Hot!

Other News

More news for your entertainment

প্রগতি গতি হারিয়েছে লাভের


বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থার (বিএসইসি) অধীনে চালু থাকা ৯ কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কারণ, ঢাকায় ১৪ তলা বাণিজ্যিক ভবন কাম সেবাকেন্দ্র, চট্টগ্রামে কারখানা ও শোরুমসহ প্রধান ভবন নির্মাণ, নতুন গাড়ি সংযোজন এবং সব বিভাগীয় শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে শোরুম খোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে এই কোম্পানিকে ঘিরে। আর এটি বিএসইসির লাভজনক দুটি কোম্পানির একটি এবং এর উৎপাদন কার্যক্রমও মোটামুটি বিস্তৃত। প্রতিষ্ঠানটি কার, ট্রাক, জিপ, অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ, ট্রাক্টর ইত্যাদি সংযোজন করে।

কিন্তু এত পরিকল্পনার মধ্যেও যেন গতি হারাতে বসেছে শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ। যেমন ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের প্রভাবে এই কোম্পানির মুনাফায় ধাক্কা লেগেছে। এর ওপর কোম্পানিটি এখন বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণেও ঝুঁকেছে।

বিএসইসির তথ্যমতে, ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ। বর্তমানে কোম্পানিটির জনবল ৩২১ জন এবং বছরে ১ হাজার ৫০০টি গাড়ি সংযোজনের ক্ষমতাসম্পন্ন। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কোম্পানিটি ৫০ হাজার গাড়ি সংযোজন করেছে।বিএসইসি সম্প্রতি প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন, বিক্রি ও লাভ-লোকসানের পাঁচ বছরের একটি পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। এতে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৫৮০ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন করে। মাঝখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২২৯ কোটির বেশি অর্থাৎ ৮০৯ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন করে কোম্পানিটি। এক বছরের মাথায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে আবার উৎপাদন নেমে আসে ৬৩২ কোটি টাকায়। এই অর্থবছরের শেষ তিন মাস অবশ্য করোনায় পেয়ে বসে কোম্পানিটিকে। আর করোনার মধ্যে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাস জুলাই-অক্টোবরে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ ১৩৯ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন করে।

পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের মধ্যে কোম্পানিটির বিক্রি ৬৯৭ কোটি থেকে বেড়ে ৮৯৮ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। তবে একই সময়ে মুনাফা ৯৪ কোটি থেকে কমে ৬১ কোটি টাকায় নেমে আসে। কোভিড-১৯-এর প্রভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে কোম্পানিটি মুনাফা করেছে মাত্র ৫৫ লাখ টাকা।

কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এক আদেশে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের গাড়ি কেনায় নিরুৎসাহিত করে। পরে এই সময়সীমা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এই সিদ্ধান্তই কোম্পানিটির মুনাফায় ধস নামিয়েছে বলে মনে করেন বিএসইসির একাধিক পরিচালক।

এদিকে বিএসইসির আরেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্যান কোম্পানিকে সম্প্রতি প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের আওতায় নিয়ে আসা হয়। চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে ১৯৬২ সালে ১ হাজার ৮০০ টন ডেকোরেটেড টিনের ক্যান উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ক্যান কোম্পানি গড়ে তোলা হয়। এখানে প্রগতির একটি প্ল্যান্ট বা কারখানা করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রগতির পণ্যের মূল্যতালিকার মধ্যে রয়েছে পাজেরো স্পোর্ট কিউএক্স এসইউভি ৯৪ লাখ টাকা, মিতসুবিশি এএসএক্স এসইউভি ৫৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, মিতসুবিশি এল-২০০ ডাবল কেবিন পিকআপ ৪৯ লাখ টাকা, মাহিন্দ্রা স্করপিও ডাবল কেবিন পিকআপ ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং টাটা এলপিও ১৩১৬/৫৫ ৪২ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

নতুন মোটরসাইকেল ৪৯ হাজার টাকায়


মাত্র ৪৯ হাজার টাকায় নতুন মোটরসাইকেল বিক্রি করছে বিএসইসির অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান এটলাস বাংলাদেশ। কোম্পানিটির বার্ষিক মোটরসাইকেল উৎপাদনের ক্ষমতা ৭ হাজার। চীনা কোম্পানি জংশেন গ্রুপ এই মোটরসাইকেল উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। তাই এটলাসের মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডের নাম ‘জংশেন-এটলাস’ (জেডএস)। এই ব্র্যান্ডের ছয় ধরনের মোটরসাইকেল রয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, এটলাস বাংলাদেশ সবচেয়ে কম অর্থাৎ ৪৯ হাজার টাকায় জেডএস ৮০ মডেলের ৮০ সিসির মোটরসাইকেল বিক্রি করছে। আর সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় মিলছে ১৫০ সিসির জেডএস ১৫০-৫৮ মডেলের মোটরসাইকেল এবং ১৫০ সিসির জেড-ওয়ান মডেলের মোটরসাইকেলও। এ ছাড়া জেডএস ১২৫-৬৮ মডেলের ১২৫ সিসির মোটরসাইকেল ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়, জেডএস ১১০-৭২ মডেলের ১১০ সিসির মোটরসাইকেল ৮৯ হাজার টাকায় এবং জেডএস ১০০-২৭ মডেলের ১০০ সিসির মোটরসাইকেল ১ লাখ ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জংশেন গ্রুপের পাশাপাশি ২০১৮ সালের মাঝামাঝি দুই বছরের জন্য স্থানীয় টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গেও এটলাসের চুক্তি হয়। পরে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয় ৫ বছরের জন্য। সে অনুযায়ী ১ লাখ ১৪ হাজার ৯০০ টাকায় ১১০ সিসি, ১ লাখ ৩২ হাজার ৯০০ টাকায় ১২৫ সিসি এবং ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯০০ টাকায় ১৬০ সিসির টিভিএস ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে। টিভিএসের সঙ্গে চুক্তিটি এ রকম—টিভিএস থেকে এটলাস বছরে ১৫ থেকে ২০ হাজার সিকেডি (সম্পূর্ণ বিযুক্ত অবস্থা) কিনে নেবে।

