নিউজ

Other News

More news for your entertainment

কী কী কারণে হয়?স্থূলতা বা অবেসিটি


অনেক দিন পর পুরনো দুই বান্ধবীর দেখা হয়েছে শপিং মলে। একজন বললেন, “তোর শরীর এত খারাপ হলো কী করে?’” অপরজন তো অবাক! বললেন, “বলিস কী? আমি তো মুটিয়ে গেছি!” প্রথম বান্ধবী হেসে বললেন, “আমি তো সেটাই বলছি। স্বাস্থ্য খারাপ মানে শুধু শুকিয়ে যাওয়া নাকি?”… কথা বলছি- স্থূলতা বা অবেসিটি নিয়ে!


স্থূলতা বা অবেসিটি কী?

গল্পটা আর দীর্ঘ না করে আসল কথায় আসা যাক। মোটা শরীর বা স্থূলতা কিন্তু আসলেই এক ধরণের অসুস্থতা। আপনার বি.এম.আই. যদি ৩০ এর বেশি হয়, তাহলে আপনি নির্ঘাত মোটাদের দলে পড়েছেন। মোটা শরীর মানেই সবল শরীর নয় বরং মোটা ব্যক্তির যে কোন রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি।


স্থূলতা বা অবেসিটি কী কী কারণে হয়?

স্থূলতার কারণ নানাবিধ। যারা অতিরিক্ত শর্করা, চর্বি বা আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করেন অথবা শরীর চর্চা করেন না অথবা ঘরে বা বাইরে কম কাজ করেন, তারা দ্রুত মুটিয়ে যান। ফলে ওজন বৃদ্ধি পায় খুবই দ্রুত।

জিন অথবা হরমোনের কারণে কেউ কেউ মাত্রাতিরিক্ত মোটা হয়ে যান। মনঃস্তাত্বিক কিছু কারণেও কেউ কেউ জীবনের কোন একটা পর্যায়ে মুটিয়ে যান। অনেকে মোটা হন ওষুধ সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়। ইদানিং সমাজে জাংক ফুড খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। ফলে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে একটা বড় অংশ স্থূলতায় আক্রান্ত। এর পরিণতি কত ভয়াবহ হতে পারে, তা যদি অভিভাবকেরা স্পষ্ট ভাবে জানতেন, তাহলে ভুলেও তাঁদের সন্তানদের ঐ Slow poison খাওয়াতেন না।

আরো একটা মজার ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়। যাদের ওজন একটু বেশি, তাদের শরীরে খাবারের চাহিদা বেশি  (অনেকটা বড় গাড়ি যেমন বেশি জ্বালানী খরচ করে, সেরকম)। খাবারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে যারা বেশি খান, তাদের শরীরে মেদ বেশি জমে। এ যেন এক অচ্ছেদ্যচক্র! কারো কারো আবার মেদ বেশি নেই, কিন্তু শরীরটা স্থূল এবং ভারী।

মোটা শরীরকে এককালে ধনাঢ্যতা বা আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণা এবং প্রাপ্ত ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা যায় স্থূলতার কোন উপকারিতা নেই; বরং তা মানুষকে ক্রমেই মৃত্যূর দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। হৃদরোগ, নিদ্রাহীনতা, ডায়াবেটিস (টাইপ-২), নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সার, হাড়ের বাত ইত্যাদি রোগের বড় কারণ স্থূলতা বা অবেসিটি । স্থূল শরীর সৌন্দর্যকে কমিয়ে দেয়, কমিয়ে দেয় শরীরের কর্মদক্ষতা। কাজেই নিজের ওজনের ওপর যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণ রাখুন, বাঁচুন সুস্থ্য ও সুখী হয়ে।


এক নজরে স্থূলতার কারণসমূহ-

অতিরিক্ত শর্করা, চর্বি বা আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ

শরীর চর্চা বা ভারী কাজ না করা

জিনগত বা হরমোনগত কারণ

মনঃস্তাত্বিক কিছু কারণ

ওষুধ সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

জাংক ফুড খাওয়া

৫টি কার্যকরী ব্যায়াম হাতের বাড়তি মেদ দূর করতে!


এক জোড়া সুন্দর বাহু যেমন আপনার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিতে পারে বহু গুণে, তেমনি হাতের মেদ সমস্যা হয়ত আপনার সুন্দর থাকার সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ করে দিতে পারে। কারো কারো শরীরের সব জায়গার ফিটনেস ঠিক থাকলেও শুধু হাত অস্বাভাবিক মোটা হতে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত কিছু এক্সারসাইজের মাধ্যমে হাতের মেদ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যায় সহজেই। আসুন জেনে নেই হাতের বাড়তি মেদ কমাতে কোন ধরণের  ব্যায়াম আপনার করতে হবে।


হাতের বাড়তি মেদ সমস্যা সমাধানে কিছু ব্যায়াম

১. বাইসেপ কার্লস

আর্ম ফ্যাট বা হাতের বাড়তি মেদ কমাতে এটি সবচেয়ে সহজ ও পরীক্ষিত উপায়। এটি হাতের মেদ কমিয়ে হাতের আকার ও গঠন পাতলা ও সুগঠিত করে। এজন্য একটি ডাম্বেল বা ভারী ওজনের কোন বস্তুকে দুই হাত দিয়ে উপরে উঠানোর চেষ্টা করুন। ডাম্বেলটি আপনার মুখের নিচ পর্যন্ত উঠাতে পারেন। মনে রাখবেন এক বারেই দুই হাত দিয়ে তুলুন, প্রতিবার ৫-১০ বার করুন।


২. পুশ আপ

হাতের বাড়তি মেদ কমানোর জন্য পুশ আপ হচ্ছে সবচেয়ে পরিচিত একটি অনুশীলন। এটি সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে সহজ একটি উপায়, কেননা যে কোন জায়গাতেই এটি অভ্যাস করা যায়। একটি সমতল জায়গায় দুই হাতে ভর দিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। তারপর হাতের উপর সমস্ত শরীরের ভর রেখে উঠার চেষ্টা করুন। পুনরায় করুন। এভাবে ১৫-২০ বার করতে থাকুন।


৩. ট্রাইসেপস কার্লস

হাতের মেদ কমাতে এই আসনটির-ও জুড়ি নেই। এ জন্য একটি টেবিল বা চেয়ারের সাহায্যের প্রয়োজন। হাত দুটিকে পেছনের দিকে নিয়ে যান, টেবিল /চেয়ারটি যেন সেদিকে থাকে যেদিকে হাত থাকবে। এবার টেবিল/চেয়ারটিতে হাতের ভর দিয়ে শরীরের বাকি অংশ সামনের দিকে টান টান করে দিন। এভাবে কয়েক বার করুন।


৪. রিভার্স কার্লস

যাদের সম্পূর্ন হাতের তুলনায় আর্ম বেশি মোটা তাদের জন্য এই আসনটি উপযোগী। এক্ষেত্রে দুটি ডাম্বেল প্রয়োজন। দুই হাতে দুটি ডাম্বেল বা পূর্বের মত ভারী কোন জিনিস (পানিভর্তি বোতলও হতে পারে) উঠানোর চেষ্টা করুন। যত উপরে পারেন উঠান ,আবার নিচে নামান। এভাবে প্রতি হাতে ১০-১৫ বার করে করুন।


৫. ওয়েট লিফটিং

এটি একটি সাধারণ অনুশীলন। কম বেশি সবাই এর ব্যাপারে জানে। বেশ ভারী কোন বস্তুকে দুই হাত দিয়ে উঠিয়ে মাথার উপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা টিভিতে অ্যাথলেট দের যেমন করতে দেখি তেমন। ছবির মত করে করতে চেষ্টা করুন। তবে শুরুতেই খুব বেশি ভারী বস্তু উঠাতে যাবেন না, এতে আহত হওয়ার আশংকা থাকে।

অনুশীলন গুলো নিয়মিত চর্চা করে যান, আশা করি কাঙ্খিত ফল পাবেন অচিরেই।

কার্যকর ৭টি ব্যায়াম জানেন কি ব্রেস্ট এর শেইপ ঠিক রাখতে?


অতিরিক্ত ওজনের কারণে, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে অনেকের-ই ব্রেস্ট এর শেইপ নষ্ট হয়ে যায়। তাই ওজন কমানোর ব্যায়ামের পাশাপাশি যদি chest muscles strengthening ব্যায়ামগুলো করা যায় তাহলে আপনি আবার আপনার ব্রেস্ট এর শেইপ ঠিক অবস্থায় নিয়ে আসতে পারবেন। এই ব্যায়ামগুলো করতে আপনার যা যা লাগবে –

(১) বেঞ্চ ও বল

(২)  ডাম্বেল অথবা মাঝারি আকারের পানি ভর্তি বোতল

(৩) চেয়ার


ব্রেস্ট এর শেইপ ঠিক রাখতে ব্যায়াম

১) Aerobic এক্সারসাইজ

ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন Aerobic এক্সারসাইজ করুন। অন্তত ১ ঘন্টা খুব energetic ব্যায়াম গুলো করুন আর সেটাতে কষ্ট হলে অন্তত ২ ঘন্টা ধরে হালকা ব্যায়ামগুলো করুন। এর জন্য আপনি gym এ যেতে পারেন যেমন – ঢাকায় persona health এ Aerobic এক্সারসাইজ করানো হয়। আবার Aerobic এক্সারসাইজ এর ভিডিও ডাউনলোড করে বাসায় নিজে নিজে সেটা দেখে দেখে করতে পারেন। তাছাড়া মার্কেটেও পাওয়া যায়।

২) ডিক্লাইন পুশ-আপ

যতক্ষণ পারেন ডিক্লাইন পুশ আপ করতে থাকুন। ২ হাতে ভর দিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। আপনার পা দুইটি একটু উঁচু স্থানে থাকবে। যেমন- অল্প উঁচু বেঞ্চ, কোন বল, সোফা, সিড়ি। তারপর হাতের উপর সমস্ত শরীরের ভর রেখে উঠার চেষ্টা করুন।এভাবে হাতের উপর ভর দিয়ে আপনার শরীরকে উপরে উঠাবেন এবং নীচে নামাবেন। প্রথম দিন খুব বেশি করবেন না। প্রথম দিন ৫ বার করতে পারেন। পরের দিন ১০ বার করবেন। এভাবে একটু একটু করে বাড়াবেন।

৩) ডাম্বেল পুল-ওভার

২ হাত দিয়ে ডাম্বেল ধরে একটি বেঞ্চে বা অন্য কোন শক্ত জায়গায় সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন। প্রথমে আপনার হাত ২ টি ডাম্বেল সহ সরাসরি বুকের উপর বরাবর তুলে ধরবেন।আপনার বাহু ২টি সোজা থাকবে। এবার কনুই সামান্য বাঁকা করে ডাম্বেল আপনার মাথার উপর দিয়ে নামিয়ে মাথার পেছন দিকে নেয়ার চেষ্টা করুন যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার হাতে কোন ব্যথা অনুভব না করেন। এরপর আবার ডাম্বেল ২ হাতে ধরে উঠিয়ে আগের অবস্থায় নিয়ে আসুন। এভাবে প্রতিদিন ১৫-২০ বার করতে থাকুন। আপনি চাইলে সময়ের সাথে সাথে ব্যায়ামটির পরিমাণ আরো বাড়াতে পারেন।

৪) Isometric চেস্ট প্রেস

একটি চেয়ারে বসে পড়ুন। এবার ২ হাত বুকের সামনে এনে এক হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে অন্য হাতের আঙ্গুল রেখে সমান ভাবে এক হাত দিয়ে অপর হাতে চাপ দিতে থাকুন। এভাবে ১০ সেকেন্ড চাপ দিয়ে ২ হাত একত্রিত করে রাখুন। ৫ সেকেন্ডের জন্য হাত ২ টি ছেড়ে দিন এবং এরপর আবার আগের মত করুন। 

খেয়াল রাখবেন যেন আপনার chest muscle এ প্রেশার পড়ে। আপনি ২ হাতে বল ধরে বলে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমেও এটি করতে পারেন।

৫) ওয়াল পুশ-আপ

একটি দেয়ালের দিকে মুখ করে দেয়াল থেকে ২ ফুট দূরে দাঁড়ান। আপনার ২ হাত এমন ভাবে দেয়ালে রাখুন যেন হাত আপনার কাঁধ এর সাথে সমান্তরাল অবস্থানে থাকে।

হাঁটু ভাজ করবেন না। এবার বুকডন দেয়ার মত হাতের উপর ভর দিয়ে শরীর কে দেয়ালের দিকে নামান আবার ২ হাতে ভর দিয়ে আগের অবস্থানে চলে আসুন। এভাবে প্রতিদিন ১৫-২০ বার করুন। আপনি খেয়াল করবেন যেন আপনার chest muscle এ প্রেশার পড়ে।

৬) আর্ম সার্কেলিং

২ হাত সামনে থেকে পেছনের দিকে ঘুরিয়ে আনুন ৫ বার। আবার পেছন থেকে সামনে ঘুরিয়ে আনুন ৫ বার। ২ হাত একসাথে না করে একবার ডান হাত তারপর বা হাত – এভাবেও করতে পারেন। প্রথম দিন ৫ বার, পরের দিন ১০ বার এভাবে বাড়াতে থাকবেন।

৭) চেস্ট ফ্লাই

২ হাতে হালকা ডাম্বেল নিয়ে হয়ে শুয়ে পড়ুন। এবার নীচের ছবিতে যেভাবে দেখালো হয়েছে সেভাবে কনুই হালকা বাঁকা করে ডাম্বেল গুলো সহ হাত উপরে তুলে নিয়ে  বুকের উপর নিয়ে আসুন একসাথে।

১০ সেকেন্ড এভাবে থেকে আবার ডাম্বেল সহ ২ হাত ২ পাশে ছড়িয়ে দিন। আবার বুকের কাছে নিয়ে আসুন। এভাবে প্রতিদিন ২০ মিনিট করবেন।

ব্রেস্ট এর শেইপ ঠিক রাখতে উপরের এই কয়টি ব্যায়াম নিয়মিত করতে থাকুন। প্রথম দিকে অল্প সময় করবেন এবং প্রতিদিন একটু একটু করে সময় বাড়াবেন। এতে আপনার শরীর এই ব্যায়ামে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে আর আপনার কোন ব্যথা হবে না, ব্রেস্ট এর শেইপ ঠিক হওয়ার যে লক্ষ্য তাও পূরণ হবে।

৩ বেলার ডায়েট প্ল্যান রমজান মাসে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে!


