্কার টাচস্ক্রিন ও দারুণ ফিজিক্যাল কিবোর্ডও পাওয়া যাবে। মূল্য কমপক্ষে ৩২৯ ডলার।
২০. ব্ল্যাকবেরি পাসপোর্ট
ব্ল্যাকবেরি পাসপোর্ট অনেকের কাছেই অদ্ভুত আকারের স্মার্টফোন। কিন্তু ব্ল্যাকবেরি ফ্যানরা তাদের প্রিয় বহু বিষয় পাবেন এর মাঝে। এর ফিজিক্যাল কিবোর্ডটি যেমন দারণ তেমন ব্যবহারও সুবিধাজনক। মূল্য কমপক্ষে ৪৫০ ডলার।

পৃথিবীতে ফিরে এল রহস্যজনক সেই বস্তুটি


পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশে একটি রহস্যময় বস্তু ভাসছিল। এর নাম দেওয়া হয়েছে ডব্লিউটি১১৯০এফ (WT1190F)। তবে বস্তুটি শুক্রবার ভারত মহাসাগরে রহস্যজনকভাবে পতিত হয়েছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
মহাকাশে ভেসে বেড়ানো এ বস্তুটি দীর্ঘদিন ধরেই পর্যবেক্ষণ করছিলেন গবেষকরা। তবে এটি কোথা থেকে এসেছে তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট নন বিজ্ঞানীরা।
এ বিষয়ে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) মুখপাত্র ড্যানিয়েল স্কুকা বলেন, ‘প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এটি পূর্বধারণা মতো আবার পৃথিবীতে প্রবেশ করেছে।’
গবেষকরা এর আগে জানিয়েছিলেন, বস্তুটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢোকার পর ১:২০ মিনিটে ভারত মহাসাগরে পতিত হবে। এটি শ্রীলংকা থেকে ৬২ মাইল দূরে পড়বে।
গবেষকরা বিষয়টির ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। পরবর্তীতে এটি কোন স্থানে পড়েছে তা বিমানের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
বস্তুটি কিভাবে মহাকাশে এল এ নিয়ে কেউ নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি। তবে অনেকেই ধারণা করছেন এটি হতে পারে একটি নিক্ষিপ্ত রকেট, চাঁদে যাওয়া কোনো রকেটের অংশবিশেষ কিংবা অ্যাপোলো মিশনের কোনো ধ্বংসাবশেষ।
ইউটিউবে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে সে বস্তুটি পতিত হওয়ার বিভিন্ন দৃশ্য এবং তা পর্যবেক্ষণকারী গবেষকদের কর্মতৎপরতা।
https://youtu.be/YJT-q8_dl88

স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর ২৭টি পেশার তালিকা


কিছু পেশা আছে যা স্বাস্থ্যহানিকর। চাহিদাসম্পন্ন কিছু পেশা রয়েছে এ তালিকায়। এসব কাজের আড়ালে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে চলেছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবার ডেটাবেজ এমন অস্বাস্থকর পেশার তালিকা তৈরি করেছে। কি কি ক্ষতি হচ্ছে এবং এর মাত্রা অনুযায়ী পেশাগুলোর স্কোর করা হয়েছে। যে পেশা যত ক্ষতিকর, শূন্য থেকে ১০০ পয়েন্টের স্কেলে তার স্কোর তত বেশি। এখানে জেনে নিন সবচেয়ে ক্ষতিকর ২৭টি পেশার কথা।

২৭-২৪. সমানভাবে ক্ষতিকর তিনটি পেশা একই অবস্থানে রয়েছে। এদের একটি রেডিওলজিস্ট, যারা এক্স-রে ও অন্যান্য রেডিওঅ্যাকটিভ যন্ত্রপাতি চালনা করেন। একই অবস্থানে আছেন মেটাল রিফাইনিং ফার্নেস অপারেটর। এরা ধাতব পদার্থ গলানো এবং ফার্নেসের কাজ করেন। তৃতীয়টি হলো এমবালমারস। এরা সৎকারের আগে মৃতদেহকে প্রস্তুত করে। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫২.৮।

২৩. নিউক্লিয়ার মেডিসিন টেকনোলজিস্ট তেজস্ক্রিয় রশ্মির যন্ত্রপানি পরিচালনা করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৩.০।

২২. রেফ্রিজারেশন মেকানিস এবং ইন্সটলার যারা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও কমার্শিয়াল রেফ্রিজারেশন সিস্টেম তৈরি ও মেরামতের কাজ করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৩.৩।

২১. করোনারি কেয়ার ইউনিটসহ জরুরি রোগীর সেবায় নিয়োজিত সেবিকা পেশা আছে এ অবস্থানে। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৩.৫।

২০-১৭. চারটি পেশা রয়েছে একই অবস্থানে। একটি তেল, গ্যাস ও মাইনিং সাইটে কর্মরত সার্ভিস অপারেটর। দ্বিতীয় পেশা রাসায়নিক কারখানার অপারেটররা। দুটো ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর স্কেলে স্কোর ৫৩.৭। তৃতীয়টি ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান ও প্যারামেডিকস যারা আঘাতপ্রাপ্ত বা অন্যান্য জরুরি অবস্থার রোগীর চিকিৎসা দেন। চতুর্থটি হলো খনিতে কাজ করা মেশিন অপারেটর। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এ দুটো পেশার স্কোর ৫৪.০।

১৬. রিফ্র্যাকটোরি ম্যাটেরিয়ালস রিপেয়ারস। এরা ফার্নেসেস, কিলনস, কুপোলাস, বয়লারস ইত্যাদি তৈরি ও মেরামত করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৪.৮।

১৫. অব্যবহৃদ মালামাল বা অন্যান্য উপকরণ যার সংগ্রহ করেন এবং এসব নিয়ে কাজ করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৫.০।

১৪. নিউক্লিয়ার শক্তি উৎপাদনে কর্মরত প্রকৌশলীরা আছেন এ অবস্থানে। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৫.২।

১৩-১২. একই অবস্থানে দুটো পেশা। একটি মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট প্রস্তুত ও মেরামতের কাজ। অন্যটি বিমানের পাইলট, কো-পাইলট এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার। উভয় ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর স্কেলে স্কোর ৫৫.৭।

১১. তেল ও গ্যাস ফিল্ডের ডেরিক অপারেটর। যারা উত্তোলন যন্ত্র পরিচালনার কাজ করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে স্কোর ৫৬.০।

১০. এ অবস্থানে আছে সার্জিক্যাল অ্যান্ড মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট, টেকনলজিস্ট এবং টেকনিশিয়ানের কাজ। এরা অস্ত্রপচারে সাহায্য করেন এবং ল্যাবরেটরিতে নানা ধরনের টেস্ট করে থাকেন। স্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক ৩টি হুমকি হলো, রোগ এবং জীবাণুর মাঝে কাজ করা, দূষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে থাকা। ক্ষতির মাত্রায় এর স্কোর ৫৭.৩।