তবে অবাক করা বিষয় হলো, সস্তায় মোটরসাইকেল উৎপাদন করেও এটলাস মুনাফা করতে পারছে না। বিএসইসির তথ্য বলছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে প্রতিবছরই লোকসান গুনছে এটলাস বাংলাদেশ। আর ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাসেই লোকসান গুনেছে আড়াই কোটি টাকা।

গাজীপুরের টঙ্গীতে ৯ দশমিক ৬২ একর জমির ওপর এটলাসের এই কারখানা অবস্থিত। এটি ১৯৬৬ সালে হোন্ডা মোটর কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ব্যবসা শুরু করে। ১৯৯৩ সালে ব্যবসা শুরু হয় ভারতীয় হিরো মোটরসাইকেলের সঙ্গে। ২০১১ সালে হোন্ডার সঙ্গে হিরোর অংশীদারত্ব বিচ্ছিন্ন হয়। 

বর্তমানে জাপানের হোন্ডা এবং ভারতীয় হিরো নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পৃথকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। ২০১৪ সালের জুনে এটলাসের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এক বছরের বেশি সময় বিরতি দিয়ে ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে চীনের জংশেন গ্রুপের সঙ্গে ব্যবসা শুরু করে এটলাস। 

২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে এটলাসের ৬৬টি ডিলার থাকলেও গত মাসে তা কমে দাঁড়ায় ৫৩টিতে।

গত ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এটলাসের বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রতিবেদনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাছের মো. কামরুল ইসলাম বলেন, এই প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে লোকসান কাটিয়ে আগের মতো সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে এটলাসের শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কামরুল ইসলাম ৫ জানুয়ারি জানান, এরই মধ্যে অবসরে গেছেন বলে তিনি কথা বলতে আগ্রহী নন।

উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে পারছে না সৈয়দপুরে ঘন কুয়াশায়


ঘন কুয়াশা ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে গোটা নীলফামারী জেলায়। আজ শনিবার সকাল থেকে ঘন কুয়াশার কারণে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে পারছে না। ফলে সকালের চারটি উড়োজাহাজ এখনো ঢাকা থেকে ছেড়ে আসেনি।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, সকালে এখানে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘন কুয়াশায় আকাশে ১৮০০ ভিজিবিলিটি (দৃষ্টিসীমা) থাকলেই বিমান ওঠানামা করা সম্ভব। সেখানে সৈয়দপুরের আকাশে বর্তমানে ৭০০ ভিজিবিলিটি বিরাজ করছে। ফলে উড়োজাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বেলা দুইটার আগে আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে সকাল থেকে চারটি উড়োজাহাজের যাত্রীরা বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন স্থানের এসব যাত্রী উড়োজাহাজের জন্য অপেক্ষা করছেন।

 সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সুপলব ঘোষ জানান, কুয়াশা কেটে আকাশ পরিষ্কার হলে উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে। তবে এখনো কোনো ফ্লাইট বাতিল করা হয়নি।

অপর দিকে হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশা শীতের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। তীব্র শীতের কারণে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। শীতের মধ্যে কাজ করতে বের হয়ে কাজ না পেয়ে ও শীতের মাঝে কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা।

শেষ দিন কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের


শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে আট দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। ৮ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় নবান্নের সভাঘরে ভার্চ্যুয়ালি কলকাতার এই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেছিলেন বলিউড তারকা শাহরুখ খান এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 গতকাল এই উৎসবে প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের ছবি ‘নোনাজলের কাব্য’। সন্ধ্যা ৬টায় নন্দন-২ প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হয় ছবিটি। ছবি দেখে উপস্থিত দর্শকেরা প্রশংসা করেন।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার। ভারতের মাটিতে ছবিটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী হলো। 

এর আগে গত ১০ জানুয়ারি বেলা ৩টায় ছবিটি এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথম প্রদর্শিত হয় কলকাতার রবীন্দ্র-ও কাকুরা প্রদর্শনী ভবনে।

ছবির কাহিনি গড়ে উঠেছে এক শিল্পীর সমুদ্রপাড়ের এক প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে ছবি আঁকাকে ঘিরে। 

এই শিল্পীর ছবি আঁকা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে ভালোবাসা, সংঘাত উঠে এসেছে ছবির কাহিনিতে।

ছবিটি দর্শকেরা পছন্দ করেছেন। এর আগে ছবিটি বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়। 

ছবিতে অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, তিতাস জিয়া, তাসনুভা তামান্না প্রমুখ। ছবিটি দেখানো হয় উৎসবের নেটপ্যাক ক্যাটাগরিতে। এই উৎসবে এবার সব ছবি দেখানো হয়েছে বিনা মূল্যে।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশ–বিদেশের একঝাঁক তারকা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবছরই এই উৎসব নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কিন্তু করোনার কারণে এবার এই উৎসবের তারিখ দুবার পিছিয়ে অবশেষে করা হয় ৮ জানুয়ারি। বিগত বছরের মতো এবার অবশ্য উৎসবে তারকাদের খুব একটা ভিড় হয়নি। আটটি সরকারি প্রেক্ষাগৃহে উৎসবের ছবিগুলো দেখানো হয়েছে।

