নিউজ

Other News

More news for your entertainment

হেলদি অরেঞ্জ স্মুদি


দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেতে বলা হয়। আমরা জানি, কমলা বা মালটাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে। এছাড়া ভিটামিন এ, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি৬ সহ আরও অনেক পুষ্টিগুণ আছে এতে! বাসায় অল্প কিছু উপাদান দিয়ে খুব সহজেই টেস্টি আর হেলদি অরেঞ্জ স্মুদি তৈরি করে নেওয়া যায়। পুষ্টিকর সব উপকরণ দিয়ে বানানো এই স্মুদিতে বাড়তি কোনো চিনি যোগ করা হয় না। তাই সব বয়সের সবার জন্যই আদর্শ একটি পানীয় এটি। দেড়ি না করে অরেঞ্জ স্মুদি তৈরির পুরো প্রণালীটি দেখে নিন!


অরেঞ্জ স্মুদি তৈরির নিয়ম 

উপকরণ

মালটা বা কমলা- ২টি

টকদই– ৪ টেবিল চামচ

কলা- ১টি

মধু- ২ চা চামচ

গুঁড়ো দুধ- ২ চা চামচ

প্রস্তুত প্রণালী

১) কমলা বা মালটা, আপনার হাতের কাছে যেটাই আছে, সেটা দিয়ে এই স্মুদি বানিয়ে নেওয়া যাবে! রস বা পিউরি ব্যবহার করতে পারেন। কিংবা ছোট ছোট করে কেটেও নিতে পারেন।


২) ব্লেন্ডারের জগে কলা, টকদই ও গুঁড়ো দুধ দিয়ে এক মিনিটের জন্য ব্লেন্ড করে নিন। বেশ স্মুথ ও ক্রিমি হবে মিশ্রণটি!


৩) এবার অরেঞ্জ ও মধু দিয়ে আবার তিরিশ সেকেন্ডের জন্য ব্লেন্ড করুন। চাইলে হাফ কাপ ঠাণ্ডা পানিও যোগ করতে পারেন।


৪) তারপর ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিয়ে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন।


ব্যস, মজাদার ড্রিঙ্কসটি অল্প সময়ে ও ঝামেলাবিহীনভাবে তৈরি হয়ে গেলো! অরেঞ্জ স্মুদিতে কমলার পাশাপাশি বেশ কিছু উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। টকদই হজমে সহায়তা করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করে। মধু সর্দি-কাশি কমাতে ও হার্ট ভালো রাখতে কার্যকরী ভুমিকা রাখে। 

আর কলারও অনেক স্বাস্থ্যগুণ আছে। তাই এই পানীয়টি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকাতে রাখা যেতেই পারে! মনে রাখবেন, পরিমিত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খেলে আপনি অসুখ থেকে অনেকটাই দূরে থাকতে পারবেন। ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।

মজার বাদাম লাচ্ছি


গরমকাল তো চলেই এলো! এই সময়ে শরীর ও মনে প্রশান্তি পেতে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাচ্ছি হলে কেমন হয়, বলুন তো? হাতের কাছে থাকা উপকরণ দিয়েই খুব সহজে বাসাতে বাদাম লাচ্ছি বানিয়ে নিতে পারেন। এতে বাদামের সাথে আরও কিছু পুষ্টিকর উপাদান যোগ করা হয়। 


এই রেসিপিতে বাড়তি কোনো চিনি ব্যবহার করা হয় না বলে এটি স্বাস্থ্যসম্মত একটি পানীয়। যারা হেলদি ডায়েট চার্ট মেনে চলেন, তাদের জন্যও এটি একদম পারফেক্ট! বাদামে আছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ই, ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডসহ আরও অনেক পুষ্টিগুণ! বাদামের উপকারিতা তো জানলাম, কিন্তু এই লাচ্ছি কিভাবে বানানো যায়, সেটাই ভাবছেন তো? তাহলে, দেড়ি না করে বাদাম লাচ্ছি বানানোর পুরো প্রণালীটি জেনে নিন!


বাদাম লাচ্ছি তৈরির নিয়ম 

উপকরণ

বাদাম- ১/২ কাপ

টকদই- ১ কাপ

ঘন দুধ- ২ কাপ

কলা– ১টি

বরফ কুঁচি- ২ টেবিল চামচ

মধু- ৪ চা চামচ

ভ্যানিলা অ্যাসেন্স- ২ ফোঁটা

প্রস্তুত প্রণালী

১) কাজুবাদাম, চিনাবাদাম, আখরোট কিংবা পেস্তা; যেকোনো ধরনের বাদাম দিয়েই এই লাচ্ছি বানানো যাবে! প্রথমে বাদামগুলো কিছুক্ষণের জন্য পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।


২) এবার একটি ব্লেন্ডার জগে বাদাম ও মধু দিয়ে ১ মিনিটের জন্য ব্লেন্ড করে নিন। বাদাম খুব বেশি মিহি না হলেও হবে!


৩) তারপর এতে টকদই, তরল দুধ, কলা, বরফ কুঁচি ও সামান্য ভ্যানিলা অ্যাসেন্স দিয়ে ৩০ সেকেন্ড বিট করে নিন। খুব সুন্দর একটা ক্রিমি ও স্মুথ মিশ্রণ তৈরি হয়ে যাবে।


৪) যারা পাতলা করে খেতে পছন্দ করেন, তারা এতে ঠাণ্ডা পানি যোগ করে দিতে পারেন। কিন্তু বাদামের এই লাচ্ছি একটু ঘন হলেই বেশি ভালো লাগে!


৫) আরেকটা কথা, বাসায় যদি ভ্যানিলা অ্যাসেন্স না থাকে, তাহলে সামান্য এলাচ গুঁড়ো দিয়ে দিতে পারেন। এটা মূলত ফ্লেবারের জন্য ব্যবহার করা হয়।

ব্যস, খুব অল্প সময়ে পুষ্টিকর ও রিফ্রেশিং পানীয়টি তৈরি হয়ে গেলো! এবার গ্লাসে ঢেলে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা বাদাম লাচ্ছি পরিবেশন করুন। সাজানোর জন্য উপরে বাদাম কুঁচি ও পুদিনা পাতা দিতে পারেন। হাতের কাছে সব উপাদান থাকলে আজই বানিয়ে ফেলুন মজাদার বাদাম লাচ্ছি!

আপেল দারুচিনির লাচ্ছি!


এই প্রচন্ড গরমে এক গ্লাস ঠান্ডা লাচ্ছি এনে দিবে প্রশান্তি!! ঘরে বসেই কিন্তু বানিয়ে নিতে পারেন বিভিন্ন ফ্লেভারের লাচ্ছি। অনেক ফ্লেভারের লাচ্ছির রেসিপি আগেও দেয়া হয়েছে। আজকে আমি আপনাদের খুবই হেলদি এবং সুস্বাদু একটি লাচ্ছি তৈরির রেসিপি জানাবো। 


খুবই মজাদার পানীয়টি হচ্ছে দারুচিনি আপেলের লাচ্ছি। এই পানীয়টি খেতে যেমন সুস্বাদু স্বাস্থ্যের পক্ষেও খুবই উপকারী। প্রচন্ড তাপ প্রবাহ চলাকালীন শুধুমাত্র পানির উপর ভরসা করলেই চলে না। এই লাচ্ছিটি শরীর সতেজ রাখার পাশাপাশি হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মস্তিষ্ক, হার্ট, ফুসফুস ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভালো রাখতে দারুণভাবে কাজ করে। তো চলুন দেড়ি না করে জেনে নেই হেলদি এই লাচ্ছি তৈরির পুরো প্রণালীটি।


দারচিনি আপেলের লাচ্ছি তৈরির পদ্ধতি

উপকরণ

ছোট আপেল- ২টি

দারুচিনি গুঁড়া- ১/২ চা চামচ

চিনি- ১ টেবিল চামচ

দই- ১ কাপ

লেবুর রস- কয়েক ফোঁটা

ফেটানো ক্রিম- ১ টেবিল চামচ

মধু- ১ চা চামচ

বরফ কিউব- ৫-৬টি


প্রস্তুত প্রণালী 

১) প্রথমে আপেলগুলো ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন।


২) এবার একটি পাত্রে আপেলগুলো রেখে তাতে চিনি আর ১/৪ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া দিয়ে দিতে হবে।


৩) তারপর পাত্রটি চুলায় বসিয়ে অল্প আঁচে আপেল সেদ্ধ করে নিন। ততক্ষণ ধরে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না চাটনির মতো থকথকে হয়ে যায়।


৪) সেদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে।


৫) তারপর মিশ্রণটি একটু ঠাণ্ডা হলে একটি ব্লেন্ডারে দিন এবং সাথে দই, ফেটানো ক্রিম বাকি দারুচিনি গুঁড়া, লেবুর রস এবং কয়েকটা বরফ কুঁচি দিয়ে দিন।


৬) সবকিছু দেয়া হয়ে গেলে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।


৭) হয়ে গেলে একটি গ্লাসে ঢেলে উপরে একটু মধু , বরফ কুঁচি ও দারুচিনি গুঁড়া দিয়ে সাজিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।


এইতো হয়ে গেলো মজাদার দারুচিনি আপেলের লাচ্ছি। খুবই সুস্বাদু এই লাচ্ছিটি এই প্রচন্ড গরমে এনে দিবে একটি হিমশীতল প্রশান্তি। এই পানীয়টি তৈরি করা যেমন সহজ তেমনি খুব উপকারী। মাহমানদারীতে কিংবা পরিবারের জন্য তৈরি করে নিতে পারেন দারুচিনি আপেলের লাচ্ছি। তো আজই তৈরি করে ফেলুন মজাদার এই লাচ্ছি আর এই গরমে থাকুন সুস্থ ও সতেজ।

মাত্র ৭টি অভ্যাসে ফিট থাকুন গৃহবন্দি অবস্থাতেই


করোনাভাইরাসের কালো থাবা ছড়িয়ে পরছে সর্বত্রই। বিশ্বজুড়ে চলছে কোয়ারাইন্টাইন। গৃহবন্দি অবস্থায় আছে কোটিকোটি মানুষ। এই অবস্থায় শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরছেন অনেকেই। অনেকের মাঝেই সৃষ্টি হচ্ছে মনোমালিন্যের। এই অবস্থাতে মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত রাখার পাশাপাশি তরতাজা ও ফিট থাকাটা অনেক জরুরি। কিন্তু ঘরবন্দি অবস্থাতে নিজেকে কিভাবে তরতাজা, ফিট ও হাসিখুশি রাখবেন সেটা নিয়েই ভাবছেন তো? তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। গৃহবন্দি অবস্থাতেই মাত্র সাতটি অভ্যাসের মাধ্যমেই তরতাজা রাখতে পারবেন নিজেকে। তো জেনে নিন ৭টি অভ্যাস সম্পর্কে যার সাহায্যে ফিট থাকুন গৃহবন্দি অবস্থাতেই।


ফিট থাকুন গৃহবন্দি অবস্থাতেই

১) ব্যায়াম করা 

দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শরীর চর্চা বা ব্যায়াম করার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিনের রুটিনে ১৫-২০ মিনিট শরীর চর্চার জন্য আলাদা করে রাখলে আপনার দেহ বেশ ঝরঝরে ও মেদহীন থাকবে এবং আপনি বেশ উৎফুল্ল অনুভব করবেন। শরীর চর্চার মাধ্যমে দেহের ক্লান্তিও দূর হয়। তাই গৃহবন্দি থাকাকালিন সময়ে ফিট থাকতে হলে শরীর চর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।


২) ঘর গোছানো 

ঘরের টুকটাক কাজ করলে আপনার দেহ বেশ ঝরঝরে থাকে। ঘরের ছোটছোট কাজের মধ্যে বিছানা গুছানো ও ঘর ঝাঁট দেয়া অন্যতম। আপনার দিনটি যদি বিছানা গুছানোর মাধ্যমে শুরু হয় তাহলে আপনি মানসিকভাবে বেশ শান্তি বোধ করবেন। এতে আপনার দেহ অনেক তরতাজা হয়ে যাবে।


৩) মুঠোফোন ব্যবহার না করা

মুঠোফোন আমাদের দেহের জন্য সবচাইতে ক্ষতিকর একটি বস্তু। বিজ্ঞানী ও ডাক্তারদের মতে অতিমাত্রায় মোবাইল ফোন ব্যবহারে মানুষের মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পরে ও মানুষ দুর্বলবোধ করে। তাই গৃহবন্দি থাকাকালিন সময়ে মুঠোফোনের ব্যবহার কমিয়ে দিলে আপনার সারাটা দিন বেশ প্রাণোচ্ছল কাটবে। কেননা ঘুম থেকে জেগে সবার আগে যদি আমরা মোবাইল ব্যবহার করি এতে নানান খারাপ খবর আমাদের চোখে পরে তখন সারাটা দিনই আমাদের খারাপ যায়। তাই ফিট থাকার জন্য ফোনের ব্যবহার কমিয়ে দেয়া অত্যন্ত জরুরি।


৪) সকালের নাস্তা 

প্রাতঃরাশ কিংবা সকালের নাস্তা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। দিনের শুরুতেই যদি আপনি ভালোভাবে নাস্তা গ্রহণ করে নেন তাহলে সারাটা দিন আপনার দেহ বেশ কর্মচঞ্চল থাকবে। সারারাত ঘুমানোর পর আমরা যখন জাগি তখন আমাদের পেট একদমই খালি থাকে। তাই ঘুম থেকে জেগে সবার আগে সকালের নাস্তা গ্রহণ করাটা খুব জরুরি। কিন্তু এখন যেহেতু রমজান তাই সেহরিতে ভালো এবং হেলদি খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে আপনি থাকবেন ফিট এবং হেলদি।


৫) দৈনিক গোসল করা

দৈনিক গোসল করা সুস্থ থাকার একটি অন্যতম হাতিয়ার। ঘুম থেকে জেগে দৈনন্দিন কাজকর্ম শেষ করার পর গোসল করে নিলে আপনার সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। আপনি বেশ পরিচ্ছন্ন ও ঝরঝরে বোধ করবেন। আর রোজ গোসল করার কারণে আপনার দেহ মন বেশ তরতাজা থাকবে ও আপনি খুব সহজেই জীবাণুমুক্ত থাকবেন।


৬) গাছ লাগানো 

ঘরে বসে বসে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছেন? তাহলে শুরু করে দিন গাছ লাগানো। গাছ লাগানোর মাধ্যমে আপনার মন বেশ প্রফুল্ল ও কর্মচঞ্চল থাকবে। তাছাড়া গাছ পালার সবুজ রঙ আপনার মন ভালো রাখতে বেশ কার্যকরী একটা উপাদান। তাই প্রকৃতির কাছাকাছি চলে যাওয়ার জন্য ঘরের কোণেই বানিয়ে ফেলুন এক টুকরো বাগান। এতে আপনার মন বেশ তরতাজা হয়ে যাবে।


৭) বই পড়া 

গৃহবন্দি থাকাকালীন সময়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ঘরে বসে জ্ঞান অর্জন করার অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে বই পড়া। নিজের মনকে প্রশস্ত করার জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। তাই কোয়ারাইন্টানের এই দিনগুলোকে বিরক্তিকর ও বোরিং না বানিয়ে বই পড়ুন এবং মনকে প্রফুল্ল রাখুন।


করোনাভাইরাস বর্তমানে একটি আতঙ্কের নাম। এই আতঙ্ক থেকে বাঁচতে হলে ও সুরক্ষিত থাকতে হলে ঘরে থাকুন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন এবং দেহ ও মনকে প্রফুল্ল রাখুন। ঘর থেকে বের হওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। নিজে সুস্থ থাকুন ও নিজের আপনজনদের সুস্থ রাখুন।

বাড়তি যত্ন শীত পোশাকের


প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে জানান দিচ্ছে শীতের আগমন। শীতের পোশাক আলমারি থেকে নামিয়ে নিচ্ছেন অনেকেই। যেহেতু শীতের সময়কাল কম, তাই এই গরম পোশাকগুলো বেশ অল্প সময়ের জন্যই পরা হয়। শীতের শুরুতেই যদি পোশাকগুলোর একটু বাড়তি যত্ন নেওয়া যায়, তবে তা দীর্ঘদিন টেকসই হয়।


গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়নশিল্প বিভাগের প্রভাষক নাদিরা তুন নাইম বলছিলেন, শীতের পোশাকের যত্ন নিতে কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হবে। আলমারি থেকে পুরোনো শীতবস্ত্র বের করে প্রথমেই দেখতে হবে কোনো দাগ বা ছেঁড়া-ফাটা আছে কি না। পোশাকগুলো বাছাইয়ের পর মেরামত করে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। সবশেষে ইস্তিরি করে নিলেই পোশাকটি পরার উপযুক্ত হবে—বললেন নাদিরা তুন। এ ছাড়া কাপড়ের ধরনভেদে শীতের পোশাকের যত্নও ভিন্ন হবে বলে জানালেন তিনি।


উল: উলের কাপড় মৃদু ক্ষারযুক্ত ডিটারজেন্ট দিয়ে ১৫ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। কখনোই বেশি জোরে কাচা বা নিংড়ানো যাবে না। উলের কাপড় ওয়াশিং মেশিনে ধুলেও ‘উল মুড’ চালু রাখতে হবে। উলের কাপড়ে কোনো দাগ পড়লে ধোয়ার আগে লেবু বা ভিনেগার ঘষে নিতে হবে।


ফ্লানেল: ফ্লানেল কাপড়ের খুব বেশি যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। লিকুইড ডিটারজেন্ট ভালো করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে কেচে ধুয়ে ফেলতে হবে। এ কাপড় ওয়াশিং মেশিনে ধোয়ার জন্য ‘নরমাল মুড’ চালু রাখতে হবে।


পশমি: আঙ্গুরা বা পশমি কাপড় ধোয়ার জন্য আপনাকে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। পশমি কাপড়  শ্যাম্পু দিয়ে ১০ মিনিট ভিজিয়ে নিয়ে কচলে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই ধরনের কাপড়ে দুই হাত দিয়ে পানি চেপে চেপে ফেলতে হবে। পশমি কাপড়গুলোকে কখনো অন্য কাপড়ের সঙ্গে ভেজানো বা ধোয়া যাবে না। তাহলে পশমগুলো অন্যান্য কাপড়ে লেগে যাবে। পশমি কাপড় ধোয়ার পর টিস্যু পেপার দিয়ে মুড়িয়ে ভাঁজ করে পলিথিনে রেখে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।


লেদার: লেদারের পোশাক খুবই স্পর্শকাতর হয়। তাই সারা বছরই এর যত্ন নিতে হয়। মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্য রোদে দিয়ে ব্রাশ করে ঝেড়ে ফেলতে হবে। অবশ্যই লেদারের জ্যাকেট হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে তুলনামূলক ঠান্ডা জায়গায় রাখতে হবে। জিপারের চেইন জ্যাম হয়ে গেলে মোম বা নারকেল তেল দিয়ে ঘষে নিলেই জিপার সহজে খুলে যাবে।


ভেলভেট: শীতে ভেলভেটের পোশাক আরাম, আর দেখতেও লাগে বেশ। ভেলভেটের কাপড় ড্রাই ওয়াশ করা ভালো। ভেলভেটের কাপড় কখনোই আয়রন করা উচিত নয়। এমনিতেই ভেলভেটের কাপড় খুব সহজেই ম্লান হয়ে যায়, তাই এ ধরনের কাপড় ভাঁজ করবেন না। ভেলভেটে ভাঁজের জায়গা স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে। খুব আলতোভাবে কোনো বক্সে বা ঝুলিয়ে রাখতে পারেন।