যারা নিয়ম মেনে কোন ডায়েট প্ল্যান মেনে চলেন তাদের জন্য রমজান মাসে একই ডায়েট প্ল্যান মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার অনেকেই মনে করেন রোজার মাসে সারা দিন না খেয়ে থাকার কারণে ওজন কমে যায়। কিন্তু এটা ভুল ধারণা। আমরা সাধারণত ৩ বেলা খাই আর রোজার সময়েও ইফতার, রাতে আর সেহেরি মিলিয়ে ৩ বেলা-ই খাচ্ছি। তাহলে ওজন কমবে কীভাবে? ভয়ের কিছু নেই। এই আর্টিকেলে রমজান মাসে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে ৩ বেলার ডায়েট প্ল্যান নিয়ে আপনাদের জানাবো। তার পূর্বে কিছু কথা জেনে নেই…অনেকেই রোজা রাখার পর ইফতারের সময় সামনে বিভিন্ন খাবার দেখলে পেট ভরে গেলেও শুধুমাত্র চোখের ক্ষুধা মেটানোর জন্য খাবার খেতেই থাকে। তখন আর নির্দিষ্ট ডায়েট প্ল্যানের কথা মনে থাকে না। আমাদের দেশে ইফতারের সময় সাধারণত তেলে ভাজা খাবার বেশি থাকে। এগুলো একই সাথে ওজন বাড়ায় এবং এসিডিটির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এরপর আসে সেহরি আর রাতের খাবারের কথা। ইফতারের ৩/৪ ঘন্টা পরেই রাতের খাবারের সময় হয়ে যায়। তখন পেট ভরা থাকার পরেও অনেকে মনে করে যে সারা দিন না খেয়ে থাকব, তার চেয়ে খেয়ে নেই। তাই দেখা যায় ঘুরে ফিরে আমরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খেতেই থাকি। তাছাড়া বিভিন্ন দাওয়াত আর বাইরের দোকানে আকর্ষণীয় সব অফার দেখে সেখানে ইফতার করা তো হবেই। কখনো বন্ধু-বান্ধবের সাথে, কখনো আত্মীয়দের সাথে। তাই এ সময় আমাদের একটু নিয়ম মেনে চলা উচিত যেন সুস্থ এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রোজা পালন করতে পারি। তাই আজকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রোজা পালন করার একটি ধারণা দেওয়া হলো। আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই লিখছি , তাই আমি জানি এতে আর যাই হোক আপনার ক্ষতি হবে না।


রমজান মাসে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে ৩ বেলার ডায়েট প্ল্যান

১. ইফতার

 ০১. ইফতারে সবার আগে পানি পান করবেন। খালি পেটে তেলে ভাজা খাবার খেলে এর ফল ভয়াবহ হতে পারে। তাই এক গ্লাস না পারলেও অন্তত আধা গ্লাস পানি পান করে অন্য কিছু খান।

০২. পেঁয়াজু/ বেগুনী/ কাবাব

ইফতারের সময় আমাদের দেশে পেঁয়াজু বেগুনী থাকবেই। আপনি ২টি পেঁয়াজু বা ২টি বেগুনী অথবা ২টি কাবাব খেতে পারেন। ১টি পেঁয়াজু আর একটি বেগুনী, একটি বেগুনী আর একটি কাবাব এভাবেও মিলিয়ে খেতে পারেন। খেয়াল রাখবেন যেন এ ধরনের খাবার ২টির বেশি না খান। কারণ প্রতিটি পেঁয়াজু, বেগুনী বা অন্য যে কোন তেলে ভাজা খাবারে ক্যালোরির পরিমাণ ৫০ থেকে ৭০ এর মত হতে পারে। একটি টিকিয়া কাবাবে ক্যালরি হলো ৮০ আর চপে ৮৫। যদি সিঙ্গারা খান তাহলে অবশ্যই একটি খাবেন কারণ তাতে ১৪০ ক্যালরি থাকে যা ২টি রুটির সমান! আর সিঙ্গারা খেলে পেঁয়াজু/ বেগুনী/ কাবাব খাবেন না।

০৩. হালিম

হালিমে বিভিন্ন রকমের ডাল আর মাংস মেশানো থাকে তাই এতে প্রচুর ক্যালরি থাকে। এক বাটি ভরে হালিম না খেয়ে আধা বাটি হালিম খান। দোকানের হালিম না খেয়ে বাসায় তৈরি করুন। এখন বিভিন্ন হালিম মিক্স মসলা পাওয়া যায় মার্কেটে। তাই বাসায় হালিম তৈরি করাটা এখন সবার কাছেই সহজ।

০৪. ছোলা মুড়ি

যদি হালিম না খান তাহলে এক বাটি ছোলা মুড়ি খান কিন্তু যদি আধা বাটি হালিম খান তাহলে আধা বাটি ছোলা মুড়ি খান। কারণ এক কাপ মুড়িতে ৭০ ক্যালরি। আপনি যদি একই সাথে হালিম আর এক বাটি ছোলা মুড়ি খান তাহলে সেটাতে অনেক ক্যালরি হবে।

০৫. শরবতঃ অতিরিক্ত চিনি দিয়ে শরবত না তৈরি করে ডাবের পানি পান করুন। শরবত যে একদম ছেড়ে দিবেন তা বলছিনা। ৩/৪ দিন পর পর চিনি মেশানো লেবুর শরবত বা অন্য কোন ফলের শরবত খেতে পারেন। তবে বাইরে থেকে রঙ মেশানো শরবত এনে খাবেন না।

০৬. ১ টুকরো শশা খেতে পারেন।

০৭. একটি আপেল/ একটি ছোট কলা/ ৩/৪ টি লিচু। (প্রায় ৪০ ক্যালরি)


২. রাতের খাবার

০১. একটি রুটি / আধা কাপ ভাত/ অর্ধেক পরোটা (যে কোন একটি খাবেন)।

০২. ২ টুকরো মাছ অথবা মাংস। ২টি মাছ আর ২টি মাংসের টুকরো এক সাথে খাওয়া যাবেনা।

০৩. যে কোন শাক।

০৪. ২/৩ চা চামচ টক দই।


৩. সেহেরি

অনেকেই সেহেরিতে কিছু খান না। কেউবা এক বা দুই কাপ চা খান। কিন্তু এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই খারাপ। আপনি সেহেরিতে কম খাবেন কিন্তু নিয়ম মেনে খাবেন। যেমন –

০১ আধা কাপ ভাত অথবা একটি রুটি

০২ ১ টুকরো মুরগীর মাংস

০৩ সবজি ১ কাপ

০৪ টক দই ১ কাপ

যারা টক দই খেতে পারেন না তারা ১ কাপ সর ছাড়া দুধ খেতে পারেন।


রমজান মাসে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে কিছু টিপস

১. যদি পিৎজা খেতে চান তাহলে এক স্লাইসের বেশি খাবেন না। এক স্লাইসে প্রায় ৩০০ ক্যালরি !!

২. বিভিন্ন দোকানে ফ্রাই করা মুরগীর প্রতিটি টুকরোতে প্রায় ২০০ ক্যালরি থাকে। তাই বুঝে শুনে খাবেন।

৩. একটি ছোট প্যাকেটের ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এ ২৭০ ক্যালরির মত থাকে।

৪. ঝাল খাবার খাবেন না।

৫. প্রচুর পানি পান করবেন ইফতারের পর থেকে।

৬. মেয়নিজ বেশি না খেয়ে মার্জারিন খেতে পারেন।

৭. গ্রিন টি পান করলে ভালো, নাহলে দুধ চিনি ছাড়া চা পান করুন। কারণ ইফতারে এমনিতেই প্রচুর ক্যালরি যুক্ত খাবার খাওয়া হয় তাই চায়ের সাথে দুধ চিনি মিশিয়ে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রয়োজন নেই। রমজান মাস শুরু হওয়ার ৩/৪ দিন আগে থেকেই ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে দিলে ভালো। কারণ যারা বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করেন তারা রোজা পালনের কারণে হঠাৎ সারা দিন ক্যাফেইন গ্রহণ না করলে মাথা ব্যথায় ভোগেন।

৮. ইফতারের পর অন্তত ২০-২৫ মিনিট হাঁটুন।

৯. সেহেরি তে খাওয়া শেষ করে ১৫ মিনিট হাঁটুন। সেহেরিতে সময় নিয়ে উঠুন যেন শেষ মুহূর্তে তাড়াতাড়ি খেতে গিয়ে বেশি খেয়ে না ফেলেন।

এভাবে একটু নিয়ম মেনে আর ক্যালরি হিসাব করে যদি খান তাহলে আশা করছি এই মাসে তেলে ভাজা আর দোকানের খাবার খেয়ে আপনার ওজ়ন বাড়বেনা। যাদের ওজন বেশি তারা বাসার বাইরে খেলে এমন ভাবে খাবেন যেন আপনাদের ক্যালরি গ্রহণ ১৪০০ এর মধ্যে থাকে।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আমের বরফি আর ছিটা রুটি


০১ আমের বরফি

উপকরণঃ

আমের কাথ – ২ কাপ ( পাকা আম ব্লেনড করে কাথ বানাতে হবে )

মাখন বা ঘি – ৪ টেবিল চামচ

কোড়ানো নারিকেল – ১ কাপ

মাওয়া- ১.৫ কাপ ( মাওয়ার পরিবর্তে কন্ডেন্সড মিল্ক দেওয়া যায় )

চিনি- ৩/৪ কাপ (কন্ডেন্সড মিল্ক ব্যবহার করলে চিনি স্বাদ মত দিতে হবে )

গরম মসলা গুঁড়ো – ১/৪ চা চামচ

লবণ সামান্য

অরেঞ্জ ফুড কালার – ১/৮ চা চামচ

বাদাম সাজাবার জন্য

প্রণালীঃ

একটি কড়াই-এ মাখন বা ঘি নিয়ে হালকা আঁচে গরম করতে হবে।এবার আমের কাথ দেই এবং নাড়তে থাকি । খেয়াল রাখতে হবে যেন নিচে পুড়ে না যায় । পানি শুকিয়ে গেলে গরম মসলা গুঁড়ো, লবণ, চিনি এবং নারিকেল কোড়ানো যোগ করি এবং ভালো ভাবে মেশাই । মাওয়া যোগ করি । এবার অরেঞ্জ ফুড কালার দেই এবং ভালো ভাবে মেশাতে থাকি । নাড়তে নাড়তে যখন মিশ্রণটা আঠালো হবে তখনই সেটি একটি ট্রেতে ঘি লাগিয়ে ঢেলে সাথে সাথে হাত দিয়ে সমান করে ওপরে বাদামের কুঁচি ছিটিয়ে চারকোণা করে কেটে নিজের পছন্দ অনুযায়ী ডিশে রেখে পরিবেশন করুন।


০২ ছিটা রুটি (ছিটা পিঠা)

উপকরণঃ

চালের গুঁড়ো – ২ কাপ (এতে ১২-১৫ টি রুটি হতে পারে)

পানি – ৩ কাপ

ডিম – ১ টি ডিমের অর্ধেকটা ফেটানো

লবণ পরিমাণমতো

তেল পরিমাণমতো

প্রণালীঃ

– বাটিতে পরিমাণমতো লবণ ও ৩ কাপ পানি দিন, ভালো করে মেশান। লবণ-পানি মিশে গেলে ২ কাপ চালের গুঁড়ো দিয়ে মিশিয়ে নিন ভালো করে। পাতলা মিশ্রণ তৈরী হবে।

– মিশ্রণটির সাথে ১ টি ডিমের অর্ধেকটা ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই অবস্থায় মিশ্রণটি ১৫ মিনিট রেখে দিন।

– ১৫ মিনিট পর একটি কড়াই-এ তেলের প্রলেপ দিয়ে মিশ্রণটির মধ্যে হাত চুবিয়ে কড়াই -এ ছিটা দিন, অর্থাৎ আঙ্গুল গুলো প্রলেপ দেয়া তেলের ওপর ঝেড়ে নিন। এভাবে প্রতি রুটির জন্য ৩/৪ বার মিশ্রণটিতে হাত চুবিয়ে পরপর কড়াই-এ ছিটা দিন। চুলার আঁচ কমানো থাকবে। রুটি যেন পুড়ে না যায় খেয়াল রাখবেন। রুটি হয়ে গেলে আলতো করে তুলে নিন যেন না ভাঙ্গে। এমনিতেই রুটি খুব পাতলা হবে তাই ভেঙ্গে গেলে ভালো দেখায় না।

– এভাবে প্রতিবারে তেলের হালকা প্রলেপ দিয়ে ৩/৪ বার ছিটা দিয়ে পাতলা করে রুটি তৈরী করুন। রুটি গুলো যেন গরম থাকে এমন কিছুতে তুলে রাখুন পরিবেশনের আগে।

– মিশ্রণটি জমে যাওয়ার মতো হলে আবার ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন, প্রয়োজন হলে আরেকটু পানি (সামান্য) মিশিয়ে ভাল করে নেড়ে নিতে পারেন, তরল হয়ে উঠবে।

– ছিটা রুটির সাথে গরম গরম ভূনা মাংস বা ঝোল মাংস পরিবেশন করুন, পছন্দ অনুযায়ী সালাদ হতে পারে।


০৩ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই

উপকরণঃ

১ কেজি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই শেপ এর আলু

১ চা চামচ লবণ

১ টেবিল চামচ ভিনেগার

২ চা চামচ বিট লবণ

ভাজার জন্য তেল

রান্না প্রণালীঃ

– আলু কেটে তাতে লবণ ও ভিনেগার মাখাতে হবে। পানি গরম করে তাতে আলু গুলো ছেড়ে দিতে হবে। ১০-১২ মিনিট সেদ্ধ করে ছাঁকনি পাত্রে নামিয়ে ছেঁকে পানি ফেলে দিতে হবে। আলু ঠান্ডা হতে দিয়ে যে পাত্রে ভাজবো তাতে ডুবো তেলে ভাজার পরিমাণ তেল দিয়ে গরম করতে হবে।