এবার উৎসবে এসেছে পূর্ণদৈর্ঘ্য ৮১টি এবং ৫০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। বাংলাদেশ থেকে ছিল রেজওয়ান শাহরিয়ারের ছবি ‘নোনা জলের কাব্য’। এবারের এই উৎসবের উদ্বোধনী ছবি ছিল সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ‘অপুর সংসার’। গত বছর ছিল সত্যজিৎ রায়ের ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’। কলকাতার এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ১৯৯৫ সালে শুরু হয়েছে।

এবার উৎসব আয়োজিত হয়েছে স্বল্প পরিসরে। উৎসবে সদ্য প্রয়াত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। পণ্ডিত রবিশঙ্কর, অভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় আর সংগীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এবারের উৎসবে এই তিন প্রখ্যাত শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ ছাড়া এই উৎসবে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় প্রয়াত চলচ্চিত্র তারকা বাসু চট্টোপাধ্যায়, ঋষি কাপুর, ইরফান খান, তাপস পাল, অমলা শঙ্কর ও সন্তু মুখোপাধ্যায়কেও।

নবদম্পতির পছন্দে উপহার হোক


বিয়ের উপহার নেওয়া বা দেওয়া, উভয়ই বেশ ঝক্কির ব্যাপার। কনে ও বরকে কী উপহার দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও কঠিন বৈকি; এমনকি তাঁদের ভালোভাবে জানা সত্ত্বেও। অথচ বিয়ের মৌসুমে এমন সিদ্ধান্ত আমাদের প্রতিনিয়ত নিতেই হয়। আবার বিয়েতে পাঁচজন অতিথির কাছ থেকে একই ধরনের উপহারপ্রাপ্তি হতাশারাও সৃষ্টি করে।

এই উদ্বেগ কমিয়ে বিবাহের মৌসুমকে উপভোগ্য করতে, আকর্ষণীয় অফার নিয়ে হাজির দেশের শীর্ষ সারির ফার্নিচার ব্র্যান্ড ইশো। ইশোর ওয়েডিং কার্নিভ্যালে রয়েছে দারুণ তিনটি অফার; আর তা সদ্য বিবাহিত দম্পতি এবং বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথিদের উপহার দেওয়া আর নেওয়ার সমস্যায় হবে মুশকিল আসান। নবদম্পতিরা তাঁদের নতুন বাসার জন্য ঠিক কী চান, সেটা যেমন বেছে নেওয়া যাবে, তেমনি অতিথিরাও নতুন জীবন শুরু করতে যাওয়া দম্পতির জন্য তাঁদের পছন্দসই উপহারটা দিয়ে তৃপ্তি লাভ করতে পারবেন।


গিফট কার্ড

ইশোর ওয়েডিং গিফট কার্ডের সাহায্যে প্রিয়জনকে দেওয়া যাবে সেরা উপহার; যেটা তাঁরা যেকোনো সময়ে কিনে নিতে পারবে ইশোর যেকোনো আউটলেট থেকে। এ ক্ষেত্রে যেকোনো ইশো আউটলেটে এসে যে পরিমাণ টাকার উপহার দিতে চান, সেটা ইশোর উপহার কার্ডে যোগ করে নিয়ে সেটা উপহার হিসেবে দিয়ে দেওয়া যাবে। এরপর যখন সময় হবে নবদম্পতিরা তাঁদের পছন্দসই পণ্যগুলো ইশোর আউটলেট থেকে ওই কার্ড দিয়ে কিনে নিতে পারবেন।


ইচ্ছামত উপহার

নবদম্পতিরা ঠিক যেভাবে চান, তেমনই এক উপায় উদ্ভাবন করেছে ইশো। যাতে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদযাপন হয়ে ওঠে অর্থবহ। আসলে এই উদ্ভাবনী বিষয়টি আর কিছুই নয়, বরং বিয়ের উপহার রেজিস্ট্রি প্ল্যাটফর্ম; এখানে নবদম্পতিরা দিয়ে রাখবেন তাঁদের ইচ্ছাপত্র বা ইশোর পণ্যতালিকা, যেটা তাঁরা উপহার হিসেবে পেতে চান। আর সেটাই তাঁরা শেয়ার করবেন আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে। এতে অপ্রয়োজনীয় উপহার পাওয়ার সমস্যা থেকে মিলবে সমাধান। তা ছাড়া কী উপহার দেওয়া হবে, সে ভাবনা আর উপহার বাছাইয়ের ঝামেলা থেকেও মুক্ত হওয়া যাবে।


কাপল শপিংয়ে বিশেষ ছাড়

বিয়ের মৌসুম আনন্দের, উপাভোগের, উদযাপনেরও। তাই সবকিছুকে আনন্দময় করে তুলতে ইশো এক নতুন পন্থা উদ্ভাবন করেছে। আর সেটা হলো নবদম্পতির জন্য বিশেষ ছাড়। ৩১ জানুয়ারি ২০২১ সালের মধ্যে যাঁরা বিয়ে করছেন, তাঁদের বিয়ের কার্ড পাঠিয়ে দিলেই (weddingcard@isho.com) ইশো থেকে কেনাকাটায় মিলবে ১০ শতাংশ ছাড়।

বিয়ের মৌসুমে উপহার দেওয়ার ঝক্কি কমানোর পাশাপাশি দারুণ সব অফার নেওয়া যাবে ইশোর চলমান শীতকালীন উৎসবে। আরও বিশদ জানতে ঢুঁ মারা যেতে পারে ইশোর ওয়েবসাইটে (www.isho.com)।

৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় কে ক্র্যাফটে


বছরের শুরুতে ক্রেতাদের কেনাকাটার ওপর পছন্দের ব্র্যান্ড কে ক্র্যাফট দিচ্ছে নির্বাচিত পোশাকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত এ অফার উপভোগ করতে পারবেন ক্রেতারা।


