নিউজ

Other News

More news for your entertainment

রক্তে চিনির পরিমাণ কতটুকু কিভাবে জানবেন?


করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাসায় থাকতে বলা হচ্ছে বার বার। এই সময়ে বাইরে যেয়ে ব্লাড সুগার পরিমাপ করাটাও নিরাপদ নয়। কিন্তু বাসায় বসে কিভাবে জানবো রক্তে চিনির পরিমাণ কতটুকু, সেটাই ভাবছেন তো? অনেকেই ভাবেন একমাত্র ডায়বেটিস হলে রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে যায় আর তখনই ব্লাড সুগার চেক করতে হয়! কিন্তু এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক না। বিভিন্ন কারণে, বিভিন্ন বয়সে মানুষের শরীরে রক্তের গ্লুকোজ বা চিনির পরিমাণ কম বেশি হতে পারে। এর সাথে সাথে আপনি হয়তো বুঝতেও পারবেন না আপনার নার্ভ সিস্টেম, শরীরের কোষ এবং বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। তাই ডায়বেটিস রোগী ছাড়াও আমাদের সবারই রক্তে চিনির পরিমাণ কতটুকু সেটা চেক করা উচিত এবং এটা নিয়ন্ত্রণে কী কী করা যেতে পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। কথায় আছে না “স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল”! সুস্থ থাকার জন্য একটু সচেতন তো থাকতেই হবে। বাসায় বসে খুব সহজে কিভাবে ব্লাড সুগার পরিমাপ করবেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই চলুন!


রক্তে চিনির পরিমাণ মাপার উপায়

গ্লুকোমিটার

তৎক্ষণাৎ ব্লাড সুগার পরিমাপ করার জন্য গ্লুকোমিটার ব্যবহার করা হয়। যাদের বাসায় ডায়বেটিস পেশেন্ট আছে, তাদের কাছে এই ইকুইপমেন্টটি খুবই পরিচিত। খুব সহজে বাসায় বসেই ব্যথাহীন পদ্ধতিতে রক্তে চিনির পরিমাণ পরিমাপ করা যায়। মাত্র এক ফোঁটা রক্তই ব্লাড সুগার নির্ণয়ের জন্য পর্যাপ্ত। বার বার হাসপাতালে যাওয়ার চাইতে একটি গ্লুকোমিটার কেনা অনেক বেশি সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী। আকারে ছোট হওয়ায় ব্যাগে ক্যারি করাও যায়। বাইরে বেড়াতে গেলে বা যেখানে আশেপাশে ল্যাবরেটরি নেই, সেখানে গ্লুকোমিটারই একমাত্র ভরসা।


গ্লুকোমিটার কাদের জন্য?

শুধু যে ডায়বেটিস রোগীরাই রক্ত পরীক্ষা করবেন, এমনটি নয়। তারা তো অবশ্যই করবেন, সেই সাথে আমাদের সবারই এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ঝুঁকি এড়ানোর জন্য নিয়ম করে রক্তে চিনির পরিমাণ মাপা উচিত। আমাদের এখনকার লাইফস্টাইল, অফিসে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, জাঙ্ক ফুডের প্রতি আসক্তি, ব্যায়াম না করা এগুলোর জন্য অল্প বয়সে ব্লাড সুগার বেড়ে যায়। অনেকের আবার উল্টোটা হয় মানে ব্লাড সুগার কমে যায়। তাই সবারই চেক করা উচিত যে রক্তে চিনির পরিমাণ ঠিক আছে কি না!


কিভাবে বুঝবেন আপনার রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়ছে বা কমছে?

শারীরিক কিছু উপসর্গ দেখে বুঝতে পারবেন যে আপনার রক্তে চিনির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে বা কমেছে। আর নিয়ম করে যদি এই সিম্পল টেস্টটা বাসায় করে নেন, তাহলে আগে থেকেই সাবধান থাকতে পারবেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গ্লুকোমিটার আপনাকে দেখিয়ে দেবে রক্তের সুগারের মাত্রা। তারপরও শরীরের কয়েকটা সিম্পটম বা উপসর্গ সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো।


রক্তে চিনির পরিমাণ কমে গেলে যে সমস্যাগুলো হয়-

১) মাথা ঘোরা ও মাথা ব্যথা

২) হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া

৩) ক্লান্তি ও বিভ্রান্তির অনুভূতি

৪) হটাত শরীর ঘেমে যাওয়া ইত্যাদি


রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে গেলে যে সমস্যাগুলো হয়-

১) ঘন ঘন প্রস্রাব

২) ক্ষত সারতে সময় লাগা

৩) মুখের ভেতর শুকিয়ে যাওয়া

৪) কিছুক্ষণ পর পর খিদে পাওয়া

৫) রেস্ট নিলেও ক্লান্তি অনুভব করা

৬) কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি।

এসব লক্ষণ কখনোই অবহেলা করা ঠিক না। অবশ্যই রক্তে সুগারের মাত্রা টেস্ট করিয়ে নিতে হবে। কোনো সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধের দ্বারা রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা কতটুকু কন্ট্রোল হলো, সেটাও বোঝা যাবে এই টেস্টের মাধ্যমে।


গ্লুকোমিটার ব্যবহার করার পদ্ধতি

প্রথমে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে গ্লুকোমিটার চালু করতে হবে। গ্লুকোমিটারে স্ট্রিপ প্রবেশ করিয়ে নিন। আঙুলের ডগাটি তুলা দিয়ে মুছে নিতে হবে। আঙুলের ডগায় ল্যানসেট (Lancet) বা জীবাণুমুক্ত সূচ দিয়ে ফুটিয়ে নিন। রক্তের ফোঁটা বের হয়ে আসলে এটি স্ট্রিপের সাদা অংশে স্থাপন করতে হবে। কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হবে। রক্তশর্করা বা রক্তে চিনির পরিমাণ গ্লুকোমিটারের ডিজিটাল স্ক্রিনে ফুটে উঠবে। ব্যস, এভাবে খুব সহজেই জেনে নিতে পারেন ব্লাড সুগারের মাত্রা।


গ্লুকোমিটার ব্যবহারের সাধারণ ভুল কোনগুলো?

গ্লুকোমিটারের সাহায্যে রক্তে চিনির মাত্রা পরিমাপের আগে অবশ্যই হাত ধুয়ে নিতে হবে। হাত না ধুলে মাত্রা ভুল আসতে পারে। মনে রাখবেন, খাওয়ার পর এটা মাপার আগে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। অনেকেই খাওয়ার তিরিশ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পরেই মাপতে শুরু করেন, কিন্তু এতে ঠিক রেজাল্ট আসে না। আবার, সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করার জন্য ও অনেকদিনের পুরানো স্ট্রিপ ব্যবহারের কারণে ফলাফল ভুল আসতে পারে। অনেক সময় চেপে রক্ত বের করলে রক্তের চাইতে ইন্টারস্টিশল ফ্লুইড (Interstitial fluid) বেশি বেরিয়ে আসতে পারে। তাই এদিকেও খেয়াল রাখবেন। রক্ত নেওয়ার সময় আঙ্গুলের শেষ মাথায় ফোঁটা করতে হবে যাতে ব্যথা না লাগে। কারণ এখানে স্নায়ু কম থাকে।

তাহলে জানা হয়ে গেল, রক্তে চিনির পরিমাণ কতটুকু সেটা পরিমাপ করার সহজ উপায় সম্পর্কে। আমাদের ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকার জন্য বেশ কার্যকরী একটি ইকুইপমেন্ট এটি। অনেকেই স্ট্রিপ কোডিং বিহীন, খুব সহজে ব্যবহার করা যায়, তাড়াতাড়ি নির্ভুল রেজাল্ট দেবে এমন একটি গ্লুকোমিটার খোঁজেন। প্রয়োজনীয় এই জিনিসটি আপনি এখন সাজগোজে পেয়ে যাবেন। তাই এই ক্রাইসিসের সময়ে ঘরে বসেই ব্লাড সুগার মাপুন, বাসায় থাকুন, নিরাপদে থাকুন!

জীবন ধ্বংসকারী নয় তো রং ফর্সাকারী জনপ্রিয় পিল?


বেশ কিছুদিন যাবত অনলাইনে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। পরে আরও কিছু অনলাইন পেইজের বাস্তবতা দেখতে পাই যা দেখে আমি যারপরনাই রাগান্বিত এবং অসহায় বোধ করছি।কিছু ভূইফোড় অনলাইন পেইজে একইসাথে ব্রণের ট্রিটমেন্ট এবং রং ফর্সা করে এমন একটি ট্যাবলেটের বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে। দেখলাম এটি আর কিছুই নয়, এক ধরনের ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ প্রিপারেশন (Diane 35) বা সহজ বাংলায় যাকে জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি বলে! স্টেরয়েড মাখিয়ে আর খাইয়ে কম বারোটা বাজে নি যে এভাবে দেদারসে পিলের বিজ্ঞাপন চলছে! তাই এ ধরনের ঔষধের বিষয়ে আপনাদের সাবধান করার জন্যই আজকের লেখা। চলুন তবে দেখে নেই রং ফর্সাকারী জনপ্রিয় পিল কতটা ক্ষতিকর!


রং ফর্সাকারী জনপ্রিয় পিল যেভাবে ধ্বংস করছে আপনার জীবন

কী ধরনের ঔষধ এটি?

এটি আসলে এক ধরনের কন্ট্রাসেপটিভ পিল। সাইপ্রোটেরন ও এথিনাইল এস্ট্রেডিওলর (Cyproterone & Ethinyl Estradiol) নামক দু’ধরনের পদার্থের সমন্বয়ে এটি এক ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণকরণ পিল তবে কন্ট্রাসেপশনের চেয়ে পলিসিস্টের রোগীদের ক্ষেত্রে এটির ব্যবহার বেশি। স্কুলে বিজ্ঞান ক্লাসে একটি প্রচলিত বাক্য “সকল ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সকল ক্ষারকই ক্ষার নয়“। ঠিক তেমন এক্ষেত্রে বলা যায় পলিসিস্টের জন্য ব্রণ হয় কিন্তু সকল ব্রণের পেছনেই পলিসিস্ট আছে সেটি নয়। পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম এমন একটি সমস্যা যেখানে মেয়েদের দেহে ছেলেদের হরমোন বেড়ে যায় ফলে ব্রণ হওয়া, অবাঞ্চিত দাড়ি গোফ গজানোর মতো সমস্যা তৈরি হয়।

এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন মানুষদের ক্ষেত্রেই এই পিল বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে ব্রণ আছে বলেই ধুপধাপ পিল ধরিয়ে দিবেন এটা কখনোই মেনে নেয়া যায় না। এই পিলের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া আছে যে অন্য কোন ঔষধ (মাখার ক্রিম, ওরাল অ্যান্টি-বায়োটিক ইত্যাদি) কাজ না করলে এবং অবশ্যই উপসর্গ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম কনফার্ম হলেই তবে শেষ চিকিৎসা হিসেবে এই পিল দেয়া যেতে পারে এবং অবশ্যই তা অল্প দিনের জন্য।


কী ক্ষতি হয় এই রং ফর্সাকারী জনপ্রিয় পিল সেবনে?

কন্ট্রাসেপটিভ পিলের সাইড এফেক্ট কী হতে পারে তা সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা হয়তো আপনাদের আছে। তবুও বলছি কিছু কমন সমস্যার কথা। সেগুলো হলো-

১) বমিভাব

২) মাথা ব্যথা

৩) পেট ব্যথা

৪) অনিয়মিত মাসিক

তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত আর লিখছি না। সরাসরি চলে আসি আজকের মূল বিষয়ে।


ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিসসের সাথে রং ফর্সাকারী পিলের সম্পর্ক

ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (deep vein thrombosis) নামক একটি সিরিয়াস অসুখের সাথে এই পিলের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। এই অসুখে ভেইন বা শিরাতে অনুচক্রিকা অর্থাৎ থ্রম্বোসাইট, রক্তের চাকা তৈরি করে। ফলে রক্ত সঞ্চালন বাধাপ্রাপ্ত হয়। ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস যেকোন শিরাতেই হতে পারে। তবে সাধারণত হাত-পায়ের শিরায় বেশি হয় এবং মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় এবং যদি থ্রম্বোসিস ফুসফুসের শিরাতে তৈরি হয় তবে তা মারণঘাতি হতে পারে।তিন বছর আগে অস্ট্রেলিয়ান একজন এম.পি এর কন্যা এই পিল খাওয়ার পর ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিসের সমস্যা হলে সবাই এ ঔষধ নিয়ে নড়েচড়ে বসে। অথচ এর আগে থেকেই ফ্রান্সে অল্প আর ইউএসএ-তে পুরোপুরিই এ ঔষধ ব্যান হয়ে আছে। সাধারণত কিছু মেডিকেল হিস্ট্রি নেয়ার পর এবং প্রয়োজনীয় কিছু ইনভেস্টিগেশনের পর কনফার্ম হয়েই কেবল এ ধরনের ঔষধ প্রেসক্রাইব করা হয় উচিত। কিন্তু যারা রং ফর্সা করার কথা বলে বা ব্রণ কমানোর দাবী করে এ ধরনের ঔষধ দেদারসে বিক্রি করছেন তারা নিশ্চয়ই এতকিছু জেনে বিক্রি করছেন না!


আসলেই কি এই ঔষধে রং ফর্সা হয়?

এ বিষয়টি জানার জন্য নিশ্চয়ই আপনাদের মন এতক্ষণ খুব উদগ্রীব হয়ে ছিল? আসলে এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। একটাই ব্যাখ্যা সান্ত্বনা স্বরূপ দাঁড় করাতে পারি যে, যেহেতু এই পিলে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা অধিক তাই আপাতদৃষ্টিতে গ্লো আছে বলে মনে হতে পারে। যেমনটা গর্ভকালীন সেকেন্ড ট্রাইমেস্টারে দেখা যায় ইস্ট্রোজেনের আধিক্য হলে, ঠিক তেমনই। কিন্তু সেটা তাহলে ইস্ট্রোজেন আছে এমন যেকোন পিল থেকেই পেতে পারেন। দেহে প্রতিটি হরমোনের মাত্রা সঠিক থাকা বাঞ্ছনীয়। তা ইস্ট্রোজেনের ক্ষেত্রেও প্রোযোজ্য। ইস্ট্রোজেনের আধিক্য হলে ব্রেস্টের ফাইব্রোসিস্ট, অনিয়মিত মাসিক, মুখে ছোপ ছোপ দাগ, ওজন বেড়ে বা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। সবচেয়ে ভয়ংকর আমার কাছে যে বিষয়টি মনে হয় যে যেসব নারীরা সন্তান ধারণের চেষ্টা করছেন তারা যদি একে শুধু ব্রণ কমানোর বা ফর্সা হওয়ার ঔষধ ভেবে খেতে থাকেন তাহলে কী হবে? তিনি বা তার পরিবার হয়তো বুঝেই পাচ্ছেন না সন্তান কেন হচ্ছে না অথচ এর পেছনে তার এই ব্রণ দূর করা রং ফর্সাকারী পিল দায়ী!

একজন ডাক্তার হিসেবে জনসচেতনতা গড়তে অনুরোধ করবো যে, এ ধরনের ঔষধ বা পিল গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। শুধুমাত্র বাহ্যিক রং ফর্সা করার পেছনে না ছুটে, সচেতন হয়ে সুন্দর করুন ভবিষ্যত জীবনকে। না বুঝে নিজের ক্ষতি  আর করবেন না। এ ধরনের মারণঘাতি প্রোডাক্টের বাজারকে আশা করি আর বাড়তে দিবেন না। সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন!

আতঙ্কিত নয়, সচেতন হোন!করোনা নিয়ে সঠিক ধারণা


সার্স কভ-২ (SARS- Cov- 2) ভাইরাস আর তার থেকে হওয়া কভিড- ১৯ (COVID-19) অসুখ নিয়ে নানারকম তথ্য চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তার কিছু সত্য আর কিছু গুজব। এই সুযোগে যে যার মতো করে ব্যাখ্যা/অপব্যাখ্যা করছেন। তাই এ বিষয়ে কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ আলোচনার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি। চলুন তবে আজ করোনা নিয়ে সঠিক ধারণা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক!


করোনা নিয়ে সঠিক ধারণা রাখুন  

বায়ুবাহিত ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়?