– এরপর তেলে সব আলু ছেড়ে দিতে হবে। কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে ঠিক ১ মিনিট এর ভেতর নামিয়ে ফেলতে হবে। তেল ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে ফেলতে হবে। এরপর পু্রোপুরি তেল ছাঁকার জন্য আলু গুলো টিস্যুর উপর বিছিয়ে রাখতে হবে। তাতে অতিরিক্ত তেল দূর হয়ে যাবে।

– এরপর আলু একটা পাত্রে নিয়ে ডিপ ফ্রিজ এ রাখতে হবে অন্তত ৩-৪ ঘন্টার জন্য।

– তারপর আবার তেল চুলোয় দিয়ে আগের নিয়মে গরম করে নিতে হবে। এরপর ডিপ ফ্রিজ থেকে আলু বের করে তা গরম তেলে ছেড়ে দিতে হবে।

– আলু তেলে দেয়ার পর কিছুক্ষণ পর নাড়াচাড়া করতে হবে। এভাবে ৪-৫ মিনিট ভাজার পর নামিয়ে তেল ছেঁকে ফেলতে হবে।

– এরপর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এ বিট লবণ ছিটিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন টমেটো সস দিয়ে।

সাবধানতাঃ গরম তেলে পানি পড়লে গরম তেল এর ছিটা চারিদিকে ছিটতে থাকে, যা গায়ে লাগলে ফোস্কা পড়তে পারে। আলু ডিপ ফ্রিজিং করায় এর গায়ে পানি লেগে থাকে। এ কারণে আলু গরম তেলে ছাড়ার সময় হাতে গ্লাভস পড়ে নিরাপদ দূরত্ব রেখে ছাড়া ভালো।

আপেল ও আইসক্রিম কাস্টার্ড


এই গরমে ঠাণ্ডা আইসক্রিম অথবা আপেল কাস্টার্ডের চেয়ে লোভনীয় খাবার কমই আছে। ছেলে বুড়ো সবাই এগুলোর ভক্ত। আসুন মজার একটি আইসক্রিম এবং আপেল কাস্টার্ড ঘরেই তৈরি করি।


১.আইসক্রিম

উপকরণ:

হুইপ ক্রিম – ২ কাপ

ফ্রেশ ক্রিম – ২কাপ

চিনি – ৪ টেবিল চামচ

ভ্যানিলা এসেন্স – ১ টেবিল চামচ


পদ্ধতি:

প্রথমে একটি পাত্রে হুইপ ক্রিম এবং ফ্রেশ ক্রিমে চিনি দিয়ে খুব ভালো করে ফেটে নিন,যতক্ষণ পর্যন্ত চিনি মিশে না যায়।এবার ভ্যানিলা এসেন্স দিন। ভালো করে বিট করুন। একটি বোলে মিশ্রণটি ঢেলে ঠাণ্ডা করতে ৩ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন।মিশ্রণটি বের করে এবার খুব ভালো করে বিট করুন। মিশ্রণটি ফোম হয়ে গেলে আবার ৮ ঘণ্টার জন্য ফ্রিজে রাখুন।এইতো, তৈরি হয়ে গেল দারুণ মজার ভ্যানিলা আইসক্রিম। পছন্দ মতো বাদাম, স্ট্রবেরি অথবা চেরি দিয়ে সাজিয়ে সুন্দর স্বচ্ছ একটি বাটিতে পরিবেশন করুন।


২.আপেল কাস্টার্ড

খুব সহজ, ট্রাই করুন ।

উপাদান:

আপেল কুঁচি – ৪ টি

দুধ – ৬ কাপ

কাস্টার্ড পাউডার – ৪ টেবিল চামচ

চিনি – ৮ টেবিল চামচ

এলাচ গুঁড়া – ১ চা চামচ

কনডেন্সড মিল্ক – ৩ টেবিল চামচ

পেস্তাবাদাম ও পুদিনা পাতা সামান্য।


পদ্ধতি:

একটি ছোট বাটিতে ১ কাপ দুধের মধ্যে কাস্টার্ড পাউডার দিয়ে মিশিয়ে নিন। এবার নন স্টিক পাত্রে বাকি দুধ দিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন হলে চিনি দিন। কাস্টার্ড পাউডার মেলানো দুধ ধীরে ধীরে ঢালুন, এসময় দ্রুত নাড়তে থাকুন। এলাচ গুঁড়া ও কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে নামানোর সময় কেটে রাখা আপেলের টুকরোগুলো দিয়ে দিন।কাস্টার্ড ঠাণ্ডা করে ১ ঘণ্টার জন্য ফ্রিজে রেখে, পেস্তাবাদাম ও পুদিনা পাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।ডেজার্ট হিসাবেও পরিবেশন করতে পারবেন।

বাহারি স্বাদের হালুয়া


শবে বরাত তো এসেই গেল। পুরোনো কিছু মজাদার হালুয়ার রেসিপি আবার নতুন করে আপনাদের জন্য।

কাচাঁ পেঁপের সন্দেশ

উপকরণঃ

কাচাঁ পেঁপে সেদ্ধ করে বাটা- ১ কাপ

চিনি- ২ কাপ

ছানা- ১ কাপ

মাওয়া- ১ কাপ

ঘি- ২ টেবিল চামচ

কিসমিস- পরিমাণ মতো

গোলাপজল- পরিমাণ মতো

সবুজ রং(খাদ্যে উপযোগি)- সামান্য

এলাচ দারচিনি- গুঁড়ো আধা চা চামচ


প্রণালীঃ

পাত্র চুলায় দিয়ে তেল ও ঘি গরম করতে হবে। এলাচ, দারচিনি দিয়ে একটু ভাজা হলে মাওয়া, ছানা ও চিনি দিয়ে দিতে হবে। এবার সেদ্ধ করে বেটে রাখা পেঁপে দিয়ে নাড়তে হবে। পছন্দ মতো রঙ মিশিয়ে নাড়তে থাকুন যতক্ষন না পর্যন্ত হালুয়া পাত্রের গা ছেড়ে দেয়। নামানোর আগে গোলাপজল মিশিয়ে নেড়ে নিন।এবার চুলা থেকে নামিয়ে ছাঁচ দিয়ে সন্দেশ আকৃতিতে কেটে কিসমিস দিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার কাচাঁ পেঁপের সন্দেশ।


নারকেল ও গাজরের বরফি

উপকরণঃ

নারকেল( কোরানো)- ১ কাপ

গাজর(গ্রেট করা)- ১ কাপ

মাওয়া- ১ কাপ

চিনি- ২ কাপ

ঘি- ১ টেবিল চামচ

তেল- ২ টেবিল চামচ

এলাচ গুঁড়া- সামান্য


প্রণালীঃ

একটি পাত্রে সামান্য পানি দিয়ে চিনি গুলিয়ে নিন। অন্য একটি পাত্রে ঘি ও তেল দিয়ে গরম হলে নারকেল ও গাজর দিয়ে নাড়তে থাকুন পানি না শুকানো পর্যন্ত। পানি শুকিয়ে গেলে চিনি, মাওয়া ও এলাচ গুঁড়ো দিয়ে ভাল করে নেড়ে মাখামাখা করে নিন। এবার নামিয়ে পছন্দ সই নকশা করে কেটে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।


পাঁচমিশালি হালুয়া

উপকরণঃ

লাউ সেদ্ধ(মিহি গ্রেট করা)- ১ কাপ

গাজর সেদ্ধ( মিহি গ্রেট করা)- ১ কাপ

পেঁপে সেদ্ধ( মিহি গ্রেট করা)- ১ কাপ

বিট সেদ্ধ( মিহি গ্রেট করা)- ১ কাপ

মিষ্টি আলু সেদ্ধ( মিহি গ্রেট করা)- ১ কাপ

কনডেন্স মিল্ক- আধা কাপ

চিনি- ১ কাপ

মাওয়া- ১ কাপ

ঘি- ৩ টেবিল চামচ

তেল- ৩ টেবিল চামচ

এলাচ দারচিনি- (গুড়ো) আধা চা চামচ

গোলাপজল- পরিমাণ মতো


প্রণালীঃ

পাত্র চুলায় দিয়ে ৩ টেবিল চামচ তেল ও ঘি গরম করতে হবে। লাউ, গাজর, পেঁপে, বিট, মিষ্টি কুমড়া বাটা দিয়ে একটু ভাজা হলে মাওয়া ও কনডেন্স মিল্ক দিয়ে দিতে হবে।একটু নেড়ে এবার বাকি তেল ও চিনি যোগ করতে হবে।। হালুয়া ঘি ছেড়ে না দেয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। নামানোর আগে গরম মশলা গুঁড়ো ও গোলাপজল মিশিয়ে নেড়ে নিন।

এবার চুলা থেকে নামিয়ে ছাঁচ দিয়ে পছন্দ সই আকৃতিতে কেটে কিসমিস দিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার পাঁচমিশালি হালুয়া।

মিষ্টি তৈরি হোক এখন ঘরে বসেই!


মিষ্টির মধ্যে কালোজাম আমার ভীষণ পছন্দ। সুইটস খুব একটা পছন্দ না হলে এই একটি মিষ্টি পেলে একটার জায়গায় মুখে আরেকটি পুরে দিই। আমার মতো আপানার যদি কালোজামের প্রতি দুর্বলতা থাকে তাহলে দেখে নিন মজাদার কালোজাম তৈরির পুরো প্রণালী।

মজাদার কালোজাম তৈরি করতে যা যা লাগবে –

১. গুড়ো দুধ ২ কাপ

২. প্যানকেক মিক্স ১ কাপ

৩. ডিম ১ টি

৪. ঘি অথবা মাখন ১ টেবিল চামচ

৫. হেভি ক্রিম অথবা ঘন দুধ মিশ্রন পরিমান মত

৬. ভাজার জন্য ৩ কাপ তেল


চিনির সিরা তৈরির জন্য লাগবে –

১. ১০ গ্লাস পানি

২. ৮ কাপ চিনি

৩. ৪-৫ টা এলাচ


কালোজাম তৈরির প্রণালী

১. গুড়ো দুধ, প্যানকেক মিক্স, ডিম এবং ঘি একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে.

২. এবার অল্প অল্প করে ক্রিম অথবা ঘন দুধ দিয়ে মিশ্রন টি কে রুটির খামির এর মত নরম করে মাখতে হবে.

৩. মিষ্টির বল তৈরী শুরুর আগেই চুলাতে পানি, চিনি আর এলাচ দিয়ে চিনির সিরা তৈরী শুরু করতে হবে. যাতে মিষ্টির বল গুলো তৈরী শেষ হবার সাথে সাথে সিরা তে ঢেলে দেয়া যায়. বেশিক্ষণ বানিয়ে রাখলে মিষ্টি শক্ত হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে

৪. এবার মিশ্রন টি ভালো মত মাখা হয়ে গেলে ২০-২২ টা ভাগে ভাগ করে নিয়ে গোল বা লম্বাটে আকার দিতে হবে.

৫. এবার অল্প আচে অনেকসময় ধরে গারো লাল করে ভেজে তুলতে হবে.

৬. ভাজা মিষ্টি গুলো একসাথে ফুটন্ত সিরাতে ঢেলে দিয়ে ঢেকে দিতে হবে.

৭. ২০-২৫ মিনিট বেশি আচে ফুটাতে হবে. এরপর চুলা বন্ধ করে ২-৪ ঘন্টা মিষ্টি গুলো ঢেকে রেখে দিন. এতে সিরা ভালো মত মিষ্টিতে ঢুকবে।

ছানা তৈরির ঝামেলায় না যেতে চাইলে অল্প সময়ে দারুন এই মিষ্টি তৈরি করতে পারেন।

কমাতে চান বাড়তি ওজন?


সামনে আপনার বিয়ে বা এনগেজমেন্ট? আধুনিক জগতের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন? ভারী স্বাস্থ্য অথচ ডিজাইনার ড্রেস পরার শখ ষোল আনা? ফ্রেন্ড সার্কেলে নিজের স্বাস্থ্যের কারণে লজ্জাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে? খেতে অসম্ভব পছন্দ করেন অথচ শরীর নিয়েও অস্বস্তিতে আছেন? আপনার এ জাতীয় সমস্যার চটজলদি সমাধান নিয়েই আজকের সাজগোজের এই বিশেষ আয়োজন।


কেন এত মোটা হচ্ছি??

কিছু বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া, ওজন বৃদ্ধির সবচাইতে বড় কারণ হল প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেয়ে ফেলা। অর্থাৎ শরীরের প্রধান প্রয়োজন মেটানোর পর যেটুকু খাবারের দরকার আর শরীরের নেই, সেটা গ্রহণ করা। সেই খাবারটুকুই পরিপাকের পর শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হয়ে যায়, যা সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মেদ।অনেকে ডিপ্রেশনের সময়টুকুতে প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশি খেয়ে ফেলে। ফলে মোটা হবার প্রবনতা বেশি হয়।রোগ বা বংশগত কারণেও অনেকে মোটা হতে পারে।


এখন কী করব??