প্রতিটি আউটলেটেই রয়েছে সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, কুর্তি, টপস, শার্ট, ডেনিম প্যান্ট, ডেনিম শার্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, বাচ্চাদের পোশাকসহ দারুণ সব পোশাকের বিশাল সংগ্রহ।


এ ছাড়া রয়েছে শীত উপযোগী শাল, সোয়েটার, হুডি, পাঞ্চসহ নানা রকমের পোশাক।

আউটলেট ছাড়াও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবারের পছন্দের পোশাকটি ঘরে বসে অনলাইন স্টোর kaykraft.com এবং ফেসবুক পেজ থেকে অর্ডার করা যাবে।

তাজা স্বাদ শীতের সবজির


শীতের বাজারে উঁকি মারছে নতুন সব সবজি। দেশি–বিদেশি নানা ধরনের পদ করা যায় মৌসুমি এই সবজি দিয়ে। সে রকম কয়েক পদের রেসিপি দিয়েছেন সেলিনা আকতার।


পালংশাকে ক্লিয়ার ওনথন স্যুপ

উপকরণ: মুরগির স্টক ৭ কাপ, কচি পালংশাক ২০০ গ্রাম, ফ্রোজেন ওনথন ১০-১২টি, লাল কাঁচা মরিচ ৫টি, আদা (পাতলা করে কাটা) ৫-৬টি, ভাজা রসুনকুচি ১ টেবিল চামচ, তিলের তেল ২ টেবিল চামচ, সয়া সস ১ টেবিল চামচ ও রাইস ভিনেগার ১ টেবিল চামচ।


প্রণালি: হাঁড়িতে মুরগির স্টক দিন। একে একে আদা স্লাইস, সয়া সস, তিলের তেল ও রাইস ভিনেগার দিন। অন্য একটি প্যানে গরম পানি ফোটান। পানি ফুটে উঠলে ওনথন দিয়ে দিন। ৩ থেকে ৪ মিনিট ফুটিয়ে নিন। ওনথনগুলো তুলে রাখুন। একই হাঁড়িতে পালংশাক দিয়ে ১ মিনিটে তুলে নিন। এবার মুরগির স্টক ফুটে উঠলে লাল কাঁচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে নিন। বাটিতে ওনথন ও পালংশাক রাখুন এবং মুরগির স্টক ঢেলে গরম–গরম পরিবেশন করুন।


পেঁয়াজকলির পাকোড়া

উপকরণ: পেঁয়াজকলির কুচি ২ কাপ, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, রসুনবাটা ১ চা-চামচ, কাঁচা মরিচের কুচি স্বাদমতো, বেসন আধা কাপ, ধনেপাতার কুচি স্বাদমতো, হলুদগুঁড়া সিকি চা-চামচ, চাটমসলার গুঁড়া ১ চা-চামচ, গরমমসলার গুঁড়া সিকি চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো ও তেল ভাজার জন্য।


প্রণালি: তেল বাদ দিয়ে সবকিছু একসঙ্গে মাখিয়ে নিন। কড়াইতে তেল গরম করতে দিন। তেল গরম হলে পাকোড়ার আকারে ভেজে নিন। সস দিয়ে গরম–গরম পরিবেশন করুন।


আলু কিমা মটর মাসালা

উপকরণ: মুরগি বা গরুর মাংসের কিমা ৩০০ গ্রাম, আলু (বড় বড় কিউব কাট) ১ কাপ, মটরশুঁটি ১ কাপ, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, রসুনবাটা ২ চা-চামচ, লাল মরিচের গুঁড়া ২ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া সিকি চা-চামচ, জিরাগুঁড়া ১ চা-চামচ, আস্ত জিরা (ফোড়নের জন্য) ১ চা-চামচ, টক দই আধা কাপ,  টমেটোকুচি আধা কাপ, গরমমসলার গুঁড়া ১ চা-চামচ, কাসৌরি মেথি সামান্য, লবণ স্বাদমতো, তেজপাতা ২টি, কাঁচা মরিচ ৮/১০টি ও তেল আধা কাপ।


প্রণালি: প্রথমে হাঁড়িতে তেল দিয়ে তেজপাতা ও জিরার ফোড়ন দিন। পেঁয়াজকুচি দিন। একটু নরম হলে সব বাটা ও গুঁড়া মসলা দিন। টক দই ও টমেটোকুচি দিয়ে কষিয়ে নিন। মসলা খুব ভালোভাবে কষানো হলে এতে কিমা দিয়ে দিন। একটু নেড়েচেড়ে  টুকরা আলু, স্বাদমতো লবণ আর আধা কাপ গরম পানি দিয়ে নেড়ে রান্না করুন ১০ মিনিট। এখন এতে মটরশুঁটি এবং কাঁচা মরিচ দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন আরও ১০ মিনিট। কাসৌরি মেথি ছড়িয়ে দিন এবং ৩ মিনিট ঢেকে রাখুন। নামিয়ে নান কিংবা পরোটা, রুটির সঙ্গে গরম–গরম পরিবেশন করতে পারেন।


থাই চিকেন ব্রকলি

উপকরণ: মুরগি (কিউব কাট) ৩৫০ গ্রাম, ব্রকলি (কেটে ভাপিয়ে নেওয়া) ১ টুকরা, পেঁয়াজ (কিউব কাট) সিকি কাপ, রসুন থেঁতলানো ৫ কোয়া, ধনে পাতার গোরা (থেঁতলানো) ১ টেবিল চামচ, আদা চিকন জুলিয়ান কাট ১ টেবিল চামচ, থাই লাল মরিচ (থেঁতলানো) ২-৩ টুকরা, অয়েস্টার সস ২ টেবিল চামচ, সয়া সস ২ টেবিল চামচ, রাইস ভিনেগার ১ টেবিল চামচ, মাখন ২-৩ টেবিল চামচ, সিসিমি অয়েল ১ টেবিল চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, টোস্ট করা তিলের বীজ ১ চা-চামচ।


