নিউজ

Other News

More news for your entertainment

রেস্তোরাঁ মালিককে ১৫ হাজার জরিমানা রেস্তোরাঁয় মিলেছে পাখির মাংস


সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরবাজারে সিলেট সিটি করপোরেশনের পাঁচ কাউন্সিলের ভূরিভোজ করা সেই রেস্তোরাঁয় অভিযানে পাখির মাংস মিলেছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রেস্তোরাঁ মালিককে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


আজ রোববার বিকেলে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদা পারভীন এই অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।


উপজেলা প্রশাসন জানায়, বিকেল চারটায় হরিপুরবাজারে পাখির মাংস রান্না করে বিক্রি করার অভিযোগে ‘তারু মিয়া হোটেল’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালানো হয়। সেখানে পাখি জবাই করে মাংস সংরক্ষিত করে রাখা ও মাংসের তরকারি পাওয়া যায়। এই রেস্তোরাঁর পাশে নামবিহীন আরও একটি রেস্তোরাঁ তল্লাশি করে ১৫টি পাখির মাংস পাওয়া যায়। দুটি রেস্তোরাঁ পরিচালনায় থাকা দুজন ব্যবসায়ীকে আটক করে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা দিয়ে দুই রেস্তোরাঁমালিক ছাড়া পান।


তারু মিয়ার রেস্তোরাঁয় গত শুক্রবার রাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের পাঁচজন কাউন্সিলর ধলাবুক ডাহুক, বক ও বালিহাঁসের মাংস দিয়ে ভূরিভোজ করেন। তাঁদের এই ভোজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করা হয়। এ নিয়ে গতকাল শনিবার প্রথম আলোর অনলাইনে ‘পাখির মাংসে পাঁচ কাউন্সিলরের ভূরিভোজ ফেসবুকে লাইভ’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।


বাংলাদেশের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী, কোনো পাখি বা পরিযায়ী পাখি বা মাংস ক্রয়-বিক্রয় অপরাধ এবং এতে ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ আইনের তফসিল অনুযায়ী দেশের স্থানীয় বন্য পাখি ধলাবুক ডাহুক, বক ও বালিহাঁস নিষিদ্ধ পাখির অন্তর্ভুক্ত।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার সিলেট-তামাবিল হাইওয়েতে অবস্থিত। এখানের তারু মিয়া হোটেল, পুরোনো ড্রাইভার হোটেল, বিসমিল্লাহ হোটেলসহ বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁয় অবাধে বিক্রি হয় বন্য ও অতিথি পাখি।


অভিযান শেষে জৈন্তাপুরের ইউএনও নাহিদা পারভীন বলেন, পাঁচটি রেস্তোরাঁয় পাখির মাংস বিক্রির অভিযোগে আছে। তবে অভিযানে দুটি রেস্তোরাঁয় পাখির মাংস ও রান্না করা তরকারি পাওয়ায় সতর্ক করে জরিমানা করা হয়েছে। বাকিগুলোতে পাখির মাংস পাওয়া যায়নি। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান ইউএনও।

তাপমাত্রা বেড়েছে ঢাকাসহ সারা দেশে


রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বাদে সারা দেশের তাপমাত্রা দিনের বেলা বেড়েছে। এই তিন জেলায় এখনো ভারী কুয়াশা রয়েছে। ঢাকায় আজ সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় এখন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশে তাপমাত্রা বেড়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী—এই জেলাগুলোয় কুয়াশা থাকায় তাপমাত্রা বাড়েনি। ঢাকায় আজ তাপমাত্রা বেশ ওপরে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।


সারা দেশের আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া সাধারণত শুষ্ক থাকতে পারে। আজ সোমবার সকাল ৭টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।


আজ সকালে ঢাকায় সূর্যের দেখা পাওয়া গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রাও বেড়েছে। দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ফলে, রোদের তাপ অনুভূত হচ্ছে।


গতকাল রোববার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ২৫ দশমিক ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ছয়টায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৯ শতাংশ।

দেশের অধিকাংশ স্থানে তাপমাত্রা বাড়ায় কুয়াশা কম থাকতে পারে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত নদী অববাহিকাগুলোয় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ারও পূর্বাভাস রয়েছে।

দুই লাখ টাকা জরিমানা কুলাউড়ায় চা–বাগানে টিলা কেটে রাস্তা বানানোয়


মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লুয়াইউনি-হলিছড়া চা–বাগানে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে টিলা কেটে রাস্তা তৈরির দায়ে বাগানের উপব্যবস্থাপককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গতকাল রোববার পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেটের বিভাগীয় কার্যালয়ে শুনানি শেষে এ জরিমানা করা হয়।


অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লুয়াইউনি-হলিছড়া বাগানটি উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে পড়েছে। বাগানে সম্প্রতি খননযন্ত্র দিয়ে একটি উঁচু টিলা কেটে মাটি ফেলে প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ ও প্রায় ১০ ফুট প্রস্থের একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। খবর পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক ফখর উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি দল ২৬ নভেম্বর সেখানে অভিযান চালায়। পরে এ বিষয়ে অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার কার্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠানের সিলেটের বিভাগীয় পরিচালকের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক শুনানির দিন ধার্য করে হাজির হতে বাগানের উপব্যবস্থাপককে নোটিশ দেন।

গতকাল শুনানিতে হাজির হয়ে বাগানের উপব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম অপরাধ স্বীকার করেন। এ অবস্থায় অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রথমে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। পরে করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের খারাপ অবস্থার কারণে জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে দুই লাখ টাকা ধার্য করা হয়। 


এ ছাড়া এক মাসের মধ্যে মাটিভরাট করে কাটা টিলাটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা, মাটিধস ঠেকাতে পাকা প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ ও সেখানে পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণের নির্দেশ দেওয়া হয়। জরিমানার টাকা সাত কার্যদিবসের মধ্যে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।


পরিবেশ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা জরিমানার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করলেও বাগানের উপব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম ফোন ধরেননি।

আজ উত্তরাঞ্চলে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে


দেশের আকাশে মেঘের ঘনঘটা কিছুটা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে মেঘ বেশি জমেছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে আজ মঙ্গলবার হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে কুয়াশা কেটে যাওয়ায় আজ রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় সকাল থেকেই রোদের দেখা মিলতে পারে। ফলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এক মাস ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শুধু হিমালয়ের পাদদেশ পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও নওগাঁয় সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন শীতের বাতাস সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে গত তিন দিন একেক এলাকায় একেক দিন সবচেয়ে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। যেমন গতকাল সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


আর রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, শীতের হিমেল বাতাস সারা দেশেই অনুভূত হচ্ছে। যেখানে মেঘ কম, সেখানে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে মেঘ সরে গেলে তাপমাত্রা কমে শীত বাড়তে পারে।


এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোদ বেশি পাওয়া যাওয়ায় দেশের অনেক এলাকায় দিনের তাপমাত্রা বাড়ছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। দেশের বেশির ভাগ এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। দু–এক দিনের মধ্যেই রাতের তাপমাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করবে।

হাঁসের মাংস ফরাসিরা যেভাবে খায়


এসেছে শীত। নতুন ধান খেয়ে হাঁসগুলো এখন নাদুসনুদুস হয়ে উঠেছে। নতুন চালের গুঁড়ো দিয়ে বানানো ছিট রুটি বা পিঠার সঙ্গে নতুন ধান খেয়ে চর্বি বানিয়ে ফেলা হাঁসের মাংস যে না খেয়েছে, তার জীবনের অনেক আনাই মিছে। অথবা রাজশাহীতে বসে মাষকলাইয়ের রুটির সঙ্গে হাঁসের কষা মাংস—আহা!


হাঁসের মাংসের এমন স্বাদ শুধু বাঙালিদেরই একচেটিয়া নয়; ফরাসিরাও মজা করে হাঁসের মাংস খেয়ে থাকে। তবে সে মাংস বাঙালিদের মতো রসিয়ে কষিয়ে মসলায় জারিত করে রান্না করা নয়। একটু অন্য রকম। আজ সে অন্য রকম হাঁসের মাংসের গল্প বলা যাক।

রন্ধনশিল্প বা খাদ্যসংস্কৃতিতে ফরাসিরা বেশ সমৃদ্ধ। নান্দনিকতা আর বিজ্ঞানের সমন্বয়ে তারা রন্ধনশিল্পকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। এ দেশে যারা রন্ধনশিল্পের সঙ্গে জড়িত, তাদের শিল্পবোধ, বিচক্ষণতা, অধ্যবসায় সত্যিই বিস্ময়কর। তাদের খাদ্যতালিকায় আছে বহু বিচিত্র মুখরোচক খাবার। বাঙালিদের মতো ফরাসিরাও হাঁসের মাংস খুব মজা করে খায়। তবে একটু অন্য রকমভাবে। তারা বড় জাতের বা রাজহাঁসের বুকের তাজা মাংস যেমন খেয়ে থাকে, তেমনি ভীষণ মজা করে খেয়ে থাকে হাঁসের শুকনো মাংস।

হাঁসের বুকের তাজা মাংস বারবিকিউ বা কড়াইতে ভেজে খেতেই সবার বেশি পছন্দ। এতে যেমন সময় বাঁচে, তেমনি প্রস্তুতির তেমন ঝামেলা নেই। পছন্দমতো কম, মোটামুটি বা বেশি ভাজি করে নিলেই হলো। শুধু মনে রাখতে হবে, চামড়া আগে থেকে তুলে ফেলা যাবে না। তাতে মাংসের স্বাদ ও ঘ্রাণ অনেকটাই কমে যায়। আর এতে মাংসের নরম ভাবটাও থাকে না।


তবে সেই সময়, যখন মানুষের ঘরে ঘরে ফ্রিজ আসেনি, তখন খাদ্য, বিশেষ করে মাংস সংরক্ষণ করতে গিয়ে ফরাসিরা হাঁসের বুকের মাংস শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপায় বের করেছিল। তখন থেকে এমন খাবার তাদের খাদ্যসংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে। এর স্বাদ ও পরিবেশনা সম্পূর্ণ আলাদা।


কীভাবে তৈরি করা হয়

শুরু করার আগেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখা হয়।


উপকরণ

রাজহাঁসের বুকের মাংস এক টুকরো (৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের), বড় দানার লবণ এক কেজি ও গোলমরিচ পরিমাণমতো।


১. পালক ছাড়ানো মাঝারি বয়সের বড় জাতের হাঁস বা রাজহাঁসের বুকের দুপাশের মাংসের দুটি টুকরা পুরো চামড়াসহ খুব সতর্কতার সঙ্গে কেটে নিতে হবে। এ জন্য ধারালো ছুরি ব্যবহার করতে হবে যেন কাটার সময় এবড়োখেবড়ো না হয়ে যায়। মাংসের টুকরোর সঙ্গে চর্বিযুক্ত চামড়া তুলে ফেলা ঠিক হবে না। চামড়ার নিচে থাকে বেশ পুরো চর্বির স্তর এবং এর পরে চমৎকার এক টুকরো মাংস। চামড়াসহ এমন এক টুকরো মাংস ওজনে ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম হয়ে থাকে। মাংসের গায়ে লেগে থাকা বাড়তি চর্বি, শিরা-উপশিরা ইত্যাদি পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।


২. এরপর একটি বড় পাত্রে একটি টুকরার জন্য এক কেজি বড় বড় দানার লবণের অর্ধেকটা ঢেলে দিয়ে মাংসের টুকরোটি তাতে রেখে বাকি অর্ধেক লবণ দিয়ে ভালো করে ঢেকে দিতে হবে। এরপর একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মাংসের টুকরোসহ পাত্রটি ঢেকে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। ২৪ ঘণ্টা পর মাংসের টুকরো লবণ থেকে তুলে পরিষ্কার পানিতে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। ধোয়ার পরে পরিষ্কার কাপড় বা পানি চুষে নেয়—এমন কাগজ দিয়ে বাড়তি পানি শুকিয়ে নিতে হবে। লবণে ঢেকে রাখার কারণে মাংস থেকে অনেক পানি ইতিমধ্যে লবণ চুষে নিয়েছে।


৩. পরে ভালোভাবে গোলমরিচ গুঁড়োর প্রলেপ দিয়ে মাংসের টুকরোটি একটি শুকনো পরিষ্কার কাপড়ে জড়িয়ে তিন সপ্তাহ রেখে দিতে হবে। এই তিন সপ্তাহে শুকিয়ে যাওয়ার ফলে তিন ভাগের এক ভাগ ওজন কম হয়, অর্থাৎ ৩০০ গ্রাম মাংস প্রায় ২০০ গ্রাম হয়ে যায়।

যাঁরা হাঁসের বুকের শুকনো মাংস তৈরি করতে দক্ষ এবং যাঁদের এ ব্যাপারে সুনাম আছে, তাঁরা মাংসের রং, পানির পরিমাণ, স্বাদ ও ঘ্রাণের দিকটা বিশেষভাবে লক্ষ রাখেন। আর তাই গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করেই বাজারে এর মূল্যের হেরফের ঘটে। তা ছাড়া মূল্য নির্ভর করে হাঁসের জাত এবং কোন পরিবেশে লালন পালন করা হয়েছে, সে বিবেচনাতেও। তাই ফ্রান্সের বাজারে এক কেজি হাঁসের শুকনো মাংসের দাম পড়বে ৩৫ থেকে ৫০ ইউরো।


যেভাবে পরিবেশন করা হয়

এই মাংস রান্না করতে হয় না। অনেকেই এতে সুগন্ধি গুল্ম বা মসলা মেশাতে পছন্দ করেন না। তাঁদের মতে, তাতে মাংসের আসল ফ্লেভার বা ঘ্রাণ থাকে না। তবে যাঁরা মাংসের গন্ধ পছন্দ করেন না, তাঁরা চাইলে তাঁদের পছন্দমতো সুগন্ধি গুল্ম বা মসলা মিশিয়ে নিতে পারেন।


মাংসের টুকরো থেকে চামড়া আলাদা করে অথবা ছোট ছোট টুকরা করে চামড়া ছাড়িয়ে তা ফেলে দেওয়া ভালো। তারপর বেশ পাতলা এবং ছোট ছোট টুকরো করে কেটে পরিবেশন করা হয়। আর পরিবেশন করতে অনেকেই নিজের রুচিমাফিক বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করে থাকেন। তবে ফরাসিরা সাধারণত প্রধান খাবারের আগে স্ট্রাটার হিসেবেই রাজহাঁসের বুকের শুকনো মাংসের ছোট ছোট টুকরো রুটি বা সালাদের সঙ্গে খেয়ে থাকেন। এ জন্য পরিমাণ অল্প হলেই চলে। ৩০০ গ্রামের একটি টুকরো দিয়ে ছয় থেকে আটজনের জন্য সালাদ প্রস্তুত করা যেতে পারে।


আমার মনে হয়, আমাদের দেশেও অনেকেই এমন চমৎকার খাবার পছন্দ করবেন।

লাড্ডু আপেল ছানার


লাড্ডু হয় মাওয়ার, বুন্দিয়ার, তা বলে আপেল আর ছানা দিয়ে? বিষয়টা প্রথমে আমার নিজের কাছেই কেমন খটকা লেগেছে। তবে সম্ভব হয়েছে আমার নিরীক্ষা প্রবণতার কারণে। আর করে ফেলার পর খেতে মন্দ হয়নি। বরং বাসার ছেলে–বুড়ো সবাই পছন্দও করেছে। এমন একটা রেসিপি তাই শেয়ার করছি আপনাদের সঙ্গে। স্বাস্থ্যকর আর মজাদার। ঘরেই বানান; বাচ্চারা বেশ আয়েশ করেই খাবে।


উপকরণ

দুই কাপ গ্রেট করা লাল আপেল, পৌনে এক কাপ ফ্রেশ ছানা, (এখানে বলে রাখি, এক–তৃতীয়াংশ হবে আপেলের পরিমাণ আর ছানার পরিমাণ হবে এক ভাগ), এক কাপ চিনি (যার যার স্বাদমতো দিতে পারেন), এক টেবিল চামচ ঘি, দুই টেবিল চামচ আমন্ড বা কাঠবাদামের গুঁড়া, দুই চিমটি এলাচিগুঁড়া, এক চিমটি লবণ।  সাজানোর জন্য শুকনা নারকেল কোরা ও কাপ কেকের পেপার মোল্ড।


প্রণালি

খুব সহজ, অল্প উপকরণ এবং খেতে চমৎকার আমার নিজের ডেজার্ট রেসিপি এই আপেল ও ছানার লাড্ডু। প্রথমেই ফ্রেশ ছানা তৈরি করে নেবেন। এরপর ফ্রাই প্যানে আপেলকুচি ও চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে আট মিনিট মিডিয়াম আঁচে জ্বাল দিয়ে নিতে হবে। চিনি ও আপেল থেকে যে পানি বের হবে, তা মোটামুটি শুকিয়ে গেলে ছানা, এলাচিগুঁড়া, ঘি, বাদামের পাউডার দিয়ে ভালোভাবে মেশাতে হবে। অনবরত নেড়ে পানি শুকিয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে। হালকা ঠান্ডা করে লাড্ডুর শেপ দিয়ে কোরা নারকেলে গড়িয়ে ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে ঘণ্টা দুয়েক রেখে সেট করে নেবেন।

 এবার নিজের পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন। ব্যস, হয়ে গেল মজাদার আপেল ও ছানার লাড্ডু।

তিনটি জাপানি খাবারের রেসিপি


দেশি খাবার খেতে খেতে অনেক সময় একটু বিদেশি খাবারও চেখে দেখতে ইচ্ছা করে। বিদেশি খাবারের রন্ধনপ্রণালি, মসলার ব্যবহার, সসের ব্যবহার আমাদের জিবকে কিছুটা হলেও অন্য জগতে নিয়ে যায়। আজ জাপানি তিনটি খাবারের রেসিপি থাকল।


ছাতা আন্দাগি

উপকরণ: 


ময়দা ১০০ গ্রাম, ডিম ১টি, চিনি ৫০ গ্রাম, বেকিং পাউডার আধা চা-চামচ, তেল ১ চা-চামচ ও লবণ ১ চিমটি।