আরও কিছু

উলের পোশাক ঝুলিয়ে শুকাতে দেবেন না। মাটিতে তোয়ালে বিছিয়ে তার ওপরে শুকাতে দিন।

শীতের কাপড়ে ভুলেও কখনো পারফিউম দিয়ে রাখবেন না। তাহলে কাপড়ে দাগ পড়ে যাবে।

ঘামযুক্ত শীতের পোশাক আলমারিতে তুলে রাখবেন না। এতে পোকার আক্রমণ হতে পারে।

ঘন ঘন শীতের পোশাক ধোবেন না। এতে পোশাক তার কোমলতা আর ঔজ্জ্বল্য হারায়।

অনেকেই শীতের পোশাক ড্রাই ক্লিন করেন। ড্রাই ক্লিনিংয়ের সময় নানা রকম কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। সে ক্ষেত্রে কাপড়গুলো একবার রোদে শুকিয়ে তারপরই আলমারিতে তুলুন।

আয়রন করার আগে উলের জামাকাপড় উল্টে নিয়ে তারপর আয়রন করুন।

পোশাক কি রোজ ধোবেন এবার শীতের


করোনাকালে কত অভ্যাসই না বদলে ফেলতে হয়েছে আমাদের। সারা দিনের কাজের শেষে বাড়ি ফেরার পর নিজেকে ও বাইরে ব্যবহৃত জিনিসপত্র জীবাণুমুক্ত করার অভ্যাস এখন। নতুন স্বাভাবিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই পরিচ্ছন্নতা পর্ব। অফিসে কাজ করতে সারা দিন যত না ক্লান্তি, বাসায় ফিরে সব জীবাণুমুক্ত করতে তার চেয়ে বেশি ক্লান্ত লাগে অনেকের। তবে ক্লান্তি যতই লাগুক, আলসেমি যতই ভর করুক, মানবজাতি এখন অনন্যোপায়। তাই হিমশীতল আমেজেও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন থাকতে হবে সবাইকে। এবারের শীত আসবে একটু অন্যরকম বার্তা নিয়ে। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কথা শীতে আরও বেশি মাথায় রাখতে হবে।


বাইরে থেকে ফিরে


করোনাকালে বাইরে থেকে ফিরে প্রথমেই সাবান দিয়ে গোসল সেরে নেওয়া এবং পরনের কাপড়গুলো সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলার সু–অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন সচেতন মানুষেরা। কিন্তু শীতের সময়? শীতকালে বাইরে যাওয়ার সময় পরতে হবে গরম পোশাক, যা রোজ ধোয়া সম্ভব নয়। আবার বাইরে থেকে ফিরে রাতে ঠান্ডা সাবান-পানিতে গোসল করার কথা ভাবতেও হয়তো শীতে কাঁপবেন কেউ কেউ। তাহলে উপায় কী? বাইরে থেকে ফেরার সময় নিজের অজান্তে জীবাণু বয়ে আনতেই পারেন যে কেউ। বয়ে আনা জীবাণুর কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন তিনি নিজে, এমনকি বাসায় থাকা অন্যরাও। তাহলে সমাধান?


ঢাকা মেডিকেল কলেজের অণুজীববিদ্যা (মাইক্রোবায়োলজি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এস এম শামসুজ্জামান জানালেন, কাপড়ের ওপর করোনাভাইরাস ঠিক কতক্ষণ বেঁচে থাকে, তা এখনো জানা যায়নি। এ–সংক্রান্ত নিশ্চিত তথ্য-উপাত্ত এখনো পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপদ থাকার জন্য ব্যবহৃত শীতের পোশাকটি সাবান-পানিতে ধোয়ার সুযোগ না থাকলেও পুনরায় ব্যবহারের আগে অন্তত ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করা ভালো। পুরো পৃথিবীতেই এ–সংক্রান্ত তথ্য এখনো উপলব্ধ নয়। তাই ঝুঁকি না নিয়ে বরং ওই পোশাক ব্যবহারের আগে অন্তত ৭২ ঘণ্টা পার করা উচিত। আর বাইরে থেকে ফিরে গোসল করা সম্ভব না হলেও শরীরের যেসব অংশ উন্মুক্ত থাকে, সেসব অংশ সাবান-পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। মুখ যেমন ধুতে হবে, তেমনি হাত ধুতে হবে কনুইয়ের ওপর পর্যন্ত। পা তো ধোবেনই। মাথা ঢাকতে একবার ব্যবহারোপযোগী টুপি পরতে পারেন, বাসায় এসে সেটি নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপদ উপায়ে ফেলে দিতে হবে।


দূরে থাক জীবাণু

বাইরে থেকে ফিরে নিয়মমাফিক জুতা খুলে এখন যেমন বাইরে রাখেন, শীতের দিনেও সেই নিয়ম মেনে চলুন। সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন শরীরের উন্মুক্ত অংশগুলো। স্যানিটাইজারও ব্যবহার করা যেতে পারে। পোশাক খুলে এমন একটি জায়গায় রাখুন, যেখানে রাখলে বাড়ির অন্য কেউ সেটিকে স্পর্শ করবে না। শিশু এবং পোষা প্রাণীদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে অবশ্যই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মতলেবুর রহমান জানালেন এমনটাই।


সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধোয়া সম্ভব না হলে ৭২ ঘণ্টা পর আবার ওই পোশাক পরতে পারবেন। তাহলে প্রতিদিন বাইরে যেতে হলে কিছু বাড়তি শীতের পোশাক রাখতে হবে, যা পরিধান করে পরবর্তী দিনগুলোতে আবার বাইরে যেতে পারবেন, আবার ফিরে এসে আলাদাভাবে কোথাও রেখে দিতে পারবেন (৭২ ঘণ্টা পার হওয়ার আগে এটিকেও আর স্পর্শ না করাই ভালো)। এ ছাড়া বাইরে ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী (যেমন চাবি, মুঠোফোন, মানিব্যাগ প্রভৃতি) জীবাণুমুক্ত করে নিন স্যানিটাইজার দিয়ে, যেমনটা করছেন পুরো করোনাকালে।

আজ ম্যারাডোনার গোল


ম্যাজিশিয়ান ম্যারাডোনা প্রয়াত। বর্ণময় এক ফুটবলশিল্পীর চলে যাওয়া মানেই স্মৃতি মুছে যাওয়া নয়। তিনি কেবল সাফল্য আর ব্যর্থতার নিক্তিতে বিচার্য হবেন না বরং তাঁর জীবন, তাঁকে ঘিরে বিতর্কও আরও বহুদিন থাকবে আলোচনায়।

মাঠের বাইরে এই মানুষটির চলনবলনও সেই আলোচনার অংশ হতে পারে। সত্যি বলতে কি, ফ্যাশন দুনিয়ায় ম্যারাডোনার খুব একটা চলাফেরা ছিল বলে জানা যায় না। তবে নিজে যথেষ্ট ফ্যাশনেবল ছিলেন। অন্তত ফ্যানদের সেটাই দাবি। অবশ্য স্ট্রিটস্টাইলে ম্যারডানাকে আইকন বললে বাড়িয়ে বলা হবে। অনেকেই বলে থাকেন হালের জাইন মালিক (সুপার মডেল জিজি হাদিদের সঙ্গী), পিট ডেভিডসন আর জাস্টিন বিবাররা তাঁকে অনুসরণ করছেন। 

যেটা হোক না হোক, ম্যারাডোনাকে নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়। তিনি চুল ডাই করেছেন কবে? তাও যেনতেনভাবে নয়। স্টাইল করেই। সেটা তো আশির দশকের কথা। এরপর আবার পুরো চুল ডাই করেছেন। আর পোশাক পরেছেন যেমন ইচ্ছা, যেখানে ম্যারাডোনাই উপস্থিত স্বমহিমায়। বেশির ভাগ সময় শর্টস, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, রাবমুড়া, হাওয়াই শার্ট কিংবা প্রিন্ট, চেকস বা স্ট্রাইপড। আবার স্যুটেও তিনি তাঁর মতোই। ট্রিম করা দাড়িতেও বেশ মানানসই। অনুরাগীরা গুরুতে অনুসরণ করেছেন বৈকি।

এই আটপৌরে অথচ স্টাইলিশ, তাও আবার নিজের মতো করে। চাপিয়ে দেওয়া কিছু নয়। এটাই তো ম্যারাডোনা। এটাই তো তাঁর সিগনেচার।


দুহাতে দুই ঘড়ি

কোথাও গেলে ম্যারাডোনা দুহাতেই ঘড়ি পরতেন। একটায় স্থানীয় সময়, অন্যটায় আর্জেন্টিনার সময় দেখার জন্য। এই ঘড়িজোড়া আবার হতো একই রকম। দুরকম কখনোই নয়। অর্থাৎ একই কোম্পানি, একই ডিজাইন। এটাও পরিণত হয় ম্যারাডোনা স্টেটমেন্টে।

অন্যদিকে ঘড়ির প্রতি তাঁর ছিল বিশেষ দুর্বলতা। দামি ঘড়ি তিনি পরতেন। সংগ্রহ করতেন। রোলেক্স ছিল তাঁর সবচেয়ে পছন্দের ব্র্যান্ড। পাশাপাশি হিউবল্টও ছিল তাঁর অনুরাগের তালিকায়। একসময় তিনি হিউবল্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরও হয়েছিলেন। পরেছেন এই কোম্পানির দামি সব ঘড়ি: ক্ল্যাসিক ফিউশন থেকে হিরে বসানো বিগ ব্যাংগস। তাঁর সম্মানে হিউবল্ট সীমিত সংস্করণ বাজারে ছাড়ে, যেখানে মূল থিম ছিল নীল-সাদা রং আর তাঁর জার্সি নম্বর ১০।


অনেক কিছুর সঙ্গে থেকে যাবে তাঁর ঘড়ির স্মৃতি, থাকবে তাঁর সংগ্রহে থাকা ঘড়িগুলোও। এসবের ঊর্ধ্বে যেন মনে হচ্ছে তাঁর প্রয়াণে থমকে গেল সময়।


ম্যারাডোনা ১, ডলচে অ্যান্ড গ্যাবানা ০

২০১৬ সালে সোফিয়া লোরেন এবং নেপলসকে প্রতিপাদ্য করে ফল বা অটাম-উইন্টার সংগ্রহ তৈরি করে বিখ্যাত ফ্যাশন হাউস ডলচে অ্যান্ড গ্যাবানা। ইতালির প্রথম অস্কারজয়ী অভিনয় ব্যক্তিত্ব সোফিয়া লোরেন যেমন নেপলসের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন, তেমনি আছে ডিয়েগো মারাডোনাও। তিনি নেপলসের হয়েও তো নেপলসেরই। কারণ এই শহরের একটি অখ্যাত দলকে তিনি ইউরোসেরার রূপান্তর করেন বলতে গেলে একক কৃতিত্বে। ফলে নেপলসকে নিয়ে কিছু করলে ম্যারাডোনাকে বাদ দিই–বা কীভাবে?

এ জন্য ওই সংগ্রহে ডলচে অ্যান্ড গ্যাবানা জুটি রাখলেন ম্যারাডোনা বিশ্বকাপজয়ী ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সি। ফ্যাশন শো হলো দারুক জাঁকজমক করে। তারায় তারায় খচিত সে আসর। কিন্তু ছন্দপতন ঘটল তারপরই। মামলা ঠুকে দিলেন ম্যারাডোনা। কারণ তাঁর ১০ নম্বর জার্সি অনুসরণ করা হয়েছে তাঁকে না জানিয়ে। আর নেপলস ও ম্যারাডোনাকে ট্রিবিউট দিতে গিয়ে ছোট্ট এই ভুলটা করে বসেন এই ডিজাইনার জুটি। ফলে তার মাশুল গুনতে হয়। ম্যারাডোনার জার্সির প্রেরণায় তৈরি পোশাক নিয়ে ম্যারাডোনা শুরুতে প্রশংশাই করেন। কিন্তু তারপর তিনি মামলা করলে মিলানের আদালত ২০১৭ যে রায় দেন, সেটা ম্যারডোনার পক্ষেই যায়। তিনি সেই মামলা জিতে ৭০ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ পান।


ম্যারাডোনাকে পিউমার সম্মান

১৯৮৬ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘হ্যান্ড’স অব গড’ গোল ছাড়াও অসাধারণ একটি গোল তিনি করেছিলেন। সেটি ছিল দ্বিতীয় গোল। যেটা বলা হয় ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। সেই গোলের ৩০ বছর উপলক্ষে ২০১৬ সালে নতুন বুট বাজারে ছাড়ে পিউমা। নাম দেয় ‘কিং ম্যারাডোনা সুপার’। এই বুটের টাংয়ে ছিল ম্যারাডোনার ছবি আর আপারে তাঁর স্বাক্ষর। সেই সময়ে ওই বুটের দাম রাখা হয় ২৭৫ মার্কিন ডলার।

শীত সংগ্রহে ফ্যাশন হাউস কে ক্র্যাফট


শীতে উষ্ণতা খোঁজে মানুষ। ফ্যাশন অনুরাগীরা শীতপোশাকে ট্রেন্ডি হওয়ার চেষ্টা করে। তাদের কথা মাথায় রেখে শীত সংগ্রহ সাজিয়েছে দেশের শীর্ষ সারির ফ্যাশন হাউস কে ক্র্যাফট। প্রতিটি আউটলেটেই রয়েছে নতুন ডিজাইনের সময়ের আবেদনময় শীতপোশাকের সংগ্রহ। সব বয়সের জন্যই তাদের এ আয়োজন।

এবারের সংগ্রহে আছে শাল, সোয়েটার, হুডি, কটি, ফুলস্লিভ ডেনিম শার্ট, পঞ্চোসহ শীতের উপযোগী পোশাক। সঙ্গে আরও রয়েছে এ সময়ের জন্য অনুষঙ্গ। এ বছরের ফল ট্রেন্ডকে মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে আকর্ষণীয় কাট ও প্যাটার্নের সব পোশাক। অলংকরণ আর উপস্থাপনায় আছে বৈচিত্র্য।

বিভিন্ন একরঙা, ডুরে, ছাপা ও বয়নে নকশা করা শালের সংগ্রহ করা হয়েছে মেয়েদের কথা মাথায় রেখে। ছেলেদের জন্য রয়েছে খাদি, সুতি, স্ট্রাইপ, চেক, সলিড, টাইডাই ও ব্লক প্রিন্টের শাল। স্কার্ফ ও মাফলার আছে বিভিন্ন ডিজাইনের। শীতের দিনে এসব পোশাকে মিলবে আরাম ও উষ্ণতা।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, খুলনা, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জসহ সব আউটলেটেই রয়েছে শীত সংগ্রহ।

কেনাকাটা,আমাদের খাবার


আমি ঘরে সারা দিন কাজ করি। কী কাজ? এই তো ঝাড়া–মোছা। কৌটা, বাসন সাফ–সুতরো করা, কাপড় ধোয়া, ঘর মোছা। তারপরও নিজেকে অলস প্রকৃতির মনে হয়। আসলে আমি বিড়ালের মতো আরামপ্রিয় টাইপ মানুষ। কিন্তু বিদেশ বলে কথা। সব তো নিজেকেই করতে হয়। আমার ফলের ছবি দেখাই। সব সুন্দর করে কেটেকুটে তৈরি। বাজার থেকে পুরো আনারস অনেক দিন কিনে এনেছি, কিন্তু কাটতে গেলে হয় পাকেনি। তারপর দেখা গেল পচে গেছে। অথবা কিনে এনেছি, এটা ভালো ছিল না। যত বার কিনেছি, ততবারই পুরোটা ফেলে দিয়েছি। বলা যায়, আমার ৪/৫ ডলার মাটি। কী আর করা? 


হাজার রকমের সুন্দর সুন্দর ফলের ভিড়ে চেনা ফল না খেলে কী হয়? কিছুই হয় না। কিন্তু আমাদের জিহ্বা হচ্ছেন এমন, সব সময় চেনা টেস্ট খোঁজে। মানে আমরা যার সঙ্গে পরিচিত সেটার প্রতি ইচ্ছা জাগে মনে। কারণ, অবচেতন মনে তা রেকর্ড করা। এ জন্য প্রিয়জনের হাতের খাবার আমরা খুঁজি। আমারও হয়তো সে জন্য মাঝে মধ্যে দেশি চেনা ফল খেতে ইচ্ছে হয়। যেমন বরই, আমড়া, কৎ বেল। কৎ বেল ভর্তা বাংলাদেশ থেকে প্যাক করা আসে। দেশি স্টোর থেকে আমি মাঝেমধ্যে কিনে এনে আয়েশ করে আরও মরিচ, সরিষার তেল, চিনি দিয়ে তারপর মেখে খাই। কাঁটা ফল আমাদের এলাকায় আইডল বাস্কেট থেকে কিনে তেমন সুবিধার মনে হয়নি। ওটা মূলত মার্কিন হলেও স্প্যানিশ স্টোর। স্বজাতির মতো ওদের মধ্যেও কিছুটা ঘাপলা আছে। তবে প্রকৃত মার্কিন যেগুলো, সেগুলোর কাঁটা ফলগুলো একদম ফ্রেশ। এই আনারসের বক্স ৭ ডলার পড়েছে, মান খুব ভালো। যখন ইচ্ছে হয় এটাই কিনি। ডালিম এই প্রথম কিনলাম এবং এটারও দানা বের করা এক বিশাল কাজ। সবচেয়ে বাজে যা, তা হলো নখ কালো হয়ে যায়। 


আমি খুব খুশি এমন রেডি পেয়ে। এটার দাম ৫ দশমিক ৯৯ ডলার।

স্পিনাচ লিভস হলো আসলে আমাদের পালন শাক। ও হ্যাঁ, লন্ডনে স্পিনাচকে বলে স্প্যানিশ পাতা। আমি তো শুনে হাসতে হাসতে শেষ। আমার মেয়ে বলে ব্রিটিশ উচ্চারণের জন্য। পরিষ্কার করা থাকে, বক্স কিনি। মার্কিনরা সালাদে কাচা পাতা জাবর কেটে খান, কিন্তু আমি মাঝেমধ্যে দেশের মতো শাক রান্না করি। আবার কখনো অন্য সবজির সঙ্গে শুধু সামান্য লবণ আর অলিভ ওয়েল দিয়ে হালকা সেদ্ধ করি। এরিগুলা নামে একটা পাতা আছে, যা অনেকটা আমাদের শস্যপাতার মতো। এটা স্বাদে অনেকটা লাই বা ছোট শস্য শাকের মতো। আজ আমি এটি শাকের মতো করে ওপরে ভাজি মাছ দিয়েছি। খেতে অনেকটা লাই পাতার ভর্তার মতো হয়েছে।

রেড স্লিপার মাছ। আমেরিকান দোকান থেকে মাছ কিনি। কিন্তু বিদেশি মাছ সাধারণত সব চিনি না বলে যেকোনোটিই কিনি না। অনেক রকম মাছ পাওয়া যায়। স্যামন নেই বেশি। আজ এটির সঙ্গে রেড স্লিপার নিলাম। এটারও অনেক দাম। একটা ফিলেট ট্যাক্সসহ ১৩ ডলারের বেশি পড়েছে। খেতে স্যামন স্বাদ বা দেশে ও ভারতে সমুদ্র তীরে যেসব মাছ ভাজা পাওয়া যায়, অনেকটা সে রকম স্বাদ। হয়তো একই প্রজাতি। আজ স্যামনও কিনলাম এবং এটারও ১৩ ডলার দাম অথচ এই পিছগুলো আমি ১০/১১ ডলারে কিনেছি। দিন দিন দাম বাড়ছে। বিদেশি চাষের মাছেরও দাম কম।