প্রণালি: ব্রকলি ছাড়িয়ে কেটে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। ফোটানো লবণ পানিতে ফুটিয়ে নামিয়ে নিন। এবার বরফ পানিতে ভিজিয়ে তুলুন। একটি বাটিতে অয়েস্টার সস, সয়া সস, রাইস ভিনেগার, সিসিমি অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। মুরগি সামান্য গোলমরিচের গুঁড়া ও কিছুটা মিক্স করা সস দিয়ে মেরিনেট করুন আধা ঘণ্টা। এবার চুলায় ছড়ানো প্যান দিয়ে জলপাই তেল দিয়ে থেঁতলানো রসুন, ধনেপাতার গোরা, আদাকুচি ও  থেঁতলানো রেড চিলি দিয়ে একটু ভেজে নেবেন। ফ্লেভার বের হলে মুরগি দিয়ে ভেজে নিন। এরপর ব্রকলি ও পেঁয়াজ দিয়ে একটু ভেজে মিক্স করা বাকি সসটুকু দিয়ে দিন। খুব চড়া আঁচে খুব ভালো করে নেড়েচেড়ে নামিয়ে টোস্টেড সিসিমি সিড ছড়িয়ে গরম–গরম পরিবেশন করুন।


পুরো রান্নাটি খুব চড়া আঁচে করতে হবে।


শিম বিচি কাঁচা টমেটোতে শিং মাছ

উপকরণ: শিং মাছ আধা কেজি, শিমের বিচি আধা কেজি, কাঁচা টমেটো ২টি, পেঁয়াজবাটা ৩ টেবিল চামচ, আদাবাটা ১ চা-চামচ, রসুনবাটা আধা চা-চামচ, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, মরিচগুঁড়া দেড় চা-চামচ, ধনিয়াগুঁড়া আধা চা-চামচ, জিরাবাটা আধা চা-চামচ, ভাজা জিরার গুঁড়া সিকি চা-চামচ, কাঁচা মরিচ ৫-৬টি, ধনেপাতা ২ টেবিল চামচ ও তেল সিকি কাপ। 


প্রণালি: শিমের বিচি ৩ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে খোসা পরিষ্কার করে নিন। মাছ ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন। কড়াইতে তেল গরম করে কাটা পেঁয়াজবাটা দিয়ে ভেজে রাখুন। এরপর একে একে সব মসলা ও পানি দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নেবেন। নিজের স্বাদমতো লবণ ও আরও কিছুটা পানি দিয়ে মসলা আরও কিছুক্ষণ ভালো করে কষিয়ে নেবেন। এরপর মাছ দিয়ে কিছুটা পানি দিয়ে ভালো করে কষাবেন। মসলা থেকে মাছ তুলে রাখুন এবং শিমের বিচি দিয়ে দিন। কিছুটা পানি দিয়ে ঢেকে রাখুন। শিমের বিচি আধা সেদ্ধ হয়ে এলে টমেটো দিয়ে আবার কষিয়ে দিন। তুলে রাখা মাছগুলো দিয়ে ২ থেকে ৩ কাপ পরিমাণ পানি দিয়ে ঢেকে রাখবেন। তারপর হয়ে এলে ভাজা জিরার গুঁড়া ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ঢেকে রাখুন। তারপর ধনেপাতা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

ফ্রান্সের শীতকালীন খাবার : পোতো ফুঁ


কাগজে–কলমে প্রতিবছর ২১ ডিসেম্বর থেকে ফ্রান্সে শীতকাল শুরু হয় আর শেষ হয় ২০ মার্চ। এ সময় প্রায়ই ছাইরঙা মেঘে আকাশ মুখ গোমড়া করে থাকে। মাঝেমধ্যে বরফকুচি মেশানো বৃষ্টি আর পেঁজা তুলার মতো তুষার নেমে আসে। মাঠ-ঘাট–প্রান্তর, পাতাহীন গাছগাছালি তুষারের আবরণে ঢাকা পড়ে যায়। শহর থেকে একটু দূরে গেলেই বাড়ির বাইরে লোকজন একদম দেখা যায় না বললেই চলে। অনুচ্চ পাহাড়ের ঢালের ছড়ানো–ছিটানো বাড়িগুলোর চিমনি থেকে সাদা ধোঁয়া ঘুরে ঘুরে আকাশে উঠে যায়। সেসব ঘরের রসুইয়ে উঁকি দিলে প্রায়ই যা চোখে পড়ে, তা হলো ফরাসিদের খুব প্রিয় খাবার ‘পোতো ফুঁ’।


পোতো ফুঁর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘আগুনে (উনুনে) হাঁড়ি’। এটি ফরাসিদের খুবই প্রিয় একটি খাবার। আসলেই খাবারটি চেনে না বা এর স্বাদ আস্বাদন করেনি—এমন একজন ফরাসিকে খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর হবে। সেই যখন থেকে এ অঞ্চলের মানুষ রান্নার জন্য হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করতে শুরু করেছে, অর্থাৎ সেই নব্যপ্রস্তর যুগ থেকে থেকেই এ খাবার অন্য সব খাবারকে অনেক দূরে রেখে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। 


শীতকালীন খাবার হলেও রন্ধনশিল্পের পুরোধা ব্যক্তিরা পোতো ফুঁকে ফ্রান্সের জাতীয় ডিশ বা খাবার হিসেবে আখ্যায়িত করতেও দ্বিধা করেননি।