প্রথমত এ ভাইরাসের বিষয়ে জানতে গেলে বায়ুবাহিত ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় সেটা বুঝতে হবে। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে যখন ভাইরাস ছড়ায় তখন তা বাতাসে মিশে যায় বা অন্য কোন বস্তুর ওপর পড়ে। তাই নিঃশ্বাসের মাধ্যমে বা ভাইরাস আক্রান্ত কোন বস্তু ধরলে সেখান থেকে এ জীবাণু অন্যের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। আর এটাই কারণ যে ভাইরাস থেকে বাঁচতে বারবার হাত ধুতে এবং মাস্ক ব্যবহারের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।


করোনা ভাইরাসের কর্মক্ষমতা ও তাপমাত্রার সাথে সম্পর্ক 

এছাড়াও অ্যালকোহলিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে, এটা কেন? এটা বুঝতে হলে একটু ভাইরাসের গঠন সম্পর্কে বুঝতে হবে। সোজা বাংলায় বললে ভাইরাস মূলত প্রোটিন আর ফ্যাটের তৈরি একটি জীবাণু। হ্যান্ড স্যানিটাইজারে (hand sanitizer) উপস্থিত অ্যালকোহল এই প্রোটিন আর ফ্যাটকে নষ্ট করে ভাইরাসের কাজের ক্ষমতা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। ফলে এটি মানুষের দেহে অতটা ভয়াবহ এফেক্ট করতে পারে না।

অনেকেই আবার বলছেন যে অতিরিক্ত গরমে এই ভাইরাস নষ্ট হয়ে যাবে তাই চিন্তার কিছু নেই। এর পেছনে একটি থিওরি হলো ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সার্স  (SARS) ভাইরাস সাধারণত শীতকালে ছড়ায় এবং বসন্ত আসতে আসতে এর প্রাদুর্ভাব কমতে শুরু করে। যেহেতু সার্স কভ-২ (SARS- Cov- 2)- এর সাথে সার্স (SARS) ভাইরাসের ৯০% গঠন মিলে, তাই ধারণা করা হচ্ছে হয়তো এ ভাইরাসটিও অতিরিক্ত গরমে টিকতে পারবে না। তবে এসবই এখনো অনুমান নির্ভর তথ্য। ২০০৭ সালে একটি গবেষণায় দেখা যায় গ্রীষ্মে যখন বাতাসে হিউমিডিটি বা আর্দ্রতা অনেক বেশি থাকে তখন হাঁচি-কাশির সাথে বেরিয়ে আসা ভাইরাল ড্রপলেট (viral droplet) পরিবেশ থেকে ময়েশ্চার নিয়ে অনেক ভারী হয়ে যায় এবং বেশি সময় বাতাসে ভাসতে পারে না ফলে মাটিতে পড়ে যায় এবং ম্যান-টু-ম্যান ট্রান্সমিশনের মাত্রা কমে যায়। এটিও অন্যতম কারণ এটা ভাবার যে গ্রীষ্মে এর প্রভাব অনেকটাই কমে আসবে। কিন্তু এখানে আমার দু’টি প্রশ্ন আছে। প্রথমত, অস্ট্রেলিয়া/ব্রাজিলের মতো দেশেও করোনা ছড়িয়েছে শীত আসার আগেই তাই আদৌ এ নিয়ম এ ভাইরাসের ক্ষেত্রে খাটে কিনা বলা যাচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, বাতাসে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকে না তাই ছড়ায় কম এ নিয়ম সেসব দেশের ক্ষেত্রে প্রজোজ্য হতে পারে যেখানে মানুষের সংখ্যা কম। কিন্তু এত ঘনবসতিপূর্ণ আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এ নিয়ম কতটা প্রযোজ্য হবে তা চিন্তার বিষয়। এছাড়াও এটি যেহেতু একটি নতুন ভাইরাস তাই এর সংস্পর্শে মানুষের দেহ কিভাবে রিয়েক্ট করে এটিও এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়েই আছে।


করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া মানুষের ডেথ রেট

 তবে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এ ভাইরাসের বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে৷ যেমন- এ ভাইরাসে নারীর চেয়ে পুরুষের ডেথ রেট বেশি। কেন এমনটা তা বুঝতে হলে নারী-পুরুষের জেনেটিক গঠন বুঝতে হবে। এক্স ক্রোমোজম (x-chromosome) এর প্যাথোজেন বা অসুখ হওয়ার পেছনে দায়ী অর্থাৎ এটি যেকোনো কিছুর কারণ ধরতে পারার ক্ষমতা বেশি। আর কারণ বুঝতে পারলে তবেই তো দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করবে। যেহেতু নারীদের এক্স ক্রোমোজম দু’টি আর পুরুষদের একটি এক্স ক্রোমোজম একটি এবং অন্যটি ওয়াই ক্রোমোজম (y- chromosome) তাই স্বভাবতই পুরুষের চেয়ে নারীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। আর এটিই কারণ যে করোনা আক্রান্ত পুরুষের মৃত্যুহার ২.৮%; যা নারীদের (১.৭%) চেয়ে বেশ খানিকটা বেশি। এছাড়াও যারা মারা গিয়েছেন তাদের মধ্যে আশি শতাংশই ছিলেন বয়োবৃদ্ধ (৬০ বছরের বেশি বয়ষ্ক) এবং শতকরা ৭৫ ভাগের মধ্যেই অন্যান্য অসুখের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। যেমন- কার্ডিওভাস্কুলার  ডিজিজ, ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেশার, ক্যান্সার ইত্যাদি অর্থাৎ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আগে থেকেই কম ছিল।


করোনা আক্রান্ত মানেই মৃত্যু নয় 

এত এত খারাপ খবর দেখে যাদের মন খারাপ হয়ে গিয়েছে তাদের এবার একটু ভালো খবর দেই। করোনা আক্রান্ত হওয়া মানেই অবধারিত মৃত্যু নয়। কোভিড-১৯ আক্রান্ত মানুষের কেস ফ্যাটালিটি প্রোপরশন অর্থাৎ ভাইরাস আক্রান্ত মানুষের তুলনায় মারা গিয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা গড়ে মাত্র ৩%। আর করোনা ভাইরাসের অনেকগুলো টাইপ রয়েছে। এর মাঝে ৭টি টাইপ দিয়ে মূলত অসুখ হয়। এর মাঝেও আবার ৪টি টাইপ দিয়ে শুধুমাত্র নরমাল হাঁচি-কাশির মতো সমস্যা হয়। কাজেই এত ভয় না পেয়ে কিভাবে এর বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় সেটিই এখন ভেবে দেখার বিষয়।


করোনা নিয়ে সঠিক ধারণা নিয়ে কিভাবে এ ভাইরাস মুক্ত থাকবো ?

প্রথমত করোনা কবে আসবে, কী হবে এসব না ভেবে নিজের ওভারঅল হেলথ কন্ডিশনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। প্রেশার, ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা থাকলে সেটি কন্ট্রোলে রাখা জরুরি। সুস্থ মানুষের মাস্ক পড়ে বসে থাকার চেয়ে অসুস্থ মানুষ যেন ভাইরাস না ছড়ান সেটি অধিক জরুরি। আপনার যদি ঠান্ডা-কাশি থাকে তবে অনুগ্রহ করে মাস্ক পড়ুন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার সাথে রাখুন এবং অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে নিজেকে সংবরণ করুন। কেননা দিন শেষে এতে আপনার, আমার, আমাদের সবার শুধু ক্ষতিই হবে।

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। একটু হলেও মনে সাহস সঞ্চার করবে। সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার পথ অবলম্বন করুন। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন!

করণীয় কী করোনাতে আক্রান্ত রোগীর?


করোনা নিয়ে আমরা সবাই আতঙ্কিত। বহিঃবিশ্বের ন্যায় এখনো যদিও আমাদের দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক আকার ধারন করে নি, তবুও যে ২/৪ জন আক্রান্ত হয়েছে তাদের মাধ্যমে যেন অন্য কারো এই ভাইরাস না ছড়ায় এবং আক্রান্ত রোগী যেন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে আসুন সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি। তাহলে চলুন আজকের লেখায় জেনে নেয়া যাক করোনাতে আক্রান্ত রোগীর করণীয় কী?


করোনাতে আক্রান্ত রোগীর করণীয় নিয়ে কিছু কথা 

কোন ব্যক্তির জ্বর (১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট/৩৮ডিগ্রি সেলসিয়াস এর বেশি) / কাশি/ সর্দি/ গলা ব্যথা/ শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি থাকে এবং তিনি বিগত ১৪ দিনের মধ্যে চীন বা অন্য কোন আক্রান্ত দেশ ( সিঙ্গাপুর, দঃ কোরিয়া, জাপান, ইটালী, ইরান ইত্যাদি) ভ্রমণ করে থাকেন অথবা এই সময়সীমার মধ্যে নিশ্চিত বা সম্ভাব্য কভিড-১৯ (COVID-19) আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসে থাকেন, তবে ঐ ব্যক্তি কভিড-১৯ আক্রান্ত ‘সন্দেহজনক রোগী’ হিসেবে বিবেচিত হবেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছে এমন সন্দেহকৃত রোগীদের পৃথকীকরণ, চিকিৎসা ও মনিটরিং হাসপাতালে হওয়া উচিত। কিন্তু, বিভিন্ন কারণে, যেমন- হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা যদি অপ্রতুল হয় অথবা রোগী যদি হাসপাতালে থাকতে রাজী না হয় ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ সকল রোগীদের বাড়ীতে স্বাস্থ্য সেবা/ পরিচর্যার বিষযটি বিবেচনা করা যেতে পারে।


WHO এর গাইডলাইন অনুযায়ী করোনাতে আক্রান্ত রোগীর করণীয় নির্দেশনা

আপনার উপসর্গগুলো সতর্কতার সাথে খেয়াল করুন। দেখুন নিম্নের উপসর্গের সাথে আপনার কোনো মিল খুজে পান কিনা!

১) জ্বর থাকলে নিয়মিত তাপমাত্রা পরিমাপ করুন।

২) যদি নতুন উপসর্গ দেখা দেয় বা আগের উপসর্গের অবনতি হয়, যেমন- শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তবে অতি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৩) যদি নতুন উপসর্গ দেখা দেয় বা আগের উপসর্গের অবনতি হয়, তবে- চিকিৎসকের বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর কাছে যাওয়ার পূর্বে তাঁদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করুন এবং আপনি যে COVID-19 এ আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগী তা জানান। আপনি পূর্বেই জানালে অন্য সুস্থ ব্যক্তিরা যেন আক্রান্ত না হয়/সংস্পর্শে না আসে এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য সেবা  প্রদানকারীর পক্ষে সাবধানতা অবলম্বন করা সম্ভব হবে।

৪) ভ্রমণের সময় এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রবেশের সময় মাস্ক ব্যবহার করুন। জনসমাগমে (ঘরে অথবা যানবাহনে) এবং কোন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে প্রবেশ করার পূর্বে মাস্ক ব্যবহার করুন। রোগীর মুখে মাস্ক পড়া সম্ভব না হলে (যদি মাস্কের কারণে শ্বাসকষ্ট হয়) বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা রোগীর ঘরে প্রবেশের পূর্বে মুখে মাস্ক ব্যবহার করবেন। আর মাস্ক পরে থাকাকালীন এটি হাত দিয়ে ধরা থেকে বিরত থাকুন। মাস্ক ব্যবহারের সময় প্রদাহের (সর্দি, থুতু, কাশি, বমি ইত্যাদি) সংস্পর্শে আসলে সঙ্গে সঙ্গে মাস্ক খুলে ফেলুন এবং নতুন মাস্ক ব্যবহার করুন। মাস্ক ব্যবহারের পর ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্রে ফেলুন এবং সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন।

৫) গণপরিবহন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন এবং সম্ভব হলে অ্যাম্বুলেন্স/নিজস্ব পরিবহন ব্যবহার করে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাবেন এবং যাত্রাকালীন সময়ে পরিবহনের জানালা খোলা রাখুন।

৬) সর্বদা শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্যবিধি (বিশেষ করে- কাশি শিষ্টাচার) মেনে চলুন, হাত পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং চলাচলের সময় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবস্থানকালে অন্যদের থেকে ১ মিটার (৩ ফিট) দূরত্ব বজায় রাখুন।

৭) শ্বাসতন্ত্র বা অন্য কোন প্রদাহের (সর্দি, থুতু, কাশি, বমি ইত্যাদি) কারণে যদি যানবাহনের কোন অংশ নোংরা হয়, তবে সেই স্থান জীবাণুমুক্ত করুন।

৮) চিকিৎসা সেবা নেয়া ব্যতীত নিজ বাড়িতে থাকুন। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেয়া ব্যতীত বাড়ির বাইরে যাবেন না। যদিও আমাদের দেশে এখনো স্কুল, কলেজ বন্ধের নির্দেশ দেয় নি, তবে নির্দেশনা পাবার সাথে সাথে তা যথাযথভাবে মেনে চলুন। তখন বাড়ির বাইরে কাজে, স্কুল, কলেজ অথবা জনসমাগমে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। আর যদি বের হতেই হয়, তবে গণপরিবহন ব্যবহার, অন্যদের সাথে একই যানবাহন অথবা ট্যাক্সি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এমনকি বাড়ির অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা থাকুন।

৯) করোনাতে আক্রান্ত রোগীর করণীয় হবে আলো বাতাসের সুব্যবস্থা সম্পন্ন আলাদা ঘরে থাকা এবং অন্যান্য সদস্যদের থেকে আলাদাভাবে থাকা। তা সম্ভব না হলে, অন্যদের থেকে অন্তত ১ মিটার (৩ ফুট) দূরে থাকুন ও ঘুমানোর জন্য পৃথক বিছানা ব্যবহার করুন। যদি সম্ভব হয় তাহলে আলাদা গোসলখানা এবং টয়লেট ব্যবহার করুন। সম্ভব না হলে, অন্যদের সাথে ব্যবহার করতে হয় এমন স্থানের সংখ্যা কমান ও ঐ স্থানগুলোতে জানালা খুলে রেখে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করুন।

১০) করোনাতে আক্রান্ত রোগী মা বাচ্চাকে দুধ খাওয়া্তে পারবেন। বুকের দুধ থেকে ভাইরাস বাচ্চার দেহে ছড়াবে না। তবে হ্যাঁ, বাচ্চাকে খাওয়ানোর সময় অবশ্যই যেন, হাঁচি, কাশি না ছড়ায়। তার জন্য মাস্ক পড়ে নিতে হবে এবং ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। আর তারপরও অতিরিক্ত সতর্কতা রক্ষার্থে বুকের দুধ ফিডারে ভরে কোনো সুস্থ ব্যক্তিকে দিয়েও খাওয়াতে পারেন।


করোনাতে আক্রান্ত রোগীর করণীয় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস 

১) হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে অথবা সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুবেন (বিশেষ করে যদি হাত দেখতে নোংরা লাগে সাবান-পানি ব্যবহার করুন)। অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করবেন না। সাবান-পানি ব্যবহারের পর টিস্যু দিয়ে হাত শুকনো করে ফেলুন। টিস্যু না থাকলে শুধু হাত মোছার জন্য নির্দিষ্ট তোয়ালে/ গামছা ব্যবহার করুন এবং ভিজে গেলে বদলে ফেলুন।

২) মুখ ঢেকে হাঁচি কাশি দিন। হাঁচি কাশির সময় টিস্যু পেপার/ মেডিকেল মাস্ক/ কাপড়ের মাস্ক/ বাহুর ভাঁজে মুখ ও নাক ঢেকে রাখুন এবং উপরের নিয়মানুযায়ী হাত পরিষ্কার করুন।  টিস্যু পেপার ও মেডিকেল মাস্ক ব্যবহারের পর ঢাকনাযুক্ত বিনে ফেলুন। কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করলে কাপড় কাঁচা সাবান/গুড়া সাবান দিয়ে কাপড়টি পরিষ্কার করে ফেলুন।

৩) ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী অন্য কারো সাথে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করবেন না। আপনার খাওয়ার তৈজসপত্র- থালা, গ্লাস, কাপ ইত্যাদি, তোয়ালে, বিছানার চাদর অন্য কারো সাথে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করবেন না। এ সকল জিনিসপত্র ব্যবহারের পর সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলুন।


কখন করোনা আক্রান্ত রোগীর আইসোলেশন শেষ হবে?

কভিড-১৯ এ আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগী/ রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি ততদিন পর্যন্ত বাড়িতে আইসোলেশনে থাকবেন যতদিন তাদের থেকে অন্যদের সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে না যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার আইসোলেশন শেষ হবে। চিকিৎসকের সিদ্ধান্তমতে একজন হতে অন্যজনের আইসোলেশনের সময়সীমা আলাদা হতে পারে। তবে, এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ সময়সীমা ১৪ দিন।


আপনি আইসোলেশনে থাকাকালীন কী করবেন? 

কভিড-১৯ সম্পর্কে জানতে পারেন আইসোলেশনে থাকার সময়। WHO, CDC, IEDCR এর ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পেতে পারেন। পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে ফোন/মোবাইল/ ইন্টারনেটের সাহায্যে যোগাযোগ রাখুন।পরিবারের শিশুকে করোনা সম্পর্কে সতর্কে করতে তাই হাইজিং এর গুরুত্ব বুঝান। তাদেরকে পর্যাপ্ত খেলার সামগ্রী দিন এবং খেলনাগুলো পরে জীবাণুমুক্ত করুন।

এইতো এই ছিল আজকের আলোচনা। ভয় না পেয়ে আসুন ধৈর্য্য ধারন করে সবাই মিলে এই কঠিন সময় থেকে পরিত্রাণ পাই। আপনার দৈনন্দিন রুটিন, যেমন- খাওয়া, হালকা ব্যায়াম ইত্যাদি মেনেই চলুন। সম্ভব হলে বাসা থেকে অফিসের কাজ করতে থাকুন। মনকে প্রশান্ত করে এমন কাজ করুন। এই সময়কে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগান, সাধারণত যা করার অবসর হয় না- বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা অথবা উপর্যুক্ত নিয়মগুলোর সাথে পরিপন্থী নয় এমন যে কোন বিনোদনমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করুন বা ব্যস্ত রাখুন। পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

যে কথা কেউ বোঝে না! প্রেগনেন্সিতে চুল পড়া


অধিকাংশ নারীর জন্যই ‘মা’ হওয়া একটা অসম্ভব প্রত্যাশা, একঝাঁপি স্বপ্ন, বুকফাটা কষ্ট এরপর অনেকটুকু আনন্দের একটা জার্নি! আর এই প্রেগনেন্সিতে চুল পড়া মায়েদের কমন প্রবলেম। সন্তান জন্মের পর নিজের চুলের কেয়ার-টা আসলে কিভাবে নিতে হবে এ নিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য জানা থাকলেই এই সমস্যা উতরে যাওয়া যায়।সন্তান পৃথিবীতে আসার আগে আর পরের অসম্ভব ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ একদিন হয়ত আয়নায় 


চোখটা আটকে যায়-

“আরে! তালু এতখানি দেখা যাচ্ছে কেন? সিঁথিটাতো এতো চওড়া ছিল না আমার!!”

হতাশ হয়ে  রিবারের ফ্রেন্ড-এর হেল্প চাইলেন, ওমা তারা বলে দিল এই লাইন-

“এখন ভাববি বাচ্চার কিসে ভালো হয়, কিসে বাচ্চা সুন্দর থাকে, তা না!! নিজের চুলের চিন্তা? বাদ দে তো…বাচ্চায় কনসেনট্রেট কর!!”সাথে সাথে মনে অপরাধবোধ চলে এল- আরে তাইতো, মা হয়ে ‘নিজের কথা’ একটু ভাবার দুঃসাহস আমার হল কিভাবে??

সন্তানের জন্মের পরের ৪-৫ মাস মেঝেতে ফ্লোরে বাথরুমে নিজের শখের গোছা চুল যখন অনাদরে পড়ে থাকতো… চুলগুলোর দিকে চেয়ে মাঝে মাঝে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা হত! কিন্তু নিজেকেই নিজে অজুহাত দিতাম-

“এখন তো আমার  শিশুর কেয়ার করার সময়, একটু এদিক সেদিক হলে কি হয়?”

তো এইসব ভেবে গত এক বছরে আমার মাথার তিনভাগের একভাগ খালি হয়ে যাবার পর আমার যখন টনক নড়লো তখনও তেমন একটা লেট হয় নি… আজ আমার গত এক বছরের প্রেগনেন্সিতে চুল পড়া নিয়ে জার্নির কথাই বলবো… কিভাবে আমি পোস্ট পারটাম হেয়ারফল বা প্রেগনেন্সিতে চুল পড়া প্রিভেন্ট করে কিছু নতুন চুল গজালাম…!বাবুর বয়স যখন ৫ মাস তখনি ডিসাইড করলাম- “আর না, সন্তানটির কেয়ার নিলে নিজের যত্ন নেয়াই যাবে না এমন রুলতো নেই কোনও”! আজ থেকেই দেখবো আর চুল পড়ে কিভাবে! এরপর শুরু হল রিসার্চ, আগে জানার ট্রাই করলাম-

কেন প্রেগনেন্সির পর হঠাৎ আমার গোছা গোছা চুল পড়ছে?