ফ্রেশ টুনা দেখতে খুব সুন্দর। গোলাপি রং। খুব ছোট পিছ নেয় ১০ ডলার। ছটাক বা গ্রামে ওজন হবে। কিন্তু এ ছোট টুকরো শেষ হয় না, কারণ মেয়ে টুনা মাছের ফ্রেশ যেটা কিনি সেটা খেতে চায় না। আমি জানি না, কেন? রান্নার পর দেখেছি ফ্রেশ টুনা কেমন জানি গরুর গোশতের মতো শক্ত হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে আমি তাকে আবার টিনের তেলে ডোবা টুনার মতো নরম করে, ভাজি করে দিই। তবেই পয়সা হালাল হয়। আমারও এসব মাছ বেশি খেতে ইচ্ছে করে না। সব যায় বিড়ালের পেটে।


পাখির মতো এ বাড়ির আশপাশে বিড়াল কিছু আছে, যারা আমাকে দেখলে পরম মমতায় দৌড়ে আসে। দেশি মাছ বলে দেশি স্টোরে যা বিক্রি হয়, তা আসলে চাষের মাছ। কিন্তু ইলিশ খুব ভালো পাওয়া যায়। যদিও স্বাদে তারতম্য হয়। 


লোভী হয়ে কিনে নিয়ে আসি, কিন্তু সেটিও যায় বিড়ালের পেটে। আমার ঘরে অনেক কই মাছ, আবার দেশি ছোট মাছের কিছু বক্স আছে। কই পছন্দ। যত্ন করে রান্না করি। মসলা খেতে ভালো লাগে, তবে ভেতরটা মাটি মাটি।

আমি নিজে না খেলেও গোশত আইটেম মেয়ের জন্য নিয়মিত রান্না করি। মাঝেমধ্যে একটু খাই। যদিও সম্পূর্ণ ভেজিটারিয়ান হওয়ার মন্ত্র বহুবার গ্রহণ করেও অব্যাহত রাখতে পারিনি।

মাংস প্রসঙ্গ যখন আসল তখন আরেকটা কথা বলি। যুক্তরাষ্ট্রের স্টোরে অতীব সুন্দর করে রাখা। আপনি কোনো বাজে গন্ধ পাবেন না। দেখলেই কিনতে ইচ্ছে হবে। তবে হালাল–হারামের বিচারে আপনি পিছিয়ে পড়বেন। এদের স্টোরে বরফ পড়ে আপনার হাতে ফ্রস্টবাইট মানে বরফের কামড়ে লাল দাগ পড়ে যাবে। আর দেশি স্টোরে তীব্র গরমেও রুম ঠান্ডা থাকে না। মাছ মাংসের গন্ধ ছড়ায়। তারপরও হালাল বলে আমরা পচা হলেও তাই হজম করি। খুঁতখুঁতে স্বভাব, তাই আমি আর্চার থেকে লাইভ চিকেন এক সঙ্গে দশটা নিয়ে আসি। মেয়ের বেশ কয়েক দিন চলে যায়। তবুও মাঝেমধ্যে তো যেতে হয় দেশি দোকানগুলোতে।

শুধু আমার বাচ্চা কেন, সব বাচ্চারা বাইরের খাবার পছন্দ করে। আমি মাঝেমধ্যে কিনি। ওই খানে প্রিমিয়াম, সাগর, ঘরোয়া, শামি কাবাব নামে অনেক রেস্টুরেন্ট, বলতে পারেন এক কথায় বাঙালি পাড়া। সাগর দেশি থেকে মোরগ পোলাও, আর কাচ্চি নিলাম। সঙ্গে শামি কাবাব ও বোরহানি বেশ একটা দেশি ভাব থাকে। ডিম ভুনা সুন্দর করে রাখা। দাম জিজ্ঞেস করলে বলল, গোটা ২ ডলার অথচ আড়াই তিন ডলারে মনে হয় ডজন মিলে। আমি অর্গানিকটা কিনি ৪-৫ ডলারের মধ্যে, তাই সঠিক দাম জানি না। তাই ডিম নিলাম না।

সাগর থেকে বেরিয়ে প্রিমিয়াম থেকে রান্না করা সবজি আর কেক নেব ভাবলাম। এদের আবার তরকারি খুব স্বাদ হয়। ঢোকার সময় কানে এল আর কী! অন্য দোকান থেকে বের হয়ে এক বাঙালি ভাই পুরো জাতিকে উদ্ধার করছেন। সঙ্গে সম্ভবত স্ত্রী। আমি অনেক কষ্ট হাসি চাপলাম। তবে তাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। আমাদের হলো, ‘আমল যায় না মরলে, খাইসলত যায় না ধুইলে’ জাতীয় অবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রে থাকলে কী হবে?

একটা উদাহরণ দিই, প্রিমিয়ামেও দেখি সব তরকারির সঙ্গে ডিম ভুনা রাখা। দাম জিজ্ঞেস করলে বলে ১ টা ১ ডলার। 

এখন বোঝেন অবস্থা, পাশাপাশি দুই দোকানে দামের তারতম্য ১ ডলার।

কাঁটা সবজির ফিরিস্তি দিতে গিয়ে অনেক কিছুই লেখা হয়ে গেল। যদিও খাবারদাবারের বাঙালি যজ্ঞ মানেই অনেক বিশাল কিছু। সব কী আর লেখা হয়? দেশের সঙ্গে বিদেশের তুলনা হয় না, কিন্তু দেশি দোকানের হয়। না চাইলেও ব্যবধান চোখে পড়ে, যদিও আমার লেখার মূল বিষয় সেটি নয়। সেটা লেখা শুরু করলে হয়তো আমরা নিজেরাই লজ্জায় মুখ লুকাতে পারব না।

থ্যাংকসগিভিং বর্ণিল প্রকৃতিতে


কবি বলেছেন, চির সবুজের দেশ বাংলাদেশ। ষড়্ঋতুর সেই সবুজ দেশে জন্মেছি আমি। কিন্তু এই পাশ্চাত্যে এসে দেখেছি, এখানকার প্রকৃতি চার ঋতুতে সাজানো। স্প্রিং, সামার, অটাম, উইন্টার। প্রতিটি ঋতুই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। ঋতুর যে বিবর্তন, দেশে থাকতে তা কখনো সেই অর্থে উপলব্ধি করা হয়নি। সবুজের বাইরেও যে প্রকৃতির আরও কত রং আছে! প্রকৃতির অন্তর্গত সেসব রঙের ছোঁয়া দেখেছি এই যুক্তরাষ্ট্রে এসে। এ যে হাজারটা ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া প্রকৃতি নয়। এ না চাইলেও সামনে এসে, রং ছড়িয়ে অবিচল দাঁড়িয়ে থাকা এক ঝলমলে উজ্জ্বল প্রকৃতি। এই যান্ত্রিক শহরে রুদ্ধশ্বাসে ছুটে চলা মানুষগুলো প্রকৃতির প্রতিটি অধ্যায় তীব্রভাবে উপভোগ করে। এখানে অক্টোবর-নভেম্বরে বাহারি সব পাতার বর্ণিল সাজে ঝলমল করে উঠে শরৎ ঋতু। অর্থাৎ শরৎ ঋতুকেই এ দেশে অটাম কিংবা ‘ফল সিজন’ বলা হয়। বাংলায় বলে ‘পতন ঋতু’। 


লাল-খয়েরি-হলুদ-কমলার অদ্ভুত এক অনুভূতির নাম ‘ফল সিজন’। এ সময়ে হাইওয়ে ধরে দুর্বার গতিতে ছুটে চলা গাড়ি থেকে সড়কের দুপাশে প্রকাণ্ড সব গাছের দিকে তাকালে আগুন লাগা বর্ণিল রং যে কাউকে নিয়ে যাবে অদ্ভুত এক ঘোরের জগতে। আর পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে যত দূর চোখ যায়, তাকালে মনে হবে গাছে গাছে হলি খেলা চলছে। কেউ আবির ছড়িয়ে দিয়েছে। কিংবা মনে হবে শিল্পীর হাতে যত্নে আঁকা রঙিন ক্যানভাস। কিন্তু প্রকৃতির এই অনিন্দ্য রূপান্তর খুবই ক্ষণস্থায়ী।


ঝিরিঝিরি শীতল বৈরী বাতাস পাতাদের গান শোনাতে শোনাতে কখন যে মাটির দিকে টেনে নেয়! মাটিতে লুটোপুটি খায় বিবর্ণ ঝরাপাতা। স্তূপীকৃত হয়ে পুরু কার্পেটের মতো পড়ে থাকে শহরের সড়কজুড়ে। ম্যাপল কিংবা পাইন গাছের পাতা পড়ে থাকে কাঠের বেঞ্চিতে, রাস্তার দুই পাশে পার্ক করা গাড়িতে। কখনোবা ব্যস্ততম সড়কে ছুটে চলা গাড়ির চাকার সঙ্গে ছুটে যায় শুকনো পাতা উদাসী সুরে। কিছু দূর গিয়ে থমকে থাকে পিচঢালা পথের বাঁকে বাঁকে। তাদের মাড়িয়ে হেঁটে চলে মানুষের কোলাহল। চরাচরে কান পেতে ঝরাপাতার মর্মর ধ্বনি শোনার সময় নেই কারও। 


আমরা পাতায় পাতায় ভরে থাকা বাড়ির সামনের অংশটুকু ঝাঁট দিয়ে তুলে নিই তাদের। অবশিষ্টরা উদাসী বাতাসে পাক খেতে খেতে গড়াগড়ি খায় পথের আনাচে-কানাচে। যেন হৃদয়ের ভেতরে ঘূর্ণি পাতার মতো ঘুরে ঘুরে বলে যায়, এ বেলায় যাই তবে, ফের দেখা হবে, দেখা হবে...। ঝরাপাতার বিদায়ে চারদিকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে নিষ্পত্র কঙ্কালসার বৃক্ষরাজি। যেন হাহাকার করা বিষণ্ন সুন্দর প্রকৃতি। জানি, গ্রীষ্মের আগমনে আবার গাঢ় সবুজ পত্র-পল্লবে সুশোভিত হয়ে উঠবে বৃক্ষরাজি। ফুলে ফুলে ভরে উঠবে আঙিনা, পথ-ঘাট। তবুও।

যুক্তরাষ্ট্রে পাতা ঝরার দিনের মধ্যেই অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর ‘হ্যালোউন ডে’ উৎসব হয়। একে আমি বলি ভৌতিক মুখোশের উৎসব। ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’র উৎসব। নভেম্বরের শুরুতেই শুরু হয় ‘থ্যাংকস গিভিং ডে’র আমেজ। যুক্তরাষ্ট্রের বড় দুটি উৎসবের একটি ‘থ্যাংকস গিভিং ডে’। এটি একটি সর্বজনীন উৎসব। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মহাসমারোহে উদ্‌যাপন করা হয় দিনটি। অনেকটা আমাদের দেশের ঘরে ঘরে ফসল তোলার নবান্নের উৎসবের মতো। বিশ্ববিখ্যাত শপিং প্রতিষ্ঠান ‘মেসিস’ দিবসটিকে ঘিরে বর্ণাঢ্য প্যারেডের আয়োজন করে থাকে। বিভিন্ন জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র বিশালাকৃতির বেলুনে ফুলিয়ে, নানা রকম সাজসজ্জার ক্লাউন ও বাদক দল দিয়ে প্যারেডটিকে আকর্ষণীয় করা হয়। মানুষ অধীর আগ্রহে তা দেখতে সড়কের দুপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।

অবশ্য এই বিশেষ দিনটি উদ্‌যাপনে অন্যবারের ন্যায় বিশেষ কোনো তোড়জোড় নেই এবার। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সব জমকালো আয়োজনকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে মহামারির কথা ভেবে। তবুও ভিন্ন আঙ্গিকে ঘরোয়াভাবে ছোট পরিসরে নিজেদের মতো করে দিনটি উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সব। নভেম্বরের শেষ বৃহস্পতিবার দিনটি পালিত হয়ে থাকে। এর পেছনে জড়িয়ে আছে বিষাদময় এক ইতিহাস।


স্বাধীনভাবে ধর্ম চর্চায় প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হওয়া একদল মানুষ ১৬২০ সালে ইংল্যান্ড ছেড়ে ‘মে ফ্লাওয়ার’ নামক জাহাজে চড়ে নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে রওনা দেন। কয়েক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের প্লিমিথ গ্রামে যাত্রাবিরতি করে জাহাজটি। কিন্তু অনাহারে, অর্ধাহারে, তীব্র শীতের প্রকোপে ১০২ জন নারী, পুরুষ, শিশু যাত্রীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫৪ জন বেঁচেছিলেন। সেই দুর্দিনে প্লিমিথ গ্রামের আদিবাসীরা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। তাদের শস্য চাষ করার প্রক্রিয়া, মাছ ধরার কৌশল ও ম্যাপল গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার পদ্ধতি শেখান। ফলে পরের বছর গ্রীষ্মে আশাতীত ফলন হয়।

আদিবাসী ও বহিরাগতরা মিলে একে অন্যকে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও এক ভূরিভোজের আয়োজন করেন। ময়ূরের মতো দেখতে টার্কি মসলা মাখিয়ে পুড়িয়ে তা দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে তারা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান তাদের বাঁচিয়ে রাখতে এবং আশাতীত ফলনের জন্য। এটিই ক্রমশ ‘থ্যাংকস গিভিং ডে’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য, সবাই মিলে একত্রে খাওয়া-দাওয়া ও উৎসবের মাধ্যমে ঈশ্বরকে কৃতজ্ঞতা জানানো। প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন প্রথম জাতীয় পর্যায়ে দিনটিকে স্বীকৃতি দেন ১৭৮৯ সালের ২৬ নভেম্বর। প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন দিনটিকে বার্ষিক ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন ১৯৬৩ সালে।


এটি একটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ঐতিহ্যগত আয়োজন হওয়ায় পাশ্চাত্যে বসবাসরত বাঙালিরাও দিনটি উদ্‌যাপন করে থাকেন। কেউ কেউ দিবসটিকে সৃষ্টিকর্তাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর সুযোগ হিসেবে উদ্‌যাপন করেন। আবার অনেকে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়পরিজনকে ধন্যবাদ জানানোর দিন ভাবেন। পাশ্চাত্যের সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে এ দেশের সংস্কৃতিকে নিজস্ব আঙ্গিকে তুলে ধরার প্রয়াস হিসেবে দেখছেন অনেকে। যেহেতু এটি কোনোভাবেই ধর্মীয় অনুশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, তাই আমরা এই দিনে বাড়িতে বন্ধু, আত্মীয়-পরিজন সবাই মিলে একত্রিত হই। হালাল টার্কি দেশীয় পদ্ধতিতে মসলা মাখিয়ে ওভেনে পুড়িয়ে রাতের খাবারের টেবিলে পরিবেশন করি। সঙ্গে থাকে ক্র্যানবেরি সস, পাম্পকিন পাই, মিষ্টি আলুর ক্যানডি, ম্যাশড পটেটো ও দেশীয় খাবার।


সবাই মিলে আনন্দের সঙ্গে সময় কাটানো ও খাওয়া–দাওয়া শেষে জীবনের প্রতিটি সাফল্যের জন্য আমাদের প্রতি অবারিত করুণা বর্ষণের জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বন্ধুরা একে অন্যকে ধন্যবাদ জানাই সারা বছর বিপদে–আপদে পাশে থাকার জন্য। আত্মীয়-পরিজনহীন এই দূর দেশের শুরুর দিনগুলোতে যারা একটি চাকরি পেতে সহযোগিতা করেছিলেন কিংবা একটি বাসা পেতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, যারা রাস্তাঘাট চিনিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি দিনটিতে।

প্রিয় চার পদ নোয়াখালীর


নোয়াখালীর মানুষ আতিথেয়তায় অতুলনীয়। আতিথেয়তায় অনন্য এই জেলার কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্নার রেসিপি দেওয়া হলো। চলছে হেমন্তকাল। হালকা শীতে বাঙালির অন্যতম প্রিয় খাবার হাঁসের মাংস। সেই সঙ্গে যদি থাকে সেমাই পিঠা, মাছের মরিচ খোলা আর নারিকেল পুলি পিঠা, তাহলে তো কথাই নেই। চলুন, জেনে নেওয়া যাক কীভাবে মুখরোচক এসব খাবার তৈরি করবেন


সেমাই পিঠা তৈরির রেসিপি

উপকরণ: চালের গুঁড়া ২ কাপ, তরল দুধ ৩ লিটার, কনডেন্সড মিল্ক ১ টিন (ইচ্ছা), চিনি স্বাদমতো, খেজুরের গুড় ১/২ কাপ, এলাচ গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ সামান্য, পানি পরিমাণমতো, কিশমিশ, পেস্তা সাজানোর জন্য।

প্রণালি: পানি ফুটিয়ে চালের গুঁড়া দিয়ে ডো করে নিন। চুলা থেকে হাঁড়ি নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা করে বেশ ভালোভাবে ডো/কাই ময়ান দিয়ে নিন। ময়ান দেওয়া হলে অল্প করে ডো নিয়ে লেচি কেটে সেমাই বানিয়ে নিন। সব বানানো হলে চুলায় দুধের হাঁড়ি বসান। দুধ ফুটে উঠলে এক কাপ দুধ উঠিয়ে রাখুন। এই এক কাপ দুধ ঠান্ডা করে তাতে গুড় গলিয়ে ছেঁকে রাখুন।


এবার দুধের সঙ্গে কনডেন্সড মিল্ক, এলাচ গুঁড়া ও স্বাদমতো চিনি দিয়ে জ্বাল করুন। চিনির পানি শুকিয়ে গেলে অল্প অল্প করে তৈরি করে রাখা সেমাই মিশিয়ে নিন। পছন্দমতো ঘন হলে নামিয়ে নিন। সেমাই কুসুম গরম হলে গুড়-দুধের মিশ্রণ মিশিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে কিশমিশ ও পেস্তা কুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।


নারিকেল পুলি পিঠা

উপকরণ: নারিকেল কোরানো ২ কাপ, সুজি বা চালের গুড়া ২ টেবিল চামচ, ঘি বা তেল ২ টেবিল চামচ, এলাচ গুড়া ১/২ চা চামচ, চিনি দেড় কাপ, ময়দা ৩ কাপ, লবণ ২ চা চামচ, পানি ২/৩ কাপ, ভাজার জন্য পরিমাণ মতো ঘি  বা তেল।


প্রস্তুত প্রণালি

এক টেবিল চামচ ঘি বা তেল দিয়ে সুজি বা চালের গুড়া হালকা করে ভেজে নিন। সুজিতে নারিকেল, চিনি, ঘি, এলাচ গুড়া ও ১/৪ কাপ পানি দিয়ে নাড়তে থাকুন। হালুয়াটি চটচটে  হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন।

ময়দায় ঘির ময়ান দিয়ে লবণ আর পানির সঙ্গে  ভালো করে মাখিয়ে নিন, মাখান শেষ হলে ২০ ভাগ করে রাখুন।প্রত্যেক ভাগ বেলার পরে ছুরি দিয়া কাটে ২ ভাগ করুন। এবার প্রত্যেক ভাগের ওপর ২ টেবিল চামচ করে হালুয়া দিন। রুটির চারপাশে হালকাভাবে পানি মাখিয়ে ত্রিভুজ আকারে এর মুখ চেপে বন্ধ করে দিন। এবার রুটি না কেটে চন্দ্রাকারে পুরি তৈরি করুন।

