Hot!

Other News

More news for your entertainment

সুস্থ আছেন কিনা প্রশ্নোত্তরে জেনে নিন!


সম্প্রতি বিশ্ব স্বস্থ্য সংস্থার একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে বিশ্বে প্রতি বছর যতজন মানুষ অসুস্থতার কারণে মারা যান, তাদের বেশিরভাগকেই বাঁচানো সম্ভব হত যদি ঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা যেত। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমনটা করা যায়নি। কারণ নিজের শরীর সম্পর্কে আমাদের মতো দেশের বেশিরভাগ মানুষই কিছু জানেন না। ফলে শরীরে বাসা বেঁধে থাকা একাধিক রোগের উপস্থিতি তারা টেরও পান না। এমন অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব, যদি এই লেখায় আলোচিত প্রশ্নগুলির ঠিক ঠিক জবাব দিতে পারেন। কারণ এই প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার মাধ্যমেই আপনারা নিজেদের শরীর সম্পর্কে এমন অনেক কিছু জেনে যাবেন, যা এতদিন পর্যন্ত অজানা ছিল।

প্রশ্নগুলির জবাব দেওয়ার পর লেখার শেষে দেওয়া স্কোর কার্ডের সঙ্গে আপনার উত্তর মিলিয়ে দেখে নিন কোনও রোগ আপনার শরীরে চুপিসারে বাসা বেঁধেছে কিনা। প্রশ্নগুলি হল...

১. দিনে কতবার ধূমপান করেন?
# প্রতিদিন (স্কোর= -১০)
# কিছু কিছু সময় (স্কোর= -৭)
# খুব কম (স্কোর=-২)
# কোনও দিন না (স্কোর= ৩)

২.মদ্যপান করেন?
# প্রতিদিন (স্কোর= -১০)
# কিছু কিছু সময় (স্কোর= -৭)
# খুব কম (স্কোর= -২)
# একেবারেই না (স্কোর=৩)

৩. কতটা চিনি খান?
# খুব বেশি মাত্রায় (-১০)
# খুব বেশিও না, আবার কমও না (-৩)
# খুব কম (৩)

৪. প্যাকেটজাত মাংস খান?
# প্রতিদিন (-৭)
# সপ্তাহে ২-৩ বার (-৫)
# সপ্তাহে ১ বার (০)
# একেবারেই খাই না (৩)

৫. সবজি খান কি?
# দিনে ৩ বার খাই (৩)
# দিনে ২ বার খাই (২)
# দিনে একবার মাত্র খাই (১)
# খুব কমই সবজি খাওয়া হয় (০)

৬. কোল্ড ড্রিঙ্ক খান?
# প্রতিদিন (-৫)
# কিছু কিছু সময় (-১)
# খুব কম খাওয়া হয় (০)
# একেবারেই খাই না (৩)

৭. রাতে ৮ ঘন্টা ঘুমান?
# প্রতিদিন (৩)
# কিছু কিছু দিন (২)
# খুব কম সময়ই তেমন সুযোগ পাই (১)
# একেবারেই নয় (০)

৮. কাজের এনার্জি থাকে তো?
# প্রতিদিনই থাকে (৩)
# কিছু কিছু সময় থাকে (২)
# খুব কম থাকে (১)
# একেবারেই এনার্জি পাই না (০)

৯. কত দিন অন্তর অন্তর উপোস করেন?
# সপ্তাহে ১ বার (৩)
# মাসে ১ বার (২)
# কখনও নয় (০)

১০. প্রতিদিন কটা করে ফল খান?
# ৩-৪ টে (৩)
# ২-৩ টে (২)
# ১-২ (১)
# ০ (০ পয়েন্ট)

১১. সকালে কি বাজার চলতি সিরিয়াল জাতীয় খাবার খান?
# প্রতিদিন (-৫)
# শুধু শনিবার আর রবিবার (-২)
# অফিসে যেতে দেরি হয়ে যায় যেদিন সেদিন শুধু (-১)
# কখনও নয় (৩)

১২. শরীরচর্চা করেন নাকি?
# প্রতিদিন (৩)
# কিছু কিছু দিন (২)
# শুধু সপ্তাহের শেষে (১)
# একেবারেই করা হয়ে ওঠে না (০)

১৩. মেডিটেশন করেন?
# প্রতিদিন (৩)
# এক দিন বাদে বাদে (২)
# সপ্তাহে একবার (১)
# একেবারেই করা হয় না (০)

১৪. আপনার শরীরে সূর্যের আলো লাগে?
# প্রায়ই লাগে (৩)
# কখনও কখনও (২)
# খুব কম (০)

১৫. স্যালাড খান?
# প্রতিটি খাবারের সঙ্গে খাই (৩)
#দিনে ১ বার খাই (২)
# মূল খাবার খাওয়ার সময় শুধু খাই (১)
# কখনও খাওয়া হয় না (০)

১৬. আপনি কি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে জীবন চালান?
# প্রতিদিন (৩)
# মাঝে মাঝে (১)
# কখনও নয় (০)

১৭. আপনার পেটে কি চর্বি রয়েছে?
# অনেক মাত্রায় রয়েছে (-৫)
# খুব না হলেও রয়েছে। দেখে মনে হয় ৩ মাসের প্রেগন্যান্ট (-২)
# অল্প রয়েছে (০)
# একেবারেই নেই (৩)

১৮. গণ পরিবহনে যাতায়াত করেন?
# প্রতিদিন (-৩)
# কিছু কিছু সময় (-১)
# অল্প কয়েক দিন (০)
# একেবারেই নয় (৩)

১৯. নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর হেলথ চেকআপ করান?
# অবশ্যই (৩)
# এমনটা করা হয়ে ওঠে না (-৩)

এবার জেনে নিন আপনার শরীরের অবস্থা সম্পর্কে:
০-১৫: সবকটি প্রশ্নের উত্তর যোগ করার পর যোগফল যদি ০-১৫ মধ্যে থাকে তাহলে বুঝবেন আপনার শরীরের অবস্থা একেবারেই ভাল নেয়। তাই আপনাকে প্রতিদিন সবুজ শাক-সবজি খেতে হবে। সেই সঙ্গে নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো মাস্ট! প্রসঙ্গত, এমন মানুষদের ধূমপান এহং মদ্যপান একেবারে ছেড়ে দিতে হবে।

১৬-৪২: এর মধ্যে যারা আছেন তারা সেভাবে অসুস্থ না হলেও আপনাদের শরীরের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। আর জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে শরীর এবং মনকে আরও চাঙ্গা করে তোলা উচিত।

৪৩-৫৭: এদের শরীরের অবস্থা খুব ভাল। সুস্থভাবে দীর্ঘদিন বাঁচতে এইভাবেই থাকার চেষ্টা করুন।

অ্যান্ড্রয়েডের যে ৫টি তথ্য আপনি জানেন না


হাতে হাতে ফোন মানেই এখন স্মার্টফোন। আর স্মার্টফোন মানেই তাতে থাকতে হবে অ্যান্ড্রয়েড। অ্যান্ড্রয়েড ছাড়া স্মার্টফোন ভাবাই যায় না। অপারেটিং সিস্টেমগুলির মধ্যে এখন সবথেকে জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড। কিন্তু এই অ্যান্ড্রয়েডের সম্পর্কে কতটা জানেন? জেনে নিন অ্যান্ড্রয়েডের অজানা ৫টি তথ্য।

১) সারা বিশ্বে যত স্মার্টফোন রয়েছে, তার মধ্যে ৮১ শতাংশ স্মার্টফোনেই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে।
২) আমরা অনেকেই মনে করি গুগল আর অ্যান্ড্রয়েড একই কোম্পানি। কিন্তু আসলে তা নয়, গুগল অ্যান্ড্রয়েড তৈরি করেনি।
৩) প্রথম অ্যান্ড্রয়েড প্রোটোটাইপ অনেকটা ব্ল্যাকবেরির মতো দেখতে ছিল।
৪) ২০০৮ সালে প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন লঞ্চ করেছিল।
৫) এখনও পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েডের সব ভার্সনের নামই মিষ্টির নামে রাখা হয়েছে।

বিলুপ্ত কয়েকটি কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা


স্বৈরাচারী বা অগণতান্ত্রিক সরকারগুলোতে জনগণের ওপরে নজরদারি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় কাজ। বর্তমানে অবশ্য পৃথিবীর অনেক দেশেই নজরদারির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেসব সংস্থা এই কাজগুলো করে তাদেরকে গুপ্ত পুলিশ বা ওই ঘরানার নাম দেওয়া হয়। এই বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনীগুলোর সদস্যরা সরকারি সমর্থনের ফলে কখনো কখনো এত ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে যে দেশের ইতিহাসেই এরা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। গুপ্ত পুলিশ বা সিক্রেট পুলিশ যদি লাগামছাড়া শক্তি পেয়ে বসে, তবে দেশের মানুষের কাছে তারা হয়ে ওঠে আতংকের অন্য নাম। বিলুপ্ত করে দেওয়া এমনই কয়েকটি কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থার কথা আজ বলবো।

স্তাসি (পূর্ব জার্মানি)
১৯৪৯ সালে সোভিয়েত সমর্থিত পূর্ব জার্মানী গঠিত হওয়ার মাস চারেকের মধ্যে স্তাসি গঠন করা হয়। স্তাসি শব্দটি জার্মান মিনিস্ট্রি ফর স্টেট সিকিউরিটি এর সংক্ষিপ্ত রূপ। শুরু দিকে এই সংস্থা খুব ছোট ছিল। মূলত পশ্চিমা গুপ্তচর আর নাৎসীদের ওপরে নজরদারি করাই এর কাজ ছিল। তবে ১৯৫৭ সালে এরিখ মিয়েল্কে এর প্রধান হয়ে আসার পর সব বদলে যায়। ১৯৮৯ সাল স্তাসিতে কর্মরত ছিল এক লক্ষ মানুষ। এর বাইরে অনিয়মিত এজেন্ট আর ইনফরমার ছিল প্রায় ২০ লক্ষ। মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ স্তাসির নজরদারির আওতায় ছিল। ইরাক সহ এশিয়া আর আফ্রিকার বহু দেশে স্তাসি এজেন্টরা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছে।
source: pinterest

মিয়েল্কেকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম বলতো ‘মাস্টার অব ফিয়ার’। সোভিয়েতদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মিয়েল্কে এর আমলে স্তাসি বিশ্বের সবথেকে দক্ষ এবং কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থায় পরিণত হয়। সে আমলে পূর্ব জার্মানি থেকে অনেকেই পালিয়ে পশ্চিম জার্মানিতে চলে যেত। স্তাসি কর্মকর্তারা এসব পালিয়ে যাওয়া লোকদেরকে অপহরণ করে ফেরত আনতেন। পূর্ব জার্মানীর নাগরিকদের ওপরে সার্বক্ষণিক নজরদারি করবার জন্য স্তাসি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে প্রচুর এজেন্ট নিয়োগ করতো। সমাজে সৃষ্টি হয়েছিল এক চাপা আতংক। কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারতো না। ফলে সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অসন্তোষ দানা বাধতে পারতো না। বার্লিন প্রাচীর টপকে পালাবার সময় অনেক মানুষ স্তাসি এজেন্টদের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
source: wikimedia commons

১৯৮৯ সালে মিয়েল্কে সংসদে বক্তৃতা দিতে গেলে তাকে খুব বাজেভাবে অপদস্থ করা হয়। সেই ফুটেজ আবার সম্প্রচারও করা হয়। সবাই বুঝতে পারে স্তাসি আর টিকবে না। কয়েক মাসের মধ্যে, ১৯৯০ সালে স্তাসি বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়। ‘দ্য লাইভস অব আদার্স’ নামের বিখ্যাত চলচ্চিত্রটি জনৈক স্তাসি কর্মকর্তাকে নিয়ে বানানো হয়েছে।

সাভাক (ইরান)
অর্গানাইজেশন অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ওরফে সাভাক ছিল ইরানের শাসক রেজা শাহ পাহ্লবী এর গোয়েন্দা সংস্থা। ১৯৫৭ সালে সিআইএ আর মোসাদের আদলে এটি গড়ে তোলা হয়। ইরানের সবথেকে ভয়ংকর সংগঠন ছিল এই সাভাক।

রেজ শাহ কম্যুনিস্ট আর ধর্মীয় সংগঠনগুলিকে ভীষণ ভয় পেতেন। তার নির্দেশে সাভাক গোটা দেশ জুড়ে যথেচ্ছ ধড়পাকড় চালাতো। বিশেষ করে সাভাকের অত্যাচার আর জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি ছিল ভয়ংকর। বন্দীকে প্রয়োজনে অপহরণ করে খুন করে ফেলতেও সাভাক এজেন্টদের বাধতো না। বিদেশে পড়তে যাওয়া ইরানি ছাত্রদের ওপরেও নজরদারি চালাতো এই সংগঠন।

ঘুমাতে না দেওয়া, একলা আটকে রাখা, পায়ের পাতায় চাবুক মারা, নখ উপড়ে ফেলা, বৈদ্যুতিক শক, সাপ দিয়ে ভয় দেখানো, নাকে এসিড ঢেলে দেওয়া, ধর্ষণ, বন্দীর গায়ে মূত্র বিসর্জন- সাভাকের অত্যাচারের ধরণ তালিকা করেও শেষ হবে না। বন্দীরা শেষমেষ বাধ্য হয়ে টিভিতে এসে স্বীকার করতেন নিজেদের দোষ। তারা ইরান সরকারের গুণগাণ করতেন। না করলেই আবার অত্যাচার। সাভাক তেহরানের কুখ্যাত এভরিন কারাগারসহ দেশজুড়ে অনেকগুলো নিজস্ব কারাগার পরিচালনা করতো। ১৯৭৯ সালে শাহের পতনের কিছুদিন আগে সাভাক বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়। ‘পার্সেপোলিস’ নামক সিনেমাটিতে সাভাকের অত্যাচারকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

ওখরানা (রাশিয়া)
১৮৮১ সালে ওখরানা প্রতিষ্ঠা করে রুশ জার। মূলত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নিহিলিস্টদের দমন করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। পরবর্তীতে কম্যুনিস্টদের বিরুদ্ধেও এরা প্রচুর কাজ করেছি। রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে নির্বাসিত আর পলাতক কম্যুনিস্টদের অন্যতম আড্ডা প্যারিসেও ওখরানা সক্রিয় ছিল।
source: rarehistoricalphotos.com