নরমাল মানুষের ডেইলি ১০০ টার মতো চুল পড়ে, কমন নলেজ। কিন্তু প্রেগনেন্সির সময়ে অনেক বেশি হেলদি খাওয়া-দাওয়া, সুস্থ লাইফস্টাইল মেইনটেইন করা আর  হরমোনাল কারণে চুল অনেক কম পড়ে! মোটামুটি সুপারমডেল টাইপ সিল্কি শাইনি চুল থাকে এক্সপেক্টিং মম-দের!শিশুর জন্মের পর আবার একটা বিশাল হরমোনাল চেইঞ্জ তৈরি হয় দেহে… দেহ নরমাল অবস্থায় ফিরে আসার জার্নি আর সাথে বাচ্চার কেয়ার নিতে গিয়ে নিজের রাতের ঘুম দিনের শান্তি নষ্ট হওয়া, দুই মিলে মাথা খালি হয়ে যেতে কয়েক মাসের বেশি কিন্তু লাগে না! এই সময়টাকে ভারিক্কি ভাষায় বলে Telogen Effluvium।এই অবস্থায় নরমালের চেয়ে অনেক বেশি চুলের গোঁড়ার মৃত্যু হয় । প্রায় ৬০-৭০% নতুন মায়ের চুল পড়ে বেসিক্যালি এই একই কারণে।


এরপরের টেনশন… তাহলে আমার কি টাক পড়ে যাবে?

গোছা গোছা চুল ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখে এই ভয়েই আমার হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যেত… কিন্তু না, বুঝতে পারলাম, প্রেগনেন্সির অন্যান্য উপসর্গের মতো এই অস্বাভাবিক চুল পড়াও টেম্পোরারি।টাক আমি হবো না, যদি আমি ঠিকমত রোজ নিজের কেয়ার আর চুলের কেয়ারের পেছনে একটু সময় দেই!

প্রেগনেন্সির ৩ মাস পর থেকেই বিচ্ছিরিভাবে হেয়ারফল শুরু হবার আগেই চুলের কেয়ারটা রোজ ঠিকভাবে নেয়া শুরু করা উচিত ছিল সেটা বুঝলাম… যেটা না করাটাই আমার প্রথম ভুল!কেয়ার-টা নিলে তালুটা আর ফাঁকা হত না।বাবুর একবছর বার্থডের আগেই আমার মাথার চুল ফেরত আনতে গেলে কী কী করতে হবে সেগুলো জানাটা ছিল আমার নেক্সট রিসার্চ টপিক-

প্রেগনেন্সিতে চুল পড়া রোধে নিজের কেয়ার-টা আসলে কিভাবে নিতে হবে?

প্রথমে কিছু লাইফস্টাইল টিপস-

(১) ব্লো ড্রাই, ফ্ল্যাট আয়রন বা এধরনের হিট স্টাইল একেবারেই নিষিদ্ধ নতুন মায়ের জন্য।

(২) সারাদিন বাচ্চার কেয়ার নেয়ায় চুল বিরক্ত করে বলে দিনের পর দিন টাইট খোঁপা  বেঁধে ফেলে রাখবেন না। মনে রাখবেন এসময়ই আপনার রুট-গুলো উইক হয়ে যাবে। টাইট করে বাঁধা খোঁপায় এই দুর্বল চুলের গোঁড়াই আরও বেশি করে উঠে চলে আসবে… চুল খুব আলগাভাবে বেণী করে রাখতে পারেন। বাট ‘নো পনিটেইল’ আর ‘নো টাইট বান’!

(৩) বাচ্চাকে ব্রেস্টফিড করাতে হবে বলে বেশি খেতে হয়… তাই বলে শুধু দিনে ২-৩ প্লেট ভাত খেয়েই দায়িত্ব শেষ ভাববেন না! শুধু ভাত-রুটি-চিনি দিয়ে কতগুলো Empty Calorie না খেয়ে একটু চিন্তা ভাবনা করে সুষম খাবার খান, যাতে প্রচুর প্রোটিন, মিনারেলস, দরকারি ভিটামিনগুলো আপনি পাবেন। শাক-সবজি, বাদাম, সিজনাল ফল যেন অবশ্যই ডায়েটে থাকে!! এর Anti-oxidant আপনার চুলের গোঁড়ার জীবনটা বাড়িয়ে দেবে।

(৪) আয়রন রিচ খাবার খাওয়া খুবই জরুরি– কলিজা, দুধ, ডিম, কচু, পালং শাক বেশি বেশি খেতে হবে।

উপরের কাজগুলো করার ফলে আমার অনেক অনেক হেল্প হয়েছে… আশা করি আপনাদেরও হবে।

আমার প্রেগনেন্সিতে চুল পড়া থামাতে চুলের যত্নে কী কী ইউজ করেছি

(১) আমি চুল রোজ সকালে একবার আর রাতে একবার আঁচড়াতাম।

(২) সপ্তাহে ৩ বার (মানে একদিন বাদ দিয়ে দিয়ে) পিওর নারিকেল তেল দিয়ে খুব ভালোভাবে স্ক্যাল্প-টা ম্যাসাজ করতাম। যাতে অবহেলায় তৈরি হওয়া খুশকিগুলো আলগা হয়ে যায় আর তেলটা একদম প্রতিটা চুলের গোঁড়ায় গোঁড়ায় পৌঁছে যায়… জাস্ট ১৫ মিঃ ম্যাসাজ করে চুলটা উল্টে আঁচড়াতাম, মানে চুলগুলো সামনে এনে ঘাড় থেকে শুরু করে কপালের দিকে চিরুনি চালাতাম… এতে অয়েল ম্যাসাজের ব্লাড সার্কুলেশন-টা বেড়ে যায়। আমি ব্যবহার করেছি প্যারাসুট কোকোনাট অয়েল। তেলটা দারুণ এবং আসলেই খাঁটি।

(৩) সারারাত নারিকেল তেলটা মাথায় রাখতে হবে। প্যারাসুট কোকোনাট অয়েল-এর সবচেয়ে ভালো দিক- চুলের গ্রোথ বাড়াবে আর গোঁড়াটা শক্তও করবে। এতে চুল পড়া যেমন কমে যাবে আস্তে আস্তে নতুন চুল গজাবেও… জাস্ট আমাকে struggle করতে হয়েছে রেগুলারিটি মেইনটেইন করতে গিয়ে…! সারাদিন বাচ্চার পিছনে সময় দিয়ে রাতে আর হাত চলত না… মনে হত তেল ফেলে দিয়ে কি হবে? ঘুমাই একটু বরং… কিন্তু যখন অয়েল ম্যাসাজ করার ১ মাসের ভেতরে হেয়ারফল দিনে ৮০-১০০ টা থেকে মাত্র ২৫-৩০ টায় নেমে এলো, এরপর আমি আর চুলে তেল ম্যাসাজে আলসেমি করিনি!!!

(৪) পরদিন সকালে খুব ভালোভাবে চুলটা শ্যাম্পু করে এয়ারড্রাই করে শুকিয়ে নিতাম।

(৫) ব্যস, এটুকুই… ঠিকভাবে খাওয়া, চুলে সঠিকভাবে অয়েল ম্যাসাজ আর শ্যাম্পু করা। আমি বাচ্চার বয়স ৮ মাস হওয়ার আগে চুলে একটা দিনও কোনও মাস্ক বা কিছু এক্সট্রা মাখার টাইম-ই পাই নি! কিন্তু তারপরেও আস্তে আস্তে আমার হেয়ারফল অনেকখানি কমে গেছে!


আমার চুলের বর্তমান অবস্থা

এখন বাবুর বয়স ১০ মাস, এখন রোজ গুনে দেখি আমার ১০-২০ টার মতো চুল পড়ছে। আর গত ২ মাসে স্ক্যাল্প-এ ছোটছোট অনেক বেবি হেয়ার গ্রো করেছে… ওগুলো তেল দিয়ে ঠিকভাবে বড় করাটাই এখন আমার টার্গেট।আশা করি আবার কিছুদিনের মধ্যে চুলের আগের ঘনত্ব ফিরে পাবো… থ্যাঙ্ক গড, হাল ছেড়ে না দিয়ে সময়মত একটু কেয়ার করেছিলাম! নইলে এতদিনে হয়ত শখের চুলগুলো কেটেই ফেলতে হত!!এইতো, এটাই আমার স্টোরি, হোপফুলি কেউ কেউ একটু হলেও আশার আলো দেখতে পেলেন।প্লিজ হতাশ হবেন না। বাচ্চার কেয়ার নেয়ার পাশাপাশি নিজের কেয়ারটাও করা জরুরি। এটা ভুলে যাবেন না। প্রেগনেন্সিতে চুল পড়া খুব ক্ষুদ্র করে দেখার বিষয় নয়! আর এও বলে রাখি, কেয়ার করতে গেলে সারাদিনই আয়নার সামনে বসে থাকার দরকার হয় না। সপ্তাহে জাস্ট কয়েকটা ঘণ্টাও কি নিজের জন্য দেবেন না?

একটু ভেবে দেখুন!

লক্ষণ ও চিকিৎসা জানেন কি?ফাংশনাল ওভারিয়ান সিস্ট


ওভারিয়ান সিস্ট এবং টিউমার দুটি আলাদা বিষয় হলেও অনেক সময় এ নিয়ে কনফিউশন থেকে যায়, যার ফলে নরমাল সিস্ট হলেও সঠিকভাবে বুঝতে না পারার জন্য রোগীরা দুঃচিন্তায় ভোগেন। শরীরে যদি কোন কারণে হরমোনের তারতম্য হয় তবে ফাংশনাল ওভারিয়ান সিস্ট বা ফিজিওলজিক্যাল সিস্ট তৈরি হতে পারে। এমন কিছু সিস্ট হচ্ছে ফলিকুলার এবং কর্পাস লুটিয়াম সিস্ট।


ফাংশনাল ওভারিয়ান সিস্ট ও এর লক্ষণ

১) আ্যসিম্পটোমেটিক

সাধারণত নরমাল অবস্থায় এরা  Asymptomatic (আ্যসিম্পটোমেটিক) হয়ে থাকে, অর্থাৎ কোন লক্ষণ প্রকাশ করে না। তবে কিছু  ক্ষেত্রে তলপেটে ব্যথা হতে পারে।

২) ফলিকুলার

বিভিন্ন রকম ওভারিয়ান সিস্ট-এর মধ্যে ফলিকুলার সিস্ট সবচেয়ে কমন, যা পলিসিস্টিক ওভারিতে হয়ে থাকে। মেয়েদের শরীরে হরমোনাল ইমব্যালেন্স হলে ওভুলেশন বা ডিম্বস্ফুটন ব্যাহত হয়।  নিয়মিতভাবে ডিম্বস্ফুটন  না হলে ডিমের এই আবরণী পরবর্তীতে ফলিকুলার সিস্ট-এ পরিণত হয়। যার ফলে রোগীরা অনিয়মিত মাসিক এবং বন্ধ্যাত্বের মত সমস্যায় ভুগে থাকে। এছাড়া এই সিস্ট-এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য যে সমস্যাগুলো থাকতে পারে তা হচ্ছে- অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, শরীরে অবাঞ্ছিত লোম, রক্তের ব্লাড সুগার বা কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।


ফাংশনাল ওভারিয়ান সিস্ট ও এর ডায়াগনোসিস

এই সিস্টের সাইজ  সাধারণত ৫-৭ সেমি হয়ে থাকে, ভিতরে ক্লিয়ার ফ্লুয়িড/পানি থাকে- আল্ট্রাসাউন্ড-এর মাধ্যমে ডায়াগনোসিস হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিউমার মার্কার যেমন, CA-125 দিয়ে এর প্রকৃতি (Benign or malignant) সম্পর্কে ধারণা করা হয়।


ফাংশনাল ওভারিয়ান সিস্ট ও এর চিকিৎসা

অন্যান্য ওভারিয়ান টিউমারের চিকিৎসা অপারেশন হলেও ওভারিয়ান সিস্ট-এর চিকিৎসায় অপারেশন দরকার হয় না, হরমোনাল ওষুধ দেয়া যেতে পারে।  সাধারণত ২-৩ মাসের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলো চলে যায়। এসময় অবশ্যই একজন গাইনোকোলজিস্ট-এর তত্বাবধানে থাকতে হবে।


অপারেশন লাগতে পারে কখন?

১. ওভারিয়ান সিস্ট টুইস্ট/পেঁচিয়ে যায় অথবা Rupture (ফেটে যাওয়া) হয়। এক্ষেত্রে হঠাৎ করে পেটে প্রচন্ড ব্যথা হয় এবং ইমার্জেন্সি চিকিৎসা করাতে হয়।

২. দীর্ঘদিন ধরে একই রকম থাকলে অথবা ধীরে ধীরে সাইজ বড় হলে কিংবা টিউমারের কোন লক্ষণ দেখা দিলে।

৩. মহিলাদের  ৪০ বছরের পর  যেকোন ওভারিয়ান  সিস্ট/টিউমার গুরুত্বের সাথে চিকিৎসা করাতে হবে, কারণ এক্ষেত্রে Malignancy বা ক্যান্সার হবার চান্স  থাকে।

মনে রাখতে হবে, ওভারির ডারময়েড সিস্ট এবং চকলেট সিস্ট-এর নামকরণে সিস্ট থাকলেও এগুলো ফাংশনাল বা ফিজিওলজিক্যাল নয়। এগুলো ওভারির প্যাথলজিকাল টিউমার, তাই এর চিকিৎসা পদ্ধতিও ভিন্ন।

অ্যাজমায় ভুগছেন কি গর্ভকালীন সময়ে?


গর্ভকালীন অ্যাজমা নিয়ে বলার আগে বলি, অ্যাজমা (Asthma) হল শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ। এর কিছু লক্ষণ হল শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, শ্বাসের সময় শব্দ হওয়া, বুকে ব্যথা অনুভব, কাশি। এসব লক্ষণ সাধারণত  রাতের দিকে বেশি অনুভুত হয়। এ রোগে বাইরে থেকে কিছু স্টিমুলেটিং বস্তু বা অ্যালার্জি শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহের সৃষ্টি করে এবং এর গঠনগত পরিবর্তন করে। এর ফলে বায়ু চলাচলের পথ সরু হয়ে শ্বাসকষ্ট হয়।


অ্যাজমার প্রকোপ ঘটাতে পারে এমন কিছু কারণ

ধুলোবালি,ফুলের রেণু ,ঠান্ডা আবহাওয়া।

শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়াম।

পরিবেশ দূষণ, সিগারেটের ধোঁয়া।

মানসিক চাপ।

প্রেগনেন্সি।

গর্ভকালীন অ্যাজমা কী কী কারণে হতে পারে?

১) বাচ্চা গর্ভে থাকা অবস্থায় মায়েদের কমবেশি শ্বাসকষ্ট হওয়া একটি সাধারণ বিষয়। কারণ গর্ভাবস্থায় ফুসফুসের অবস্থানের পরিবর্তন ও হরমোনের তারতম্যের কারণে এমনটি হয়ে থাকে।তাই এ সময় কেউ যদি প্রথমবারের মত অ্যাজমার লক্ষণ নিয়ে আসে, তবে তা নির্নয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ এটি স্বাভাবিক প্রেগনেন্সির জন্যও হতে পারে আবার অন্যান্য প্যাথলজিও থাকতে পারে, যেমন অ্যাজমা, থাইরয়েড হরমোনের অ্যাবনরমালিটি, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি। তাই অ্যাজমা নির্নয়ের জন্য দরকার সঠিক হিস্ট্রি ও পর্যবেক্ষণ।

২) গর্ভবতী নারীদের প্রতি একশ জনে ৩-৪ জন অ্যাজমায় ভুগে থাকে। গর্ভকালীন সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে (৫০%) অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে। কারো কারো ক্ষেত্রে শ্বাস কষ্ট বাড়ে (৩০%) এবং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে আগের চেয়ে শ্বাসকষ্ট কমেও যেতে পারে।

৩) অনিয়ন্ত্রিত অ্যাজমা গর্ভধারণকালীন সময়ে মা ও বাচ্চার জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে যেমন, কম ওজনের বাচ্চা জন্মদান, সময়ের আগেই বাচ্চা প্রসব, মায়ের ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়া, প্রি-এক্লাম্পসিয়া (Preeclampsia) ইত্যাদি।পরিণতিতে অনিয়ন্ত্রিত অ্যাজমা মা ও বাচ্চার অধিক মৃত্যু ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে থাকলে তা প্রেগনেন্সিতে তেমন ক্ষতিকর নয়।


গর্ভকালীন অ্যাজমা হলে কিছু করণীয়

(১) যেসব গর্ভবতী মা অ্যাজমায় আক্রান্ত বা গর্ভাবস্থায় এটি ধরা পরেছে তাদের উচিত প্রথম থেকেই একজন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিয়মিত তত্বাবধানে থাকা। প্রত্যেক মায়ের শ্বাসকষ্টের পরিমাণ অনুযায়ী আলাদা চিকিৎসা প্ল্যান থাকে। শ্বাসকষ্টের জন্য প্রচলিত দুটি ইনহেলার হল Beta-adrenergic agonist ও Corticosteroid ইনহেলার।

এছাড়া মুখে খাবার জন্য অন্যান্য ঔষধের মধ্যে রয়েছে থিওফাইলিন 

(Theophylline), মন্টিলুকাস্ট (Montelukast), কিটোটিফেন 

(Ketotifen), স্টেরয়েড ট্যাবলেট (Steroid Tablets)। অ্যাজমায় 

আক্রান্ত মায়েদের একটি বিষয়ে নিশ্বিন্ত করা প্রয়োজন যে এ রোগে ব্যাবহৃত এই ঔষধ গুলো গর্ভের বাচ্চার জন্য নিরাপদ। দেখা যায় আনেকেই গর্ভস্ত বাচ্চার ক্ষতির কথা ভেবে ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে হঠাৎ করে ঔষধ খাওয়া বন্ধ করে দেন, যার ফলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং অনেক সময় তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

(২) হজমে সমস্যা বা বুক জ্বালাপোড়া অ্যাজমার প্রকোপ বাড়াতে পারে। তাই ঔষুধের মাধ্যমে এসিড নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, একবারে বেশি না খেয়ে বার বার অল্প করে খেতে হবে এবং খাওয়ার তিন থেকে চার ঘণ্টা পর ঘুমোতে যাওয়া উচিত।

(৩) যে মায়েদের শ্বাস কষ্টের প্রকোপ বেশি থাকে তাদের উচিত গর্ভধারণের সাত মাস পর হতেই নিয়মিত বাচ্চার নড়াচড়া খেয়াল করা। বাচ্চার নড়াচড়া কম মনে হলে তা ডাক্তারকে জানানো উচিত।

(৪) যেসব অ্যালার্জি জাতীয় দ্রব্যাদির কারণে অ্যাজমার প্রকোপ বাড়তে পারে তা থেকে দূরে থাকতে হবে। এতে করে ঔষধ ব্যবহারের পরিমাণ কম থাকবে। অ্যাজমার প্রকোপ কমাতে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন দেয়া যেতে পারে যা গর্ভধারণকালীন যেকোন সময় দেয়া যায়।

(৫) অ্যাজমায় আক্রান্ত মায়েদের নিয়মিত তাদের বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াতে উৎসাহিত করা হয়, এতে করে বাচ্চা মায়ের কাছ থেকে তার প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি পাবে যা তাকে পরবর্তীতে অ্যাজমার বা যেকোন অ্যালার্জির আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখবে।