এবার নারকেলের পুলি ডুবো তেলে ভেজে নিন। পরিবেশনের জন্য তৈরি হয়ে গেল  নারিকেলের পুলি পিঠা।


হাঁসের মাংসের মালাইকারি

উপকরণ: হাঁস ২টি, নারকেলের দুধ ৬ কাপ, টক দই ১ কাপ, মিষ্টি দই সিকি কাপ, গরুর কাঁচা দুধ ১ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, পেঁয়াজ বাটা আধা কাপ, আদা বাটা ৪ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, জিরা বাটা ১ চা চামচ, বাদাম বাটা ২ টেবিল চামচ, পেস্তাদানা বাটা ২ টেবিল চামচ, হলুদগুঁড়া ৮ চা চামচ, মরিচগুঁড়া ১ চা চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, গরম মসলার গুঁড়া ১ চা চামচ, জায়ফল জয়ত্রী গুঁড়া আধা চা চামচ, দারুচিনি ৬ টুকরা, এলাচ ৬টি, লবঙ্গ ৬টি, তেজপাতা ৪টি, ঘি আধা কাপ, তেল পৌনে এক কাপ, লবণ পরিমাণমতো, কাঁচা মরিচ ৫-৬টি, বেরেস্তা আধা কাপ।

প্রণালি: হাঁস পরিষ্কার করে চামড়াসহ টুকরাগুলো ধুয়ে পানি ঝরিয়ে দুধ, হলুদ মেখে এক ঘণ্টা রাখতে হবে। তেল ও ঘি গরম করে তাতে পেঁয়াজ বাদামি রঙে ভেজে সব বাটা মসলা দিয়ে কষিয়ে মাংস দিয়ে কষাতে হবে। লবণ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, তেজপাতা, মরিচ, গোলমরিচ, দই দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে ৫ কাপ নারকেলের দুধ ও ২ কাপ গরম পানি দিয়ে ঢেকে রান্না করতে হবে। মাংস সেদ্ধ না হলে আরও পানি দিতে হবে। মাংস সেদ্ধ হয়ে ঝোল কমে গেলে এক কাপ নারকেলের দুধ, বেরেস্তা, গরম মসলার গুঁড়া, জায়ফল-জয়ত্রী গুঁড়া, কাঁচা মরিচ দিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রেখে তেলের ওপর এলে মালাই দিয়ে নামাতে হবে। হাঁসের মাংসের মালাইকারি ছিট রুটি, নানরুটি, পরোটা, ভাত অথবা ভুনা খিচুড়ির সঙ্গে পরিবেশন করা যায়।


মরিচ খোলা

উপকরণ: পাঁচ মিশালি মাছ আধা কেজি, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, পেঁয়াজ বাটা ৩ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, শুকনো মরিচ বাটা ৩ টেবিল চামচ, হলুদ গুড় ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ২টি (কুচি), লবণ স্বাদ মতো, ধনে পাতা কুচি ৩ টেবিল চামচ, সরিষার তেল ১/৪ কাপ।


প্রস্তুত প্রণালি

কাচকি, রুই, পুঁটি, চিংড়িসহ পাঁচমিশালি মাছ নিন। বড় মাছ ছোট টুকরা করুন। মাছ ভালো করে ধুয়ে প্যানে নিন। পেঁয়াজ কুচি, পেঁয়াজ বাটা, রসুন বাটা, শুকনা মরিচ বাটা, হলুদ গুঁড়া, কাঁচা মরিচের টুকরা, স্বাদ মতো লবণ, সরিষার তেল ও ধনে পাতা কুচি দিন। হাত দিয়ে ভালো করে মেখে নিন সব উপকরণ।

একটি কচি কলাপাতা পরিষ্কার করে মুছে মাঝের মোটা অংশে ছুরি দিয়ে দাগ কেটে নিন। এতে মাছের মিশ্রণ মোড়ানোর সময় পাতা ছিঁড়ে যাবে না। কলাপাতার মধ্যে পাতলা করে মসলা মাখা মাছ বিছিয়ে চারপাশ থেকে পাতা মুড়ে ঢেকে দিন। তেল বা মসলা যেন বের হতে না পারে, সে জন্য আরও একটি পাতা দিয়ে মুড়িয়ে টুথপিক ও সুতা দিয়ে ভালো করে আটকে নিন।

চুলায় বসানোর ১০ মিনিট আগে মাঝারি আঁচে তাওয়া গরম করে রাখুন। তাওয়ার ওপর কলাপাতা দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। একদম কম আঁচে আধা ঘণ্টার জন্য এভাবে রাখুন। এরপর উল্টে দিয়ে আরও আধা ঘণ্টা একই আঁচে রাখুন। এক ঘণ্টা পর নামিয়ে পাতা কেটে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন। কলাপাতা না থাকলে একইভাবে ফয়েল পেপার ব্যবহার করেও রান্নাটি করা যাবে।

লাড্ডু রেসিপি


মিষ্টি খেতে আমরা কম বেশি সবাই পছন্দ করি। কারও জন্যে পছন্দের পরিমাপ টা বেশি, কারও জন্যে পরিমাপ টা তুলনামূলক ভাবে কম। পার্থক্য কিন্তু শুধু এতটুকুই। তবে মিষ্টি জাতীয় আইটেম গুলো বানাতে গেলে কিন্তু ঝক্কি ঝামেলা ভালোই পোহাতে হয়। তার উপর অনেক সময় সব কিছু পরিপাটি ভাবে করার পরও শেষটা কেন যেন পারফেক্ট হয় না। তাই না? আজকে আমরা তাই জেনে নিব খুবই মজাদার বুন্দিয়ার লাড্ডুর রেসিপি। এই রেসিপিটির সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, আপনি চাইলে বুন্দিয়া নিজেই বাসায় তৈরি করে ঝটপট লাড্ডু বানিয়ে নিতে পারবেন। 

অথবা বাসায় বুন্দিয়া কেনা থাকলেও জাস্ট কিছু সিম্পল স্টেপ ফলো করেই বানিয়ে ফেলা যাবে এটি সহজেই। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কিভাবে তৈরি করবেন এই আইটেমটি।


বুন্দিয়ার লাড্ডু তৈরির পদ্ধতি

উপকরণ

লাড্ডু তৈরিতে যা যা লাগবে

বেসন – ২ কাপ

সুজি – ২ টেবিল চামচ

ফুড কালার – ১/৪ চা চামচ (অরেঞ্জ কালার)

পানি – ১ কাপ

পেস্তা বাদাম কুচি – পরিমাণ মত

চিনির সিরা – ১/২ কাপ

ভাজার জন্যে তেল – পরিমাণ মত

চিনির সিরা তৈরিতে যা যা লাগবে

চিনি- ১ কাপ

পানি- ১/২ কাপ

এলাচ গুঁড়া- ১/৩ চা চামচ

লেবুর রস- কয়েক ফোঁটা (অপশনাল)

চিনির সিরা তৈরির প্রস্তুত প্রণালী

(১) চুলায় একটি প্যান নিয়ে তাতে ১/২ কাপ পানি ঢেলে নিন। এবার ১ কাপ পরিমাণ চিনি পানিতে দিয়ে চুলার আঁচ মিডিয়াম করে রাখুন। সিরা বানানোর সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে পানি যেন চিনির মাপের অর্ধেক হয়। পানি ফুটে উঠলে চামচ দিয়ে ঘন ঘন নাড়তে থাকুন।


(২) পুরাপুরি চিনি পানির সাথে মিশে গেলে তাতে এলাচ গুঁড়া এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে আবার কিছুক্ষণ নেড়ে নামিয়ে রাখুন। সিরা বেশি ঘন করা যাবে না। ভারি হওয়ার আগেই নামিয়ে ফেলতে হবে।


লাড্ডু তৈরির প্রস্তুত প্রণালী

(১) প্রথমে একটি বাটিতে প্রথমেই পরিমাপ মত বেসন এবং সুজি নিয়ে নিন। এখন এতে একটু একটু করে পানি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এই পর্যায়ে মিশ্রণটিতে ফুড কালার মিশিয়ে নিন।


(২) একটি ফ্রাই প্যান নিয়ে তাতে ভাজার জন্যে পরিমাণ মত তেল দিয়ে চুলার আঁচ মিডিয়াম টু হাই এ রাখুন।

তেল গরম হয়ে এলে, একটি ছিদ্র ওয়ালা চামচের সাহায্যে অল্প অল্প করে আগে বানিয়ে রাখা বেসনের মিশ্রণটি গরম তেলে দিয়ে দিতে হবে। ১ মিনিটের মত ভেজে উঠিয়ে নিন। একদম কড়া করে বুন্দিয়া ভাজা যাবে না।


(৩) এবার গরম গরম বুন্দিয়াগুলো চিনির সিরায় ঢেলে দিন এবং ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্যে ঢেকে রাখুন। সিরাটি চুলায় হালকা আঁচে দিয়ে রাখতে হবে।


(৪) ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর চুলার আঁচ বন্ধ করে দিন এবং পেস্তা বাদাম কুঁচি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে ঠাণ্ডা করে নিন।


(৫) এ পর্যায়ে হাতের তালুতে হালকা ঘি লাগিয়ে নিন। এবার বুন্দিয়া গুলোকে হাতের সাহায্যে লাড্ডুর মত গোল গোল শেইপ দিয়ে একটি পাত্রে সাজিয়ে নিন।

কি অবাক হচ্ছেন? দেখলেন তো! কত সহজেই ঝটপট বানিয়ে নেয়া যায় এই মজাদার লাড্ডু ঘরে বসেই। শুধু কী তাই? আমাদের অনেকেরই বুন্দিয়া খুবই পছন্দের একটি খাবার। লাড্ডু না বানাতে চাইলেও বুন্দিয়া বানিয়ে নিতে পারেন নিমিষেই এই রেসিপি ফলো করে। আমাদের মধ্যে অনেকেই বাইরে কেনা খাবার খেতে চাই না। তারা কিন্তু ঘরে চাইলেই ঝটপট এই রেসিপিটি বানিয়ে চমকে দিতে পারেন সবাইকে।

ঘুরে আসুন টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক স্থানটিতে


জাপানি একটি প্রবাদ আছে- “বাঁশের নল দিয়ে পুরো আকাশ দেখা যায় না।“ সত্যিই তো তাই। প্রাণ ভরে পুরো আকাশ দেখেতে হলে আপনাকে ঘরের বাহিরে দু’পা বাড়াতেই হবে। আপনার একঘেয়ে ব্যস্ত জীবনে একটি ছোট্ট ভ্রমণও এনে দিতে পারে কর্ম উদ্দীপনা। ছুটির দিনে তবে কোথাও একটু বেড়িয়েই আসুন না! ঢাকা শহরের ঠাস বুনোট থেকে নিয়মিত জীবনের খানিকটা সময় যাক না চুরি! অল্প সময়ের জন্য কোথায় যেতে পারেন তাই ভাবছেন বুঝি? একদিনে সময় করে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার কাছেই টাঙ্গাইল জেলার করটিয়া জমিদার বাড়ি থেকে। পরিবার নিয়ে ছিমছাম সময় কাটাতে জায়গাটি মন্দ নয়। ঢাকার অদূরেই টাঙ্গাইল জেলাটি অবস্থিত। উল্লেখ্য যে এটি ঢাকা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড় জেলা। চলুন তাহলে আজ আপনাদের জানাই আমার গ্রামের করটিয়া জমিদার বাড়ি নিয়ে!


করটিয়া জমিদার বাড়ি নিয়ে যত কথা

করটিয়া জমিদার বাড়ি কিভাবে যাবেন?

সড়কপথে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। টঙ্গী থেকে টাঙ্গাইল যেতে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘন্টা সময় লাগে। বাসে করেই ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে চলে যেতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে টাঙ্গাইল বাস টার্মিনাল অর্থাৎ মহাখালী বাস টার্মিনালে যেতে হবে। সেখানে টাঙ্গাইল যাত্রা করার উদ্দেশ্যে পেয়ে যাবেন নিরালা, ঝটিকা, ধলেশ্বরী, বিনিময় ইত্যাদি বাস। এই বাসগুলো নিয়মিত টাঙ্গাইলে ছেড়ে যায়। বাস ভাড়া হবে প্রায় ১৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা মাত্র। বাস থেকে নামতে হবে করটিয়া বাইপাসের কাছে। সেখান থেকে রিক্সায় করেই আপনি পৌছে যেতে পারবেন। রিক্সা ভাড়া নিবে প্রায় ৩০ টাকা। এছাড়া ট্রেনে করেও টাঙ্গাইলে যেতে পারেন। উত্তরবঙ্গের যে সকল ট্রেন টাঙ্গাইল হয়ে যায়, সেগুলোর খোঁজ নিতে পারেন। ট্রেন যখন টাঙ্গাইল স্টেশনে থামবে তখন নেমে যেতে পারবেন।


কী দেখতে পাবেন করটিয়া জমিদার বাড়ি?

করটিয়া জমিদার বাড়ি টাঙ্গাইল শহর থেকে খুব বেশি দূরে নয়। শহর থাকে দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। জমিদার বাড়িটি পুটিয়া নদীর তীরে অবস্থিত। জমিদার বাড়িটি ১০০০ মিটার × ৫০০ মিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত। প্রথমেই করটিয়া জমিদার বাড়ির বাহিরে অবস্থিত সুন্দর একটি মসজিদ দেখতে পাবেন। এটি জমিদার বাড়ির মসজিদ হলেও সর্ব সাধারণের জন্যেই উন্মুক্ত। আর জমিদার বাড়িটি চারদিক প্রাচীর ঘেরা। প্রাচীরের ভেতরে রয়েছে লোহার ঘর, রোকেয়া মহল যা আগে জমিদার বাড়ির অন্দর মহল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে বর্তমানে এখানে একটি স্কুলের কার্যক্রম চলে। আরও রয়েছে রাণীর পুকুর ঘাট, ছোট তরফ দাউদ মহল ও মোগল স্থাপত্যে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ।

করটিয়া জমিদার বাড়ির মসজিদে মোট আটটি গম্বুজ ও ১৫ ফুট উঁচু একটি সুন্দর মিনার রয়েছে। আর চারপাশের সবুজ শ্যামল প্রকৃতি আপনার মনে এনে দিবে অনাবিল প্রশান্তি। চারপাশ ঘুরে দেখতে দেখতে নরম ঘাসের বুকে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিলে পাবেন দূষণমুক্ত বিশুদ্ধ ঠান্ডা বাতাসের ছোঁয়া। এভাবেই পরিবার ও বন্ধুদের সাথে হাসি খেলায় মেতে উঠে কখন যে সময় গড়িয়ে যাবে তা টেরই পাবেন না।


কোথায় খাবেন?

টাঙ্গাইলে খাওয়ার জন্য অনেক হোঠেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। শহরের মোড়েই অবস্থিত নিরালা হোটেলটি বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। আর নিরালার কাছাকাছি দূরত্বে পাবেন আরও কিছু খাবার হোটেল। আর হ্যাঁ, টাঙ্গাইল গেলে এর বিখ্যাত পোড়াবাড়ির চমচম খেতে একটুও যেন ভুল না হয়। এমন মন ভোলানো মিষ্টি স্বাদ আর কোথাও পাবেন না।


থাকার ব্যবস্থা

টাঙ্গাইলে রাত্রিযাপন করতে চাইলে আগে থেকে পল্লী বিদ্যুৎ ও এলজিইডির সরকারি রেস্ট হাউজে খোঁজ নিয়ে রাখতে পারেন। সেখানে তাহলে যোগাযোগ করে থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন। তাছাড়া আরও কিছু ভালো হোটেল রয়েছে তার মধ্যে সুগন্ধা হোটেল, ভাই ভাই হোটেল, নিরালা হোটেল, ইসলামিয়া গেস্ট হাউজ, শালবন রেসিডেনশিয়াল হোটেল ইত্যাদি ভালো মানের। আর কম খরচে থাকতে চাইলে করটিয়া বাজারে কিছু হোটেল রয়েছে সেখানেও থাকতে পারেন। আর রিসোর্টে থাকতে চাইলে যমুনা রিসোর্ট ও এলেঙ্গা রিসোর্টে থাকতে পারেন।


করটিয়া জমিদার বাড়ি পরিদর্শনে কিছু পরামর্শ

বর্তমানে করটিয়া জমিদার বাড়ির প্রধান ফটক তালা বন্ধই থাকে। বর্তমানে যখন তখন যে কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয় না। তবে আপনি যদি আগে থেকেই এই দর্শণীয় স্থানটি পরিদর্শনের অনুমতি নিশ্চিত করতে পারেন, তবে আপনার ভ্রমণ স্বার্থক হবে। নয়তো, আশায় মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবেন না। তবে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গিয়েছে যে, বৈশাখ মাসের ১ ও ১২ তারিখ সহ দুই ইদের দিন জমিদার বাড়িটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।


কাছাকাছি অন্যান্য দর্শণীয় স্থান

করটিয়া জমিদার বাড়ির কাছে অন্যান্য স্থানসমূহ দেখতে চাইলে, যেতে পারেন ঐতিহ্যবাহী আতিয়া মসজিদ, দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি, মাওলানা ভাসানীর সমাধি ও জাদুঘর, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আর করটিয়া সাদাত কলেজ।


সবশেষে মনে করিয়ে দেই কিছু ভ্রমণ টিপস। যখন কোথাও বেড়াতে যাবেন, অবশ্যই সেখানকার পরিবেশ সুন্দর ও পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করবেন। অর্থাৎ কোনো খাবার যেমন- চিপস, বিস্কুট, বাদাম ইত্যাদির প্যাকেট যেখানে সেখানে ফেলবেন না। পানির বোতল শেষ হয়ে গেলেই তা যেখানে ইচ্ছা সেখানে ফেলবেন না। মনে রাখবেন, পরিবেশ সুন্দর থাকলেই আমরা পাবো সুন্দর পৃথিবী আর আমাদের ভ্রমণও হবে আনন্দের।

ঘুরে আসুন মনহরিণি একটি দ্বীপ থেকে!