প্রণালি

ময়দা, লবণ ও বেকিং পাউডার একসঙ্গে মিশিয়ে একবার চেলে নিতে হবে। একটা বোলে তারের ফেটানি দিয়ে ডিম ফেটে নিন। ফেটানোর সময় চিনি দিন। এবার এতে তেল মেশান। ময়দার মিশ্রণটি স্প্যাচুলা (একধরনের খুন্তি) দিয়ে মেশাতে হবে। খামির বানানো হয়ে গেলে ঢাকনা দিয়ে রেফ্রিজারেটরে ৩০ মিনিট রাখুন। এরপর হাতে তেল লাগিয়ে গোল বলের মতো করে তেলে অল্প আঁচে ভাজতে হবে। খেয়াল রাখুন যেন তেল খুব গরম না হয়, ১৫০–১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকে। কম আঁচে ভাজলে বলগুলো ফেটে যাবে। এটাই এই ডোনাটের বৈশিষ্ট্য। জাপানিরা এই ফাটা ভাবকে হাসির সঙ্গে তুলনা করে। সব ভাজা হয়ে গেলে পরিবেশন করুন। এটি জাপানের ওকিনায়া অঞ্চলের খাবার।


ইমো কেন্ পি

উপকরণ: 


মিষ্টি আলু মাঝারি আকারের ১টি, বাটার ১০ গ্রাম, চিনি দেড় টেবিল চামচ, লবণ ১ চিমটি, তেল পরিমাণমতো (ভাজার জন্য) ও কালো তিল পরিমাণমতো।


প্রণালি

মিষ্টি আলু খোসাসহ বা ছিলে ধুয়ে লম্বা লম্বা করে কেটে নিয়ে পানিতে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। পানি থেকে তুলে কিচেন পেপার দিয়ে মুছে শুকিয়ে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে ডুবো তেলে ভাজুন। হালকা রং ধরে এলে তুলে ফেলতে হবে। একটি ফ্রাইপ্যানে মাখন গলাতে হবে। এবার চিনি দিন। চিনি গলে হালকা সোনালি রং হলে তাতে ভাজা মিষ্টি আলু দিয়ে তাড়াতাড়ি উল্টে দিন। যেন আলুর গায়ে সব জায়গায় ক্যারামেল লাগে। চুলা থেকে নামিয়ে কালো জিরা এবং এক চিমটি লবণ ছিটিয়ে পরিবেশন করুন। এটি দেখতে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের মতো। তাই বলা যায়, মিষ্টি আলুর ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস।


গোইয়্যা চানপুরু

উপকরণ:


করলা ১টি, ডিম বড় ১টি (হালকা ফেটানো), টফু ছোট আকারের ১ প্যাকেট, লবণ আধা চা-চামচ, গোলমরিচ সামান্য, মেয়োনেজ ১ টেবিল চামচ, তেল ১ চা-চামচ ও টুনা মাছ (ছোট ক্যান) ১টি।


প্রণালি

করলা ধুয়ে পাতলা করে (৩ মিলিমিটার পুরু) কেটে নিয়ে সামান্য লবণ দিয়ে মেখে রাখতে হবে। টফু পেপার টাওয়েল দিয়ে মুছে নিয়ে ছোট টুকরা করে নিতে হবে। একটা ফ্রাইপ্যানে ১ চা-চামচ তেল দিয়ে টফুগুলো দুই পিঠ হালকা বাদামি করে ভেজে নিয়ে একটা বাটিতে তুলে রাখুন। এবার সেই ফ্রাইপ্যানে টুনা (ক্যানের তেলসহ) ও করলা ভাজতে হবে। গোলমরিচ দিন। সামান্য ভাজার পর মেয়োনেজ দিয়ে নেড়ে লবণ স্বাদমতো হয়েছে কি না, দেখুন। এবার ফেটানো ডিম দিয়ে নেড়ে ডিম জমাট বেঁধে এলে নামিয়ে পাত্রে ঢেলে পরিবেশন করুন।

শীতের সুস্বাদু পিঠা


শীত আর পিঠা একে অপরের সঙ্গে লতায়–পাতায় জড়িত। শীত আসবে আর আমরা পিঠা খাব না, ইতিহাসে এমন অঘটন কখনো ঘটেছে বলে জানা যায় না। নতুন ধান উঠবে অঘ্রান মাসে। সে ধান থেকে বানানো হবে চাল। সে সুগন্ধি চালে খাওয়া হবে পিঠা—এ হচ্ছে আবহমান বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।



লবঙ্গ লতিকা

উপকরণ: 


ময়দা দেড় কাপ, তেল ১ টেবিল চামচ, লবঙ্গ ১০-১২টি, সুজি ১ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, চিনি বা গুড় আধা কাপ (স্বাদমতো), কোরানো নারকেল আধা কাপ, লবণ সামান্য ও দারুচিনি ১ টুকরা।


প্রণালি

ময়দায় সামান্য লবণ ও তেল মেখে ডো তৈরি করুন। সুজি অল্প টেলে ধুয়ে নিন। ঘিতে দারুচিনি ভেজে তুলে নিন। সুজি, চিনি বা গুড়, কোরানো নারকেল দিয়ে ভেজে নামিয়ে নিন। ছোট ছোট রুটি বানিয়ে এর ভেতর সুজির পুর ঢুকিয়ে ভাঁজ করে লবঙ্গ দিয়ে আটকে দিন। ডুবো তেলে ভেজে নিন। গরম অথবা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।


নকশি পাকন পিঠা

উপকরণ: 


আতপ চালের গুঁড়া ২ কাপ, মুগ ডাল আধা কাপ, দুধ ২ কাপ, পানি ১ কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ, চিনি ১ কাপ ও পানি ১ কাপ। এ ছাড়া নকশা করার জন্য খেজুরের কাঁটা ও টুথপিক লাগবে।


প্রণালি

দুধের সঙ্গে পানি মিশিয়ে ফুটান। ফুটে উঠলে সামান্য লবণ চালের গুঁড়া দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে চুলা বন্ধ করে কয়েক মিনিট ঢেকে রাখুন। মুগ ডাল টেলে সেদ্ধ করে বেটে রাখুন। চালের গুঁড়ার ডো ভালোভাবে মথে এর সঙ্গে ডাল ও ঘি দিয়ে মাখুন। রুটি বেলে পিঠা কেটে নিন। খেজুর কাঁটা ও নকশা তৈরি করে ডুবো তেলে মাঝারি আঁচে ভাজুন। ভাজা পিঠা শিরায় দিয়ে তুলে নিন।


দুধ খেজুরের রসে ঝিনুক পিঠা

উপকরণ: 


আতপ চালের গুঁড়া দেড় কাপ, পোলাওর চালের গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, দুধ ১ লিটার, গুড় ১ কাপ (স্বাদমতো), লবণ সামান্য, কোরানো নারকেল ১ কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ ও পানি ২ কাপ। এ ছাড়া নতুন চিরুনি লাগবে ২টি।


প্রণালি

সামান্য লবণ দিয়ে পানি ফুটান। পানি ফুটে উঠলে চালের গুঁড়া দিয়ে নেড়ে সেদ্ধ হলে নামিয়ে নিন। ভালোভাবে মেখে ছোট ছোট বলের মতো করে নিন। দুটি চিরুনিতে ঘি মেখে ঝিনুকের আকারে পিঠা তৈরি করুন। পিঠা ভেজে রাখুন। অন্য পাত্রে দুধ জ্বাল দিয়ে কোরানো নারকেল, পিঠা ও গুড় দিয়ে কয়েক মিনিট রেখে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।


হৃদয় হরণ পিঠা

উপকরণ: 


ময়দা ১ কাপ, তরল দুধ দেড় কাপ, পোলাওর চালের গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, লবণ সামান্য ও চিনি বা গুড়ের সিরা দেড় কাপ।


প্রণালি

দুধ ফুটে উঠলে সামান্য লবণ, চালের গুঁড়া ও ময়দা দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন। ভালোভাবে মথে পাতলা রুটি বানান। কুচি করে ভাঁজ করুন। এবার ভাঁজের মাঝের অংশ ভেতরে ঢুকিয়ে অপর দুই পাশ ঘুরিয়ে আটকে দিন। ডুবো তেলে ভাজুন, শিরায় দিয়ে তুলে নিন।


কাশ্মীরি ভাপা পিঠা

উপকরণ: 


আতপ চালের গুঁড়া ২ কাপ, পোলাওর চালের গুঁড়া ১ কাপ, তরল দুধ ১ কাপ, পাটালি গুড় ১ কাপ, মাওয়া ৩ টেবিল চামচ, পেস্তাবাদাম ২ টেবিল চামচ, কাজুবাদাম ২ টেবিল চামচ, কিশমিশ ৩ টেবিল চামচ, কাঠবাদাম ২ টেবিল চামচ ও লবণ সামান্য।


প্রণালি

চালের গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য লবণ ও দুধ মেখে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন। চালুনি দিয়ে চেলে নিন। ভাপা পিঠার ডাইসে সামান্য চালের গুঁড়া দিয়ে বাদাম, কিশমিশ, গুঁড়া মাওয়া দিয়ে আবার ওপরে চালের গুঁড়া দিয়ে হালকাভাবে চেপে ভাপা পিঠার পাত্রে পিঠা তৈরি করে নিন। গরম–গরম পরিবেশন করুন।


নারকেল গুড়ের মেরা পিঠা

উপকরণ: 


আতপ চালের গুঁড়া ৩ কাপ, গুঁড় ২ কাপ, কোরানো নারকেল ১ কাপ ও লবণ সামান্য।


প্রণালি

আড়াই কাপের মতো পানিতে গুড় দিয়ে জ্বাল দিন। ফুটে উঠলে চালের গুঁড়া দিয়ে নাড়ুন, কোরানো নারকেল দিন। চুলা থেকে নামিয়ে কয়েক মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার ভালোভাবে মথে নিন, গোল ছোট ছোট বলের মতো করে হাতের তালু দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পিঠা তৈরি করুন। ভাপে ১৫-২০ মিনিট রেখে নামিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন। মিষ্টি খেতে না চাইলে গুড় বাদ দিয়ে তৈরি করতে পারেন।

শুকনা কুলের চাটনি রেসিপি


বরই বা কুল পছন্দ করে না এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া যায় না। চলমান সময়ের ফল এই কুল। কাঁচা কিংবা পাঁকা সব ধরনের কুল খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। কেবল যে সুস্বাদু তা নয় অনেক স্বাস্থ্যকর। স্বাদের পাশাপাশি কুলে আছে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল, ভিটামিন সি, বি, বি ১২। এই সকল ভিটামিন সর্দি, কাশি উপশমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেকেই আছেন যারা কাঁচা কুল খেতে পারেন না বিভিন্ন সমস্যার জন্য। আবার অনেকের ভাতের সাথে চাই ভিন্ন কিছু টক মিষ্টি ঝাল স্বাদের কোন মজাদার খাবার। তাই সবার জন্য আমি আজকে এমন একটি রেসিপি দিবো যা অত্যন্ত সুস্বাদু এবং ছোট বড় সকলের ভালো লাগার মতো একটি রেসিপি। চলুন জেনে নেই মজাদার টোপা কুলের চাটনি তৈরি করার জন্য কী কী লাগছে এবং এর রন্ধন প্রণালী।


টোপা কুলের চাটনি তৈরির পদ্ধতি 

উপকরণ 

পাঁকা কুল- ৫০০ গ্রাম

সরিষার তেল– ১/২ টেবিল চামচ

পানি- পরিমাণমতো

শুকনা মরিচ দিয়ে জিরা ভাজা- ১ চা চামচ

হলুদ- ১/২ চা চামচ

লবণ- ১/২ চা চামচ

চিনি- স্বাদমতো

সাদা সরিষা- ১/২ চা চামচ

প্রস্তুত প্রণালী 

১) একটি কড়াইয়ে ১/২ টেবিল চামচ সরিষার তেল দিয়ে এর মধ্যে সরিষা দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে নিন।

২) সরিষা ফুটতে শুরু করলে এরমধ্যে কুল দিয়ে দিন।

৩) একটি কথা অবশ্যই মনে রাখবেন প্রতিটি কুলের মুখ ফাটিয়ে নেবেন। এতে করে মশলা কুলের

ভেতর পর্যন্ত গিয়ে এর স্বাদ বাড়িয়ে দিবে।

৪) কড়াইয়ের কুলের মধ্যে এক এক করে দিয়ে দিন সামান্য হলুদ, লবণ এবং পানি এবং ভালোভাবে নেড়ে নিন।

৫) কিছুক্ষণ নেড়ে এর মধ্যে স্বাদমতো চিনি এবং জিরা ফাকি দিয়ে ঢেকে দিন এবং মৃদু আচেঁ চিনি গলে যাওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।

৬) চিনি গোলে যাবার পর নামিয়ে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন মজাদার স্বাদের টোপা কুলের চাটনি। এই চাটনি ফ্রিজে রেখে দিলে ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে।

এইতো জেনে নিলেন কিভাবে খুব সহজেই তৈরি করে নিবেন মজাদার টক ঝাল টোপা কুলের চাটনি। বড় ছোট সবারই খুব ভালো লাগবে এটি খেতে। তো দেরি না করে আজই তৈরি করুন মজাদার এই চাটনিটি।

মজার রেসিপি টমেটোর দোলমা!


পটল দোলমার কথা তো আমরা সবাই কম বেশি জানি। আজকে আমরা আপনাদের জানাবো ভিন্ন একটি আইটেম টমেটোর দোলমা তৈরির পদ্ধতি। খুব সুস্বাদু এবং হেলদি এই আইটেমটি তৈরি করার পদ্ধতিটিও অনেক সহজ। টমেটোতে রয়েছে ক্যারোটিন (Carotene)  যা মানব দেহে ভিটামিন এ এর কাজ করে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। পাকা টোমেটোতে আছে ভিটামিন সি যা শরীরের পক্ষে খুবই উপকারী। অনেকেই টোমেটো খেতে পছন্দ করে না, বিশেষ করে শিশুরা একদমই খেতে চায় না। কিন্তু এই মজাদার আইটেমটি বড় ছোট সবারই ভালো লাগবে। তো চলুন দেড়ি না করে জেনে নিন কিভাবে তৈরি করবেন হেলদি এবং টেস্টি টমেটোর দোলমা।


টমেটোর দোলমা তৈরির পদ্ধতি

উপকরণ

বড় সাইজের টমেটো- ৭-৮টি

মাছ- ১/২ কেজি

পেঁয়াজ কুচি- ৩-৪টি

হলুদ গুড়া- ১/২ চা চামচ

রসুন কুচি- ১/২ চা চামচ

লাল মরিচ বাটা- ৫/৬টি

কাঁচামরিচ কুচি- ৩/৪টি

ধনেপাতা বাটা- ১/২ চা চামচ

জিরা বাটা- ১/২ চা চামচ

পুদিনা পাতা বাটা- ১/২ বাটা

লবণ- পরিমাণমতো

তেল- ভাজার জন্য

প্রস্তুত প্রণালী 

১) প্রথমে ছুরি দিয়ে দিয়ে টমেটোর বোঁটার মুখ গোল করে কেটে নিতে হবে এবং টমেটোর ভেতরের সব বের করে নিবো।


২) এবার টমেটোগুলো ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।


৩) তারপর মাছ সেদ্ধ করে কাটা বেছে তাতে টমেটোর ভেতরের অংশ এবং অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে নিবো।


৪) এবার একটি প্যানে তেল দিয়ে তাতে মেশানো মাছ ভালোভাবে ভেজে নিতে হবে।


৫) এখন টমেটোগুলোতে ভেজে রাখা মাছের কিমা ভরে তার উপর কেটে রাখা টমেটোর বোঁটার মুখ দিয়ে ঢেকে দিবো।


৬) এবার টমেটোগুলোতে তেল বা বাটার মাখিয়ে একটি তাওয়া বা প্যানে একেএকে রাখতে হবে।


৭) তারপর অল্প আঁচে ঢেকে দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিবো। কিছুক্ষণ পর চাইলে টমেটো উলটে দিতে পারেন।


৮) চাইলে ওভেনেও অল্প হিটে তৈরি করতে পারেন।


৯) টমেটো নরম হলে নামিয়ে নিতে হবে। চাইলে উপরে চিজ কুচি করে দিতে পারেন।


তৈরি হয়ে গেলো খুবই মজাদার টমেটোর দোলমা। গরম ভাত, পোলাও কিংবা রুটি, পরোটার সাথে খেতে খুবই ভালো লাগবে সুস্বাদু এই আইটেমটি। তো আজই তৈরি করুন মজাদার এই ডিশটি এবং উপভোগ করুন। আর হ্যাঁ, কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না যেন। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন হেলদি খাবার খান।

আজকের গল্প চালের রুটি


শবে বরাততো চলেই এলো। চালের রুটি ছাড়া যেন আমাদের শবে বরাত হয়ই না। সবাই মিলে মিশে কী খুশিতে রুটি বানায় সেদিন! তবে মাঝে মাঝে ঝামেলাও হতে দেখা যায়। আর সেই ঝামেলাটি হলো- রুটি ঠিকমতো কাই না হওয়া। ঠিকমতো যদি রুটি কাই না করা হয়, তবে চালের রুটি ভালোও হয় না। পরে দেখা যায় শক্ত রুটি সবাই চিবিয়ে দাঁত ব্যথা করে ফেলেছে। তাহলে চলুন, আজ আমরা পারফেক্ট চালের রুটি কী করে করতে হয়, তাই জেনে নেই!


চালের রুটি বানানোর নিয়ম

উপকরণ

চালের গুঁড়া- ১.৫ কাপ

লবণ- পরিমাণমতো

পানি- পরিমাণমতো

প্রণালী

১. প্রথমে একটি হাড়ি চুলায় দিয়ে তাতে পৌনে ২ কাপ পানি নিয়ে গরম করতে হবে।


২. পানি ফুটে আসলে এতে সামান্য লবণ দিয়ে দিন।


৩. এবার এতে ১.৫ কাপ চালের গুঁড়া দিয়ে দিন ও ৫ মিনিট মৃদু আঁচে জ্বাল দিয়ে ঢেকে রাখুন। ঢেকে রাখলে চালের গুঁড়া ভালোমতো সেদ্ধ হয়ে যাবে।


৪. ৫ মিনিট ঢেকে রাখার পর চুলা থেকে নামিয়ে তারপর কাঠের খুনতি বা কাঠি দিয়ে ভালোমতো নাড়ুন। যদি দরকার হয়, তবে সামান্য পানি মিশিয়ে নিতে পারেন। এই অবস্থায় ১০ মিনিট রেখে দিন হালকা ঠাণ্ডা হবার জন্য। খুব বেশি দেরি করা যাবে না। কারণ, গরম গরমই ভালোমতো মথে কাই করতে হবে। যত ভালোভাবে কাই হবে তত ভালো রুটি হবে।


৫. এবার রুটি বানানোর জন্য লম্বা করে রোলের মতন খামির করে ছোট ছোট টুকরা করে নিন।


৬. এই চালের আটার টুকরাগুলো গোল বল বানিয়ে তারপর ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন।


৭. এবার পাতলা পাতলা করে রুটি বানিয়ে ফেলুন।


৮. অপর দিকে চুলায় তাওয়া দিন গরম হতে ও গরম হয়ে গেলে বেলে নেয়া রুটি তাওয়াতে সেকে নিন!