ওখরানা কুখ্যাত ছিল এর ভয়ানক অত্যাচার আর বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের জন্য। ওখরানা কর্মকর্তারা বিপ্লবীদের মধ্যে ঢুকে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকান্ড চালাতেন। অনেক প্রথম সারির বিপ্লবী তাদের এই প্রলোভনে পা দিয়ে বিপদে পড়েছেন। বলশেভিকেরা দাবি করে ‘ব্লাডি সানডে’ তে পাদ্রী গ্যাপন ওখরানা কর্মকর্তাদের নির্দেশমতো কাজ করছিলেন। ওখরানা বলশেভিকদের মোকাবেলা করবার জন্য শ্রমিকদের মধ্যে আলাদা ট্রেড ইউনিয়ন পর্যন্ত গড়ে তুলেছিল। তাদের গোপন সাহায্যে ১৯০৩ সালে রাশিয়ায় ‘দ্য প্রটোকলস অব দ্যা এল্ডার্স অব জায়ন’ নামের একটি ইহুদী বিদ্বেষী পুস্তিকা প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য, ট্রটস্কীসহ অনেক বিখ্যাত বলশেভিক নেতা ইহুদি পরিবারে জন্মেছিলেন। পরে হিটলারের সমর্থকেরা এই পুস্তিকাটিকে ইহুদীদের ওপরে আক্রমণ করবার জন্য অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতো।

১৯১৭ সালে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পরে উত্তেজিত জনতা ওখরানার কার্যালয় পুড়িয়ে দেয়।

এনকেভিডি (সোভিয়েত ইউনিয়ন)
নারোদনি কমিসারিয়েট ভনুত্রেন্নিখ ডেল ওরফে এনকেভিডি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯১৭ সালে। ১৯৩০ সাল পর্যন্ত এটি কেবল সাধারণ পুলিশ সংস্থা ছিল। পরে, ১৯৩৪ সালে গুপ্ত পুলিশ ওগপু কে এর সাথে জুড়ে দিলে এনকেভিডি দারুণ শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ও পরবর্তী সময়ে পূর্ব ইউরোপ আর সোভিয়েত ইউনিয়নে গজিয়ে ওঠে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনগুলোকে পিষে ফেলে এনকেভিডি। কাতিন গণহতার মতো অনেকগুলো গণহত্যা আর খুনের রক্ত লেগে আছে এই সংস্থার গায়ে। লক্ষাধিক মানুষ মরেছে এই সময়ে। এর বাইরে এনকেভিডির সবথেকে কুখ্যাত কাজ হল তিরিশের দশকে স্তালিনের নির্দেশে সোভিয়েত সমাজ আর কম্যুনিস্ট পার্টির লক্ষ লক্ষ মানুষকে বন্দী ও হত্যা করা, অত্যাচার, গুলাগে পাঠিয়ে দেওয়া ইত্যাদি। এনকেভিডির হাতে কেবল স্তালিনের সমালোচক হওয়ার অপরাধে বহু নিবেদিত কম্যুনিস্টকে প্রাণ খোয়াতে হয়েছে। ট্রটস্কিকেও হত্যা করে এক এনকেভিডি এজেন্ট।
source: pinterest

এনকেভিডি অবশ্য দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জার্মান বাহিনীর ওপরে অসংখ্য গুপ্ত হামলা চালিয়ে প্রভূত সাহায্য করেছিল মিত্রশক্তিকে। এর এজেন্টদের দক্ষতার কারণেই ১৯৪৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন অতি অল্প সময়ে পরমাণু শক্তিধর হয়ে ওঠে। এনকেভিডির প্রধানদের দুর্ভাগ্যও লক্ষ্য করবার মতো। লক্ষ মানুষের অভিশাপের কারণেই কিনা কে জানে, এর প্রথম পরিচালক গেন্নাদি ইয়াগোদাকে স্তালিনের নির্দেশে খুন করা হয়। পরবর্তী প্রধান নিকোলাই ইয়াজভেরও একই পরিণতি হয়। শেষজন, ল্যাভরেন্তি বেরিয়া কয়েক লক্ষ মানুষকে হত্যা করে, গুলাগে পাঠিয়ে শেষমেষ নিজেই এক সোভিয়েত জেনারেলের গুলি খেয়ে মরেন। ১৯৫৩ সালে এনকেভিডি ভেঙ্গে কেজিবি গঠন করা হয়।

 দিনা (চিলি)
দিরেক্তোরেত দে ইন্তেলিজন্সিয়া ন্যাশিওনাল ওরফে দিনা গঠন করা হয় ১৯৭৩ সালে, চিলিতে। জনপ্রিয় নেতা সালভাদর আয়েন্দেকে খুন করে তখন সদ্য ক্ষমতায় এসেছেন অগুস্তো পিনোশে। দেশব্যাপী বিক্ষুব্ধ মানুষকে বশে আনবার জন্য দিনা গঠন করা হয়। শুরুতে এটি সেনাবাহিনীর হাতে থাকলেও ১৯৭৪ সালে একে পৃথক সংস্থা করা হয়
source: The Santiago Times

দিনা চিলিতে হাজার হাজার মানুষের গুম আর হত্যার জন্য দায়ী। মেয়েদেরকে ধর্ষণ করা আর জীবিত বন্দীদের পায়ের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়া ছিল এর অত্যাচারের অন্যতম ধরণ। অপারেশন কন্ডোর আর অপারেশন কলম্বো নামের দুটি কুখ্যাত কম্যুনিস্ট বিরোধী কার্যক্রমে মার্কিন সিআইএর সাথে কাজ করেছে দিনা কর্মকর্তারা। হাজার হাজার বন্দীকে আতাকাম মরুভূমির বিরান অঞ্চলে আটকে রাখতো দিনা কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে, পিনোশের পতনের পর অনেক দিনা এজেন্টকে বিচারের আওতায় আনা হয়। পিনোশে অবশ্য বিচারকাজ শুরু হওয়ার আগেই মারা যান।

প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে হলে...


যদি প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করে ধনী হতে চান, তবে ক্রমবর্ধমান কোনো পাবলিক কম্পানিতে বিনিয়োগ করা উচিত। বড় বড় সব টেক জায়ান্ট এমনই প্রতিষ্ঠান। মাত্র শুরু করেছে কিন্তু সম্ভাবনাময়, এমন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করলেও লগ্নি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এতে আপনার অবস্থান নিরপেক্ষভাবে নাও দেখা হতে পারে। আবার ৫ বছর ধরে যদি একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর পেছনে সময় দেন তবে ব্যর্থ হলেও প্রচুর অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। বিশেষজ্ঞরা এখানে জানিয়েছেন, টেক খাতে বিনিয়োগ করে ধনী হতে কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

১. প্রথমেই ঠিক করে নিন আপনি কি করবেন। নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দেবেন। নাকি পুরোনো কোনটিতে। আবার এ প্রতিষ্ঠানে নিজের কি ভূমিকা দেখতে চান, তাও ঠিক করুন। আপনি বিভিন্ন স্থানে গিয়ে কাজ করতে চান বা পরোক্ষভাবে কাজ করতে চান। আগে নিজের অবস্থান ঠিক করে নিতে চান।

২. নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে আপনি হলে নিজের চাহিদাগুলো ঠিক করে নিন। নতুন শ খানেক প্রতিষ্ঠান বের করুন। এদের মধ্যে ৫০টির সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ২০টি প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিন। সব প্রতিষ্ঠান থেকে ২-৩টি করে ভালো প্রস্তাব বেরিয়ে আসবে। এখান থেকে ঠিক করুন কি করতে চান।

৩. উন্নত সংস্কৃতি ও গুণসম্পন্ন মানুষে পূর্ণ প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার চেষ্টা করুন। প্রতিষ্ঠানটি আপনার চাহিদা না পূরণ করতে পারলেও তুষ্ট থাকতে পারবেন।

৪. অনেকেই প্রথমেই এমন আয়ের আশা করেন যা পুরোপুরি  অবাস্তবিক। এ ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত হোন। প্রযুক্তি কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে তারা শীর্ষস্থানীয় কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মতো আয় আশা করেন। এটা ভুল চিন্তা।

৫. যাই করেন না কেন, তা অর্জন করে নেওয়ার চেষ্টা করুন। এমনিতেই এসে ধরা দেবে না। বাড়তি সুবিধাভোগের চিন্তা তখনই করতে পারেন, যখন তা আপনার প্রাপ্য হবে। আপনার চাহিদা সুষ্ঠু থাকলে প্রতিষ্ঠানও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে পারবে।

৬. প্রতিষ্ঠান ও সেবাগ্রহণকারীর জন্যে কিছু করার ইচ্ছা মনে পুষে রাখুন। নির্দিষ্ট কিছু কাজ ছাড়া আপনার ভূমিকা হয়তো গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সার্বিকভাবে মানুষের জন্যে এমন কিছু করছে যা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক সবাই। প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত উন্নয়নের জন্যে কাজ করে যান। আপনারও উন্নয়ন ঘটবে।

৭. প্রতিষ্ঠান যে ব্যবসায় নেমেছে তার সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান রাখুন। এ বিষয়ে আপনাকে বিশেষজ্ঞ হতে হবে না। কিন্তু অজ্ঞ থাকাও চলবে না। প্রয়োজনে অভিজ্ঞজনদের কাছ থেকে জেনে নিন। প্রশ্ন প্রস্তুত করুন এবং তা ছুঁড়ে দিন। মৌলিক বিষয়ে জ্ঞান থাকলে আপনার উন্নতি রুখতে পারবে না কেউ।

৮. স্বচ্ছতার প্রতি আসক্ত থাকুন। প্রতিষ্ঠান হয়তো খুঁটিনাটি সব আপনাকে জানাতে পারবে না। এর জন্যে তার দিকে আঙুল তুলতে পারেন না। যে বিষয়গুলো জানলে গোটাটা পরিষ্কার হবে তা জেনে নিন। বুঝে নিন ওই প্রতিষ্ঠানে আপনার অংশ কতটুকু। যদি প্রতিষ্ঠান আপনাদের মিথ্যা তথ্য দেয়, তবে অন্যকিছু ভাবার চেষ্টা করুন।

ডাম্বেল নিয়ে সহজ ব্যায়াম

ডাম্বল নিয়ে ব্যায়ামের সঙ্গে আগেই পরিচিত হয়েছেন আপনি। আজ ডাম্বেল নিয়ে আরো কিছু ব্যায়ামের সঙ্গে পরিচিত হব আমরা। সহজ কিছু ব্যায়াম, যার জন্য প্রয়োজন শুধু দুটি ডাম্বল। এ জন্য ট্রেনিং সেন্টারে যেতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ঘরেও করা যেতে পারে সহজ এ ব্যায়ামগুলো। শুরুতে প্রয়োজন নেই ভারী ডাম্বেলেরও। হালকা দুটি ডাম্বল দিয়েই শুরু করা যেতে পারে।
স্কোয়াট জাম্প
১.  দুই হাতে দুটি ডাম্বেল নিয়ে মেঝেতে পা সমান্তরাল রেখে একটু নিচু হয়ে হালকা মতো বসতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, শরীরের পুরো ভরটা যেন পায়ের গোড়ালির ওপর থাকে এবং বুক সামনের দিকে থাকে।
২.   ডাম্বলসহ ওপরের দিকে এমনভাবে লাফ দিতে হবে, যেন দুই পা সোজা অবস্থায় আসে। লাফানোর পর পা মাটি স্পর্শ করার পর আবার হালকাভাবে বসতে এবং লাফ দিতে হবে।
বেন্ট ওভার রো হোল্ড
১.   দুই হাতে ডাম্বল নিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে ডাম্বল দুটি উঁচু করে বুকের কাছে আনতে হবে।
২.   ডাম্বল ধরা একটা হাত বুকের কাছে রেখে অন্য হাতটা নিচে নামাতে হবে। আবার হাতটা আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে হবে। এবার অন্য হাতটা একইভাবে নিচে নামিয়ে আবার আগের জায়গায় আনতে হবে।
রোলিং ফ্লোর প্রেস
১.   দুই হাতে দুটি ডাম্বল নিয়ে চিত হয়ে শুতে হবে। এ সময় দুই হাঁটু ভাঁজ করা থাকবে এবং দুই হাতের কনুই মেঝের সমান্তরালে রেখে ডাম্বল দুটি উঁচু করে ধরতে হবে, যাতে বুকের ওপর থাকে।
২.   এবার একপাশে কাত হয়ে অন্য হাত উঁচুতে তুলে ধরতে হবে। এবার বিপরীত পাশে ফিরে অন্য হাতে ওপরে তুলতে হবে এবং ওপরের হাতে নিচে নামাতে হবে।
আয়রন ক্রস
১.  দুই হাতে দুটি ডাম্বল নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ডাম্বল দুটি ধীরে ধীরে হাত সোজা অবস্থায় মাথার ওপর তুলতে হবে।
২.  ধীরে ধীরে হাতে ধরা ডাম্বল নিচে নামাতে হবে। হাত কাঁধ বরাবর আসার পর থামতে হবে, আবার ওপরে তুলতে হবে। এভাবে কয়েকবার অনুশীলন করতে হবে।

ফটোগ্রাফিক মেমোরি বলতে কি আসলেই কিছু আছে?


ধরুন, আগামীকাল আপনার কোনো একটা ফাইনাল পরীক্ষা, আপনি পড়ছেন, আরো পড়ছেন, কিন্তু সিলেবাস শেষ হচ্ছে না। যা-ই পড়ছেন, নতুন কিছু একটা শুরু করতে গিয়েই মনে হচ্ছে আগেরটা ভুলে গিয়েছেন। এমন অবস্থা তো আমাদের সবার জীবনেই হয়েছে, তা-ই না? তখন কি মনে হয় না, ইশ আমার যদি ফটোগ্রাফিক মেমোরি থাকতো, কতই না ভালো হতো! একবার দেখতাম, সব ঢুকে যেত মাথায়, পরীক্ষায় গিয়ে শুধু উগড়ে দিয়ে আসতাম! তারপর একদম কেল্লা ফতে! সেরা ফলাফল আর ঠেকায় কে!