ঘুরাঘুরি মনকে প্রফুল্ল করে। অশান্ত মনকে শান্ত করার জন্য ঘুরাঘুরি করার কোন বিকল্প নেই। প্রকৃতির খুব কাছাকাছি চলে যেতে পারলে আপনার সকল ক্লান্তি দূর হতে বাধ্য। আর সেটা যদি সমুদ্র হয় তাহলে তো কথাই নেই। সমুদ্রের স্নিগ্ধ বাতাস গায়ে মাখলে আপনার সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। কোলাহল মুক্ত পরিবেশ, সাগরপাড়ের হিমেল হাওয়া, চিকচিকে বালি এর সবই ভুলিয়ে দিবে আপনার মনকে এবং সমুদ্রের গাঙ্গচিলদের ডানায় ভর করে নিয়ে আসবে প্রশান্তি। সমুদ্রের জলে পা ভিজানোর জন্য যেকোন দ্বীপই হতে পারে আপনার গন্তব্য। আজকে কথা বলবো এমনি মনহরিণি একটি দ্বীপ সম্পর্কে। তাহলে চলুন দেড়ি না করে জেনে নেই কুতুবদিয়া দ্বীপ সম্পর্কে।


কুতুবদিয়া পরিচিতি

কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা হচ্ছে কুতুবদিয়া । এই উপজেলায় রয়েছে নানান বৈচিত্র্য। এই উপজেলার আয়তন প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার। বৃহত্তর এই উপজেলায় রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এছাড়াও কুতুবদিয়া উপজেলায় রয়েছে লবণ চাষ, বাতিঘর, সমুদ্র সৈকত ও কুতুব আউলিয়ার মাজার।


ইতিহাস

কুতুবদিয়া মূলত একটি দ্বীপ উপজেলা। চতুর্দশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই দ্বীপ সমুদ্রের বুকে জেগে উঠে বলে ধারণা করা হয়। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই দ্বীপে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়। সর্বপ্রথম ‘কুতুবুদ্দীন’ নামক একজন সাধু ও পরহেজগার ব্যক্তি এই দ্বীপে বসবাস শুরু করেন। তিনি সকলের জন্যই এই দ্বীপটি উন্মুক্ত করে দেন। তখন আরাকান রাজ্য থেকে বিতাড়িত মুসলিমরা আশ্রয়ের জন্য এই দ্বীপে আসতে থাকে। কুতুবুদ্দীন এদেরও আশ্রয় দান করেন ফলে শ্রদ্ধা করে কুতুবুদ্দীনের নামানুসারে দ্বীপটির নাম রাখা হয় কুতুবদিয়া দ্বীপ। প্রথমে দ্বীপটির নাম ছিলো ‘কুতুবুদ্দীনের দিয়া’ যা পরবর্তীতে কালের বিবর্তনে লোকমুখে পরিবর্তন হয় এবং হয়ে যায় ‘কুতুবদিয়া দ্বীপ’।


কুতুবদিয়া দ্বীপের উল্ল্যেখযোগ্য স্থান সমূহ

এই দ্বীপে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে নানান দর্শনীয় স্থান। এ সমস্ত স্থান পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। প্রতিবছর হাজার হাজার দর্শনার্থী কুতুবদিয়া দ্বীপ আসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে।  তাহলে চলুন জেনে নেই কুতুবদিয়া দ্বীপের বিখ্যাত সেইসব দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে।


১) কুতুব আউলিয়ার দরবার

কুতুব আউলিয়ার দরবার শরীফ কুতুবদিয়া দ্বীপের সবচেয়ে বিখ্যাত একটি স্থান। এটি এই দ্বীপ উপজেলার ধুরং নামক স্থানে অবস্থিত। শাহ আব্দুল মালেক আল কুতুবী এই দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন ২০০০ সালে। শাহ আব্দুল মালেক আল কুতুবীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সেই দরবার শরীফে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তাই প্রতি বছর ৭ই ফাল্গুন হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে কুতুব আউলিয়ার দরবার শরীফে।


২) কুতুবদিয়া চ্যানেল

কক্সবাজারের মাগনামা ঘাট থেকে এই দ্বীপ বা বন্দর এলাকায় যাওয়ার পথে কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিতে হয়। বছরের বেশীর ভাগ সময়ই এই চ্যানেল বেশ উত্তাল থাকে। শুধুমাত্র শীতকালেই এটি শিথিল থাকে। এই চ্যানেলের সৌন্দর্য একেক সময় একেক রকম। উত্তাল ঢেউয়ের সময় এর উপর দিয়ে তীব্র বাতাস অতিবাহিত হয়। আবার শীতের সময় হাড় কাঁপানো হিম শীতল হাওয়া বয়ে যায়।


৩) বাতিঘর

সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজ, ট্রলার ও ছোট নৌকাগুলোকে পথ দেখাতে বহুবছর আগে কুতুবদিয়া দ্বীপে একটি বাতিঘর নির্মাণ করা হয়। দূর থেকে আলোর ঝলকানির মাধ্যমে সে সমস্ত জলযান গুলোকে পথ দেখাতো এই বাতিঘর। কিন্তু বর্তমানে এটি বিলুপ্তপ্রায়। এখন শুধুমাত্র ভাটার সময় সেই বাতিঘরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। তবে সমুদ্র সৈকতের উত্তর-পূর্ব পাশে নতুন বাতিঘর নির্মাণ করা হয়েছে। যা দূর থেকে দেখতে খুবই আকর্ষনীয় লাগে।


৪) বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র 

কুতুবদিয়া দ্বীপ উপজেলায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত। এটি এই সমুদ্র সৈকতের দক্ষিণে অবস্থিত। দমকা বাতাসের জন্য প্রতিবছর এখানে প্রায় এক হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।


৫) লবণ চাষ

শীতকালে এই দ্বীপটি একদম ঝিম মেরে যায়। তবে তখনও সেখানে পর্যটকদের পদচারণা সমানতালে চলে। কেননা শীতকালে এখানে প্রাকৃতিক উপায়ে লবণ চাষ করা হয়। দেশের বিখ্যাত লবণ চাষ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে কুতুবদিয়া বেশ বিখ্যাত।


৬) কুতুবদিয়া সমুদ্র সৈকত

সূর্যাস্ত দেখার জন্য এই সমুদ্র সৈকতের তুলনা নেই। প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত অবস্থিত এখানে। তবে এইদিকে অন্যান্য জায়গাগুলোর তুলনায় এই সমুদ্র সৈকতে মানুষের কোলাহল নেই বললেই চলে। এটি মূলত মাছ চাষের জন্য ব্যবহৃত হয় তাই এখানে জেলেদের কর্মব্যস্ততাই বেশী। সুর্যাস্তের পাশাপাশি এই সমুদ্র সৈকতের আরো একটি মনোরম দৃশ্য হচ্ছে গাঙ্গচিল। মাছ চাষের ফলে প্রচুর গাঙ্গচিল আসে এখানে। তখন এই নির্জন দ্বীপে এক মন্ত্রমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে কুতুবদিয়া যেতে হলে প্রথমে টি আর ট্রাভেলস, গ্রীন লাইন, সোহাগ পরিবহণ, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সৌদিয়া পরিবহণ, ইউনিক, শ্যামলী ও ঈগল এসি, নন এসি ইত্যাদি বাসে কক্সবাজার নামতে হবে। তারপর চকরিয়া উপজেলার বাসস্ট্যান্ড থেকে মগনামা ঘাট হয়ে কুতুবদিয়া পৌঁছাতে হবে। কক্সবাজার যেতে বাসভেদে ভাড়া লাগে ৬০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। চট্রগ্রাম থেকে যেতে চাইলে বদ্দারহাট কিংবা নতুন ব্রিজের বাসস্ট্যান্ড থেকে কক্সবাজার পৌঁছে সেখান থেকে কুতুবদিয়া যাওয়া যায়।


কোথায় থাকবেন

এটি বেশ ছোট একটি দ্বীপ ফলে এটি একদিনেই ঘুরে শেষ করা সম্ভব। তাই সকালে গিয়ে বিকালে কক্সবাজার ফিরে আসা যায়। তবে এখন কুতুবদিয়া বড়খোপ বাজারে পর্যটকদের জন্য বেশ উন্নতমানের কিছু হোটেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে থাকা যায়। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ক্যাম্পিং করতে পারেন, কেননা এই দ্বীপটি ক্যাম্পিং এর জন্য আদর্শ।


কোথায় খাবেন

এখানে উন্নতমানের কোন খাবার হোটেল নেই। তবে বড়খোপ বাজারে কিছু ভালো ভালো হোটেল রয়েছে এবং সেখানে মোটামোটি ভালো স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়।সমুদ্রের খোলা মাতাল হাওয়ায় দুঃখ, যন্ত্রণা ভাসিয়ে দিয়ে নোনাজলে নিজেকে মুক্ত করে আনতে আজই ঘুরে আসুন কুতুবদিয়া দ্বীপ। কেননা আপনার জীবনে ভ্রমনই একমাত্র বন্ধু যা আপনাকে বিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতে সাহায্য করবে।

নতুন পোশাক মাত্র পাঁচ ঘণ্টায়



আপনার পুরোনো পোশাক আছে? সেটা দিয়ে আপনি একেবারে নতুন পোশাক বানিয়ে নিতে চান? সম্ভব। তা–ও মাত্র পাঁচ ঘণ্টায়। চমৎকার এই উদ্যোগ নিয়েছে সুইডিশ রিটেইল জায়ান্ট এইচ অ্যান্ড এম।


বস্তুত, নানা বর্জ্যই এখন সারা বিশ্বের মহা মাথাব্যথার কারণ। এর মধ্যে আবার তৈরি পোশাকশিল্পের বর্জ্য দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। পরিস্থিতি সামলাতেই বিশেষ উদ্যোগ এইচ অ্যান্ড এমের।


এইচ অ্যান্ড এম অক্টোবর মাস থেকে কেবল তাদের স্টকহোমের আউটলেটে এই সেবা দেওয়া শুরু করেছে। তবে পুরোনো যেকোনো পোশাক থেকে এই মুহূর্তে তিন ধরনের আইটেম অর্থাৎ স্কার্ফ, সোয়েটার আর বাচ্চাদের কম্বলের যেকোনো একটি তৈরি করিয়ে নেওয়া যাবে। এর জন্য দিতে হবে ১১ থেকে ১৬ ডলার।

যে পোশাকই দেওয়া হোক, সেটাকে প্রথমে একটি মেশিনে নিয়ে সবকিছু খুলে ফেলে ছোট ছোট টুকরা করা হবে। এই মেশিনকে বলা হচ্ছে লুপ মেশিন। এরপর সেটাকে তুলার মতো তন্তুতে পরিণত করে তা দিয়ে সুতা তৈরি করে সেই সুতায় তৈরি হবে নতুন পণ্য। এভাবেই পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করছে এইচ অ্যান্ড এম।

এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো পানি কিংবা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হবে না বলেই জানিয়েছে এইচঅ্যান্ডএম কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া এই মেশিনে একসঙ্গে একাধিক পোশাককে রিসাইকেল করতে পারবে। অবশ্য কোনো বিশেষ উপকরণের প্রয়োজন হলে সেটা টেকসই উৎস থেকেই নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়ার জন্য লাগবে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা।


এই পদ্ধতি মানুষকে, বিশেষ ফ্যাশন অনুরাগীদের সচেতন করে তোলায় বিশেষ সহায়ক হবে। কারণ, এনভায়রনমেন্ট প্রোকেটশন এজেন্সির তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই পোশাকবর্জ্য জমে ১৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন টন। 


পরিবর্তে বর্তমানে পুনর্ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে মাত্রা ১৫ শতাংশ অর্থাৎ ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন টন।

এইচ অ্যান্ড এম ২০১৩ সালে শুরু করে বৈশ্বিক পোশাক সংগ্রহ কর্মসূচি। তাদের সারা বিশ্বের সব আউটলেটেই পুরোনো পোশাক সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই ব্র্যান্ডের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের সব স্টোরে বিক্রীত পোশাকের পুরোটাই হবে পুনর্ব্যবহাযোগ্য উপকরণে তৈরি। আপাতত এই পরিমাণ দঁড়িয়েছে ৫৭ শতাংশ।


ওয়্যার দ্য ওয়েস্ট

বর্জ্য পরুন—এ স্লোগানে বর্জ্য থেকে নতুন পোশাক তৈরি করেছে অ্যান্ড এম। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০–কে সামনে রেখে বিশ্বখ্যাত সুইডিশ রিটেইলারের এ উদ্যোগ। বিশ্ববাসীকে ফ্যাশনেবল রেখেও ফাস্ট ফ্যাশন থেকে সরিয়ে নিতে ২০১৩ সালে শুরু করে এইচ অ্যান্ড ফাউন্ডেশন। আর তখন থেকেই শুরু হয় এ বছরের অটাম/উইন্টার কালেকশন করা হয়েছে বর্জ্য ব্যবহার করে। আর একে বলাই হচ্ছে বিউটি ফ্রম ওয়েস্ট। বর্জ্য থেকে সৃজনশীল কাপড় তৈরি করে তা দিয়েই বানানো হয়েছে পোশাক। এই বর্জ্যে রয়েছে পুনর্ব্যবহৃত সুতি কাপড়, শস্যদানা ও ওয়াইন তৈরির পর থেকে যাওয়া বর্জ্য। এসব কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও অনুষঙ্গ। এসব পোশাক পরা যাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।


একই পথে হাঁটছে জারা

এদিকে একই পথে হাঁটা শুরু করেছে আরেকটি আন্তর্জাতিক রিটেইল ব্র্যান্ড জারা। তাদের বিশ্বব্যাপী ১ হাজার ৩০০ স্টোরেই নেওয়া হচ্ছে পুরোনো পোশাক, জুতা ও অনুষঙ্গ। ২০২৫ সালের মধ্যে এই ব্র্যান্ড চাহিদার পুরোটাই অর্গানিক সুতি, লিনেন ও পলিয়েস্টার ব্যবহার করবে বলে গেল বছর ঘোষণা দিয়েছে তারা।এমনিতেই বিশ্বজুড়ে ফাস্ট ফ্যাশনের বিরুদ্ধে প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। সবাই টেকসই উৎপাদনের মধ্যে দিয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও কার্বন নিঃসরণ রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখার পক্ষে সোচ্চার হয়েছে। তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে যুক্তরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। ভাবছেন শীর্ষ ব্র্যান্ড আর ডিজাইনাররাও। এরই অংশ হিসেবে পথিককৃতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এইচ অ্যান্ড এম। তাদের অনুসরণ করছে জারা। আস্তে আস্তে এই তালিকা দীর্ঘ হবে।

শাড়ি মেমোরি হ্যাশট্যাগ


জীবনের বিভিন্ন সময় কেটেছে ঢাকা, লন্ডন, নিউইয়র্কে। ১০ বছর ঢাকায় থেকে গত বছর আবার ছুটেছেন লন্ডনে। এভাবেই কাটছে ঈশিতা আজাদের জীবন। দেশ বা বিদেশ, যেখানেই থাকেন, হুটহাট শাড়ি পরতে পছন্দ করেন। মা কবি শামীম আজাদকে শাড়ি পরতে দেখেই তাঁর এই শাড়িপ্রীতি। আর এখন বাঙালির ঐতিহ্য শাড়ি যাতে হারিয়ে না যায়, সে ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছেন ইনস্টাগ্রামে।

ঈশিতা আজাদ বলেন, এখন অনেকেই শাড়ি পরার বিষয়টিকে ঝামেলার মনে করেন। বিদেশে থাকলে তো কথাই নেই। অথচ স্বল্প দামের সুতি শাড়ি পরেও যেকোনো মিটিং বা অনুষ্ঠানে যাওয়া যায়, যা অন্য পোশাকে তেমন সম্ভব হয় না। আর প্রতিটি শাড়ির পেছনেই থাকে কোনো না কোনো স্মৃতি। সেটি মা, প্রেমিক বা স্বামীর দেওয়া প্রথম শাড়ি হতে পারে। আবার হতে পারে নিজের উপার্জনে কেনা প্রথম শাড়ি। 


শাড়ি নিয়ে স্মৃতি যে শুধু নারীর থাকে তা নয়, একজন পুরুষের বেলায়ও থাকে নানান স্মৃতি। মায়ের পরা কোনো প্রিয় শাড়ি বা মাকে কিনে দেওয়া শাড়ি হতে পারে। হতে পারে স্ত্রী বা মেয়ের জন্য কেনা শাড়ি। ঈশিতা আজাদ শাড়ি নিয়ে এ ধরনের যে স্মৃতি, গল্প তাই ধরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে হ্যাশট্যাগ শাড়ি মেমোরিতে শাড়ি পরা ছবি দিয়ে এ গল্প, কবিতা বা স্মৃতিটুকু লিখতে হবে। ইনস্টাগ্রামে #sareememory-র পাশাপাশি @saree_poem @longitudelatitude8 #LL8-এগুলোতেও ট্যাগ করতে হবে ছবি। এতে একসময় শাড়ি নিয়েই হাজার হাজার গল্পের ভান্ডার গড়ে উঠবে।

ঈশিতা ২০১০ সালে বাংলাদেশে আসেন। ঢাকায় ১০ বছর থেকে গত বছর আবার লন্ডনে থিতু হয়েছেন। জানালেন, বিদেশে থাকার সময়ও শাড়ি পরেছেন, আর বাংলাদেশে থাকার সময় প্রায় প্রতিদিনই শাড়ি পরে কাজে যেতেন। বলেন, কাজের চাপসহ বিভিন্ন চাপে বিষণ্ন থাকলেও কাজে বের হওয়ার আগে শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ মেলাতে মেলাতেই মনটা ভালো হয়ে যেত। আবার অনেক সময় মনের অবস্থাভেদেও শাড়ি পছন্দ করতেন। কমলা, লালসহ বিভিন্ন রঙের শাড়ি পরে একটা করে কবিতা লিখতে চেষ্টা করতেন। এভাবেই একসময় শাড়ি নিয়ে কিছু করার ভাবনাটা মাথায় আসে। তারপর অনলাইনে শিল্প, সাহিত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিষয় প্রকাশের প্ল্যাটফর্মে (#LL8) শাড়ির গল্প প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ঈশিতা আজাদের মা শামীম আজাদ একজন দ্বিভাষিক কবি, লেখক ও গল্পকথক। ঈশিতা, তাঁর ভাই এবং মা সবাই যুক্তরাজ্যে বসবাসরত।

ইনস্টাগ্রামের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মায়ের সাদা সুতি পাড়বিহীন শাড়িটি নিজে পরেছেন ঈশিতা। শাড়ি নিয়ে তাঁর গল্পটাও লিখেছেন। তাঁর মা শামীম আজাদ বহু আগে ঈশিতা আর ঈশিতার ভাইকে নিয়ে দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। তবে এই শাড়ির স্মৃতিগুলো ঢাকাকেন্দ্রিক। এই ধরনের শাড়ি পরে মা বিচিত্রা অফিস, ঢাকা কলেজ অথবা বাংলাদেশ টেলিভিশনে ছুটতেন। ঈশিতা লেখাটিতে উল্লেখ করেছেন, তাঁর মা সব সময় শাড়ি পরেই কাজে বের হতেন। কিন্তু দেখেশুনে শাড়ি কেনার মতো তেমন একটা সময় পেতেন না। তাই মা নানান রং এবং ডিজাইনের ১২ হাত কাপড় কিনে শাড়ি বানিয়ে পরতেন। ঈশিতা এ ছবিতে লিখেছেন, ‘শাড়ির প্রতি আমার এত ভালোবাসা আমার মায়ের কাছ থেকেই পাওয়া/পেয়েছি। এটা আমার গল্প...।’

গল্পের পাশাপাশি ঈশিতা শাড়ির ছবিতে বাংলা ও ইংরেজিতে কবিতাও লিখেছেন। মাথায় গাঁদা ফুলের মালা আর সাদা শাড়ি পরা ছবিতে ঈশিতা লিখেছেন, ‘আমরা কিন্তু গাছের মতো। এই কংক্রিটের দালানেও শিকড় গজিয়ে যায়! জন্ম জন্মান্তরের দায়...মেয়ে তুমি স্বর্ণলতা নও!’...