ইতিহাস

আগুন আবিষ্কারের পর আদিম মানুষ মাংস ঝলসিয়ে খেতে শুরু করে—এটি জনপ্রিয় মত। এরপর মাটি-পাথরের পাত্র ব্যবহার করতে পারদর্শী হলে মাংস সেদ্ধ করে যখন খেতে শিখল, তখন তা হলো মানবসভ্যতার আরেক ধাপ অগ্রগতি। নব্যপ্রস্তর বা নিওলিথিক যুগেও এ খাবারের অস্তিত্ব ছিল বলে জানা যায়। তবে রোমানদের সময় বিশেষ মাত্রা লাভ করে এবং আলাদা একটি খাবার হিসেবে পরিচিতি পায় পোতে ফুঁ।

এর রন্ধনপ্রণালি যেমন বেশ সহজ, তেমনি উপকরণগুলোও বেশ সহজলভ্য। শীতের দিনের সবজি ও মাংস, বিশেষ করে গরুর মাংস হচ্ছে মূল উপকরণ। একটুখানি মাংস আর খানিকটা সবজি, অনেকটা পানিতে সেদ্ধ করে সুপের মতো একটি মাত্র ব্যঞ্জন হলেই একবেলা আহারের ব্যবস্থা হয়ে যেত সে সময়। সে কারণেই রোমান সাম্রাজ্যে এ খাবার ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। শুধু ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি থেকে এটি সাধারণের একচেটিয়া অধিকার থেকে মুক্ত হয়ে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের খাবার টেবিলে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। বর্তমানে ফ্রান্সের নামকরা রেস্তোরাঁর শেফরা তাঁদের মতো করে এই সাধারণের খাবারকে অসাধারণ মহিমায় পরিবেশন করছেন। তা ছাড়া ফ্রান্সের অঞ্চলভেদে উপকরণে হেরফের হলেও রন্ধনপ্রণালি প্রায় একই।


যেভাবে তৈরি করা হয়

উপকরণ


ছয়জনের জন্য


১. গরুর মাংস ১ কেজি ৮০০ গ্রাম। গরুর পেছনের রানের নিচের দিকের হাড়সহ ৬০০ গ্রাম মাংস, সামনের রানের ওপর দিকের পেশির মাংস ৬০০ গ্রাম, চোয়ালের মাংস ৬০০ গ্রাম। এভাবে গরুর তিন ধরনের মাংস মোট ১ কেজি ৮০০ গ্রাম। মোটকথা, গরুর তিন ধরনের মাংস হলে ভালো হয়।


২. মজ্জাসহ গরুর রানের হাড়ের ৬টি ছোট টুকরা, মাঝারি আকারের শালগম ৬টি, মাঝারি আকারের গাজর ৮টি, আলু মাঝারি আকারের ৩টি, লিক ২টি, সাদা পেঁয়াজ ২টি, রসুন ৩ কোয়া, আদা এক টুকরা (১০০ গ্রাম), সেলেরির ২টি লম্বা ডাঁটা, গোলমরিচ ২৫ গ্রাম (গুঁড়ো অথবা দানা), তেজপাতা, থাইম, সুগন্ধি গুল্ম ইত্যাদি পরিমাণমতো, লবঙ্গ ৪ থেকে ৬টি, বড় দানার লবণ ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ।


রন্ধনপ্রণালি

ঠান্ডা পানিতে মাংস খুব ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর বড় একটা পাত্রে পানিতে ডুবিয়ে হালকা আঁচে প্রায় দুই ঘণ্টা সেদ্ধ করতে হবে। এ সময়ে কিছুক্ষণ পরপরই ফেনা তুলে ফেলতে হবে। কোনোভাবেই মাংস সেদ্ধর সময়ের ফেনা রাখা চলবে না। এক ঘণ্টা পরে এর সঙ্গে মজ্জাসহ গরুর রানের হাড়ের টুকরাগুলো এবং গোলমরিচ, তেজপাতা, থাইম ইত্যাদি যোগ করতে হবে।


যতক্ষণ না মাংস সেদ্ধ হচ্ছে, সে সময়ে সবজি পরিষ্কার করে খোসা ছাড়িয়ে তৈরি রাখতে হবে। সাদা পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে লবঙ্গগুলো তার গায়ে গেঁথে দিতে হবে। মাংস সেদ্ধ হয়ে গেলে পরিমাণমতো বড় দানার লবণ, সবজিসহ বাকি উপকরণ সব একসঙ্গে দিয়ে যতক্ষণ না সব সবজি সেদ্ধ না হয়, ততক্ষণ হালকা আঁচে চুলোর ওপর রাখতে হবে। রান্নার সময় পাত্র ঢাকনা না দিতে অনেক শেফ পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাঁদের মতে, তাতে স্বাদ বাড়ে। আবার কেউ কেউ খাবারে ঘ্রাণ ধরে রাখার জন্য ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দেওয়ার জন্য বলেন।


রান্নার প্রণালি ও উপকরণ সব প্রায় এ রকমই। তবে অনেকেই নিজের মতো করে রান্না করেন। অনেকেই নিজের মতো করে সবজি দিতে পছন্দ করেন। কেউ কেউ গরুর মাংসের বদলে হাঁস-মুরগির মাংস, এমনকি মাছ দিয়েও চমৎকার পোতো ফুঁ তৈরি করে নাম কুড়িয়েছেন। আর শেফরা তাঁদের স্বতন্ত্র বজায় রাখতে গিয়ে নানা উপাদানে, কৌশলে যেমন দৃষ্টি নন্দন তেমনি অতুলনীয় স্বাদের খাবারটি পরিবেশন করে থাকেন।


যেভাবে পরিবেশন করা হয়

বেশ সময় ধরে হালকা আঁচে রান্নার ফলে মাংসে যেমন সবজির চমৎকার ঘ্রাণ হয়, তেমনি সবজিতে মাংসের ঘ্রাণ মিশে যায়। গরম-গরম মাংস, সবজি আর ধোঁয়া ওঠা সুগন্ধি সুপ সরাসরি পরিবেশন করা হয়। সঙ্গে ভাজা টোস্ট, রুটি ও খানিকটা শর্ষেবাটা অনেকেই পছন্দ করেন।