জেনে নিন বন্ধ্যাত্বের ৩টি বাস্তব ঘটনা!ইনফার্টিলিটি কেস স্টাডি


সব পরিবারেরই স্বপ্ন থাকে ঘর আলো করে ফুটফুটে একটি কন্যা বা পুরো বাড়ি তোলপাড় করা এক রাজপুত্র। কিন্তু বাচ্চা কনসিভ করতে ইচ্ছুক অনেক দম্পতিদেরই সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে পড়তে হয় জীবনের নানান বিপর্যয়ের মুখে। একজন ডাক্তার হিসেবে আমি এসকল সমস্যার একজন প্রত্যক্ষদর্শী। অনেকের ধারণা থাকে যে শুধু কম বয়স হলেই বাচ্চা কনসিভ করতে কোন সমস্যা হয় না। অথচ এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। যেকোনো বয়সেই বাচ্চা নেবার ক্ষেত্রে যে সমস্যা হতে পারে সেরকমই ৩টি ইনফার্টিলিটি কেস নিয়ে আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।


ইনফার্টিলিটি কেস-১

রোগীর নাম তানিয়া (ছদ্দনাম), বয়স ২৯। সে এসেছিল ফলিকুলোমট্রি রিপোর্ট নিয়ে। দেখলাম রিপোর্ট সেই একই অবস্থা, তার ওভারিয়ান ফলিকলগুলো ইনজেকশন দেওয়ার পরেও বড় হয় নি, অর্থাৎ রেজিস্টেন্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন সে পলিসিসটিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PCOS)-এ ভুগছিল, এখন আর  ফলিকলগুলো কোন ওষুধে বড় হচ্ছে না। উনি গত ১০ বছর যাবত বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। একের পর এক ওভুলেশন হবার ওষুধ খেয়েছে কিন্তু এই ওষুধে তার ওভারি রেসপন্স করছে কিনা এটা আর দেখা হয় নি।

এভাবেই ব্লাইন্ড ট্রিটমেন্ট চলছিল। এটা শুধু তার ক্ষেত্রেই না, এরকম অনেক পেশেন্টই আসে যারা প্রপার ট্রিটমেন্ট না পেয়ে অনেক মূল্যবান সময় পার করে ফেলে এবং পরবর্তীতে অনেক চেষ্টা চালালেও আর ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না। ইনফার্টিলিটি চিকিৎসায় একটি বড় প্রগ্নস্টিক ফ্যাক্টর (Prognostic Factor) হল বয়স, কারণ বয়সের সাথে সাথে ওভারির ফলিকলের সংখ্যা কমে আসে এবং এগুলোর কোয়ালিটিও খারাপ হয়ে যায়। যার ফলে বাচ্চা হবার সম্ভাবনা কমতে থাকে।  রিপোর্ট দেখে তাকে বললাম পরবর্তী চিকিৎসা হচ্ছে ল্যাপরোস্কপিক ওভারিয়ান ড্রিলিং (Laparoscopic ovarian drilling) করা, যাতে  ওভারির রেসপন্স করার সম্ভাবনা বাড়ে এবং IVF (টেস্ট টিউব বেবী)-এর ব্যাপারেও কাউন্সেলিং করলাম।এরপরে সে অঝরে কান্না শুরু করে দিল। পেশেন্ট শিক্ষিত হলেও যৌথ ফ্যামিলিতে সময় দিতে গিয়ে  নিজের চাকরীর কথা ভাবে নি। অথচ এখন তারা চিকিৎসার ব্যাপারে কোন ধরনের অর্থনৈতিক সাহায্য দিতে রাজি নয়।  শুধু শ্বশুর-শাশুড়ি নয়, তার হাসবেন্ড-ও অনেক কটু কথা শুনায় বাচ্চা না হওয়ার জন্য।  আমি তাকে অনেক ভাবে সান্তনা দিতে চেষ্টা করলাম, বললাম নিজের  সুদৃঢ় আইডেন্টিটি এবং পজিটিভ মনোভাব জীবনে অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সাহায্য করতে পারে। আর সবকিছু আল্লাহর মর্জির উপর ছেড়ে দিলে অনেক দুশ্চিন্তা লাঘব হয়ে যায়।


ইনফার্টিলিটি কেস-২

রোগীর বয়স ৩৫। বিয়ের প্রথম থেকেই সে বাচ্চা নেয়ার চেষ্টায় ছিল। কিছুদিন পরে কনসিভ হলেও ভাগ্যের পরিহাসে তিন মাসের মধ্যে অ্যাবরশন হয়ে যায়। এরপরে তারা আবারও চেষ্টা চালায় কিন্তু এবার আর কনসিভ হচ্ছিল না। একের পর এক ডাক্তার দেখিয়েছে, ফলপ্রসূ হয় নাই । এদিকে তার প্রতিমাসে পিরিয়ড-এর সময় পেটে ব্যথা এবং রক্তপাত ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।পরিচিত এক আত্মীয়ের মাধ্যমে যখন আমার চেম্বার-এ আসলো তখন তার প্রধান সমস্যা মাসিকের সময় প্রচন্ড তলপেটে ব্যথা এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ। ইনভেস্টিগেশন করে দেখলাম হরমোন লেভেল নরমাল এবং ওভুলেশনে কোন সমস্যা নেই, তবে আল্ট্রাসনোগ্রামে  অনেকদিন আগে থেকেই তিন থেকে চার সেমির একটি চকলেট সিস্ট (chocolate cyst) পাওয়া যায়, যা এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis) রোগের কারণে হয়ে থাকে।এই কারণে গত ৫-৬ বছর ধরে সে বিভিন্ন ডাক্তারের পরামর্শমত মাঝে মাঝে ওভুলেশন হবার ওষুধ খেলেও তা কোন কাজ করে নি। আমি তাকে এন্ডোমেট্রিওসিস  রোগটি কিভাবে কনসিভে বাধা সৃষ্টি করে সেটি বুঝিয়ে বললাম এবং এই সমস্যাটি এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে তা ভালোভাবে ডায়াগনোসিস-এর জন্য ল্যাপরোস্কপি করার পরামর্শ দিলাম। এরপর তারা ইন্ডিয়া যাবার সিদ্ধান্ত নিল এবং সেখানেও যখন একই পরামর্শ দেওয়া হলো তখন ল্যাপরোস্কপি করতে সম্মত হল। ল্যাপরোস্কপি করে দেখা গেল ফ্রজেন পেলভিস(frozen pelvis) অর্থাৎ জরায়ু, ওভারি, ফেলোপিয়ান টিউব, ইন্টেসটাইন (নাড়িভুঁড়ি) সবগুলো এমন ভাবে অ্যাডহেশন (একটার সাথে আরেকটা লেগে থাকা) হয়ে ছিল যে কোনোটাকেই আর আলাদা করে  চেনা যাচ্ছিল না। এমতাবস্থায় নরমাল ভাবে চেষ্টা করে কোনোভাবেই কনসিভ করা  সম্ভব না।আইভিএফ বা টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতি এর পরবর্তী চিকিৎসা।


ইনফার্টিলিটি কেস-৩

রোগীর বয়স ২৪, হাজবেন্ডের  ২৭- নতুন বিবাহিত দম্পতি। বিয়ের পর বাচ্চা নেওয়ার জন্য এক বছর ট্রাই করে যখন ব্যর্থ হলো তখন তারা বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল এবং একজন ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হলো। সেখানে বেশকিছু টেস্ট করানোর পর চিকিৎসকের সহকারী তাদেরকে ল্যাপরোস্কপিক অপারেশন করার জন্য একটি  ডেট  দিল। সেইসাথে অ্যানেসথেটিক (অজ্ঞান করার জন্য) ফিটনেস দেখার জন্য কিছু ইনভেস্টিগেশন  করতে  বলা হল। যেহেতু তারা ভালোভাবে বুঝতে পারল না অপারেশনটা কেন করা হবে তাই  তারা পরবর্তীতে আমার চেম্বারে শরণাপন্ন হলো। আমি তাদের পূর্বের ইনভেস্টিগেশনে দেখলাম হাসবেন্ড এবং ওয়াইফ উভয়ের সব রিপোর্ট ভালো আছে, আর বন্ধ্যাত্ব জনিত চিকিৎসা শুরু করার মতো এখনই কোন ইনডিকেশন নাই,  তাই তাদেরকে কোন চিকিৎসা ছাড়াই আরো ছয় মাস  স্বাভাবিক পদ্ধতিতে বাচ্চা নেয়ার চেষ্টা করতে বললাম। আল্লাহর রহমতে  এর ৩-৪ মাসের মধ্যেই তারা কনসিভ করতে সমর্থ হন।

একটি সন্তান পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখে বাবা ও মা দুজনের মাধ্যমেই। অথচ আমাদের দেশে মেয়েদেরকেই বন্ধ্যা ও অন্যান্য অনেক কিছু বলা হয়ে থাকে সন্তান না হবার কারণে, এটা কি মানসিকভাবে নেয়া যায় বলুন? না। সঠিক চিকিৎসা ও দিক নির্দেশনা পেলেই ঘোচানো যায় এই শারীরিক বন্ধ্যাত্ব।

নতুন ভিটামিন সি : নায়াসিনামাইড


ত্বকের উজ্জ্বলতা আর বয়স ধরে রাখার জন্য কয়েক বছর ধরে সৌন্দর্যসচেতন সবার কাছেই ভিটামিন সির বেশ কদর বেড়েছে। সিরাম, ময়েশ্চারাইজার ক্রিম, শিট মাস্ক বা ঘরোয়া মাস্ক—সবকিছুতেই ছিল ভিটামিন সি–যুক্ত পণ্যের দৌরাত্ম্য। তবে এখন এর বিশ্রামের সময় হয়েছে। স্কিন কেয়ার লেনে এসেছে নতুন উপাদান—নায়াসিনামাইড।

প্রতিবছর স্কিন কেয়ার ট্রেন্ডে নতুন নতুন উপাদান এসে যোগ হয়। কিছু উপাদান টিকে থাকে অনেক দিন। আর কিছু আসতে না আসতেই হারিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞ ডার্মাটোলজিস্টদের মতে নায়াসিনামাইড বেশ বড় একটি সময় ধরেই থেকে যাবে। আর এটি হতে চলেছে ভিটামিন সির এক দারুণ বিকল্প। অনেক ডার্মাটোলজিস্ট সবাইকে নায়াসিনামাইডযুক্ত স্কিন কেয়ার আর বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

নায়াসিনামাইড একধরনের ভিটামিন বি৩। একে নিকোটিনামাইডও বলা হয়। নায়াসিনামাইড শরীরকে এনএডি+ এবং এনএডিপি+ অণু দ্বারা সমৃদ্ধ করতে পারে। এই অণুগুলো শরীরে কোষের কাজ সঠিকভাবে সম্পাদনে সহায়তা করে ত্বকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। ভিটামিন বি৩-এর অভাবে ত্বক, কিডনি ও মস্তিষ্কের নানা রকমের সমস্যা দেখা দেয়। নায়াসিনামাইড গ্রহণ ভিটামিন বি৩–এর অভাব প্রতিরোধ করতে পারে। অনেকে নায়াসিন আর নায়াসিনামাইডকে এক মনে করেন। আসলে এই দুটি দুই রকমের ভিটামিন বি৩। তবে শরীরে অতিমাত্রায় নায়াসিন থাকলে তা দ্রুত নায়াসিনামাইডে পরিণত হতে পারে।

ত্বকের হাজারো সমস্যার একটি মাত্র সমাধান হতে পারে এই নায়াসিনামাইড। এ জন্য ডার্মাটোলজিস্টরা ইতিমধ্যেই এর নাম দিয়েছেন ‘সুপারস্টার ইনগ্রিডিয়েন্ট’। ভিটামিন সির মতো এটি ত্বক প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল করে এবং বয়সের লাগাম টানে। পাশাপাশি ত্বকে প্রোটিন (কেরাটিন) গড়তে সাহায্য করে, আর্দ্রতা আটকে দেয়, একে পরিবেশদূষণের ফলে হওয়া ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং তা সারিয়ে তোলার ক্ষমতা রাখে।নায়াসিনামাইডের সাহায্যে ত্বকে সেরামাইড নামের লিপিড ব্যারিয়ার জন্মায়, যা আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। এটি ইনফ্ল্যামেশন দূর করতে পারে। এ জন্য যাঁদের ত্বকে একজিমা, রোজেশিয়া, ব্রণের মতো সমস্যা আছে, তাঁরা নায়াসিনামাইডযুক্ত স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

এটি শুষ্ক, তৈলাক্ত ও সংবেদনশীল ত্বকের জন্য উপযোগী। সেবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে যে তেল নিঃসৃত হয়, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নায়াসিনামাইড। অন্যদিকে, ত্বকের পরিণত, অপরিণত যেকোনো ধরনের বয়সের ছাপ দূর করতে পারে। সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মির ফলে হওয়া ক্ষত এবং হাইপারপিগমেন্টেশন সারিয়ে তুলতেও এটি অনেক কার্যকর।

নায়াসিনামাইড শরীরে এমনি এমনি তৈরি হতে পারে না। খাদ্য বা সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। সবুজ সবজি, মটরশুঁটি, কিডনি বিন, ফাভা বিন, ব্ল্যাক বিন, মুগ ডাল, কাবুলি ছোলা, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদিতে অনেক ভিটামিন বি৩ তথা নায়াসিনামাইড আছে।যেহেতু অতিরিক্ত নায়াসিন একসময় নায়াসিনামাইডে পরিণত হয়, তাই চাইলে নায়াসিনসমৃদ্ধ খাবারও বেশি করে খেতে পারেন। সবচেয়ে বেশি নায়াসিন পাওয়া যায় মুরগির বুকের মাংস, টুনা, টার্কি, গরু বা খাসির কলিজা, বাদাম, লাল চাল, লাল আটা, মাশরুম, আলু ইত্যাদিতে।এখন ব্রণ বা ত্বকের অন্যান্য ইনফ্ল্যামেশনঘটিত সমস্যা সমাধানে ডার্মাটোলজিস্টরা এর সাপ্লিমেন্ট খেতে বলেন। আর ত্বকে সিরাম বা ক্রিম হিসেবে লাগালে ভালো উপকার পাওয়া যাবে।

রূপচর্চা রূপসী বিটে


রসে টসটসে লাল-বেগুনি বিট নিজেই দেখতে এত সুন্দর যে রূপচর্চার ক্ষেত্রে বিটের ব্যবহারের কথা উঠলে কেউই উড়িয়ে দেবে না। এখনকার দিনে প্রাকৃতিক উপাদানের সাহায্যে চর্চাকে সারা বিশ্বেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এক গাদা মেকআপের আবরণে নিজেকে ঢেকে না রেখে সুস্থ, সুন্দর, সজীব ত্বকের জয়জয়কার এখন সারা বিশ্বে। আর সঙ্গে বাড়তি পাওনা হিসেবে যদি ঘন, ঝলমলে এক ঢাল চুল থাকে, তবে তো সোনায় সোহাগা।প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে রূপচর্চা বিষয়ে যাঁরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করে চলেছেন, তাঁরা কিন্তু বিট নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখার ব্যাপারে যথেষ্ট জোর দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে বিটের ব্যবহার হচ্ছে প্রাকৃতিক স্কিন কেয়ার ও হেয়ার কেয়ারের পণ্যগুলোয়। আবার বিটে প্রাকৃতিক লাল রঞ্জক পদার্থ থাকায় ত্বক ও ঠোঁট রাঙাতেও অনেক মেকআপ কোম্পানি বিট চূর্ণ ব্যবহার করছে। আমাদের স্বাভাবিক ত্বক, রূপলাবণ্য আর চুলের বাহারকে আরও সুন্দর ও মোহনীয় করে তুলতে বিটের ব্যবহারগুলো দেখে নেওয়া যাক।


ত্বক ও চুলের যত্নে বিট খাওয়া

প্রকৃতপক্ষে, ভেতর থেকে পরিচ্ছন্ন, সুস্থ, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও নীরোগ ত্বক আর চুলই সুন্দর দেখায়।নয়তো শুধু সৌন্দর্যবর্ধকসামগ্রী আর প্রসাধনী কোনো কাজে আসে না। এই নাগরিক জীবনে পরিবেশদূষণ, খাদ্যে ভেজাল, অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ ইত্যাদি কারণে আমাদের ভেতরে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন টক্সিন ও ফ্রি র‍্যাডিক্যাল তৈরি হচ্ছে। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য নষ্ট হয়ে দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া, ত্বক ও চুলের রূপলাবণ্য হারিয়ে যাওয়া, চুল পড়ে যাওয়া—সবকিছুর জন্য এসব বিষাক্ত অবস্থা অনেকাংশে দায়ী বলে ধরা হয়।

তাই ভেতর থেকে আমাদের দেহমনকে বিশুদ্ধীকরণের জন্য প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ও ডিটক্সিফিকেশন করতে পারে এমন খাদ্য উপকরণ গ্রহণ করা এখন খুবই প্রয়োজন। এই নিরিখে, বিটালাইন নামক ফাইটোনিউট্রিয়েন্টসের খনি বিটরুট আমাদের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখা উচিত। এ ছাড়া এর আঁশ ও পানি হজমে সহায়তা করে বলে ত্বকে ব্রণ বা ফুসকুড়ি খুব কম ওঠে। এর ভিটামিন সি ত্বকের এবং ফলিক অ্যাসিড চুলের যত্নে অনন্য। আবার বিটের গ্লুটাথিওন নামের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট লিভারের কার্যকারিতা ভালো রাখে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। বিটের এই অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট লিভারের সমস্ত ক্ষতিকর বাই প্রোডাক্টকে দূর করতে সহায়তা করে। এতে ত্বকও ভালো থাকে।


বিটের তেল

নারকেল তেলে বিটের নির্যাস মিশিয়ে তৈরি হয় বিট এসেনশিয়াল ওয়েল। এই তেল চুলের গোড়া ও ত্বকে মেসেজ করে অনেক উপকার পাওয়া যায়। এই তেল ব্যবহার করে প্রাকৃতিক সাবানও বানানো হয়।


বিটের স্কিন সিরাম

বর্তমান যুগে স্কিন সিরাম রূপচর্চায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। সিরামে প্রয়োজনীয় উপাদানটিকে বেশি পরিমাণে অবিকৃতভাবে ত্বকে বা চুলে লাগানো হয়। বিটরুট দিয়ে বানানো স্কিন সিরাম বিশ্বব্যাপী এখন খুবই জনপ্রিয়। বিটে আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব ভিটামিন ও মিনারেল এত ভালোভাবে আছে যে একে সিরাম তৈরি করার জন্য রূপবিশেষজ্ঞরা খুবই উপযোগী মনে করেন। উজ্জ্বল ত্বক এবং বলিরেখা প্রতিরোধ করার জন্য বিটের সিরাম ব্যবহার করা হয়। এতে ত্বকের দাগও দূর হয় বলে এই সিরাম ব্যবহারকারীরা মনে করেন।