ঈশিতা আজাদ বলেন, ‘আমি নিজেও শাড়ি পরা ছবি দিয়ে কবিতা লিখি। গল্পটাও লিখে রাখার চেষ্টা করতাম। তাই এখন কিছুটা আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে সবাই আমার আহ্বান সেভাবে বুঝতে পারছেন বলে মনে হচ্ছে না। তাই এখন পর্যন্ত তেমন একটা সাড়া পাচ্ছি না। পুরুষের অনেকে ইনবক্সে শাড়ি নিয়ে স্মৃতির কথা জানালেও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করছেন না।

হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয় ঈশিতা আজাদের সঙ্গে। চলতি বছরের জুন মাসে ব্রিটিশ বাংলাদেশি ঈশিতা আজাদ আর্ট ফান্ডরেইজিং অ্যান্ড ফিলানথ্রপি ফেলোশিপ অর্জন করেছেন। ঈশিতা আজাদ প্রথম বাংলাদেশি, যিনি ব্রিটেনের শিল্প-সংস্কৃতি খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান আর্ট কাউন্সিল ইংল্যান্ডের সহায়তায় পরিচালিত এ ফেলোশিপ পান। ঈশিতা বেঙ্গল গ্রুপ, বিবিসি মিডিয়া ট্রাস্ট, ব্রিটিশ কাউন্সিল, এশিয়া ফাউন্ডেশন, ভি অ্যান্ড ইউ বিজনেস মিডিয়াতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া টেলিভিশন উপস্থাপক, নাট্য কর্মশালাসহ ব্রিটেন, বাংলাদেশে তিনি কবিতাবিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করেছেন। তাঁর এসব দক্ষতা বিবেচনায় আর্ট ফান্ডরেইজিং অ্যান্ড ফিলানথ্রপি ফেলোশিপ লাভের গৌরব অর্জন করেন।

ঈশিতা আজাদ ইনস্টাগ্রামে শাড়ি পরা ছবি দিয়ে লিখেছেন: আচ্ছা, কেউ বলতে পারো, শৈশবের রং আর ঘ্রাণ কেমন ছিল? অথবা সেই তুমি থেকে সময়ের স্রোত বেয়ে নানা রকম অভিজ্ঞতা পেরিয়ে আজকের তুমি হয়ে গড়ে ওঠার গল্পটা কেমন? আমি যদি বলি, চেনা গানের সুর যেমন আমাদের পুরোনো কোনো স্মৃতি বা ফেলে আসা সময়ে নিয়ে যায়, ঠিক তেমনই, আমার নানুর টাঙ্গাইলের সেই নরম তাঁতের শাড়ির ঘ্রাণই আমার শৈশব! হ্যাঁ, বলতে পারো, তুমি তো নারী, তোমার অনুভূতিগুলো তাই এমন! কিন্তু আমার ধারণা, নারী বা পুরুষ, তুমি যে–ই হও, শাড়ির সঙ্গে আমাদের সবারই কমবেশি স্মৃতি জড়িয়ে থাকে।... আমার মতো তোমাদেরও নিশ্চয়ই শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে অনেক না বলা গল্প আছে। হয়তো একটা সামান্য ছবিই তোমার হয়ে সেই গল্প বলে দেবে। 

আর একটি ছবি দিয়ে ঈশিতা লিখেছেন, প্রতিমুহূর্তের শর্ত: এই যে বেঁচে থাকা, তার লবণাক্ত উপলব্ধি। রোমকূপ আর শিরাবাহিত স্বাদ ভালোবাসার, কষ্টের, অপরকে একেবারে নিঃশেষ করে দেওয়ার। আমরা কি বুঝি? এই সাধের নধরকান্তি দুমুখো মোমবাতি? 

শিল্প, সাহিত্য ও সভ্যতার জন্মভূমি ঐতিহাসিক গ্রিসে আবাসিক কবির সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশি কবি শামীম আজাদ। এথেন্সের সাহিত্যাঙ্গনের সংগঠন ‘আ পোয়েটস অ্যাগোরা রেসিডেন্সি’ তাঁকে ২০১৯ সালের জন্য আবাসিক কবি হিসেবে গ্রহণ করেছে। কবি শামীম আজাদ প্রথম কোনো বাংলাদেশি, যিনি ‘আ পোয়েটস অ্যাগোরা রেসিডেন্সি’র আবাসিকত্ব পান।

শামীম আজাদ ফেসবুকে শাড়ি নিয়ে ঈশিতা আজাদের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘অবাক হলাম শুনে ঈশিতা ইনস্টাগ্রামে ‘শাড়ি পোয়েম’ নামে বেশ কয়েক বছর নিজের পরা একেকটা শাড়ির সঙ্গে একটা করে ইংরেজি কবিতা লিখে যাচ্ছে! এবং তা ওর প্রজন্মের কাছে আদৃতও! আমার জীবন পাত করেছি দেশি ফ্যাশন, দেশি শাড়ি করে করে। কী করে যে নিজস্ব স্টাইলে ঈশিতা তার ধারা ধারাবাহিকতায় এটা করে যাচ্ছে! ভাবা যায়?’

মেয়ে ঈশিতার লেখা পড়ে ছেলে কিংবা মেয়ে যে–ই হোক, মা, বোন, ভাবি, মামি যারই হোক শাড়ির ছবি তুলে বা সংগ্রহ থেকে নিয়ে সঙ্গে স্মৃতিটুকু লিখে শাড়ি মেমোরিতে ট্যাগ করারও আহ্বান জানিয়েছেন শামীম আজাদ।

ঈশিতা আজাদ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নৃত্যশিল্পী আকরাম খানের আকরাম খান কোম্পানির বাংলাদেশ প্রকল্প পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ঈশিতার ইচ্ছা, শাড়ি মেমোরিকে একটি ট্রেন্ডে পরিণত করা। বলেন, ঈশিতার মাত্র দুই বা তিন বছর বয়সে তাঁর মা–বাবা একটি ডুরে শাড়ি কিনে দেন। সেটাই ছিল তাঁর প্রথম শাড়ি পরা।

বাংলাদেশে থাকার সময় ঈশিতার অনেক শাড়ি ছিল। লন্ডনে পাড়ি দেওয়ার আগে সেই শাড়িগুলো বিভিন্ন দামে বন্ধুবান্ধব ও অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেন। পরা শাড়িগুলো বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। ১০ বছর ঈশিতার বাসায় সহকারীর দায়িত্ব পালন করা এবেনা ও শাহানাকে সেই টাকা ভাগ করে দেন, যা তাঁরা তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনা খাতে খরচ করবেন।

হানি চিলি চিকেন খাবারের স্বাদ নিন ঘরে বসেই!


ঝাল খেতে ভালবাসেন? তাহলে চিলি চিকেন হতে পারে আপনার জন্য পারফেক্ট একটি আইটেম! 


রেস্টুরেন্টগুলোতেও চিলি চিকেন বেশ মজাদার এবং জনপ্রিয় একটি ডিশ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে হোক বা স্বাস্থের কথা মাথায় রেখেই হোক, আমরা অনেকেই এখন বাইরে থেকে কেনা খাবারগুলো এড়িয়ে চলছি। আজকের রেসিপিতে আমরা জেনে নিবো, কিভাবে খুব সহজে ঘরে বসেই স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে তৈরি করে নিতে পারবেন আপনার পছন্দের ক্রিসপি হানি চিলি চিকেন। তাহলে দেরি না করে রেসিপিটি দেখে নিন!


ক্রিসপি হানি চিলি চিকেন বানানোর পদ্ধতি 

উপকরণ

হাড়ছাড়া মুরগির মাংস- ২ কাপ (২ ইঞ্চি পরিমাণে ছোট ছোট টুকরা করে কাটা)

বড় পেঁয়াজ- ২ কাপ ( ৪ ফালি করে কেটে ছাড়িয়ে রাখা)

লেবুর রস– ১ টেবিল চামচ

ডিম- ১ টি

ময়দা- ৩ টেবিল চামচ

কর্নফ্লাওয়ার- ২ টেবিল চামচ

মধু- ১/২ কাপ

চিলি সস- ১ কাপ

কাঁচামরিচ- ৪/৫ টি

আদা ও রসুন বাটা- ১ টেবিল চামচ

জিরা গুঁড়া- ১ টেবিল চামচ

ধনিয়া গুঁড়া- ১ টেবিল চামচ

সয়াসস- ৪ টেবিল চামচ

ক্যাপসিকাম- ১ টি ( কিউব করে কাটা )

টেস্টিং সল্ট- ১/২ চা চামচ

সাদা তিল- ১ টেবিল চামচ

পেঁয়াজ কলি কুঁচি- ১/২ কাপ

লবণ- স্বাদমতো

সয়াবিন তেল বা অলিভ অয়েল- ৩ টেবিল চামচ

প্রস্তুত প্রণালী 

১. ক্রিসপি হানি চিলি চিকেন বানানোর জন্য একটি পাত্রে প্রথমে ছোট ছোট টুকরা করে কাটা মুরগির মাংস নিয়ে নেই। তাতে একে একে লেবুর রস, ময়দা, ডিম, আদা ও রসুন বাটা, জিরা গুড়া, ধনিয়া গুঁড়া, সয়াসস, টেস্টিং সল্ট ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে ভালো করে মাংসের সাথে মিশিয়ে নিতে হবে।


২. এভাবে মেরিনেট করা চিকেন ২০ থেকে ৩০ মিনিটের জন্যে রেখে দিতে হবে। হাতে সময় কম থাকলে মেরিনেট করে নাও রাখতে পারেন। তবে মেরিনেট করা  চিকেনের টেস্ট একটু বেশিই হয়!


৩. এবার কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে মুরগির টুকরাগুলো ৫ থেকে ৭ মিনিট ধরে হালকা আঁচে বাদামী করে ভেজে নিবো। ভালোভাবে নাড়াচাড়া করুন যাতে পুড়ে না যায়।


৪. এরপর কড়াইতে ফ্রাই করা মুরগীর মাংসের সাথেই পেঁয়াজ কুচি, ক্যাপসিকাম, কাঁচামরিচ ফালি দিয়ে হালকা করে ভেজে নিন। এবার পরিমাণমতো পানি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।


৫.  কিছুক্ষণ পরে আধাকাপ পানিতে চিলি সস ও কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে সেই মিশ্রন কড়াইয়ে ঢেলে দিতে হবে।


৬. তারপর ভালোভাবে নেড়েচেড়ে সব উপকরণগুলো মিশিয়ে নিন। পানি প্রায় শুকিয়ে ঘন হয়ে এলে তাতে মধু দিয়ে দিন। ৫ থেকে ৬ মিনিট পর ফুটে উঠলে নামিয়ে নিতে হবে।


৭. পরিবেশনের পাত্রে ঢেলে ক্রিসপি হানি চিলি চিকেনের উপর সাদা তিল এবং পেঁয়াজ কলি কুঁচি হাত দিয়ে ছিটিয়ে দিবো। এতে দেখতে অনেক বেশি সুন্দর লাগবে এবং রেস্টুরেন্ট কোয়ালিটি সার্ভিং হবে!

দেখলেন তো, কত সহজেই চাইনিজ রেস্টুরেন্টের এই খাবারগুলো আমরা ঘরে বসেই ঝটপট বানিয়ে নিতে পারি! এই রেসিপি ফলো করে চিলি চিকেন বানালে চিকেনগুলোর কোটিং যেমন ক্রিসপি হবে, আর ভেতরে হবে নরম এবং জুসি। আপনারা চাইলে একবারে বেশি করে চিকেন মেরিনেট করে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। যখন প্রয়োজন হবে, বের করে ভেজে নিলেই হবে! ফ্রাইড রাইস বা পোলাওয়ের সঙ্গে খেতে দারুণ লাগবে ক্রিসপি হানি চিলি চিকেন। চাইলে লুচি বা পরোটা দিয়েও খেতে পারেন।

পাকা আমের রেসিপি


অসহ্য গরমে শরীরকে সুস্থ রাখতে ও মানসিক প্রশান্তি পেতে চাই ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা শরবত। বিশেষ করে এই সময়ে আমাদের সকলের উচিত নিজের পাশাপাশি পরিবারের সকলের স্বাস্থের প্রতি খেয়াল রাখা। এই সিজনে আম তো বেশ সহজলভ্য আর দামটাও হাতের নাগালেই আছে। কাঁচা বা পাকা আম দিয়ে তৈরি স্মুদি শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ইম্যুনিটি সিস্টেম ভালো রাখতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। আজকে আমরা জেনে নিবো পাকা আম দিয়ে কিভাবে খুব সহজেই তৈরি করা যায় মজাদার ড্রিংকস। পাকা আমের স্মুদি বানানোর রেসিপিটি জেনে নেই চলুন!


পাকা আমের স্মুদি বানানোর নিয়ম

উপকরণ

বড় পাকা আম- ২টি

বিট লবণ- ১/২ চা চামচ

চিনি- স্বাদমতো

পুদিনা পাতা কুঁচি- ১ টেবিল চামচ

ধনিয়া পাতা কুচি- ১ টেবিল চামচ

কাঁচামরিচ কুঁচি- সামান্য

লেবুর রস- ২ টেবিল চামচ

ঠান্ডা পানি- প্রয়োজন অনুযায়ী

বরফ- ৫-১০ টুকরো

এই উপকরণ ব্যবহার করে সহজেই ৪ থেকে ৫ জনের জন্যে আমের শরবত বানাতে পারবেন।


প্রস্তুত প্রণালী

১. আম ধুয়ে নিয়ে ভালোভাবে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। এবার ১ ইঞ্চি পরিমাপে টুকরো করে কেটে নিন।


২. এবার আমের টুকরোগুলো ব্লেন্ডারের জগে দিয়ে দিন। আমের ফালিগুলো দিয়ে আগে কয়েক সেকেন্ড বিট করে নিতে পারেন।


৩. এই পর্যায়ে এতে একে একে পরিমাপমতো পানি, বিট লবণ, স্বাদমতো চিনি, পুদিনা পাতা কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুচি, কাঁচামরিচ কুঁচি, লেবুর রস এ সকল উপকরণ দিয়ে খুব ভালো করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।


৪. সব উপকরণ একসাথে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিয়ে গ্লাসে ঢেলে ২/৩ টুকরো বরফ দিয়ে পরিবেশন করুন।


আপনারা চাইলে একটি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিয়ে এই পাকা আমের শরবত পরিবেশন করতে পারেন। দেখলেন তো, খুব সহজেই তৈরি হয়ে গেলো একদম প্রাকৃতিক উপায়ে দোকানের মতো ম্যাংগো স্মুদি যা স্বাস্থের জন্যেও অনেক উপকারী! তাহলে উপকরণগুলো হাতের কাছে থাকলে আজই বানিয়ে ফেলুন পাকা আমের স্মুদি।

কফি পুডিং ক্যারামেল রেসিপি


পুডিং খেতে ইচ্ছে হলে প্রথমেই আমাদের ক্যারামেল পুডিংয়ের কথা মাথায় আসে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না নরমাল ক্যারামেল পুডিংয়ের সাথে মাত্র একটি উপকরণ যোগ করেই বানিয়ে ফেলা যায় ভিন্নধর্মী এবং আরও সুস্বাদু ক্যারামেল কফি পুডিং! ডেজার্ট হিসেবে পুডিং কম বেশি সকলেরই বেশ পছন্দ। বিকেলের নাশতায় বা বন্ধুদের সাথে আড্ডার টেবিলেও এটি মানিয়ে যায় বেশ সহজেই। আমাদের অনেকেরই ধারণা, ওভেন না থাকলে হয়তো এটি বানানো কষ্টসাধ্য। চুলাতেই কিন্তু অনেক সহজেই বানিয়ে নেয়া যায় পারফেক্ট পুডিং। কিভাবে? ক্যারামেল কফি পুডিং বানানোর রেসিপিটি দেখে নেই চলুন।


ক্যারামেল কফি পুডিং বানানোর নিয়ম

উপকরণ

• দুধ- ১/২ লিটার


• ডিম– ৪টি


• ইনস্ট্যান্ট কফি পাউডার- ১ টেবিল চামচ


• চিনি- ১ কাপ ( মিষ্টি বেশী পছন্দ করলে স্বাদ অনুযায়ী আরো চিনি দিতে পারেন)


• এলাচ গুঁড়া- ১ চিমটি


• ভ্যানিলা এসেন্স- ২ ড্রপ (যদি থাকে)


• পুডিং বানানোর বাটি বা ঢাকনা ওয়ালা টিফিন বক্স


প্রস্তুত প্রণালী

দুধ ও ডিমের মিশ্রণ তৈরি

১. পুডিং বানানোর জন্য প্রথমে দুধ জ্বাল দিয়ে সেটা অর্ধেক পরিমাণ করে নিতে হবে।


২. এরপর দুধ চুলা থেকে নামিয়ে অনবরত নেড়ে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে যেন সর না জমতে পারে। পুডিং তৈরির জন্যে গরুর খাঁটি দুধ হলে ভালো হয়।


৩. এবার একটি বাটিতে ডিম নিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হবে।


৪. এ পর্যায়ে ডিমের মধ্যে চিনি দিয়ে আরো কিছুক্ষণ ফেটাতে হবে। খুব ভালো করে মিশ্রণ করতে হবে যাতে ডিমের সাদা এবং হলুদ অংশ পৃথক হয়ে না থাকে।


৫. এখন ঠাণ্ডা করে রাখা দুধে ডিম-চিনির মিশ্রণ ঢেলে দিয়ে আবারও ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। দুধ গরম থাকা 


অবস্থায় কোনও ভাবেই তাতে ডিম-চিনির মিশ্রণ দেয়া যাবেনা! এতে ডিম জমাট বেঁধে যাবে।


৬. মিশ্রণে একে একে এলাচ গুঁড়া, ভ্যানিলা এসেন্স এবং কফি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।


বাটিতে ক্যারামেল তৈরি

১. ক্যারামেল তৈরি করার জন্যে যে বাটিতে পুডিং বানাতে চান সেটি নিয়ে নিন। স্টিলের টিফিন বাটি হলে সুন্দর করে বানানো যাবে।


২. এবার টিফিন বাটিতে ১/২ কাপ পরিমাণ চিনি এবং ৫ টেবিল চামচ পরিমাণে পানি দিয়ে হালকা আঁচে চুলায় জ্বাল দিতে হবে যতক্ষণ না সিরাটা গুঁড়ের মতো রঙ ধারণ করে। এসময় কোনোভাবেই কোন ধরণের চামচ দিয়ে নাড়াচাড়া করা যাবে না।


৩. সিরা তৈরি হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে বাটিতে সিরা যেনও চারিদিকে সমান ভাবে ছড়িয়ে থাকে। হয়ে গেলো ক্যারামেল তৈরি!