প্রথমেই নিজের মধ্যে ডিটারমিনেশন আনতে হবে যে, যাই হয়ে যাক না কেন আমাকে এবার ছিপছিপে হতেই হবে।

আপনার যদি মিষ্টি জাতীয় খাবার পছন্দ না হয়ে থাকে, তবে মিষ্টিকে একেবারেই না বলুন। চায়ে একেবারেই চিনি খাবেন না। স্যুইটেনার ব্যবহার করতে পারেন।

তেলে ভাজা খাবার সম্পূর্ণ ছেড়ে দিন। এর পরিবর্তে গ্রিলড বা বেকড খাবার খাদ্য তালিকায় রাখুন।

সুষম খাবার গ্রহণ করুন। খাবারে পরিমিত স্নেহ জাতীয় খাবার থাকাটাও কিন্তু খুবই জরুরী। কেননা ফ্যাট আমাদের স্কিন সুন্দর নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।

প্রচুর পানি পান করুন। পানি দেহের টক্সিন কে ফ্লাশ আউট করতে সাহায্য করে। তবে ঠাণ্ডা পানি পান করবেন না। কিছুটা উষ্ণ পানি পান করুন। ঠাণ্ডা পানি ফ্যাট কে জমাট বাঁধিয়ে দেয় ফলে খাবার হজম হতে দেরি হয়।

নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন। শুধু খাবার কন্ট্রোল করলে আপনি ফিট থাকতে পারবেন না। যদি রেগুলার এক্সারসাইজ করবার সময় না পান তাহলে অন্তত রোজ ২০ মিনিট করে হাঁটুন। কর্মস্থলে হেঁটে যাওয়া বা হেঁটে আসার চেষ্টা করুন একটু কষ্ট করে হলেও। বেশি দূরে কর্মস্থল হলে কিছুদূর অন্তত হেঁটে যাতায়াত করুন। মনে রাখতে হবে, সুন্দর ও আকর্ষণীয় স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে চাইলে আপনাকে একটু ত্যাগ স্বীকার তো করতেই হবে।

হালকা এক্সারসাইজ আপনার অভ্যাসের মধ্যে নিয়ে আসুন। যোগব্যায়াম, স্ট্রেচিং , জগিং, সাইক্লিং, সুইমিং করুন। এতে আপনার বডি শেইপ টোনড থাকবে।

রেগুলার ফল ও সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন। এখন তো শীতকাল, টাটকা মৌসুমি ফল ও সবজি অনেক কম মূল্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো রোজকার খাবারে রাখুন। শীতের টাটকা রঙিন সুস্বাদু সবজি খেতে কার না ভালো লাগে? খাদ্যতালিকায় কিছু কাঁচা সবজি যেমন গাজর, লেটুস, টমেটো, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি, বীট, ব্রকলি রাখুন। এতে সবজির খাদ্যগুণ ও পুষ্টিমান থাকে অটুট।

সকালে তুলনামূলক ভারী নাস্তা করুন। ভাত বা রুটি সকালে খান কেননা সারা সকালের কর্মব্যস্ততায় এ খাবারটুকু ভালো ভাবেই কাজে লেগে যাবে।

দুপুরে তুলনামূলক কম খান। ভারী খাবার আলস্য এনে দেয় যার ফলে কাজে অনীহা আসে এবং দুপুরে ঘুম পায়। আর দুপুরে খাবার পর ঘুম খাদ্য হজম প্রক্রিয়াকে শ্লথ করে দেয়।

সবচে কম খান রাতে। কারণ রাতে আপনি আর তেমন কোন কাজ করবেন না যাতে ক্যালরি বার্ন হয়।

রাত জাগার অভ্যাস ত্যাগ করুন। এতে আপনার শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়। রাতে জাগলে সকালে কর্মোদ্যম কমে যায়, রাতে ক্ষুধা লাগলে অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যায় যা আর হজম হয় না। ফলে মেদ জমে যায়। মোট কথা রাত জাগার অভ্যাস একদমই ত্যাগ করা উচিত।

নিয়মিত গ্রিন টি পান করুন। গ্রিন টি আপনার বডি মেটাবোলিজম বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

একেবারেই কোল্ড ড্রিঙ্ক খাবেন না। মনে রাখবেন ১ গ্লাস কোল্ড ড্রিঙ্কে ৮ থেকে ১২ চামচ চিনি থাকে। বোতলজাত ফলের রসও খাবেন না। ফ্রেশ ফ্রুট জুস, ডাবের পানি, গ্রিন টি পান করুন।

মাসে ১ দিন বা ২ দিন ১ বেলা নিজের পছন্দের কোন খাবার খান, তা একটু অস্বাস্থ্যকর হলেও। এতে আপনার মনে কোন অতৃপ্তি থাকবে না আর আপনি আবার রুটিনে স্বাচ্ছন্দ্যে ফেরত যেতে পারবেন।

নিজের কর্মজীবনে বা সংসারে যত ঝামেলাই আসুক না কেন, নিজের মোটিভেশন থেকে কোনভাবেই সরে যাবেন না। মনটাকে শক্ত করুন।


২ সপ্তাহে ওজন কমাতে চান?

আপনি বিয়ে বা বিদেশ যাত্রা উপলক্ষে স্লিম হতে চান? হাতে সময় কম? তাহলে বেছে নিতে পারেন এই পদ্ধতি। যদিও এটা সবসময় কনটিনিউ করা একদমই উচিত হবে না।

সকাল ৭ টা হালকা গরম পানি তে লেবু, এক কাপ চিনি ছাড়া গ্রিন টি

সকাল ৮ টা ২ টেবিল চামচ টক দই, ১ টা ডিমের সাদা অংশ,মৌসুমি ফল ১০০ গ্রাম

দুপুর ১২ টা টাটকা ফলের রস চিনি ছাড়া অথবা ডাবের পানি ১ গ্লাস

দুপুর ১-৩০ থেকে ২ টা লাল আটার রুটি ১ টা, সেদ্ধ সবজি ২ বাটি, মাছের বা মুরগির স্টু ১ বাটি, সালাদ ১ বাটি

বিকেল ৫ টা ১ কাপ গ্রিন টি

সন্ধ্যা ৭ টা ২ টেবিল চামচ টক দই, শশা ১ টা টমেটো ১ টা

রাত ৮-৩০ টা ২ বাটি সবজি ১ বাটি সালাদ ১ টা লাল আটার রুটি


৩ মাসে ওজন কমাতে চান?

এটি বেশ কার্যকর একটি ডায়েট প্ল্যান। মোটামুটি কম সময়ে সুষমভাবে ওজন কমে।

সকাল ৭ টা গ্রিন টি ১ কাপ, ১ পিস মেরী বিস্কুট বা লেক্সাস

সকাল ৮ টা ৫০ গ্রাম টক দই, ১ বাটি মুড়ি বা খই বা চিড়া বা ওটমিল, ১ টা মৌসুমি ফল

দুপুর ১২ টা ১ টা মৌসুমি ফল

দুপুর ১-৩০ থেকে ২ টা আধাকাপ ভাত, ১ বাটি পাতলা ডাল, ১ বাটি কম তেলে রান্না সবজি, ১ পিস তেলবিহীন মাছ (যেমন ইলিশ খাওয়া যাবে না ), ১ বাটি সালাদ

বিকাল ৫ টা ১ কাপ গ্রিন টি সাথে ২ পিস মেরী বিস্কুট বা লেক্সাস

সন্ধ্যা ৭ টা খুব কম তেলে রান্না করা ছোলা

রাত ৯ টা ২ টা লাল আটার রুটি, ২ বাটি খুব কম তেলে রান্না সবজি,১ টুকরা মুরগির মাংস(কোন ঝোল খাওয়া যাবে না), সালাদ ১ বাটি


সারা বছরের ডায়েট প্ল্যানঃ

এতে খুব ধীরে ধীরে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমে। ছেড়ে দিলে মোটা হয়ে যাব  এই টেনশনও থাকে না।

সকাল ৭ টা ১ কাপ গ্রিন টি, সাথে দুপিস মেরী বিস্কুট বা লেক্সাস

সকাল ৮ টা ২ টা রুটি,কম তেলে রান্না সবজি, ডিমের সাদা অংশ, সালাদ ইচ্ছামত

দুপুর ১২ টা ১ টা মৌসুমি ফল

দুপুর ১-৩০ থেকে ২ টা      ১ কাপ ভাত,পাতলা ডাল, কম তেলে রান্না সবজি, মাছ ১ টুকরা (ঝোল বাদে), সালাদ

বিকাল ৫ টা দুপিস মেরী বিস্কুট বা লেক্সাস এবং চিনি ছাড়া ১ কাপ চা

সন্ধ্যা ৭ টা শশা পেঁয়াজের সালাদ আর মুড়ি দিয়ে খুব কম তেলে রান্না করা ছোলা

রাত ৯-৩০ থেকে ১০ টা ২ টা লাল আটার রুটি, ১ বাটি পাতলা ডাল, ১ বাটি সবজি, ১ টুকরা মুরগি (ঝোল বাদে)

সর্বোপরি সুস্থ ও সুন্দর থাকার জন্য নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন করুন। ভাল থাকুন, আনন্দে থাকুন ও সুস্থ থাকুন।

আকর্ষণীয় বডি শেইপ দিবে ১৫মিনিটের ৫টি ব্যায়াম


শুরুতেই বলি, ১৫মিনিটের ৫টি ব্যায়াম করে আপনি অবশ্যই আকর্ষণীয় হয়ে উঠবেন, তবে সেটা কখনোই একদিনের ১৫মিনিটে নয়; ফিট থাকতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই সবসময় ব্যায়াম করতে হবে। তবে শুধু জগিং বা মর্নিং ওয়াকে আপনার ওজন কমবে; এটি আপনার বডি শেইপ দিতে সাহায্যকারী হবে না। বডিকে শেইপে আনতে চাইলে এই আর্টিকেলের ব্যায়ামগুলো শুরু করে দিন।


১৫মিনিটের ৫টি ব্যায়াম দিবে আকর্ষণীয় বডি শেইপ

১. বার-বেজড স্লিম ডাউন

অনুশীলনের শুরুতে শক্ত কিছু ধরে দাঁড়ান (চিত্র অনুযায়ী) যা নড়বড়ে/জায়গা থেকে সরবে না। এবার সোজা দাঁড়িয়ে থেকে ডান পা বাঁকিয়ে বাঁ পায়ের হাঁটু বরাবর রাখুন এ্রবং ডান পা বাম পায়ের হাঁটু পর্যন্ত আপ-ডাউন করতে করতে ১-২০ পর্যন্ত গুনতে থাকুন। পুনরায় বা পা দিয়ে একই ভাবে করুন। এই অনুশীলনটি আপনার কোমর এবং উরুর মেদ কমাবে প্রতি মাসে ৩ ইঞ্চি করে।

২. আর্ম এন্ড চেস্ট স্কাল্পটর

অনুশীলনের প্রথমে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন; এবার আস্তে আস্তে হাতের ওপর ভর দিয়ে মাথা থেকে হাঁটু পর্যন্ত তুলুন। তারপর পা দুটো তুলুন (চিত্র অনুযায়ী)। খেয়াল করুন পুরো শরীরের ভার থাকবে হাত এবং হাঁটুর ওপর। এখন ধীরে ধীরে ২০ বার আপডাউন করুন । তবে পা দুটো খাঁড়া থাকবে। মাথা থেকে হাঁটু পর্যন্ত শরীর সোজা অবস্থানে রাখুন অনুশীলনের সময়।

৩. থাই স্ট্র্রীমলাইনার

শক্ত কিছু ধরে সোজা হয়ে দাঁড়ান। এরপর ধীরে ধীরে কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত আধা বাঁকা করুন; পুরো বাঁকাবেন না। এই অবস্থায় আপ-ডাউন করতে থাকুন ৪০ বার। এই ব্যায়ামটি করার সময় কোমরের ওপর থেকে মাথা পর্যন্ত সোজা করে রাখবেন।

৪. ওয়েস্ট ট্রিমার 

এই অনুশীলনটির জন্য প্রথমে হাঁটু গেঁড়ে বসুন। এরপর ডানহাতটি মেঝেতে সোজা করে রাখুন এবং বাম হাতটি বা পাশের কোমরে রাখুন। এবার বাম পা-কে ধীরে ধীরে পিছনে নিয়ে যান এবং সেটিকে ৯০ ডিগ্রি  অ্যাঙ্গেলে রাখুন। এখন বা পাটিকে মেঝে থেকে আস্তে আস্তে তুলুন এবং নামান ২০বার। একই ভাবে এটি ডান দিক থেকে করুন।

৫. এব ফ্ল্যাটেনার

প্রথমে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ুন; তারপর শুধু ডান পা খাড়া করে তুলুন। এবার আস্তে আস্তে হাঁটু থেকে বাকি অংশটুকু বাঁকা করে দুই হাত দিয়ে হাঁটুকে আঁকড়ে ধরতে চেষ্টা করুন। আঁকড়ে ধরা অবস্থায় আপনার ডান পা-টি নিজের মাথার দিকে প্রেস করুন এবং একই সাথে আপনার মাথা তুলে হাঁটু ছোঁয়ার চেষ্টা করুন। তবে বাম পা-টি একেবারেই সমান্তরাল থকবে। এটি ৩০বার করুন। এভাবে বাম পা-টিও আঁকড়ে ধরে ৩০বার করুন। খেয়াল রাখবেন, প্রথম বারেই আপনি মাথা দিয়ে হাঁটু স্পর্শ করার চেষ্টা করবেন না। যতটুকু পারেন ততটুকুই করবেন। এই ব্যায়ামটি আপনার পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করবে।

কেবলমাত্র ৫ মিনিটে দৈনন্দিন ব্যায়াম সেরে নিন


একজন নারীকে কতই না কাজ করতে হয়! ঘরের কাজ ছাড়াও যারা বাইরে চাকরি করেন তাদের ব্যস্ততা আরো বেশি। তাই এত ব্যস্ততার মাঝে হয়তো একটু জগিং করা কিংবা জিমনেশিয়ামে গিয়ে ব্যায়াম করা একজন নারীর পক্ষে সাধারণত সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনি মাত্র ৫ মিনিটেই আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন ব্যায়াম সেরে নিতে পারবেন। মাত্র ৮টি মূল এক্সারসাইজ আপনার শারীরিক ব্যায়ামের ঘাটতি কমিয়ে দেবে। আজকে আমরা আপনাদের জানাবো কেবলমাত্র ৫ মিনিটে কিভাবে করবেন আপনার দৈনন্দিন ব্যায়াম ।