বিটের ফেসপ্যাক

বিটের সঙ্গে চালের গুঁড়ো, দুধের সর, দই, গোলাপ জল অথবা মুলতানি মাটির মতো ক্লে মাস্ক মিলিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকে টানটান ভাব ও লাবণ্যময় আভা ফুটে ওঠে। বিটের ভিটামিন সি কোলাজেনের আধিপত্য বাড়িয়ে ত্বককে সুস্থ-সুন্দর করে তোলে।


চুলের যত্নে বিটের রস

সরাসরি চুলের গোড়ায় নারকেল তেলে মিশিয়ে বিট জুস মেসেজ করতে হয়। খুশকিমুক্ত, মজবুত গোড়াযুক্ত চুল পেতে এই মেসেজ অনেক কার্যকর বলে অনেক স্যালন এক্সপার্ট মত দিয়ে থাকেন।চুল পড়াও কমে আসে বিট ব্যবহারে।


টোনার হিসেবে ঠান্ডা বিট জুস

মেকআপ তোলার পর বা মুখ ধুয়ে একেবারে রোমকূপ পর্যন্ত পরিষ্কার করতে ত্বকের জন্য টোনার ব্যবহার করা খুব উপকারী। এই টোনার হিসেবে ঠান্ডা, ফ্রিজে রাখা বিট জুস তুলায় নিয়ে মুখ ও গলা–ঘাড়ে লাগানো যায়। এতে ত্বক পরিষ্কার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোমকূপ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ভিটামিনও পৌঁছে যায়।


ত্বক ও ঠোঁট রাঙাতে বিট

বিটের রং অপূর্ব! কার না মন চাইবে সেই রঙে নিজেকে সাজাতে? বহু বছর ধরে বিখ্যাত ব্রিটিশ হারবাল স্কিন কেয়ার ও প্রসাধনী কোম্পানি ‘দ্য বডি শপ’সহ আরও অনেকে বিটচূর্ণ ব্যবহার করে ব্লাশার, রোজ, লিপ কালার, আইশ্যাডো বানায়। এমনকি আমরা নিজেরাই বিটের রস, গ্লিসারিন, শিয়া বাটার ইত্যাদির সমন্বয়ে লিপবাম বানাতে পারি। শীতের এই শুষ্ক আবহাওয়ায় ঠোঁট বিটের লিপবামের রঙে রাঙিয়ে বিটরঙা শাল জড়িয়ে বেরিয়ে পড়াই যায় কুয়াশাঘেরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

সোফিয়া আসছে সেবা দিতে


‘আমার মতো সামাজিক যোগাযোগে সক্ষম রোবটরা অসুস্থ ও প্রবীণদের সেবা দিতে পারে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আমি যোগাযোগে সহযোগিতা করতে পারি, রোগীকে ওষুধ দিতে পারি।’ কথাগুলো রোবট সোফিয়ার। হংকংয়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবটিকসের গবেষণাগারে সে এসব কথা বলেছে। এর মাধ্যমে রোবটটি ইঙ্গিত দিয়েছে, শিগগির সে কাজে নেমে পড়বে, সেবা দেবে মানুষকে।রোবট সোফিয়ার কথা হয়তো অনেকেরই মনে আছে। কথা বলে, নানা অভিব্যক্তি প্রকাশ করে এই রোবট বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণও করেছে রোবটটি।

২০১৬ সালে সোফিয়াকে তৈরি করা হয়। রোবটটির উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবটিকস।প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দিয়েছে, ২০২১ সালের প্রথম ভাগেই সোফিয়াসহ তাদের উদ্ভাবিত চারটি রোবট বিভিন্ন জায়গায় কাজ শুরু করবে। আর বছরের শেষ নাগাদ এ ধরনের রোবট ব্যাপক হারে তৈরির পরিকল্পনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এমনটা যে ঘটতে পারে, তা আগেই ধারণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছিলেন, করোনাভাইরাসের মহামারি রোবট প্রযুক্তির জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রোবটিকসের এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে পেশাদার কাজে সহযোগিতায় সক্ষম রোবটের বিক্রি বিশ্বজুড়ে ৩২ শতাংশ বেড়েছে। আর ২০২০ সালে মহামারির সময় এ ধরনের রোবটের ব্যবহার আরও বেড়েছে।

সোফিয়ার উদ্ভাবক এবং হ্যানসন রোবটিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ডেভিড হ্যানসন বলেন, করোনা মহামারির এই সময়ে মানুষকে নিরাপদ রাখতে আরও বেশি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, মহামারির এই সময়ে রোবট কেবল স্বাস্থ্যসেবাই দেবে না, খুচরা পণ্য বিক্রির দোকান, এয়ারলাইনসের কাজে সহযোগিতা করতে পারে।ডেভিড হ্যানসন বলেন, সোফিয়া এবং হ্যানসন রোবটিকসের অন্য রোবটগুলো অনেকটাই মানুষের মতো। এ কারণেই তারা অনন্য। মহামারির এ সময়ে মানুষ একাকী হয়ে পড়েছে, প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ কঠিন পরিস্থিতিতে এসব রোবট কাজে আসতে পারে। তিনি জানান, চলতি বছরে তিনি ছোট–বড় অনেকগুলো রোবট বিক্রির পরিকল্পনা করেছেন। তবে সেই সংখ্যা কত, তা তিনি জানাননি।

সোফিয়ার উদ্ভাবনে গবেষণায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির সোশ্যাল রোবটিকসের অধ্যাপক জোহান হুর্ন। তিনি বলেন, সোফিয়াকে যে প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে, তা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তারপরও মহামারির এ সময়টায় তাঁরা দ্রুত কাজ করছেন, যাতে এ ধরনের রোবট শিগগির বাজারে আনা যায়।

আর হ্যানসন রোবটিকসের গবেষণাগারে কথোপকথনের সময় সোফিয়া বলেছে, কিছু মানুষ হয়তো স্বাস্থ্যসেবার মতো স্পর্শকাতর কাজে রোবটকে নিযুক্ত করতে ভয় পায়। এরপরই তাকে একজন প্রশ্ন করেন, মানুষের কি রোবটকে ভয় পাওয়া উচিত? বিজ্ঞের মতো সোফিয়ার তাৎক্ষণিক জবাব ছিল, ‘কেউ একজন বলেছেন, আমাদের ভয় ছাড়া ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’

মূল্যছাড় করোনার টিকা নিলে


করোনাভাইরাসের টিকা নিলে দুবাইয়ের কিছু রেস্তোরাঁয় মূল্যছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে। যাঁরা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাঁরা পাবেন ১০ শতাংশ মূল্যছাড়। আর যাঁরা টিকার দুটি ডোজই নিয়েছেন, তাঁরা পাবেন ২০ শতাংশ মূল্যছাড়। দুবাইয়ের একটি রেস্তোরাঁ কোম্পানি ক্রেতাদের এমন প্রস্তাবই দিয়েছে। খবর:এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে এখন পর্যন্ত ২৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে।গেটস হসপিটালিটি নামক ওই কোম্পানিটি দুবাইয়ে তাদের তিনটি রেস্তোরাঁয় এ মূল্যছাড়ের সুবিধা চালু করেছে। তবে এ মূল্যছাড় পেতে হলে ক্রেতাকে টিকা নেওয়ার প্রমাণ হিসেবে টিকা নেওয়ার সনদ দেখাতে হবে। দুবাইয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।অনেকে এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ এটিকে ‘মার্কেটিং স্টান্ট’ বলে মন্তব্য করছেন।

টুইটারে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এটিকে দুভাবে দেখা যায়। হয় এটি এক রকমের মার্কেটিং স্টান্ট, নতুবা মানুষকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে এমন ব্যবস্থা।’দুবাইসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যান্য জায়গায় গত ডিসেম্বর থেকে ব্যাপকভাবে করোনার টিকা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ে একসঙ্গে চীনের সিনোফার্মের টিকা এবং ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে সম্প্রতি বেলজিয়ামে নিজেদের প্ল্যান্টে সমস্যা দেখা দেওয়ায় টিকার সরবরাহ পৌঁছাতে দেরি হতে পারে বলে ঘোষণা দিয়েছে ফাইজার। এর ফলে দুবাইয়ে টিকাদান কর্মসূচি খানিকটা ধীরগতিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে সিনোফার্মের টিকা পৌঁছাতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।নতুন বছরের শুরু থেকে করোনা সংক্রমণের হার বাড়ার পরও দুবাই এখনো ভ্রমণের জন্য খোলা রয়েছে। সেখানকার রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও বন্ধের ঘোষণা আসেনি। তবে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে।এএফপির তথ্যমতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৭৭ হাজার করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৭৯২ জন।

ট্রাইফল ম্যাংগো বিস্কিট


আসছে গ্রীষ্মকাল। ফলের ঋতু গ্রীষ্ম। আর পাকা আমের মৌ মৌ গন্ধে তখন চারদিক থাকবে ভরপুর। গ্রীষ্মের গরমে একটু স্বস্তি দিতে তাই এবার আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম পাকা আমের খুব মজাদার এবং সহজ একটি ডেজার্ট রেসিপি।


উপকরণ

১ ক্যান কন্ডেন্সড মিল্ক

১ ক্যান ক্রিম

টক দই (৫০০ মিলি)

অরিও/মেরী বিস্কিট

মাখন (১৫০ গ্রাম)

জেলাটিন (যে কোন ফ্লেভারের, আমি এখানে ফস্টার ক্লার্কের ৮৫ গ্রামের  জেলাটিন ব্যবহার করেছি)

পাকা আম

আনার


রন্ধন প্রণালী

–একটি ক্রিস্টাল ট্রে পট বা যে কোন ক্রিস্টাল বাটিতে  পানি মেপে নিন (যতটুকু লেয়ারের জেলী বানাতে চান)। পানিটুকু একটি পাত্রে নিয়ে তাতে সম্পূর্ণ জেলাটিন ঢেলে চুলায় মৃদু তাপে নাড়তে হবে জেলাটিন গলা না পর্যন্ত। সম্পূর্ণ জেলাটিন গলে গেলে সেটি চুলা থেকে নামিয়ে ক্রিস্টাল বাটিতে ঢেলে ফ্রীজে রেখে দিন জমার জন্য।

–এবার অন্য একটি বাটিতে সম্পূর্ণ ক্রিম, কন্ডেন্সড মিল্ক  ও টক দই নিয়ে ভালো করে মেশান।

–এবার অরিও/মেরী বিস্কিট গুঁড়া করে তাতে পুরো মাখন ঢেলে নিয়ে ভালো করে মেশান।এরপর ক্রিস্টাল বাটিতে জেলীর লেয়ারের উপর তা ঢেলে দিন। ১ ঘণ্টা ফ্রীজে সেট হওয়ার জন্য রাখুন।

–তারপর বাটি ফ্রীজ থেকে বের করে বিস্কিটের লেয়ারের  উপর ক্রিম, কন্ডেন্সড মিল্ক  ও টক দইয়ের মিশ্রণটি ঢেলে দিন। এর উপর পাকা আম টুকরো এবং আনার দিয়ে সাজিয়ে নিন।এরপর ফ্রীজে ৭-৮ ঘণ্টা রেখে দিন।

ব্যস! হয়ে গেল। উপভোগ করুন ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ম্যাংগো বিস্কিট ট্রাইফল।

মজাদার রেসিপি রেশমি জিলাপি


রেশমি জিলাপি খুব মজার এবং জনপ্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে একটি। স্পেশাল অকেশন ছাড়াও আমরা কমবেশি সকলেই জিলাপি খেয়ে থাকি এবং পছন্দ করি। চট করেই বানিয়ে ফেলা যায় মজার এই খাবারটি।


উপকরণ

৩ কাপ ময়দা

১/২ কাপ কর্ন ফ্লাওয়ার

২ কাপ ঘন টক দই

দেড় চিমটি বেকিং পাউডার

১/২ কাপ ঘি

২ কাপ সয়াবিন তেল

৩ কাপ চিনি

আড়াই কাপ পানি

খুব সামান্য জাফরান

সামান্য গোলাপ জল

১/২ চা.চা. এলাচ গুঁড়ো

১/২ চা.চা. খাবার রং (কমলা)


রন্ধন প্রণালী

– একটি বোলে ময়দা, কর্ন ফ্লাওয়ার ও বেকিং পাউডার মেশান। তাতে খাবার রং, দই ও পানি মিশিয়ে মাখান। ঘন হয়ে আসলে জিলাপির মিশ্রণটিকে ঢেকে ৮-১০ ঘণ্টা রেখে দিন।

– এবার একটি প্যান চুলায় মাঝারি আঁচে বসিয়ে তাতে পানি গরম করুন। চিনি মেশান এবং গলা পর্যন্ত নাড়ুন। গলে গেলে জাফরান, এলাচ গুঁড়ো এবং গোলাপ জল মেশান। নাড়তে থাকুন।সুগার সিরাপটি নামিয়ে রাখুন।

– আরেকটি পাত্র চুলায় বসিয়ে তাতে তেল গরম করুন মাঝারি আঁচে। এবার একটি কাপড়ে (মসলিনের মতো) জিলাপির মিশ্রণটিকে নিয়ে ছোট গোল করে কেটে নিন। উপর থেকে চাপ দিয়ে হাত ঘুরিয়ে তেলে ছাড়ুন। মচমচে ও সোনালী করে ভাঁজুন।

– ভাঁজা জিলাপিগুলো সুগার সিরাপে ২-৩ মিঃ চুবিয়ে রাখুন। সুগার সিরাপটি যেন হালকা গরম থাকে। এরপর জিলাপিগুলো সুগার সিরাপ থেকে উঠিয়ে বাটিতে সাজিয়ে গরম বা ঠাণ্ডা যেকোনো ভাবেই পরিবেষণ করুন।

রেসিপি লেমন ক্রিম পাই


আমি সাধারণত রান্না-বান্না খুব কম করি। কুকিং আমার কাছে শখের কাজ। স্পেশাল অকেশান ছাড়া আমার রান্না করার মুড খুব বেশি হয় না। কিন্তু বেকিং করতে আমার সবসময়ই ভাল লাগে। প্রতি উইকেন্ডে ইন্টারনেট ঘেঁটে নিত্য নতুন ডেজার্ট আইটেম বেক করা আমার হবি।আজকে লেমন ক্রিম পাই-এর রেসিপি শেয়ার করব যা আমি প্রতি ঈদে সন্ধ্যায় বানাই। এটা আমার ফ্যামিলির সবাই আর কাজিনরা খুব পছন্দ করে। খুব অল্প কিছু ইনগ্রেডিয়েন্টস দিয়েই বানিয়ে ফেলা যাবে এটা।


উপকরণ

৮-১০টা বিস্কুট; ডাইজেস্টিভ, মেরি, এনার্জি প্লাস অথবা মিল্কাস এগুলোর যে কোনটি।

৩ টেবিলচামচ মিহি করা চিনি।

৫ টেবিলচামচ বাটার, গলানো।

১ক্যান সুইটেন্ড কন্ডেন্সড মিল্ক

৩টি ডিমের কুসুম

৩/৪ কাপ লেবুর রস

১/২ চা চামচ ভ্যানিলা এসেন্স

১ কাপ হুইপিং/হেভি ক্রিম (বড় সুপারশপগুলোতে পাওয়া যায়)


প্রস্তুত প্রণালী

– ৩২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ওভেন প্রিহিট করুন। বিস্কুটগুলো গুঁড়ো করে একটা বোলে ঢেলে তাতে চিনি ও বাটার মিক্স করুন।

– বোলের তলায় মিক্সচার চেপে চেপে রাখুন এবং প্রিহিটেড ওভেনে ১২-১৪ মিনিট বিস্কুট ব্রাউন না হওয়া পর্যন্ত বেক করুন। এরপর এটা কিছুক্ষণ রেখে ঠাণ্ডা করুন।

– এরপর আবার ওভেন ৩২৫ ডিগ্রীতে প্রিহিট করুন।

– ডিমের কুসুম ও কন্ডেন্সড মিল্ক স্মুদ করে মেশান। এরপর এই মিশ্রণে আস্তে আস্তে লেবুর রস অ্যাড করুন। এরপর মিক্সচারটি ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া বিস্কুটের সেই বোলে ঢালুন। এরপর আবার ১৫ মিনিট বেক করুন।

– ক্রিম পাই ওভেন থেকে বের করে অ্যাট লিস্ট ৩ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন।

– সার্ভ করার আগে একটি ইলেক্ট্রিক মিক্সার বা হ্যান্ড মিক্সার দিয়ে হেভি হুইপিং ক্রিম ও ভ্যানিলা এসেন্স হুইপ করে ক্রিম বানান। এই ক্রিম সুন্দর করে লেমন ক্রিম পাইয়ের উপরে স্প্রেড করে পরিবেশণ করুন।

রেসিপি ম্যাংগো মুজ


এই গরমে ঠাণ্ডা মুজ এনে দিতে পারে একমুঠো প্রশান্তি। আর তা যদি হয় পাকা আমের, তাহলে তো কথাই নেই। আমের বিভিন্ন রেসিপি থেকে তাই আপনাদের জন্য আজ নিয়ে এলাম ম্যাংগো মুজ।


উপকরণ

ম্যাংগো পিউরি- ১ কাপ

ম্যাংগো- ১টি টুকরো করা

লেবুর রস- ১ টে.চা.

চিনি- ১/২ কাপ

জেলাটিন- ২ টে.চা.

২ টি ডিমের সাদা অংশ (এগ হোয়াইট)

ক্রিম- ১ কাপ ( যেকোনো ব্র্যান্ড এর ফ্রেশ ক্রিম বাজারে পাওয়া যায়)


প্রস্তুতি প্রণালী

– একটি বোলে ম্যাংগো পিউরি নিন। তাতে লেবুর রস দিন।

– গরম পানিতে জেলাটিন গলান। সম্পূর্ণ গলে গেলে এটি বোলের মিশ্রণটিতে ঢেলে দিন।

– অন্য একটি বাটিতে এজ্ঞ হোয়াইট বিট করে  ফ্লাফি ( ঘন সাদা ফোম) করুন এবং উঠিয়ে রাখুন।

– আরেকটি বোলে ক্রিম বিট করুন এবং হুইপড ক্রিমটি উঠিয়ে রাখুন।

– ম্যাংগো পিউরি এর বোলে চিনি দিয়ে বিট করুন। এরপর তাতে বিটেন এগ হোয়াইট ও হুইপড ক্রিম অ্যাড করুন। মিশ্রণটিকে ব্লেন্ড করুন।

– একটি বোল/গ্লাসে ব্লেন্ডেড মিশ্রণটি ঢালুন। ১-২ ঘণ্টা ফ্রীজে রাখুন।

– কিছু পাকা আমের টুকরো দিয়ে ডেকরেট করে পরিবেষণ করুন মজাদার ম্যাংগো মুজ।

মজাদার রেসিপি ওয়াটারমেলন আইসক্রিম


গরমে স্বস্তি পেতে আইসক্রিমের তুলনা নেই। আর ঘরেই যদি তা বানানো যায়, তাহলে তো আর কোন কথাই নেই। হুমড়ি খেয়ে সবাই আইসক্রিম খেয়ে সাবাড় করবে চোখের পলকে! আজ যেই ওয়াটারমেলন আইসক্রিমের রেসিপিটা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি তা কিন্তু খুব সহজ।“ঘরে আইসক্রিম বানাবো! কঠিন হবে না?”- এমনটা ভাববার অবকাশটুকুও কিন্তু দিচ্ছি না।তবে নিজেই দেখে নিন যে কিভাবে এই টেস্টি ওয়াটারমেলন আইসক্রিম বানবেন।


ওয়াটারমেলন আইসক্রিম বানানোর উপকরণ

তরমুজের ছোট ছোট টুকরো- ৪ কাপ

ফুল ক্রিম মিল্ক- ১/২ লিটার

চিনি- ৬ টে.চা.