 ব্যস! হয়ে গেল আপনার পারফেক্ট চালের রুটি তৈরি! গরম গরম পরিবেশন করুন ঝাল ঝাল গরুর মাংস বা মুরগির মাংসের সাথে!

ইলিশ দই সরষে রেসিপি


আমাদের গ্রামে একটা কথা প্রচলিত আছে ইলিশ মাছের গন্ধে শুকে নাকি ভাত খাওয়া যায়। এক বাড়িতে ইলিশ রান্না হলে নাকি দশ বাড়িতে গন্ধ পৌঁছে যায়। সেই বাঙ্গালীর ইলিশ মাছ না খেলে কি চলে? না একদমই না। বাঙালিদের ইলিশের তেরো পদ না হলে চলে না। মেহমান আপ্যায়ন, জামাই আদর, নানা উৎসব আয়োজনে ইলিশের একটি না একটি পদ থাকা চাই-ই চাই। সরষে ইলিশতো আমরা সবাই খাই, তাই আপনাদের জন্য আজকে নিয়ে এলাম একটু ভিন্ন রকমের সরষে ইলিশ। চলুন জেনে নেই দই সরষে ইলিশ রেসিপিটি!


দই সরষে ইলিশ যেভাবে বানাবেন

উপকরণ

১)  ইলিশ মাছ -১টি


২) টক দই -১ কাপ


৩) সাদা সরষে বাটা- ১০০ গ্রাম


৪) সয়াবিন তেল – ২৫০ গ্রাম


৫) কাঁচা মরিচ-৬/৭ টি


৬) পেঁয়াজ কুচি -২ কাপ


৭) আদা বাটা- ১ চা চামচ


৮) রসুন বাটা-১/২ চা চামচ


৯) জিরা বাটা -১চা চামচ


১০) হলুদ, ধনিয়া গুড়া -১ চা চামচ


১১) লবণ-স্বাদ মতো


১২) পানি -পরিমাণ মতো


প্রণালী

১. ইলিশ মাছ ধুয়ে টুকরো করে সামান্য লবণ ও হলুদ দিয়ে মাখিয়ে ১টি বাটিতে রাখুন।


২. এবার একটি প্যান-এ তেল দিয়ে প্রথমে এতে পেঁয়াজ দিয়ে দিন। এরপর এর মধ্যে একে একে আদা বাটা, রসুন বাটা, হলুদ, ধনিয়া গুড়া, লবণ আর সামান্য পানি দিয়ে মশলা কষিয়ে নিন।


৩. মশলা কষানো হলে এর মধ্যে সরষে বাটা ও টক দই দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে পানি দিয়ে দিন। তারপর মাছের টুকরোগুলো ছেড়ে দিন। আর সাথে দিয়ে দিন কাঁচা মরিচ এবং ঢেকে দিন। এবার রান্না করুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট।


ব্যস! হয়ে গেল মজাদার দই সরষে ইলিশ। একবার রান্না করে খেয়ে দেখুন ভিন্ন ধর্মী মজাদার ইলিশের রেসিপিটি। সব সময়তো আমরা শুধু সরষে ইলিশ খেয়েছি। এবার একটু ভিন্ন রকম হয়ে যাক না! স্বাদের ভিন্নতা আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

কাঠের আসবাবপত্র বর্ষাকালেও যত্নে থাকুক


সেই রাজা বাদশাহদের আমল থেকেই কাঠের আসবাবপত্র ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তখনকার দিনে ভারী কারুকাজ করা ভালো মানের কাঠের আসবাবপত্র দ্বারা আভিজাত্য প্রকাশ পেতো। এখন সেই আভিজাত্যের ছোয়া কমে গেলেও কাঠের আসবাবপত্রের গুরুত্ব কিন্তু কমে যায় নি কারণ এটি যত্ন সহকারে ব্যবহার করলে বহুদিন ব্যবহার করা যায় এবং এতে রাখা যে কোন জিনিসই খুব ভালো থাকে। এবার আসা যাক বর্ষাকালে কিভাবে আপনার কাঠের আসবাবগুলোকে যত্নে রাখবেন সেই প্রসঙ্গে, প্রকৃতিতে বর্ষার আগমন ঘটেছে কিছুদিন হলো, এর মাঝেই খেয়াল করে দেখবেন আপনার কিছু কিছু আসবাবপত্রে ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দিয়েছে বা স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে আছে। এর কারণ হলো বর্ষাকালে আবহাওয়া কিছুটা অন্যরকম থাকে, বাইরে বৃষ্টি না থাকলেও আকাশে ঘন মেঘের কারণে প্রকৃতিতে একটা স্যাঁতস্যাঁতে ভাব বিরাজ করে তাই সেটার প্রভাব কাপড়চোপড় এবং আসবাবপত্রেও পরিলক্ষিত হয়। তাহলে চলুন দেখে নেই কি কি উপায়ে আপনি এই বর্ষাকালেও আপনার আসবাবপত্রকে নতুনের মতো চকচকে রাখতে পারবেন।


১. ওয়াক্সিং

বর্ষাকালে আপনার কাঠের আসবাবগুলোকে  ওয়াক্সিং করুন মাসে কমপক্ষে ২ বার। কারণ এটি  আর্দ্রতা এবং ক্ষতি থেকে রক্ষা করে কাঠের তৈরি আসবাবকে। যদি বর্ষাকালে কাঠের আসবাবপত্রগুলোকে ছত্রাকের আক্রমণ  থেকে বাঁচাতে চান তাহলে নিয়মিত আপনার কাঠের আসবাবপত্রগুলোতে ওয়াক্সিং করে দেখতে পারেন।


২. বার্নিশ

আপনার বাড়িতে পুরোনো কাঠের আসবাবগুলোকে বর্ষাকালেও নতুনের মত রাখতে চাইলে পুনরায় বার্নিশ করুন। কারন নতুন করে বার্নিশ করলে পুরোনো কাঠের আসবাবে ছত্রাক জন্মাতে পারে না এবং ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে ভাব থেকেও সুরক্ষিত থাকে কাঠের জিনিসপত্র।


৩. পানি থেকে দূরে রাখুন

বৃষ্টির পানি অথবা যে কোন ভেজা জিনিস থেকে কাঠের আসবাবগুলোকে দূরে রাখুন। কোন ভেজা জিনিস কাঠের টেবিল বা যে কোন আসবাবের উপর রাখবেন না। পানির জগ, গ্লাস ইত্যাদি ভালো করে মুছে রাখুন। কাঠের আসবাবে পানি জমে থাকলে সেটা কাঠের অনেক ক্ষতি সাধন করে, কাঠকে আদ্র করে দেয় এবং এতে ফাঙ্গাস জন্মাতে সাহায্য করে এবং কাঠে ফাটল ধরাতে সাহায্য করে। তাই পানি থেকে যতটা সম্ভব বাঁচিয়ে রাখুন আপনার শখের আসবাবপত্রকে।


৪. ঘরের ভেতর রাখুন

বৃষ্টির পানি থেকে কাঠের আসবাবপত্র রক্ষা করার জন্য, কাঠের আসবাবপত্রগুলোকে ইনডোর-এই রাখুন। এগুলোকে বাইরে বের করবেন না এমন কি খুব বেশি তাপ এগুলোর গঠন এবং আকৃতি নষ্ট করতে পারে। অথবা যদি আপনাকে অবশ্যই কাঠের জিনিস বাইরে রাখতেই হয় তাহলে, ওয়াটারপ্রুফ  আবরণ দিয়ে তবেই রাখবেন।


৫. দেয়াল থেকে দূরে রাখুন

কাঠের বেড এবং অন্যান্য কাঠের আসবাব দেয়াল থেকে কিছুটা দূরে রাখার চেষ্টা করুন। কারন বর্ষাকালে বাড়ির দেয়াল আদ্র ও ভেজাভাবযুক্ত থাকে আর তাই দেয়ালের সাথে কাঠের আসবাব লেগে থাকলে তাতেও স্যাঁতস্যাঁতে ভাব চলে আসতে পারে।


৬. বৃষ্টিপাতের সময় দরজা জানালা বন্ধ রাখুন

বৃষ্টিপাতের সময় জানালা খোলা থেকে বিরত থাকুন। বৃষ্টিপাতের সময় বৃষ্টির পানি ছিটে দরজা বা জানালা দিয়ে ঢুকতে পারে এবং সেটা কাঠের আসবাবপত্রের গায়ে লাগলে তা থেকে আপনার আসবাবগুলোর অনেক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই, যখন বৃষ্টি থামে, তখন উইন্ডো খুলুন এবং নিশ্চিত করুন ভালভাবে রুম পরিষ্কার করা হলো কিনা।


৭. আসবাবপত্র পরিষ্কারের জন্য ভিজা কাপড় ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন

আপনার কাঠের আসবাবগুলোকে যখন পরিষ্কার করবেন তখন শুকনো কাপড় বা ব্রাশ-এর সাহায্যে পরিষ্কার করুন। ধুলো ও ময়লা দীর্ঘদিন জমে থাকলে সেটা পরে আসবাবপত্রের গায়ে আরও বসে যায়। তাই নিয়মিত আপনার আসবাবপত্রগুলোকে শুকনো কিছুর সাহায্যে পরিষ্কার করুন। ভুল করেও ভেজা কাপড় লাগাবেন না, এতে হিতে বিপরীত হবে।


৮. বাসার মেঝে শুকনো রাখুন

অনেক সময় দেখা যায় বাইরে আবহাওয়া আদ্র থাকলে বাসার মেঝেও ভেজাভেজা ও স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে থাকে। অনেকদিন এ অবস্থায় থাকলে কাঠের আসবাবের ক্ষতি হতে বেশি সময় লাগে না। তাই বাসার মেঝে, অভ্যন্তরীণভাবে শুকিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। ভেজাভাব শুকিয়ে ফেলার জন্য শুকনা কাপড় দিয়ে মেঝে মুছে নিন এবং পাখা চালু করে রাখুন এতে মেঝে দ্রুত শুকিয়ে যাবে।এই বর্ষাকালে উপরোক্ত টিপস মনে রাখুন এবং আপনার শখের কাঠের  আসবাবপত্রগুলোকে নতুনের মতো ভালো রাখুন বহুদিন।

টিপস অ্যান্ড ট্রিকস ছোট বাসা সাজানোর!


ছোট বাসা কিভাবে রঙ করবেন সাজাবেন সেটা নিয়ে প্রচুর চিন্তা ভাবনা অনেকেই নিশ্চয়ই ভাবেন? নেক্সট কয়েকটা লেখায় একটুখানি জায়গায় কিভাবে জিনিসপত্র গোছগাছ করে রাখা যায় কিভাবে রঙ করলে ভালো হয়, কি আসবাব ব্যবহার করা বেটার সেসব নিয়েই খুব সংক্ষেপে কিছু টিপস দেব।


আসুন আজ বাসার রং নিয়ে আলোচনা করি

অনেক বড় একটা ব্যাপার। ইনটেরিওর সম্পর্কে অজ্ঞ বাড়িওয়ালা না ভাড়াটে দুই মিলে এক বিশাল ভজঘট তৈরির জন্য যথেষ্ট! জীবনে যে কত বাসা দেখলাম যেখানে মাত্র ৮০০ স্কয়ারফিটের ১ রুম, ড্রয়িং ডাইনিং-এ কড়া নীল বা পার্পল অথবা সবচেয়ে বাজে সি গ্রিন দিয়ে সব দেয়াল ভর্তি করে ফেলা হয়েছে! কখনও বাড়িওয়ালা শখ করে এসব করে! আবার কখনও ভাড়াতেই করে! কিন্তু রেজাল্ট একই, শেষমেষ সেই বাসায় ফার্নিচার চলে এলে এমন গুমোট অন্ধকার আর দম আটকানো ভাব হয় যে পালিয়ে যেতে ইচ্ছা করে!মনে রাখুন-

আপনার বাসা ৬০০-২০০০ স্কয়ার ফিটের ভেতরে হলে আপনার জন্য যেকোনো ধরনের গাঢ় রঙ নিষিদ্ধ! গাঢ় রঙ কোনগুলো?

এই টেবিলের প্রথম তিন রো বাদে বাকি সবগুলো… ওকে? এসব রঙ নিজের বাড়ির দেয়ালে লাগাবেন না। এসব চার দেয়ালে লাগিয়ে রাখার রঙ নয়। আর বাসা ভাড়া নিতে গেলেও এই চার্ট মাথায় রাখবেন। এই সব রঙ দেয়ালে আছে দেখলেই দৌড় দিয়ে বের হয়ে আসুন। ফার্নিচার বসানোর পর এই রঙের জ্বালায় যেই বাসা দেখে- ‘ওয়াও! বেশ ভালো বড় বাসা তো!’-  বলে আটখানা হয়েছিলেন, সেই বাসাতেই দম আটকে যাবে।


কি রঙ করলে বাসা বড় লাগবে?

অনেকেই জানেন না, বাসার রঙ পুরোটাই ডিপেনড করে আপনার আসবাবপত্রের রঙের উপর। তাই চিন্তা করুণ আপনার আসবাব কি ‘ওয়ার্ম টোন-এর’ নাকি ‘কুল টোন-এর’ ?

বুঝতে পারলেন না? আসবাবের রঙ কি কাঠের রঙের বিভিন্ন শেড? যেমন-

এই সব রঙগুলোর ভেতরে? তাহলে আপনার আসবাব ওয়ার্ম টোন-এর। আবার যদি আপনার বাসায় কালার করা আসবাব থাকে যেমন- গ্রে, লাইট ব্লু, স্টিল বা মেটাল ফিনিশ, তাহলে সেগুলো কুল টোন-এর আসবাব হবে। আমাদের দেশে সবাই মোটামুটি কাঠের ফার্নিচার-ই কেনে, সেদিক থেকে দেয়ালের রঙ অবশ্যই ওয়ার্ম টোন-এর ভেতরে হতে হবে। যদি দেয়াল আর ফার্নিচার-এর টোন না মেলে ঝামেলাটা তখনি শুরু হয়।


এখন একটা প্রশ্ন-

ধরুন একটা বাসায় সব রুমে লাইট ব্লু বা লাইট পিঙ্ক রঙ করা। দেখে আপনার খুব ভালো লাগলো। নিয়ে নিলেন বাসাটা। মনের মাধুরী মিশিয়ে দামি দামি ফার্নিচার পছন্দ করে কিনে বাসায় সাজালেন। কিন্তু? ফার্নিচার গুলো বাসায় আনার পর দেখতে আর শো রুমের মত ভালো লাগে না। মনে হয় বাসাটা ছোট হয়ে গেল। শখের ডাইনিং টেবিল এমন গাবদা লাগছে কেন? ভাবলেই মন খারাপ হয়… প্রবলেম-টা কোথায় হয়েছে? বুঝতে পারছেন?


জী, রঙ আর ফার্নিচারের টোন-এ ক্ল্যাশ হয়েছে। ব্লু (মানে কুল টোন) এর রুম আপনি দামি হলদে মেহেগনী কাঠের লাখ টাকার ওয়ার্ম টোন ফার্নিচার দিয়ে ভরেছেন। এমন ক্ষেত্রে ২০০০ স্কয়ার ফিটের বাসাতেও গুমোট লাগা অস্বাভাবিক নয়।


ফার্নিচারের সাথে দেয়ালের রঙের মিল

তাই সব সময় ঘর সাজানোর মেইন দুই এলিমেন্ট- দেয়ালের রঙ আর ফার্নিচার বাছাই করার সময় একটু চোখ কান খোলা রাখবেন। ক্রিম কালার-এর ঝলমলে শোরুম-এ রাজসিক ডাইনিং টেবিল দেখে প্রেমে পড়ে গেলেন, সেটা এনে তুললেন নিজের পিঙ্ক দেয়ালের বাসায়! বিশাল বোকামি!

ঘরে রঙ করার জন্য আরেকটু ডিটেইল কুল, ওয়ার্ম চার্ট দেখে নিতে পারেন।

গ্রিন আউটলাইনের ভেতরের কালার-গুলো হচ্ছে সবচেয়ে নিউট্রাল… ভাড়া বাসায় (অর্থাৎ যেখানে দেয়ালের রঙ চেঞ্জ করে ফেলার ক্ষমতা আপনার নেই) সেখানে এই সব রঙগুলো করাটাই বেস্ট। এতে আমাদের দেশের কাঠের ফার্নিচার-এর সাথে রঙ সহজে ম্যাচ করে।

আরেকটা কথা, ছাদের রঙের কথা ভুলে যাবেন না যেন! অনেক সময় ছাদে গাঢ় রঙ করার ফলে রুমের হাইট কমে গেছে বলে চোখে ধরা পড়ে। এই ভুলের জন্য একটা ১০ ফিট হাইট-এর রুম দেখে মনে হয় ৭ ফিট-এর ঘুপচি। দেয়ালের রঙের একটু ডার্ক শেড ছাদের জন্য ইউজ করতে পারেন। যেমন দেয়াল সাদা হলে ছাদ ক্রিম হতে পারে বা দেয়াল বেইজ হলে ছাদ তার থেকে ২ শেড ডার্ক বেইজ হতে পারে। কিন্তু দেয়াল ক্রিম আর ছাদ গাঢ় নীল যেন  না হয়! এক্ষেত্রে দুটো প্রবলেম হবে, এক, ছাদ অতিরিক্ত ডার্ক , দুই, ছাদ কুল টোন আর দেয়াল ওয়ার্ম টোন হয়ে যাবে। মানে ক্ল্যাশ করবে। দুই মিলিয়ে রুমটা হবে দম আটকানো!

কিন্তু, আমার ভাড়া বাসায় তো রঙ নিয়ে কোনও এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগই নেই!

খুবি বিরক্তিকর অবস্থা, তাই না? চাইলেও কিছু করা যায় না। বাসার বর্তমান রঙ একেবারেই ভালো না লাগলে বা ফার্নিচার-এর সাথে ক্ল্যাশ করার কারণে রঙ বদলাতে চাইলে এর বদলে আপনি যা যা করতে পারেন-

ওয়ালপেপার ইউজ করতে পারেন। প্রতিটা ওয়ালের কার্পেটিং এরিয়ার স্কয়ার ফিট হিসেব করে সাধারনত ওয়ালপেপার লাগানো হয়। এক্সিসটিং প্লাস্টার-এর উপরে প্রাইমার ইউজ করে পেস্ট করা হয়। এতে ঘরের প্লাস্টার-এর ক্ষতি হয় না। বনানী, এলিফ্যান্ট রোড- এসব এলাকায় ইনটেরিওর শপ-গুলোতে বিভিন্ন ধরনের ওয়ালপেপার পাবেন। স্যাম্পল দেখে রুমের কালার-এর সাথে মিলিয়ে কিনতে পারেন। 

যেকোনো রুমের যে ওয়ালটা আপনি ফোকাস করতে চান সেটায় ওয়ালপেপার লাগালে ভালো লাগবে। সব ওয়ালেই আবার জবরজং ওয়ালপেপার লাগাবেন না যেন!