দৈনন্দিন ব্যায়াম যেভাবে করবেন

১০টি ধাপে করে নিন আপনার দৈনন্দিন ব্যায়াম 

১. প্রথমে বিশ সেকেন্ড সময় নিন। সেই বিশ সেকেন্ডে যতগুলো পুশ আপ দিতে পারেন, দিন। তবে একবারে জোর করে বেশি দিতে যাবেন না, এতে আপনার পেশীতে ব্যথা হতে পারে। কিছুদিন পর পর পুশ আপ এর সংখ্যা বাড়ান। পুশ আপ আপনার বুক, কাঁধ, পেটের পেশী ও হাত পায়ের পেশীর সঞ্চালন দ্রুত এবং কার্যক্ষম করবে।

২. দশ সেকেন্ড রেস্ট নিন  এবং অল্প পানি পান করুন। একসাথে বেশি পানি খাবেন না এতে পেট ভরে গেলে এক্সারসাইজ করতে কষ্ট হতে পারে।

৩. এবার পুশ আপ পজিশনে যান, তারপর এক পা সামনে এনে, বুকের ভর পায়ের উপর দিন। অন্য পা সোজা করে টান টান করুন। কয়েক সেকেন্ড এভাবে থেকে পা বদল করুন। এভাবে বিশ সেকেন্ড চালিয়ে যান। বিশ সেকেন্ড মনে রাখতে কষ্ট হলে সাধারণ গতিতে ১ থেকে ২০ পর্যন্ত গুনে ব্যায়াম করুন।

৪. এবার  দুই পায়ের উপর ভর দিয়ে কোমর উঁচু করুন। এভাবে কিছুক্ষণ রাখুন।

৫. আবার হালকা পানি পান করুন।

৬. একটা দড়ি শক্ত কিছুর সাথে বেঁধে নিন। যেমন – ঘরের জানালার গ্রিল। এবার দড়ি টেনে ধরুন, আবার ছেড়ে দিন, আবার টেনে ধরুন। এভাবে নিয়মিত বিরতিতে ২০ সেকেন্ডে কয়েকবার করুন।

৭. হালকা পানি পান করুন ও বিশ্রাম নিন। শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক করুন।

৮. এবার সামনে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাঁটু না ভেঙ্গে নিজের পায়ের আঙ্গুল ধরার চেষ্টা করুন। এভাবে ২০ সেকেন্ডে কয়েকবার করুন। তবে প্রথম দিনই জোর করে পায়ের আঙ্গুল ধরতে যাবেন না, এতে কোমরের পেশীতে টান পড়তে পারে।

৯. এবার পায়ের পাতা মাটিতে রেখে দু হাতের তালু দিয়ে মাটি স্পর্শ করুন। আবার উঠে দাঁড়ান, আবার মাটি স্পর্শ করুন।


১০. পানি পান করুন ও বিশ্রাম নিন। তারপর আরেকবার সবগুলো ধাপ প্রথম থেকে করুন।

আপনি কয়েকদিন পর আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী এর মাঝে অন্যান্য এক্সারসাইজ কৌশল যোগ করতে পারেন। মনে রাখবেন, এই পদ্ধতি জিমন্যাশিয়ামের বিকল্প না হলেও একেবারে এক্সারসাইজ না করার চাইতে অনেক ভালো কাজে দেবে।

কেমন হিলস মানানসই কোন ধরণের পোশাকের সাথে?


হাই হিলস বর্তমানে ফ্যাশনের অন্যতম একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ব্যক্তিত্ব বোঝাতে, আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে অথবা উচ্চতা পারফেক্ট রাখার জন্য এখনকার প্রায় সব পেশা এবং বয়সী মেয়েরাই বেছে নিচ্ছে হাই হিলস।তবে কোন ধরণের পোশাকের সাথে কেমন হিলস পরতে হবে তা নিয়ে অনেকেই কনফিউজড হয়ে যায় অনেকেই।আজ আমি হাই হিলস নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণা দিতেই সাজিয়েছি এই লিখাটি।

(১) কিটেন হিলস

যারা খুব বেশি উচু হিলস পরতে চান না, কিন্তু চান নিজেকে একটু ট্রেন্ডি দেখাতে তারা কিটেন হিলস বেছে নিতে পারেন।আরামদায়ক এবং প্রতিদিন ব্যবহার করার মতো।পার্টি কিংবা ইভেন্টস যেকোনো জায়গায়ই এটি মানানসই।


(২) পাম্পস

এই হিলসগুলো ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত উঁচু হয়।সামনের দিকে লো কাট এবং ন্যারো শেইপ।স্টাইলিশ জুতো ব্যবহারকারীদের করার জন্য এর জুড়ি নেই কিন্তু পিঠের ব্যথা যাদের আছে তাদের এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।


(৩) স্টিলেটোস

সব ধরণের হিলস এর ভিতর এই হিলসগুলো সবচেয়ে বেশি উঁচু হয়, প্রায় ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত। র‍্যাম্প ওয়াক, মডেল ফটোশুট এর জন্য একদম পারফেক্ট।কিন্তু এটি খুব সরু হওয়ায় প্রতিদিন ব্যবহারযোগ্য নয়।


(৪) এঙ্কেল স্ট্র্যাপ হিলস

বর্তমানে এই হিলস সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় সবার মাঝে।স্ট্র্যাপ বা বেল্ট এঙ্কেল এর চারপাশে সুন্দরভাবে আটকে থাকে যা জুতোকে আরও বেশি নির্ভরযোগ্য করে তোলে।হিলস এর উচ্চতা ২ থেকে ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে।


(৫) ওয়েজ হিলস

এই হিলসগুলো দুই ধরণের হয়। ওয়েজ হিলস এবং ওয়েজ স্যান্ডেলস।হিলসগুলো মোটা ধরণের হয়।জুতোর তলি থেকে হিলস এর তলির মাঝে কোন সেপারেশন থাকে না।স্কার্ট বা শাড়ির সাথে পরতে পারেন এই ধরণের হিল-গুলো।ওয়েজ স্যান্ডেলস আর হিলস এর মধ্যে খুব বেশি তফাত নেই।কিন্তু হিলস এর ওপরে জুতোর সামনের অংশ কভারড থাকে যা স্যান্ডেলস এ হয় না। স্যান্ডেলস এর ওপরটা উন্মুক্ত এবং খোলামেলা ডিজাইন এর হয়।যেকোন ড্রেসের সাথে এই হিল মানিয়ে যায় বেশ সহজে। 


(৬) প্ল্যাটফর্ম হিলস

প্ল্যাটফর্ম হিলস এর উচ্চতা কম-বেশি দুটোই হতে পারে।এর প্রধান বৈশিষ্ট হচ্ছে সামনের দিকে জুতোর তলির অংশটা বেশ মোটা এবং উচু যার ফলে হিলস এর পিছনের অংশের সাথে সামনের অংশের খুব বেশি তফাত থাকে না।হাটতেও কোন অসুবিধা হয় না, কোমর ব্যাথার মতো সমস্যাও তৈরি হয় না।


(৭) পিপ টো হিলস

সব ধরণের ডিজাইন এবং শেইপেই এই হিলসগুলো পাওয়া যায়। এর মেইন পয়েন্ট হচ্ছে, এর ডিজাইনে পায়ের আঙ্গুল এর অল্প কিছু অংশ দেখা যাবে। বিভিন্ন রঙের নেইলপলিশ দিয়ে নখ রাঙিয়ে পরে নিন আপনার পছন্দের পিপ টো হিলস।


(৮) কর্ক হাই হিলস

কর্ক দিয়ে তৈরি এই জুতো জোড়া বেশ আরামদায়ক,অন্যান্য হিলস এর মতন শক্ত না। এটি বিভিন্ন ডিজাইন এবং উচ্চতার হয়ে থাকে। পার্টি বা ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সাথে এই হিলস দারুণ মানিয়ে যাবে।


(৯) হাই হিলড বুটস

সাধারন বুটস গুলোতে হিলস ছিল না, কিন্তু এখন মোটা বা সরু বিভিন্নরকম হিলস বুট এর সাথে যুক্ত হচ্ছে।যা দেখতে আরও বেশি আকর্ষণীয়। স্কারট,জিন্স বা ড্রেস এর সাথে বেশ ভাল মানাবে এই জুতো।


(১০)এঙ্কেল বুটিস

এই জুতোগুলো হয় এঙ্কেল পর্যন্ত কারণ গরমে অনেকেই ফুল বুটস পরতে অস্বস্তি বোধ করে। হিলসগুলো সরু ধরণের হয় কিন্তু পরতে বা চলাফেরা করতে কোন অসুবিধা হয় না।ধুলোবালি বা রোদের হাত থেকে বাচতে এই হিলের জুড়ি নেই।


(১১) স্পুল হিলস

ঘুড়ি দেখিনি এমন কেউ তো নেই, তাই না? ঘুড়ির লাটাই এর কন্সেপ্টেই এই হিলস ডিজাইন করা হয়েছে।জুতোর তলির কাছে প্রশস্ত, মাঝে ন্যারো শেইপ আবার নিচের দিকে কিছুটা মোটা।


(১২) মিউলস

এই হিলসগুলো মূলত কম উচ্চতার মেয়েরা ব্যবহার করে থাকে, কারন ক্লাসিক হওয়ার সাথে সাথে এটি বেশ উঁচু। সামনে স্যান্ডেল এর মত খোলামেলা ডিজাইনের হতে পারে আবার শু এর মত কভারড ডিজাইনেরও হতে পারে। এই হিল-গুলো ন্যারো শেপ এর প্যান্ট বা সিগারেট প্যান্ট এর সাথে বে মানিয়ে যায়।


(১৩) বল্রুম ড্যান্স শুজ

এই জুতোগুলো কোন ধরণের বিয়ে বা প্রোগ্রাম এ পরার জন্য একদম পারফেক্ট। এঙ্কেল এর চারপাশে স্ট্র্যাপ থাকে যাতে খুলে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না।এটির বিশেষত হচ্ছে হিলসগুলো খুব বেশি উঁচুও না আবার নিচুও না। মাঝামাঝি কমফোর্টেবল উচ্চতা। শাড়ি, কামিজের সাথে এই ধরণের হিল বেশ কমফোর্টেবল ।


(১৪) কাট আউট হিলস

যারা একটু ফ্লেক্সিবল এবং জলি ডিজাইন পরতে ভালোবাসেন তাদের জন্যই এই হিলস।ওপরের অংশে ইফেক্ট ডিজাইন অথবা বিভিন্ন ক্রস ডিজাইন থাকতে পারে। স্কার্ট বা ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সাথে মানানসই এই হিল-গুলো।


(১৫) করজেট হিলস

অনেকটা মিউল এর হিল অথবা বুটিস এর মতন কিন্তু তফাত-টা হচ্ছে করজেট হিলস এর দুই পাশ একত্রে মাঝে এনে জোড়া দিয়ে বাঁধা থাকে।


(১৬) ফ্রেঞ্চ হিলস

লুইস অথবা পম্পেডর হিলস হিসেবেও পরিচিত।স্পুল হিলসের মতই অনেকাংশে, কিন্তু এই হিলস এর উচ্চতা কম এবং অনেকটা বাঁকানো ধরণের।ফরমাল ড্রেসের সাথে পরতে পারেন এই হিল-গুলো।


(১৭) অক্সফোরডস

ট্র্যাডিশনাল অক্সফোর্ড শুজগুলো ছিল ফ্ল্যাট এবং ফরমাল।কিন্তু এখন ফরমাল লুক এর সাথে যোগ হয়েছে একটু বাড়তি উচ্চতা। ফ্রেঞ্চ হিলস এর মতোই ফরমাল ড্রেসের সাথে ভালো দেখায় এই হিল-গুলো।


(১৮) চাঙ্কি হিলস

গতানুগতিক হিলস এর তুলনায় এই হিলসগুলো আরও অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং মজবুত।হিলস এর নিচের অংশ প্রশস্ত এবং চারকোণা ডিজাইনের, সামনে ন্যারো শেইপ হয়ে থাকে।


(১৯) ফ্যান্টাসি হিলস

যত ধরণের আজব বা ফ্যান্সি ডিজাইন যা কল্পনার ও বাইরে সব ধরণের জুতোই এই ফ্যান্টাসি হিলস এর কালেকশনে রয়েছে।লেডি গাগা ছাড়া এ ধরণের হিলস যদিও কারো পায়ে দেখা যায়না তবুও অন্যসব ধরণের হিলস এর থেকে এর নকশা বেশ ভিন্ন এবং মজাদার।

জানা আছে কি ব্যবহার ভেদে ব্যাগের ধরণ?