কর্নফ্লাওয়ার- ২ টে.চা.

ফ্রেশ ক্রিম- ১ কাপ


ওয়াটারমেলন আইসক্রিম বানানোর প্রণালী

– তরমুজের কিউবগুলোকে একটি প্যানে রান্না করুন। সম্পূর্ণ পানি উঠে এলে ভালোভাবে রান্না অবস্থাতেই ম্যাশ করুন। জ্যামের মত হবে। জ্যামটি তুলে রাখুন।

– এবার অন্য একটি প্যানে ফুল ক্রিম মিল্ক নিয়ে ফোটান। সবটুকু চিনি তাতে ঢেলে দিয়ে চিনি গলা না পর্যন্ত নাড়তে থাকুন।

– একটি বাটিতে কর্নফ্লাওয়ার নিয়ে তাতে সামান্য পানি দিয়ে ভালোভাবে মেশান। মিশ্রণটিকে চুলায় থাকা দুধে ঢেলে দিন এবং ৩-৪ মিঃ রাঁধুন। একটু ঘন হলে একে উঠিয়ে নিয়ে ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য রেখে দিন।

– ঠাণ্ডা হলে দুধের মিশ্রণটিতে তরমুজের জ্যামটিকে ঢেলে দিন এবং ভালোভাবে মেশান।

– মিশ্রণটিকে একটি কনটেইনারে নিয়ে ১২ ঘণ্টা ফ্রীজে রেখে দিন।

– ১২ ঘণ্টা পর ফ্রোজেন মিক্সচারটিকে ফ্রীজ থেকে বের করে ছুড়ি দিয়ে পিস করুন। পিস করা হয়ে গেলে ১০ মিঃ একে বিট ভালোভাবে করুন।

– বিটেন মিক্সচারটিতে ক্রিম ঢালুন ভালোভাবে ব্লেন্ডেড না হওয়া পর্যন্ত বিট করুন।

– এরপর মিক্সচারটিকে কনটেইনারে নিয়ে ৬-৭ ঘণ্টা/ সারা রাত ফ্রীজে রাখুন।

ব্যস! ইয়ামি ওয়াটারমেলন আইসক্রিম তৈরি হয়ে গেল ।

মজাদার রেসিপি ভ্যানিলা কাস্টার্ড


গরমে প্রশান্তি এনে দিতে বা নাস্তায় কিংবা দাওয়াতে ডেজার্ট হিসেবে ঠান্ডা ঠাণ্ডা কাস্টার্ড কিন্তু একটি অসাধারণ ডিস। বাচ্চাদের সাথে সাথে আমরা বড়রাও কিন্তু কমবেশি প্রত্যেকেই কাস্টার্ডের ফ্যান, কি বলেন? আজ আমার ফেভারিট ভ্যানিলা কাস্টার্ডের রেসিপি শেয়ার করছি। একে একে আরও বিভিন্ন ফ্লেভারের কাস্টার্ড সম্পর্কে জানবেন সামনে। ভ্যানিলা দিয়েই স্টার্ট করলাম! কথা না বাড়িয়ে চলুন রেসিপিটা দেখে নেই ঝটপট!  আরে বানিয়ে একটু চেখে দেখতে হবে তো, নাকি!


উপকরণ

দুধ- ২ কাপ

কর্নফ্লাওয়ার- ২ টে.চা.

চিনি- ১/৩ কাপ

ডিম- ২ টি

ভ্যানিলা এসেন্স- ১ চা.চা.


প্রণালী

– একটি প্যানে দুধ নিয়ে তাতে চিনি, কর্নফ্লাওয়ার ও ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে মাঝারি আঁচে ফোটা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত হুইস্ক করুন। খেয়াল রাখবেন যেন কর্নফ্লাওয়ার নিচে জমে না যায়। ফোটা শুরু হলে চুলা নেভান।

– একটি বাটিতে ডিম বীট করুন। এতে দুধের মিশ্রণের কিছু ঢেলে হুইস্ক করতেই থাকুন।এরপর ডিমের মিশ্রণকে প্যানে অবশিষ্ট দুধের মিশ্রণে ঢেলে হুইস্ক করতেই থাকুন কন্টিন্যুয়াসলি।

– ভালমতো মিশে গেলে চুলায় বসিয়ে মৃদু আঁচ আবারো হুইস্কিং শুরু করুন, কিন্তু এবার ধীরে ধীরে। ২-৩ মিঃ হুইস্ক করুন, ঘন হয়ে আসবে মিশ্রণটি।এবার চুলা বন্ধ করে ঘন মিশ্রণটি কাপ বা বাটিতে ঢেলে ঠাণ্ডা করুন।তৈরি হয়ে গেল সুস্বাদু ভ্যানিলা কাস্টার্ড। উপরে চাইলে বাদাম কুঁচি বা ফলের টুকরো দিয়ে গার্নিশ করে নিতে পারেন।

মজাদার রেসিপি ম্যাংগো ফালুদা


একেতো মাথার উপর জ্বলতে থাকা দবদবে সূর্য, তার উপর রমজান মাস। সারাদিন রোজা রেখে ইফতারে মন জুড়ানো ঠাণ্ডা কিছু না হলে কি হয়? তাই ম্যাংগো ফালুদা হতে পারে এই রমজানে আপনার ইফতারের সঙ্গী। ফালুদা অনেক ভাবেই, অনেক উপকরণের সাহায্যে বানানো যায়। চলুন আজ তবে ম্যাংগো ফালুদা রেসিপিটি দেখে নেই!


ম্যাংগো ফালুদা যেভাবে বানাতে হয়

উপকরণ

১) তোকমা- ২ টেবিল চামচ

২) নুডুলস- ১ চা চামচ (সেদ্ধ)

৩) দুধ- ১/২ লিটার

৪) চিনি- ১/২  কাপ

৫) পাকা আম টুকরো- ২টি

৬) পাকা আমের পিউরি- ১/২ কাপ

৭) কাস্টার্ড পাউডার- ১ টেবিল চামচ

৮) জেলাটিন- প্রয়োজনমতো


প্রণালী

১. সবার আগে তোকমা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পানিতে ভিজে এগুলো একদম নরম তুলতুলে হয়ে যাবে।

২. তারপর একটি পাত্র চুলায় দিয়ে তাতে দুধ নিন। এর মধ্যে চিনি মিশিয়ে অল্প আঁচে নাড়তে থাকুন। কিছুক্ষণ নাড়ার পর অন্য একটি বাটিতে আধা কাপ দুধের সাথে কাস্টার্ড পাউডার গুলিয়ে তা চুলোর দুধের মধ্যে দিয়ে নাড়তে থাকুন। ৫-১০ মিনিট নাড়ার পর যখন দেখবেন দুধ ঘন হয়ে আসছে তখন পাত্রটি চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন।

৩. অন্য একটি পাত্রে একটি জেলাটিন-এর প্যাকেট-এর পুরোটা ঢেলে প্যাকেট-এর গায়ে লেখা নির্দেশাবলী অনুযায়ী জেলো বানিয়ে নিন। ফালুদার সৌন্দর্যের জন্য দু’ রঙের জেলো ব্যবহার করতে পারেন।

৪. এখন আসি সর্বশেষ প্রস্তুতিতে। প্রথমেই আপনার পছন্দ মত গ্লাসে তোকমা দিয়ে দিন। এরপর নুডুলস দিয়ে দিন এক চা চামচ। এর পর ম্যাংগো ফ্লেভার-এর জেলো দিয়ে দিন এক টেবিল চামচ। তার উপর ম্যাংগো পিউরি দিয়ে দিন দুই চা চামচ। কয়েকটি আমের টুকরো দিয়ে দিন এরপর। এর উপর আর এক লেয়ার অন্য রঙের জেলো দেয়া যেতে পারে। আপনি আপনার পছন্দমতো উপকরণগুলোর লেয়ারিং করতে পারেন। সবশেষে কাস্টার্ড-এর মিশ্রণটি ঢেলে তার উপর এক স্কুপ আইস্ক্রিম দিয়ে পরিবেশনের জন্য কাঠবাদামের টুকরো ছিটিয়ে দিতে পারেন। এবার ঠাণ্ডা হতে ফ্রিজে রেখে দিন।

ব্যস! ইফতার এর সময় ফ্রিজ থেকে বের করে এই গরমে উপভোগ করুন ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা জিভে জল আনা ম্যাংগো ফালুদা!

২টি মিষ্টি ইদের আইটেম!


ইদের মিষ্টি ফুড আইটেম নিয়ে কিন্তু একটা মাথাব্যথা থাকে! প্রত্যেক ইদে সেই একই সেমাই খেতে কার ভালো লাগে, বলুন? একটু ভিন্নতা তো আনতেই হয়।তাই আজ দুটো স্পেশাল রেসিপি নিয়ে এলাম আপনাদের জন্য।


বাদাম শির খুরমা

এই ফুড আইটেম-টি ইদের জন্য অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটা স্পেশাল সুইট ডিশ। এতে আছে মিনারেলস (ক্যালসিয়াম, আয়রন ও পটাসিয়াম), ভিটামিনস (এ, বি ও সি) এবং প্রোটিন। চলুন আর বাড়তি কথা না বাড়িয়ে ঝটপট রেসিপিতে চলে যাই।


উপকরণ

খেজুর – ১২ টা

পেস্তাবাদাম – ১/২ কাপ

ঘি – ৩ টে.চা.

চিনি – ১/২ কাপ

দুধ – ৫০০ মিলি

কাঠবাদাম – ১/২ কাপ

সেমাই – ১ কাপ

এলাচ – ৩টি


প্রণালী

১. খেজুর ও বাদামগুলো হাল্কা গরম পানিতে নরম না হওয়া পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখুন। তারপর  কুঁচি করুন। একটি পাত্রে ঘি নিয়ে মাঝারি আঁচে এদের সোনালি করে ভাজুন।

২. একটি বড় পাত্রে দুধ ভালো করে ফুটিয়ে উঠিয়ে রাখুন।

৩. আরেকটি পাত্রে ঘি নিয়ে মাঝারি-মৃদু আঁচে  সেমাই ভাঁজুন সোনালি করে। বারবার নাড়ুন যেন না পুড়ে। দুধ ও চিনি ঢালুন এতে, কিন্তু মিক্স করবেন না।

৪. ভাজা খেজুর-বাদামের অর্ধেকটা এতে দিন।

৫. এলাচ দিয়ে জ্বাল কমিয়ে দিন এবং ঘন হয়ে আসা পর্যন্ত রান্না হতে দিন।

৬. রান্না হয়ে গেলে নামিয়ে ফেলুন। ভাজা খেজুর-বাদাম কুঁচি উপরে ছিটিয়ে গার্নিশ করে পরিবেশন করুন মজাদার বাদাম শির খুরমা।


 শাহী ফিরনি

ইদে সকালের শুরুটা মিষ্টি মুখ করে হবে না, তা কি হয়? নামাজ শেষে পরিবারের সকলে মিলে টেবিলে বসে “শাহী ফিরনি” খেয়ে তারপরই না হয় সালামির পর্বটা সারলেন!চলুন তবে এই অত্যন্ত টেস্টি আর হেলদি ডিশের রেসিপিটাও জেনে নেই চট করে!


উপকরণ 

ফুল ক্রিম মিল্ক – ১ লিটার

গুঁড়ো দুধ – ৪ টে.চা.

১/৩ কাপ আধ ভাঙা চাল

বাদাম – ১/৩ কাপ, আধ ভাঙা

চিনি – ১/২ কাপ

এলাচ – ৪ টি

দারুচিনি – ১ টি স্টিক

জাফরান (সামান্য দুধে ভিজিয়ে রাখুন)

গোলাপজল – ১ টে.চা.

বাদাম কুঁচি (সাজানোর জন্য)


প্রণালী

১. লিকুইড দুধে গুঁড়ো দুধ, এলাচ আর দারুচিনি দিয়ে ফুটিয়ে সামান্য কমান। তারপর চাল আর বাদাম মিশিয়ে নাড়তে থাকুন কনটিন্যুয়াসলি যাতে নিচে পুড়ে না যায়। ২৫-৩০ মিঃ রেঁধে চিনি মিশিয়ে আর ১০ মিঃ রাঁধুন।

২. জাফরান মেশান। বেশি ঘন করবেন না, কারণ ঠাণ্ডা হলে আরও ঘন হয়ে যাবে। গোলাপজল মেশান।

৩. এলাচ আর দারুচিনি ফেলে দিন। বাটিতে ঢেলে উপরে বাদাম কুঁচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার শাহী ফিরনি।

৭টি উপায় জানা আছে কি অফিস সহকর্মীর প্রতি দূর্বলতা এড়ানোর?




কর্মক্ষেত্রে ক্রাশ হওয়া স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। আপনি নিজের কর্মক্ষেত্রে সপ্তাহে ৪০ ঘন্টারও বেশি সময় ব্যয় করেছেন। এসময়টুকুতে নিজের অনুভূতিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং তাকে উপেক্ষা করা কঠিন হতে পারে কারণ আপনার তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এমন অবস্থায় কি করবেন? আজকে আমরা আপনাদের জানাবো অফিস ক্রাশ মোকাবেলা বা অফিস সহকর্মীর প্রতি দূর্বলতা এড়ানোর  জন্য ৭টি উপায় সম্পর্কে!


অফিস সহকর্মীর প্রতি দূর্বলতা এড়ানোর উপায় 

সিংগেল কিনা জেনে নিন

সবার আগে জেনে নিন আপনার অফিস ক্রাশ সিংগেল কিনা। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার আশীর্বাদে এটা জানা খুবই সহজ।  তবে সবসময় সোশ্যাল মিডিয়া আপনাকে এক্ষেত্রে সাহায্য নাও করতে পারে। তখন অন্য কোন উপায়ে জানার চেষ্টা করুন। যদি তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন আপনাকে দূরে থাকতে হবে। তিনি যদি অবিবাহিত হন তাহলে আপনি আপনার ভাগ্য পরীক্ষা করতে পারেন। কিন্তু কারো সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে থাকলে তার থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।


অফিস সহকর্মীর প্রতি দূর্বলতা দূর করতে অনুভূতিগুলোকে প্রশ্রয় না দেয়া 

কাউকে পছন্দ করা পুরোপুরি ঠিক আছে, বিশেষত ওয়ার্কস্পেসের মতো একটি সেটআপের কারণে আপনি প্রতিদিন ভিত্তিতে একে অপরের সাথে দেখা করছেন এবং একসাথে দীর্ঘ সময় ব্যয় করছেন।তবে কাউকে পছন্দ করার অর্থ এই নয় যে আপনার অনুভূতিগুলোকে প্রশ্রয় দিবেন। আপনি কাওকে পছন্দ করলে তাকেও আপনাকে পছন্দ করতে হবে তা কিন্তু নয়। তাই যতটুকু পারেন নিজের অনুভূতিগুলোকে প্রশ্রয় দিবেন না।


অফিস সহকর্মীর প্রতি দূর্বলতা দূর করতে বন্ধুত্ব করুন 

 আপনার অফিস ক্রাশের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারেন। অনেক সময় বন্ধুত্ব করার ফলে অনুভূতিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করা করা সহজ হতে পারে। আপনি চাইলে বন্ধুত্বের সম্পর্কের মাধ্যমে নিজের অনুভূতিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেন।


অফিস সহকর্মীর প্রতি দূর্বলতা দূর করতে সহকর্মিদের শেয়ার করবেন না

 আপনার সহকর্মিদের সাথে আপনার অফিস ক্রাশ সম্পর্কে কিছুই শেয়ার করবেন না। এতে করে পুরো অফিসে আপনি হাসির পাত্র হতে পারেন। তাই সহকর্মিদের কাছে এইসব ব্যাপারগুলো লুকিয়ে রাখাই শ্রেয়।


একা না গিয়ে গ্রুপে ঘুরতে যান

আপনার অফিস ক্রাশের সাথে একা কোথাও ঘুরতে গেলে হয়তো আপনি আপনার অনুভূতিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবেন না। তাই একা না যাওয়াই ভালো। সবসময় গ্রুপের সাথে ঘুরতে যাবেন এতে করে আপনার অনুভূতি বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব হবে।


অপরাধবোধ থেকে দূরে থাকুন

আপনার অফিসে কলিগের প্রতি আপনি কিছু ফিল করছেন তা নিয়ে যদি আপনি অপরাধবোধ করে থাকেন তাহলে তা অবশ্যই দূর করুন। একসাথে কাজ করতে গিয়ে কাওকে পছন্দ হতেই পারে। এতে অপরাধবোধ করার কিছুই নেই।


কফি কিংবা লাঞ্চ ইগনোর করুন

অফিস ক্রাশের সাথে একা কোথাও লাঞ্চ কিংবা কফি খেতে যাবেন না। যদি কোথাও যেতে হয় তাহলে অবশ্যই গ্রুপের সাথে যাবেন। এতে করে অনুভুতিগুলো কন্ট্রোল করা সম্ভব হবে।অফিসে কোনো সহকর্মীকে ভালো লাগতেই পারে। এতে বিব্রতবোধ করার কিছুই নেই। কেবলমাত্র কিছু উপায় অবলম্বন করে আপনি এই সমস্যার মোকাবেলা করতে পারেন। তো বিব্রতবোধ না করে কেবলমাত্র ৭টি উপায় অবলম্বন করে আপনার অনুভূতিগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করুন এবং অফিস ক্রাশ মোকাবেলা করুন।

৭টি উপায় অফিসের কাজ দ্রুততার সাথে করার


একসাথে অনেক কিছুতে মনোযোগ দিতে গিয়ে প্রায়ই আমরা সময়মতো অফিসের কাজ শেষ করতে পারি না। প্রত্যকটা মানুষের কাজের একটা নির্দিষ্ট ধরন আছে, একেক রকম টাইমিং আছে। তাই এটাই স্বাভাবিক যে একেকজনের কাজ একেক সময় শেষ হবে। কিন্তু কর্মজীবনে আমাদের সবাই সেই ছাড় পায় না। অনেকের সব কিছুই এখনি চাই, এই মুহূর্তে চাই। অনেক সময় মনে হয়- “বাকি কলিগরা কিভাবে ফটাফট কাজ শেষ করে ফেলছে! ওদের কাছে এমন কী জাদুমন্ত্র আছে যে ওরা দুই ঘণ্টার কাজ বিশ মিনিটে শেষ করে ফেলে? আমি কি তাহলে ওদের চেয়ে কাজে খারাপ?” আসলে ব্যাপারটা মোটেও সেরকম না। আপনার কাজ করার ধরনে কিছু পরিবর্তন আনলে আপনিও পারবেন ঝটপট অফিসের কাজ শেষ করতে। এই ৭টি উপায়ে আপনি বাড়িয়ে ফেলতে পারেন আপনার প্রোডাক্টিভিটি! চলুন তবে উপায়গুলো জেনে নেই!


