নিউজ

Other News

More news for your entertainment

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আজ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ফাইল ছবি

আজ ১৭ মার্চ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এবার উদযাপিত হবে এ দিনটি। গত বছর বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন থেকে শুরু হয় মুজিব বর্ষ যা এ বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এই নেতা ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এই দিনটি জাতীয় শিশু কিশোর দিবস হিসেবেও উদযাপিত হয়। এবারের জাতীয় শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর হৃদয় হোক রঙিন’।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোতেও দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা হবে। দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি ১০ দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

এর আগে গত বছর বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও করোনা ভাইরাসজনিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে মুজিব বর্ষের কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করে উদযাপিত হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। বিদ্যমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিরা অংশগ্রহণ করবেন।

ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জানান, অনুষ্ঠানমালায় প্রতিদিন পৃথক থিমভিত্তিক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অডিওভিজুয়াল এবং অন্যান্য বিশেষ পরিবেশনার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। ১০ দিনের অনুষ্ঠানমালার থিমগুলো হলো—১৭ মার্চ ‘ভেঙেছ দুয়ার এসেছো জ্যোতির্ময়’, ১৮ মার্চ ‘মহাকালের তর্জনী’, ১৯ মার্চ ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা’, ২০ মার্চ ‘তারুণ্যের আলোকশিখা’, ২১ মার্চ ‘ধ্বংসস্তূপে জীবনের গান’, ২২ মার্চ ‘বাংলার মাটি আমার মাটি’, ২৩ মার্চ ‘নারীমুক্তি, সাম্য ও স্বাধীনতা’, ২৪ মার্চ ‘শান্তি-মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত’, ২৫ মার্চ ‘গণহত্যার কালরাত্রি ও আলোকের অভিযাত্রা’ এবং ২৬ মার্চ ‘স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণরেখা’।

১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় ১৭ মার্চ, ২২ মার্চ ও ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং ১৭ মার্চ, ১৯ মার্চ, ২২ মার্চ, ২৪ মার্চ ও ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন। এই পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধানগণ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

আজকের অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ, ১৯ মার্চের অনুষ্ঠানে শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, ২২ মার্চের অনুষ্ঠানে নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারী, ২৪ মার্চের অনুষ্ঠানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং এবং ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকবেন।

এই পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সীমিত আকারে ৫০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া, এই পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানসহ অন্য পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানমালায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ধারণকৃত বক্তব্য প্রদর্শন করা হবে। প্রত্যেকদিনের অনুষ্ঠান টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মওলানা আজাদ কলেজ) ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান শাখার যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আজীবন সোচ্চার এই অবিসংবাদিত নেতাকে রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ করতে হয়।

বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬-দফা ও পরবর্তীতে ১১ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন। তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ধাপে ধাপে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হলেও তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাঙালি জাতির ওপর নানা নির্যাতন শুরু করে। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন, যা ইউনেসকোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অর্ন্তভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

অন্যদিকে, ২৬ মার্চ (২৫ মার্চ মধ্যরাতে) বঙ্গবন্ধু  আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালির বহু আকাঙ্ক্ষিত বিজয় ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়। বিংশ শতাব্দীতে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যারা বিশ্বনন্দিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অন্যতম।

সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরামহীন সংগ্রামে অবদান রাখার জন্য বঙ্গবন্ধু বিশ্বশান্তি পরিষদ প্রদত্ত জুলিও কুরি পদকে ভূষিত হন। বিবিসির এক জরিপে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু যখন বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করতে শুরু করেন ঠিক সেই মুহূর্তে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তি ও কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং ওই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি ধানমণ্ডির বাসভবনে কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নিহত হন।

বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে বঙ্গবন্ধু ছিলেন ক্ষণজন্মা পুরুষ। অনন্য সাধারণ এই নেতাকে ‘স্বাধীনতার প্রতীক’ বা ‘রাজনীতির ছন্দকার’ খেতাবেও আখ্যা দেওয়া হয়। বিদেশি ভক্ত, কট্টর সমালোচক এমনকি শত্রুরাও তাদের নিজ নিজ ভাষায় তাঁর উচ্চকিত প্রশংসা করেন।