অকেশনের জন্য কোন ব্যাগটি আপনার জন্য পারফেক্ট হবে? আজকে আমি লিখছি ব্যাগ নিয়ে যা মেয়েদের নিত্যদিনের সঙ্গী। যেকোনো সিজনে, যেকোনো ফাংশনে, যেকোনো জায়গায় গেলে ড্রেস আর জুতার পরেই সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট এলিমেন্ট হল একটা মানানসই ব্যাগ। যেনতেন রকম কোন ব্যাগ না, ব্যাগ নির্বাচন করতে হবে প্রয়োজন বুঝে, নিজের গেটআপ ও কোথায় যাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে। অনেকেই খুব কনফিউজড থাকেন কোন ধরনের অনুষ্ঠানে কোন ব্যাগ নিবেন তা নিয়ে। দেখে নিন কোন ব্যবহার ভেদে ব্যাগের ধরণ ব্যাগের কি নাম এবং আপনি কোন ধরনের পোশাকের সাথে কোন ব্যাগটি নিতে পারেন।


ব্যবহার ভেদে ব্যাগের ধরণ

স্যাচেল ব্যাগ

স্যাচেল ব্যাগ হল সবেচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হ্যান্ডব্যাগ। আমরা সচরাচর মিডিয়াম থেকে বড় সাইজের উপরে হাতলওয়ালা যেসব ব্যাগ ব্যবহার করি যাতে নিত্য প্রয়োজনীয় সবকিছু ধরে, সেগুলোই স্যাচেল ব্যাগ। এগুলোর তলা সাধারণত ফ্ল্যাট হয় এবং দুইটি ছোট হাতল অথবা একটা লম্বা বেল্ট থাকে। এসব ব্যাগ কেনার সময় নিউট্রাল কালার যেমন লেদার এর মধ্যে কালো অথবা ডিপ ব্রাউন কালারের ব্যাগ চুজ করা উচিত। সাদা বা বেইজ (অফ হোয়াইট) জাতীয় হালকা কালার অ্যাভয়েড করা উচিত কারণ এগুলো খুব তাড়াতাড়ি ময়লা হয়ে যায়। খুব বেশি লোগো বা মেটালওয়ালা ডিজাইনের ব্যাগ অ্যাভয়েড করাই বেটার। যেহেতু এই ব্যাগ গুলোর বিভিন্ন রকম সাইজ হয়, তাই অনেকেই কলেজ, ভার্সিটি, অফিসে ব্যবহার করে থাকে।


ব্যাকপ্যাক

যেসব ব্যাগের ডাবল হ্যান্ডেল থাকে এবং তা কাঁধে বহন করা যায় ঐগুলোকে আমরা ব্যাকপ্যাক নামে চিনি। ছোটবেলায় স্কুলে এই ব্যাগ নেয়ার প্রচলন থাকলেও আজকাল অনেকেই ভার্সিটি/অফিসেও এই ব্যাগ ব্যবহার করেন। এই ব্যাগগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এতে অনেক স্পেস থাকে। তাই অনেক কিছু ক্যারি করা যায়। ২ কাঁধে বহন করায় ব্যাগের মূল ভার পিঠের উপর ছড়িয়ে যায়, তাই ব্যাগ ক্যারি করতে কষ্ট কম হয়। ব্যাকপ্যাকে বইখাতা, ল্যাপটপ, কাপড়চোপড় ইত্যাদি সবই ক্যারি করা যায়। এজন্য এখন এটা অনেক পপুলারিটি পেয়েছে। এছাড়াও এখন অনেক সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের ব্যাকপ্যাক অ্যাভেইলেবল।


 বাকেট ব্যাগ

এই ব্যাগগুলোর শেইপ অনেকটা বাকেটের মত, তাই এই নাম। এগুলো সাধারনত চ্যাপ্টা তলের ও খোলা মুখের বড় হাতল/বেল্ট ওয়ালা ব্যাগ। কামিজের সাথে এই ব্যাগ ক্যারি করা মানানসই। এই ব্যাগ সাধারনত মিডিয়াম সাইজের হয়ে থাকে। এর মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সহজেই ক্যারি করা যায়।


ব্যাগেট ব্যাগ

এই ব্যাগগুলো চওড়ায় একটু বেশি কিন্তু লম্বায় ছোট হয়। ক্যাজুয়াল ডেইলি ইউজের জন্য এই ব্যাগ পারফেক্ট। শাড়ি, কামিজ, ওয়েস্টার্ন সব ধরনের ড্রেসের সাথেই এই ব্যাগ নেয়া যায়। এগুলো সাইজে বেশি বড় হয় না। তাই শুধু একদম প্রয়োজনীয় টুকিটাকি জিনিস নেয়া যাবে।


ক্লাচ ব্যাগ/পার্স

ক্লাচ ব্যাগ ছোট কিন্তু লম্বা হয়। দেখতে আয়াতাকার ও হাতলবিহীন। হাতে ক্যারি করতে হয় তাই এর নাম ক্লাচ ব্যাগ। এই ব্যাগ সব বিয়ের আসরেই কনের হাতে দেখা যায়। ক্লাচ ব্যাগ সিম্পল অথবা গর্জিয়াস দুরকমই হয়। তাই শাড়ি, গাউন, কামিজের সাথে ক্লাচ ব্যাগ ক্যারি করতে দেখা যায়। এই ব্যাগে জায়গা খুব কম। তাই একটা ফোন, লিপস্টিক আর টাকা ছাড়া কিছু রাখা যায় না।


ডাফেল ব্যাগ

ডাফেল ব্যাগ সাইজে বেশ বড় হয়। এগুলো সাধারণত ট্র্যাভেল বা স্পোর্টসের কাজে ব্যবহৃত হয়। এটায় অনেক জায়গা থাকে বিধায় কাপড়চোপড়, জুতা ও ভ্রমণের অন্যান্য আইটেম নেয়া যায়। যারা রেগুলার জিমে গিয়ে এক্সারসাইজ করে তারা এটায় এক্সট্রা কাপড় ক্যারি করেন। যারা স্পোর্টস করেন, তারা জার্সি, খেলার সামগ্রী ক্যারি করেন এটায়।


ম্যাসেঞ্জার ব্যাগ

ম্যাসেঞ্জার ব্যাগে লম্বা স্ট্র্যাপ থাকে যার সাহায্যে এটা কাঁধে ঝুলিয়ে নেয়া যায়। অনেকেই এই ব্যাগ বুকের ওপর দিয়ে আড়াআড়ি ভাবে এক পাশে ঝুলিয়ে ক্যারি করেন। এই ব্যাগ ছাত্রছাত্রীদের মাঝে অনেক বেশি জনপ্রিয়। ছোট থেকে মাঝারি সাইজ পর্যন্ত হয়ে থাকে এগুলো। অল্প কিছু জিনিস যেমন ২/৩ টি বই-খাতা, ছাতা, পানির বোতল ইত্যাদি ক্যারি করা যায় এগুলোতে। সাধারণত কামিজ ও ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সাথে এই ব্যাগ নেয়া মানায়।


টোট ব্যাগ

টোট ব্যাগ সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ও কমন ব্যাগ। মিডিয়াম থেকে বড় সাইজের এই ব্যাগগুলোয় দুইটি ছোট স্ট্র্যাপ বা হাতল থাকে। সব মেয়েদের কাছেই টোট ব্যাগ থাকে। স্পেশালি চাকরিজীবী নারীদের কাছে এই ব্যাগ খুবই জনপ্রিয়। কারণ এতে অনেক স্পেস থাকে এবং একসাথে অনেক কিছু ক্যারি করা যায়। সব ধরনের ড্রেসের সাথে এই ব্যাগ ক্যারি করা যায়। টোট ব্যাগ যেকোনো প্রোগ্রামেও ব্যবহার করা যায়।


ফ্রেমড ব্যাগ

ব্যাগ এর ওপরের পাশ এবং ২ সাইড মেটাল ফ্রেম দিয়ে আটকানো থাকে। ফ্রেমড ব্যাগ খালি অবস্থায়ও বেশ ভারি হয় এর মেটাল ফ্রেমের কারণে। তাই রেগুলার ইউজের জন্য এটা কমফরটেবল না। এটা হার্ড ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি, এটাকে ফ্ল্যাট করে শুইয়ে  ক্যারি করা যায় না। ফ্রেমড পার্স ও বেশ জনপ্রিয় বিশেষ করে ব্রাইডাল ও পার্টি গেটাপের সাথে। ফ্রেমড ব্যাগ মাঝারি সাইজের হয় এবং একসাথে অনেক কিছু ক্যারি করা যায়।

এবার নিশ্চই বুঝতে পারবেন কোন অকেশনের জন্য কোন ব্যাগটি আপনার জন্য পারফেক্ট হবে? ব্যাগের  ডিজাইন, ম্যাটেরিয়াল এবং স্পেস অনুযায়ী ব্যাগের দাম নির্ভর করবে- হোক সে ব্র্যান্ডেড বা হোক লোকাল মেড।

হ্যাপি শপিং!

৩ ধরনের সুজ রেইনি সিজনের জন্য


“পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে,পাগল আমার মন জেগে ওঠে।”- বর্ষা মানেই একটা আনন্দের দোলা, তাই না? বৃষ্টি পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। গরম কমে গিয়ে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তবে বৃষ্টি স্বস্তি দেয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি করে কিছু সমস্যারও। এর মধ্যে যে সমস্যা বেশি দেখা যায় তা হলো জুতা নিয়ে। কাদা, মাটি, পানি জমে থাকা রাস্তায়  জুতা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে প্রতিদিন। কারণ কাদা লেগে সুন্দর জুতাখানি নষ্ট হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা থেকে যায়! তাই বর্ষাকালের জুতা কেমন হলে ভালো হয় আর কি করে থাকা যায় নিরাপদ ও ফ্যাশনেবল তা নিয়েই আজ আমরা কথা বলবো।


বর্ষাকালের জুতা নিয়ে টিপস

বৃষ্টির সময় জুতা কিনতে গেলে একটু দেখে বুঝে কিনতে হবে। সামনে খোলা ডিজাইন এড়িয়ে চলাই ভালো। কাদা মাটি বৃষ্টির পানি থেকে পায়ে ফাঙ্গাস (fungus), র‍্যাশ (rash), ইচিং (itching)– এমন বিভিন্ন স্কিন (skin) প্রবলেম হতে পারে। তাই এ সময় পা ঢেকে থাকে এমন জুতা ব্যবহার করাই ভালো। চলুন এবার বর্ষাকালের উপোযোগী ৩ ধরনের জুতা নিয়ে জেনে নেই!


১) ওয়াটারপ্রুফ জুতা (waterproof shoe)

মার্কেট-এ কিছু ওয়াটারপ্রুফ জুতা পাওয়া যায় যেগুলো বিশেষভাবে বর্ষায় ব্যবহারের জন্য করা হয়েছে। এগুলো পানিতে ভিজে না। পানি বা কাদা মাটি লাগলে সহজেই মুছে ফেলা যায়। এ ধরনের জুতাগুলো পাম্প (pump), স্নিকার (sneakers shoe) ডিজাইন-এর হয়। এছাড়া প্লাসটিক-এর জুতাগুলাও ভালো হবে এই সময়ে। তবে তা অবশ্যই ভালো দোকান ও কোয়ালিটি দেখে কিনতে হবে। না হলে ছিঁড়ে যেতে পারে। এ ধরনের জুতাগুলোর অনেক ডিজাইন ভ্যারাইটিজ-ও আছে।

২) আউট অফ সোল ( out of soul)

এটাকে সবাই জুতার তলা হিসেবে চিনে। বর্ষার সময় প্লেন সোল ব্যবহার না করাই ভালো। কাদা-মাটি সহজে পরিষ্কার হয় না। জিগজ্যাগ সোল-গুলো কর্দমাক্ত এবড়োথেবড়ো রাস্তাগুলোতে চলাচলে খুবই কমফরটেবল (comfortable)।

৩) হিলস (Heels)

মিডিয়াম বা ব্যালেন্স হিল (balance heel)-গুলো এই সময় এর জন্য খুবই পারফেক্ট। এই হিল-গুলো হাফ ইঞ্চির বেশি হয় না আর  আরাম।

দুটো ব্যাপার অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে-

বর্ষার সময় পেন্সিল হিল, বড় হিল, স্যন্ডেল, চপ্পল- এগুলো ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ আমাদের শহরে পানি জমে একাকার হয়ে যায় রাস্তাগুলোতে। কখনো হাঁটু পানি তো কখনো কোমর পানি! পানির জন্য রাস্তাঘাট ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়, গর্তের সৃষ্টি হয়। তাই পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার সমূহ 


সম্ভাবনা থাকে!

জুতা অবশ্যই দোকান দেখে বুঝে কিনতে হবে। অনেক সময় জুতা থেকে পায়ে ইনফেকশন (infection) বা অন্যান্য সমস্যা হতে পারে। এসব ওয়াটারপ্রুফ জুতাগুলো বাটা, এপেক্স, বে, ক্রিসেন্ট এসব শো-রুম এ পাওয়া যাবে। ভালো কোয়ালিটি-এর জুতা কেনাটা এজন্যই খুব জরুরী।

এখন বৃষ্টির কোন ঠিক-ঠিকানা নেই। যখন তখন নেমে আসে। বিশেষ করে ওয়ার্কিং টাইম-এ হলে প্রায় সবাই সমস্যায় পড়ে। এইতো এমন কিছু তথ্য জানা থাকলে প্রতিদিন চলাফেরার জন্য কেমন জুতা সিলেক্ট করতে হবে সে অনুযায়ী তা কিনতে সুবিধা হবে। তো বাদল ঝড় বৃষ্টি যাই থাকুক না কেন, থাকুন নিরাপদ ও ফ্যাশনেবল। আর ঐ যে সবসময় বলি-

‘’DO WELL,

LIVE WELL & DRESS REALLY WELL.’’

একটি সিরামেই মুখের কালো দাগ আর বয়সের ছাপ দূর হবে!


আমাদের ত্বকের যত্নে প্রতিদিন কত কিছুই না ব্যবহার করছি, তাইনা? প্রপার ক্লেনজিং থেকে শুরু করে, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং, নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার এমন আরও কত কী! কিন্তু ত্বকের যত্নে সিরামের ব্যবহার নিয়ে আমরা অনেকেই এখনও খুব একটা জানিনা। অথচ সিরাম আমাদের ত্বকের বিশেষ কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক এবং খুবই কার্যকরী সমাধান দিয়ে থাকে। আমাদের অনেকেরই মুখের কালো দাগ আর বয়সের ছাপ পড়ে যায় অকালেই। পাশাপাশি ত্বক হয়ে থাকে মলিন বা ফ্যাকাসে। সিরাম আমাদের ত্বকের এই সমস্যাগুলোর ম্যাজিকাল সল্যুশন হিসেবে কাজ করে এবং ফিরিয়ে আনে ত্বকের দিপ্তি এবং লাবণ্য। কিন্তু অনেকেই জানি না, আমাদের সমস্যা অনুযায়ী কোন সিরামটি সবচেয়ে ভাল কাজে দিবে। তাই আজকে আমি কথা বলব আমার রিসেন্টলি ব্যবহার করা একটি সিরাম নিয়ে, যা ব্যবহার করে আমি বেশ কিছু উপকার পেয়েছি খুবই কম সময়ের মাঝেই।


সিরাম কী?

সিরাম হচ্ছে মূলত হাইলি কনসেনট্রেটেড পাওয়ারফুল ইনগ্রেডিয়েন্টগুলোকে অনেক লাইট বা থিন ফর্মুলার আকারে তৈরি করা হয়। যে ইনগ্রেডিয়েন্টসগুলো আমাদের স্কিনের কোনো স্পেসিফিক প্রবলেমকে টার্গেট করে কাজ করে।


সিরামের কাজ কী?