শুনতে বেশ সিনেমাটিক লাগছে তাই না? সিনেমাটিকই বটে, সুপারম্যানের লেক্স লুথর, এক্স ম্যানের প্রোফেসর এক্সের মতো চরিত্রের মাঝে ফটোগ্রাফিক মেমোরি দেখতে দেখতেই আমাদের মনে গেঁথে গেছে ফটোগ্রাফিক মেমোরির অস্তিত্ব।

কিন্তু পর্দার বাইরের বাস্তব জীবনে কি আসলেই ফটোগ্রাফিক মেমোরি বলে কিছু আছে? মানুষের ভালো স্মৃতিশক্তি তো আমরা অহরহই দেখতে পাই। দাবার গ্র্যান্ডমাস্টাররা দাবা বোর্ডের দিকে পাঁচ সেকেন্ড তাকিয়েই স্মৃতিতে গেঁথে নিতে পারেন সবার অবস্থান। রুবিক্স কিউব যারা অনেক দ্রুত মেলান, তারাও একবার তাকিয়ে মনে রাখতে পারেন সম্পূর্ণ কিউবটা কীভাবে আছে। অবশ্য তাদের এটা পারেন কারণ তাদের কাছে দাবার ঘুঁটির বিভিন্ন অবস্থান আর রুবিক্স কিউবের সজ্জা মাথায় প্যাটার্নের মতো গেঁথে আছে।  তারপর হাইপারথেসমিয়া বা 'কিছু না ভোলার রোগ' বলে একটা ব্যাধি আছে, এ রোগ থাকলে মানুষ দৈনন্দিন জীবনের কিছুই ভুলতে পারে না এবং এ ব্যাপারটার উপর সে রোগীর কোনো নিয়ন্ত্রণও থাকে না। কিন্তু ফটোগ্রাফিক মেমোরি বলতে আমরা বুঝি একটু অন্যরকম কিছু- কোনো একজন মানুষ কোনোকিছুর দিকে তাকালো, একটি মানসিক ছবি নিয়ে নিলো, পরে সম্পূর্ণ একটি ছবির মতোই সেই দৃশ্যটাকে মনে করে ফেললো।

এধরনের ফটোগ্রাফিক মেমোরির আসলে কোনো নজির আছে কি না, তা জানতে আমরা একটু পেছনে তাকাই।

১৯৭০ সালে 'ন্যাচার' জার্নাল থেকে একটা স্টাডি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয় এলিজাবেথ নামক এক নারীর কথা, যিনি নাকি অনেকটাই ফটোগ্রাফিক মেমোরির অধিকারী। তার উপরে করা টেস্টটায় তাকে আলাদাভাবে এমন দুটো ডট প্যাটার্ন দেখানো হয়, যেগুলোকে এক করলে একটি পরিচিত চিহ্ন বা অক্ষর দেখা যাবে। এলিজাবেথকে সেগুলো দেখানোর পর তিনি বলে দিতে পারতেন, অক্ষর বা চিহ্নটি আসলে কী। তিনি নাকি বিদেশী ভাষা, অর্থাৎ যেই ভাষা তিনি জানেনই না, সে ভাষার কবিতাও মুখস্থ বলে দিতে পারতেন একবার দেখেই।
এলিজাবেথের উপরে নেয়া হয়েছিল এমনই একটি মেমোরি টেস্ট, এ দুটোর লাল ডট মিলিয়ে 'F' অক্ষরটি তৈরি করে; image source: drawinglics.com

এ স্টাডিটি তখন বিজ্ঞানীমহলে হৈচৈ ফেলে দেয়। অন্য বিজ্ঞানীরাও তখন ব্যাপারটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ১৯৭৯ সালে জন মেরিট নামের আরেকজন গবেষক একটি ফটোগ্রাফিক মেমোরি টেস্ট তৈরি করে জনপ্রিয় পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

প্রায় দশ লাখের মানুষ তার টেস্টটি সল্ভ করার চেষ্টা করেন, সফল হন মাত্র ৩০ জন। তাদের মধ্যে ১৫ জন মানুষের সাথে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করেন, কিন্তু সামনাসামনি সেই মানুষগুলো আর ফটোগ্রাফিক মেমোরির প্রমাণ দেখাতে পারেন না। তাই এলিজাবেথ তখনো অদ্বিতীয়ই থেকে যান।

কিন্তু এই এলিজাবেথ গল্পের সত্যতা সম্পর্কেই আসলে কোনো নিশ্চয়তা নেই। তার এই স্টাডিটি প্রকাশ হবার পর, তার উপর আরো টেস্ট করার প্রস্তাব করা হয়, কিন্তু তিনি আর রাজি হননি। এবং, স্টাডিটির লেখক আর এলিজাবেথ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কিছুদিনের মধ্যেই।

সুতরাং, সেই গবেষণাটির ফলাফল যে বৈজ্ঞানিক কৌতূহল ছাড়াও অন্য কোনো আবেগ দ্বারা প্রভাবিত ছিল না, তার নিশ্চয়তা কি আদৌ আছে?

এই ঘটনার পরও, বেশকিছু মানুষই দাবি করেছেন যে তাদের ফটোগ্রাফিক মেমোরি আছে। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করার পর দেখা গেছে, তাদের কারোরই আসলে এধরনের কিছু ছিল না, কেউ হয়তো ক্ষেত্রবিশেষে খুব ভালো স্মৃতিশক্তির নজির দেখিয়ে ফেলেছিলেন, কারো দাবিটিই ছিল নিতান্ত মিথ্যে।

তবে ফটোগ্রাফিক মেমোরির কাছাকাছি একটা ব্যাপার কিন্তু প্রকৃতিতে আছে। এর নাম 'আইডেটিক ইমেজারি'। পুরোপুরি ফটোগ্রাফিক মেমোরির মতো না হলেও আইডেটিক ইমেজারি ব্যাপারটাও বেশ মজার।

আইডেটিক ইমেজারি যাদের থাকে, তাদেরকে বলা হয় আইডেটিকারস। তারা বাস্তবে কোনো একটা ছবি দেখার পর চোখ সরিয়ে নিলেও সে ছবিটি দেখা চালিয়ে যেতে পারে, বিবরণ দিতে পারে খুব ছোট ছোট ডিটেইলের। তাদের সেই ছবি দেখার অভিজ্ঞতাও হয় একদম আসলটা যখন দেখেছিল, ঠিক তেমন। এছাড়াও মনের মধ্যেও তারা তৈরি করে ফেলতে পারে এরকম ছবি, যেটা দেখার অভিজ্ঞতার সাথে বাস্তব ছবি দেখার অভিজ্ঞতার কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু ছবিটা সাধারণত ধীরে ধীরে কয়েক মিনিটের মধ্যে উধাও হয়ে যায় চোখের সামনে থেকে, আর চোখ বন্ধ করলে বা পলক ফেললেও উধাও হয়ে যায় এমনিতেই। আর যদি একবার চোখের সামনে থেকে উধাও হয়ে যায়, তখন সেটা আর ফিরেও আসে না। এছাড়া যখন ছবিটা চোখের সামনে থাকেও, এমন না যে সেখান থেকে লেখা পড়ে লিখে ফেলা যাবে খুব, তাই আমরা ফটোগ্রাফিক মেমোরি দিয়ে যা করার কথা ভাবি, তা আসলে আইডেটিক ইমেজারি দিয়ে করা সম্ভব নয়।

তবে অদ্ভুত বিষয় হলো, এই আইডেটিক ইমেজারিটা শুধুমাত্র শিশুদের মধ্যেই দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এর নজির এখনো একবারও পাওয়া যায়নি। আর শিশুদের জন্যেও, তারা যত বড় হতে থাকে, এই ইমেজ দেখার ক্ষমতা কমতে থাকে।  তাই গবেষকরা ভাবছেন, আইডেটিক ইমেজারি হারিয়ে যাওয়া সম্ভব স্বাভাবিক বিকাশেরই অংশ। তবে অনেকে এও বলেন যে, আমরা যত বড় হই, আমাদের চিন্তা তত ভাষাভিত্তিক হয়। আমরা শব্দে ভাবি, ছবিতে নয়। আর যখন কোনো একটা বস্তুর জন্য আমরা শব্দ তৈরি করে ফেলি, তখন সে বস্তুর আইডেটিক ইমেজ আর আমরা তৈরি করতে পারি না। এ কারণেই আইডেটিক ইমেজারি হারিয়ে যেতে থাকে ভাষায় দক্ষ হবার সাথে সাথেই।

তবে একটি শিশুর ভাষার দক্ষতা বাড়ার সাথে সাথেই তার আইডেটিক ইমেজারি কমে যাচ্ছে, এটা সবসময়ই হয় না, কিছু স্টাডিতে এর ব্যতিক্রমও দেখা গেছে। তাই এই ব্যাখ্যাটি ভুলও হতে পারে।

আবার এও দেখা গেছে যে, আইডেটিক ইমেজারি মস্তিষ্কের অক্সিপিটাল লোবে আলফা-ওয়েভ অ্যাক্টিভিটির জন্ম দেয়। আলফা-ওয়েভ অ্যাক্টিভিটি সাধারণত মানুষের হয় জাগ্রত অবস্থায় চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নেবার সময়, অথচ আইডেটিক ইমেজারি দেখবার সময় চোখ থাকে বন্ধ। এসব তথ্যে বিজ্ঞানীরা বেশ বিভ্রান্তই আছেন এখনো।
আইডেটিক ইমেজারি মস্তিষ্কের অক্সিপিটাল লোবে আলফা-ওয়েভ অ্যাক্টিভিটির জন্ম দেয়; image source: imcreator.com

তাই আইডেটিক ইমেজারির প্রকৃতি ও কারণ এখনো একদম নিশ্চিতভাবে বের করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

কিন্তু ফটোগ্রাফিক মেমোরি যে আসলে বাস্তবে নেই, সেটা বিজ্ঞানীরা মোটামুটি নিশ্চিত। তাই এক ঝলকেই স্মৃতিতে গেঁথে ফেলব, এরকম শর্টকাটও আসলে নেই। স্মৃতিশক্তিকে তুখোড় করার উপায় তাই নিয়মিত অনুশীলন। এছাড়া নেমোনিক (Mnemonics) ব্যবহার করে মনে রাখাও একটা ভালো উপায়। নেমোনিক হচ্ছে ছড়া, ছন্দ বা কোনো গল্প- এধরনের বিভিন্ন স্মৃতিসহায়ক দিয়ে কিছু মনে রাখার পদ্ধতি। এই নেমোনিক ব্যবহারকে পাকাভাবে রপ্ত করেই বিভিন্ন স্মৃতিশক্তি প্রতিযোগিতার প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতায় সয়লাব করে থাকে। মোদ্দা কথা, চর্চা আর অধ্যবসায় আপনাকে করতেই হবে।  তবে এই প্রবন্ধ পড়ার পর থেকে নিশ্চয়ই আপনি আর আপনার ফটোগ্রাফিক মেমোরি থাকার আশা করবেন না। এ নিয়ে আফসোস করারও কিছু নেই, এটা আপনার যেমন নেই, তেমনি পৃথিবীর কারোরই নেই।

ল্যুভর: দুর্গ থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর্ট মিউজিয়াম হয়ে ওঠা


শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর আমাদের দেশে জাদুঘরগুলোর মধ্যে বৃহত্তম। কিন্তু এর চাইতেও বড়; পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর্ট মিউজিয়ামটি (শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জাদুঘর) যদি আপনার শহরে হতো, তাহলে কেমন হতো? কেমন লাগতো ১৫ একরের এক জাদুঘর প্রতিদিনই একটু একটু ঘুরে দেখতে আর প্রতিদিনই অজানা নানা তথ্য জানতে?

প্যারিসে যারা থাকেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর্ট মিউজিয়ামটি হাতের নাগালে পাওয়ার সৌভাগ্যটা তাদেরই। এখন নিশ্চয়ই বুঝতে বাকি নেই কোন জাদুঘরের কথা বলা হচ্ছিলো। প্যারিসে প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে অবস্থান করছে বিশ্ব বিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘর। এটি বিশ্বের পুরনো জাদুঘরগুলোর একটি। শুধু জাদুঘর নয়, রয়েছে আর্ট গ্যালারিও। মধ্যযুগ থেকে শুরু করে ১৮৪৮ অর্থাৎ ১৯ শতক পর্যন্ত পশ্চিমা শিল্পের এক বিশাল সমাহার রয়েছে ল্যুভরে। পাশাপাশি রয়েছে প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন।

মজার ব্যাপার হলো, দর্শনার্থীরা যে ভবনে শিল্প আর সভ্যতার নিদর্শনগুলো দেখতে যায়, সেটি নিজেই কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে এটি ছাড়াও পরে বেশ কিছু স্থাপনা তৈরি হয়েছে। তাই এখানে শুধু শিল্প আর সভ্যতার নিদর্শনগুলো নয়, লক্ষ্য করা যায় ১২ শতক থেকে ২১ শতকের স্থাপত্যের বির্বতের নিদর্শনও।

দুর্গ থেকে রাজপ্রাসাদ
অনেকের মধ্যে একটা ভুল ধারণা কাজ করে যে, ল্যুভরকে জাদুঘর করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিলো। আর এ ধারণাটিকে আরো জোরালো করে ল্যুভরে অবস্থিত কাঁচের পিরামিডটি। অনেকের জন্য এটা বিশ্বাস করা কঠিন হতে পারে, যে জাদুঘরে মোনালিসার মতো জগৎ বিখ্যাত চিত্রকর্মের ঠাঁই হয়েছে, সেটি ছিলো প্রকৃতপক্ষে এক দুর্গ। সিন নদীর তিরে আবস্থিত এ দুর্গটিতে পরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজা বসবাস করেছেন।