অফিসের কাজ দ্রুততার সাথে করার ৭টি উপায় 

১) কাজের প্রাধান্য অনুসারে লিস্ট করুন

একজন ভালো কর্মচারীর সবচেয়ে বড় গুনের একটা হল প্রায়োরিটি সেট করতে পারা। আপনাকে বুঝতে হবে কোন কাজটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা আগে ধরা। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজটা জটিল ও সময় সাপেক্ষ হতে পারে। তখন আপনাকে বুঝে নিতে হবে কাজটিতে যথেষ্ট সময় দেওয়ার জন্য আপনি আগে সেটা করবেন নাকি ছোট খাটো কাজগুলো আগে সেরে নিবেন। যদি কোনভাবেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটির জন্য বাড়তি সময় ম্যানেজ না করা যায়, তাহলে আগে সেটা শেষ করে বাকিগুলো ধরুন। প্রতিদিন অফিসে ঢুকেই আপনাকে টু ডু লিস্টটা প্রায়োরিটি অনুসারে সাজাতে হবে।


২) নিজের কাজের অভ্যাস বুঝুন একেক মানুষ একেকভাবে কাজ করে। কেউ কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনলে ভালো কাজ করতে পারে, আবার কেউ গান শুনলে ফোকাস হারিয়ে ফেলে। আপনি খেয়াল করে দেখুন আপনি কিভাবে কাজ করলে আপনার মনোযোগ দিতে সুবিধা হয়। যা যা কাজের সময় আপনার মনোযোগে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, সে সব কিছু দূরে সরিয়ে রাখুন। আপনার ডেস্ক এমনভাবে সাজিয়ে রাখুন যেন আপনার মনোযোগ দিতে সুবিধা হয়।


৩) বড় কাজগুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন আমাদের কাজে যখন বড় কোন কাজ আসে, যেটা আমাদের কাছে জটিল মনে হয়, তখন আমনা জেনে বা নিজের অজান্তে সেই কাজটা পিছাতে থাকি। কাজটা থেকে সারাদিন ধরে পালাতে থাকি। কিন্তু কাজটা আসলে ভয় না পেয়ে আমাদের উচিত বড় কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নেওয়া। ধরুন আপনাকে সারা বছরের একটা কাজের ক্যালেন্ডার বানাতে হবে। আপনি সেটা ছোট অনেকগুলো পার্টে ভেঙ্গে সেগুলোতে ফোকাস করুন, একবারে পুরো ক্যালেন্ডারের কথা ভাবলে সব তালগোল পাকিয়ে যাবে। আগে ভাবুন আপনি প্রথম সপ্তাহের জন্য কী করবেন। একবার কাজের ছোট কোন অংশে ঢুকে গেলে বাকিটা আপনা আপনিই আপনার মধ্যে চলে আসবে। শুরু করাটাই সবচেয়ে বড় স্টেপ।


৪) ব্রেক নির্ধারণ করুন

টানা অনেক্ষণ কাজ করলে কাজের গুনগত মান খারাপ হয়ে যায়, আবার আমরা তাড়াতাড়ি ক্লান্তও হয়ে পড়ি। সেজন্য আমাদের একটু পর পর ছোট বিরতির প্রয়োজন। যেমন টানা দুই ঘন্টা কাজ না করে আপনি নিজেকে বলবেন আমি টানা বিশ মিনিট কাজ করবো, তারপর ৫ মিনিটের একটা ব্রেক নিব। তারপর আবার ২০ মিনিট, আবার ব্রেক। এভাবে যতক্ষণ কাজটা করবেন, ততক্ষণ আপনি কাজটায় সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবেন।


৫) কিছু শর্ট কাট শিখে নিন

অনেক সময় আমাদের মস্তিষ্ক যত তাড়াতাড়ি কোন ভাবনা ভাবে, আমাদের হাত ততো তাড়াতাড়ি সেটা লিখে নিতে পারে না। তাই নিজের টাইপিং স্পিড বাড়ান। কম্পিউটারের কিছু কমন শর্ট কাট শিখে নিন। এতে আপনার অনেক সময় বাঁচবে। এক কাজ বারবার না করে কিভাবে এই সময়টা বাঁচানো যায়, তার জন্য কী-বোর্ডের শর্ট কাট অপশনগুলোর সাথে নিজেকে অভ্যস্ত করে ফেলুন।


৬) অন্যান্য মানুষদের সাথে কাজ করুনঅনেক সময় আমরা একা একা কাজ করলে বেখেয়াল হয়ে যাই। দিবা স্বপ্ন দেখতে থাকি, কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় হারিয়ে যাই। কিন্তু অন্যান্য কলিগদের মাঝে কাজ করলে তাদের কাজ করতে দেখে আপনারও কাজের মুড আসবে। অন্যদের সামনে আপনি লজ্জায় পড়ে হলেও এদিক ওদিক মনোযোগ দিতে পারবেন না। সেজন্য চেষ্টা করুন আপনার প্রোডাক্টিভ কলিগদের পাশে বসে কাজ করতে।


৭) কাজ শুরুর আগে নিজেকে সময় দিন

যেকোন কাজ শুরু করার জন্য আমাদের একটা মুডে যেতে হয়। যতক্ষণ কাজের মুড আসে না, ততক্ষণ আমরা খুব সহজেই বেখেয়াল হয়ে পড়ি। তাই কাজ শুরুর আগে শান্ত হয়ে বসে নিজেকে কিছুক্ষণ সময় দেওয়া উচিত। মাত্র অল্প কয় মিনিট নিজেকে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলুন।তারপর মনে মনে কাজটা নিয়ে ভাবুন। এতে আপনার মনোযোগ অনেক অংশে বেড়ে যাবে।তবে অফিসের কাজের চাপ না নিয়ে এবার নিজেকে তৈরি করুন নতুনভাবে। আশা করি আপনার অফিসের কাজ হবে একইসাথে দ্রুততার সাথে ও সার্থকভাবেও!

আপনার ট্রাভেল ব্যাগটি গুছিয়ে নিন


অনেক হৈ চৈ করতে করতে বেড়াতে যাচ্ছেন। আপনার ট্রাভেল ব্যাগটি ঠিক ঠাক মত চেক করেছেন তো? সব কিছু নেয়া হয়েছে কিনা? হয়তো আপনি যাচ্ছেন কোন পাহাড়ি অঞ্চলে অথবা সমুদ্র সৈকতে অথবা আপনার নিজের গ্রামের বাড়িতে। লম্বা সফরে ত্বক আর চুল হয়ে গেলো খসখসে আর রুক্ষ। ব্যাগ খুলে দেখলেন ভুলে হয়তো আপনার ময়েশ্চারাইজার অথবা শ্যাম্পুটি ব্যাগে ভরেননি।সেই সময়কার অনুভূতিটি নিশ্চয়ই খুব সুখকর নয়। আপনি নিশ্চয়ই সব জায়গাতে আপনার প্রিয় ব্র্যান্ডের কসমেটিক্স পাবেন না। আর ‘সাজগোজ’ তো আপনাকে সবসময়ই বলেই আসছে যে – কোন জায়গা থেকে হুটহাট করে কসমেটিক্স না কিনতে। অথচ বেড়াতে গিয়ে যখন দেখেন সাথে প্রয়োজনীয় সামগ্রী টি নেই তখন হয়তো বাধ্য হয়ে আপনাকে অপছন্দের সামগ্রীর দিকে হাত বাড়াতে হয়। এতে অনেক সময় চুল কিংবা ত্বকে এত বেশি বিরূপ প্রভাব পড়ে যার জন্যে অনেকদিন ভুগতে হয়। এই বিড়ম্বনায় আমাদেরকে পড়তে হত না যদি আমরা ভ্রমণের আগে নিয়ম মেনে ট্রাভেল ব্যাগটি গুছিয়ে নিতাম। আজ তাই ট্রাভেল ব্যাগে যাতে সবকিছু ঠিকঠাক নিতে পারেন তার জন্যে অল্প কিন্তু খুব জরুরী কিছু টিপস দিচ্ছি।

• কোথাও যাবার ২/৩ দিন আগেই আপনি আপনার ব্যাগে কি কি নিবেন তার একটা লিস্ট তৈরি করে ফেলুন। লিস্ট থেকে খুঁটিনাটি কোন কিছুই বাদ দিবেন না। যেমনঃ টুথপেস্ট, শ্যাম্পু, ব্রাশ, ময়েশ্চারাইজার, সূঁচ-সুতো, স্যালাইন, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ইত্যাদি।

• সবকিছু লেখা হয়ে গেলে একটি একটি করে ব্যাগে ভরবেন আর লিস্ট থেকে কেটে দিবেন। বের হবার আগে লিস্টটি তে আবার শেষবারের মত চোখ বুলিয়ে নিবেন। দেখবেন আর কিছুতেই ভুল হচ্ছেনা।

• অনেক সময় আমরা মিনি কসমেটিক্স কিনি, পরে ওই কৌটা গুলো ফেলে দিই। কসমেটিক্সের ছোট ছোট কৌটা গুলো ফেলে না দিয়ে ভাল করে ধুয়ে মুছে তুলে রাখুন। ভ্রমণে এই কৌটাগুলো খুব কাজের। ট্রাভেল ব্যাগে আপনার জাম্বো সাইজের শ্যাম্পুর বোতল অথবা গোবদা সাইজের ক্রিমের কৌটা নিয়ে ব্যাগটাকে শুধু শুধু ভারী করে ফেলার কোন দরকার নেই। ভ্রমণের আগে তুলে রাখা ছোট ছোট কৌটাগুলোতে যে কয়দিন বেড়াবেন সেই হিসেব মত অনুমান করে শ্যাম্পু, ক্রিম, তেল ইত্যাদি নিতে পারেন। দেখবেন আপনার ব্যাগের জায়গারও অনেক সাশ্রয় হবে।

• আপনার টুথপেস্ট, শ্যাম্পু, তেল, ক্রিম জাতীয় সামগ্রী গুলোকে ছোট জিপলক ব্যাগে ভরে নিন।তারপর ছোট ব্যাগটি ট্রাভেল ব্যাগের সাইড পকেটে যেখানটায় জুতো রাখেন সেখানে রাখুন। কারণ যদি দুর্ঘটনাবশত আপনার কোন একটা সামগ্রীর কৌটা লিক হয়ে যায় তাহলে আপনার প্রিয় পোশাকগুলো তেলে ক্রিমে মাখামাখি হবার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

• ট্রাভেল ব্যাগের সাইড পকেটে কিছু পলিথিন ব্যাগও নিয়ে নিন, ফেরার সময় ভেজা কাপড় অথবা বাড়তি কোন কিছু রাখার জন্যে পলিব্যাগের বিকল্প নেই।

একজন ভ্রমণ প্রদর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি, ট্যুরিজম এবং বাংলাদেশ

“পাখিদের দিকে তাকিয়ে ফুটবল ভাবে, যেহেতু উড়ছে, তার মানে ওকেও কেউ না কেউ নিশ্চয়ই লাথি মেরেছে! কিন্তু পাখিরা উড়ন্ত ফুটবলকে দেখে কি ভাবে? “যাহ বাবা! এ তো ডিম থাকতেই উড়তে শিখে গেছে!” কি ভাবছেন? হুট করে আবার কৌতুক শেয়ার করতে বসেছি কেন?


কৌতুকটি লেখার পেছনে অবশ্যই কিছু কারণ আছে। আজ যে মানুষটিকে নিয়ে কথা বলব, কৌতুক বিষয়টি তার জীবনের সাথে খুব গভীরভাবে জড়িত!বলছিলাম কায়েশ খানের কথা। মিরাক্কেল ৬-এ বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করা এ বহুমুখী প্রতিভার মানুষটির কথা মনে আছে কি আপনাদের? গম্ভীরমুখে বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক বলে যাওয়া সেই কায়েশ খানকে নিয়েই আজ ক্যারিয়ার সেকশানের আলোচনা। পেশায় তিনি মূলত একজন ভ্রমণ প্রদর্শক। এ বিষয়ক আলোচনার জন্যই আজ তাকে সাজগোজের এই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। বাংলাদেশের ট্যুরিজম সেক্টর এবং ট্যুরিজম পেশার খুঁটিনাটি নিয়ে চলুন জেনে নিই তার কাছ থেকে জরুরি কিছু কথা।ধন্যবাদ। আমি কায়েশ খান। নিজের সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমে শিক্ষাজীবন নিয়ে বলতে চাই। 

আমি এসএসসি পাশ করেছি আমার জন্মস্থান মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর থেকে এবং এইচএসএসসি পাশ করেছি ঢাকার সরকারি তিতুমির কলেজ থেকে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশান নিয়ে ট্র্যাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেশানের উপর ন্যাশনাল সার্টিফিকেট কোর্স করার জন্য ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেইনিং ইন্সটিট্যুট (এনএইচটিটিআই) –এ ভর্তি হয়ে সফলভাবে তা সম্পন্ন করি। ১৯৯৯ সালে ‘দ্য গাইড ট্যুরস’ নামে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ট্যুর অপারেটিং কোম্পানিতে ট্যুর গাইড ও ট্র্যাভেল ডেস্ক অ্যাটেন্ডেন্ট হিসেবে যোগ দিই। ২০০৫ সাল পর্যন্ত আমি এখানে কাজ করেছি। ২০০৬ সালে আমি ‘এক্সকারশন অ্যান্ড রিসোর্টস বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে আরও একটি জনপ্রিয় ট্যুর অপারেটিং কোম্পানিতে অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিই এবং ২০১১ সাল পর্যন্ত এখানে কাজ করি। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের জি বাংলার জনপ্রিয় কমেডি শো ‘মিরাক্কেল’ এ অংশ নেয়ার জন্য এখানকার চাকরিটি ছেড়ে দিই। প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়ার আগে আমি শীর্ষ ৫ প্রতিযোগীদের তালিকায় একজন ছিলাম। ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় আবারও ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও ট্যুরিজম পেশাটির প্রতি আমার অঙ্গীকার বজায় রাখতেই তা প্রত্যাখ্যান করি। কলকাতায় আমি ৭ মাসের মত ছিলাম। বাংলাদেশে যেহেতু অক্টোবর মাসে ট্যুরিস্ট সিজন শুরু হয়, আমাকে তাই শো থেকে বিদায় নিয়ে নিজের পেশায় ফিরে আসতে হয়। আসলে আমি কখনই ঠিক কমেডিয়ান ছিলাম না। কিন্তু মিরাক্কেলের অডিশানে সুযোগ পেয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারাটা অবশ্যই আমার জন্য খুব প্রীতিকর একটি অভিজ্ঞতা ছিল। কমেডি বিষয়টি আমার এক ধরণের প্যাশন এবং সারাজীবনই আমি তা পারফর্ম করে এসেছি। নিজের সহকর্মী এবং আশেপাশের সবাইকে হাসাতে আমি খুব ভালবাসি। জি বাংলা এবং মিরাক্কেলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, কারণ তাদের জন্য আজ আমার একটি তারকাখ্যাতি তৈরি হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে প্রচুর বন্ধু ও অনুসারী পেয়েছি।

বর্তমানে আমি ‘জার্নি প্লাস’ নামক বাংলাদেশের শীর্ষ পাঁচে থাকা একটি ট্যুর কোম্পানিতে সিনিয়র ট্যুর ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছি এবং বেশিরভাগ সময়ে আমি বিদেশি পর্যটকদের সাথে ভাষান্তরিক হিসেবে সারা বাংলাদেশ ঘুরে বেড়াই। বিশ্বের প্রায় ৪০ টিরও বেশি দেশের অতিথি/পর্যটকদেরকে আমি ভ্রমণ প্রদর্শন সেবা দিয়েছি এবং এই সেক্টরের পেশাকে আমি উপভোগ করি অনেক। ট্যুরিজম ব্যক্তিত্ব হিসেবে বলা যায়, অন্যদের ছুটির দিন হল আমার কর্মদিবস। এটাকে পেশাদারী দুর্ভোগও বলা যায় যেহেতু আমাকে ঈদ কিংবা এ ধরণের উৎসবগুলোর দিনেই কাজ করতে হয়। মাঝেমধ্যে উৎসবের দিনগুলোতে আমি সত্যিই আমার পরিবার ও কাছের মানুষগুলোকে খুব মিস করি।

ট্যুর গাইড হতে চাওয়ার পেছনের গল্পটি কী?

আসলে ছেলেবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল পুরো পৃথিবী ঘুরে দেখার। কিন্তু বড় হতে হতে বুঝতে পারলাম, পুরো পৃথিবী ঘুরে দেখাটা খুব সহজ নয়। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম বিশ্বের সমস্ত কোণ থেকে আসা মানুষদেরকে ট্যুরিজম সেবা প্রদান করব!ট্যুরিজম সেক্টরে আপনার যাত্রা শুরু হল কিভাবে?এনএইচটিটিআই ডিপ্লোমা শেষ করে আমি ‘দ্য গাইড ট্যুরস’ থেকে চাকরির অফার পেলাম এবং সুযোগটি লুফেও নিলাম।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডে বর্তমান সময়গুলো কেমন যাচ্ছে? সব প্রত্যাশা কি পূরণ হয়েছে?নাকি ভবিষ্যতের জন্য আরও কোন পরিকল্পনা আছে?সিনিয়র ট্যুর ম্যানেজার হিসেবে বর্তমানে যে সম্মানী পাচ্ছি তা আমার জন্য যথোপযুক্তই এবং নিয়মিত বিদেশি পর্যটকদের সাথে ঘুরে বেড়ানোটাও সমান তালে উপভোগ করছি। সবদিক থেকেই ফার্স্ট ক্লাস আছি বলা যায়! বগুড়ার মহাস্থানগড়ে বিদেশি পর্যটকদের সাথে আমার ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি বাংলাদেশে এখনও সুদক্ষ ট্যুর গাইডিঙের অভাব রয়েছে। আর তাই এ সেক্টরে ক’জন দক্ষ ট্যুর গাইড তৈরি করার একটি পরিকল্পনা আমার রয়েছে। সেটি করার জন্য আমি নিজের একটি ব্যবসা গড়ে তোলার ইচ্ছে রয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হবে ট্যুর কোম্পানিগুলোকে সুলভে দক্ষ ও উপযুক্ত ট্যুর গাইড প্রদান করা, যা এক ধরণের গাইড ব্যাংক হিসেবে কাজ করবে।বগুড়ার মহাস্থানগড়ে বিদেশিপ র্যটকদের সাথেপর্যটন পেশায় এ পর্যন্ত কী কী সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছে? সেগুলোর সমাধানই বা কীভাবে হয়েছে?