সিরাম আমাদের স্কিনের স্পেসিফিক প্রবলেমকে টার্গেট করে কাজ করে।

সিরাম আমাদের স্কিনের একদম ভেতরের লেয়ার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। তাই এটি আমাদের ত্বকে খুব দ্রুত কাজ করে।

রেগুলার স্কিন কেয়ারের পাশাপাশি স্কিনের কমন কিছু প্রবলেমস যেমন- স্পট বা পিগমেন্টেশনের সমস্যা, সান ট্যান, ব্রণের দাগ, আন ইভেন স্কিন টোন বা রিংকেলসের সমস্যা। এই সমস্যাগুলোকে টার্গেট করে সমধান দিতে কাজ করে সিরাম।

আমার রিসেন্ট ফেবারিট সিরাম

আজকে আমি কথা বলব, মামাআর্থ স্কিন ইল্যুমিনেট ফেইস সিরাম নিয়ে। এই সিরামটিতে রয়েছে ত্বকের যত্নে দারুণ প্রয়োজনীয় দুটি উপাদান। একটি ভিটামিন সি এবং অন্যটি টারমারিক বা হলুদ। প্রথমেই জেনে নেই ভিটামিন সি এবং হলুদ আমাদের ত্বকে কীভাবে কাজ করে।


ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি এর কাজ

(১) ভিটামিন সি তে আছে প্রচুর পরিমানের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বককে ক্ষতিকর সূর্যরশ্মির প্রভাব থেকে রক্ষা করে।


(২) ত্বকের অতিরিক্ত মেলানিন প্রোডাকশনকে বাঁধা দেয়।


(৩) ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।


(৪) ত্বকের কোলাজেন প্রোডাকশন বাড়ায়, যা আমাদের ত্বকে বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে।ত্বকের যত্নে টারমারিক বা হলুদের কাজ 

(১) হলুদের মধ্যে অ্যান্টিসেপ্টিক এবং অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান থাকে, যা ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে।


(২) ব্রণের দাগ এবং লোমকূপ থেকে অতিরিক্ত তেল বের হওয়ার প্রবণতাকে কমিয়ে দেয়।


(৩) ত্বককে উজ্জ্বল এবং লাবণ্যময়ী করতে সাহায্য করে।


(৪) হলুদ ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে।


(৫) ত্বকের পোড়া ভাব এবং পিগমেন্টেশন কমাতে হলুদ দারুণভাবে কাজ করে।


মামাআর্থ  স্কিন ইল্যুমিনেট ফেইস সিরাম রিভিউ

প্যাকেজিং

সাদা এবং হালকা সবুজ রঙের প্যাকেটে মোড়ানো অবস্থায় পাবেন এই সিরামটি। ৩০ গ্রামের একটি কন্টেইনারে থাকে সিরামটি। এর প্যাকেজিং খুবই সুন্দর এবং সিম্পল। প্যাকেটের গায়ে ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্ট এবং ব্যবহার করার নিয়মও সুন্দর ভাবে দেয়া আছে।


প্রাইজ

মামাআর্থ স্কিন ইল্যুমিনেট ফেইস সিরাম এর মূল্য ১৩৫০ টাকা। তবে অফারে আমি মাত্র ১২৮০ টাকায় পেয়ে গেছি। প্রতিদিন ব্যবহারের জন্যে দাম এবং পরিমাণ অনুযায়ী এটি আমার কাছে খুব বেশিই কনভেনিয়েন্ট মনে হয়েছে।


ইনগ্রিডিয়েন্ট লিস্টে কী কী থাকছে?

প্রোডাক্ট কেনার আগে অবশ্যই তার মাঝে কী কী ইনগ্রিডিয়েন্ট আছে তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন।মামাআর্থ স্কিন ইল্যুমিনেট ফেইস সিরামে রয়েছে-


ভিটামিন সি

টারমারিক বা হলুদ

নিমফায়া আলবা ফ্লাওয়ার এক্সট্র্যাক্ট

স্কোয়ালেট

সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড

বেহেনিল অ্যালকোহল এর মত প্রয়োজনীয় বেশ কিছু উপাদান।

যে কারণে এই ফেইস সিরামটি আমার বেশি ভাল লেগেছে


(১) এই সিরামটির স্পেশাল দিক হলো এতে একই সাথে ভিটামিন সি এবং টারমারিকের গুনাগুণ দুটোই রয়েছে। সাধারণত সিরামগুলোতে একই সাথে এই দুটি উপাদান থাকেনা। তাই এই একটি প্রোডাক্টকেই আমরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের বেনিফিটস পেয়ে যাচ্ছি সহজেই।


(২) যাদের স্কিনে এজিং এর সমস্যা রয়েছে তাদের জন্যে এটি খুবই ভাল সল্যুশন দিবে। বয়সের ছাপ এবং বলিরেখা দূর করতে এটি দারুণ কার্যকরী।


(৩) স্কিনকে ওভার ড্রাই করেনা।


(৪) আমার স্কিন অনেকটা সেনসিটিভ। আমার কোনো রকম ইচিং বা রিঅ্যাকশন ফিল হয়নি।


(৫) খুব সহেজেই স্কিনের সাথে মানিয়ে গেছে ।


(৬) পরিমাণ খুব ভাল মানের ছিল। নিশ্চিন্তে এক মাস ব্যবহার করা যাবে।


(৭) প্রতিদিন ব্যবহারের জন্যে দামও সাধ্যের মধ্যে রয়েছে


(৮) এর ক্রিমি টেক্সচার এবং স্মেল আমার খুবই ভাল লাগে। স্মেলটা খুবই রিফ্রেশিং।


(৯) অল্প একটু নিলেই ফুল কভারেজ দিতে পারে।


(১০) স্কিনে কোনরকম ব্রেক আউট করে না।


(১১) আমার মুখের ফ্যাকাসে ভাব কিছুদিনের মধ্যেই কমে এসেছে।


(১২) আমার মুখে অনেকদিন আগের কিছু ব্রণের দাগ ছিল, আস্তে আস্তে তাও কমে এসেছে।


(১৩) ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করতে অনেক সাহায্য করে।


দ্রুত কার্যকরী রেজাল্ট পেতে কীভাবে ব্যবহার করবেন?

সিরাম নামটি শুনলেই মনে হতে পারে এটি লাগানোর নিয়ম হয়ত অনেক কঠিন। কিন্তু সত্যি বলতে, এটি ব্যবহার করার নিয়ম খুবই সহজ এবং সাধারণ। আমি যে স্টেপগুলো ফলো করি সিরাম ইউজের সময় তা আপনাদের সাথে শেয়ার করা হলো-

প্রথমেই, প্রপারলি ডাবল ক্লিনজিং করে নিতে হবে। তবে খুব বেশি ঝামেলা মনে হলে ডাবল ক্লিনজিং না করলেও ফেইস ওয়াশ দিয়ে মুখটা অবশ্যই ধুয়ে নিবেন।

এরপর, একটি টোনার ব্যবহার করে নিন।

এবার ২ থেকে ৩ ড্রপ সিরাম এক হাতে নিয়ে আরেক হাতের আঙুলের সাহায্যে মুখে ড্যাব করে লাগিয়ে নিন।

স্কিন সিরাম শুষে নিলে অবশ্যই একটি ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করে নিতে ভুলবেননা।

ছোট্ট একটি টিপস!

দিনে অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার না করে রাতে শুধু সিরাম ব্যবহার করতে থাকেন, এতে কিন্তু তেমন কোন একটা লাভ হবেনা। তাই আপনার ডে-কেয়ারে অবশ্যই সানস্ক্রিন রাখতে ভুলবেন না।

এইতো! জেনে নিলাম আমার পছন্দের সিরাম নিয়ে খুঁটিনাটি। ত্বকের যত্নে ব্যবহিত নানা প্রোডাক্টসের সাথে আমরা পরিচিত হলেও অনেকেই মনে করি, হয়তো এই প্রোডাক্টসগুলোর পিছনে শুধু শুধু অনেক বেশি টাকা খরচ করা হবে। কাজের কাজ তেমন কিছুই হবেনা! অথচ আমাদের প্রতিদিনের নানা সমস্যার সমাধানের জন্যেই কিন্তু এই প্রোডাক্টস গুলো তৈরি করা হয়। তাই এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। এই সিরামটি ব্যবহার করে আমি বেশ কিছু উপকার পেয়েছি এবং শেষ হয়ে গেলে আমি আবারও অর্ডার করবো।! আশা করছি, আপনারা যারা এই প্রোডাক্টটির ব্যাপারে জানতে চাচ্ছিলেন তাদের জন্যে এই লিখাটি উপকারে আসবে।

সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, সুন্দর থাকবেন।

যত কথা নখ রাঙানো নিয়ে


নখ রাঙাতে রঙ এখন সীমানা অতিক্রম করেছে। এখন পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে হাত-পায়ের নখে নীল, সবুজ, রেডিয়াম, কালো-সাদা প্রায় সব রঙ শোভা পায়। রাঙানোর পাশাপাশি নখ ও হাতের যত্নের দিকেও এখন অনেকেই বেশ সচেতন। বাজারেও রয়েছে নানান ব্র্যান্ডের এবং বিভিন্ন দামের নেইল পলিশের সমাহার।


তবে নখ রাঙানোর আগে এবং পরে বেশ কিছু বিষয় লক্ষ রাখতে হয়-

১. নেইল পলিশ লাগানোর আগেই বাছাই করতে হবে নেইল পলিশের রঙ। প্রথমেই নিজের ত্বকের সঙ্গে কী ধরনের রঙ মানানসই সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। উজ্জ্বল ত্বকে প্রায় সব ধরনের রঙই মানিয়ে যায়। তবে কিছুটা শ্যামলা রঙ এর ক্ষেত্রে বেশি হাইলাইট বা উজ্জ্বল রঙ বেছে না নেওয়াই ভালো।

২. বর্তমানে পোশাকের রঙ এর সঙ্গে মিল করার জন্য নেইল পলিশ পাওয়া যায়। লাল, গোলাপি, কমলা, খয়েরি, বেগুনি ছাড়াও নীল, হলুদ, সবুজ, রেডিয়াম কালার এবং সাদা-কালো নেইল পলিশ পাওয়া যাচ্ছে যেকোনও কসমেটিকসের দোকানেই। তবে নীল, সবুজ, হলুদ কারও পছন্দের তালিকায় না থাকলে পোশাকের রঙ এর সঙ্গে মানিয়ে যায় এমন যেকোনোও রঙই নখে ব্যবহার করা যায়।

৩. নখের রং নির্বাচনের আগে কোথায় যাচ্ছেন, অবশ্যই সে বিষয়টি মাথায় রাখবেন। পার্টি বা অনুষ্ঠান হলে ভিন্ন বিষয়। অফিস, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি হাইলাইটিং বা উজ্জ্বল রং ব্যবহার না করাই ভালো।

৪. নতুন নেইল পলিশ ব্যবহারের আগে অবশ্যই আগের নেইল পলিশ ভালো করে তুলে ফেলতে হবে। এর জন্য প্রথমে ভালো রিমুভার তুলায় ভিজিয়ে নখে ঘষে রঙ তুলুন। তারপর হালকা গরম পানিতে শ্যাম্পু মিশিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। হাত শুকিয়ে তবেই নতুন করে নেইল পলিশ লাগাতে হবে। সবসময় ভালো ব্র্যান্ডের নেইল পলিশ বেছে নিন। যা বেশি টেকসই হওয়ার পাশাপাশি নখেরও ক্ষতি করবে না।

৫. অনেক সময় নখে সাদা সাদা দাগ পড়ে। এগুলোর অন্যতম একটি কারণ হতে পারে নেইল পলিশের কেমিকেল। এই কারণে ভালো ব্র্যান্ডের নেইল পলিশ বেছে নেওয়া জরুরী। একটানা নেইল পলিশ ব্যবহার করবেন না। নতুন নেইল পলিশ ব্যবহারের আগে অন্তত কিছুদিন নেইল পলিশ ছাড়াই থাকুন।

৬. অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, নখ কিছুটা বড় হলেই ভেঙে যায় বা ফেটে যায়। এর প্রধান কারণ শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব। তাই ক্যালসিয়াম-জাতীয় খাবার এবং ‘ভিটামিন সি’ যুক্ত ফলমূল খেতে হবে। বেশিক্ষণ পানি নিয়ে কাজ করার পর নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল, আমন্ড অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে, এর মধ্যে কিছুক্ষণ নখ ভিজিয়ে রাখুন। এরপর হাত ধুয়ে লোশন লাগিয়ে রাখলেও উপকার পাওয়া যায়।

৮. সপ্তাহে একদিন অন্তত হাত এবং নখ পরিষ্কার করা উচিত। এর জন্য ভালো কোনো পার্লারে গিয়ে মেনিকিউর করানো যায়। আবার এ কাজটি ঘরে বসেই চট জলদি সেরে নিতে পারেন। হালকা গরম পানিতে কিছুটা লেবুর রস ও লবণ গুলিয়ে এর মধ্যে শ্যাম্পু মিশিয়ে হাত কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। তারপর হাত পরিষ্কারের ব্রাশ দিয়ে হাত এবং নখের গোড়ায় ঘষে পরিষ্কার করতে হবে।

৯. অনেক সময় কিউটিকলস বা মরা চামড়া নখের উপর জমে। এই সমস্যা থাকলে কিউটিকলস কাটার দিয়ে কেটে পরিষ্কার করে হাতে লোশন লাগিয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত ১ দিন এই পদ্ধতিতে হাত পরিষ্কার করলেই যথেষ্ট।

মার্কেটে এখন বিভিন্ন ধরনের, বিভিন্ন দামের এবং ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ডের নেইল পলিশ পাওয়া যাচ্ছে। সেখান থেকে নিজের পছন্দসই রং বেছে নেওয়াটাই আসল। ছোট কসমেটিকসের দোকান থেকে শুরু করে সুপার শপগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নেইল পলিশ। এখন রঙ এর পাশাপাশি নেইল পলিশের ধরনেও রয়েছে পার্থক্য। কোনোটা বেশি চকচকে, কোনোটা আবার ম্যাট। আবার রেডিয়াম কালার এবং ম্যাগনেটিক নেইল পলিশও রয়েছে বাজারে। সহজলভ্য ব্র্যান্ডগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জ্যাকলিন, ফারমাসি, জরডানা, লা ফেম, ফ্লোরমার, ইজাবেল, সি আর, ভিওভি এবং আরও ভিন্ন ভিন্ন নামের ব্র্যান্ড। এই নেইল পলিশগুলির দামেও রয়েছে রকমভেদ। ভিওভি-এর প্রতিটি নেইল পলিশের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। জ্যাকলিন এবং ফারমসি’র দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা। ফ্লোরমারের বিভিন্ন ধরনের নেইল পলিশ রয়েছে। প্রিটি, সুপারশাইন, ম্যাট, নিওন, নেইল আর্ট, ম্যাগনেটিক এবং গ্রাফিটি। রকমভেদে দাম ৯০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা। 

বিদেশি ভালো ব্র্যান্ডের নেইল পলিশের মধ্যে রয়েছে ম্যাক, এলফ ও লরিয়াল।

আশা করছি আসন্ন পূজা এবং ঈদে আমার এই টিপসগুলো আপনাদের উপকারে আসবে। সবাইকে ঈদুল আযহা এবং শারদীয় দুর্গা পূজার অগ্রিম শুভেচ্ছা।

তিনটি নেইল আর্ট সহজ এবং চমৎকার


নেইল আর্ট আজকাল সবারই পছন্দ। কিন্তু সব সময় টিউটোরিয়াল দেখে ঠিক মতো করা যায় না। তাই শুরু শুরুতে সহজ নেইল ডিজাইনগুলো করাই ভালো। আবার যাদের নখ খুব বেশি বড় নয়, তাদের সব রকমের ডিজাইন মানায় না আর ফুটেও ওঠে না।তাই আজকে খুব সহজ তিনটি নেইল আর্টের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবো। ডিজাইনগুলো করতে খুব কম সময় লাগবে।


১.