রাজা দ্বিতীয় ফিলিপের শাসনামলে, বারো থেকে তেরো শতকের মাঝে ল্যুভর তৈরি করা হয়, দুর্গ হিসেবে। অনেকের ধারণা, রাজা ফিলিপ অগাস্টের নির্দেশে ১১৯০ সালে দুর্গটির নির্মাণ শুরু হয়। ক্রুসেডের যুদ্ধে যাওয়ার আগে প্যারিস শহরকে ভাইকিং দস্যুদের হাত থেকে রক্ষার জন্য তিনি এ দুর্গ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। সিন নদী আর শহরের সংযোগস্থলে নির্মিত হয় ল্যুভর। শহরকে বর্হিরাক্রমণ হতে রক্ষার জন্য এই স্থানটি ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। ল্যুভরের অবস্থান এখন যেমন শহরের কেন্দ্রে, তখন এর অবস্থান এমন ছিলো না। এর অবস্থান ছিলো শহরের বাইরের দিকে আর এর কাজ ছিলো শহরের উপর প্রতিরক্ষামূলক নজরদারি করা।
পঞ্চশ চার্লসের সময় ল্যুভর (১৩৮০); Sketch: Theodor Josef Hubert Hoffbauer

প্রতিরক্ষার দিকে খেয়াল রেখেই করা হয় এ দুর্গের নকশা। ভবনের আকৃতি ছিলো চতুষ্কোণ, যার চারপাশ ছিলো পরিখাবেষ্টিত। প্রাচীরের সাথে চারদিক দিয়ে ছিলো বেশ কিছু প্রতিরক্ষামূলক টাওয়ার। প্রধান টাওয়ারটি ছিলো ঠিক মাঠের মাঝখানে আলাদা এক পরিখায় ঘেরা। আরো ছিলো রাজসিন্দুক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কারাদণ্ডের জন্য বিশেষ সিলিন্ডার আকৃতির এক ভবন।

তবে পরবর্তীতে নগরের পরিধি বাড়ার ফলে প্রতিরক্ষার কাজে এ দুর্গটি আর ব্যবহৃত হয়নি। এখনও জাদুঘরের বেইসমেন্টে (ভবনের সর্বনিম্ন তলা, যা ভূগর্ভস্থ) পুরনো সেই দুর্গের অংশ দেখা যায়, যা সেইন্ট লুইসের (১২২৬-৭০) আমলে তৈরি। বিভিন্ন নথিপত্র ও এর আগের নকশা বিশ্লেষণ করে বলা যায়, ফিলিপ অগাস্ট যে ল্যুভর তৈরি করেছিলেন, সেটিকে কোনোভাবেই রাজপ্রাসাদ বলা চলে না, বরং এটি ছিলো পুরোদস্তর গ্যারিসন।
ল্যুভরের আদি নকশা; Source: Plan of medieval Louvre - Berty 1866

১৫৪৬ সালে রাজা প্রথম ফ্রান্সিস এতে থাকার ব্যবস্থা করে প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। এরপর থেকেই পর্যায়ক্রমে এটি ফরাসি রাজাদের প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। প্রথম ফ্রান্সিসের সময় বর্তমানে যে প্রাসাদটি দেখা যায় তার অল্পই তৈরি হয়েছিলো। তার আমলে ল্যুভরের কাজ হয়েছিলো পিয়েরে লেসটের তত্ত্বাবধায়নে। ল্যুভরের বেশিরভাগ কাজ হয়েছিলো সতের শতকে ত্রয়োদশ লুইস ও চতুর্দশ লুইসের সময়। তাদের দুজনেরই শিল্পের প্রতি বিশেষ অনুরাগ ছিলো। তাদের মন্ত্রীগণ তাদের জন্য নানা স্থান থেকে মূল্যবান শিল্পকর্ম সংগ্রহ করতো। ১৬৪২ সালে চতুর্দশ লুইস ল্যুভরকে রাজসংগ্রহ প্রদর্শনীর জন্য ছেড়ে দিয়ে ভার্সিলিসে চলে যায়। তখন ল্যুভরে ঠাঁই হয় বিভিন্ন আর্ট একাডেমির। এই একাডেমিগুলো নিয়মিত তাদের সদস্যদের শিল্পকর্মের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতো।
১৫ শতকের ল্যুভর; Source: Très Riches Heures du Duc de Berry

আর্ট মিউজিয়াম হয়ে ওঠা
ল্যুভরকে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার শুরু হয় ১৮ শতকে। ফরাসি বিপ্লবের সময় চতুর্দশ লুইস ও তার স্ত্রীকে টুইলারিস প্রাসাদে কারারুদ্ধ করা হয় এবং ১৭৯৩ সালে সেখানেই তাদের শিরোচ্ছেদ করা হয়। টুইলারিস প্রাসাদটি ছিলো ল্যুভর সংলগ্ন। সে বছরই আগস্টে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নির্দেশে ল্যুভরকে জাদুঘর হিসেবে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ৫৩৭টি চিত্রকর্ম নিয়ে ল্যুভর আনুষ্ঠানিকভাবে গণ-জাদুঘর হিসেবে এর যাত্রা শুরু করে।
ল্যুভরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার; Sketch: Israël Silvestre, c. 1650

জ্ঞানের স্বার্থে অনেকেই রাজ সংগ্রহের গণপ্রদর্শনীর দাবি করছিলেন বহুকাল ধরে। এর ফলে মাঝে মাঝে জনগণের জন্য কিছু প্রদর্শনীর আয়োজন করা হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা ছিলো না। ফরাসি লেখক ও দার্শনিক ডেনি ডিডোরো তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন, যাঁরা প্রথম জাতীয় পর্যায়ের একটি জাদুঘরের দাবি তুলেছিলেন। তবে ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব সংঘটনের পূর্ব পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ের একটি স্থায়ী জাদুঘর তৈরির কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। ১৭৯৩ সালের ১০ আগস্ট ফ্রান্সের বৈপ্লবিক সরকার ল্যুভরের গ্র্যান্ড গ্যালারিতে মিউজি সেন্তাল ডি আ(খ) (Musée Central des Arts) চালু করে।

নেপোলিয়নের সময় ল্যুভরের সংগ্রহ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। ফরাসি সৈন্যদের লুট করা সব শিল্পকর্ম আসতো এখানে। সেই সময়ে তিনি ল্যুভরকে নিজের নামে নামকরণও করেন। তবে ১৮১৫ সালে নেপোলিয়ানের পরাজয়ের পর অনেক বস্তুই তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এ কথা না বললেই নয় যে, এখন ল্যুভরে মিশরীয় পুরাকীর্তি বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগ সমৃদ্ধ হয়েছে নেপোলিয়নের অভিযানগুলোর ফলে।
১৮৫৯ সালে ল্যুভর © Gustave Le Gray

তৃতীয় নেপোলিয়ানের শাসনামলে ১৯ শতকে ল্যুভরের (ভবন) আরো দুটি অংশ বর্ধিত করা হয় এবং ১৮৫৭ সালের মধ্যে বহু ভবন বিশিষ্ট ল্যুভরের স্থায়ী কাঠামোটি সম্পূর্ণ হয়েছিলো। গত শতাব্দীর ৮০ ও ৯০-এর দশকে জাদুঘর হিসেবে ল্যুভরে আধুনিক সরঞ্জামাদি যুক্ত করা হয় ও প্রদর্শনীর স্থান কয়েক হাজার বর্গ মাইল বৃদ্ধি করে ল্যুভরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্র্যান্ড ল্যুভর নামকরণ করা হয়। ল্যুভরে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে কাঁচের পিরামিডটি তৈরি করা হয়। এটি স্থপতি আই. এম. পে নির্মাণ করেন ল্যুভরের মূল প্রবেশ পথে। পিরামিডটি ১৯৮৮ সালে উদ্বোধন করা হয়। এটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ল্যুভরে যেন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক সমন্বয় তৈরি হয়েছে। ল্যুভরে একটি অংশ ফরাসি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিলো। এ অংশটি ১৯৯৩ সালে ল্যুভরের ২০০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। আর তখন থেকেই পুরো ল্যুভর জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার হতে শুরু করে।

ল্যুভর নিয়ে অজানা ও চমকপ্রদ কিছু তথ্য
বিখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসা এতটাই দামী যে এটি চারদিক থেকে বুলেট প্রুফ কাঁচে ঘেরা এবং এটি পাহারা দেয়ার জন্য দেহরক্ষীর মতো সবসময় প্রহরী থাকে। তারপরও ১৯১১ সালে এটি চুরি হয়েছিল এবং দু’বছর পর পুনরুদ্ধার করা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনী ল্যুভরকে চুরি করা শিল্প সামগ্রীর সংরক্ষণাগার হিসেবে ব্যবহার করতো।

জাদুঘরে অনেক না-দেখা বস্তু দেখা যায়, তবে জাদুঘরে যে ভুত দেখা যায় তা কি আগে কখনও শুনেছেন? লুভরে বেলফেগার নামের এক মমি আছে। শোনা যায়, প্রতি রাতে নাকি এটি জাদুঘরে ঘুরে বেড়ায়।

ল্যুভরের সামনে যে কাঁচের তৈরি পিরামিডটি দেখা যায় সেটি ছাড়াও আরো তিনটি ছোট পিরামিড রয়েছে।

ল্যুভরের সংগ্রহে ৩৮০,০০০ বেশি দর্শনীয় বস্তু রয়েছে; কিন্তু এর সব প্রদর্শিত হয় না।

নেপোলিয়ানের শাসনামলে, মোনালিসার চিত্রকর্মটি ল্যুভর থেকে সরিয়ে নিজের শোবার ঘরে রেখেছিলেন তিনি।

খুব বেশি ঘুম হতে পারে মৃত্যুর কারণ

শীত আসলেই আমাদের মধ্যে প্রবণতা তৈরি হয় কম্বলের নিচে আটকে থাকার। ঘুম শরীরের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অতিরিক্ত ঘুম স্বাস্থ্যসম্মত নাও হতে পারে।
ইউরোপীয় হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এক নতুন গবেষণার ফল অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাতে ছয় থেকে আট ঘণ্টার বেশি ঘুম প্রাথমিক মৃত্যু ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গবেষণার ফলে বলা হয়েছে, ঘুম মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য এবং মানুষ দিনের প্রায় এক তৃতীয়াংশ সময় ব্যয় করে ঘুমের পেছনে। ঘুমের এই সময় আরো বৃদ্ধি পেলে তা কার্ডিওভাসকুলার রোগ (সিভিডি) এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। ঘুমের ঘাটতি হলে তা শক্তি ব্যয় হ্রাস, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তিত গ্লুকোজ বিপাকে অনিয়মের ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। আবার অত্যধিক ঘুমের ফলে বাড়ে সিভিডি বা মৃত্যুর ঝুঁকি।
গবেষণা কাজটির জন্য চায়না'স ম্যাকমাস্টার অ্যান্ড পিকিং ইউনিয়ন মেডিক্যাল কলেজের চুয়াংশি ওয়াং-এর নেতৃত্বে একটি দল বিশ্বের সাতটি ভৌগোলিক অঞ্চলের ২১টি দেশের এক লাখ ১৬ হাজার ৬৩২ জন প্রাপ্তবয়স্কের ঘুমের তথ্য পরীক্ষা করে। গবেষণার শুরুতে বিশ্বব্যাংকের শ্রেণি বিন্যাস অনুযায়ী মাথাপিছু জাতীয় আয়ের ওপর ভিত্তি করে দেশগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী চারটি আয়কর দেশ (কানাডা, সুইডেন, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত), ১২টি মধ্যম আয়ের দেশ (আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, চিলি, চীন, কলম্বিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তুরস্ক) এবং পাঁচটি নিম্ন আয়ের দেশ (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, তানজানিয়া এবং জিম্বাবুয়ে)।
গবেষণার প্রত্যেক স্তরে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় ভাষা ব্যবহার করে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বিষয়, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, জীবনধারা আচরণ (ঘুমের সময়, ধূমপান, মদ্যপান, শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং খাদ্য), রোগের ইতিহাস, রোগের পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য পেতে মানসম্মত প্রশ্ন ব্যবহার করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন আট ঘণ্টার বেশি ঘুমায় তাদের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়েছে। এসব ব্যক্তির মৃত্যু হার বেড়েছে ৪১% পর্যন্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিরাতে ছয় ঘণ্টার বেশি ঘুমিয়েছে তাদের হৃদরোগ ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়েছে যারা রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমিয়েছে তাদের তুলনায়।
ওয়াং-এর উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণার ফল অনুযায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমই সর্বোত্তম। 

আপনার স্মার্টফোন কী গরম হয়ে যায়? জেনে নিন কী করবেন

আপনার স্মার্টফোনটি কী খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়ে যায়? নানা প্রচেষ্টার পরও কোনোভাবেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না? তাহলে এই খবরটি পড়ুন। সমস্যা থেকে নিশ্চিত মুক্তি পাবেন।
তবে, আপনার স্মার্টফোনটি গরম হয়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও, কীভাবে তা থেকে ফোনটিকে বাঁচাবেন?
১) ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সময় ফোনের ব্যবহার একদম বন্ধ করে দিন। কোনো ধরনের ভিডিও বা গেম খোলবেন না। এভাবেই আপনার স্মার্টফোনটি গরম হওয়া থেকে আটকাতে পারেন।
২) ফোনে নেটওয়ার্ক ভালো না থাকলে সহজেই ফোনটি গরম হয়ে ওঠে। কারণ, আপনার ফোনটি প্রতি মুহূর্তে ভালো নেটওয়ার্কের খোঁজে থাকে। তাই চেষ্টা করুন যাতে আপনি প্রতি সময় ভালো নেটওয়ার্ক এরিয়ার মধ্যে থাকতে পারেন। যদিও, কোনোভাবে তা না করতে পারেন তাহলে ফোনটি গরম হয়ে উঠলে সেটিকে ফ্লাইট মোডে দিয়ে দিন। অল্প সময়ের মধ্যেই তা ঠান্ডা হয়ে যাবে।
৩) আপনার স্মার্টফোনটি থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলিকে সরিয়ে দিন। আরও সহজ কথায় ডিলিট করে দিন। এর ফলে ফোনে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাকটিভিডি অনেকটাই কমে যাবে। আর তাতেই ঠান্ডা থাকবে ফোনটি।

বরফের রাজ্যে সমাহিত যাদের দেহাবশেষ


অ্যান্টার্কটিকা, যতদূর চোখ যায় ধু ধু বরফের রাজ্য। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা গিয়ে দাঁড়িয়েছে হিমাংকেরও নীচে নব্বই ডিগ্রি সেলসিয়াসে, কোথাও বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩২২ কিলোমিটার। সর্বত্রই যেন বসবাসের জন্য প্রতিকূল এক আবহ। তবে এত কিছু সত্ত্বেও মানুষের পদচারণা ঠিকই ছিল এখানে। তারই প্রমাণ দিতে যেন বরফের এই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে মানুষের অনেক দেহাবশেষ।

চিলির রহস্যময় হাড়গোড়
অ্যান্টার্কটিকার লিভিংস্টোন দ্বীপে ১৭৫ বছর আগের মানুষের মাথার খুলি আর ফিমারের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। অ্যান্টার্কটিকায় পাওয়া এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাচীন দেহাবশেষ এটি। ১৯৮০ সালে লিভিংস্টোন দ্বীপের সৈকতে এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় একুশ বছর বয়স্ক এক তরুণীর দেহাবশেষ এটি। তার বাসস্থান ছিল চিলির দক্ষিণাংশে।
চিলির বিজ্ঞানীদের গবেষণা ঘাঁটিতে নির্মিত চার্চ; Image source: Yadvinder Malhi

গবেষণা থেকে আরো জানা যায়, চিলির সেই তরুণীর মৃত্যু হয়েছিলো ১৮১৯ থেকে ১৮২৫ সালের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে। চিলির দক্ষিণাংশ থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে অ্যান্টার্কটিকায় তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন কীভাবে?