রুমের যেকোনো একটি ফোকাস ওয়ালে সিম্পল হোয়াইট ফ্রেমের কয়েকটা বড় বড় ছবি ইউজ করতে পারেন। ডার্ক মন খারাপ করা রঙের ঘরে লাইট সিম্পল ফ্রেমে বাঁধানো লাইট কালার প্যালেট-এর আর্টওয়ার্ক রুম-এর আলো আর সাইজ বেড়ে গেছে এমন ইলিউশন ক্রিয়েট করে। একইভাবে, জবরজং ক্যামেরায় তোলা ছবি বিশাল প্রিন্ট করে ঘরে ঝুলাবেন না। নিজের বা পরিবারের ছবির কালার প্রিন্ট-গুলো ডেস্কটপ-এই রাখুন। দেয়ালে নয়।

একইভাবে বোরিং ক্রিম বা বেইজ বাসায় রঙের ছোঁয়া আনতে অনেক অনেক খরচ করে দেয়ালে রঙ না করে কালারফুল আর্ট ইউজ করুন। 

রুচি আর বুদ্ধির পরিচয় একইসাথে প্রকাশ পাবে। অবশ্যই বুদ্ধি করে ফোকাস এই আর্ট ওয়ার্ক-এর সাথে ম্যাচ করে এমন কয়েকটা কুশন-এর ইনটেলিজেন্ট ইউজ করাটা রুমের চেহারা মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে।

 দেয়াল থেকে পর্দা ঝুলাতে পারেন। সেটা অবশ্যই লাইট অ্যান্ড এক কালার-এর হতে হবে। অনেকেই এর-ওর বাসায় প্রিন্টের পর্দা দেখে সেরকম একটা কিছু কিনে নিজের ১০ ফিট-এর রুমে ঝুলান। তাও আবার জাস্ট জানালার উপর থেকে! এতে কি হয়? রুমের হাইট কম মনে হয়। ছোট ঘরে পর্দা অবশ্যই ছাদ বা ছাদের ৬ ইঞ্চি নীচ থেকে মেঝে পর্যন্ত ঝুলাতে হবে। এতে রুমের পুরো হাইট বোঝা যায়।

 ডার্ক পেইন্ট করা রুম-এর এক ওয়াল-এর এ মাথা থেকে ও মাথা লাইট এক কালার-এর পর্দার ব্যবহার রুমের টোন লাইট করে খোলা মেলা ভাব আনতে পারে। এমন কোনও গুমোট রুম থাকলে এই উপায় ট্রাই করতে পারেন।

যেকোনো রুম-এ বড় ফ্লোর টু সিলিং আয়না ইউজ করতে পারেন। অবশ্যই ফ্রেম-টা হবে একেবারেই সিম্পল অ্যান্ড লাইট টোন-এর। আয়নার ব্যবহারেও রুমের সাইজ অনেকটাই বড় লাগে।

এই টিপস-গুলো নতুন বাসায় বুদ্ধি খাটিয়ে ইউজ করলে যেকোনো ছোট স্পেস-কে নিজের মনের মত সাজিয়ে নেয়া সম্ভব। আর দুটো থাম্ব রুল মনে রাখবেন-

ছোট খাট এটা সেটা দোকানে দেখে ভালো লেগেছে বলেই বাসায় ভালো লাগবে এটা ভুল। তাই ছোট ছোট জিনিসপত্র দিয়ে অজথা বাসা ভর্তি করবেন না।

কালার প্যালেট মাথায় রাখবেন, ছোট একটা সল্ট শেকার কিনলেও সেটা যেন রুম-এর থিম-এর সাথে ম্যাচ করে সেটা সবসময় মাথায় রাখবেন। মেইন কালার প্যালেট অবশ্যই মেইনটেইন করতে হবে।

কিভাবে সাজাবেন ভাড়া বাসা?


ভাড়াটের পেইন শুধু ভাড়াটেই জানে, এইটা ধরবেন না, ওইটা ছোঁবেন না, পেরেক ঠুকবেন না, রঙ যেন নষ্ট না হয়! পানি গ্যাসের হাজার সমস্যা, বাড়িওয়ালার উদ্ভট আবদার আর বছর বছর ভাড়া বাড়ার যন্ত্রণায় ওই বাসা সাজানোর ইচ্ছা যেটুকু থাকে তা কখন উবে যায়! টেরও পাওয়া যায় না! ‘রাখতেও পারি না, ফেলতেও পারি না’ বাসা, কিন্তু তাই বলে কি সেখানে একটু রুচিশীল ভাবে থাকবেন না? ভাড়া হোক আর যাই হোক, আপনারই তো ঘর !

ভাড়া বাসা সাজানোর কিছু ইজি টিপস নিয়ে তাই আজকের লেখা।

অবশ্যই বাড়িওয়ালার সাথে ভালো সম্পর্ক রাখবেন এবং বাসার রঙ বা দেয়াল নিয়ে কিছু করতে চাইলে জানাবেন!

জানি সব মানুষ সমান নয়! কিন্তু না জানিয়ে ছোট একটা পেরেক পোঁতার জন্যও এতো টাকা ভাড়া গোনার পড় খোঁচা মারা কথা শুনতে কি ভালো লাগে? তাই বাড়িওয়ালা যদি রঙ, পেরেক এসব নিয়ে ক্লিয়ারলি আপনাকে রুলস রেগুলেশন ভাড়া নেয়ার সময় জানিয়ে না দেয় তাহলে নিজে থেকে এগিয়ে সব রুলস জেনে নেবেন। নিজে থেকে এগিয়ে গিয়ে নিজের প্রয়োজন নিয়ে আলোচনা করবেন। নিউট্রাল ওয়াল পেইন্ট, লাইট শেড এসব আছে কিনা সেটা দেখে নেয়াটা জরুরী, ভাড়া ছোট বাসার রঙ নিয়ে আগের লেখায় কথা বলেছি, সেটা দেখে নিতে পারেন।


‘লাইটিং’ আপনার প্রবলেম ৫০% সল্ভ করে ফেলবে!

বাসা ভর্তি রুচিহীন টিউবলাইট? হোয়াইট লাইট থাকলে সেই আলোতে কোন ওয়ার্ম টোন বা ফার্নিচার ভালো লাগে না। তাই কে আপনার হাত বেঁধে রেখে বলছে এই টিউব লাইটই জ্বালাতে হবে? বিভিন্ন ধরনের ল্যাম্প শেড কিনুন (অবশ্যই বাসার থিমের সাথে মিলিয়ে) , ফ্লোর মাউনটেড ল্যাম্প, টেবিল ল্যাম্পের হাজার ধরনের প্রোডাক্ট যেকোনো ডেকোরেশন শপে পাবেন। ঘরে আনুন রুচিশীল কিছু ফেয়ারি লাইট! খুবি কম দামে কয়েক ছড়া ফেয়ারি লাইট মুহূর্তে ঘরের ভাইব চেঞ্জ করে ফেলবে। বেডরুমগুলোয় টিউব লাইট না জ্বালিয়ে লো ওয়াটের ওয়ার্ম লাইট বাল্ব কিনে সেগুলো ইউজ করুন। ঘুম ভালো হবে, রিলাক্স থাকবেন আর ঘরটাকেও ঘর মনে হবে।


একগাদা ফার্নিচার কিনে ঘর ভরবেন না!

ফার্নিচার কেনার সময় অনেকেরই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করার সময় হয় না, তাই ৯০% ক্ষেত্রে খুব শখের ফার্নিচার এক বাসার জন্য লাখ টাকা দিয়ে কেনা হয়, তারপর নেক্সট বছর বাসা চেঞ্জ করলে নতুন বাসায় ওই ফার্নিচারই গাবদা হয়ে থাকে, শখের ডাইনিং টেবিল নতুন বাসায় বসানোর পড় সেটার পাশ দিয়ে হাঁটার জায়গাও থাকছে না এমন হরহামেশা দেখা যায়। সুতরাং, স্মার্ট হন, ভাড়া বাসাতেই নেক্সট ১০ বছর যদি থাকতে হয় তাহলে বাসায় ৮ ফিট উঁচু উঁচু আলমারি, ১০-১২ জনের ডাইনিং টেবিল কিনে বসে থাকবেন না! এসব টেনে টুনে নতুন বাসায় তোলা কষ্ট, বাসা চেঞ্জ-এর সময় এতো দামি জিনিসের ক্ষতি হয়ে গেলে সেটাও কষ্ট, আর সেই বাসায় আপনার গাবদা কাঠের টেবিল, আলমারি স্যুট না করলে যে কেমন লাগবে সেটা তো বাদই দিলাম। সেকেন্ড হ্যান্ড ফার্নিচার বিক্রি করার হ্যাসল-এ যেতে চান এমন কজন আছেন, তাই অযথা এটা সেটা বানিয়ে ঘর ভরলেই যে ঘর সুন্দর দেখাবে তা নয়! চিন্তা ভাবনা করে যতটুকু দরকার ততটুকুই বানাবেন! নিউট্রাল ইউনিক কিছু পিস বানিয়ে সেটাকে সেন্টার করে বাসার থিম ঠিক করবেন। বাদবাকি ছোট খাটো জিনিস ভিনিয়ার-এর রেডিমেড বাজেট অপশন দিয়ে ফিল করবেন।


বাসার ফ্লোর কেমন? খেয়াল করেছেন?

একবার এক ভাড়া বাসায় দেখেছিলাম কড়া হলদে মার্বেল টেক্সচার-এর টাইলস! খুব শখ করে বাড়িওয়ালা এই ইউনিক (!) শেডের টাইলস লাগিয়েছেন! এমন অদ্ভুত শেডের ফ্লোরিং থাকলেও একই প্রবলেম-এ আপনি পড়বেন, ওই বাসায় আপনার অলরেডি কেনা রেগুলার ফার্নিচার কিছুই হয়তো স্যুট করবে না! এক্ষেত্রে ফ্লোর থিম খুব ইজিলি চেঞ্জ করতে পারেন! যাদের বাজেট একটু বেশি তারা রেক্সিন ধরনের ফ্লোর কাভার পুরো বাসায় বা ১-২টা রুমে ইউজ করতে পারেন। কিন্তু ভুলেও ভারী পশমি কার্পেট ফেলবেন না যেন! মোটামুটি কারোরই ভ্যাকুম ক্লিনার থাকে না বলে কার্পেট রেগুলার ক্লিন না করায় বাসায় সবার শ্বাসকষ্ট হতে পারে! বাচ্চাদের তো অসম্ভব কষ্ট হয়! বাজেট কম থাকলে রুমে নিউট্রাল ছোট ছোট শতরঞ্চি বা রাগ ফেলে দিতে পারেন। আবার একটু দেশি থিমে ঘর সাজানোর আইডিয়া নিয়ে এগোলে চমৎকার পাটি, শীতল পাটি কালেক্ট করেও ঘরের আবহাওয়া চেঞ্জ করে ফেলতে পারেন! আরামও হবে, পরিস্কার রাখাটাও ইজি হবে। 

নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, চেয়ারম্যান বাড়ি- এসব এলাকায় বিভিন্ন বাজেটের রাগ, পাটি, শতরঞ্চি পাওয়া যায়। অপশনের কিন্তু অভাব নেই!!


পর্দায় বৈচিত্র্য আনুন!

পর্দা ছোট বাসায় কিভাবে লাগাতে হয় সেটাও আগের লেখায় টাচ করেছি। কিন্তু অভাবে সোজা সোজা পর্দা সব রুমে রাখা একটু বোরিং। ডাইনিং-ড্রয়িং স্পেস-এ পর্দায় বৈচিত্র্য আনতে পারেন খুব ইজি এক্সেসরিজ ইউজ করেই! হাতের কাছে কিছু এক্সট্রা ড্রেপ, এক্সট্রা কারটেইন হোল্ডার রাখুন। বিভিন্ন অকেশন-এ একটু ডিফারেন্ট এক্সেসরি আপনার ঘরের চেহারা সূক্ষ্মভাবে চেঞ্জ করে দেবে।


বিভিন্ন ধরনের কারটেইন হোল্ডার!

হোয়াইট পর্দার উপরে আলাদা ড্রেপ…  রুমের কালার থিম চেঞ্জ করতে জাস্ট পর্দার ড্রেপ চেঞ্জ করাটাই যথেষ্ট!


সফট ফারনিশিং-এর কথা ভুলে গেলে চলবে না!

বেসিকালি সফট ফারনিশিং বলতে বেড কাভার, কুশন, টেবিল রানার এসবের কথা বোঝাচ্ছি। বাসা বোরিং একঘেয়ে হয়ে গেছে? তাই হুট করে ফার্নিচার কিনে ফেলার আগে অবহেলায় থাকা সফট ফারনিশিং-এর দিকে তাকান। যেখানে একটু ইউনিক কুশন বা থ্রো রাগ দিয়ে ড্রয়িং রুম-এর চেহারা পালটে দেয়া যায় সেখানে বোকা না হলে কেউ নতুন সোফা সেট কিনতে দৌড়ায়? কালেকশনে রাখুন রকমারি টেবিল রানার, কুশন, থ্রো রাগ। ডিফারেন্ট অকেশন-এ থিম সেট করে এসব বদলে ফেলুন। এক ঘেয়েমি মুহূর্তে পালাবে!খুব শীঘ্রই লাইটিং, সফট ফারনিশিং এসব সেপারেট টপিক-এ ডিটেইল-এ লিখবো, যারা এসব ডেকোরেশন অপশনের সাথে পরিচিত নন তাদের হেল্প হবে। আশা করি আজ নতুন কিছু আইডিয়া দিতে পারলাম। প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

৩টি টিপস সফট ফারনিশিং | ভাড়া বাসা সাজানোর ঝক্কি সামলাতে!


চেঞ্জ না এনেও শুধুমাত্র সফট ফারনিশিং ও এর কিছু স্টাইলের মাধ্যমে কিভাবে ঘরের লুকে রুচিশীল একটা পরিবর্তন আনা যায়। কিন্তু জানি অনেকেই কনফিউজড হয়ে গেছেন অলরেডি। তাই সফট ফারনিশিং কী সেটা আগে একটু জেনে আসি কেমন?


সফট ফারনিশিং কী?

সোজা কথায়, সফট ম্যাটেরিয়ালে তৈরি ইনটেরিওর ডেকোরেশনের আইটেম, তা যাই হোক না কেন, সবই সফট ফারনিশিং। এর ভেতরে কি কি পড়ে?? ম্যাট্রেস, বেড কভার, পিল কভার, কুশন, সোফা কভার, জানালার পর্দা, টেবিল রানার, থ্রো রাগ, ফ্লোর রাগ, কার্পেট সবই।বলা হয়, সফট ফারনিশিং-ই ঘরকে ঘর বানায়!

অফিস থেকে সন্ধায় ক্লান্ত হয়ে ফিরে কি করেন? দামি ডাইনিং টেবিলে গ্যাঁট হয়ে বসে থাকেন? নাকি সোফায় কুশনে হেলান দেন??

রাতে আরাম করে হাত পা ছড়িয়ে কোথায় ঘুমান? লাখ টাকার সেগুনের আলমারিতে? নাকি নরম ম্যাট্রেসে? সফট কাঁথা মুড়ি দিয়ে? বেড যত দামিই কিনুন না কেন? আরাম কিন্তু আসে সফট ফারনিশিং থেকেই… এমনকি বেড, সোফা সেট ছাড়া মেঝেতেও সুন্দর রাগ, শতরঞ্চি, তোশক কাভার ফেলে খুব আরামে জীবন কাটিয়ে দেয়া যায়!!


ঘরের জন্য কাঠের ফার্নিচারের চেয়ে সফট ফারনিশিং-টাই কিন্তু তাই বেশি ইম্পরট্যান্ট!


কেন সফট ফারনিশিং নিয়ে একটু ক্রিয়েটিভ হব?

পুরনো ফার্নিচারে নতুন লুক দিতে চাইলে

ঘরের মুড চেঞ্জ করতে চাইলে

অকেশন বা গেস্টের জন্য স্পেশাল কিছু করতে চাইলে

কম বাজেটে ম্যাক্সিমাম ডেকোরেশন করার ইচ্ছা থাকলে

স্টাইলিং-এর সময় কী মাথায় রাখবেন?

১. কুশন

কুশন এমন ভার্সেটাইল একটা জিনিস যে এটা মেঝে, সোফা, বেড যেখানেই রাখবেন ভালো লাগবে। কিন্তু  কুশন-এর ডিজাইন ঘরের থিমের সাথে যাচ্ছে কিনা মাথায় রাখতে হবে। মডার্ন মনোক্রোম থিম-এ সাজানো ঘরে ধুম করে আড়ং-এর কাঁথা স্টিচ-এর কুশন কাভার যেমন বসবে না তেমনি ট্র্যাডিশনাল টোন-এ সাজানো ঘরে ‘ বি এ রেবেল’ প্রিন্ট করা পপ আর্ট-এর কুশন ঢোকানো যাবে না… থিম ধরে রাখবেন।

বেডের মাথার দিকে দুই সাইজের কুশন (বড় এবং ছোট) লেয়ার করে রাখতে পারেন, ড্রয়িং রুমের কোনায় ছোট একটা শতরঞ্চি ফেলে তার উপর বাছা বাছা ডিজাইনের দুটো কুশন ফেলে দিতে পারেন কোন অকেশন-এ। ঘর কমফোর্টেবল আর ইনভাইটিং করার জন্য কুশন-এর ইউজ যেকোনোভাবে করবেন, দেখবেন ভারী কিং সাইজ বেড বা ডিভান, সোফা, চেয়ার এসব না কিনেও আপনার ঘরে আরাম করে বসা, হেলান দিয়ে শুয়ে থাকার জায়গার অভাব হবে না।


২. বেড কভার

আপনিও কি সেই দলের লোক যারা বাণিজ্য মেলায় গিয়ে বছরে একবার বিশাল বিশাল ফুল আঁকা বেড কাভার কিনে নিয়ে আসেন?? আর উৎসবের ঘর সাজানোর সময় সেই গাবদা শিট বেড-এ বিছিয়ে ভাবেন– কেন আমার বাসাটা দেখতে একটু মডার্ন না??বেড কাভার চুজ করার সময় ফুল-ফল-লতা-পাতা এড়িয়ে যান। এটা শাড়ি পাঞ্জাবি না যে যত ডিজাইন যত সেলাই তত ভালো দেখাবে। 

সেলাই করা বেড শিটে আরাম করে বসা বা ঘুমানো অসম্ভব! একটা কিম্ভূতকিমাকার বেড শিট বিছিয়ে নিজের দামি ফার্নিচার-এর সৌন্দর্যও নষ্ট করবেন না প্লিজ!