৯. স্টেশনারি পণ্য কারখানার প্রকৌশলী এবং বয়লার অপারেটররা আছেন নবম অবস্থানে। এরা স্টেশনারি ইঞ্জিন, বয়লার এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক রাখেন এবং বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ক্ষতিকর ৩টি স্বাস্থ্যঝুঁকি হলো, দূষিত পরিবেশে অবস্থান করা, বিপজ্জনক পরিবেশ এবং হালকা বা মারাত্মক পোড়া, কাটা বা অন্যান্য আঘাত। এর মোট স্কোর ৫৭.৭।

৮. পানি এবং দূষিত পানি পরিশোধনাগারে অপারেটররা ক্ষতিকর পেশার অষ্টমে আছেন। এ পেশার মানুষগুলো পানি পরিশোধনাগারের যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ করেন। সেরা ৩টি হুমকি হলো রোগ সংক্রমণের পরিবেশে কাজ করা, বিপজ্জনক পরিবেশ এবং হালকা বা ভারী পোড়া, কাটা এবং ছড়ে যাওয়া। বিপজ্জনকমাত্রার মোট স্কোর ৫৮.২।

৭. হিস্টোটেকনলজিস্ট এবং এ কাজের প্রযুক্তিবিদরা আরো ক্ষতিকর পেশায় রয়েছেন। এরা বিপজ্জনক পরিবেশ, সংক্রমণের সম্ভাবনা এবং রোগ-জীবাণুর মধ্যে কাজ করেন। ক্ষতিরমাত্রার স্কোর ৫৯.০।

৬. ইমিগ্রেশন ও কাস্টম অপারেটররা আছে ক্ষতিকর তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে। এরা মানুষ, পণ্যবাহী ট্রলি, পণ্য পরীক্ষা করাসহ নানা কাজ করে থাকেন। বিপজ্জনক কর্মপরিবেশ, রোগ-জীবাণুর সংস্পর্শ এবং রেডিয়েশনের মাঝে কাজ করেন। মোট স্কোর ৫৯.৩।

৫. পডিয়াট্রিস্টরা আছে দারুণ স্বাস্থ্যঝুঁকির মাধ্যমে। এরা মানুষের পায় সংশ্লিষ্ট রোগ পরীক্ষা, সার্জারি ইত্যাদি কাজ করেন। এরা সংক্রমণের সম্ভাবনাময় পরিবেশ, রেডিয়েশন এবং দূষিত পরিবেশে থাকেন। এর মোট স্কোর ৬০.২।

৪. পশু চিকিৎসক এবং এ কাজে সংশ্লিষ্টরা আছেন দারুণ ঝুঁকিতে। এরা পশুর রোগ নির্ণয়, গবেষণা, চিকিৎসা এবং গবেষণাগারে কাজ করেন। যেকোনো রোগ-জীবাণু সংক্রমণের সম্ভাবনাসহ পোড়া, কাটা, কামড় ইত্যাদি ঝুঁকিতে থাকেন। ক্ষতির মাত্রায় এ পেশার স্কোর ৬০.৩।

৩. অ্যানেসথেশিয়ার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক, নার্স এবং সহকারীদের কাজ আরো বেশি ঝুঁকির। এরা রোগ-জীবাণুপূর্ণ পরিবেশ, সংক্রমণ এবং রেডিয়েশনের মধ্যে কাজ করেন। ক্ষতির স্কোর ৬২.৩।

২. ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা আছেন সবচেয়ে ক্ষতিকর পেশার দুই নম্বরে। তারা বিমানের যাত্রীদের নিরাপত্তা, সেবা ইত্যাদি দেখাশোনা করেন। ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ, রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ এবং পোড়া, কাটা ও মানসিক যন্ত্রণা দারুণ অস্বাস্থ্যকর। এ পেশার মোট স্কোর ৬২.৩। এ পেশার ক্ষতির মাত্রা অ্যানেসথেশিয়োলজিস্টদের মতো হলেও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অপেক্ষকৃত বেশি।

১. এ তালিকায় সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর পেশাখাত বলে চিহ্নিত হয়েছে দন্তচিকিৎসা। দাঁতের চিকিৎসক, সার্জন এবং অ্যাসিসটেন্টরা আছে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে। এরা সংক্রমণে ভরপুর পরিবেশ, রোগ ও জীবাণুর মধ্যে কাজ করা এবং বহু সময় বসে থেকে কাজ করেন। ক্ষতির মাত্রায় এ পেশার স্কোর ৬৫.৪। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার
 

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পর্ন দেখেন? ৪ কারণে সাবধান!