চিলির আদিবাসীদের নৌকায় করে দুঃসাহসিক সব অভিযানের কাহিনী সর্বত্রই প্রচলিত আছে। কিন্তু সেই ডিঙি নৌকায় করে প্রতিকূল সমুদ্রে এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া আসলেই ভয়ানক কাজ। চিলির গবেষক দলের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই নারী উত্তর গোলার্ধ থেকে আসা একদল শিকারী দলের সাথে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছিলেন। উইলিয়াম স্মিথ নামে এক গবেষকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সামুদ্রিক প্রাণী সিল শিকারে বের হওয়া একদল শিকারীর সাথে ১৮১৯ সালে যাত্রা শুরু করেছিলেন এই নারী। তবে এমন প্রতিকূল যাত্রায় নারীদের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারটি ঠিকভাবে মেলে না। অন্তত সে সময়কার প্রেক্ষিতে মেলে না। 
সিল শিকারীদের সাথে চিলির আদিবাসীদের সম্পর্ক বেশ পুরোনো; Image source: Getty Images

দূর দুরান্ত থেকে সিল শিকারে আসা বিভিন্ন দলের সাথে বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল দক্ষিণ চিলির আদিবাসীদের। খাদ্য আর শ্রমের বিনিময়ে সিলের চামড়ার আদান প্রদানও ছিল সাধারণ ব্যাপার। তবে সবসময় সম্পর্কটা সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল এমনটা ভাবলে কিন্তু ভুল হবে। অনেক ক্ষেত্রে শিকারীদল আদিবাসী নারীদের বন্দী করে অন্যত্র নিয়ে যেত। এই নারীর ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে থাকতে পারে।

স্কটের দুর্ভাগ্য
রবার্ট ফ্যালকন স্কটের নেতৃত্বে ব্রিটিশ অভিযাত্রী দল দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছায় ১৯১২ সালের ১৭ জানুয়ারি। তাদের সেখানে পৌঁছানোর তিন সপ্তাহ আগেই সেখানে পৌঁছায় নরওয়ের একদল অভিযাত্রী। ব্রিটিশ অভিযাত্রী দল যখন এই ঘটনা জানতে পারে যে তাদের আগেই নরওয়ের অভিযাত্রীরা পৌঁছে গেছে তখন মানসিকভাবে তারা ভেঙে পড়ে।
রবার্ট ফ্যালকন স্কট তার দিনলিপি লিখছেন; Image source: Herbert Ponting

দক্ষিণ মেরুমুখী যাত্রা ছিল দারুণ বিপদসংকুল। মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে প্রতি পদক্ষেপ এগিয়ে যেতে হয় সেখানে। মেরুতে পৌঁছেও স্কটের দল সম্মুখীন হয় একের পর এক প্রতিকূলতার। একদিকে সীমিত রসদ অন্যদিকে ষাটজনের বিশাল দলকে পরিচালনা করা এবং দলের সকলকে চাঙ্গা রেখে অভিযান শেষ করে ইংল্যান্ড ফিরে যাওয়ার চিন্তায় স্কট বিভোর। 
স্কটের দুর্ভাগা সঙ্গীরা; Image source: Getty Images

মেরু থেকে ফেরার পথে, ফেব্রুয়ারি মাসে মারা যায় দলের সদস্য এডগার ইভান্স, তারপরে লরেন্স ওটস। দলের বাকি সদস্যদের মৃতুক্ষণ তখন ঘনিয়ে আসছে। স্কটসহ বাকি সদস্যরাও একে একে মারা যায়। স্কটের দিনলিপিতে শেষ লেখাটি ছিল ১৯১২ সালের ২৯ মার্চ তারিখে। অনুসন্ধানকারী একটি দল বেশ কয়েকমাস পরে স্কটসহ কয়েকজনের মরদেহ খুঁজে বের করে। তাদেরকে সমাহিত করা হয় সেখানেই।অ্যান্টার্কটিকার বুকে সমাধি হয় দু'চোখে স্বপ্ন নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়া একদল অভিযাত্রীর।

কার্ল রবার্ট ডিশ, অমীমাংসিত যার হারিয়ে যাওয়া
ন্যাশনাল ব্যুরো অফ স্ট্যান্ডার্ডস এর গবেষক কার্ল রবার্ট ডিশ। ১৯৬৫ সালের শীতে তার দায়িত্ব ছিলো পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বিয়ার্ড স্টেশনে। কাজের প্রয়োজনে তাকে মূল স্টেশন কমপ্লেক্স থেকে প্রায়ই যেতে হতো বেতার কেন্দ্রে। চারদিকে বরফের রাজ্যে পথ চলতে গিয়ে যাতে রাস্তা না হারিয়ে ফেলেন সেজন্য একটি 'হ্যান্ড লাইন' নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছিলো। এই রাস্তা ধরে প্রায় পঁচিশবার তিনি মূল কমপ্লেক্স আর বেতার ভবনের মাঝে যাতায়াত করেছেন, কোনোরকম দুর্ঘটনা ছাড়াই।

১৯৬৫ সালের ৮ মে সকালবেলা বেতার ভবন থেকে স্টেশনে ফিরছিলেন ডিশ। অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন আর তীব্র তুষারপাতের মধ্য দিয়ে সেই হ্যান্ড লাইন ধরে স্টেশনে পৌঁছে যাবার কথা ডিশের। কিন্তু তিনি নিখোঁজ হয়ে গেলেন। আশেপাশের এলাকায় খোঁজ করা হলো। ডিশ উধাও হয়ে গেছেন একদম। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাকে অনুসন্ধান অভিযান চালিয়ে যেতে একটু বেগ পেতে হলো। কিন্তু তারপরেও দফায় দফায় তার খোঁজ চালানো হলো। কিন্তু কোথাও পাওয়া যাচ্ছিলো না তাকে। একদমই শূন্যে মিলিয়ে গেলেন তিনি।
কার্ল রবার্ট ডিশ; Image source: southpolestation.com

বেতার ভবন থেকে বের হওয়ার সময় তার পড়নে ছিলো বেশ সাধারণ অ্যান্টার্কটিকায় চলাচলের উপযোগী কাপড়চোপড়। ১২ তারিখ পর্যন্ত খোঁজ চালিয়েও যখন তার সন্ধান পাওয়া যায়নি, তখন ধরেই নেওয়া হলো অ্যান্টার্কটিকার এই তীব্র শীতে রসদপাতি ছাড়া এতদিন বেঁচে থাকা অসম্ভব। তাই ঐদিন থেকেই ডিশকে খুঁজে বের করার চেষ্টায় ইতি দেওয়া হয়। চিরকালের মতোই রহস্যের আঁধারে হারিয়ে যান গবেষক কার্ল রবার্ট ডিশ।

হারিয়ে যাওয়া তিন তরুণ গবেষক
এমব্রোস মরগান, কেভিন অকলেক্টন এবং জন কোল নামে তিন তরুণ ব্রিটিশ গবেষক ১৯৮২ সালের আগস্ট মাসে বেরিয়েছিলেন ঘুরতে।স্বপ্নরাজ্য অ্যান্টার্কটিকাকে একটু ঘুরে দেখার জন্য ২২-২৩ বছর বয়সী এই যুবকরা বের হলেন। সাগর তখনো শান্ত, আকাশের মেরুজ্যোতি ছিল একটু বেশি উজ্জ্বল।

পিটারম্যান দ্বীপে পৌঁছানোর পর সেখানে থাকা একটি অস্থায়ী কুড়েতে আশ্রয় নেওয়ার কথা ছিল তাদের। সেই কুঁড়েঘরে খাদ্যসহ যাবতীয় দ্রব্য মজুত ছিল। কিন্তু দ্বীপে পৌঁছানোর পরই বাধলো বিপত্তি। ভীষণ ঝড়ে বরফ ভেঙে পড়লো, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো যোগাযোগ। তাদের চিন্তার খুব একটা কারণ ছিল না। কুঁড়েঘরে যা খাবার আর রসদপাতি ছিল তা দিয়ে অনায়াসেই মাসখানেক চলে যাওয়ার কথা।

অস্থায়ী এই কুঁড়েঘরে কোনো কাগজপত্র ছিল না, বাইরের দুনিয়ার সাথে যোগাযোগের উপায় বলতে ছিল একটা বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা। দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেল, বাইরের অবস্থা তখনো খারাপ। বেতার যোগাযোগ সীমিত হয়ে আসছে ক্রমেই। ফুরিয়ে আসছে ব্যাটারি। এই বন্দীদশা থেকে মুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে তিন তরুণ গবেষক।

পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছিলো ক্রমান্বয়ে। কুঁড়েঘরে থাকা খাদ্যসামগ্রী পুরনো হয়ে যাচ্ছিলো। এগুলো খেয়ে তারা শিকার হলেন ডায়রিয়ার। বাধ্য হয়ে পেঙ্গুইন শিকার করে সেগুলো খেলেন। ১৫ আগস্ট তাদের রেডিও যোগাযোগ বন্ধ করে দিলেন। বাইরে তখনো প্রবল ঝড়ো হাওয়া বইছে, সমুদ্র উত্তাল।

তাদের আর কোনোদিনই খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরেও তাদের মরদেহের খোঁজ মেলেনি। ধারণা করা হয়, দ্বীপ থেকে মূল গবেষণাগারে পৌঁছানোর জন্য প্রাণপন চেষ্টা করেছিলেন তারা। হয়তো পথ খুঁজতে গিয়ে পথেই চিরকালের জন্য হারিয়ে গেছেন তারা।
অনেকের মরদেহই খুঁজে পাওয়া যায়নি। আবার অনেকেই চিরকালের মতো সমাহিত হয়ে আছেন অ্যান্টার্কটিকার বুকে; Image source: Getty Images

এগুলো ছাড়াও অ্যান্টার্কটিকার বুক সাক্ষী হয়ে আছে আরো অনেক দুর্ঘটনার। ধু ধু বরফের সমুদ্রে স্বজন, বন্ধু কিংবা সহকর্মীরা হারিয়ে গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুঁজে পাওয়া যায় না তাদের দেহাবশেষ। তবে অ্যান্টার্কটিকায় প্রতিটি মৃত্যু দিয়ে যায় একেকটি শিক্ষা, প্রতিটি ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয় পরবর্তীতে যারা এখানে আসবেন তাদের প্রশিক্ষণে।

টাকায় কি সুখ কেনা যায়?

আপনার চারপাশের সহজলভ্য নানা সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে মনে হতে পারে যে, টাকায় সুখ কেনা যায়? কিন্তু গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে, আইফোনের সর্বশেষ মডেলটি কিনতে পারলেই শুধু নিজেকে সুখী করা সম্ভব নয়। বরং অন্য লোকদের সহায়তার জন্য টাকা ব্যয় করতে পারলেই প্রকৃত সুখ মেলে!
গত সপ্তাহে উদারতা এবং সুখের মধ্যে যোগসূত্রবিষয়ক এক গবেষণাপত্রে এমনটাই বলা হয়েছে। গবেষণাটি করেছেন জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। গবেষণায় তারা ৫০ জন অংশগ্রহণকারীকে দুটি দলে ভাগ করে এক দলকে প্রতিসপ্তাহে ২৫ সুইস ফ্রাঙ্ক খরচ করতে বলেন অন্যদের জন্য উপহার এবং ভ্রমণের জন্য। অপর দলকে ওই টাকা নিজেদের জন্য ব্যয় করতে বলা হয়। এক সপ্তাহ পর দেখা গেছে, প্রথম দলটির লোকদের মনের সুখ আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে গেছে। তুলনায় দ্বিতীয় দলটির লোকদের মনের সুখ তেমন একটা বাড়েনি।
এরপর গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের একটি এমআরআই স্ক্যান করানো হয় ওই উদারতামূলক কাজের সময় তাদের মস্তিষ্কের কোন অংশ বেশি সক্রিয় ছিল। এতে দেখা গেছে, মস্তিষ্কের 'টেম্পোরো-প্যারিয়েটাল জাংশন' নামের একটি অংশ; স্নায়ুবিজ্ঞানীদের মতে এই অংশটি উদারতার সঙ্গে যুক্ত এবং 'ভেন্ট্রাল সেরিয়েটাম' নামের আরেকটি অংশ আছে; যেটি সুখানুভূতির সঙ্গে যুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে লোকে যখন উদারতামূলক সিদ্ধান্ত নেয় তখন মস্তিষ্কের এই দুটি অঞ্চলই উচ্চ সক্রিয় হয়ে ওঠে।
ওই গবেষণায় প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে দেখা গেছে, মানুষের স্বভাবই হলো উদার হওয়া। তবে এটাও সত্য যে, আত্মস্বার্থ একটি তীব্র আবেগের বিষয়। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, আত্মস্বার্থ আমাদেরকে অতটা সুখী করতে পারেন না যতটা সুখী হই আমরা অন্যকে দান করতে পেরে বা সহায়তা করতে পেরে।
এমনকি বাচ্চাদের নিয়ে করা একটি গবেষণায়ও দেখা গেছে, বাচ্চারও অন্যদের কাছ থেকে নেওয়ার মধ্যে নয় বরং অন্যদেরকে দেওয়ার মধ্যেই বেশি সুখ পায়। অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে লোকে বেশি সুখ পায়।
১৩৬টি দেশে পরিচালিত গবেষণার তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে করা গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে ব্যয় করতে পারলেই লোকে বেশি সুখ অনুভব করেন। নানা সংস্কৃতি এবং অর্থনীতিতেই এটা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। আর সুখবরটি হলো সুখ অনুভব করার জন্য আপনাকে খুব বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে না। অন্যের জন্য সামান্য অর্থ ব্যয় করলেই আপনি সুখ পাবেন। আর নৈতিকভাবেও শুধু দান করাটাই ঠিক কাজ কেননা এটি আপনাকে বেশি সুখী করবে।

স্মার্টফোন থেকে ডিলিট হওয়া ছবি-ডেটা উদ্ধার করতে চান?

