নিউজ

প্রগতি গতি হারিয়েছে লাভের


বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থার (বিএসইসি) অধীনে চালু থাকা ৯ কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কারণ, ঢাকায় ১৪ তলা বাণিজ্যিক ভবন কাম সেবাকেন্দ্র, চট্টগ্রামে কারখানা ও শোরুমসহ প্রধান ভবন নির্মাণ, নতুন গাড়ি সংযোজন এবং সব বিভাগীয় শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে শোরুম খোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে এই কোম্পানিকে ঘিরে। আর এটি বিএসইসির লাভজনক দুটি কোম্পানির একটি এবং এর উৎপাদন কার্যক্রমও মোটামুটি বিস্তৃত। প্রতিষ্ঠানটি কার, ট্রাক, জিপ, অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ, ট্রাক্টর ইত্যাদি সংযোজন করে।

কিন্তু এত পরিকল্পনার মধ্যেও যেন গতি হারাতে বসেছে শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ। যেমন ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের প্রভাবে এই কোম্পানির মুনাফায় ধাক্কা লেগেছে। এর ওপর কোম্পানিটি এখন বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণেও ঝুঁকেছে।

বিএসইসির তথ্যমতে, ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ। বর্তমানে কোম্পানিটির জনবল ৩২১ জন এবং বছরে ১ হাজার ৫০০টি গাড়ি সংযোজনের ক্ষমতাসম্পন্ন। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কোম্পানিটি ৫০ হাজার গাড়ি সংযোজন করেছে।বিএসইসি সম্প্রতি প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন, বিক্রি ও লাভ-লোকসানের পাঁচ বছরের একটি পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। এতে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৫৮০ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন করে। মাঝখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২২৯ কোটির বেশি অর্থাৎ ৮০৯ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন করে কোম্পানিটি। এক বছরের মাথায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে আবার উৎপাদন নেমে আসে ৬৩২ কোটি টাকায়। এই অর্থবছরের শেষ তিন মাস অবশ্য করোনায় পেয়ে বসে কোম্পানিটিকে। আর করোনার মধ্যে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাস জুলাই-অক্টোবরে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ ১৩৯ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন করে।

পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের মধ্যে কোম্পানিটির বিক্রি ৬৯৭ কোটি থেকে বেড়ে ৮৯৮ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। তবে একই সময়ে মুনাফা ৯৪ কোটি থেকে কমে ৬১ কোটি টাকায় নেমে আসে। কোভিড-১৯-এর প্রভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে কোম্পানিটি মুনাফা করেছে মাত্র ৫৫ লাখ টাকা।

কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এক আদেশে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের গাড়ি কেনায় নিরুৎসাহিত করে। পরে এই সময়সীমা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এই সিদ্ধান্তই কোম্পানিটির মুনাফায় ধস নামিয়েছে বলে মনে করেন বিএসইসির একাধিক পরিচালক।

এদিকে বিএসইসির আরেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্যান কোম্পানিকে সম্প্রতি প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের আওতায় নিয়ে আসা হয়। চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে ১৯৬২ সালে ১ হাজার ৮০০ টন ডেকোরেটেড টিনের ক্যান উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ক্যান কোম্পানি গড়ে তোলা হয়। এখানে প্রগতির একটি প্ল্যান্ট বা কারখানা করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রগতির পণ্যের মূল্যতালিকার মধ্যে রয়েছে পাজেরো স্পোর্ট কিউএক্স এসইউভি ৯৪ লাখ টাকা, মিতসুবিশি এএসএক্স এসইউভি ৫৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, মিতসুবিশি এল-২০০ ডাবল কেবিন পিকআপ ৪৯ লাখ টাকা, মাহিন্দ্রা স্করপিও ডাবল কেবিন পিকআপ ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং টাটা এলপিও ১৩১৬/৫৫ ৪২ লাখ ২৯ হাজার টাকা।