পর্নোগ্রাফি দেখার ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি ভারত সরকার। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে তা না দেখাই ভালো, কারণ অজান্তে হানা দিতে পারে সাইবার অপরাধীরা।
ভারতে ইন্টারনেট মারফত পর্নোগ্রাফি দেখার চাহিদা প্রতিদিন বাড়ছে। দেশের নেট ইউজারদের মধ্যে পিসি-র তুলনায় অ্যান্ড্রয়েড হ্যান্ডসেট ব্যবহারের চল বেশি। পর্ন রসিকদের জন্য ওয়েবে অসংখ্য পর্ন অ্যাপ ছেড়েছে গুগল প্লে। এছাড়া রয়েছে কয়েক লক্ষ পর্ন ওয়েবসাইট। সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যৌনতা প্রদর্শনের সুড়সুড়ি দিয়ে ইউজারের অজান্তে তাঁর যাবতীয় গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা।
কীভাবে ঘটছে অপরাধ?
১) অবৈধ VAS সাবসক্রিপশন
বেশির ভাগ পর্নই বিনামূল্যে পাওয়া যায়। তবে তার আড়ালে রয়েছে বাঁকা পথে টাকা আদায়ের ফন্দি। গ্রাহকের অজান্তে পর্ন ওয়েবসাইটগুলি অবৈধ VAS সাবসক্রিপশন বাবদ অর্থ রোজগার করে। অর্থাত্‍ যে মুহূর্তে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন মারফত তিনি পর্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন, সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ডে এই সাবসক্রিপশন চালু হয়ে যায়। বিভিন্ন জুস-আপ প্যাক, ড্রিমগার্ল প্যাক, জ্যোতিষশাস্ত্র প্যাকে গ্রাহককে নথিভুক্ত করা হয়। আবার গ্রাহকের নজর এড়াতে সাবসক্রিপশন রেট দিনপিছু মাত্র ৫ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে রাখা হয়।
যদি বিনা কারণে আচমকা হু হু করে মোবাইল ফোনের ব্যালান্স কমতে দেখা যায়, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। 155223 নম্বরে এসএমএস করতে হবে "STOP", এরপর যে নির্দেশ পাওয়া যাবে তা মেনে পদক্ষেপ করলে অবাঞ্ছিত অ্যাপ মুছে ফেলা যাবে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পর্ন দেখতে গিয়ে এই হেনস্থা এড়াতে প্রথমে ফোন এয়ারপ্লেন মোড-এ সুইচ অন করতে হবে। তারপর ওয়াইফাই ব্যবহার করে পর্ন ওয়েবসাইট খুললে বিপদের সম্ভাবনা নেই।
২) পর্ন টিকারের উত্‍পাত
অ্যানড্রয়েড ফোনে পর্ন দেখার এক বড় সমস্যা হল পর্ন টিকারের হানা। নিরীহ অ্যাপের ছদ্মবেশ ধারণ করিয়ে এই টিকারগুলি ছাড়া হয়। পর্ন দেখার সময় প্লে স্টোরে গিয়ে কোনও গেমস অ্যাপ ডাউনলোড করতে গেলে নানান জনপ্রিয় গেমস অ্যাপ হিসেবে এদের দেখা যায়। মনে রাখা দরকার, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পর্ন দেখতে হলে সব সময় ইনকগনিটো মোডে দেখা উচিত। এর ফলে কোনও ওয়েবসাইট আপনার পিছু তাড়া করতে পারে না। এর সঙ্গে নিয়মিত ক্যাশে ক্লিয়ার করতে হবে। কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে তার ক্রেডেনশিয়ালস দেখে নিন।
৩) প্রশ্ন নিরাপত্তার
যে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আপনার প্রধান জিমেল আইডি রয়েছে এবং সেই সঙ্গে ব্যাহ্কিং অ্যাপ ডাউনলোড করা আছে, তার থেকে পর্ন দেখার চেষ্টা না করাই ভালো। মনে রাখবেন, আপনার নির্দিষ্ট অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা এবার সাইবার অপরাধীদের মুঠোর ভিতর চলে গিয়েছে।
৪) র‌্যানসমওয়্যার্স
আসলে অনলাইনে কোনও কিছুই বিনামূল্যে মেলে না। যে কোনও জিনিস বা পরিষেবা পেতে গেলে তার দাম দিতে হবে। কখনও নগদ আবার কখনও ডেটার বিনিময়ে দাম চুকোতে হয়। র‌্যানসমওয়্যার হল অত্যাধুনিক ম্যালওয়্যার যা যে কোনও ডিভাইসকে আচমকা লক করে দেয়। এরপর নির্দিষ্ট দাম চুকিয়ে ডিভাইসটি ফের চালু করার জন্য ইউজারের ওপর চাপ তৈরি করা হয়। উল্লেখ্য, র‌্যানসমওয়্যারের দৌলতে ডিভাইসে থাকা যে কোনও তথ্য সাইবার দস্যুদের কুক্ষিগত হয়। মূল্য চুকিয়ে ডিভাইস আনলক করলেও সেই সমস্ত তথ্যের গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকার কোনও গ্যারান্টি থাকে না। বেশ কিছু চালু পর্ন ওয়েবসাইট এর মধ্যে র‌্যানসমওয়্যার ব্যবহারে পারদর্শী হয়ে উঠেছে।

ডায়রিয়া নিয়ে নতুন তথ্য

ডায়রিয়া আদতে কোন অসুখ কি না, তা নিয়ে সম্প্রতি কিছু নতুন এক তথ্য পেশ করেছেন আমেরিকার বস্টনের ব্রিগাম অ্যান্ড উইমেন’স হসপিটালের একটি গবেষক দল।
তাদের মতে, ডায়রিয়া আদতে ক্ষতিকারক জীবাণু বা ‘প্যাথোজেন’ শরীর থেকে বার করে আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে সচল রাখতেই সাহায্য করে। ওই গবেষণার ফল গত বুধবার প্রকাশিত হয়েছে ‘সেল হোস্ট অ্যান্ড মাইক্রোব’ পত্রিকায়। তাতে বলা হয়েছে, শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বা ‘ইমিউন মেকানিজমে’র জন্যই ডায়রিয়া হয়।
 
আমাদের অন্ত্রের দেওয়ালে থাকা কোষগুলির মধ্যে ছোট ছোট ফাঁক এবং গর্ত থাকে। পুষ্টিকর পদার্থ, জল, আয়ন এবং বর্জ্য এগুলির মধ্যে দিয়েই অন্ত্রের এক অংশ থেকে আরেক অংশে যায়। ওই গবেষক দলের পরীক্ষায় ধরা পড়েছে, অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটলে এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গর্তগুলির ভেদ্যতা অনেকাংশে বেড়ে যায়। এটা ঘটায় ‘ক্লডিন ২’ নামে প্রোটিন। এই ভেদ্যতাবৃদ্ধির ফলে অন্ত্রে সোডিয়াম এবং পানি ঢুকে সেখান থেকে প্যাথোজেন বার করে দেয়। এর ফলেই ডায়রিয়া হয়।
জেরল্ড টার্নারের নেতৃত্বে গবেষণার ফলাফল গত বুধবার প্রকাশিত হয়েছে ‘সেল হোস্ট অ্যান্ড মাইক্রোব’ পত্রিকায়। তাতে বলা হয়েছে, ডায়রিয়া প্রকৃতই খাদ্যনালী থেকে রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু বার করে কি না, তা নিয়ে বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের সংশয় ছিল।  
গবেষণাগারে ইঁদুরের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ‘সিট্রোব্যাক্টার রোডেনশিয়াম’ জীবাণুর (ই কোলাই জীবাণুর সঙ্গে তুল্য) সংক্রমণ ঘটিয়ে ওই গবেষকেরা দেখেছেন ইঁদুরের অন্ত্রও কীভাবে ডায়রিয়ার মাধ্যমে ওই জীবাণু শরীর থেকে বার করে দেয়। টার্নার জানিয়েছেন, ইঁদুরের ওপরে পরীক্ষা করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছলেও তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, মানুষের ক্ষেত্রেও যে এমনটাই হয়।

তুম্বাড়: জাগতিক লোভ-লালসার ক্রোড়ে ঘুমন্ত এক গ্রাম


“লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু”

প্রবাদ বাক্যটি শোনেনি, এমন খুব কম লোকই পাওয়া যাবে। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ স্কুল পর্যায়ে নিজেদের বাংলা পুস্তকে এ ব্যাকটির সাথে পরিচিত হয়েছে আর এর ভাব-সম্প্রসারণ পড়েছে। শুধু পড়েছে বললে ভুল হবে। নশ্বর এ পৃথিবীতে মানবজাতির অমরত্ব লাভের যে পিপাসা, পৃথিবীর বুকে লালিত ধন-সম্পদ দিয়ে নিজের থলি পূর্ণ করার যে লালসা ও চাওয়া-পাওয়ার মাপকাঠি নির্ধারণ করতে না পারার দুর্বলতা- তার সাথে পরিচিতি লাভ করেছে। আর এসবের পরিণতি যে মোটেও সুখকর নয়, বরং অভিশাপ রূপে নেমে এসে কখনও একজন মানুষকে, কখনও একটি পরিবারকে, কখনও একটি গোষ্ঠীকে অথবা কখনও সমগ্র একটি জাতিকে দুমড়ে-মুচড়ে মাটির সাথে মিশিয়ে বিলীন করে দেয়, সেটার দৃষ্টান্তমূলক প্রমাণও পেয়েছে। আর আজ আমরা এমন একটি সিনেমা সম্পর্কে জানবো, যেখানে বহুল প্রচলিত এ প্রাচীন প্রবাদ বাক্যের দুর্দান্ত ও শৈল্পিক প্রতিফলন ফুটে উঠেছে।