বিগত বিংশ শতাব্দীর কিংবদন্তি কিউবার বিপ্লবী নেতা প্রয়াত ফিদেল ক্যাস্ট্রো বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। ক্যাস্ট্রো বলেন, ‘আমি হিমালয়কে দেখিনি, তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি ছিলেন হিমালয় সমান। সুতরাং হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা আমি লাভ করেছি।’

শ্রীলংকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষ্মণ কাদির গামা (নৃশংস হত্যার শিকার) বাংলাদেশের এই মহান নেতা সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া গত কয়েক শতকে বিশ্বকে অনেক শিক্ষক, দার্শনিক, দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক, রাজনৈতিক নেতা ও যোদ্ধা উপহার দিয়েছে। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান সবকিছুকে ছাপিয়ে যান, তাঁর স্থান নির্ধারিত হয়ে আছে সর্বকালের সর্বোচ্চ আসনে।’

‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন জনগণের নেতা এবং তাদের সেবায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁকে দেওয়া বঙ্গবন্ধু খেতাবে এই দেশপ্রেমিক নেতার প্রতি দেশের মানুষের গভীর ভালোবাসা প্রতিফলিত হয়।’

ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ২০১৩ সালের ৪ মার্চ নগরীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মন্তব্য বইয়ে এমন মন্তব্য লিখেছিলেন।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মন্তব্য বইয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সম্মোহনী এবং অসীম সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর জনগণের নেতৃত্বদান করেছিলেন।’

জার্মানির সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিয়ান উলফ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেন, ‘এই স্মৃতি জাদুঘর আমাদের একজন মহান রাষ্ট্রনায়ককে স্মরণ করিয়ে দেয়, যিনি তাঁর জনগণের অধিকার ও মর্যাদার জন্য লড়াই করেছিলেন এবং অতিদ্রুত স্বাধীনতা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।’

ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন নেতা এবং রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। তিনি স্বাধীনতার জন্য প্রতিকূলতা ও বিরূপ পরিস্থিতি উপেক্ষা করে অটল সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছেন।’

জাপানি ধনকুবের বিনা পয়সায় চন্দ্রভ্রমণের সঙ্গী খুঁজছেন


আকাশের চাঁদ সত্যি সত্যি ধরা দিতে যাচ্ছে জাপানি ধনকুবেরকে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দুই বছরের মধ্যে তিনি উড়াল দেবেন চাঁদের পথে। কিন্তু চাঁদ ছোঁয়ার এ সৌভাগ্যে তিনি সঙ্গী করতে চান অন্যদেরও। চন্দ্রভ্রমণের সঙ্গে নিতে চান বিশ্বের নানা প্রান্তের আটজনকে। সেই চাওয়া থেকেই বিনা খরচে চাঁদে যেতে আগ্রহী লোকজনকে খোলাখুলি প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, এই বিরল প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তিটি হলেন জাপানি অনলাইন ফ্যাশন টাইকুন ইয়ুসাকু মায়জাওয়া (৪৫)। স্পেসএক্সের তৈরি নভোযানে করে ওই চন্দ্র অভিযানে যেতে ২০১৮ সালে তিনিই প্রথম বুকিং দিয়েছেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিয়েছেন তিনি। তবে এই অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৩ সালের প্রথম দিকে ওই অভিযান শুরু হতে পারে।

মায়জাওয়া বলেন, তাঁর সঙ্গে চাঁদে যেতে তিনি ছয় থেকে আটজনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আজ বুধবার টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিওতে ওই চন্দ্র অভিযানে অংশগ্রহণের আবেদনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