যুগ পাল্টেছে, ফোন পাল্টেছে, পাল্টে গিয়েছেন আপনিও। তবে ফোন থেকে হঠাত্‍ করে ছবি বা প্রয়োজনীয় ডেটা ডিলিট হলে তা উদ্ধার করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা রয়েই গিয়েছে। ফোন খারাপ হতে পারে, ভাইরাসের জন্য ডিলিট হতে পারে, কিম্বা আপনার সন্তানের অসাবধান আঙুল এই কাজটি অনায়াসেই করতে পারে।
ডিলিট তো হল, এ বার ছবি বা ডেটা ফেরত পাবেন কী ভাবে? 
প্রথমেই দু’টি সাবধানতা অবলম্বন করেুন :
১) প্রথমত, ফোন যখন সেট-আপ করবেন তখন প্রথমেই ডিফল্ট মেমরি হিসাবে মেমরি কার্ড সিলেক্ট করে রাখুন। তাতে ছবি ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোবাইল বিগড়ে গিয়ে বিপত্তি ঘটে। তাই ফোন মেমরিতে থাকা ছবি এবং ডেটা ডিলিট হয়ে যায়। তাই আগে থাকতে সাবধান হোন।
২) দ্বিতীয়ত, কোনও ক্লাউড ড্রাইভে ব্যাকআপ রাখতে পারেন। তাতে ফোন বা মেমরিকার্ড খারাপ হলেও আপনার ডেটা এবং ছবি একেবারে ঠিকঠাক থাকবে। চাইলেই যে কোনও সময় সেটা উদ্ধার করতে পারেন।
এ বার দেখুন ডিলিট হয়ে গেলে ডেটা এবং ছবি কী ভাবে উদ্ধার করবেন :
প্রথমেই মনে রাখতে হবে, ফোন খারাপ হলে তার মেমরি থেকে উদ্ধার করা অনেক শক্ত। ফোনে রিকভারি সফ্টওয়্যার ইনস্টল করে তা থেকে করা যেতে পারে। সব থেকে ভালো হয় যদি কম্পিউটারে সফ্টওয়্যার ইনস্টল করে তা থেকে রিকভার করা হয়।
দেখুন পদ্ধতি:
১) পিকচার রিকভারি সফ্টওয়্যার লিখে গুগলে গিয়ে সার্চ করতে পারেন। তাতে অনেক অপশন রয়েছে। চাইলে সরাসরি Asoftech Photo Recovery সফ্টওয়্যার ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে পারেন।
২) ইনস্টল হলে সফ্টওয়্যার কম্পিউটারে রান করুন।
৩) এ বার যে ফোন বা ক্যামেরার মেমরি কার্ড থেকে ছবি এবং ডেটা ডিলিট হয়েছে তা USB কেব্‌ল বা কার্ড রিডারের সাহায্যে কম্পিউটারে যুক্ত করুন।
৪) কানেক্ট হওয়ার পর সফ্টওয়্যারে যে নতুন ড্রাইভ দেখাবে তা সিলেক্ট করুন।
৫) সফ্টওয়্যারে থাকা ‘স্ক্যান অ্যাকশন’ অপশনে ক্লিক করুন। কিছু ক্ষণের মধ্যে ডিলিট হওয়া ছবি আপনাকে দেখিয়ে দেবে যা আপনি রিকভার করতে পারেন।

শুধু ছবি-ফাইল নয়, এবার অর্থ পাঠাবে জিমেইল

ই-মেইল দিয়ে তো কত কিছুই করা যায়। মেসেজ, ছবি বা গুরুত্বপূর্ণ সব ফাইল পাঠাতে পারেন যেকোনো স্থানে। তাহলে আর টাকা পাঠাতে সমস্যা কোথায়? তাই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে জিমেইল এর মাধ্যমে অন্যত্র অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে গুগল।
জিমেইলের ওয়েব সংস্করণে আগেই ছিল এই ফিচার। কম্পোজ উইন্ডোর '$' আইকনে ক্লিক করে সেবা নিতে হয়। এবার প্রথমবারের মতো মোবাইল সংস্করণে আসলো।
অর্থ পাঠাতে অ্যাটাচমেন্ট বাটনে ক্লিক করে 'সেন্ড মানি'তে ট্যাপ করতে হবে। যার কাছে পাঠাতে হবে তার আলাদা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে না। কাজেই দুই পক্ষের কাউকেই বাড়তি অ্যাপের বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না।
অবশ্য এই ফিচার আপাতত অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে আমেরিকাতেই চালু হয়েছে। খুব দ্রুত আইওএস সংস্করণেও চলে আসবে। আর সেবা অন্যান্য বিশ্বে কবে নাগাদ চালু হবে তা এখনো জানায়নি গুগল।

অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে পারে শিশু

প্রেগন্যান্সিতে দুর্বলতা, জ্বর বা ছোটখাট ইনফেকশন হওয়া খুবই স্বাভাবিক সমস্যা। এই সব ছোটখাট সমস্যায় চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে অনেকে বাড়িতে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে নেন নিজেরাই। সেই অ্যান্টিবায়োটিক হয়তো সাধারণ সর্দি-জ্বর বা ইনফেকশন হলে খেয়ে থাকেন। অথচ প্রেগন্যান্সিতে সেই অ্যান্টিবায়োটিকই ডেকে আনতে পারে বড়ধরণের বিপদ। 
কানাডার মন্ট্রিয়ল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানাচ্ছেন, গর্ভাবস্থায় বেশ কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে জন্মগত ত্রুটি নিয়েই পৃথিবীতে আসতে পারে আপনার সন্তান। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পরিস্থিতি হতে পারে আরও ভয়াবহ।
মন্ট্রিয়ল ইউনিভার্সিটির গবেষক অ্যানিক বি-রার্ড জানান, প্রেগন্যান্সিতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় প্রায়ই মহিলারা ইনফেকশনে ভোগেন। এই সময় কোন ইনফেকশনের চিকিৎসা না করালে তার প্রভাব আরও ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষত গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে বুক ও মূত্রনালীতে ইনফেকশন খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। 
এই সময় যদি ইনফেকশনের চিকিৎসা না করানো হয় তা হলে সমস্যা গুরুতর হতে পারে। তাই অ্যান্টিবায়োটিক এই সময় এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। আবার বেশ কিছু অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে যার প্রভাবে অনিচ্ছাকৃত গর্ভপাত, প্রি-ম্যাচিয়ড ডেলিভারি, শিশুর জন্মগত ত্রুটি, এমনকী জন্মের সময় ওজন অতিরিক্ত কম হওয়ার সমস্যা হতে পারে।
কানাডায় ১৯৯৮-২০০৮ পর্যন্ত ১,৪০,০০০ শিশুর জন্ম গবেষণা করে মন্ট্রিয়ল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কোন অ্যান্টিবায়োটিক গর্ভাবস্থায় নিরাপদ, কোনটা নয় তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি এই গবেষণার ফল ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। এই একই গবেষকদের দল ২০১৭ সালের মে মাসে একটি গবেষণায় অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত গর্ভপাতের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন।
সিনসিনাটি চিল়ড্রেন’স হাসপাতাল মেডিক্যাল সেন্টারের বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আমাদের খাদ্যনালীতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া শিশুর বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। প্রেগন্যান্সিতে দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করলে তা খাদ্যনালী থেকে এই উপকারি ব্যকটেরিয়া মেরে ফেলে। যা শিশুর বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটায়।
কোন কোন ওষুধের ফাইলেই প্রেগন্যান্সিতে এড়িয়ে চলার কথা উল্লেখ করা থাকে। উল্লেখ করা না থাকলেও প্রেগন্যান্সিতে যে কোনও অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

টেলিভিশন শিশুর আচরণগত সমস্যার কারণ

পড়াশোনা আর এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাকটিভিটির মধ্যে শিশুদের অবসর বা রিফ্রেশমেন্ট মানেই টেলিভিশন। সারাদিনের ধকলের পর শিশুর টিভি দেখার আবদার মানা করতেও কেমন যেন ঠেকে নিজের কাছেই। ফলে আনন্দ খুঁজতে টেলিভিশনের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা পার করে শিশুরা। কিন্তু গবেষণা বলছে টেলিভিশনের সামনে একটানা বসে থাকলে শিশুর বিকাশে বাঁধা সৃষ্টি হয়।
টেলিভিশনে শিশুদের বেশিরভাগ অনুষ্ঠান হয় অ্যাকশন সম্পর্কিত। যা শিশুদের অ্যাগ্রেসিভ বা আক্রমনাত্মক করে তোলে। কারণ শিশুরা যা দেখে তাই শেখে। এতে তারা হিংসা হানাহানিকে স্বাভাবিক বলে মনে করে। গবেষণার কারনে করা এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মোটামুটি ২৫ বছর পর্যন্ত মানুষ টেলিভিশন থেকে যা যা শেখে তা রপ্ত করে এবং তাই বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে।
তাই গবেষকদের মতে, শিশুর অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখা তাদের আচরণগত সমস্যা সৃষ্টি করে। কারণ তখন তারা টেলিভিশন থেকে দেখা অনুষ্ঠানের মতই আচরণ করে। যাকে আমরা না বুঝে তাদের বেয়াদবি ভেবে থাকি। তাই শিশুকে একটানা টেলিভিশন দেখতে দিবেন না। প্রয়োজনে সময় ভাগ করে একাধিকবার দেখতে দিন।

অতিপ্রাকৃতের সন্ধানে-৪: নিকোলাস ফ্লামেলের 'রহস্যময়' অন্তর্ধান


আলকেমিস্টদের লক্ষ্য ছিল দীর্ঘায়ু অর্জন সম্ভব কি না সেটা নিয়ে গবেষণা করা, নিকোলাস ফ্লামেলও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। তিনি কি পেরেছিলেন সেটা নিয়ে সফল গবেষণা চালাতে? পেরেছিলেন সেই সুধা তৈরি করতে? এলিক্সির অফ লাইফ?

তবে একটা ব্যাপার তাকে সবসময় খেয়াল রাখতে হতো, তিনি যে কাজ করছিলেন, অর্থাৎ কাব্বালার সহায়তায় আলকেমি, সেটা দেশের আইনে নিষিদ্ধ ছিল। যেকোনো রকমের জাদুবিদ্যাসংক্রান্ত কিছুই নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ তখন। তাই তিনি খুবই সতর্ক থাকতেন। কেউ এলেও যেন কিছু খুঁজে না পায় সে ব্যবস্থা তিনি করে রেখেছিলেন।
কাব্বালাহ; Source: kabbalah.com

নিকোলাস ফ্লামেল তার দরদী মনের কারণে অনেককেই অনেক উপহার পাঠাতেন। এ উপহারগুলোর কারণে তার সমসাময়িক ধনীরা ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠেন। তারা সন্দেহ ছড়াতে থাকেন, একজন সামান্য বই-দোকানী এত টাকা পাবে কীভাবে?