মনোক্রম (এক রঙের বিভিন্ন শেড টোন)-এ ঘর সাজানোর ট্রাই করুন। বেড শিট আর কাঁথা ব্ল্যাঙ্কেট একরকম রঙের শেড-এ বাছুন। ঘরের সাথেও যাবে, ফার্নিচার-এর দিকেও চোখটা যাবে, আর ওভারঅল আরামদায়কও হবে।


 ৩. রাগ/ফ্লোর কাভার

ভাড়া বাসায় চৌধুরী বাড়ি স্টাইল-এ ইরানি/ফেক ইরানি ডিজাইন করা কার্পেট দিয়ে রুমটার দম বন্ধ করার কথা ভুলেও ভাববেন না যেন!! 

এর চেয়ে ঘরে নিয়ে আসুন একরঙা ছোট ছোট রাগ, টেবিলের নিচে দিন। বা ছোট থ্রো রাগ সোফায় ফেলে রাখুন। আজকাল নকল ফার-এর থ্রো রাগ বেশ চলছে। ইজিলি এসব ছোট রাগ এদিক ওদিক সরানো যায়, চেঞ্জ করা যায়। কি দরকার এক কাঁড়ি টাকা দিয়ে জগদ্দল পাথরের মতো একটা কার্পেট কেনার??


সফট ফারনিশিং নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই জানাবেন। ফিউচার-এ খুব বাজেট-এ সফট ফারনিশিং দিয়ে ইনটেরিওর ডেকোরেশন নিয়ে আলাপ করবো। তাই সে সম্পর্কে প্রশ্ন থাকলেও আমাদের কমেন্টে জানাতে পারেন।

মুক্তি পান নিমিষেই ব্রণের ভোগান্তি থেকে!


পিম্পল, অ্যাকনে বা ব্রণ, র‍্যাশ এগুলো কমন স্কিন প্রবলেম যাতে সব বয়সী ছেলেমেয়েরা কম বেশি ভুগে থাকে। কিন্তু আমরা কি জানি যে বয়স অনুযায়ী স্কিনকেয়ার টেকনিক ও স্টেপস কিন্তু আলাদা হয়ে থাকে? একটা টিনেজ মেয়ের যখন মুখে ব্রণ উঠছে, সেটার কারন ও যত্ন নেয়ার ধরন কিন্তু মধ্যবয়সী নারীর থেকে আলাদা হবে। ব্রণ দূর করতে আমরা কতরকম ক্রিম, মেডিকেটেড ফেইস ওয়াশ, ঘরোয়া ফেইসপ্যাক ব্যবহার করে থাকি। কাউকে হুট করে কোনো ট্রিটমেন্ট বা টোটকা বলার আগে তার এই স্কিন প্রবলেম কেন হচ্ছে, বয়স কেমন, কী কী প্রোডাক্ট দিয়ে ফেইসের যত্ন নেওয়া হয় এই বিষয়গুলো জানা ও বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্রণের ভোগান্তি থেকে বাঁচতে আর ব্রণ চিরতরে দূর করতে ইফেক্টিফ কোনো উপায় আছে কি আদৌ? চলুন আজ আমরা সেই ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নিবো।


ব্রণ কেন হয়?

আমাদের ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে সেবাম নামের একধরনের তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসৃত হয়, এটা ন্যাচারালি হয়ে থাকে। এই গ্রন্থি নালির মুখ কোনভাবে বন্ধ হয়ে গেলে সেবাম নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং তা জমে ফুলে ওঠে, তখন এটাকেই ব্রণ বলা হয়। জীবাণুর সংক্রমণ হলে এটা বেশ বড় হয়ে যায়, ভেতরে পুঁজজাতীয় জিনিস দেখা যায়, এটা থেকে ইচিনেস ও লালচে ভাব হতে পারে। প্রোপাইনি ব্যাকটেরিয়াম একনিস নামের একধরনের জীবাণু এর জন্য দায়ী হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। সাধারণত মুখের রোমকুপে ময়লা জমে, হজমের সমস্যা থেকে, ভুল স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টের রিএকশনে, বংশগতভাবে কিনবা হরমোনাল কারনে ব্রণ হয়ে থাকে। ফেইস ছাড়াও বুকে, পিঠে, উরুতে পিম্পল হতে পারে।


টিনেজে ব্রণ ওঠার কারনগুলো কী

ট্রপিক্যাল অ্যাকনে ও প্রিমেন্সট্রুয়াল অ্যাকনে কিশোর বয়সে বেশি হতে দেখা যায়। ট্রপিক্যাল অ্যাকনে আবহাওয়ার জন্য হয়ে থাকে, দূষণ আর অতিরিক্ত গরমের জন্য অনেকেই এই প্রবলেমটা ফেইস করেন। ১২-১৮ বছর বয়সে অর্থাৎ বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের হটাত বেড়ে যাওয়া ব্রণের অন্যতম প্রধান কারন, এটা ন্যাচারাল। এই বয়সে স্কিন কেয়ার সম্পর্কে খুব একটা ধারনা থাকে না। ত্বক ঠিকমতো ক্লিন না করলে ধুলোময়লা জমে সহজেই ব্রণ ওঠে।


টিনেজে ব্রণ দূরীকরণে কী করা যেতে পারে? 

১) বয়ঃসন্ধিকালে কোনরকম অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্স যেমন- কজিক এসিড, বেনজোন, নিয়াসিনামাইড ইত্যাদি স্কিন কেয়ার রুটিনে রাখা যাবে না। এই বয়সে সেরাম ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।


২) সিম্পল এবং বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন ফলো করবেন।


৩) অয়েল ক্লেনজার ও ফোম বেসজড জেন্টাল ফেইস ওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে ক্লিন করতে হবে।


৪) ফেইসে অ্যাকটিভ পিম্পল থাকলে স্ক্রাবিং করা যাবে না।


৫) রোজ ওয়াটার স্প্রে করে নিতে পারেন টোনার হিসাবে। এরপর ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে স্কিনের ধরন বুঝে। অয়েলি ক্রিম এড়িয়ে চলে লাইট, জেল টাইপের ফর্মুলার ময়েশ্চারাইজার সিলেক্ট করলে সেটা পিম্পলপ্রবণ স্কিনের জন্য ভালো।


৬) বাইরে যাওয়ার আগে সান প্রোটেকশন মাস্ট, এস পি এফ ৫০ যুক্ত সানস্ক্রিন ইউজ করা যাবে। বাসায় ফিরে স্কিন ভালোভাবে ডাবল ক্লেনজিং করে নিতে হবে। তা না হলে পোর ক্লগড হয়ে স্কিনে আরও বেশি ব্রণের ভোগান্তি দেখা দেবে। অপরিস্কার স্কিন নিয়ে কিন্তু ঘুমিয়ে পরা যাবে না!

টিনেজে হরমোনাল কারনে ব্রণ হলে সেটা সময়ের সাথে সাথে চলে যাবে, তাই চিন্তার কোনো কারন নেই! প্রচুর পানি পান করবেন, ব্রণ খোঁটাখুঁটি করা একদমই নিষেধ। তেল জাতীয় খাবার একটু এড়িয়ে যাবেন, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করবেন, সময়মতো রেস্ট নিবেন। ১২-১৪ বছর পর্যন্ত বেবি প্রোডাক্ট ইউজ করা যেতে পারে।


তরুন বয়সে ব্রণের কারন 

১৮ বছরের পর থেকে স্বাভাবিকভাবে ব্রণের প্রকোপ অনেকটাই কমে যায়, কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে সেটা হয় না। অ্যাকনে কসমেটিকা মানে কোনো প্রসাধনী ট্রায়ালের কারনে এই ধরনের পিম্পল দেখা যায়। অ্যাকনে ডিটারজিনেকস মানে সোপজাতীয় জিনিস দিয়ে অতিরিক্ত মুখ ধোঁয়ার ফলে হয়ে থাকে। এই বয়সে মেয়েরা সাধারণত বান্ধবির থেকে শুনে হুটহাট স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট কিনে ইউজ করে ফেলে, সেটা স্যুট না করলে ব্রণ দেখা দিতে পারে। স্ট্রেস, পড়াশুনার প্রেশার, ঠিকমতো ত্বকের যত্ন না নেওয়া, রোদে ঘোরাঘুরি, পানি কম খাওয়া, হজমের সমস্যা, অতিরিক্ত তেলতেলে ত্বক ইত্যাদি কারনে এই বয়সে ব্রণ হতে পারে।


এই বয়সে ব্রণ দূরীকরণের উপায়গুলো কী কী? 

১) স্কিন কেয়ারে স্যালিসাইলিক এসিড ইনক্লুড করতে হবে। স্যালিসাইলিক এসিড হচ্ছে এক ধরণের বেটা হাইড্রক্সি এসিড যেটা স্কিনের ডিপে যেয়ে অতিরিক্ত সেবাম প্রোডাকশন কমিয়ে ফেলে, ফলে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমে আসে।


২) বেসিক স্কিন কেয়ার ঠিক রেখে সেরাম ইউজ করতে পারেন ২০ বছরের পর থেকে। সেরামের মাধ্যমে প্রবলেমটা পিন পয়েন্ট হয়ে খুব দ্রুত সল্ভ হয়ে যায়, দাগ থাকলে সেটাও কমে যায়, সেই সাথে স্কিন এক্সফোলিয়েট হয়। পিম্পল থাকলে ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ইউজ করা যায় না, মানে হার্শ স্ক্রাব দিয়ে ঘষাঘষি করা যাবে না!


৩) গ্রিন টি, টি ট্রি অয়েল, অ্যালোভেরা, শসার রস এই উপাদানগুলো পিম্পল কমানোর জন্য দারুন কাজ করে। ব্রণের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট কেনার সময় এই উপাদানগুলো আছে কি না সেটা দেখে নিতে পারেন।


৪) ক্লে জাতীয় মাস্কগুলো ব্রণ শুকানো ও দাগ কমাতে সরাসরি ভুমিকা রাখে। সপ্তাহে একদিন মুলতানি মাটি কিনবা হিলিং ক্লে দিয়ে প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করুন। ব্রণের উপর টি ট্রি অ্যাসেন্সিয়াল অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন, এতে উপকার পাবেন।


৫) কোনো রকম স্পাইস যেমন লবঙ্গ, রসুন এবং লেবুর রস ব্রণের উপর সরাসরি লাগাবেন না। এতে স্কিন সেল বার্ন হয়ে যেতে পারে।এই বয়সে এটা ওটা ট্রাই না করে সঠিকভাবে স্কিনের যত্ন নিবেন নিজের স্কিন টাইপ ও সমস্যা বুঝে। বেশি পরিমানে ব্রণ উঠলে বা না সারলে ডাক্তার দেখাতে ভুলবেন না, কেননা হরমোনাল কারনে ব্রণ হচ্ছে কি না সেটাও দেখে নিতে হবে। ঠিকমতো ঘুমাবেন, পানি পান করবেন, ত্বক পরিস্কার রাখবেন, স্কিন টাইপ অনুযায়ী প্রোডাক্ট সিলেক্ট করবেন, ব্যস!


প্রেগনেন্সি টাইমে ব্রণ হওয়ার কারন  

গর্ভকালীন সময়ে এন্ড্রোজেন নামক হরমোন বেড়ে যায় যেটা স্কিনের সেবাম প্রোডাকশন বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত তেলের সাথে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, বাইরের ধুলোময়লা জমে স্কিনের পোরস ক্লগড হয়ে যায়। এতে ব্রণের প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রেগনেন্সিতে অনেকের হজমের সমস্যা হয়, ঘুম ঠিকমতো হয় না, এসব কারনেও পরোক্ষভাবে পিম্পল হতে পারে।


এই সময়ে করনীয় কী?

১) অনেক অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্স প্লাসেন্টা দিয়ে সরাসরি পাস হয়ে বেবির ক্ষতি করতে পারে। তাই স্কিন কেয়ারের ব্যাপারে এই সময়ে সতর্ক থাকা উচিত। ব্রণ চিকিৎসাতে যেই উপাদানগুলো ব্যবহার করা হয়, সেগুলো বেশিরভাগই সেইফ না এই সময়ে। তাই জেনে, বুঝে, ডাক্তারের সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিবেন।


২) বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন ফলো করতে পারেন। মাইল্ড ফেইসওয়াস, মুলতানি মাটির প্যাক, রোজ ওয়াটার, স্কিন অনুযায়ী ভালো ময়েশ্চারাইজার ইউজ করবেন।


৩) সিলিকন ফ্রি, প্যারাবেন ফ্রি, ন্যাচারাল ইনগ্রেডিয়েন্সযুক্ত প্রোডাক্ট ইউজ করতে হবে। ফেইস ক্লিন রাখবেন, বেশি বেশি পানি খাবেন। ইনগ্রেডিয়েন্স লিস্ট দেখে প্রোডাক্ট কিনবেন। প্রেগনেন্সিতে যদি ব্রণের সমস্যা হয়, সেটা বেশিরভাগ সময়ে চলে যায় বেবি ডেলিভারির পর। তাই দুশ্চিন্তার কারন নেই!


মিডিল এজে বা মধ্যবয়স্কদের ব্রণের সমস্যা

হরমোনাল সমস্যা, ওভারিতে সিস্ট, পানি কম খাওয়া, আর্লি মেনোপোজ ইত্যাদি কারনে ৩৫-৪০ এর পরেও ব্রণের প্রকোপ হতে পারে। স্কিন আর হেয়ার অনেকটাই বংশগত। অনেকের দেখা যায় যে সারাবছরই পিম্পল হয়, বয়স হয়ে গেলেও সেটা কমে না। জেনেটিকাল ইস্যু তো এখানে রিলেটেড, কিন্তু তারপরও সঠিক নিয়মে স্কিনের যত্ন নিতে হবে, তাহলে অনেকটাই কন্ট্রোলে থাকবে।


এই বয়সে ব্রণ দূরীকরণে কী করা যেতে পারে?

১) ঠিকঠাক স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চলুন, স্কিনের টাইপ অনুযায়ী প্রোডাক্ট বেছে নিন। ক্লেনজিং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং, সেরাম, সানস্ক্রিন, ক্লে বেইসড মাস্ক এগুলো মাস্ট। স্যালিসাইলিক এসিডযুক্ত স্কিন কেয়ার রেঞ্জ আপনার জন্য বেস্ট হবে।


২) বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন, প্রয়োজনে তিনি হরমোনাল টেস্ট দিতে পারেন। সেই অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।


৩) ব্রণের জন্য বিশেষভাবে ফরমুলেটেড ক্লেনজার, জেল এগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো ট্রাই করতে পারেন। স্কিন কেয়ারে নতুন প্রোডাক্ট ট্রাই করার আগে প্যাচ টেস্ট করে নিবেন, এতে ব্রেকআউটের ভয় থাকে না।


এই তো জেনে নিলেন, বয়স অনুযায়ী স্কিন কেয়ার কিভাবে করলে ব্রণের ভোগান্তি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। ব্রণের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেয়ে ঝকঝকে সুন্দর স্কিন পেতে এইটুকু বেসিক সেলফ কেয়ার তো করা যেতেই পারে, তাই না? রাতারাতি ব্রণ কমানো সম্ভব না, কিন্ত সঠিক নিয়মে ত্বকের যত্ন নিলে খুব তাড়াতাড়ি আপনি এর সুফল পাবেন। নিজেকে ভালোবাসুন, সুন্দর ও সুস্থ থাকুন!

বিয়ের কেনাকাটা বাজেটের মধ্যেই


বর ও কনে উভয়ের বিয়ের পোশাক থাকে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। বর-কনে দুজনেই চায় এদিনে তাদের সুন্দর করে উপস্থাপন করতে। কারণ তাদের ঘিরেই তো সব আয়োজন। তাই বিয়ের পোশাক হওয়া চাই রুচিসম্মত ও ভিন্ন।


কনের পোশাক

সময়ের সাথে সাথে কনের বিয়ের পোশাকেও পরিবর্তন এসেছে। ঐতিহ্যবাহী শাড়ি থেকে এখন লেহেঙ্গা, গাউনও বেছে নেওয়া হচ্ছে বিয়ের পোশাক হিসেবে।

শাড়ির ক্ষেত্রে লাল, সোনালি, কমলা, গোলাপি, মেরুন এই রঙগুলোর উপস্থিতি বেশী দেখা যায়। তবে বৌ-ভাতে এগুলোর বেগুনি, মেজেন্টা, আকাশি এই রঙগুলোর প্রাধান্য বেশী দেখা যায়।বিয়ের শাড়ির ক্ষেত্রে বেনারসী, জর্জেট, সিল্ক, ভেলভেট, কাতান থাকে পছন্দের তালিকায়। বৌ-ভাতের ক্ষেত্রে একটু ট্রেন্ডি হালকা শাড়ির প্রাধান্য থাকে। পার্টি শাড়ি, সিল্ক, বুটিকের শাড়ি নেওয়া যেতে পারে।

বর্তমানে শাড়ির পাশাপাশি বিয়ের পোশাক হিসেবে লেহেঙ্গাও রয়েছে কনেদের পছন্দের তালিকায়। মটকা সিল্কের লেহেঙ্গা শাড়ি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। এতে লেহেঙ্গার সঙ্গে থাকে লম্বা হাতার ডিজাইনার ব্লাউজ। এছাড়া জর্জেট, নেটের লেহেঙ্গার ও চাহিদা রয়েছে।


কোথায় পাব?