২০১৮ সালে স্যাক্রেড গেমস ও ঘুল মুক্তির মধ্য দিয়ে ভারত তাক লাগিয়ে দিয়েছিল, এ কথা কমবেশি সবাই জানি। যদিও বা এ সিরিজ দুটোর তুমুল জনপ্রিয়তার পেছনে 'নেটফ্লিক্স' নামক ব্র‍্যান্ড বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। অন্যদিকে বলিউডের সিনেমাগুলোর কথা বলতে গেলে, অন্যান্য জনরার বহু আলোচিত সিনেমার পাশাপাশি হরর-মিস্ট্রি জনরার 'পারী' ভালোই প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু কে জানতো, বছরের শেষের দিকে এসে 'তুম্বাড়' নামক এক চমকের দেখা মিলবে! একইসাথে দর্শকদের অফুরন্ত করতালি ও সমালোচকদের মূল্যবান প্রশংসাসূচক বাণী, দুটোই ভাগ্যে জুটিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে 'তুম্বাড়' সিনেমাটি।

হিস্টোরিক্যাল পিরিয়ড ড্রামা ও হরর-ফ্যান্টাসি ঘরানার মিশেলে নির্মিত 'তুম্বাড়' মুভিটি প্রথম চিত্রধারণ করা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ছয় বছর আগে। কিন্তু পরিচালক রাহি অনিল বার্ভের মনে হয়েছিল, তারা সিনেমাটিতে যা দেখাতে চেয়েছিলেন, তা ঠিকভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। তাই পরে আনন্দ গান্ধী পুনরায় চিত্রনাট্য রচনা করে, নতুনভাবে সিনেমাটির শুটিং করেন। বাস্তবে ভারতের মহারাষ্ট্রে তুম্বাড় নামে একটি গ্রাম থাকলেও এর আবহাওয়া ও অন্যান্য দিকগুলো সিনেমার তুম্বাড় গ্রামের সাথে কোনোভাবেই মেলে না।
দেবতা হাস্তর; Source: movietalkies.com

এবার তাহলে, সিনেমাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়ে যাক।

'তুম্বাড়' সিনেমার কাহিনী গড়ে উঠেছে তুম্বাড় নামের একটি গ্রামকে ঘিরে। তুম্বাড় গ্রামের ক্ষমতাধর এক ব্রাহ্মণ জমিদার পরিবারের এক কালো অধ্যায়কে কেন্দ্র করে সিনেমার গল্প প্রবাহিত হয়েছে। সিনেমার প্রেক্ষাপট তিনটি পৃথক কালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও গল্পে ধারাবাহিকতা বিদ্যমান ছিল। সিনেমার একদম শুরুর অংশে ধারাভাষ্যকারের কন্ঠে আমরা একটি কাল্পনিক লোককাহিনীর শুনে থাকি।

এরপর শুরু হয় সিনেমার প্রথম অধ্যায়। ভারতবর্ষের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত তুম্বাড় গ্রামের ১৯১৮ সালের চিত্র সেখানে দেখানো হয়েছে। এরপরে চিত্রনাট্য মোড় নেয় পনেরো বছর পরের কাহিনীতে। সে সময়ে শুরু হওয়া এক নতুন কাহিনী ১৯৪৭ সালে এসে মর্মান্তিক নাটকীয়তার মধ্যদিয়ে ইতি টানে। কিন্তু কী ছিল এ সিনেমার গল্প আর গল্পটির প্রারম্ভ ও সমাপ্তির পেছনে সুপ্তমান রহস্যই বা কী?

'তুম্বাড়' সিনেমার মূল বিষয়বস্তুকে তুলে ধরতে হলে, মূল চরিত্রাভিনায়ককে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে এগোতে হবে। গল্পের প্রথম অধ্যায়ে দেখানো হয়, ভিনায়কের মা সেই গ্রামের জমিদার বাড়িতে তৎকালীন জমিদার সরকারের যৌন চাহিদা মেটাতে একজন যৌন দাসী হিসেবে কাজ করে। প্রকান্ড জমিদার বাড়ি থেকে সুদূরে লোকালয় ছেড়ে পুরনো ভাঙাচোরা এক বাড়িতে ভিনায়ক ও তার পরিবার বাস করতো। ছোট একটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত এ বাড়ির চারপাশ জুড়ে ছিল নদী-নালা, খাল-বিল। ভিনায়কের পরিবারে তার মা ও সে ছাড়াও সাদাশিভ নামে তার এক ছোট ভাই ছিল। ভিনায়ক ও সাদাশিভ, দুই সহোদর আসলে ছিল সরকারের জারজ সন্তান। আর তাই সরকারের ধনদৌলত ও সম্পত্তির উপর তাদের কোনো অধিকার অথবা গ্রামে মাথা উঁচু করে বসবাসের অধিকার ছিল না। তারা ছিল সমাজ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন।

এতেই কিন্তু শেষ নয়। ভিনায়কের বাড়িতে আরও একটি প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। সে ছিল সরকারের মা, অর্থাৎ ভিনায়কের দাদিমা। এখন কথা হলো, এত বিশাল জমিদার বাড়ি থাকতে তিনি কেন একজন দাসীর কুটিরে এসে আশ্রয় নেবেন? আর এখানেই লুকিয়ে আছে সিনেমার আসল রহস্য। সিনেমার প্রথম থেকেই দর্শক দেখতে পাবেন, ভিনায়কের দাদিকে নিয়ে ভিনায়কের পরিবারের মধ্যে বেশ ভীতি কাজ করে। যতক্ষণ ভিনায়কের দাদিকে পর্দার সামনে না আনা হয়, ততক্ষণ এ ভয়ের কারণটা কিছুটা ঘোলাটেই থেকে যায়। তবে পুরোটা সময় ধরে সিনেমাতে যে থমথমে আবহ দেখানো হয়, এতে পরিস্থিতি কিছুটা আঁচ করা যাবে।

ভিনায়কের দাদিকে যখন পর্দায় প্রথম দেখানো হয়, সেই দৃশ্য দেখে দর্শক খানিকক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে যাবার কথা। তার শারীরিক অবস্থা যেমন বীভৎস রূপ ধারণ করেছিল ও তার মানসিক অবস্থা যেমন অস্বাভাবিক দেখা যাচ্ছিল, তাতেই ধারণা করা যাবে, বড় কোনো ধরনের পাপের ফল ভোগ করছেন তিনি। প্রথম অধ্যায় শেষ হয় দুটি প্রাণের মৃত্যু আর গল্পের নায়ক ভিনায়কের অন্তরাত্মায় এক নতুন লালসার তৃষ্ণা জাগরণের মাধ্যমে। এ অধ্যায়ে ভিনায়ককে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে দেখবে দর্শক।
উন্নতির দেবী', যার ভ্রূণ থেকে হাস্তারের জন্ম; Source: Bollymoviereviewz