গুজব অবশেষে রাজা ষষ্ঠ চার্লসের কানেও এসে পৌঁছে। তিনি স্টেট কাউন্সিলের সদস্য ক্রামইসিকে নির্দেশ দিলেন ব্যাপারটা তদন্ত করে দেখতে। কিন্তু চতুর আর সাবধানী নিকোলাসের ব্যাপারে কিছুই তিনি খুঁজে পেলেন না। তদন্তকাজ ফ্লামেলের অনুকূলেই গেল।
রাজা ষষ্ঠ চার্লস; Source: britannica.com

লোকচক্ষুর অন্তরালে ফ্লামেল কী করলেন সেটা আমরা না জানলেও, এটুকু আমরা জানি, ফ্লামেলের বাকি জীবনটা নির্বিঘ্নে কেটে যায়। গবেষণা, দোকান থেকে বাসা, বাসা থেকে দোকান- একজন বিদ্বানের জীবন যেমন হবার কথা আর কী। রাসায়নিক উপাদান নিয়ে নাড়াচাড়া, পুরোনো সব পাণ্ডুলিপি নিয়ে গবেষণা আর বৃদ্ধা স্ত্রীর সেবা।

স্ত্রী পেরেনেল মারা গেলেন আগে, ১৩৯৭ সালে। তখন নিকোলাসের বয়স হয়েছিলো ৮০; শেষ ক’টা দিন ফ্লামেল আলকেমির বই লিখেই কাটালেন; আর কবরস্থানে ঘুরে বেড়াতেন। তিনি খুব স্পষ্ট করে লিখে দিলেন, তাকে কোথায় কীভাবে কবর দিতে হবে। সেইন্ট ক্যাক্স লা বশেরির শেষ মাথায়। তার কবরের ফলক আর সেই ফলকে কী লিখা থাকবে সেটাও প্রস্তুত করে ফেললেন তিনি। সেই পাথরের ফলকে থাকবে অনেক অনেক চিহ্ন, আর একটি সূর্যের ছবি, একটি চাবির ছবি আর একটি বন্ধ বইয়ের ছবি। প্যারিসের Musee de Cluny-তে আজও সেটা দেখা যায়।
নিকোলাস ফ্লামেলের টুম্বস্টোন বা কবরফলক, সম্প্রতি জে কে রোলিং এটি টুইট করেন আসন্ন মুভির প্রচারণার স্বার্থে; Source: Hypable

নিকোলাসের একটা অভ্যাস ছিল, যখনই তিনি নতুন কোনো চার্চ বা হাসপাতাল বা কবরস্থান স্থাপন করতেন, সেখানেই তিনি নিজের একটা ছবি আঁকিয়ে নিতেন, হাঁটু গেড়ে আছেন এমন অবস্থায়, প্রার্থনারত একটি ভঙ্গি। এমনকি তিনি দুটো ভাস্কর্য বানিয়ে নেন, একটা তরুণ বয়সের, আরেকটা বৃদ্ধ বয়সের।
হাঁটুগেড়ে ফ্লামেল; Source: Wikimedia Commons

সেকালে অনেক সময়ই এমন হতো যে, মর্যাদাবান বা সাধু গোত্রের কারও মৃত্যু হলে তার কিছু জিনিসপত্র সাথে কবর দেয়া হতো, মূল্যবান জিনিসপত্র। আর সেই জিনিস চুরি করতে আসতো কবরচোরেরা। তাই নিকোলাস বলে যান, তার স্মরণে যেন বছরে ১২ বার ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা হয়। অর্থাৎ তিনি চেয়েছিলেন, তার কবর যেন থাকে মুখরিত, কেউ তার কবরে হামলা করতে না আসে। তিনি খুব পাকা আর ভারি কবরফলক অর্ডার করেন।

অবশেষে, ২২ মার্চ ১৪১৮ তারিখে ফ্লামেল মারাই গেলেন। তবে তার মৃতদেহ বাইরের মানুষকে দেখানো হলো না।

কিন্তু, মজার ব্যাপার, তিনি মারা যাবার আগেই, তার আলকেমির সাধনার কথা কীভাবে যেন প্রচার হয়ে যায়। রটে যায়, তিনি সোনা বানিয়েছেন, তার কাছে অমরত্বের সুধা আছে, কিন্তু তিনি ব্যবহার করেন না। তার কাছে পরশমণি তৈরির ফর্মুলা আছে। সেই ফর্মুলার লোভে দূরদূরান্ত থেকে লোভী মানুষ জড়ো হতে লাগলো। কারণ, তারা শুনেছে সেই ‘বুড়ো ধনী আলকেমিস্ট’ মরতে বসেছেন। এমন ধারণাও রটে গেল যে, তার কবরের উপর আঁকা সেই চিহ্নগুলো সমাধান করতে পারলেই পাওয়া যাবে সেই ফর্মুলা। কে পারবে সমাধান করতে? সকল আলকেমিস্টের তীর্থস্থান হয়ে দাঁড়াল এই প্যারিস। নিকোলাসের করা সকল মূর্তি আর ফলক রাতের আঁধারে মানুষ ভেঙে নিয়ে যেতে লাগলো। পাছে ক্লু মিস হয়ে যায়!

যা-ই হোক, এভাবে দুটো শতক পার হয়ে গেল। চলুন প্রবেশ করি ষোড়শ শতকে।

একজন ‘সম্ভ্রান্ত’ লোক এসে প্রমাণ করলেন, তিনি একজন বিখ্যাত আলকেমিস্টের বন্ধু, যিনি মারা গেছেন মাত্র।  মারা যাবার আগে তিনি নাকি উইল করে গেছেন তার সমস্ত টাকা দিয়ে যেন ফ্লামেলের পরিত্যক্ত বাড়ি মেরামত করা হয়। সেই কাজটাই তিনি করতে এসেছেন মৃত বন্ধুর স্মরণে। জ্যাক্স লা বশেলির বোর্ড তাঁর কথা মেনে নিল আর বাড়ি মেরামতের অনুমোদন দিল। সেই লোক বাড়িতে ঢুকে পড়লেন অনেক শ্রমিক নিয়ে। বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজে বেড়ান তিনি, কিন্তু উল্লেখযোগ্য কিছুই খুঁজে পেলেন না। কিন্তু এক জায়গায় হায়ারোগ্লিফিকে কিছু আঁকা দেখলেন, আর কিছুই না। এই কি একজন আলকেমিস্টের বাড়ি? কোনো চিহ্নই নেই কিছুর! শেষপর্যন্ত তিনি চলে যান, শ্রমিকদের কোনো বেতন না দিয়েই। তখন বোর্ড বুঝতে পারে সে আসলে ভণ্ড ছিল।
ফ্লামেলের বাড়ির পিলারে পিলারে অজানা সব প্রতীক; Source: Atlas Obscura

কিছুদিন পর জানা গেল, এক জার্মান ব্যারন নাকি বাড়িতে কিছু টেস্টটিউবে লাল পাউডার আবিষ্কার করেছেন যেটা লোককথায় বর্ণিত পরশমণির পূর্বরূপের অনুরূপ। তবে, এর ক্ষমতা কম। খুব কম ধাতুকেই এটা রূপান্তর করতে পারে।

মজার ব্যাপার, সেই পাউডার ব্যবহারের আগেই ‘হাতছাড়া’ হয়ে যায়। আর বাকি বাড়ি দেখে মনে হলো, কেউ যেন আগে থেকেই সুকৌশলে সব কোথাও সরিয়ে নিয়েছেন, যেন তিনি জানতেন, সবাই কী খুঁজতে আসবে।

সপ্তদশ শতক আসতে আসতে সেই বাড়ির চার দেয়াল ছাড়া বলতে গেলে আর কিছুই থাকলো না। 

কিন্তু, সেই ইহুদী আব্রাহামের বইয়ের কী হলো? নিকোলাস তার গবেষণার জিনিস দিয়ে যান তার ভাগ্নে পেরিয়ারকে। পেরিয়ার এরপর আত্মগোপনে চলে যান আর এরপর তার সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। তবে তিনি নিশ্চয়ই সেই পাণ্ডুলিপি হস্তান্তর করেছিলেন কাউকে না কাউকে। কারণ, আবারও, রাজা ত্রয়োদশ লুই-এর সময় কিছু পৃষ্ঠা খুঁজে পাওয়া যায়।
রাজা ত্রয়োদশ লুই; Source: Wikimedia Commons

শোনা যায়, 'দুবো' নামের এক লোক রাজার দরবারে এসে সবার উপস্থিতিতে একটা সীসার বলকে সোনা বানিয়ে দিয়ে সবাইকে তাক করে দেয়! সাথে সাথে তাকে কার্ডিনাল রিশেলিও ডেকে নেন। এবং তার কাছে সেই বইয়ের পৃষ্ঠা আর কিছু কিছু কাগজ পাওয়া যায়। তবে, সে বলে সে আসলে কিছুই বোঝেনি এ বইয়ের। সে কিছু লাল গুঁড়ো 'পেয়েছিল' যেটা দিয়ে এমন রূপান্তর করা যায়। পরে তদন্ত করে দেখা যায়, এ লোকের অতীতে অনেক অপরাধ আছে, তাই তার সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ভিঞ্চেনেসের কারাগারে তার যাবজ্জীবন দণ্ড হয়।
vকার্ডিনাল রিশেলিও; Source: Wikimedia Commons

ঠিক এ সময়, এ ঘটনা প্রচার হবার পরেই, ডাকাতেরা ২০০ বছর আগের লোককথা শুনে উজ্জীবিত হয়ে নিকোলাসের কবরে আক্রমণ করে চুরি করার জন্য। কিন্তু, সমস্যা হলো অন্য জায়গায়। কী দেখা গেল জানেন?

কবরের ভিতরে কফিন ছিল একদম ফাঁকা!

কোনোকালেই নাকি এখানে কোনো দেহ ছিল না। নিকোলাস যদি সেদিনই মারা গিয়ে থাকেন, তবে তার কবর এখানে হয়নি। এটা ছিল নিকোলাসেরই একটি চতুর প্রদর্শনী।

নিকোলাসের অস্তিত্ব নিয়ে কিছু জানতে পারলো না মানুষ। কে সুকৌশলে তার সব জিনিসপত্র নিয়ে গেল বাড়ি থেকে? সেগুলো কোথায়ই বা রাখল? আর কেনই বা এমন করা হল? কোথা থেকে নিকোলাস এত টাকা পেলেন? আর কেন তিনি এমন কবর দেয়ার নাটক করালেন? তার উত্তরাধিকারী কে হলো? সেই বইয়ের বাকি অংশ কে বা কাদের তিনি দিয়েছিলেন?

জানা যায়, সেই বইয়ের কিছু পৃষ্ঠা কার্ডিনাল রিশেলিও নিজের কাছে রাখেন, তিনি একটা গবেষণাগার বানান। কিন্তু তিনি কি পেরেছিলেন কিছু করতে? আপনি ভাবছেন, নিকোলাসের কথা এখানেই শেষ? কিন্তু এরপরও যে চমক রয়ে যায়, তা জানেন কি? আর সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের সবার পরিচিত মহাবিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন কেন পরশমণি নিয়ে বই লিখে গেলেন? কী লিখেছিলেন? নিউটনের কথা আপাতত শুরু করা যাক তবে।

লোককথা আর ইতিহাসের মিশেল আমাদের আরও কিছু জানায়। কিন্তু সব তো এক পর্বে লিখে ফেললে হয় না। চলবে পঞ্চম পর্বে!



অ্যাপেনডিক্স বাড়তি ঝামেলা নয়, অত্যন্ত দরকারি

অতীতে মনে করা হতো, পেটের ভেতরে থাকা ছোট অ্যাপেনডিক্স নামে অংশটি দেহের জন্য একটি বাড়তি ঝামেলা। আর তাই এখানে সংক্রমণ হলে চিকিত্সকরা প্রায়ই প্রত্যঙ্গটিকে ছুরি চালিয়ে ফেলে দিয়েছেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে  প্রত্যঙ্গটি অন্ত্রের ভেতর উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
গবেষণাটি চালিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুলের সার্জন আর ইমিউনোলজিস্টরা। বিজ্ঞান সাময়িকী জার্নাল অব থিওরিটিক্যাল বায়োলজিতে প্রকাশিত হয়েছে সে গবেষণার ফলাফল।
গবেষকরা দেখেছেন, মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রে থাকা বিপুল পরিমাণ ব্যাকটেরিয়াকে বেঁচে থাকতে সহায়তা করে অ্যাপেনডিক্স।
পেটে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যার বেশিরভাগই উপকারী। খাদ্য হজমে সাহায্য করে এসব ব্যাকটেরিয়া। কিন্তু প্রায়ই কোনো সমস্যায় ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। কলেরা বা অ্যামিবিক আমাশয় হলে তা অন্ত্র বা নাড়িভুঁড়ি থেকে সব ব্যাকটেরিয়া বের করে ফেলে। অ্যাপেনডিক্সের কাজ হচ্ছে এরকম ক্ষেত্রে সেখানে লুকানো ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে তা দিয়ে আবার পরিপাকতন্ত্রকে চাঙ্গা করা। অর্থাৎ অ্যাপেনডিক্স ব্যাকটেরিয়ার জন্য একটি নিরাপদ আবাস হিসেবে কাজ করে।
পাশাপাশি গবেষকরা বলছেন, অস্ত্রোপচার করে এটি ফেলে দিলে তাৎক্ষনিকভাবে কোনো সমস্যা না হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেহের ক্ষতি হয়।
এছাড়া গবেষকরা বলছেন, অ্যাপেনডিক্সের দেয়ালে রয়েছে উচ্চমাত্রায় রোগপ্রতিরোধী সেল। এগুলো আদতে দেহের রোগপ্রতিরোধে কার্যকরভাবে সহায়তা করে।
গবেষকরা বলছেন, যাদের অ্যাপেনডিক্স অপসারণ করা হয় তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এমনকি তাদের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি চার গুণ বেড়ে যায়।

প্রতিদিন যৌনতা দাম্পত্য সুখের শর্ত নয় : গবেষণা রিপোর্ট

প্রচলিত ধারণা অনেক সময় ভুল হয়ে থাকে। তেমনটাই হয়েছে যৌনতার ক্ষেত্রে। সবাই মনে করেন, যত বেশি সেক্স করা যায় সম্পর্ক তত বেশি ভালো হয়। কিন্তু এক গবেষণায় বলা হয়, সপ্তাহে একবার সেক্স দাম্পত্য জীবনকে সুখী করে।
কানাডার ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টো-মিসিসোগার বিশেষজ্ঞ অ্যামি মুইস জানান, বেশি সেক্স করা সুখকর হলেও এটা দীর্ঘমেয়াদি তৃপ্তি দেয় না। এ গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের স্থায়িত্ব পেতে হলে সপ্তাহে একবার সেক্স করা প্রয়োজন। সঙ্গী-সঙ্গিনীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়। কিন্তু তা প্রতিদিন নয়।
আগের আমলের কিছু বই এবং গবেষণায় তুলে ধরা হয়, বেশি সেক্স বেশি সুখ আনে। তবে নতুন গবেষণায় ৩০ হাজার আমেরিকানের ওপর নিরীক্ষা চালানো হয়েছে বিগত ৪ যুগ ধরে। দেখা গেছে, যে সকল দম্পতি সপ্তাহে গড়ে একধিকবার সেক্স করেছেন, তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
গবেষণাপত্রটি সোশাল সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড পারসোনালিটি সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়। দম্পতি ও প্রেমিক জুটিদের পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে যারা একা থাকেন, তাদের ভালো থাকার সঙ্গে নিয়মিত সেক্সের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান মিউস।
একাকী মানুষের ক্ষেত্রে এ কথা সত্য যে, সেক্স এবং সুখের মাত্রার যোগসূত্র সম্পর্কের ধরনের ওপর নির্ভর করেন। সেখানে যৌনতা কিভাবে উপভোগ্য হয় এবং সম্পর্কের বাইরে সেক্স করার বিষয়টি কতটা সহজে গ্রহণযোগ্য হয়, তার ওপর একাকীদের সুখ নির্ভর করে।
সাধারণত কম বয়সীরা বেশি সেক্স করতে চান, আর বয়স্করা কম। এ গবেষণায় দেখা গেছে, লিঙ্গের ভিত্তিতে বা সম্পর্কের দীর্গসূত্রিতা কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করে না।
মুইস আরো বলেন, তার অর্থ এই নয় যে, দম্পতিদের সপ্তাহে একবার বা একাধিকবার সেক্স করতেই হবে। আসলে ব্যক্তিভেদে যৌন আকাঙ্ক্ষার ওপর নির্ভর করে বিষয়টি। আসলে একে অপরের ওপর চাপ প্রয়োগ না করে স্বাস্থ্যকর যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে সুখ ভোগ করা যায়।