মিরপুর বেনারসি পল্লীতে রয়েছে বিয়ের শাড়ির বিশাল সমাহার। ৫ হাজার থেকে ২ লাখ পর্যন্ত দামের শাড়ি পাবেন।

এছাড়া সকলের অতি পরিচিত নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, ধানমন্ডি হকার্সে ও পাবেন ৫ হাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামের শাড়ি। বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, বেইলী স্টার, টুইন টাওয়ার, মৌচাক, এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুলের মার্কেট গুলোতেও পেয়ে যাবেন বিয়ের শাড়ি। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ যেমন- আড়ং, লুবনান, বাংলার মেলা, ইনফিনিটি, রং, অঞ্জন’স, ক্রে-ক্র্যাফট প্রভৃতে শোরুম গুলোতেও পেয়ে যাবেন বিয়ের শাড়ি।

এই জায়গাগুলোতে আপনি পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের লেহেঙ্গাটিও। এছাড়া অনলাইন শপিং সাইট আজোকের ডিল, স্টাইল ওয়ার্ল্ড, ড্রেস হেভেন ইত্যাদি পেজেও লেহেঙ্গা দেখতে পারেন।


দরদাম

বেনারসির দাম পড়বে ৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার পর্যন্ত। জর্জেটের দাম পড়বে ৫ হাজার থেকে দেড় লাখ পর্যন্ত। ভেলভেটের দাম পড়বে ২০-৫০ হাজার টাকা। পার্টি শাড়ির দাম পড়বে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত।ব্রাইডাল লেহেঙ্গার দাম পড়বে ১৫ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ পর্যন্ত।


বরের পোশাক

বিয়েতে কনের সাজ পোশাকের চেয়ে বরের সাজ পোশাকের গুরুত্ব কোন অংশেই কম নয়। বরের বিয়ের পোশাকের মধ্যে রয়েছে শেরওয়ানি, পাজামা, ওড়না, পাগড়ি, নাগরা। বিয়ের পোশাক হিসেবে শেরওয়ানির জুড়ি নেই। লাল, গোল্ডেন, মেরুন এই রঙের শেরওয়ানির বেশী প্রাধান্য থাকলেও বর্তমানে এগুলোর পাশাপাশি বেগুনি, সবুজ, নীল, কফি, আকাশি এই রঙের শেরওয়ানির চাহিদা বাড়ছে। এসব শেরওয়ানিতে থাকে নানান জরি,পাথর, সুতার কাজ। এর সঙ্গে রয়েছে পাগড়ি। কাতান, জামদানি কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় পাগড়ি। পাগড়ির মাথায় পালক ও পাথর বসিয়ে বিভিন্ন ডিজাইন করা হয়। শেরওয়ানির সাথে মিলিয়ে কেনা হয় পাগড়ি। এর সাথে মিলিয়ে কেনা হয় ওড়না। রেশমি কাপড়ের উপর পাথর, জরির কাজ থাকে ওড়নায়। বরের নাগড়া জুতায় ও ব্যবহার করা হয় জামদানি, কাতান কাপড়ের উপর নানা পুঁতি আর পাথরের কাজ।


দরদাম

শেরওয়ানির দাম পড়বে ১২ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। পাগড়ি ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকা। ওড়না পাবেন ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়। আর নাগড়ার দাম পড়বে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা।

ভ্যানিশ করা কি নিমিষেই সম্ভব ওপেন পোরস?


সাজগোজের ইনবক্সে অনেকেই জানতে চান পোরসের সমস্যার সমাধান কিভাবে হবে আর কী কী প্রোডাক্ট ইউজ করলে দ্রুতই এই প্রবলেমটা কমে আসবে। মুখের ত্বকের ওপেন পোরস নিয়ে অনেকেই চিন্তিত, এটা বেশ বিব্রতকর ও কমন একটি স্কিন কনসার্ন। আসলে আমাদের স্কিনে পোর জিনিসটার কাজ কী, পোরস বড় হয়ে যাওয়ার কারনগুলো কী, এটা কি আদৌ একেবারে কমানো সম্ভব, কিভাবে পোরস ক্লিন রাখতে হয় বা মিনিমাইজ করা যায়, এ বিষয়গুলো সম্পর্কে কতটুকু জানা আছে? সমস্যার সমাধান পেতে হলে অবশ্যই আগে একটু গভীরভাবে এই বিষয়ে জানা প্রয়োজন। এছাড়া আমরা জানি যে, বয়স অনুযায়ী স্কিনকেয়ার রুটিন আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। কিভাবে ত্বকের যত্ন নিলে ওপেন পোরস ভ্যানিশ হয়ে যাবে, সেটাই আজ আমরা জানবো।


পোরস কী এবং এটার কাজ কী?

পোর মানে রোমকুপ, এটা জন্মগতভাবে সব মানুষেরই থাকে। বয়সের সাথে সাথে এবং অন্যান্য কারনে এটা যখন মুখে, বিশেষ করে নাকের চারপাশে ও গালে ভিজিবল হতে শুরু করে, তখনই আমরা বলি যে পোরস বড় হয়ে গেছে বা ওপেন পোরসের প্রবলেম হয়েছে! আমাদের মুখের স্কিনে কমবেশি প্রায় ২০ হাজার রোমকুপ আছে, আর সারা শরীরে তো আছেই, এটা ন্যাচারাল। কিন্তু মুখে যখনই কয়েকটা বড় বড় খোলা রোমকূপ দেখি, তখনই আমাদের চিন্তা শুরু হয়ে যায়! আচ্ছা, জানেন কি এই রোমকুপ বা পোরের কাজ কী? চলুন একনজরে সেগুলো দেখে নিই।


১) রোমকুপের প্রধান কাজ হলো আমাদের শরীর থেকে ঘাম বের করে দেওয়া


২) সেবাম সিক্রেশনের মাধ্যমে ত্বকের অয়েল প্রোডাকশন ও ময়েশ্চার লেভেল ব্যালেন্স করা


৩) স্কিনের টেম্পারেচার কন্ট্রোল করা

তাহলে বুঝতেই পারছেন, পোরস আমাদের জন্য কত দরকারি একটি জিনিস! পোরস পারমানেন্টলি রিমুভ করা পসিবল না, কিন্তু এটাকে মিনিমাইজ করা যায়, এর ভিজিবিলিটি কমানো যায়। তাই আমাদের টার্গেট হওয়া উচিত কিভাবে রোমকুপ ক্লিন রাখা যায়, বড় বড় পোরগুলো কিভাবে কমানো যায়, সর্বোপরি সঠিকভাবে স্কিনের যত্ন নেওয়া যায়।


পোরস বড় হওয়ার কারনগুলো কী কী?

সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্কিনের ইলাস্টিন ও কোলাজেন লুজ হতে শুরু করে, তখনই ত্বকের পোরস চোখে পরে। এছাড়া সান ড্যামেজ, ব্ল্যাক হেডস, অতিরিক্ত সেবাম ক্ষরণ অর্থাৎ অয়েলি স্কিন, হরমোনাল ইস্যু, স্কিন কেয়ার না করা এসব কারনে খোলা রোমকুপের সমস্যা দেখা দিতে পারে।


কিভাবে পোর সাইজ কনট্রোল করা যায়?

রাতারাতি পোরস বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যা কমানো সম্ভব না, মানে নিমিষেই যে এটা রিমুভ হয়ে যাবে এমনটা না! তবে এর ভিজিবিলিটি অনেকটাই কমানো যেতে পারে। বয়স অনুযায়ী সঠিক স্কিন কেয়ার করে ঠিকঠাক যত্ন নিলে বয়স বাড়লেও ওপেন পোরসের প্রবলেম নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না।


টিনেজে স্কিনকেয়ার

এখন অনেকেই বলতে পারেন যে, এত অল্প বয়সে তো ওপেন পোরসের প্রবলেম হয় না, টিনেজে স্কিন এমনিতেই সুন্দর থাকে। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে এই বয়সে স্কিনে ন্যাচারাল গ্লো থাকে আর বেসিক স্কিনকেয়ার ছাড়া আর কিছু করার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু হরমোনাল চেঞ্জের কারনে বা অনেকক্ষণ রোদে থাকলে বা ঠিকমতো ফেইস পরিস্কার না করলে খুব দ্রুতই স্কিনে খোলা রোমকুপ চোখে পরতে পারে। পোরসের হেলথ ভালো রাখতে এই বয়সে কী কী করা যেতে পারে সেগুলো জেনে নেই চলুন।


১) ২০ বছরের আগে স্কিনকেয়ারে সিরাম রাখা যাবে না। ডাবল ক্লেনজিং, টোনিং, ত্বকের ধরন বুঝে ময়েশ্চারাইজিং, সানস্ক্রিন এগুলোই যথেষ্ট।


২) সপ্তাহে ১ বার মাইল্ড এক্সফোলিয়েটর দিয়ে ডেড সেলস, ব্ল্যাক হেডস, হোয়াইট হেডস ক্লিন করে নিতে হবে, এতে পোর ক্লগড হওয়ার ভয় থাকবে না।


৩) সাপ্তাহিক রূপচর্চায় ১-২ দিন মুলতানি মাটি, রোজ ওয়াটার, অ্যালোভেরা জেল ও টকদই দিয়ে প্যাক বানিয়ে ফেইসে লাগানো যেতে পারে। এতে স্কিন সুন্দর, টানটান আর পরিস্কার থাকবে।


২০ এর পর স্কিনকেয়ার

আমাদের সবার স্কিন টাইপ, ত্বকের কোয়ালিটি যেমন আলাদা, তেমনি পোরসের গঠন বা স্ট্রাকচারও আলাদা। অনেকের খুব অল্প বয়সেই মুখে ওপেন পোরস দেখা যায়। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকের ইলাস্টিন ও কোলাজেনের লেয়ারকে ড্যামেজ করে দেয়, তাই যারা ঠিকমতো সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করেন না তাদের ক্ষেত্রে এই প্রবলেমটা বেশ তাড়াতাড়ি চলে আসে। আর অতিরিক্ত অয়েলি স্কিনের অধিকারী যারা, তাদের সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ড অনেক বেশি অ্যাক্টিভ হওয়ায় পোরসের ভিজিবিলিটি বেশি হয়, বিশেষ করে নাকের চারপাশে। তরুন বয়সে কিভাবে স্কিনের যত্ন নেওয়া যায়, সেটাই এখন আমরা জানবো।


১) বেসিক স্কিন কেয়ারের পাশাপাশি ত্বকের প্রয়োজন অনুসারে সিরাম বেছে নিন এবং বিউটি কনসালটেন্ট বা এক্সপার্টের সাথে কথা বলে সিরাম ব্যবহারের নিয়ম বুঝে নিতে ভুলবেন না।


২) পোরস মিনিমাইজ করতে নিয়াসিনামাইড দারুন কাজ করে। রেটিনয়েড স্কিন সেলস রিপেয়ার করতে হেল্প করে পোরসের সাইজ কমিয়ে আনে। স্যালিসাইলিক এসিড আর গ্লাইকোলিক এসিড ক্যামিকেল এক্সফোলিয়েটর হিসাবে কাজ করে স্কিনের ডেড সেলসের বন্ড ভেঙ্গে দেয়, ত্বককে ভালো রাখে, অতিরিক্ত সেবাম প্রোডাকশন কমিয়ে আনে। ফলে ব্রন, ব্ল্যাক হেডস আর ওপেন পোরসের সমস্যা দূর হয়। আপনাকে আগে বুঝতে হবে যে আপনার স্কিন টাইপের সাথে কোন ইনগ্রেডিয়েন্সটি ভালো কাজ করবে।


৩) রেগুলার স্কিন পরিস্কার করতে অয়েল ক্লেনজার ও ফোম ফেইসওয়াশ ব্যবহার করতে হবে, ডাবল ক্লেনজিং করলে পোরস ভেতর থেকে ক্লিন থাকবে। নাকে ব্ল্যাক হেডস হলে সপ্তাহে ১ দিন নোস পোরস স্ট্রিপ দিয়ে সেগুলো পরিস্কার করে নিন।



৪) সপ্তাহে ১ বা ২ দিন ক্লে বেইসড মাস্ক ইউজ করতে পারেন যেগুলো পোরসের সাইজ কমাতে কার্যকরী। আইস ম্যাসাজও বেশ ভালো হবে আপনার জন্য। ওপেন পোরসের সমস্যা থাকলে বা অয়েলি স্কিন হলে হিলিং ক্লে, মুলতানি মাটি, ভল্কানিক অ্যাশ এই উপাদানগুলো আপনার স্কিনের জন্য ভালো কাজ করবে এবং ইন্সট্যান্ট আপনি ফিল করবেন যে পোরের ভিজিবিলিটি অনেকটাই কম লাগছে।


৫) টোনিং করলে ত্বকের পি এইচ ব্যালেন্স ঠিক থাকে, পোরস টাইটেনিং হয়। তাই টোনার স্কিপ করা যাবে না! সেই সাথে দিনের বেলায় এস ফি এফ ৫০ যুক্ত সানক্রিন ইউজ করা কিন্তু মাস্ট।


প্রেগনেন্সিতে স্কিনকেয়ার 

হরমোনাল কারণে এই সময়ে ত্বকের তৈলগন্থি অতিরিক্ত অ্যাকটিভ হয়ে যেতে পারে, ফলে স্কিনে বেশ কিছু সমস্যা আপনার চোখে পড়বে যেগুলো হয়তো আগে ছিল না! তো এই সময়ে স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট সিলেকশনে আপনাকে সচেতন হতে হবে, কারণ অনেক ইনগ্রেডিয়েন্টস প্লাসেন্টা ভেদ করে গর্ভস্থ ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এই ব্যাপারে এবং স্কিনের জন্য মাইল্ড ও ন্যাচারাল উপাদানযুক্ত প্রোডাক্ট ইউজ করুন। চিন্তার কোনো কারন নেই, হরমোনাল কারনে যদি স্কিনে প্রবলেম হয় সেটা বেবি ডেলিভারির পর আপনাআপনি চলে যাবে!


মধ্যবয়সে স্কিনকেয়ার

আগেই বলেছিলাম যে বয়সের সাথে সাথে স্কিনে বড় বড় পোরস দেখা যায়, তবে আপনি যদি সঠিকভাবে স্কিনের যত্ন নিয়ে থাকেন তাহলে এই সমস্যাটি আপনাকে বেশি ভোগাবে না! ২২-২৫ বছর থেকেই যদি অ্যান্টি এজিং স্কিন কেয়ার রুটিন আপনি ফলো করে থাকেন, তাহলে ৪০ বছর বয়সেও আপনার ত্বক ৩০ এর মতই দেখাবে। অনেকের আবার জেনেটিক্যাল কারণেও ওপেন পোরসের প্রবলেম হতে পারে। এই বয়সে স্কিনকেয়ার কিভাবে করবেন সেটাই আমরা এখন জানবো।


১) ক্লেনজিং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং, সানস্ক্রিন, অ্যান্টি এজিং রেঞ্জ অ্যাপ্লাই এগুলো তো করতেই হবে নিয়মমতো। সপ্তাহে দুই বার স্ক্রাবিং করবেন। স্কিনকেয়ারে সিরাম রাখবেন ত্বকের ধরন ও প্রবলেম বুঝে।


২) শসার রস, রোজ ওয়াটার, অ্যালোভেরা জেল এগুলো দিয়ে আইস কিউব করে রাখবেন। পোর মিনিমাইজ করতে আইস ম্যাসাজ বেশ ভালো কাজ করে।


৩) আপনার রেগুলার স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টে রেটিনোল, স্যালিসাইলিক এসিড, গ্লাইকোলিক এসিড, নিয়াসিনামাইড এসব উপাদান আছে কি না সেটা দেখে নিবেন, এগুলো আপনার স্কিনের জন্য ভালো কাজ করবে। এই উপাদানগুলো হিট এবং সান সেনভসিটি হয়ে থাকে, তাই রান্নার আগে বা বাইরে গেলে সানস্ক্রিন ইউজ করতে ভুলবেন না।

এই ছিল পোরস নিয়ে আলোচনা। আমরা জানলাম পোরসের কাজ কী, কিভাবে এটা ক্লিন রাখা যায় এবং বয়স অনুযায়ী সঠিক স্কিনকেয়ার গাইডলাইন। সঠিকভাবে ত্বকের যত্ন নিতে পারলে অনেক ধরনের স্কিন প্রবলেমকে আপনি দূরে রাখতে পারবেন। সেই সাথে প্রচুর পানি পান করবেন, হেলদি ফুডচার্ট মেনে চলবেন, পরিমানমতো ঘুমাবেন।সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, সুন্দর থাকবেন।

দূর করুন এখনই চুল পড়ার সমস্যা


“মাথার সামনের চুল কমে টাক পড়ে যাচ্ছে, আগের মতো ঘন চুল আর নেই, চুল পড়তে পড়তে মাথা ফাঁকা হয়ে গেল!” – এসব কমন সমস্যার কথা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি, তাই না? আমরা নিজেরাও অনেকে এক্সেস হেয়ার ফলের প্রবলেম নিয়ে চিন্তিত। চুল পড়া সমস্যা ঠেকাতে বাহারি সব হেয়ার ফল শ্যাম্পু, ঘরোয়া প্যাক ট্রাই করে ফেলি, কিন্তু তাতেও যেন সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। আগে আমাদের বুঝতে হবে কেন চুল পড়ছে, কীভাবে যত্ন নিলে চুল পড়া স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকবে, সঠিক হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট সিলেক্ট করার গুরুত্ব কতটুকু এবং বয়স অনুযায়ী চুলের যত্ন নেওয়ার উপায়গুলো কী কী। চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে কেন অতিরিক্ত হেয়ার ফল হচ্ছে এবং সঠিকভাবে যত্ন নেওয়ার প্রসিডিউর কী, সেদিকে ফোকাস করুন।  চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর করুন এখনই!


চুল পড়ার সম্ভাব্য কারণ সমূহ

আমরা জানি যে, ডেইলি ১০০-১৫০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু যখনই অতিরিক্ত চুল পড়ে, চুলের গোছা পাতলা হয়ে যায়, মাথার সামনে টাক পড়তে থাকে- তখনই আমাদের টনক নড়ে। অনেকের মুখেই শুনেছি যে, প্রতিদিন নিয়ম করে চুল ধোঁয়া, কন্ডিশনার লাগানো, তেল দিয়ে ম্যাসাজ করা সবই তো করছি, কিন্তু মাথার চুল সব পড়ে যাচ্ছে! চুলের জন্য বেসিক কেয়ারটুকু করার পরও হেয়ার ফলের সমস্যা হতে পারে, এর পেছনে কী কী ফ্যাক্টর দায়ী সেটা আগে জেনে নিন।


১) চুল পড়া আরম্ভ করলে টেনশন শুরু হয়, আর এতে আরও বেশি চুল ঝরতে থাকে। স্ট্রেস, আনহেলদি লাইফ স্টাইল, রাত জাগা, পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া- এগুলো এক্সেস হেয়ার ফলের অন্যতম কারণ।


২) এন্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়াো- এটি হরমোনাল ইমব্যালেন্সের জন্য হয়ে থাকে। নারী ও পুরুষের টাক পড়ে যাওয়ার সমস্যার পেছনে এটি অনেকাংশেই দায়ী।


৩) অনেক সময় ওষুধের সাইড-ইফেক্টে ভয়াবহ মাত্রায় চুল পড়তে থাকে। বার্থ কন্ট্রোল পিল, কোলেস্টেরল কমানোর মেডিসিন, ব্রণের ট্রিটমেন্টে যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হয় সেগুলোতে, অ্যান্টি ডিপ্রেশন ড্রাগ ইত্যাদি মেডিসিন অনেকদিন ধরে গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদী হেয়ার ফলের প্রবলেম হতে পারে।


৪) পর্যাপ্ত পরিমানে প্রোটিন ডায়েটে না রাখলে এবং শরীরে ভিটামিন ডেফিসিয়েন্সি হলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল পড়ে।


৫) চুলের গোঁড়ায় ঘাম জমে থাকলে, মাথা অপরিষ্কার রাখলে, নিম্নমানের প্রোডাক্ট ব্যবহারে বা কোনো প্রোডাক্ট স্যুট না করলেও এক্সেস হেয়ার ফলের প্রবলেম হতে পারে।


এইসব কারণে অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে। আপনাকে আগে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, কেন আপনার এক্সেস হেয়ার ফলের সমস্যা হচ্ছে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন এবং সঠিকভাবে চুলের যত্ন নেওয়া শুরু করুন। তো চুল পড়া রোধে কীভাবে হেয়ার কেয়ার করা যায়, সে বিষয়ে এখন আমরা জানবো।


টিনেজে চুল পড়া সমস্যা

টিনেজে চুল ন্যাচারালি সুন্দর থাকে। কিন্তু ঠিকঠাক যত্নের অভাবে অনেক সময় চুল ভেঙ্গে যায়, আগা ফেটে যেতে পারে, চুলের গোঁড়া দুর্বল হয়ে হেয়ার ফল হতে পারে। অপুষ্টিজনিত কারণে এই সময়ে অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে। আবার হরমোনাল কারণে বয়সন্ধিকালে এই প্রবলেম অনেকেই ফেইস করে থাকে।


এর প্রতিকার কী?