দ্বিতীয় পর্বে দেখা যায়, পনেরো বছর পর ভিনায়ক পুনরায় তুম্বাড় গ্রামে ফিরে আসে। তুম্বাড়কে ঘিরে অতীতের ভয়াবহ স্মৃতি ও নিজের মাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যে 'সে আর কখনো এ গ্রামে পা রাখবে না' কোনোকিছুকেই পরোয়া করে না ভিনায়ক। তার মনে তখন ছোটকালের সেই লালসার বীজ বেড়ে উঠে বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। এ অধ্যায়ে ভিনায়ককে নিজের স্বার্থোদ্ধারের নিমিত্তে তার দাদিকে 'চাবিকাঠি' হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যায়। অমরত্বের অধিকারী দাদি নাতিকে নিজের জীবনের সবথেকে গোপনীয় তথ্য জানানোর বিনিময়ে নিজের মুক্তির চুক্তি করেন। সেই মুহূর্তে ভিনায়কের নিজেকে ইহজগতের সবথেকে সুখী ব্যক্তি মনে হলেও, আসলে দাদির পাপের বোঝা নিজ কাঁধ তুলে নেওয়া ছাড়া আর কিছুই করেনি সে।
ভিনায়কের 'তুম্বাড়' গ্রামে প্রত্যাবর্তন; Source:The Austin Chroniclecle

তৃতীয় অধ্যায়ে ভিনায়ক ও তার পুত্রের গল্প চিত্রায়িত হয়েছে। পুত্রের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে তাকে নিজের জীবনের সবথেকে বড় সত্য, নিজের আর্থিক উন্নতির মূল উৎসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় সে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সারাজীবন যে লালসাকে বুকে পুষে রেখেছিল সে, তা শেষমেশ তাকে জীবন্ত অবস্থাতেই জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

এবার কাহিনীকে আরেকটু খোলাসা করতে উপরে যে বলেছিলাম, সিনেমার শুরুতে একটি মিথের কথা তুলে ধরা হয়েছে, সে বিষয়টা নিয়ে একটু বিশ্লেষণ হয়ে যাক। সিনেমার শুরুতে আমরা যে কন্ঠটি শুনতে পাই তা মূলত ভিনায়কের ছিল। ১৯৪৭ সালে নিজের পুত্রকে কথাগুলো বলছিল সে। তার ভাষ্যমতে, উন্নতির দেবীর গর্ভ থেকে ১৬০ কোটি দেব-দেবী জন্ম হয়েছিল।

দেবীর প্রথম সন্তান হাস্তার ছিল তার সবথেকে প্রিয়। তবে হাস্তার মোটেও সুপুত্র ও মানবজাতি দ্বারা পূজনীয় হবার যোগ্য দেবতা ছিল না। মায়ের গর্ভ অর্থাৎ পৃথিবীর ভূতলে নিমজ্জিত সকল স্বর্ণ ও পৃথিবীর বুকে জন্ম নেওয়া সকল শস্যদানার উপর তার দুর্দমনীয় লোভছিল। একদিন মায়ের গর্ভ থেকে সকল রত্ন চুরি করে, খাদ্যদানার উপর হামলা করতে গেলে, তার বাকি সহোদরেরা তার উপর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। অন্যান্য দেব-দেবীর আক্রমণে হাস্তার যখন শেষনিঃশ্বাস ত্যাগের পথে, তখন মা 'উন্নতির দেবী'র মনে মাতৃত্ব জেগে উঠে। তবে তিনি একটি শর্তে প্রাণপ্রিয় পুত্রকে মাফ করে বুকে আগলে নিতে রাজি হন। আর তা ছিল, হাস্তরের পূজা কেউ কখনো করতে পারবে না, আর হাস্তরকে চিরকালের জন্য মায়ের গর্ভে মানে ভূ-গর্ভে গা ঢাকা দিয়ে জীবনযাপন করতে হবে। এতে করে, মাটির নিচে নিমজ্জিত সকল স্বর্ণ হাস্তারের মালিকানায় চলে গেলেও, শস্যদানার ক্ষুধা তার অপূরণীয় থেকে যায়। সেই থেকে, 'লোভ-লালসার' প্রতিকধারী দেবতা হাস্তার অতৃপ্ত অবস্থায় মায়ের ক্রোড়ে ঘুমিয়ে ছিল।

এখন পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, হাস্তারের সাথে তুম্বাড় গ্রামের অথবা ভিনায়কের সম্পর্ক কী? তাহলে এবার সেই ব্যাপারে অল্প একটু ধারণা দেয়া যাক।
ভিনায়কের ভয়াবহ সেই ছোটকাল; Source: Bollymoviereviewz

শত শত বছর ধরে হাস্তারের পূজা কেউ না করলেও, হঠাৎ করে তুম্বাড় গ্রামের এক ব্রাহ্মণ পরিবার ( ভিনায়ককের পূর্বপুরুষেরা) একটি মন্দিরের স্থাপনা করে হাস্তারের পূজা করতে শুরু করে। সারা বছর বৃষ্টিবাদল লেগে থাকা তুম্বাড় গ্রাম অভাবে তলিয়ে থাকলেও সেই পরিবারটি হাস্তরের কৃপায় অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে। কিন্তু যে পদ্ধতি অনুসরণ করে তারা হাস্তরের এ আশীর্বাদ গ্রহণ করে যাচ্ছিল, একসময় সেটি অভিশাপ হয়ে নেমে আসে তাদের বংশে। হাস্তরের ভোজন হিসেবে গম থেকে প্রাপ্ত আটা দিয়ে তৈরি পুতুল করে তাকে খুশি করে (যেহেতু হাস্তারের পেটে রাক্ষুসে ক্ষুধা ছিল) তার ঝুলি থেকে স্বর্ণ হাতিয়ে নিতে শুরু করে। তবে এতে করে হাস্তার থেকে যে 'বর' তারা লাভ করেছিল, তা মোটেও সুখকর ছিল না। আর নিজের পূর্বপুরুষের অতি লোভের এই ব্যধি বংশানুক্রমে ভিনায়কের মধ্যেও সংক্রামিত হয়। অনেকটা চক্রাকারে হাস্তার থেকে ভিনায়কের দাদি, ভিনায়ক ও অবশেষে তার পুত্রের ভেতর স্বর্ণের এই অন্তহীন লোভের ভার হস্তান্তরিত হয়েছিল।