এবার হাত মেলাচ্ছে প্রযুক্তি দুনিয়ার পাঁচ দানব

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান ঘটছে। একে চূড়ায় নিতে এবার এক যুগান্তকারী ঘটনা ঘটতে চলেছে। এইআই এবং মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে একই প্লাটফর্মে আসছে বিশ্বের ৫টি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান। হাত মেলাচ্ছে ফেসবুক, আমাজন, গুগল, আইবিএম এবং মাইক্রোসফট। এরা এক ঐতিহাসিক পার্টনারশিপের ঘোষণা দিয়েছে।
এর অর্থ হলো, এআই'কে এগিয়ে নিতে কে কি গবেষণা করছে এবং তাকে কে কি ধরনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনকি সবাই মিলে সেরা পণ্য বানানোর বিষয়েও একমত হবে তারা। খুব শিগগিরই এসব কম্পানি থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অর্থ বিষয় সিদ্ধান্তগুলো আসতে থাকবে। শেয়ারহোল্ডাররা খুব দ্রুত এই দলে যোগ দেবেন। অর্থায়ন আরো বৃদ্ধি পাবে।
আলফাবেটের (গুগলের প্যারেন্ট কম্পানি) সাবসিডিয়ারি ডিপমাইন্ডের অ্যাপ্লাইড এআই বিভাগের প্রধান মুস্তাফা সুলেইমান জানান, এইআই প্রযুক্তি কারণে যে সকল কর্মীরা চাকরি হারিয়েছেন তাদেরও এখানে যুক্ত করা হবে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫টি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। এখানে নন-কর্পোরেট গ্রপগুলো সমান সমান নেতৃত্বের মাধ্যমে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে।
আইবিএম এর এআই এথিকস গবেষক ফ্রান্সেকা রসি বলেন, প্রতিষ্ঠানে এআই এর ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমরা জানি। সমাজে বিস্তৃত পরিসরে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উপকারিতা ছড়িয়ে দিতে হবে। আর তা করতে এর ওপর বিশ্বাস আনতে হবে আমাদের।
এআই-পাওয়ারর্ড রোবটগুলোই হবে পরবর্তী শক্তি। প্রযুক্তি যন্ত্র এবং আদের অ্যাপরের সঙ্গে মানুষের সংযোগ ঘটাতে কাজ করবে এসব এআই বোট। ইতিমধ্যে আমরা মাইক্রোসফটের সর্বসাম্প্রতিক উদ্যোগের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। আবার এইচপি তার ক্রেতার সঙ্গে এআই দিয়েই যোগাযোগ রক্ষা করছে। এসব বিষয়ে কথা বলেন মাইক্রোসফটের সিইও সত্যেয়া নাদেলা।
মাইক্রোসফটের ওয়াল্ডওয়াইড পার্টনার কনফারেন্সে নাদেলা বলেন, এআই চ্যাটবোটগুলো মানুষকে নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এর মাধ্যমে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে চলেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: ক্ষতিকর বলা হলেও করছে কঠিনতম সমস্যার সমাধান


ভবিষ্যত প্রযু্ক্তি নিয়ে বাস্তবমুখী চিন্তা করেন বিশেষজ্ঞ কেভিন কেলি। তার 'দ্য ইনএভিটেবল' বইয়ে তিনি লিখেছেন, বর্তমান সময়ের মতো এতো সুযোগ, আরো বেশি খোলামেলা, কম বাধা, উচ্চমাত্রার লাভ, ভালো মানের মুনাফা এবং সার্বিকভাবে এতো ভালো অবস্থা আর কখনই ছিল না।
২০১০ সালের মাঝামাঝি থেকে এমন কিছু প্রযুক্তি আসতে থাকে যা কিনা গোটা বিশ্বের মানুষের জীবনটাকে আরো উন্নত করে দিতে পারে। এগুলো সবচেয়ে কঠিন সমস্যাগুলো অনায়াসে সমাধান করেছে। এমনকি জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যা মোকাবেলাতেও সহায়তা করছে কিছু প্রযুক্তি।
একটু চিন্তা করে দেখুন, ২০০৭ সাল থেকে মানুষের জীবন কত দ্রুততার সঙ্গে বদলে গেছে। তখন স্মার্টফোন, সোশাল নেটওয়ার্ক আর ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা পুরোদমে নিতে শুরু করেছে মানুষ। এখন থেকে আগামী যুগে অর্থাৎ ২০১৭-২০২৭ সালের মধ্যে প্রযুক্তি আরো কি কি দিতে পারে? হয়তো তখন আধুনিক অনেক কিছুই একঘেয়ে হয়ে যাবে।
আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নিয়ে অনেক নেতিবাচক আলোচনা ও বিশ্লেষণ বেরি আসে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কর্মক্ষেত্রে নষ্ট করবে ঠিকই। কিন্তু এটি আবার মানব সভ্যতাকে একধাপে বহুদূর এগিয়ে নেবে।
প্রতিষ্ঠান এবং গবেষকরা অবিশ্বাস্য পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ করছে। গুগল সার্চ বা ফেসবুক থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য আসছে। সেলফোনের প্রতিটি কাজ এবং অনলাইনের প্রতিটি কার্যক্রম সংগৃহিত হচ্ছে। প্রতিটা কারখাবার প্রতিটা যন্ত্রের কার্যক্রম ডেটা আকারে সংরক্ষিত হচ্ছে।
এসব ডেটা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা হলে কাজটি আরো সুবিন্যস্ত হবে। এআই আমাদের ভবিষ্যতে ক্যান্সার থেকে মুক্তির পথ দেখাবে। এর প্রয়োগে আমরা আরো বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে পারবো। এর মাধ্যমেই আমরা সন্ত্রাস হামলার আগেই তাদের রুখে দিতে সক্ষম হবো। মানুষের রহস্যময় অবস্থাগুলো উন্মোচন করবে এআই।
এআই গাড়ির চালকের আসনে বসবে। এতে আরো ভালো হবে। কারণ আমেরিকায় এক বছরে ৩২ হাজার মানুষ মারা গেছেন ভুল গাড়ি চালনার কারণে। মানব মস্তিষ্ক অন্য বিষয়ে সহজেই আকৃষ্ট হতে পারে। সম্প্রতি স্বচালিত একটি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে ঠিকই। কিন্তু এআই-এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা শতভাগ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।  
কেলি আরো মনে করেন, একটামাত্র জিনিস সব বদলে ফেলবে তা চিন্তা করা বেশ কঠিন বিষয়। আবার এমন একটি জিনিস যে সস্তা ও সহজলভ্য হবে তাও সঠিক নয়।
এনার্জি খাতগুলো বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে যাবে। গ্যাসচালিত গাড়ি এক মারাত্মব অবস্থা সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণের পথ দেখিয়েছে টেসলা। একই সময় সৌরশক্তি প্রযুক্তি দাম কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। আমরা প্রতিবছর যে পরিমাণ সৌরশক্তি ব্যবহার করি তার চেয়ে ৫ হাজার গুণ বেশি শক্তি পৃথিবীতে ব্যবহার করে সূর্য। এর ব্যবহার জলবায়ুর উন্নতি ঘটাবে না। কিন্তু ভবিষ্যতের চেহারা আরো সুন্দর করবে।
প্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রকে দারুণভাবে প্রভাবিত করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। কিন্তু এর যথাযথ ব্যবহারে আরো ভালো কিছু আশা করা যায়।
এ যুগে বিশ্বের ৭ শতাংশ মানুষের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি আছে। অনেক মানুষের কাছে শিক্ষা বেশ ব্যয়বহুল বিষয়। আবার অনেকের কাছে পৌঁছে না। খান একাডেমি এবং অন্যান্য অনলাইন কোর্স শিক্ষাব্যবস্থাকে সহজলভ্য করবে।
জীবনকে আরো সহজ করতে আসছে নানা প্রযুক্তি। এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন চিকিৎসক মিলবে সব সময়ের জন্য। আপনার পেকেটেই একজন চিকিৎসক থাকার চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে?
বিটকয়েনের পেছনে কাজ করছে ব্লকচেইন নামের প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে যা গোটা বিশ্বের মানুষকে এক করতে পারে।
এসব প্রযুক্তি স্মার্টফোন, সোশাল এবং ক্লাউড প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে মহাশক্তিধর হয়ে উঠবে। মানুষের জীবনটাকে বদলে দিতে এদের ব্যবহার এখনো অনেক বাকি রয়ে গেছে। প্রযুক্তি ক্রমেই অনেক কাজের খরচ কমিয়ে আনতে শুরু করেছে। ফটোগ্রাফির যে ব্যবস্থা স্মার্টফোনেই করা হয়েছে তার মাধ্যমে এ সংক্রান্ত খরচ কমেছে। আবার উন্নতও হয়েছে।
কেলির মতে, মানব সভ্যতা তার জীবনের ব্যাপক পরবর্তনের জন্য প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করতে চলেছে। এর মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।
তবে প্রযুক্তি অন্ধকার দিক সব সময়ই রয়েছে। এটা থাকবেই। বর্তামানে প্রযুক্তি বিশ্বের রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে কাজ করছে। কিন্তু এটা ক্রমেই সুন্দর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।

অপ্রয়োজনীয় ৮ চিকিৎসা পদ্ধতি ও টেস্ট এড়িয়ে চলুন


স্বাস্থ্যগত বিষয়ে অনেকেই মনে করেন যত খরচ করা যায় ততই ভালো চিকিৎসা হয়। যদিও এ বিষয়টি সব সময় সত্য নাও হতে পারে। বেশি চিকিৎসক, বেশি পরীক্ষা কিংবা অতিরিক্ত ব্যয় সব সময় ভালো ফল আনে না। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে অনেকেই নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় মেডিক্যাল টেস্ট ও চিকিৎসা কার্যক্রমের শিকার হন। এ লেখায় রয়েছে তেমন কিছু বিষয়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
১. প্যাপ স্মিয়ার
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই নারীদের বছরে একবার করে প্যাপ স্মিয়ার (Pap smear) নামে একটি পরীক্ষা করতে তাগিদ দেওয়া হয়। গর্ভাশয়ের ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য এ পরীক্ষা চালানো হয়। তবে এ ধরনের ক্যান্সার রাতারাতি হয় না বিধায় ঘন ঘন এ পরীক্ষা চালানোর প্রয়োজন হয় না। এমনকি এ পরীক্ষা বছরে একবার করে করারও প্রয়োজন নেই। ৩০ থেকে ৬৫ বছর বয়সের নারীদের এ পরীক্ষা তিন বছর অন্তর করা যেতে পারে।
২. পিঠ ব্যথার জন্য ইমেজিং টেস্ট
বহু চিকিৎসকই পিঠ ব্যথার জন্য ইমেজিং টেস্ট (Imaging test) করার পরামর্শ দেন। যদিও এটি প্রায়ই সঠিকভাবে সমস্যাটি নির্ণয় করতে পারে না। এতে ভুল চিকিৎসা হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওরিগন হেলথ সায়েন্স ইউনিভার্সিটির এক গবেষণাতেও বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
৩. দাঁত পলিশ
অনেকেরই কিছুদিন পর পর দন্তচিকিৎসকের কাছে গিয়ে দাঁত পলিশ (Teeth polishing) করার শখ থাকে। তবে এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক বিষয় এবং না করলেও দাঁতের মারাত্মক কোনো ক্ষতি হয় না।
৪. অপ্রয়োজনে দন্ত চিকিৎসা
নিয়মিত দন্তচিকিৎসকের কাছে যাওয়ার বিষয়টি অনেকের যেন অভ্যাসে পরিণত হয়। প্রতি ছয় মাস অন্তর দন্তচিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন অনেকেই। তবে বাস্তবে আপনার যদি কোনো সমস্যা না থাকে তাহলে এর প্রয়োজন নেই।
৫. বার্ষিক কার্ডিয়াক স্ট্রেস টেস্ট
আপনার যদি উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ধূমপান, পারিবারিক রোগের ইতিহাস, উচ্চমাত্রায় কোলস্টেরলের ইতিহাস ইত্যাদি না থাকে তাহলে বার্ষিক কার্ডিয়াক স্ট্রেস টেস্ট করার প্রয়োজন নেই। এ পরীক্ষা আপনার কোনো সমস্যা থাকলে তবেই করা উচিত।
৬. বোন ডেনসিটি টেস্ট
হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষার (Bone density test) মাধ্যমে হাড়ের প্রকৃত অবস্থা জানা যায়। এটি অল্পবয়সে কোনো প্রয়োজন হয় না। তবে আপনার বয়স যদি ৬৫ বছর হয়ে যায় তখন তা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। এ ছাড়া যাদের ধূমপান, উচ্চমাত্রায় মদ্যপান, ওজন কম কিংবা ভিটামিন ডি-র অভাব রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োজনীয়।
৭. পিইটি বা সিটি স্ক্যান
সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। এটি দেহের যেকোনো স্থানের ক্যান্সারসহ অস্বাভাবিক বহু বিষয় নির্ণয় করতে পারে। তবে ব্যয়বহুল এ পরীক্ষা সাধারণত প্রয়োজন হয় না। আর নিয়মিত এ পরীক্ষার স্বাস্থ্যগত ক্ষতিও রয়েছে।
৮. ইউরিনারি ক্যাথেটার
আপনার যদি সত্যিকার ইউরিনের সমস্যা থাকে তাহলে ক্যাথেটার ব্যবহারের বিকল্প নেই। কিন্তু অনেক সময় সমস্যা হওয়ার আগেই ক্যাথেটার স্থাপনের প্রবণতা দেখা যায়। ক্যাথেটার ব্যবহারে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই খুব প্রয়োজন ছাড়া ক্যাথেটার ব্যবহার না করাই ভালো।