ক্যারামেল এ দুধ-ডিমের মিশ্রণ দিয়ে চুলায় বসানো

১. দুধ-ডিমের মিশ্রণটি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে ক্যারামেল সেট করে রাখা বাটিতে ঢেলে নিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন।


২. একটা বড় পাতিল বা সসপ্যান নিতে নিন যেখানে পুডিং তৈরির বাটি সহজেই বসানো যাবে। পাতিল বা সসপ্যান এর ঠিক মাঝে একটি স্ট্যান্ড বসিয়ে দিন। এবার ১/৪ অংশ পানি দিয়ে পূর্ণ করুন। বাটি সাবধানে স্ট্যান্ড-এর উপর বসিয়ে দিন।


৩. খেয়াল রাখতে হবে পানি যেন টিফিন বাটির মধ্যে না ঢুকে পড়ে! ভালো হয় এটি ভারী কিছু দিয়ে চাপা দিয়ে রাখলে।

মাঝারি আঁচে চুলায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট জ্বাল দিতে হবে।


৪. নামিয়ে ফেলার আগে নিশ্চিত হওয়ার জন্যে একটি টুথপিক বা কাঠির সাহায্যে পরীক্ষা করে নিন। বাটির ঢাকনা খুলে কাঠিটি পুডিংয়ের মধ্যে ঢুকিয়ে দিন। যদি কাঠিটিতে লেগে পুডিং উঠে উঠে আসে তবে আরও কিছুক্ষণ জ্বাল দিন। যদি দেখা যায় কাঠির গায়ে কিছু লেগে নেই, তবে বুঝতে হবে পুডিং হয়ে গেছে। তখনই এটি নামিয়ে ফেলুন।


৫. পুডিং তৈরির বাটি ঠাণ্ডা হয়ে গেলে একটি প্লেটে উল্টো করে বসিয়ে দিন এবং আস্তে আস্তে বাটি তুলে নিন।


ব্যস! মজাদার ক্যারামেল কফি পুডিং তৈরি হয়ে গেলো। এই রেসিপিটি বানানোর সময় একদমই তাড়াহুড়া করা যাবে না। পুডিং নামিয়ে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিলে খেতে আরও বেশি ভালো লাগবে। পরিবেশন করার আগে অবশ্যই পুডিংটি স্লাইস করে কেটে নিবেন। এটি খেতে যেমন ইয়াম্মি, দেখতেও কিন্তু ভীষণ সুন্দর। তাহলে আজই ট্রাই করে ফেলুন!

আলু-ডিমের চপ কাবাবি


ডিম এবং আলু দিয়ে তৈরি রেসিপি আমাদের সবারই খুবই পছন্দের, তাই না? আর যদি এই দুটি উপকরণ একসাথে থাকে, তাহলে তো কোন কথাই নেই! সাধারণত হালকা ক্ষুধা মেটাতে বা বিকালে নাশতার জন্য বরাবরই চপ জাতীয় খাবারগুলো আমরা একটু বেশি প্রিফার করি। আজকে আমরা জেনে নিবো, সাধারণ ডিমের চপের সাথে কিভাবে শুধুমাত্র একটি উপকরণ ব্যবহার করে সহজেই বানিয়ে ফেলা যায় কাবাবি ডিম-আলুর চপ। তাহলে জেনে নিন মজাদার এই স্ন্যাকসের রেসিপিটি!


কাবাবি ডিম-আলুর চপ বানানোর নিয়ম

উপকরণ

ডিম- ৪টি (সিদ্ধ করা)

আলু- ৩টি (সিদ্ধ করা)

পেঁয়াজ কুঁচি- ১/২ কাপ

আদা বাটা- ১ টেবিল চামচ

কাঁচামরিচ কুঁচি- ১ টেবিল চামচ

ডিম- ২টি (ফেটানো)

ব্রেড ক্রাম্বস অথবা বিস্কুটের গুঁড়া- ৩ কাপ

জিরা টালা গুঁড়া- ১ চা চামচ

কাবাব মশলা- ১ টেবিল চামচ

গোলমরিচ গুঁড়া- ১ চা চামচ

তেল- ২ কাপ (ভাজার জন্য)

ধনিয়া পাতা কুঁচি- ১ টেবিল চামচ

লবণ- পরিমাণমতো

প্রস্তুত প্রণালী 

১. একটি বাটিতে সিদ্ধ করা আলু নিয়ে সেটা ভালোভাবে মাখিয়ে নরম করে নিতে হবে।


২. এখন আলু ভর্তার মধ্যে একে একে পেঁয়াজ কুচি, আদা বাটা, কাঁচামরিচ কুঁচি, জিরা টালা গুঁড়া, কাবাব মশলা, গোলমরিচ গুঁড়া, ধনিয়া পাতা কুঁচি ও স্বাদ মতো লবণ দিয়ে আবারও মাখিয়ে নিতে হবে।


৩. সিদ্ধ ডিমগুলো কেটে অর্ধেক করে নিতে হবে। অর্থাৎ মাঝ বরাবর কেটে নিলেই হবে।


৪. এবার মাখানো আলুর মধ্যে অর্ধেক ডিম ভরে চপের আকার করে নিতে হবে। এভাবে ৪টি ডিম দিয়ে ৮টি চপ বানিয়ে নিতে পারবেন।


৫. অন্য একটি পাত্রে ২টি ডিম ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিন। ফেটানো ডিমে ১/২ চামচ গোলমরিচ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে দিন।


৬. এবার চপগুলোকে একে একে ডিমে ডুবিয়ে ব্রেড ক্রাম্বস অথবা বিস্কুটের গুঁড়া দিয়ে গড়িয়ে তুলে রাখতে হবে।


৭. সবগুলো কাবাবি ডিম-আলুর চপ বানানো হয়ে গেলে ডুবো তেলে বাদামি রং করে ভেজে নিন। একটি পাত্রে কিচেন টিস্যু দিয়ে তার উপর নামিয়ে নিলে বাড়তি তেল শুষে যাবে।


মনে রাখবেন, কড়াই বা ফ্রাইপ্যানে তেল গরম হতে দেয়ার সময় প্রথমে চুলার আঁচ বাড়িয়ে দিতে হবে। যখন ডিম চপগুলো ভাজার জন্যে দেয়া হবে, তখন মাঝারি আঁচে রান্না করতে হবে। তা না হলে, অনেক সময় বাইরে পুড়ে যেতে পারে বা চপ গুলো ভেঙে যেতে পারে! এবার গরম গরম কাবাবি ডিম-আলুর চপ টমেটো সস কিংবা তেঁতুলের চাটনি দিয়ে পরিবেশন করে ফেলুন।

হেমন্তে হিমের স্বাদের জলপাই


হেমন্তে হিমের পরশ বেশ বোধ হচ্ছে। এরই মধ্যে বাজারে উঠেছে জলপাই। এই শীতে করোনাসহ নানা মৌসুমি রোগবালাই থেকে বাঁচতে ভিটামিন সির চমৎকার উৎস এই জলপাই। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের এই ফলটি আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয়। জলপাইয়ের তেলও আমরা এখন খাচ্ছি। তবে এই সময়ে অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে জলপাইয়ের সঙ্গতে রান্না করা যেতে পারে মুখরোচক নানা পদ। তেমনই কয়েকটির সন্ধান দিয়েছেন জেবুন্নেসা বেগম।


শাকে জলপাই

উপকরণ

লাল শাক ৩ কাপ, কচুর ছড়া ১ কাপ, জলপাই ৭-৮টা, যেকোনো মাছ ৬ টুকরা, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, বাটা পেঁয়াজ ১ টেবিল চামচ, রসুন কুচি ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, মেথি গুঁড়া আধা চা-চামচ, কাঁচা মরিচ ৩-৪টা, ধনেপাতা ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি

মাছে হলুদ, লবণ মেখে ভেজে নিন। কচুর ছড়া লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। তেলে পেঁয়াজ ও সব মসলা কষিয়ে সেদ্ধ ছড়া ও জলপাই দিয়ে দিন। অল্প পানি দিন। এবার শাক, মাছ ও কাঁচা মরিচ দিন। সবশেষে ধনেপাতা দিয়ে নামিয়ে নিন। গরম গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।


ছোট মাছে জলপাই

উপকরণ

যেকোনো ছোট মাছ ২৫০ গ্রাম, তেল ১ টেবিল চামচ, জলপাই ৩-৪টা, লবণ স্বাদমতো, পেঁয়াজ মিহি কুচি ২ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, আদা বাটা পৌনে এক চা-চামচ, রসুন কুচি আধা চা-চামচ, ধনে গুঁড়া আধা চা-চামচ, কাঁচা মরিচ ২টা, ধনেপাতা ২ টেবিল চামচ।


প্রণালি

তেলে পেঁয়াজ বাদামি করে ভেজে নিন। সব মসলা কষিয়ে তাতে অল্প পানি দিয়ে মাছ ও জলপাই দিন। সেদ্ধ হলে কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতা দিয়ে নামিয়ে ফেলুন। ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।


আচারি মুরগি

উপকরণ

মুরগির মাংস ১ কেজি (টুকরা করে নিন), জলপাই ৭-৮টা, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, রসুন বাটা ১ চা-চামচ, আদা বাটা ১ চা-চামচ, সরিষার তেল ২ টেবিল চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ, ধনে গুঁড়া ১ চা-চামচ, এলাচ-দারুচিনি-তেজপাতা কয়েকটা করে, লবণ পরিমাণমতো, লেবুর রস ১ চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ, পাঁচফোড়ন বাটা ১ চা-চামচ, সরিষা বাটা ১ চা-চামচ।


প্রণালি

তেলে পেঁয়াজ ভেজে গরম মসলা দিন। বাকি সব মসলা সামান্য পানি দিয়ে কষান। মাংসের টুকরাগুলো ঢেলে দিন। মাংস সেদ্ধ হলে জলপাই দিন। জলপাই সেদ্ধ হয়ে তেল ওপরে উঠলে নামিয়ে নিন। খিচুড়ির সঙ্গে পরিবেশন করলে ভালো লাগবে।


জলপাইয়ের চাটনি

উপকরণ

জলপাই পানিতে সেদ্ধ করে নেওয়া ২ কাপ, সরিষার তেল দেড় টেবিল চামচ, তেজপাতা ১টি, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, ধনেপাতা বাটা ১ চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি ৩ টেবিল চামচ, আদা-রসুন বাটা ১ চা-চামচ, পাঁচফোড়ন বাটা আধা চা-চামচ, পাঁচফোড়ন ১ চা-চামচ।


প্রণালি 

তেলে তেজপাতা ও পাঁচফোড়ন ভেজে সব মসলা কষিয়ে নিন। এতে সেদ্ধ জলপাই ও চিনি দিন। এবার কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে মাখা মাখা হলে নামিয়ে নিন।


জলপাইয়ের বোরহানি

উপকরণ

জলপাই ৭-৮টি, টকদই এক কাপ, চিনি ৩ টেবিল চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ, ধনে গুঁড়া আধা চা-চামচ, বিট লবণ ১ চা-চামচ, চাট মসলা আধা চা-চামচ, কাঁচা মরিচ ১টা, গোলমরিচ গুঁড়া পৌনে এক চা-চামচ, পানি আধা কাপ, পুদিনা ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি জলপাই সেদ্ধ করে বিচি ফেলে দিন। জিরা ও ধনে টেলে গুঁড়া করে নিন। সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন, ছেঁকে বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।

নিরামিষ রান্না খাসির মাংসের


নিরামিষ মাংস! মাংস ব্যাপারটাই আমিষ। কিন্তু রসুন–পেঁয়াজ বাদে যে মাংস রান্না করা হয় সেটাই নিরামিষ মাংস হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে না হলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিরামিষ মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে কালীপূজা কিংবা বিভিন্ন পূজা-পার্বণ উপলক্ষে। এ ধরেনর রান্নায় রসুন বা পেঁয়াজের ব্যবহার একেবারেই করা হয় না। তবে আলু ব্যবহার করা যেতে পারে। রসুন বা পেঁয়াজ না দিলেই যে মাংস সুস্বাদু হবে না, তা নয়। একবার রসুন-পেঁয়াজ ছাড়াই নিরামিষ মাংস রান্না করে খেয়ে দেখতে পারেন। রেসিপি দিয়েছেন কলকাতার শেফ রঙ্গন নিয়োগি।


উপকরণ

খাসির মাংস ৫০০ গ্রাম, টক দই ৫০ গ্রাম, এলাচ ২টি, লবঙ্গ ২টি, দারুচিনি ২ টুকরা, তেজপাতা ৩টি, ধনেবাটা ৬ চামচ, জিরাবাটা ৬ চা-চামচ, পোস্তবাটা ৮ চা-চামচ, শর্ষেবাটা ৪ চা-চামচ, হলুদবাটা ৪ চা-চামচ, শুকনো লঙ্কাবাটা ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, শর্ষের তেল পরিমাণমতো


প্রণালি

খাসির মাংস এক টেবিল চামচ তেল, হলুদ আর টক দই দিয়ে ম্যারিনেট করে অন্তত ২ ঘণ্টা রেখে দিন।

রান্নার শুরুতেই কড়াইতে তেল গরম করে প্রথমে তেজপাতা, ফোড়নসহ মাংস দিয়ে দিন। আঁচ একদম কমিয়ে ঢাকা দিয়ে রেখে রেখে মাংস কষাতে থাকুন।

পানি থেকে তেল ভেসে এলে গরমমসলা বাদে বাকি সব বাটা মসলা দিয়ে ভালো করে কষুন। মাংস নরম হয়ে গেলে লবণ দিয়ে ২ কাপ গরম পানি দিয়ে আঁচ বাড়িয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট ফুটিয়ে মাংস নামিয়ে নিন।

সব শেষে একটা বড় হাতায় ২ চামচ তেলে গরমমসলা বাটা দিয়ে গরম করে মাংসের ঝোলে মিশিয়ে দিয়েই সঙ্গে সঙ্গে চাপা দিয়ে দিন

গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন ।

লবণে মসৃণ ত্বক


ভালোবাসাহীন জীবন আর লবণহীন খাবারের ভেতর খুব একটা তফাত নেই। লবণ ছাড়া খাবার খাওয়ার কথা আমরা কেউ ভাবতেও পারি না। এমনকি কখনো কখনো মিষ্টি খাবারের মিষ্টতা বাড়াতেও লবণের ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু শরীরের সুস্থতার জন্য অনেক সময় খাবারে অতিরিক্ত লবণ ব্যবহারে লাগাম টানতে হয়। চিকিৎসকেরাই কাঁচা লবণের নাম দিয়েছেন ‘সাদা বিষ’। শরীরের জন্য ক্ষতিকর হলেও লবণ কিন্তু সৌন্দর্যচর্চায় বেশ ভালো ভূমিকা রাখতে পারে।

নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের কসমেটিক অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ইন ডারমাটোলজিস্টের ডিরেক্টর যশুয়া জেইকনার বলেন, প্রাকৃতিক লবণের মধ্যে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ, যা ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ হ্রাস করে ত্বককে উজ্জ্বল ও সতেজ করে তুলতে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া সামুদ্রিক লবণ এক্সফোলিয়েটর হিসেবে খুব ভালো এবং এতে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। 

আপাতত জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে আমাদের রূপ–রুটিনে লবণের ব্যবহার করা যেতে পারে।


ব্যাল্যান্সিং মাস্ক

লবণের অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ত্বকের বিভিন্ন প্রদাহের উপশম করতে বেশ কার্যকর। এ ছাড়া এর খনিজ উপাদানগুলো ত্বকে আর্দ্রতা সঞ্চার করে ও টানটান রাখে।

সুন্দর উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক পেতে দুই চা–চামচ লবণের সঙ্গে চার চা–চামচ মধু মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। 

পরিষ্কার শুকনো ত্বকে মিশ্রণটি মেখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে আঙুল দিয়ে আলতো করে ঘষে ঘষে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মিশ্রণটি সপ্তাহে অন্তত একবার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।


টোনার

এটি ত্বকের ধুলাময়লা শুষে নেয় এবং সেবাম নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে আনে। আর এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান ব্রণনাশক হিসেবে কাজ করে। এর জন্য ঘরেই বানিয়ে ফেলুন লবণের টোনার। এক কাপ কুসুম গরম পানিতে কয়েক চিমটি ইপসম বা খাবার লবণ মেশান। তুলা বা স্প্রে বোতলের সাহায্যে ত্বকে ব্যবহার করুন।


বডি স্ক্রাব

লবণ প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েন্ট, যা মৃত কোষ দূর করে ত্বক নরম করে থাকে। এক্সফোলিয়েন্ট বডি স্ক্রাব বানাতে লাগবে কোয়ার্টার কাপ লবণ আর আধা কাপ জলপাই বা নারকেল তেল। এটি স্ক্রাব অনেক দিন রেখে ব্যবহার করা যাবে। গোসলের সময় পুরো শরীরে আলতো করে মেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করলেই চলবে।


অ্যান্টি এজিং

ত্বক থেকে বয়সের ছাপ তাড়াতে আমরা কত টাকা খরচ করে অ্যান্টি এজিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করি। অথচ আমাদের কিচেনে থাকা লবণ দিয়েই এর সমাধান সম্ভব। তাই বলিরেখাকে বলি দিতে ত্বকে লবণ লাগান। জলপাই তেলের সঙ্গে মিহি গুঁড়া করে লবণ মিশিয়ে ত্বকের যেসব জায়গায় বলিরেখা দেখা দিয়েছে, সেখানে আপার মোশনে (উপরের দিকে) ম্যাসাজ করুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট ম্যাসাজ করলেই চলবে। এতে বলিরেখা অনেকখানি দূর হবে এবং নতুন বলিরেখা হওয়া প্রতিরোধ করবে।


টিথ হোয়াইটনার

এটি ফ্লোরাইডের প্রাকৃতিক উৎস। তাই ঝকঝকে সাদা দাঁতের জন্য লবণ দিয়ে দাঁত মাজুন। এতে মুখের ব্যাকটেরিয়াও দূর হবে।


চুলের যত্নে

চুলের যাবতীয় সমস্যা এক লবণ দিয়েই দূর করতে পারেন। প্রাকৃতিক খুশকিনাশক হিসেবে লবণের জুড়ি মেলা ভার। 

এটি মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে। এ ছাড়া মাথার ত্বকে জমে থাকা ময়লা ও জীবাণু দূর করে। লবণের ক্যালসিয়াম চুলের গোড়া মজবুত করে। চুলে লবণ বেশ কয়েকভাবেই ব্যবহার করা যায়। চুলের গোড়া মজবুত করতে বা খুশকি সারাতে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগাতে পারেন। আবার শ্যাম্পুর সঙ্গে মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য এক কাপ শ্যাম্পুর সঙ্গে দুই টেবিল চামচ লবণ মিশিয়ে সংরক্ষণ করুন।

আরিফিন শুভর ফিট থাকার পরামর্শ


অনেক তরুণ নিয়মিত জিমে যান। তবে শরীরের ওজন কমছে না দেখে হতাশ। আবার অনেকে খাবার খাচ্ছেন মেপে কিন্তু ঠিকঠাক ফল পাচ্ছেন না। সাত দিনে তিন কেজি ওজন কমানো বা এক মাসে ১০ কেজি কমানোর উৎসাহে তাই ভাটা পড়ে যায়। এই দলের অনেকেই ভুল ডায়েট বা ব্যায়ামের কারণে এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পান না বছরের পর বছর।

তাঁদের উদ্দেশে অভিনেতা আরিফিন শুভ বলেন, ‘একটা মানুষ যখন ভুল ডায়েটে চলবে তখন যতই হাঁটুক বা দৌড়াক কাজ হবে না। আবার শুধু ডায়েট করেও মিলবে না কাঙ্ক্ষিত ওজন। ব্যায়াম আর ডায়েট একটা আরেকটার পরিপূরক। তাই দুই দিকে নজর দিতে হবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে।’ নিজের লক্ষ্য ঠিক করে সেভাবে সামনে চলতে হবে।