প্রধান একটি সমস্যা হচ্ছে ভ্রমণ বিষয়ক বই ‘লোনলি প্ল্যানেট’। কারণ, বাংলাদশের ভৌগোলিক অবস্থা খুব দ্রুত বদলায়, কিন্তু বই হালনাগাদ করা হয় না। পর্যটকরা সাধারণত বই থেকেই তথ্য নিয়ে থাকেন, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাস্তবের সাথে তার কোন মিল থাকে না। এই সমস্যা মোকাবিলায় একজন প্রদর্শকের যথেষ্ট পরিমাণ আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে যেন বইয়ের তথ্যগুলোর চেয়ে তার কথার ওপরেই পর্যটক বেশি আস্থা রাখে। এছাড়া আরও কিছু সমস্যা হল হুটহাট কৌতুহলী মানুষদের উতপাত এবং আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের পরিচ্ছন্নতার অভাব।বাংলাদেশের পর্যটন খাতে মূলত কী কী অন্তরায় রয়েছে এ খাতের বিকাশের ক্ষেত্রে?আমাদের দেশে পর্যটনকে শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয় না এবং সরকারি বাজেটেও এ খাত তেমন কোন সুবিধা পায় না। তাছাড়া ট্যুর অপারেটরাও সেবা পরিবেশক যেমন রেন্ট-এ-কার, হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্টগুলোর কাছে কোন ধরণের সুযোগ-সুবিধা, ছাড় কিংবা কমিশান পায় না।ব্যতিক্রম কেউ কেউ আছেন অবশ্য।আপনার ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ট্যুরিজম খাতে কী কী ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন?আমাদের সময়ে কেউ ট্যুর গাইডের চাকরিকে পেশা হিসেবে বাহবা দিত না। সেই পরিস্থিতি এখন খানিকটা বদলেছে।

এই খাতেবাংলাদেশের সম্ভাবনাসমূহ কী কী বলে আপনার ধারণা?

প্রধানত, আমাদের সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষজন, কায়িক শ্রম এবং দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ!একজন সফল ট্যুর গাইড হতে গেলে কী কী গুণ থাকা আবশ্যক?

ট্যুর গাইডকে হতে হবে সময়নিষ্ঠ, মনযোগী এবং প্রায় সর্ববিষয়ে জ্ঞানী। বিশেষ করে সব খাতের পরিসংখ্যান নিয়েই বেশ ভাল জ্ঞান থাকা আবশ্যক। কারণ তাকে নিজের দেশ সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে অনেকটা নিজের ডান হাতের মতই। তাছাড়া অতিথি পর্যটকের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কেও খুব ভাল ধারণা থাকাটা জরুরি। ভবিষ্যত ট্যুর গাইডদের জন্য কিছু পরামর্শ দিন। একজন ট্যুর গাইড হলেন তার নিজ দেশের একজন প্রতিনিধি। আপনি যদি নিজের দেশকে বিশ্বের অন্য প্রান্তের মানুষদের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী থাকেন, তাহলে পর্যটন খাতে আপনাকে স্বাগতম!

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

সালাদ দই ফ্রুট


চলছে পবিত্র মাহে রমজান। ধর্মপ্রাণ সকল মুসলিম আমরা সবাই সিয়াম সাধনা করি। কিন্তু নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবে এমন মানুষ খুব একটা খুজে পাওয়া যায় না বললেই চলে। আমাদের সবার ইফতারে থাকে একগাদা ভাজা-পোড়া খাবার, যা সুস্বাদু আর মুখরোচক হলেও খালি পেটে এগুলো খাওয়া ক্ষতিকর। না আমি এসব খাবার খেতে না করছি না। অবশ্য না করলে কেউ শুনবেও  না। কিন্তু এসব খাবারের পাশাপাশি আমাদের কিছু স্বাস্থ্যসম্মত খাবার রাখা উচিত ইফতার আইটেমের মধ্যে, যা আমাদের দেবে একইসাথে স্বাদ, পুষ্টি ও শক্তি। দূর করবে সারাদিনের ক্লান্তি। তাই আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব এমনই এক সালাদ রেসেপি। খুব সহজেই এই দই ফ্রুট সালাদ তৈরি করা যায়। সময় ও কষ্ট একদমই নেই। খুব সহজে ও ঝটপট তৈরি করা যায়। চলুন জেনে নেয়া যাক এর উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালী।


দই ফ্রুট সালাদ বানানোর উপকরণ

১) মিষ্টি দই- ১কাপ

২)  ডানো ক্রিম- ১/২ কাপ

৩) গোল মরিচ গুঁড়া- ১.৫ চা.চা

৪) বিট লবণ- ১চা.চা.

৫) কলা- ৩টি

৬) আনার- অধেকটা

৭) আম- ২টি

৮) আঙ্গুর সবুজ ও কালো- ১কাপ

৯) আনারস- ১কাপ


দই ফ্রুট সালাদ বানানোর প্রণালী

প্রথমে সব ফল ভালো করে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এবার একটি বাটিতে দই আর ডানো ক্রিম নিয়ে নিন। এরপর একটি উইস্ক দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর এর মধ্যে দিয়ে দিন বিট লবণ আর গোল মরিচ গুঁড়া দিয়ে আবার মিশিয়ে নিন। এরপর এর মধ্যে একে একে সব ফল দিয়ে দিন ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে রেখে দিন ফ্রিজে আর  ঠান্ডা ঠান্ডা ইফতারের আগে পরিবেশ করুন অসম্ভব মজাদার আর খুবই স্বাস্থ্যকর এই ফ্রুট সালাদ।

ড্রাই ফ্রুটস উইথ কর্নফ্লেক্স


সারাদিন রোজা রেখে আমরা ইফতারে টেবিল সাজিয়ে বসি নানান ভাজাপোড়া খাবার নিয়ে।তারপরই দেখা দেয় বদহজম, গ্যাস প্রভৃতি সমস্যা। তাই, স্বাস্থ্য সচেতন হতে ও তার সাথে স্বাদের যদি কোনো কমতি না চান, তবে আপনার জন্য আজকের রেসিপিটি! দেখে নিন দারুণ মজার কর্নফ্লেক্স উইথ ড্রাই ফ্রুটস রেসিপিটি!


কর্নফ্লেক্স উইথ ড্রাই ফ্রুটস যেভাবে বানাবেন

উপকরণ

১. নেসলে কর্নফ্লেক্স- ১ কাপ

২. ঘন দুধ- ১/২ কাপ

৩. খেঁজুর কুচি- ২ টেবিল চামচ

৪. পেস্তা বাদাম- ২ টেবিল চামচ

৫. আনার- ১/৪ কাপ

৬. চিনি-১ টেবিল চামচ


প্রস্তুত প্রণালী

১) প্রথমে ঘন দুধ ও পানি এক সাথে মিক্সড করে নিন।

২)এরপর সার্ভিং ডিশ-এ এই মিক্সচার-এর সাথে NESTLÉ CORN FLAKES,খেঁজুর, ও কিসমিস মিশিয়ে উপরে পেস্তা বাদাম ও আনার দিয়ে পরিবেশন করুন CORN FLAKES উইথ ড্রাই ফ্রুটস!

ক্যারামেল অ্যান্ড ডেটস উইথ কর্নফ্লেক্স


হেলদি ইফতার হিসেবে কর্নফ্লেক্স আমার কাছে ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট অপশন। রোজা রেখে কষ্ট করে ভাজাভাজির ঝামেলাও নেই! খুব ঝটপট ইফতার রেডি করতে তাই কর্নফ্লেক্স উইথ ক্যারামেল অ্যান্ড ডেটস বানিয়ে নিতে পারেন। তো দেখে নেয়া যাক এই রেসিপিটি!


কর্নফ্লেক্স উইথ ক্যারামেল অ্যান্ড ডেটস যেভাবে বানাবেন

উপকরণ

১. NESTLÉ CORN FLAKES- ১/২ কাপ

২. কাঠ বাদাম কুচি- ২টেবিল চামচ

৩. খেঁজুর কিউব- ২টেবিল চামচ

৪. ক্যারামেল– ২ টেবিল চামচ

৫. দুধ (পাউডার)- ১/২ কাপ

৬. পানি-১ কাপ


প্রস্তুত প্রণালী

১. কর্নফ্লেক্স উইথ ক্যারামেল অ্যান্ড ডেটস বানিয়ে নিতে প্রথমে পানি, দুধ ও দেড় টেবিল চামচ ক্যারামেল এক সাথে মিশিয়ে নিন।

২. একটি সার্ভিং ডিশ-এ মিক্সচার-টা নিন। এর সাথে NESTLÉ CORN FLAKES, খেঁজুর ও বাদাম মিশিয়ে তার উপর বাকি ক্যারামেল দিয়ে পরিবেশন করুন CORN FLAKES উইথ ক্যারামেল এবং ডেটস!

ইয়োগার্ট ও ম্যাংগো উইথ কর্নফ্লেক্স


বাজারে এখন আমের সমাহার। পাকা আম কার না পছন্দ! ইফতারে যদি রসালো ফল আম দিয়ে সুস্বাদু ও হেলদি কিছু খেতে চান, তাহলে আজকের রেসিপি আপনার জন্য। ইফতারে মজাদার কর্নফ্লেক্স উইথ ম্যাংগো ও ইয়োগার্ট ট্রাই করে দেখতে পারেন। তবে দেখে নিন এই রেসিপিটি!


কর্নফ্লেক্স উইথ ম্যাংগো ও ইয়োগার্ট যেভাবে বানাবেন

উপকরণ

১. কর্নফ্লেক্স-   ১ কাপ

২. আম কিউব- ১/২ কাপ

৩. টক দই- ১ কাপ

৪. মধু- ৩ টেবিল চামচ


প্রস্তুত প্রণালী

১. প্রথমে টক দই ছেকে পানি ফেলে দিন।

২. এরপর টক দই ও মধু মিশিয়ে ঠান্ডা করে নিন।

৩. সার্ভিং ডিশ-এ দই, NESTLÉ CORN FLAKES ও আম দিয়ে এই মজাদার আইটেমটি পরিবেশন করুন!

প্রগতি গতি হারিয়েছে লাভের


বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থার (বিএসইসি) অধীনে চালু থাকা ৯ কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কারণ, ঢাকায় ১৪ তলা বাণিজ্যিক ভবন কাম সেবাকেন্দ্র, চট্টগ্রামে কারখানা ও শোরুমসহ প্রধান ভবন নির্মাণ, নতুন গাড়ি সংযোজন এবং সব বিভাগীয় শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে শোরুম খোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে এই কোম্পানিকে ঘিরে। আর এটি বিএসইসির লাভজনক দুটি কোম্পানির একটি এবং এর উৎপাদন কার্যক্রমও মোটামুটি বিস্তৃত। প্রতিষ্ঠানটি কার, ট্রাক, জিপ, অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ, ট্রাক্টর ইত্যাদি সংযোজন করে।

কিন্তু এত পরিকল্পনার মধ্যেও যেন গতি হারাতে বসেছে শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ। যেমন ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের প্রভাবে এই কোম্পানির মুনাফায় ধাক্কা লেগেছে। এর ওপর কোম্পানিটি এখন বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণেও ঝুঁকেছে।

বিএসইসির তথ্যমতে, ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ। বর্তমানে কোম্পানিটির জনবল ৩২১ জন এবং বছরে ১ হাজার ৫০০টি গাড়ি সংযোজনের ক্ষমতাসম্পন্ন। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কোম্পানিটি ৫০ হাজার গাড়ি সংযোজন করেছে।বিএসইসি সম্প্রতি প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন, বিক্রি ও লাভ-লোকসানের পাঁচ বছরের একটি পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। এতে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৫৮০ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন করে। মাঝখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২২৯ কোটির বেশি অর্থাৎ ৮০৯ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন করে কোম্পানিটি। এক বছরের মাথায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে আবার উৎপাদন নেমে আসে ৬৩২ কোটি টাকায়। এই অর্থবছরের শেষ তিন মাস অবশ্য করোনায় পেয়ে বসে কোম্পানিটিকে। আর করোনার মধ্যে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাস জুলাই-অক্টোবরে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ ১৩৯ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন করে।

পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের মধ্যে কোম্পানিটির বিক্রি ৬৯৭ কোটি থেকে বেড়ে ৮৯৮ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। তবে একই সময়ে মুনাফা ৯৪ কোটি থেকে কমে ৬১ কোটি টাকায় নেমে আসে। কোভিড-১৯-এর প্রভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে কোম্পানিটি মুনাফা করেছে মাত্র ৫৫ লাখ টাকা।

কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এক আদেশে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের গাড়ি কেনায় নিরুৎসাহিত করে। পরে এই সময়সীমা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এই সিদ্ধান্তই কোম্পানিটির মুনাফায় ধস নামিয়েছে বলে মনে করেন বিএসইসির একাধিক পরিচালক।

এদিকে বিএসইসির আরেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্যান কোম্পানিকে সম্প্রতি প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের আওতায় নিয়ে আসা হয়। চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে ১৯৬২ সালে ১ হাজার ৮০০ টন ডেকোরেটেড টিনের ক্যান উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ক্যান কোম্পানি গড়ে তোলা হয়। এখানে প্রগতির একটি প্ল্যান্ট বা কারখানা করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রগতির পণ্যের মূল্যতালিকার মধ্যে রয়েছে পাজেরো স্পোর্ট কিউএক্স এসইউভি ৯৪ লাখ টাকা, মিতসুবিশি এএসএক্স এসইউভি ৫৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, মিতসুবিশি এল-২০০ ডাবল কেবিন পিকআপ ৪৯ লাখ টাকা, মাহিন্দ্রা স্করপিও ডাবল কেবিন পিকআপ ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং টাটা এলপিও ১৩১৬/৫৫ ৪২ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

নতুন মোটরসাইকেল ৪৯ হাজার টাকায়


মাত্র ৪৯ হাজার টাকায় নতুন মোটরসাইকেল বিক্রি করছে বিএসইসির অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান এটলাস বাংলাদেশ। কোম্পানিটির বার্ষিক মোটরসাইকেল উৎপাদনের ক্ষমতা ৭ হাজার। চীনা কোম্পানি জংশেন গ্রুপ এই মোটরসাইকেল উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। তাই এটলাসের মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডের নাম ‘জংশেন-এটলাস’ (জেডএস)। এই ব্র্যান্ডের ছয় ধরনের মোটরসাইকেল রয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, এটলাস বাংলাদেশ সবচেয়ে কম অর্থাৎ ৪৯ হাজার টাকায় জেডএস ৮০ মডেলের ৮০ সিসির মোটরসাইকেল বিক্রি করছে। আর সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় মিলছে ১৫০ সিসির জেডএস ১৫০-৫৮ মডেলের মোটরসাইকেল এবং ১৫০ সিসির জেড-ওয়ান মডেলের মোটরসাইকেলও। এ ছাড়া জেডএস ১২৫-৬৮ মডেলের ১২৫ সিসির মোটরসাইকেল ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়, জেডএস ১১০-৭২ মডেলের ১১০ সিসির মোটরসাইকেল ৮৯ হাজার টাকায় এবং জেডএস ১০০-২৭ মডেলের ১০০ সিসির মোটরসাইকেল ১ লাখ ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জংশেন গ্রুপের পাশাপাশি ২০১৮ সালের মাঝামাঝি দুই বছরের জন্য স্থানীয় টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গেও এটলাসের চুক্তি হয়। পরে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয় ৫ বছরের জন্য। সে অনুযায়ী ১ লাখ ১৪ হাজার ৯০০ টাকায় ১১০ সিসি, ১ লাখ ৩২ হাজার ৯০০ টাকায় ১২৫ সিসি এবং ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯০০ টাকায় ১৬০ সিসির টিভিএস ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে। টিভিএসের সঙ্গে চুক্তিটি এ রকম—টিভিএস থেকে এটলাস বছরে ১৫ থেকে ২০ হাজার সিকেডি (সম্পূর্ণ বিযুক্ত অবস্থা) কিনে নেবে।

তবে অবাক করা বিষয় হলো, সস্তায় মোটরসাইকেল উৎপাদন করেও এটলাস মুনাফা করতে পারছে না। বিএসইসির তথ্য বলছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে প্রতিবছরই লোকসান গুনছে এটলাস বাংলাদেশ। আর ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাসেই লোকসান গুনেছে আড়াই কোটি টাকা।

গাজীপুরের টঙ্গীতে ৯ দশমিক ৬২ একর জমির ওপর এটলাসের এই কারখানা অবস্থিত। এটি ১৯৬৬ সালে হোন্ডা মোটর কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ব্যবসা শুরু করে। ১৯৯৩ সালে ব্যবসা শুরু হয় ভারতীয় হিরো মোটরসাইকেলের সঙ্গে। ২০১১ সালে হোন্ডার সঙ্গে হিরোর অংশীদারত্ব বিচ্ছিন্ন হয়। 

বর্তমানে জাপানের হোন্ডা এবং ভারতীয় হিরো নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পৃথকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। ২০১৪ সালের জুনে এটলাসের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এক বছরের বেশি সময় বিরতি দিয়ে ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে চীনের জংশেন গ্রুপের সঙ্গে ব্যবসা শুরু করে এটলাস। 

২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে এটলাসের ৬৬টি ডিলার থাকলেও গত মাসে তা কমে দাঁড়ায় ৫৩টিতে।

গত ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এটলাসের বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রতিবেদনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাছের মো. কামরুল ইসলাম বলেন, এই প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে লোকসান কাটিয়ে আগের মতো সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে এটলাসের শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কামরুল ইসলাম ৫ জানুয়ারি জানান, এরই মধ্যে অবসরে গেছেন বলে তিনি কথা বলতে আগ্রহী নন।

উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে পারছে না সৈয়দপুরে ঘন কুয়াশায়


ঘন কুয়াশা ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে গোটা নীলফামারী জেলায়। আজ শনিবার সকাল থেকে ঘন কুয়াশার কারণে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে পারছে না। ফলে সকালের চারটি উড়োজাহাজ এখনো ঢাকা থেকে ছেড়ে আসেনি।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, সকালে এখানে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘন কুয়াশায় আকাশে ১৮০০ ভিজিবিলিটি (দৃষ্টিসীমা) থাকলেই বিমান ওঠানামা করা সম্ভব। সেখানে সৈয়দপুরের আকাশে বর্তমানে ৭০০ ভিজিবিলিটি বিরাজ করছে। ফলে উড়োজাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বেলা দুইটার আগে আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে সকাল থেকে চারটি উড়োজাহাজের যাত্রীরা বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন স্থানের এসব যাত্রী উড়োজাহাজের জন্য অপেক্ষা করছেন।

 সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সুপলব ঘোষ জানান, কুয়াশা কেটে আকাশ পরিষ্কার হলে উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে। তবে এখনো কোনো ফ্লাইট বাতিল করা হয়নি।

অপর দিকে হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশা শীতের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। তীব্র শীতের কারণে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। শীতের মধ্যে কাজ করতে বের হয়ে কাজ না পেয়ে ও শীতের মাঝে কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা।