Hot!

সফল লোকরা সকালেই যে ৮টি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কাজ করেন

ক্যারিয়ারে সাফল্য পেতে গেলে কর্মদিবসের প্রথম কয়েকটি ঘন্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই আপনি হয় নিজেকে সাফল্যের জন্য প্রস্তুত করে তুলবেন আর নয়তো বিভ্রান্তি এবং ব্যর্থতায় নিপতিত হবেন। সুতরাং সঠিকভাবে দিন শুরু করাটা বেশ জরুরি। আপনি যদি সঠিক পদক্ষেপ দিয়ে দিন শুরু করতে না পারেন তাহলে পুরো দিনটাই বিশৃঙ্খলায় কাটবে।
আপনি কি একজন সফল সুপারস্টারের মতোই আপনার দিনটি শেষ করতে চান? তাহলে আপনার জন্য রইল ৮টি পরামর্শ।
১. সফল লোকরা দেরিতে মেইল চেক করেন
সকাল সকাল ইমেইল চেক করে সেসবের উত্তর দিতে দিতেই আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। সুতরাং দিন শুরু করার ভালো কোনো পদ্ধতি নয় এটি। টাম্বলার এর প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড কার্প বলেছেন, তিনি সকাল ৯.৩০ বা ১০.৩০ এর আগে ইমেইল খোলেন না।
২. তারা কল্পনায় দিনটির ছবি আঁকেন
আপনি কী চান তা দিনের শুরুতেই কল্পনায় দেখে নিলে সাফল্য আরো সহজ হয়ে আসবে। ক্রীড়াবিদরা কোনো খেলায় জেতার চিত্র কল্পনায় দেখে নেন। কারণ আপনি যদি আপনার শেষ লক্ষ্য-উদ্দেশ্যটাই না দেখতে পারেন তাহলে আপনি যা অর্জন করতে চান তা অর্জন করতে পারবেন না। এজন্য আপনি একটি ভিশন বোর্ড ব্যবহার করতে পারেন। বিছানার পাশেই একটি ভিশন বোর্ড রেখে ঘুম থেকে ওঠার পর তাতে আপনি আপনার দিনের লক্ষ্যটি দেখে নিতে পারেন। অথবা তা অফিসের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখুন যাতে বারবার তা আপনার স্মরণে আসে। মার্কিন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অপরাহ উইনফ্রে বলেছেন, তিনি তার স্বপ্ন অর্জনে ভিশন বোর্ড এর ওপর নির্ভর করেন।
৩. শরীরচর্চা
দেহ ও মনকে চাঙ্গা করে তোলার জন্য শরীরচর্চার বিকল্প নেই বললেই চলে। গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, শরীরচর্চা মনোযোগকে তীক্ষ্ণ করতে এবং আরো ভালো সিদ্ধান্তগ্রহণে সহায়তা করে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, তিনি সকালে প্রতিদিন ৪৫ মিনিট করে শরীরচর্চা করেন।
৪. প্রার্থনা বা মেডিটেশন করা
সফল লোকরা স্ট্রেস থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা বা মেডিটেশন করেন। এর মাধ্যমে সহজেই নিজের দেহ ও মনের সঙ্গে পুনরায় পূর্ণসংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়। অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টোন বলেছেন, তিনি তার দিন শুরু ও শেষ করেন মেডিটেশন দিয়ে। ট্রানসেনডেন্টাল মেডিটেশন তার সবচেয়ে প্রিয়।
৫. ইতিবাচক কথন
আপনি নিজেই যদি নিজেকে বিশ্বাস না করেন তাহলে কে করবে? ক্যারিয়ার ও জীবনে সফল হতে হলে আপনার নিজেকেই নিজে সবার আগে বিশ্বাস করতে হবে। আপনি যাই করতে চান না কেন তাতে আপনার চিন্তা খুবই ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলে। একবার যদি আপনি আপনার নিজের চিন্তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারেন তাহলে আপনি আপনার স্বপ্নের একটা চিত্র এঁকে ফেলতে পারবেন।
৬. দিনের পরিকল্পনা তৈরি করা
সফল লোকরা দিনের শুরুতেই পুরো দিনের পরিকল্পনা তৈরি করে নেন। যাতে কোনো কিছুই তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়। অ্যাডিক্টেড টু সাকসেস এর প্রতিষ্ঠাতা জোয়েল ব্রাউন বলেন, তিনি আগের দিন রাতেই পরের দিনের কর্মতালিকা তৈরি করে নেন। যাতে পরেরদিন প্রস্তুতি নিতে আর কোনো সমস্যা না হয়।
৭. নাশতা করা
আপনি হয়তো নাশতা না করে আপনার দিনটি তাড়াতাড়ি শুরু করতে পারবেন। কিন্তু এতে আপনার ক্ষতিই হবে বেশি। কারণ এতে দুপুরে আপনি বেশি খাবার খেয়ে ফেলবেন। যে কারণে শরীর ভারি হয়ে আসার ফলে এরপর আর আপনি স্বাভাবিক ভাবে কাজ করতে পারবেন না। সুতরাং সকালে একটু বেশি সময় নিয়ে হলেও ভালোভাবে নাশতা করে নিন। গায়ক এবং অভিনেতা জাস্টিন টিম্বারলেক বলেন, তিনি প্রতিদিন দুটি নাশতা করেন।
৮. কর্মস্থলে যাওয়ার পোশাক তৈরি থাকে
সফল লোকরা সকালে অফিসের জন্য তৈরি হতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন না। তারা আগের রাতেই পরেরদিন অফিসে যাওয়ার জন্য পোশাক বাছাই করে রাখেন। অনেক সফল সিইও সময় বাঁচানোর জন্য প্রতিদিনই একইরকম পোশাক পরে অফিসে যান। সিমন কাওয়েল এবং মার্ক জুকারবার্গ প্রতিদিন একই রকম পোশাক পরে অফিসে যান। প্রয়াত অ্যাপল সিইও স্টিভ জবসও প্রতিদিন একই রকমের পোশাক পরে অফিসে যেতেন।