প্রথমে আঙ্গুলে যে কোন রঙের একটি লেয়ার দিয়ে নিন।

লেয়ারটি শুকানোর পর একটি ফোমের তৈরি মেকআপ স্পঞ্জে অথবা পাতলা করে কাটা ফোমে আপনার পছন্দ মতো দুটি নেইল পলিশ পাশাপাশি লাগিয়ে নিন। ৩/৪ টি রঙের নেইল পলিশও নিতে পারেন।

তারপর নেইল পলিশ মাখা স্পঞ্জটি আঙ্গুলের নখে চেপে ধরে তুলে ফেলুন। এভাবে সব আঙ্গুলের নখে করুন। দেখবেন নখে রংগুলো শেডের মতো হয়েছে।

চামড়ায় লেগে গেলে একটি কটনবারের সাহায্যে চামড়ায় লেগে থাকা নেইল পলিশ উঠিয়ে নিন।অথবা আঙ্গুলে নখ বাদে বাকিটা স্কচটেপ দিয়ে পেছিয়ে নিতে পারেন। এতে নখের বাইরে নেইল পলিশ লাগবেনা।

পুরো নেইল পলিশ ভালো করে শুকিয়ে ফেলার পরে স্বচ্ছ নেইলপলিশ দিয়ে টপ কোট লাগিয়ে নিন।

২.

প্রথমে আঙ্গুলে যে কোন রঙের একটি লেয়ার দিয়ে নিন।

গ্লিটার নেইলপলিশ ছাড়াও বাজারে অনেক রকমের গ্লিটার পাউডার পাওয়া যায়,সেগুলো নেইলপলিশের উপর ব্যবহার করলে অনেক আকর্ষণীয় লাগে। এখন প্রথম লেয়ার শুকানোর আগেই তার উপর হাত দিয়ে অথবা ফোমের তৈরি মেকআপ স্পঞ্জ দিয়ে অল্প অল্প করে গ্লিটার পাউডার লাগিয়ে নিন। আপনার যেভাবে খুশি, যেভাবে আপনার ভালো লাগে সেভাবে লাগিয়ে নিন।

এরপর একটু শুকিয় আসলে আর উপর স্বচ্ছ নেইল পলিশ দিয়ে টপ কোট লাগিয়ে নিন।

আপনি চাইলে ৩/৪ রঙের গ্লিটার পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।

৩.

প্রথমে স্কচটেপ আপনার মন মতো ছোট ছোট ২/৩টি ডিজাইনে কেটে নিন। স্টার, হার্ট অথবা সোজা যেভাবে আপনার নখে ভালো লাগবে কেটে রেখে দিন।

এরপর নখে আগে যেকোন একটি রঙের নেইলপলিশ লাগিয়ে নিন। স্বচ্ছ নেইলপলিশ দিলে ভালো হয়, তাহলে ডিজাইনটি ফুটে উঠবে।

এখন যেকোনো দুটি বা আপনার যেভাবে ভালো লাগবে সেভাবে স্কচটেপগুলো নখের মাঝে লাগিয়ে নিন।

এবার অন্য যেকোন আরেকটি রঙের নেইলপলিশ লাগায় শুকিয়ে নিন।

স্কচটেপগুলো তুলে ফেলুন। তারপর স্বচ্ছ নেইলপলিশ দিয়ে টপ কোট লাগিয়ে নিন।

এভাবেই খুব সহজে আর খুব বেশি ঝামেলা ছাড়াই করে ফেলুন নেইল আর্ট গুলো !

৪টি ঘরোয়া উপায় নখ দ্রুত বড় ও শক্ত করার


ত্বকের যত্নে কত কিছুই তো করা হচ্ছে কিন্তু নখের ঠিকঠাক যত্ন নেওয়া হচ্ছে তো? ত্বকের যত্নের পাশাপাশি নখের যত্নের জন্য রাখুন কিছুটা সময়। হাতের সৌন্দর্যের অনেকটাই নির্ভর করে নখের উপর। নখ যেহেতু হাতের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয় সেহেতু চলুন জেনে নিই নখ দ্রুত বড় ও শক্ত করার কিছু উপায়।সপ্তাহে অন্তত একদিন হাত পায়ের নখের যত্ন নিন নিম্নোক্ত উপায়ে।


নখ দ্রুত বড় ও শক্ত করার ৪টি উপায়

(১) প্রথমে লবণ, কুসুম গরম পানি আর ১ চামচ অলিভ অয়েল নিন। সব একসাথে ভালোভাবে মিক্স করে নিন। এরপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট এই মিশ্রণে  নখ ভিজিয়ে রাখুন।

(২) ১ চামচ লেবুর রস, ৩ চামচ অলিভ অয়েল নিন। কুসুম গরম করে নিয়ে মিশ্রণে নখ ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। রোজ এইভাবে করতে হবে।

(৩) কমলার রস নিন, তাতে নখ ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। তারপর উষ্ণ বা কুসুম গরম পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিন। এরপর ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার ক্রিম লাগিয়ে নিন।  প্রতিদিন এই পদ্ধতি ফলো করুন।

(৪) অনেকের নখ খুব পাতলা হয়,  একটুতেই ভেঙ্গে যায়। নখ শক্ত করতে উষ্ণ বা কুসুম গরম অলিভ অয়েলে ২০ মিনিট নখ ডুবিয়ে রাখুন  (১ দিন পর পর করুন) এই উপায়টি ফলো করতে পারেন।


ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে নখ সাদা করা যায়?

সহজে নখ বড় এবং পাতলা নখ শক্ত করার উপায় জেনে নিলেন। এই সমস্যাগুলোর পাশাপাশি  অনেকের নখে হলদে ভাব  চলে  আসে। যা দেখতে অনেক বাজে লাগে। ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে নখ সাদা করা যায় তা জেনে নিন।

বেবি টুথব্রাশ বা নরম ব্রাশ এবং পেস্ট (জেল টাইপ পেস্ট এর থেকে সাদা পেস্ট ব্যবহার করা ভালো) দিয়ে নখ ১-২ মিনিট ঘষুন। অথবা পেস্টের সাথে বেকিং সোডা ব্যবহার করলে আরও ভালো ফল পাবেন।নখ পরিষ্কার করা হলে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার বা লোশন বা ক্রিম লাগিয়ে নিবেন।


নখের যত্নে নারিকেল তেল

১.  নারিকেল তেল (ভার্জিন নারিকেল তেল) নিন।  একটু হাতে নিয়ে দুই হাতে ঘষে গরম করে নিন।

২. পুরো হাতে এবং নখের কোনাতেও ভালোভাবে ঘষুন। এভাবে কয়েকবার করুন।

৩. এতে  নখের সাথে সাথে হাতের স্কিন গ্লো করবে, এবং এবং কিছুদিন টানা ব্যবহার করে আপনার স্কিনের তফাৎ টের পাবেন।

"সিক্রেট" উপায় দ্রুত নখ বৃদ্ধির


ত্বক এবং চুলের যত্ন নিয়মিতই করা হয়। ত্বক,চুল সবই সুন্দর। কিন্তু হাতের সৌন্দর্য যে নখ, তা-ই তো আমার নেই। কারণ নখ বড়ই হচ্ছে না। একটু বড় হলেও তা আবার ভেঙে যাচ্ছে।  সবাই নখের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যে কত নেইলপলিশ, নেইল আর্ট করছে। কিন্তু আমার তো নখই বড় হয় না। এসব করবো কি করে! এইসব ভাবনা অনেক নারীর মনেই রয়েছে। নখ বড় হচ্ছে না। কী করা যায়!  এর আগে এই নখের দ্রুত বৃদ্ধি নিয়ে বেশ কয়েকটি আর্টিকেল প্রকাশ করা হয়েছে। নখ বড় করার ক্ষেত্রে প্রথম দুটি ধাপ সাজগোজের বন্ধুদের অজানা নেই। তারপরও একটু ঝালিয়ে নিলে মন্দ হয় না। কি বলুন? সহজ এবং জানা এই পদ্ধতির পর জানাব অয়েলিং রেসিপিটি কীভাবে তৈরি এবং ব্যবহার করবেন।


ধাপ ১

প্রথম ধাপে যে কাজটি করতে হবে তা হলো কিউটিকল পুশিং। নখের গ্রোথ বৃদ্ধির জন্যে নখের কিউটিকল পুশ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি কিউটিকল পুশারের সাহায্যে নখের কিউটিকলগুলো আস্তে আস্তে পুশ করতে থাকুন। একটু সাবধানে করবেন কাজটি।  আর এই কাজটি আবার প্রতিদিন করতে যাবেন না। সপ্তাহে একদিন করলেই যথেষ্ট।


ধাপ ২ 

এই ধাপে যা করতে হবে, তা হলো – একটি নেইল সোকিং সল্যুশন তৈরি করতে হবে।

এজন্যে আমাদের যা যা লাগবে –

(১) অলিভ অয়েল – অলিভ অয়েল নখের ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং নখকে নারিশ করে। এতে রয়েছে ভিটামিনস যা, ব্লাড সার্কুলেশন বৃদ্ধি করে এবং নখের ড্যামেজ রোধ করে। এছাড়াও এটি নখের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

(২) লেবুর রস – লেবুর রস নখকে শক্ত করতে সাহায্যে করে, যার ফলে নখ ভেঙে যাওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

(৩) লবন – লবন ব্যাক্টেরিয়া জনিত জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে।

(৪) গরম পানি।


সল্যুশনটি ব্যবহারের নিয়ম:

– একটি পরিষ্কার বোল নিয়ে এর মধ্যে গরম পানি ঢেলে নিন। পানিটা এমন গরম হবে, যার মধ্যে আপনি আপনার হাত চুবাতে পারবেন।

– এবার এর মধ্যে অর্ধেকটা লেবুর রস,  ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল এবং ১ টেবিল চামচ লবন মিশিয়ে নিন।

– হাতের আঙুলগুলো এই সল্যুশনে ডুবিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এরপর হাতটা পরিষ্কার টাওয়ালে মুছে নিন। ধোয়ার প্রয়োজন নেই।


ধাপ  ৩ (সিক্রেট রেসিপি)

৩য় যে ধাপটার কথা বলব তা হলো নেইল অয়েলিং। এজন্যে লাগবে মাত্র ৩ টি উপকরণ।  এগুলো হলো –

(১) রসুন কোয়া – রসুন নখের গ্রোথের জন্যে খুব কাজের। এটি নখের গ্রোথকে বুস্ট করে। রসুনে আছে এ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যার ফলে নখের বৃদ্ধি হয় এবং এটি নখের ব্যাক্টেরিয়া জনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

(২) অলিভ অয়েল – অলিভ অয়েল নখের ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং নখকে নারিশ করে। এতে রয়েছে ভিটামিনস যা, ব্লাড সার্কুলেশন বৃদ্ধি করে এবং নখের ড্যামেজ রোধ করে। এছাড়াও এটি নখের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

(৩)  অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপার।


নেইল অয়েলিং করার নিয়ম:

– ৩ কোয়া বড় রসুন নিয়ে এগুলো ভালোভাবে থেতলে নিন। এবার এর মধে ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি একটি বোতলে ভরে নিন। এটি ১০ দিন নরমাল ফ্রিজে ভালো থাকবে।

– ২য় ধাপ অনুসরণর পর এই অয়েলটি নিয়ে নখে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন।

– এবার একটি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপার নিয়ে ছোট ছোট পাঁচটি টুকরা করে কেটে নিন। এই টুকরাগুলো প্রত্যেকটি আঙুলে নখের চারপাশে পেঁচিয়ে নিন। এভাবে ৩০ মিনিট রেখে দিবেন।

– ৩০ মিনিট পর যেকোনো মাইল্ড সোপ দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিয়ে হাত মুছে নেবেন।

প্রথম ধাপটি বলেছি সপ্তাহে একদিন করলেই চলবে। কিন্তু ২য়  এবং ৩য় ধাপ কিন্তু প্রতিদিন ফলো করতে হবে। যদি দ্রুত লম্বা নখ চান, তবে আবারো বলছি প্রতিদিন ফলো করবেন।

আশা করছি ৭-১০ দিনের মধ্যেই আপনার কাঙ্ক্ষিত রেজাল্ট পেয়ে যাবেন।