এখন কথা হচ্ছে, 'তুম্বাড়' সিনেমাতে উল্লেখ করা 'উন্নতির দেবী' ও দুষ্ট দেবতা 'হাস্তার'-এর উপস্থিতি হিন্দু মিথলোজিতে অথবা অন্য কোনো মিথলোজিতে সরাসরি পাওয়া যায়নি। এছাড়া গ্রিক মিথোলজির সাথে হাস্তারের মিথের ভালোই মিল খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। গ্রিক মিথলোজিতে পৃথিবী-মাতা হিসেবে পরিচিত দেবী 'গাইয়া'র সাথে তুম্বাড়ের 'উন্নতির দেবী'কে তুলনা করা যায়। আবার হাস্তারের সাথে গাইয়ার সন্তান দেবতা ক্রোনাস চরিত্রের কিছুটা মিল রয়েছে। হাস্তারকে যেভাবে তার সহোদরেরা পরাজিত করার পদক্ষেপ নিয়েছিল, গ্রিক পুরাণে জিউস ও তার ভাইয়েরা মিলে তাদের পিতা ও টাইটানের রাজা ক্রোনাসকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। আবার খ্রিস্ট ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ 'বাইবেল'-এ 'ম্যামন' নামে এক দুষ্ট দেবতার উল্লেখ আছে। 'গ্রিডি ডেমন' নামে আখ্যায়িত ম্যামন যেন হাস্তারেরই প্রতিচ্ছবি।
পিলে চমকে দেওয়া সেই মুহূর্ত; Source: Scroll.in

'তুম্বাড়' সিনেমাটির অভিনয়শিল্পীদের কথা বলতে গেলে, প্রাপ্তবয়স্ক ভিনায়ক চরিত্রের অভিনেতা সোহাম শাহের নাম প্রথমে আসবে। সিনেমাটিতে প্রযোজকের ভূমিকা পালনের পাশাপাশি চমৎকার অভিনয় করে ভিনায়ক চরিত্রটিকে দারুণভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। এছাড়া ছোট ভিনায়ক, তার ভাই সাদাশিভ ও ভিনায়কের ছেলের চরিত্রে যে তিনজন শিশুশিল্পী অভিনয় করেছেন, তাদের অভিনয়ও সাবলীল ছিল। আর কদাকার সেই দাদিমার মতো এমন একটা চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে শিশুশিল্পী পিয়ুস কৌশিকের এমন নিখুঁত ও গা শিউরে দেওয়া অভিনয়ের জন্য তার যতই প্রশংসা করা হোক না কেন, কমই হবে।

‘তুম্বাড়' সিনেমার গল্প আহামরি বা খুব বেশি চমকপ্রদ যে না, তা বিনা সংকোচে বলা যায়৷ কিন্তু অনেক বেশি জটিল প্লটের সিনেমা থেকেও এ সিনেমাকে এগিয়ে রাখা যাবে, কয়েকটি বিশেষ কারণে। প্রথমত, সিনেমার একদম প্রথমে গ্রাফিক্যাল ইমেজের মাধ্যমে যেভাবে হাস্তারের মিথকে তুলে ধরা হয়েছে, সেটি সিনেমা নিয়ে অন্য এক ধরনের আগ্রহের মাত্রা তৈরি করেছিল। এছাড়া পুরোটা সময় ধরে সিনেমাটোগ্রাফি ছিল এককথায় মনোমুগ্ধকর। সিনেমাটোগ্রাফার পংকজ কুমার নিঃসন্দেহে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি সেরা কাজ আমাদের উপহার দিয়েছেন।

তুম্বাড় গ্রামের এমন নিরিবিলি, বৃষ্টিস্নাত ও অন্ধকারচ্ছন্ন পরিবেশ দেখলে যে কারো গা ছমছম করে উঠবে। মুভির প্রতিটি দৃশ্যে, বিশেষ করে ভিনায়ক ছোটকালে যে বাড়িতে বেড়ে উঠেছে ও হাস্তারের আবাসস্থলে যে থমথমে ভাব বজায় ছিল, তা কোনো রকম ভূত-পেত্নীর আগমন ছাড়াও যে কারো মনে অস্বস্তিকর এক ভৌতিক অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া সিনেমাতে যেভাবে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনামলের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ। সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর পরিস্থিতিকে আরও গাম্ভীর্যপূর্ণ করে তুলেছিল। সিনেমার ভিজুয়্যাল ইফেক্টও চমৎকার। কিছু দৃশ্যের অভূতপূর্ব কাজ একদম পিলে চমকে দেবে দর্শকদের।

সব মিলিয়ে, 'তুম্বাড়' সিনেমাটি ভারতের সিনে জগতের এক নতুন ধারার পথপ্রদর্শক। একটি সাধারণ গল্পের সিনেমাকে অনন্যসাধারণভাবেও যে প্রদর্শন করা যায়, তুম্বাড় তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।

অণ্ডকোষের ব্যথার কয়েকটি ঘরোয়া দাওয়াই


পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী পুরুষটিও অণ্ডকোষের ব্যথায় কাবু হয়ে পড়নে। সংক্রমণ থেকেই অণ্ডকোষে প্রদাহ ও ব্যথা হয়। নানা কারণে এই সংক্রমণ হতে পারে। এই সংক্রমণ হতে পারে এসটিআই বা যৌনতাবাহিত ভাইরাস সংক্রমণের ফলে। অথবা ইউটিআই বা মূত্রাশয়ের সংক্রমণের ফলে। সংক্রমণের ফলে অণ্ডকোষ ফুলে গিয়ে ব্যথা করে। এই ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য পুরুষরা সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন।
তবে এর কিছু ঘারোয়া দাওয়াইও রয়েছে যেগুলো বেশ কার্যকর। এই দাওয়াইগুলো সেবনের পরও যদি দুই দিনের মধ্যে ব্যথা না কমে তাহালে ডাক্তারের সঙ্গে যোগোযোগ করতে হবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক দাওয়াইগুলো কী।
১. ক্র্যানবেরি জুস
অণ্ডকোষে ইনফেকশনের কারণ যদি হয় ইউটিআই তাহলে ক্র্যানবেরি জুস খেতে হবে। প্রতিদিন ১ গ্লাস করে চারদিন খেলেই ব্যথা কমে আসবে।
২. হলুদ
বড় এক গ্লাস ঘোলের সঙ্গে এক চা চামচ হলুদ গুড়ো মিশিয়ে পান করুন। প্রতিদিন তিনবার এই পানীয়টি খেলে অণ্ডকোষের ব্যথা কমে আসবে।
৩. পান পাতা ও মধু
পান পাতায় মধু মাখিয়ে নিন। এরপর অণ্ডকোষের যেখানে ব্যথা হচ্ছে সেখানে পান পাতাটি লাগিয়ে রাখুন। যেন ত্বকে মধু লাগে। এভাবে লাগিয়ে রেখে ৩-৪ ঘন্টা রেখে দিন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন প্রদাহ ব্যথা এবং সংক্রমণ কমে এসেছে।
৪. অলিভ অয়েল
৯ ফোটা অলিভ অয়েল, ১ ফোটা নাইজেলা তেল এবং ৭ ফোটা মাছের তেল নিন। এরপর সেগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি থেকে কয়েকফোটা নিয়ে প্রতিরাতে অণ্ডকোষে লাগান। এভাবে তেলের মিশ্রণটি ৪-৭ দিন ব্যবহার করুন। দেখবেন সংক্রমণ দূর হয়ে যাবে।
৫. রসুন
আধা চা চামচ রসুনের জুস নিয়ে এর সঙ্গে এক টেবিল চামচ তিলের বীজের তেল মেশান। কয়েকটি নিম পাতা পিষে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর সামান্য পরিমাণে পেট্রোলিয়াম জেলি নিন। সবগুলো উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে অণ্ডকোষের যে অংশটুকুতে ব্যথা হচ্ছে সেখানে হালকা ঘষে লাগান। প্রতিদিন ঘুমের আগে এভাবে ২-৩ দিন পেস্টটি ব্যবহার করুন।
৬. কর্পূর
ডিমের সাদা অংশ, মধু, কর্পূর এবং গ্লিসারিন সমপরিমাণে নিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এরপর সেই মিশ্রণটি অণ্ডকোষে লেপে দিন।
৭. কলার ফুল
একটি কলার ফুল নিয়ে তা এক বা দুদিনে রোদে শুকিয়ে নিন। শুকানোর পর তা গুড়ো করে পাউডার বানান। এক লিটারের একটু বেশি ছোট একটি পাত্রে পানি ভরে ওই পাউডার থেকে ১ টেবিল চামচ নিয়ে তাতে মেশান। একদিন ভিজিয়ে রাখার পর পরের দিন সকালে খালি পেটে পানিটুকু পান করুন। সেদিন আর কিছু খাবেন না। পরের দিন দুধ পান করুন। এবং উপোস করুন। এভাবে করলে অণ্ডকোষের সংক্রমণ সেরে যাবে।