কীভাবে আপনার টিনেজ সন্তানের চুলের যত্ন নিবেন বা আপনি নিজেই যদি টিনেজার হয়ে থাকেন, তাহলে  কীভাবে হেয়ার কেয়ার করবেন, সেটা আমরা এখন জেনে নিব।


১) সপ্তাহে ৩ দিন শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালোভাবে পরিস্কার করবেন। সালফেট ফ্রি, প্যারাবেন ফ্রি অর্থাৎ ক্ষতিকর কেমিক্যালমুক্ত, হারবাল উপাদানযুক্ত মাইল্ড শ্যাম্পু ইউজ করবেন। খুব বেশি ঘষাঘষি করা যাবে না স্ক্যাল্পে, এতে চুলের গোঁড়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


২) ভেজা চুল বাঁধা যাবে না। এই বয়সে হিট স্টাইলিং টুলস যতটা সম্ভব এভোয়েড করবেন।


৩) ক্যাস্টর অয়েল, ভিটামিন-ই ক্যাপসুল, খাঁটি নারিকেল তেলের মিশ্রণ দিয়ে সপ্তাহে অন্তত ২ বার অয়েল ম্যাসাজ করবেন। মিনারেলস, প্রোটিন, অ্যাসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যুক্ত ক্যাস্টর অয়েল নতুন চুলের বৃদ্ধিকে তরান্বিত করে এবং ভিটামিন ই হেয়ার ফলিকলে পুষ্টি যোগায়। নারিকেল তেল চুলের ইমিউনিটি ঠিক রেখে চুলকে নারিশ করে।


৪) অতিরিক্ত চুল পড়া মোকাবেলায় দারুণ কাজ করে স্কিন ক্যাফে হেয়ার ফল ট্রিটমেন্ট প্যাকটি। সপ্তাহে ১ দিন টকদই, ডিম ও প্যাক মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিটের জন্য। এতে থাকা শিকাকাই, আমলা, হেনা, হিবিসকাস পাউডার চুলের যত্নে অতুলনীয়। টিনেজরা নির্ভয়ে এই প্যাকটি ব্যবহার করতে পারবেন।


কেন তরুণ বয়সে  চুল পড়ে?

কলেজ বা ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা অনেকসময় ব্যস্ততার জন্য চুলের যত্ন নিতে পারেন না। চুলের গোঁড়ায় ধুলো ময়লা আর ঘাম জমে গোঁড়া দুর্বল হয়ে পড়ে, সেই সাথে চুলও নিষ্প্রাণ দেখায়। খাদ্য তালিকাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন, প্রোটিন না থাকলে অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই সাথে রেগুলার লাইফের স্ট্রেস, কম ঘুমানো, বাইরের পল্যুশন এগুলোও দায়ী আপনার এক্সেস হেয়ার ফলের জন্য।


এর সমাধান কী?

এই সময়ে অতিরিক্ত চুল পড়া কীভাবে কমাবেন, সেটি জেনে নিন তাহলে।

১) স্ক্যাল্প পরিস্কার রাখতে হবে যাতে ময়লা, খুশকি না জমতে পারে। নিয়ম করে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার ইউজ করুন। কন্ডিশনার যাতে চুলের গোঁড়ায় না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।


২)  তেল লাগানোর সময় নখ যাতে স্ক্যাল্পে না লাগে, আঙুলের সাহায্যে আলতোভাবে ম্যাসাজ করবেন। নারিকেল তেলের সাথে অলিভ অয়েল মিক্স করে চুলের গোঁড়ায় মালিশ করুন সপ্তাহে ২-৩ দিন। এতে হেয়ার ফলিকলে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে, চুলের গ্রোথ ভালো হবে, চুল পড়া কমবে।


৩) সপ্তাহে অন্তত ১ দিন হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন। আমলা পাউডার, হেনা, ডিম, অ্যালোভেরা জেল, লেবুর রস, স্কিন ক্যাফে হেয়ার ফল ট্রিটমেন্ট প্যাক, টকদই কিনবা হাতের কাছে যেই উপাদানগুলো আছে তা দিয়ে মাস্ক বানিয়ে নেওয়া যায়। চুল পড়া কমাতে ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এই উপাদানগুলো দারুণ কাজ করে।


প্রেগন্যান্সিতে চুল পড়ার কারণ ও করণীয় কী?

এই সময়ে শরীরের ইস্ট্রোজেন লেভেল বেড়ে যাওয়ায় হেয়ার ফলিকলের স্বাভাবিক লাইফ সাইকেল কমে আসে। এর ফলে অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেটা পরবর্তীতে আবার ঠিক হয়ে যায়। এই সময়ে বেসিক হেয়ার কেয়ার করলেই হবে, অর্থাৎ মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিবেন, সপ্তাহে ২-৩ দিন অয়েল ম্যাসাজ করবেন। ক্ষতিকর কেমিক্যাল যেমন- অ্যামোনিয়া, প্যারাবেন ইত্যাদি এড়িয়ে যেতে হবে। হেলদি ডায়েট চার্ট মেনে চলবেন, পরিমিত ঘুমাবেন।



কীভাবে মধ্যবয়সে হেয়ার কেয়ার করবেন?

বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনেকেরই চুলের গোছা কমে যায়, চুল পাতলা হয়ে যায়। আবার সিঁথির কাছেও অনেকটা টাক দেখা যায়। থাইরয়েড প্রবলেম, জেনেটিক্যাল কারণে কিংবা চুলে ঠিক মতো যত্ন না নিলে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। সঠিক নিয়মে হেয়ার কেয়ার করে অতিরিক্ত হেয়ার ফলের প্রবলেমটা কনট্রোল করা যেতে পারে।


১) পেঁয়াজের রস ও অ্যালোভেরা জেল চুলের গোঁড়ায় মানে যেখানে চুল পড়ে ফাঁকা হয়ে গেছে, সেখানে লাগিয়ে রেখে দিন কিছুক্ষণ এবং পরে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। পেঁয়াজের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং সালফার চুলের ফলিকলের পুষ্টি বাড়ায়। অ্যালোভেরার গ্লাইকোপ্রোটিন চুলের রিগ্রোথে সাহায্য করে।


২) হেয়ার ফল কন্ট্রোলের জন্য স্পেসিফিক শ্যাম্পু ও হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট পাওয়া যায়, সেগুলো ইউজ করতে পারেন। অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা নিয়ে চুলে রঙ ও রিবন্ডিং করতে যাবেন না, আগে চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখুন। পাকা চুল কালারের জন্য হেনা ব্যবহার করতে পারেন, সেটা সবথেকে ভালো অপশন।


৩) ক্যাস্টর অয়েল, ভিটামিন ই ক্যাপসুল, খাঁটি নারিকেল তেলের মিশ্রণ দিয়ে সপ্তাহে অন্তত ২ বার অয়েল ম্যাসাজ করবেন। সপ্তাহে ১ দিন অ্যান্টি হেয়ার ফল প্যাক লাগাতে ভুলবেন না।


৪) ঠিকমতো যত্ন নেওয়ার পরেও যদি অতিরিক্ত হারে চুল ঝরতে থাকে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। অনেক সময় ওষুধের প্রভাবে বা শরীরে কোনো অসুখ থেকেও এটি হতে পারে।

তাহলে জেনে নিলেন, কীভাবে হেয়ার কেয়ারের মাধ্যমে চুল পড়ার হার কমানো যেতে পারে। ভেতর থেকে পুষ্টি না পেলে এই সমস্যার সমাধান হবে না! তাই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাবেন, পরিমিত পরিমাণে ঘুমাবেন, স্ট্রেস ফ্রি লাইফ কাটানোর চেষ্টা করবেন। আর চুলের যত্নে সবসময় ভালো মানের প্রোডাক্ট বেছে নিবেন আপনার চুলের ধরন ও প্রবলেম অনুযায়ী। আশা করছি, আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য হেল্পফুল ছিল। ভালো থাকবেন।

৮ টি টিপস হার্ড ওয়াটার থেকে চুলকে রক্ষা করতে!


“কিরে দোস্ত, তোর চুলের এই অবস্থা কেন?”


– “আর বলিস না, আমরা যে নতুন বাসা নিয়েছি। ওখানকার পানি এত বাজে!! আমার চুলগুলো একদম নষ্ট করে দিয়েছে। এই নিয়েতো বেশ টেনশনে আছি। চুল পড়ছে, ড্যামেজ হয়ে গিয়েছে। কি করে যে চুলগুলো আবার ঠিক হবে!!”

হুম, বলছিলাম পানির কথাই। পানির সাথে চুল একদম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ, পানি ছাড়া চুল ওয়াশ করার উপায় কী?কিন্তু, পানিটাই যখন চুলের ক্ষতি করে তখন?

হার্ড ওয়াটার এর সাথে সবাই কমবেশী পরিচিত আছেন। কারণ, হার্ড ওয়াটারের জন্য চুলের অনেক ক্ষতি হওয়া মানুষের সংখ্যা আজকাল কম নয়। হার্ড ওয়াটার এ প্রচুর পরিমাণে অক্সিডাইজারস, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম রয়েছে, যা হেয়ার ফলিকলকে দূর্বল করে দেয়। যার ফলে, চুল পড়া শুরু হয় এবং চুল প্রচুর ড্যামেজ হয়ে যায়। এখন, পানি হার্ড হলে তা তো আর আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। কিন্তু চুলকে প্রোটেক্ট করতে পারব হার্ড ওয়াটার থেকে। কীভাবে? চলুন তাই জেনে নেই!


হার্ড ওয়াটার থেকে চুলকে রক্ষার টিপসসমূহ

১. ভিনেগার

চুলকে হার্ড ওয়াটার ড্যামেজ থেকে রক্ষা করতে পারে ভিনেগার। সেক্ষেত্রে, সাদা ভিনেগার বা অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার যেকোনোটাই ব্যবহার করা যাবে। ভিনেগারে রয়েছে ন্যাচারাল হাইড্রেটিং কোয়ালিটিজ এবং অ্যাসিটিক এসিড, যা স্ক্যাল্প-এর পিএইচ লেভেল (pH) ধরে রাখতে সাহায্য করে। চুল ধোয়ার জন্য ৩ কাপ পানিতে ১ কাপ ভিনেগার মিলিয়ে ব্যবহার করুন। এতে করে চুল হার্ড ওয়াটারে ড্যামেজ হবে না এবং চুলে এক্সট্রা শাইন আসবে।


২. লেবুর রস

হার্ড ওয়াটারের বিরুদ্ধে আরেকটি ভালো উপাদান হলো লেবুর রস। লেবুর রসে ন্যাচারাল ক্লিঞ্জিং প্রোপার্টিজ রয়েছে, যা চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি হার্ড ওয়াটার এ থাকা সল্ট এবং মিনারেলগুলো দূর করতে সাহায্য করে। চুল ধোয়ার পানিতে ১ কাপ লেবুর রস মিশিয়ে নিন অথবা শ্যাম্পুর সাথে একটুখানি লেবুর রস মিশিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন।


৩. ক্লারিফাইং শ্যাম্পু

হার্ড ওয়াটার থেকে চুলকে বাঁচাতে ব্যবহার করুন ক্লারিফাইং শ্যাম্পু। ক্লারিফাইং শ্যাম্পুতে প্রচুর পরিমাণে ক্লেঞ্জিং উপাদান রয়েছে, যা চুলকে হার্ড ওয়াটার থেকে রক্ষা করে এবং সুন্দরভাবে চুল পরিষ্কার করে। তবে অবশ্যই ক্লারিফাইং শ্যাম্পু কেনার পূর্বে ইনগ্রেডিয়েন্ট-গুলো ভালোভাবে চেক করে নিবেন যেন তা চুলের জন্য সহায়ক হয়। কারণ, অনেক ক্লারিফাইং শ্যাম্পুই চুলকে হার্শ করে দেয়।


৪. শাওয়ার ফিল্টার

হার্ড ওয়াটার থেকে চুলকে রক্ষার জন্য সবথেকে বেষ্ট উপায় হলো শাওয়ার ফিল্টার। শাওয়ার ফিল্টার হার্ড ওয়াটারকে সফট করতে সাহায্য করে। আপনি আপনার শাওয়ার ইউনিট-এ শাওয়ার ফিল্টার সেট করে নিতে পারবেন এবং সেই পানিটা চুলের জন্য ক্ষতিকর হবে না।


৫. আর্গান অয়েল

চুল কিন্তু হার্ড ওয়াটার দিয়ে ধোয়ার পরেই রুক্ষ হয়ে যায়। তাই চুল ধোয়ার পরে ভেজা চুলে কয়েক ফোটা আর্গান অয়েল লাগিয়ে নিলে ড্যামেজ থেকে চুল মুক্তি পাবে। এছাড়াও চাইলে শ্যাম্পু-এর সাথে কয়েক ফোটা আর্গান অয়েল মিক্স করে নিয়ে শ্যাম্পু করে নিতে পারেন।


৬. রেইন ওয়াটার

রেইন ওয়াটার-এ হার্ড মিনারেল এর পরিমাণ কম থাকে। তাই রেইন ওয়াটার ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিয়ে, সেটাকে হার্ড ওয়াটার-এর সাথে মিক্স করে চুল পরিষ্কার করতে পারেন।


৭. অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল-কে ন্যাচারাল কন্ডিশনার বলা হয়। এতে রয়েছে ফ্যাটি এসিড এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা স্ক্যাল্প-এ নিউট্রিশন এবং প্রোটিন প্রোভাইড করে। এটি চুলকে ড্যামেজ থেকে রোধ করে এবং চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। তাই, হেয়ার কেয়ার রুটিন-এ অলিভ অয়েল রাখুন।


৮. লিভ-ইন-কন্ডিশনার

ডেইলি হেয়ার কেয়ার রুটিন-এ লিভ-ইন-কন্ডিশনার যোগ করুন। এটি চুলের এক্সট্রা ড্যামেজ রোধ করতে সাহায্য  করবে। ভাবছেন লিভ-ইন-কন্ডিশনার কী? বলছি, আসলে এটি একটি হেয়ার ট্রিট্মেন্ট প্রোডাক্ট। আপনি চুল ধুয়ে অর্থাৎ শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার লাগিয়ে চুল ধুয়ে নিয়ে এই লিভ-ইন-কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হয় আর এটিকে পরবর্তী চুল ধোয়ার আগ পর্যন্ত রেখে দিতে হয়। এই জন্যই এই কন্ডিশনারের নাম লিভ-ইন-কন্ডিশনার। লিভ-ইন-কন্ডিশনার- এর সাথে ১-২ ফোঁটা কোকোনাট অয়েল মিক্স করেও লাগাতে পারেন।

এই তো ছিল, হার্ড ওয়াটার থেকে চুলকে রক্ষা করার কিছু উপায়সমূহ। আশা করছি, আপনাদের জন্য পোস্টটি হেল্পফুল হবে।

৩ টি হেয়ার মাস্ক কর্মজীবী নারীর চুলের যত্নে!