ফ্রান্সের খুব জনপ্রিয় শীতকালীন খাবারটি যেমন ধনী-দরিদ্রকে এক সারিতে এনেছে, তেমনি বহু প্রাচীন এই সুস্বাদু খাবার আজও একইভাবে ফরাসিদের খাবার টেবিল দখল করে আছে। বিশেষ করে তুষারপাতের দিনগুলোয় অপূর্ব এই খাবার হৃদয়কে উষ্ণ করে।

১৬ জানুয়ারিতে ভারতে করোনার টিকা দেওয়া শুরু


ভারতে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে ১৬ জানুয়ারি। আজ শনিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইট বার্তায় টিকাদান কর্মসূচির কথা জানান।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, মোদির সভাপতিত্বে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের দল করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে করোনার টিকাদান কর্মসূচির বিস্তারিত কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছে।


মোদি টুইট করে এ খবরকে ‘কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে স্মরণীয় পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি টুইট বার্তায় বলেন, ‘১৬ জানুয়ারি ভারত কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে স্মরণীয় পদক্ষেপ নেবে। ওই দিন থেকে ভারতব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। অগ্রাধিকার পাবেন সাহসী চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সম্মুখসারির কর্মী, যাঁদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত মানুষজনও রয়েছে।’

গত সপ্তাহে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বলেন, টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় এক কোটি স্বাস্থ্যকর্মীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া মহামারির লড়াইয়ে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পাবেন। তাঁদের জন্য টিকা বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। এরপরের গ্রুপ হিসেবে ৫০ বছর ঊর্ধ্ব বয়সী মানুষ টিকা পাবেন। এরপর ৫০ বছরের নিচে অসুস্থ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে ৩০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে।

গত মঙ্গলবার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের কোভিড ভ্যাকসিন ইনটেলিজেন্স নেটওয়ার্ক (কোউইন) অ্যাপ ও ইকোসিস্টেম টিকাদান কর্মসূচি ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহার করা হবে।


ভারত সরকার ইতিমধ্যে দেশব্যাপী তিনবার করোনা টিকার মহড়া চালিয়েছে। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার ৩৩টি রাজ্যের ৪ হাজার ৮৯৫ জায়গায় এ মহড়া দেওয়া হয়।


গত রোববার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ব্যবহারের জন্য দুটি টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়। এ দুটি টিকা হচ্ছে ভারত বায়োটেকের তৈরি ‘কোভ্যাক্সিন’ এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ডের তৈরি সেরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত টিকা ‘কোভিশিল্ড’। ভারতের পুনেভিত্তিক সেরাম ইনস্টিটিউট কোভিশিল্ড টিকা উৎপাদন করছে।


ভারতের এ দুটি টিকা হচ্ছে দুই ডোজের। সর্বোচ্চ সুরক্ষা পেতে দুই ডোজ টিকা দিতে হবে। এ দুটি টিকা স্বাভাবিক ফ্রিজের তাপমাত্রায় (দুই থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস) সংরক্ষণ করা যায়।


সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আদর পুনাওয়ালা এর আগে বলেছিলেন, এখন পর্যন্ত যে ৫ কোটি ডোজ কোভিশিল্ড টিকা উৎপাদন করা হয়েছে, তার অধিকাংশই ভারতের জন্য। ভারত বায়োটেকের চেয়ারম্যান কৃষ্ণা এলা বলেন, কোভ্যাক্সিনের ২ কোটি ডোজ প্রস্তুত করা হয়েছে।

চীনে লকডাউনে এক কোটির বেশি


চীনের উত্তরাঞ্চলে শিজিয়াজহুয়াং এলাকায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষকে লকডাউনের আওতায় রাখা হয়েছে। সেখানে করোনাভাইরাসে নতুন করে ১০০ জন শনাক্ত হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। বাসিন্দাদের ওই এলাকা ছেড়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সেখানে স্কুলগুলো বন্ধ রয়েছে।


বিবিসির আজ শুক্রবারের খবরে জানা যায়, শিজিয়াজহুয়াং এলাকায় ৫ হাজারের বেশি পরীক্ষাকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। যাতে সব বাসিন্দা করোনা পরীক্ষা করাতে পারে।

গত পাঁচ মাসে চীনে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ বেড়েছে। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় ও পরীক্ষা বাড়ানোয় চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে।

শিজিয়াঝুয়াং এলাকা হুবেই প্রদেশে। সেখানে স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার ১২০ জন নতুন করে করোনায় শনাক্ত হন।


২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনায় সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে।


চীনের নতুন বছর উদ্‌যাপনের কয়েক সপ্তাহ আগে লকডাউন করা হলো। এ সময় ছুটিতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য অনেকে ভ্রমণ করেন। যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

শিজিয়াজঝুয়াংয়ের পাঁচটি হাসপাতালে কোভিড ১৯ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নগরের উপ মেয়র মেং জিয়াংঘং বলেছেন, আরও তিনটি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিনা মূল্যে চীনের মানুষ টিকা পাবে


করোনাভাইরাসের (কোভিড–১৯) টিকার সরবরাহ সহজলভ্য হওয়ার পর দেশের জনগণকে এটি বিনা মূল্যে দেবে চীন। আজ শনিবার দেশটির সরকারি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের।


চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের কর্মকর্তা ঝেং ঝংওয়েই বলেন, টিকা তৈরি ও পরিবহনে অর্থ খরচ হলেও সরকার নাগরিকদের এটি বিনা মূল্যে দেবে। বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘টিকার জন্য আমাদের নাগরিকদের এক পয়সাও খরচ করতে হবে না।’