প্রাচীন অ্যাজটেক সাম্রাজ্যে নরবলির ইতিবৃত্ত


ইংরেজি ভ্যালি শব্দটির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। এর দ্বারা পাহাড়ঘেরা বিস্তীর্ণ এলাকাকে বোঝানো হয়, যার বুক চিরে কখনো কখনো প্রবাহিত হয় নদী। বাংলায় একে বলা হয় উপত্যকা। আজ থেকে প্রায় ৬০০ বছর আগে মেক্সিকো উপত্যকায় ১৪২৮ সালে যাত্রা শুরু হয় অ্যাজটেক সাম্রাজ্যের। টেনোচটিটলান, টেক্সকোকো এবং ত্লাকোপান নগর-রাজ্যগুলোর মাঝে মৈত্রীর মাধ্যমে জন্ম হয় এই সাম্রাজ্যের। প্রায় একশো বছর টিকে থাকার পর অবশেষে ১৫২১ সালে স্প্যানিশ দখলদার এবং তাদের মিত্রদের হাতে পতন ঘটে অ্যাজটেকদের।

সম্রাট উইৎজিলিউইৎলের পুত্র প্রথম ত্লাসেইলেল একবার ঘোষণা দেন, যুদ্ধের দেবতা উইৎজিলোপোখ্‌ৎলিকেই সর্বোচ্চ দেবতা হিসেবে সম্মান করতে হবে। এরপর থেকেই অ্যাজটেকরা যুদ্ধের দেবতার সেবায় নিয়োজিত হয়। বছর বছর হাজার হাজার মানুষকে উৎসর্গ করা হতো উইৎজিলোপোখ্‌ৎলিকে সন্তুষ্ট করার নিমিত্তে! তাদের এই নরবলির চমক জাগানো নানা দিকই তুলে ধরা হবে আজকের লেখার মধ্য দিয়ে।


দেবতাদের তুষ্ট করতে নিয়মিতই নরবলি দেয়া হতো অ্যাজটেক সমাজে। আর এজন্য প্রয়োজনীয় মানুষের যোগান দিতে বিভিন্ন যুদ্ধে বন্দীদেরকে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এই যুদ্ধবন্দীদের দিয়েও চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছিলো না। তাই তারা খুঁজছিলো এমন একটি উপায়, যার মাধ্যমে নিয়মিতভাবেই নরবলির কাজটি চালিয়ে নেয়া যাবে।
Image Source: badassoftheweek.com

এজন্য পার্শ্ববর্তী নগররাজ্য ত্লাক্সকালার সাথে তারা একটি চুক্তি করে। উভয়পক্ষের সম্মতিতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, নিয়মিতভাবেই দু’পক্ষের সৈন্যদের দিয়ে সাজানো যুদ্ধের আয়োজন করা হবে। পরাজিত পক্ষের সেনারা জানতো তাদের সাথে কী হতে যাচ্ছে। কিন্তু এটা নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ থাকতো না। বিনা বাক্যব্যয়ে তারা দেবতার উদ্দেশ্যে নিজেদের উৎসর্গ করতো।


নরবলির কথা শুনতে আমাদের কাছে এখন যত বীভৎস বা অমানবিকই মনে হোক না কেন, অ্যাজটেকদের কাছে তৎকালে বিষয়টি মোটেও সেরকম ছিলো না। বরং তাদের কাছে এটা ছিলো বেশ সম্মানের বিষয়। সাহসীরা এ নরবলির জন্য স্বেচ্ছায় নাম লেখাতো। এর মাধ্যমে তাদের জীবন সার্থক হয়েছে বলেই মনে করতো তারা।
Image Source: about-history.com

একটু আগে বলা হয়েছে কেবলমাত্র যুদ্ধবন্দীদের বলি দেয়ার ব্যাপারে। এখন বলা হলো স্বেচ্ছায় বলি দেবার কথাও। আরো কিছু মানুষ ছিলো এই দলে। কেউ যদি গুরুতর কোনো অপরাধ করতো কিংবা দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়তো, তখন তাদেরও শাস্তি হিসেবে দেবতাদের কাছে উৎসর্গই করা হতো। কখনো কখনো একদল দেহব্যবসায়ী নারী স্বেচ্ছায় ভালোবাসার দেবীর কাছে নিজেদের উৎসর্গ করতো!


অ্যাজটেক ক্যালেন্ডারের একটি মাসের নাম টক্সকাট্‌ল। বছরের পঞ্চম এ মাসটির ব্যপ্তি আজকের দিনের হিসেবে আনুমানিক ৫ থেকে ২২ মে পর্যন্ত ছিলো। এই মাসে একটি উৎসব অনুষ্ঠিত হতো, যার জন্য দেহাবয়বের ভিত্তিতে একজন পুরুষকে বেছে নেয়া হতো। সেই মানুষটির দেহে অবশ্য কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকা লাগতো। যেমন- তার চামড়া হওয়া লাগতো মসৃণ, দৈহিকভাবে খুব একটা মোটা না এবং চুলগুলো লম্বা ও সোজা।

পরবর্তী এক বছর ধরে এই লোকটিকে দেবতাদের মতো খাতির করা হতো। তাকে পরানো হতো দেবতা টেজকাটলিপোকার ন্যায় পোশাকাদি। লোকটির পুরো গায়ে কালো রঙ মাখানো হতো, বুকে থাকতো ঝিনুকের ব্রেস্টপ্লেট, মাথায় শোভা পেতো ফুলের তৈরি মুকুট এবং সেই সাথে সারা গায়ে জড়ানো অলঙ্কার তো ছিলোই।