চুলের যত্ন? কে নেবে? আমি!! সময় কোথায়? একে তো অফিসে কাজের প্রেশার, তার উপর বাসায় ফিরে শুধু কাজ আর কাজ। বিশ্রাম নেয়ারই সময় পাই না, হেয়ার কেয়ার তো দূরের কথা।

কি, নিজের সাথে মিলে যাচ্ছে কথাগুলো? আসলে সব কর্মজীবী মেয়েদেরই এমন অবস্থা। অফিসের স্ট্রেইস আর সংসারের কাজের ভিড়ে নিজের জন্য একটু ‘মি টাইম’ বের করা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।  চুলের জন্য সময় বের করাতো আরও টাফ। সকাল থেকে সন্ধ্যা বাহিরে থেকে বাসায় ফেরার পর শরীরের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেকটা দিন চলে আসে। উইকেন্ড-এ বাসার কাজ, শপিং, বেড়ানোর পর চুলের যত্ন নেয়ার টাইম থাকেই না বলতে গেলে। বাহিরে থাকলে রোদ, ধুলাবালির অত্যাচারে চুল হয়ে যায় রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন। এসময় চুলের স্বাস্থ্য মেইনটেইন  করার একমাত্র সল্যুশন হল নারিকেল তেল।

তাই আমি পারসোনালি সারা সপ্তাহ জুড়েই কিছুটা সময় হেয়ার কেয়ার-এর জন্য তুলে রাখি। প্রতি ২ দিন পরপর মাথায় তেল ম্যাসাজ করি। 

এক্ষেত্রে আমার চয়েস হল প্যারাসুট অ্যাডভান্সড কোকোনাট অয়েল। প্যারাসুট নারিকেল তেলতো আমরা সবাই চিনি। ছোটবেলা থেকে মায়ের দেখাদেখি এই তেল ব্যবহার করা শুরু। এখন আমি প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এনরিচড কোকোনাট হেয়ার অয়েল ইউজ করি। এটা খাঁটি নারিকেল তেল যা চুলের পুষ্টি যোগায়, চুলের গোঁড়া মজবুত করে আর চুলের কিউটিকল-এর ড্যামেজ রিপেয়ার করে শাইনি হেয়ার পেতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই তেলে এখন অ্যাড করা থাকে ভিটামিন ই অ্যাসিটেট যা এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান। এটার অ্যাবজরপশন লেভেল হাই, তাই এটা তেলের মাধ্যমে ডাইরেক্ট স্ক্যাল্প ভেদ করে ব্লাড সেলে প্রবেশ করতে পারে। সুতরাং বলা যেতেই পারে যে এই তেল লিটারেলি ভেতর থেকে চুলকে মজবুত করে।


আমি গত ছয়মাস ধরে রেগুলার মোটরবাইক-এ অফিসে যাতায়াত করছি। আগে রাজ্যের ধুলাবালু চুলে আটকে যেত। রোদের তাপে পুড়ত আবার হাইস্পিডে গেলে বাতাসে চুল আলুথালু হয়ে জট বেঁধে থাকতো। তখন আমি বাসায় গিয়ে তেল লাগিয়ে আস্তে আস্তে আঙ্গুল বুলিয়ে জট খুলতাম। এরপর কয়েক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করলেই চুল আবার ঝলমলে হয়ে যেত। কিন্তু পরদিনই আবার একই হাল হত। আবার তেল লাগাও, আবার শ্যাম্পু করো! কিন্তু এত ঘন ঘন শ্যাম্পু করলে চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়ার কথা তাই না? কিন্তু প্যারাসুট তেল চুলে ডিপ কন্ডিশনিং-এর কাজ করে বিধায় আমার চুল রুক্ষ হতে পারে নি। তবুও নিজের সেফটি-এর পাশাপাশি রোদ আর ধুলো থেকে স্কিন আর চুলকে প্রটেক্ট করতে আমি হেলমেট ব্যবহার শুরু করি। কিছুদিন বেশ আরামে থাকলেও আমি নোটিস করা শুরু করি যে আমার চুল ও স্ক্যাল্প আগের চেয়ে খুব তাড়াতাড়ি অয়েলি হয়ে যাচ্ছে। আমার হেয়ার এবং স্ক্যাল্প নরমালি ড্রাই। তাই শুধু স্ক্যাল্প ও মাথার উপরিভাগের চুল অয়েলি আর বাকি চুল ড্রাই থাকছিল। এভাবে স্ক্যাল্প অয়েলি হয়ে যাওয়াটা আমার জন্য বেশ অস্বাভাবিক লাগলেও পরে বুঝতে পারি যে এর কারণ হেলমেট-এর ভেতর বেশি বাতাস ঢুকতে পারে না। এয়ার সার্কুলেশন ঠিকভাবে না হওয়ায় মাথা ঘেমে যায়। এই সামার-এ বাসায় ফেরার পর এমন স্ক্যাল্প নিয়ে থাকতে কার ভাল লাগবে বলুন? ফলাফল, আবারো শ্যাম্পু করা। কিন্তু এখন তেল দিয়ে আর শ্যাম্পু করার পাশাপাশি আমি চুলের আরেকটু যত্ন নেয়ার ট্রাই করি। সপ্তাহে কমপক্ষে ২দিন আমি মাথায় হেয়ার প্যাক লাগাই। আমার স্ক্যাল্প-এর ন্যাচারাল ড্রাইনেস আর ঘামের জন্য হওয়া অয়েলিনেস ব্যালেন্স করে চুলের শাইন ধরে রাখার জন্য কিছু হেয়ার প্যাক বানিয়ে আমি মাথায় লাগাই যার ৩ টা আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। বাইকে যাতায়াত করেন বা না করেন, এই হেয়ার মাস্ক আর হোম রেমেডিগুলো যেকোনো হেয়ার টাইপের সাথে মানিয়ে যাবে।


১) হানি-লেমন মাস্ক

যা যা লাগবে-


২ চা চামচ মধু

১ চা চামচ লেবুর রস

২ চা চামচ প্যারাসুট অ্যাডভান্সড কোকোনাট হেয়ার অয়েল

একটা প্লাস্টিক বা মেলামাইন-এর বাটিতে সবকিছু মিক্স করে আঙ্গুল দিয়ে স্ক্যাল্প-এ অ্যাপ্লাই করবেন। আর চুলের আগায় শুধু তেল লাগাবেন। লেবুর রস স্ক্যাল্প-কে ড্রাই করে ফেলে, তাই অবশ্যই তেল মিক্স করবেন এই হেয়ার মাস্ক-এর সাথে। এটা ২০-৩০ মিনিট রেখে চুল শ্যাম্পু ও কন্ডিশনিং করে ফেলতে হবে।


২) হোমমেইড প্রোটিন মাস্ক

যা যা লাগবে-


ডিমের কুসুম ১টি

টক দই ২ চা চামচ

২ চা চামচ প্যারাসুট অ্যাডভান্সড কোকোনাট হেয়ার অয়েল

প্রথম মাস্ক-এর মতই এটাও মিক্স করে মাথার স্ক্যাল্প ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। টক দই-এর জন্য যাতে স্ক্যাল্প ড্রাই না হয়ে যায় এজন্য আমি এতে প্যারাসুট কোকোনাট অয়েল আর ডিমের কুসুম মিক্স করেছি।


৩) আমলা-হেনা প্যাক

যা যা লাগবে-


মেহেদি

আমলকী পাউডার ১ চা চামচ

চায়ের লিকার ১ কাপ

২ চা চামচ প্যারাসুট অ্যাডভান্সড কোকোনাট হেয়ার অয়েল

লাইফলেস অয়েলি হেয়ার-কে ঝরঝরে এবং শাইনি করতে এই হেয়ার মাস্ক অনেক উপকারি। ১ কাপ চায়ের লিকার-এ মেহেদি গুঁড়ো আর আমলা গুঁড়ো ভিজিয়ে রাখতে হবে। আধা ঘণ্টা পর তাতে প্যারাসুট অ্যাডভান্স হেয়ার অয়েল মিশিয়ে মাথায় ১ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে। এই হেয়ার মাস্ক চুলকে নারিশ করবে।


ছুটির দিনে একটুখানি সময় নিজের জন্য বের করে নিলেই চুলের জন্য এনাফ। শত ব্যস্ততার ভিড়েও নিয়ম করে সপ্তাহে ২/১ বার হেয়ার প্যাক আর কমপক্ষে ৩ বার অয়েল ম্যাসাজ করলে চুল থাকবে হেলদি। আর হেলদি চুল মানেই স্ট্রং অ্যান্ড শাইনি চুল।

চুলের ক্ষতির কারণ ও চুল মজবুত রাখার উপায়


চুলকে বলা হয়ে থাকে মানুষের সৌন্দর্যের একটি অপরিহার্য অংশ। এই চুলকে সুন্দর দেখাতে আমরা আজকাল অনেক রকম স্টাইলিং করে থাকি। ব্লো ড্রাই, আয়রন, রিবন্ডিং, চুল কালার… আজকাল স্টাইলিং এর জন্য আমরা কী না করি! কিন্তু ভেবে দেখুন তো! প্রতিনিয়ত হিট, কালার, কেমিক্যাল প্রোডাক্টস, সবই কিন্তু ক্ষণিকের জন্য আমাদের চুলকে সুন্দর দেখালেও দিন দিন চুলকে করে দিচ্ছে নিস্তেজ ও দুর্বল। 

চুলে থাকে কেরাটিন ও হাইড্রোজেন বন্ডস। যখন চুলে আমরা হিট অ্যাপ্লাই করি স্টাইলিং-এর জন্য, তা চুলের প্রোটিন ও হাইড্রোজেন বন্ড-গুলোকে ভেঙ্গে ফেলে এবং এটিই মূলত প্রধান কারণ চুলের ন্যাচারাল অয়েল ও প্রোটিন নষ্ট হওয়ার পেছনে। যার পরবর্তী ফল হিসেবে আমরা পাই চুল-পড়া, চুলের আগা ফেটে যাওয়া, ড্রাই হয়ে যাওয়া। কিন্তু তাই বলে আমরা স্টাইলিং টুলস ফেলেতো দিতে পারি না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বিয়েতে বা একটু নতুন লুক-এর জন্য স্টাইলিং লাগবেই। কিন্তু চুলের সঠিক যত্ন নিয়ে আমরা চুলকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারি। চলুন দেখে নেই কিভাবে বাসায় বানিয়ে ফেলতে পারবেন উপকারী কিছু হেয়ার প্যাকস!হেয়ার স্টাইলিং ও চুল মজবুত রাখার উপায়

১) হট অয়েল ট্রিটমেন্ট

বাসায় নারিকেল তেল সবারই থাকে। তেল গরম করে চুলে ম্যাসাজ করা খুবই উপকারী একটা পদ্ধতি চুলকে কোমল ও মসৃণ করার জন্য। 


প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এনরিচড কোকোনাট হেয়ার অয়েল একটি খুবই ভালো অপশন হতে পারে। এটি পুরোপুরি খাঁটি নারকেল তেল যা চুলে পুষ্টি জুগিয়ে চুলকে করবে মজবুত ও স্বাস্থ্যবান। আপনার চুলের জন্য যতটুক প্রয়োজন ততটুক তেল নিয়ে অল্প গরম করে নিন। এবার পুরো চুলে আঙ্গুলের ডগা দিয়ে ম্যাসাজ করুন। সারারাত রেখে পরের দিন শ্যাম্পু করে ফেলুন।


২) নারকেল তেল ও আমন্ড মিল্কের মাস্ক

এই প্যাকটির জন্য ৩টেবিল চামচ প্যারাসুট অ্যাডভান্সড কোকোনাট হেয়ার অয়েল, ৩-৪ টেবিল চামচ আলমন্ড দুধ, একটি ডিমের সাদা অংশ নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তারপর পুরো চুলে লাগিয়ে ১-২ ঘণ্টা রেখে দিন। এবার পছন্দমত শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।


৩) হেয়ার স্টাইলিং এর জন্য মেয়নেজ হেয়ার মাস্ক

মেয়নেজ চুলকে ঝকঝকে, মসৃণ ও হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। খাবারের পাশাপাশি আমরা এটিকে দারুণ একটি হেয়ার মাস্ক হিসেবে কাজ করতে পারে। একটি বাটিতে ২ টেবিল চামচ পরিমাণ মেয়নেজ নিয়ে তাতে অল্প পরিমাণ প্যারাসুট অ্যাডভান্সড কোকোনাট হেয়ার অয়েল দিয়ে মিক্স করে নিন। তারপর তা পুরো চুলে দিয়ে রেখে দিন ১ ঘণ্টার মত। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।


৪) কলা ও মধুর হেয়ার মাস্ক

এই হেয়ার মাস্কটি হিট স্টাইলিং টুলস ব্যবহারের ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া চুলের জন্য বেশ উপকারী একটি মাস্ক। কলা চুলের মসৃণতা ও কোমল ভাব ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। একটি বাটিতে একটি কলা, ২-৩ টেবিল চামচ মধু ও ২ টেবিল চামচ পরিমান প্যারাসুট অ্যাডভান্সড কোকোনাট হেয়ার অয়েল নিয়ে ভালোভাবে চটকে নিন। রেখে দিন ১ ঘণ্টার মত। তারপর বরাবরের মত শ্যাম্পু!ব্যস! এই কয়েকটি খুবই সহজ ঘরে বানানো হেয়ার মাস্ক আপনার চুলকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে। নিয়মিত ব্যবহার চুলকে করবে আবারো স্বাস্থ্যজ্জল।

বাড়বে চুলের ঘনত্ব আমলকীর হেয়ার গ্রোথ প্যাক দিয়েই!


অনেক ক্ষেত্রে চুল একটি নারীর ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে। সবার আশা থাকে চুল দ্রুত ও স্বাস্থ্যকরভাবে বেড়ে উঠুক। এটা তখনই সম্ভব যখন আপনি চুলের যত্নে স্বাস্থ্যকর উপকরণ ব্যবহার করবেন। আর চুলের দ্রুত বেড়ে উঠা, চুল মজবুত হওয়া, চুলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা এমন অনেক ধরনের উপকার করে থাকে যে স্বাস্থ্যকর উপাদানটি, তার নাম আমলকী। এই ফলটি প্রধানত এই উপমহাদেশে বেশি পাওয়া যায়। 

আমলকীতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস, গ্যালিক এসিড ইত্যাদি যা আমাদের দেহের উপকারের পাশাপাশি ত্বক ও চুলের যত্নে অসামান্য অবদান রাখতে সক্ষম। আজ আপনাদের জন্য ৪টি আমলকীর হেয়ার গ্রোথ প্যাক রইলো। এই প্যাকগুলো নিয়মিত ব্যবহারে আপনার চুল দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি চুল হবে ঘন, কালো এবং চুল পড়ার হারও অনেকাংশে কমে যাবে। তাহলে চলুন প্যাকগুলো দেখে নেয়া যাক!


চুলের ঘনত্ব বাড়াতে আমলকীর হেয়ার গ্রোথ প্যাক ৪টি

১. চুলের বৃদ্ধিতে আমলকীর তেল

যা যা লাগবে-

২ টেবিল চামচ আমলকীর গুঁড়া

২ টেবিল চামচ অলিভ/নারকেল তেল

যেভাবে ব্যবহার করবেন-

প্রথমে একটি প্যানে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল-এর সাথে আমলকীর গুঁড়া ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার চুলায় তেলটা বাদামি হয়ে যাওয়া পর্যন্ত হিট করুন। তারপর চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা হওয়ার জন্য রেখে দিন ১৫-২০ মিনিট। তারপর তেলটা হালকা গরম থাকা অবস্থায় চুলের গোড়ায় লাগাতে থাকুন প্রায় ১৫ মিনিট যাবত। তারপর পুরো চুলে লাগিয়ে ১ বা ১:৩০ ঘন্টা রেখে সালফেট-বিহীন কোন মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্যাকটি সপ্তাহে ৩বার ব্যবহার করুন।


এটি যেভাবে কাজ করে-

নারকেল তেল চুলের ভেতর থেকে পুষ্টি যোগায়। চুলকে মসৃণ করে তোলে। অপরদিকে অলিভ অয়েল চুলের ময়েশ্চারাইজিং-এর কাজ করে। আর  তেলের পুষ্টি উপাদানসমূহ আমলকীর গুণাগুণের সাথে যোগ হয়ে চুলকে উজ্জ্বল ও মজবুত করে তোলে এবং চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।


২. চুলের বৃদ্ধির জন্য আমলকী ও শিকাকাই

যা যা লাগবে-

২ টেবিল চামচ আমলকী গুঁড়া

২ টেবিল চামচ শিককাই গুঁড়া

৪ টেবিল চামচ পানি

যেভাবে ব্যবহার করবেন-

একটি বাটিতে আমলকী, শিকাকাই-এর গুঁড়া এবং পানি ভালোভাবে মিশিয়ে নিন এবং একটি মসৃণ পেস্ট বানিয়ে নিন। চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী পরিমাণ কম বা বেশি করতে পারেন। এবার এই মিশ্রণটি এমনভাবে ব্যবহার করুন যেন সম্পূর্ণ চুলে ভালোমত পেস্ট লেগে যায়। এবার মাস্কটি ৪০ মিনিটের জন্য চুলে রেখে দিন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। প্যাকটি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করতে পারেন।


এটি যেভাবে কাজ করে-

যদি আপনার চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা হয় তবে এই প্যাকটি আপনাকে সাহায্য করবে। শিকাকাই চুল ভেতর থেকে পরিষ্কার করে চুলের গোড়া মজবুত করে তোলে। এটি চুলকে সফট এবং সিল্কি করে তোলে খুব অল্প সময়ে এবং আমলকীর সাথে যুক্ত হয়ে এটি চুলকে পরিপূর্ণ পুষ্টি প্রদান করে।


৩. চুলের বৃদ্ধির জন্য আমলকী পাউডার এবং ডিম

যা যা লাগবে-

২টা  ডিম

১/২ কাপ আমলকী পাউডার

যেভাবে ব্যবহার করবেন-

একটি বাটিতে ২টি ডিম নিয়ে ভালো করে ফেটে নিন। এবার এর সাথে যোগ করুন আমলকীর গুঁড়া। যতক্ষণ পর্যন্ত একটি মসৃণ পেস্ট না তৈরি হয় ততক্ষণ পর্যন্ত ফেটতে থাকুন। পেস্ট তৈরি হয়ে গেলে এটি সম্পূর্ণ চুলে লাগিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করবেন।


এটি যেভাবে কাজ করে-

ডিমে আছে প্রচুর প্রোটিন যা চুলের গোড়া মজবুত করে চুলকে শক্তিশালী করে তোলে।  এটি আমলকীর সাথে যুক্ত হয়ে চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।


৪. চুলের বৃদ্ধির জন্য মেহেদি  ও আমলকী

যা যা লাগবে-

১ টেবিল চামচ আমলকী গুঁড়া

৩ টেবিল চামচ মেহেদী  গুঁড়া

৪ টেবিল চামচ হালকা গরম পানি

যেভাবে ব্যবহার করবেন-

একটি বাটিতে সবগুলো উপাদান নিয়ে একটি মসৃণ, সামঞ্জস্যপূর্ণ মিশ্রণ তৈরি করুন। একটি প্লাস্টিক বা কাঁচের বাটিতে মিশ্রণটি তৈরি করবেন মেটালের তৈরি কোন কিছু যেন ব্যবহার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। মিশ্রণটি সারারাত রেখে দিন। পরের দিন সকালে প্যাকটি মাথার স্ক্যাল্প-এ ও পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন  ১-২ ঘণ্টার জন্য। তারপর ঠাণ্ডা পানি ও মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্যাকটি মাসে একবার ব্যবহার করতে পারবেন।


প্যাকটি যেভাবে কাজ করে-

হেনা স্ক্যাল্প চুলের স্বাস্থ্যের জন্য একটি চমৎকার উপাদান। এটি  চুলের গভীর থেকে তেল এবং ময়লা অপসারণ করে আপনার চুলকে ভেতর থেকে মজবুত করে তোলে। মেহেদি নতুন চুল গজাতে সাহায্য করা পাশাপাশি চুলের অকালপক্বতা রোধ করে চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।

চুলের যত্নে আমলকী উপকারিতা অনেক। এটি স্ক্যাল্প-এর পি.এইচ (pH) লেভেল এবং তেলের ভারসাম্য ঠিক রাখে। এতে থাকা প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস হেয়ার ফলিকল-গুলোকে ময়লা থেকে রক্ষা করে এবং স্ক্যাল্প-এর সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি চুল ভাঙা রোধ করে এবং ত্বকে ব্লাড সার্কুলেশন বাড়িয়ে দ্রুত চুলের বৃদ্ধি ঘটায়। তাই অনন্য গুণের অধিকারী এই আমলকীকে আজই আপনার ডায়েট, হেয়ার এবং স্কিন কেয়ার রুটিনে যোগ করুন।