শুভ বলেন, যাঁরা মনে করেন জিমে গেলেই যে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে যাবেন, এই ধারণা ভুল। মূলত মানুষের খাদ্যাভ্যাস তাঁর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। আর এটা ৭০ শতাংশ। আমি নিয়মিত সেটাই চেষ্টা করি। যখন কোনো বিশেষ চরিত্রের প্রয়োজনে আমাকে ওজন কমাতে বা বাড়াতে হবে, তখন একধরনের ডায়েট মেনে চলি। আবার সাধারণ সময়ে আমি লো কার্ব ডায়েটে জীবন যাপন করি। এতে গুড ফ্যাটও থাকে। আমি প্রচুর পানি পান করি। ঠিকঠাক বিশ্রাম নেওয়া সুস্বাস্থ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ছেলেদের জন্য সৌন্দর্যও এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপুর্ণ। নিজেকে ভালো দেখানোর পাশাপাশি সৌন্দর্য নিজের ভেতর একধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। তাই নিজের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার মতো, নিজে পরিচ্ছন্ন থাকাও জরুরি। অনেকে মনে করে সৌন্দর্যচর্চা হচ্ছে মেয়েদের কাজ। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সৌন্দর্যচর্চা মানে ফরসা হওয়ার ক্রিম মাখা নয়। আপনি দেখতে যেমনই হোন না কেন সেই চেহারাটারও যত্ন দরকার পড়ে। আর তাতেই আপনাকে দেখাবে আরও আত্মবিশ্বাসী।

সৌন্দর্যচর্চায় আরিফিন শুভ নিজে যেটা করেন সেটাও ঝটপট। অভিনেতার কথা হলো, আমাকে সুন্দর করার জন্য মেকআপ আছে। তবে সব সময় তো আর মেকাপ করে থাকি না। নিজের সাধারণ ত্বকটাকেও তাই যত্নে রাখতে হয়। ক্লিনজিং, সানব্লক আর ময়েশ্চারাইজিং এই তিনটি বিষয় নিয়মিত ব্যবহার করলেই ভালো থাকা যায়। রোদে বের হলেই মুখের ত্বক ড্যামেজ হয়ে পড়ে। তাই সানব্লক ব্যাবহার করলে মুখের ত্বক ভালো থাকবে।

বাইরে থেকে ফিরে প্রথমে মুখটা পরিষ্কার পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে একটু ময়েশ্চারাইজার ব্যাবহার করলে ত্বক কোমল হবে। ব্যস, এতেই নিজের চেহারায় আসবে সতেজতা।

‘যদি কেউ শারীরিকভাবে ফিট থাকে, তাহলে তার কর্মজীবন, পারিবারিক জীবন কিংবা বাইরের জগতে একধরনের ‘পজিটিভ ভাইব’ আসবে বলে মনে করেন এই চলচ্চিত্র অভিনেতা।

একটা সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করা খুবই জরুরি। শুধু কঠিন পড়াশোনা বা কঠিন পরিশ্রম করে জীবনে উন্নতি হয় না। এই কঠিন পরিশ্রমের জন্য দরকার পড়ে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। নিজের ঠিকঠাক যত্ন নিলেই কেবল সেটা সম্ভব। আপনার যখন ডায়েট ঠিক থাকবে, দৈনিক একটু সময় রাখবেন শরীরচর্চার জন্য, তখন সেটার প্রভাব আপনার দৈনন্দিন জীবনের ভেতর দিয়েই প্রকাশ পাবে।

তাই এই বিষয়গুলোতে নিজের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিলেন শুভ।

বাংলাদেশ দলের সবাই করোনা নেগেটিভ


সকালেই এল খবরটা। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ জেমি ডে। দুঃসংবাদের সকালে নেপাল অবশ্য ভালো খবরই পেয়েছে। ঢাকায় এসে করোনা শনাক্ত হওয়া ডিফেন্ডার রাজিন ধিমালের করোনা নেগেটিভ এসেছে। তবে জেমির সংস্পর্শে আসা বাংলাদেশ দলের আর কেউই করোনায় আক্রান্ত হননি।

শুক্রবার মুজিব বর্ষ সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও নেপাল। ম্যাচের পরের দিন গতকাল শনিবার সকালে দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয় টিম হোটেল থেকে। আজ সকালেই বাফুফের হাতে এসেছে করোনা ফলাফল। বাংলাদেশ কোচ জেমি ছাড়া দুই দলের সব খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের ‘নেগেটিভ’ এসেছে।

প্রথম ম্যাচে নেপালকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১৭ নভেম্বর দ্বিতীয় ম্যাচকে সামনে রেখে কাল রিজার্ভ খেলোয়াড়দের অনুশীলনও করিয়েছেন জেমি ডে। আজ সকালেও ছিল দলের অনুশীলন। কিন্তু এর আগেই পাওয়া যায় জেমির করোনায় আক্রান্তের খবর। তাঁকে টিম হোটেলেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ দলের অনুশীলন নেওয়া হয়েছে বিকেলে।

নেপাল ডিফেন্ডার রাজিন ধিমালের করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১০ নভেম্বর। এরপরই ঢাকার একটি হাসপাতালের আইসলোশনে পাঠানো হয়েছিল। আজ করোনা নেগেটিভ আসায় টিম হোটেলে ফিরে আসার কথা রয়েছে তাঁর। আগামীকাল দলের সঙ্গে অনুশীলন করবেন বলেও জানা গেছে নেপাল দলীয় সূত্রে। বাংলাদেশ ও নেপাল সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ১৭ নভেম্বর।

জেমি ডে করোনা পজিটিভ


শুক্রবার নেপালের বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জিতেছে বাংলাদেশ। ১৭ নভেম্বর দ্বিতীয় ম্যাচ। কিন্তু সে ম্যাচের প্রস্তুতির মধ্যেই দুঃসংবাদ এল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল থেকে। করোনা পজিটিভ হয়েছেন বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে।

ঠান্ডা লেগেছিল বাংলাদেশ কোচের। এরপরপরই তাঁর কোভিড পরীক্ষা করা হয়, সেটিরই ফল এসেছে পজিটিভ। আপাতত তিনি সঙ্গনিরোধ অবস্থাতেই আছেন।

জেমি অবশ্য বলেছেন তিনি আরেকটি কোভিড পরীক্ষা করাতে চান, ‘আমি মনে করেছিলাম, ঠান্ডা লেগেছে আমার। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা গেল করোনা পজিটিভ। আমার মনে হয় আরেকটি পরীক্ষা করাতে হবে।’

করোনার প্রাদুর্ভাবের পর তিনি নিজ দেশে ফিরে গিয়েছিলেন গত মার্চে। সাত মাস পর তিনি ফিরে এসেছিলেন নেপালের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক সিরিজকে সামনে রেখে। শুক্রবার প্রথম ম্যাচে নেপালকে ২-০ গোলে হারানো বাংলাদেশ এখন অপেক্ষায় দ্বিতীয় ম্যাচেও জিতে সিরিজটা জিতে নিতে। এদিকে, আগামী মাসে কাতারের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ফিরতি ম্যাচটি বাংলাদেশ খেলবে দোহায়। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোচের করোনা পজিটিভ হওয়া নিশ্চিত করেই চিন্তায় ফেলবে গোটা দলকে।

বার্সাকে বিদায় বলবেন মেসি


ক্লাবের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি হুট করে ক্লাবের সভাপতিকে জানিয়ে দিলেন, ক্লাবে থাকতে চান না। মাঠ ও মাঠের বাইরে উন্নতি করার ইচ্ছা যে দলের নেই, ক্যারিয়ারের শেষ ভাগ সে দলে থেকে হতাশা বাড়াতে চান না। মূল আক্ষেপটা ছিল সভাপতিকে নিয়েই। সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্তে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন মেসি। পরে চুক্তির বেড়াজালে আটকে বার্সা ছাড়া না হলেও এই মৌসুমের পর বার্সার সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে গেলে মেসি যে ক্লাব ছাড়বেন না, এর নিশ্চয়তা কোথায়? এদিকে ক্লাব সভাপতির পদ থেকে এর মধ্যেই বিদায় নিয়েছেন বার্তোমেউ। ফলে বার্সা সমর্থকদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে, মেসি হয়তো চুক্তি নবায়ন করবেন। কিন্তু যদি না করেন? মেসি যদি মৌসুম শেষে আবারও ক্লাব ছাড়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে যান?

এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না লুইস ফিগো। হ্যাঁ, সেই ফিগো, যিনি বার্সেলোনা-আকাশের সবচেয়ে বড় তারা হওয়া সত্ত্বেও যোগ দিয়েছিলেন ‘চিরশত্রু’ রিয়াল মাদ্রিদে। ক্লাবের সবচেয়ে বড় তারকা দল ছাড়লে কেমন লাগে, সেটা বার্সা সমর্থকেরা বুঝেছিলেন এই ফিগোর কল্যাণেই। সেই ফিগোই বলেছেন, ক্লাব ছাড়া নিয়ে যদি মেসি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকেন, তবে যত যা-ই হোক, মন বদলাবে না তাঁর, ‘মেসি ক্লাব ছাড়তে চাইছে, এমন খবর শুনে বাকি ১০ জনের মনের অবস্থা যা হয়েছিল, আমারও ঠিক তাই হয়েছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি প্রথমে। সব ক্লাবই মেসির মতো একজন খেলোয়াড় চায়। কিন্তু মেসির মতো খেলোয়াড়ের ক্লাবে থাকা নির্ভর করে সেই ক্লাবের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বেতন, খেলোয়াড়ের ইচ্ছা—এসবের ওপর।’

মেসির অমন সিদ্ধান্তের পেছনে অবশ্যই কোনো কারণ ছিল, এটা বিশ্বাস করেন ফিগো, ‘ও নিশ্চয়ই অমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনেক কিছুই ভেবেছে। নিশ্চয়ই এমন কিছু ছিল, যার কারণে সে ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিল। আমি জানি না সেগুলি কী! কিন্তু জীবন থেকে আমি যেটা শিখেছি। সেটা হলো, কেউ যদি কোথাও থাকতে না চায় এবং সে ব্যাপারে মোটামুটি মনস্থির করে ফেলে, তাহলে কেউ তাঁকে আটকাতে পারে না।’

ফিগো নিজেও হয়তো সে সময়ে বার্সায় থাকতে চাননি একদম। বার্সেলোনার হয়ে ১৭২ ম্যাচে ৩০ গোল করা লুইস ফিগোকে বড্ড ভালোবাসতেন ক্যাম্প ন্যুর দর্শকেরা। সেই ভালোবাসা হয়তো যথেষ্ট মনে হয়নি ফিগোর। ২০০০-০১ মৌসুমে বার্সার সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্কটা চুকিয়েই ফেলেন তিনি। যোগ দেন অন্য কোনো ক্লাব নয়, চিরশত্রু রিয়ালে! শুধু রিয়াল-বার্সা বলেই নয়, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ট্রান্সফার এটি। ছয় কোটি এক লাখ ডলার ট্রান্সফার ফি ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ট্রান্সফারের একটিও বটে। বার্সেলোনা সমর্থকদের কাছে সেই থেকে পর্তুগিজ তারকা চিরদিনের বিশ্বাসঘাতক। ২০০২-০৩ মৌসুমে এল ক্লাসিকো খেলতে ন্যু ক্যাম্পে ফিরলে ফিগোকে বিরূপ অভ্যর্থনা জানানো হয়। একসময়ের ভালোবাসার খেলোয়াড়কেই সমর্থকেরা ঘৃণা উগরে দিয়েছিলেন। তাঁর জন্য রীতিমতো পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। ম্যাচ চলার সময় কর্নার, ফ্রি-কিক নেওয়ার সময় ফিগোর উদ্দেশ করে গ্যালারি থেকে মুদ্রা, গলফ বলদ, এমনকি শুয়োরের একটা কাটা মুণ্ডুও ছুড়ে মারা হয়েছিল! সঙ্গে উপরি হিসেবে দুয়োধ্বনি তো ছিলই। ফিগো কিন্তু রিয়ালের জার্সিতে বেশ সফল হন। ১৬৪ ম্যাচে গোল করেছেন ৩৬টি। রিয়ালের দুটি লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

ফিগোর মতো এখন মেসিও ক্লাব ছাড়েন কি না, মৌসুম শেষেই বোঝা যাবে।

ব্যাংকে হিসাব খুলুন ঘরে বসেই


ব্যাংক হিসাব খুলতে নতুন গ্রাহককে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার (ইন্ট্রোডিউসার) বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে নতুন গ্রাহককে পরিচয় করে দেওয়ার এই নীতি থেকে সরে এসেছে ব্যাংকগুলো। এ কারণে পরিচয়দানকারী ছাড়াই ঘরে বসে নতুন হিসাব খোলা যাচ্ছে।

নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের যে ভোগান্তিতে পড়তে হতো, তা কেটে গেছে। ফলে ব্যাংক হিসাব খোলা অনেক বেড়ে গেছে। 

কোনো ব্যাংকে নতুন হিসাব খুলতে গেলে সেই ব্যাংকের কাছে আপনি অচেনা। তাই কোনো ব্যাংকে হিসাব খুলতে গেলে ওই ব্যাংকেরই কোনো গ্রাহককে আপনার পরিচয়দানকারী বা ইন্ট্রোডিউসার হতে হয়। ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে এ বিধান চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এ শর্তের কারণে অনেক মানুষের ব্যাংক হিসাব খুলতে না পেরে ব্যাংক থেকে ফিরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সরকারি চাকরির সুবাদে সরকারি ব্যাংকে হিসাব ছিল। একটু উন্নত সেবার জন্য ২০১৫ সালে একটি বেসরকারি ব্যাংকে যাই।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে নতুন গ্রাহককে পরিচয় করে দেওয়ার এই নীতি থেকে সরে এসেছে ব্যাংকগুলো। এ কারণে পরিচয়দানকারী ছাড়াই ঘরে বসে নতুন হিসাব খোলা যাচ্ছে। ফলে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের যে ভোগান্তিতে পড়তে হতো, তা কেটে গেছে। ফলে ব্যাংক হিসাব খোলা অনেক বেড়ে গেছে।

জানতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ফরিদুল আলম তাঁর নিজের ব্যাংক হিসাব খোলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারি চাকরির সুবাদে সরকারি ব্যাংকে হিসাব ছিল। একটু উন্নত সেবার জন্য ২০১৫ সালে একটি বেসরকারি ব্যাংকে যাই। কিন্তু ওই ব্যাংকে আমার পরিচিত কোনো গ্রাহক ছিল না। ফলে হিসাব খুলতে না পেরে বাধ্য হয়ে যেখানে আমার পরিচিত গ্রাহক ছিল, সেই ব্যাংকে যেতে হয়।’ 

ফরিদুল আলম ভাগ্যবান, অন্য ব্যাংকে তাঁর পরিচিত গ্রাহক ছিলেন। কিন্তু গ্রাহকদের পছন্দের ব্যাংকে সব সময় পরিচিত গ্রাহক মিলবে, এমনটা না-ও হতে পারে। তাই এই ভোগান্তি দূর করতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রাহক পরিচিতি-সম্পর্কিত (কেওয়াইসি) নতুন নীতিমালা জারি করে। তাতে সহজেই হিসাব খোলার পথ খুলে যায় ও হিসাব থেকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়। 

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকের গ্রাহককে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতাটি তুলে দেওয়া হয়েছে।

এখন জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই সহজেই ব্যাংক হিসাব খোলা যাচ্ছে। এই পরিচয়পত্রের মাধ্যমেই গ্রাহক সম্পর্কে জানতে পারছে ব্যাংক। এ জন্য ব্যাংকগুলো অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই হিসাব খুলতে পারছে। আর মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোও অনলাইনে হিসাব খোলার সুযোগ দিচ্ছে গ্রাহকদের। সবই হয়েছে দেশে করোনার কারণে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক গত জুলাইয়ে ‘সোনালী ই-সেবা’ নামের নতুন অ্যাপস চালু করেছে। এর ফলে এ অ্যাপের মাধ্যমে মুঠোফোনে ঘরে বসেই খোলা যাচ্ছে নতুন হিসাব।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকের গ্রাহককে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতাটি তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হিসাব খোলার ভোগান্তি কমে গেছে। এখন অনলাইনেই হিসাব খোলা যাচ্ছে।

জানা যায়, গত জুনে ঢাকা ব্যাংক ঘরে বসে অনলাইনে হিসাব খোলার সুবিধা চালু করে। অনলাইনে হিসাব খুললে ব্যাংকটি বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে বিনা মূল্যে এটিএম কার্ড ও চেক বই। ব্যাংকটির প্রতিনিধি নতুন গ্রাহকদের বাসায় গিয়ে হিসাব খোলার ফরমে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে আনছে। এই হিসাব খুলতে কোনো গ্রাহককে অন্য গ্রাহকের পরিচয় করিয়ে দিতে হচ্ছে না। পরিচয়পত্র, ছবি ও নমিনি থাকলেই চলছে।

ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমরানুল হক বলেন, ‘আমরা গ্রাহক বাড়াতে কাজ করছি। এ জন্য সহজে হিসাব খোলার উদ্যোগ নিয়েছি। এতে অল্প সময়ে ভালো গ্রাহক মিলছে।’

রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক গত জুলাইয়ে ‘সোনালী ই-সেবা’ নামের নতুন অ্যাপস চালু করেছে। এর ফলে এ অ্যাপের মাধ্যমে মুঠোফোনে ঘরে বসেই খোলা যাচ্ছে নতুন হিসাব। আর এই অ্যাপ থেকে টাকা স্থানান্তর, বিল পরিশোধ, সরকারি ভাতা, ভর্তুকি গ্রহণসহ ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের সব সুবিধাও মিলছে।

বেসরকারি খাতে দেশীয় দি সিটি ব্যাংকও ঘরে বসে নিজের হিসাব নিজে খোলার জন্য ‘সিটি এখনই অ্যাকাউন্ট’ চালু করেছে। যেসব গ্রাহকের নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র আছে, তাঁরা এই অ্যাপ ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে হিসাব খুলতে পারছেন।

জানতে চাইলে দি সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন প্রথম আলোকে বলেন, যত সহজে ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে, গ্রাহক তত বাড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মনীতি মেনেই সহজে ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে নতুন গ্রাহকদেরও বেশ সাড়া মিলছে।

ব্যাংকের শাখায় না গিয়ে গ্রাহক সেবা দিতে ইসলামী ব্যাংক চালু করেছে 'সেলফিন' নামে ডিজিটাল হিসাব খোলার সুবিধা। এর মাধ্যমে ঘরে বসে জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়েই এ হিসাব খোলা যাচ্ছে।

বেসরকারি খাতের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ঘরে বসে হিসাব খোলার সুযোগ দিতে ‘এমইজি’ নামের নতুন সেবা চালু করেছে। এর মাধ্যমে ঘরে বসেই ব্যাংকটিতে হিসাব খোলা যাচ্ছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আগে গ্রাহককে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক ভালো গ্রাহক ব্যাংক থেকে চলে গেছেন। এখন পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বিধানটি তুলে দেওয়ার পরও জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েই গ্রাহকের পরিচয় মিলছে। এর ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যাংকের শাখায় না গিয়ে গ্রাহক সেবা দিতে ইসলামী ব্যাংক চালু করেছে 'সেলফিন' নামে ডিজিটাল হিসাব খোলার সুবিধা। এর মাধ্যমে ঘরে বসে জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়েই এ হিসাব খোলা যাচ্ছে।

একইভাবে ব্যাংকের শাখায় না গিয়ে গ্রাহকেরা খুব সহজে যেকোনো জায়গা থেকে অনলাইনে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের হিসাব খুলতে পারবেন। এজন্য ব্যাংকটি চালু করেছে ই-অ্যাকাউন্ট সেবা।

একইভাবে বেসরকারি খাতের আরও কয়েকটি ব্যাংক হিসাব খুলতে নতুন নতুন সেবা চালু করেছে। এর বেশির ভাগই এসেছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর। এতে সহজেই গ্রাহক পাচ্ছে ব্যাংক।