লোকটিকে দেয়া হতো চারজন স্ত্রী, যাদের সাথে বেশ চমৎকারভাবেই কাটতো তার সময়গুলো। তাকে বলা হতো শহরের ভেতর দিয়ে একটি বাঁশি বাজাতে বাজাতে সে যেন হেঁটে যায় আর ফুলগুলোর গন্ধ শুঁকতে থাকে। এই সময় জনসাধারণ তার উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করতো।

এভাবে বেশ আরাম-আয়েশেই কেটে যেত লোকটির জীবনের বারোটি মাস, শেষ বারোটি মাস। এরপরই তাকে নিয়ে যাওয়া হতো বড়সড় এক পিরামিডের চূড়ায়। যেতে যেতে লোকটি এতদিন ধরে ব্যবহার করা বাঁশিগুলো ভাঙতে থাকতো। আশেপাশে জড়ো হতো হাজার হাজার জনতা। পিরামিডের চূড়ায় নেবার পর তাকে পাথরের বেদিতে শুইয়ে দিতো একজন পুরোহিত। সেই পুরোহিতের হাতে সূর্যের আলোয় চকচক করে উঠতো আগ্নেয় কাচ দিয়ে তৈরি ছুরি। সেই ছুরিটি তিনি লোকটির বুকে সজোরে চালিয়ে দিতেন, বুক চিরে বের করে আনতেন তখনও ধুক ধুক করতে থাকা হৃদপিণ্ডটিকে।
Image Source: sites.google.com

এবার পুরোহিত সেই হৃদপিণ্ডটিকে উপরে তুলে ধরতেন সমবেত জনতাকে দেখানোর উদ্দেশ্যে। তারপর সেই হৃদপিণ্ডটিকেই বেদির গায়ে আঘাতের পর আঘাত করতে করতে টুকরা টুকরা করা হতো। এতদিন আরাম-আয়েশে কাটানো লোকটির দেহটি গড়িয়ে দেয়া হতো উপর থেকে, যার জন্য নিচে অপেক্ষা করতো কয়েকজন কসাই। সেই দেহটিকে তারা টুকরা টুকরা করে ফেলতো।

লোকটির মাথাটি কেটে আলাদা করে রেখে দেয়া হতো একটি তাকে, যেখানে তার মতো আগে যাদেরকে বলি দেয়া হয়েছিলো, তাদের খুলিগুলো শোভা পেতো। মাংস কেটে আলাদা করে রান্না করা হতো, যা দিয়ে উদরপূর্তি করতো সমাজের অভিজাত শ্রেণীর লোকজন।

তারপর?

তারপর আবারও আরেকজন সুদর্শন পুরুষকে বেছে নেয়া হতো, তাকে সাজানো হতো টেজকাটলিপোকার মতো করে এবং এভাবে চলতেই থাকতো।


এতক্ষণ তো গেলো কেবল টক্সকাট্‌ল মাসে বলি দেয়ার গল্প। এছাড়া অন্যান্য সময়ও তো নরবলি দিতো অ্যাজটেকরা। দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত সেসব মানুষের মৃতদেহ বিভিন্ন শস্যকণার সাথে মিশিয়ে রান্না করা হতো। এরপর তা দিয়ে উদরপূর্তি করতেন পুরোহিতগণ। মাঝে মাঝে উপস্থিত সকলের জন্যই একটু একটু করে স্বজাতির মাংস দেয়া হতো খাবার উদ্দেশ্যে। হাড়গুলো দিয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, বাদ্যযন্ত্র, অস্ত্র ইত্যাদি বানানো হতো।
Image Source: Mexicolore

আশ্চর্যের বিষয় হলো, তখনকার অ্যাজটেক সাম্রাজ্যে প্রচলিত একটি খাবার আজকের সমাজেও খুঁজে পাওয়া যায়। পোজোল নামের সেই স্যুপটি বানানো হতো একজন বন্দীর উরুর মাংস ব্যবহার করে। এরপর তা খেতে দেয়া হতো সম্রাটকে। আজকের দিনে পোজোলে অবশ্য মানুষের মাংস আর ব্যবহার করা হয় না, বরং সেই স্থান আজ দখল করে নিয়েছে শূকরের মাংস।


এই যে এত নরবলির কথা বলা হচ্ছে, এটা কিন্তু সবসময় একরকম হতো না। উৎসবের তাৎপর্যের সাথে সাথে পাল্টে যেতো বলি দেয়ার ধরন, এবং সেই সাথে পাল্টাতো বলির শিকার হওয়া মানুষের সংখ্যাও।
Image Source: history.com

তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে বলি দেয়ার ঘটনাটি ঘটেছিলো টেনোচটিটলানের গ্রেট পিরামিড উদ্বোধনের সময়। ১৪৮৭ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। এর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে যে বিশাল সংখ্যক মানুষকে নরবলির শিকার হতে হয়েছিলো বলে জানা যায়, তা চোখ কপালে তুলে দেবে যে কারোরই। অ্যাজটেকদের দাবি অনুযায়ী, মাত্র ৪ দিনের মাঝে আনুমানিক ৮৪ হাজার লোককে বলির শিকার হতে হয়েছিলো। ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, অ্যাজটেকদের রাজত্বকালে বছরে গড়ে আড়াই লাখ মানুষকে প্রাণ দিতে হতো দেবতাদের সন্তুষ্ট করার নিমিত্তে।


অ্যাজটেক সমাজে চামড়া ছাড়ানো নিয়েও বিচিত্র এক উৎসব ছিলো, যা উৎসর্গ করা হতো তাদের দেবতা জিপে টোটেকের নিমিত্তে।

এ উদ্দেশ্যে উৎসবের ৪০ দিন আগে একজনকে মনোনীত করা হতো, যাকে অ্যাজটেকরা সম্মান করতো দেবতার মতোই। তার পুরো দেহে লাল পালক ও স্বর্ণের অলঙ্কার শোভা পেত। এভাবে আরাম-আয়েশে ৪০ দিন কাটানোর পর উৎসবের দিন তাকে ছাড়াও আরো আটজনকে মন্দিরে নিয়ে দেবতাদের উদ্দেশ্যে বলি দেয়া হতো। তাদের চামড়াগুলো এমনভাবে ছড়িয়ে রাখা হতো যে, দূর থেকে দেখে মনে হতো গাছের ছাল ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। সেগুলোতে হলুদ রঙ মাখানো হতো, যেন দেখে স্বর্ণের মতো মনে হয়।
Image Source: mayaincaaztec.com

এই চামড়ার কিছু অংশ পুরোহিতদের দেয়া হতো, যেগুলোর উপর তারা বিভিন্ন সময় নৃত্যচর্চা করতো। কিছু অংশ দেয়া হতো তরুণদের, যারা চামড়ার কোট গায়ে জড়িয়ে পরবর্তী ২০ দিন ভিক্ষাবৃত্তি করে বেড়াতো।