গত ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ চীন সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রথমবারের মতো টিকা দেওয়া শুরু করে। এর আগে টিকার জরুরি ব্যবহার কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্যকর্মীসহ করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের টিকা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়।


ডিসেম্বরের মাঝামাঝি দেশে টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারিত করে চীন। শীত ও বসন্ত মৌসুমে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া ঠেকানোর চেষ্টায় এই কর্মসূচির আওতায় খাদ্য ও গণপরিবহন খাতের মতো আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতের কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের কর্মকর্তা ঝেং জিজিন বলেন, ওই সব টিকাও বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে।


টিকা তৈরি ও পরিবহনে অর্থ খরচ হলেও সরকার নাগরিকদের এটি বিনা মূল্যে দেবে। টিকার জন্য আমাদের নাগরিকদের এক পয়সাও খরচ করতে হবে না।

ঝেং ঝংওয়েই, চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের কর্মকর্তা

সংবাদ সম্মেলনে ঝেং বলেন, ‘কয়েকটি স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষকে আমরা টিকার জন্য লোকজনের কাছ থেকে অর্থ নিতে দেখেছি। আমরা দ্রুত এ অবস্থার পরিবর্তন চেয়েছি। তবে এখন স্থানীয় সরকার বিনা মূল্যে টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবেই কার্যকর করা শুরু করেছে।’

ভাঙনের ঝুঁকিতে বাঁধ ,পদ্মা তীরের মাটি কেটে বিক্রি


ফরিদপুর সদর উপজেলায় পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের কাছ থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে বাঁধ।


উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ধলার মোড় এলাকায় তীর সংরক্ষণ বাঁধের ৩০ থেকে ৪০ মিটার দূর থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। গত সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচটি এক্সাভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব বালু-মাটি ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। অন্তত ২০টি ট্রাকে মাটি ভর্তি করতে দেখা যায়।


ওই এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১ মাস ধরে অন্তত ২০টি এক্সাভেটর দিয়ে রাতদিন সমানে মাটি কাটা হচ্ছে। শতাধিক ট্রাক পরিবহনের কাজ করছে। মাটি কাটার সঙ্গে এলাকার বাসিন্দা সেলিম মৃধা, মো. নজরুল, দুলাল মীর, আজম মুনশি, রব শেখ, আসাদ মীর, শহীদ মীর প্রমুখ জড়িত।


ওই এলাকার কয়েক জন বাসিন্দা বলেন, ট্রাকে করে মাটি নেওয়া হচ্ছে। ধুলার কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। ধুলা-বালুর কারণে চায়ের দোকানে বসা যায় না। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।


ওই জায়গা থেকে মাটি কাটার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমতি দেওয়ার কোনো ক্ষমতাও তাঁর নেই।

সুলতান মাহমুদ, ফরিদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী

মাটি কাটার কাজে জড়িত সেলিম মৃধা বলেন, তিনি পৈতৃক জায়গা থেকে বালু তুলছেন। কর্তৃপক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে এই কাজ করছেন। এ বিষয়ে ডিক্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান ভালো বলতে পারবেন।


তবে ডিক্রিরচর ইউপির চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমি মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত নই। কি প্রক্রিয়ায়, কারা মাটি কাটছেন, তা আমার জানা নেই। অন্যায়ভাবে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে।’


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্মতি নিয়ে ওই ব্যক্তিরা নিজ জমি থেকে মাটি কাটছেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল।


এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, এতে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের ক্ষতি হবে কি না, তা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলতে পারবে। বিষয়টি নিয়ে তিনি পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলবেন।


ফরিদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, ওই জায়গা থেকে মাটি কাটার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমতি দেওয়ার কোনো ক্ষমতাও তাঁর নেই।


সুলতান মাহমুদ আরও বলেন, নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের ৫০ মিটার দূর থেকে বালু কাটা হচ্ছে। ৫০০ মিটার দূর থেকে বালু কাটলেও পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের ক্ষতি হবে। মাটি কাটা বন্ধের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আকিজ কারখানার শ্রমিকদের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ


পুলিশের সঙ্গে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আকিজ বিড়ি কারখানার শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার হোসেনাবাদে আকিজ বিড়ি কারখানার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এতে শিপুল ইসলাম নামের একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি হোসেনাবাদ গইড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কারখানায় ঢোকার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর কয়েকজন শ্রমিক ঢোকার চেষ্টা করেন। কারখানার নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে শ্রমিকদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে লাঠিপেটা শুরু করে এবং পরে ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে কারখানার সব শ্রমিক কাজ বন্ধ করে হোসেনাবাদ বাজারে কুষ্টিয়া–প্রাগপুর সড়ক অবরোধ করে। তাঁদের সঙ্গে উপজেলার ফিলিপনগর কারখানার শ্রমিকেরাও যোগ দেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, পুলিশের ছোড়া গুলিতে শিপুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক আহত হয়েছেন। তিনি এখনো কারখানার ভেতরেই আছেন। পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানার ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামের নির্দেশে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর লাঠিপেটা করে এবং গুলি ছোড়ে। তাঁরা অবিলম্বে তাঁর অপসারণ দাবি করেছেন। ঘটনার পর কুষ্টিয়া–দৌলতপুর-মহিষকুণ্ডি আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। গাছের গুঁড়ি দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড দেন। সড়কের ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে তাঁরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কারখানার ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কারখানার আরেক ব্যবস্থাপক রাসুল উদ্দীনের মোবাইল ফোনে কল করা হলে ফোনের লাইন কেটে দেন। এ জন্য তাঁরও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহাদত হোসেন বলেন, তাঁরা আত্মরক্ষার্থে তিনটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। সড়ক অবরোধকারী শ্রমিকদের দুপুর ১২টায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোনো ঘটনা জানা নেই।