মায়জাওয়া বলেন, ‘এই মিশনে আমার সঙ্গে অংশ নিতে আমি আপনাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। সারা বিশ্ব থেকে আপনাদের মধ্যে আটজন এই সুযোগ পাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব আসন কিনে নিয়েছি। তাই এটি হবে একটি ব্যক্তিগত অভিযান।’এই ধনকুবের বলেন, সব মিলিয়ে নভোযানে ১০ থেকে ১২ জন থাকবেন। পৃথিবীতে ফেরত আসার আগে গোটা চাঁদ প্রদক্ষিণ করবে এটি। অভিযানে যেতে ১৪ মার্চের মধ্যে করতে হবে প্রাক্‌–নিবন্ধন। ২১ মাচ পর্যন্ত চলবে প্রাথমিক বাছাইকাজ।এর পরের ধাপে থাকবে ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ ও অনলাইনে সাক্ষাৎকার। তবে এর জন্য সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। তবে চূড়ান্ত অভিযান ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী মে মাসের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে জানায় মায়জাওয়ার ওয়েবসাইট।

এবার পবিত্র হজে যাওয়া যাবে না করোনার টিকা ছাড়া


এবার পবিত্র হজ পালন করতে হলে করোনাভাইরাসের টিকা নিতে হবে। সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে।সৌদি আরবের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্বাক্ষর করা একটি পরিপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে দেশটির ‘ওকাজ’ নামের সংবাদপত্র। খবরে বলা হয়, যাঁরা করোনার টিকা নেবেন, এবার শুধু তাঁরাই পবিত্র হজ পালন করতে পারবেন।

পরিপত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, যাঁরা এবার পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে আসতে চান, তাঁদের জন্য টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। ২০২১ সালে হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে আসতে অনুমোদন (পারমিট) পাওয়ার ক্ষেত্রে করোনার টিকা নেওয়ার বিষয়টি অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে গণ্য হবে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে স্বল্পসংখ্যক মুসল্লি নিয়ে সীমিত পরিসরে পবিত্র হজ পালিত হয়। গত বছর সৌদি আরবে বসবাসরত দেশি-বিদেশি প্রায় ১০ হাজার মুসল্লিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পবিত্র হজ করার অনুমতি দেয় সৌদি সরকার।গত বছর সৌদি আরবের বাইরের কোনো দেশ থেকে কেউ পবিত্র হজ পালনের জন্য সে দেশে যেতে বা হজ পালন করতে পারেননি। করোনা মহামারির কারণে ওই নিষেধাজ্ঞা দেয় সৌদি আরব।প্রতিবছর সারা বিশ্বের ২৫ থেকে ৩০ লাখ মুসলমান পবিত্র হজ পালন করেন। বাংলাদেশ থেকে লাখো মুসল্লি হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যান।

সৌদি সরকারের তথ্যমতে, মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৩ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গেছেন প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষ। দেশটিতে বর্তমানে সক্রিয় করোনা রোগী আড়াই হাজার। তাঁদের মধ্যে ৫০০ জনের অবস্থা গুরুতর।সৌদি আরবে গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে করোনার টিকাদান শুরু হয়। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ টিকা নিয়েছেন।

১ কোটি ৯ লাখ টিকা পাচ্ছে কোভ্যাক্স থেকে বাংলাদেশ


আগামী জুন মাসের আগে কোভ্যাক্স থেকে ১ কোটি ৯ লাখ ৮ হাজার টিকা পাবে বাংলাদেশ। কোভ্যাক্সের আওতায় বিশ্বজুড়ে বিনা মূল্যে টিকা সরবরাহের একটি পরিকল্পনা গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুনের আগে সবচেয়ে বেশি টিকা যে দেশগুলো পাবে, তার মধ্যে বাংলাদেশ আছে ৪ নম্বরে। এ ছাড়া অন্যদেশগুলো হলো নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ব্রাজিল। আর আগামী মে মাসের শেষ নাগাদ বিশ্বের ১৪২টি দেশে ২৩ কোটি ৮২ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করা হবে।

করোনা প্রতিরোধে দরিদ্র এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে বিনা মূল্যে টিকা সরবরাহ করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নেতৃত্বে বৈশ্বিক উদ্যোগ হলো কোভ্যাক্স। এই উদ্যোগে প্রথম টিকা পেয়েছে আফ্রিকার দেশ ঘানা। কোভ্যাক্স কর্মসূচিতে ১৯৮টি দেশ অংশ নিয়েছে। তবে সব দেশই প্রথম দফায় টিকা সরবরাহের আওতায় আসছে না।

গরিব দেশগুলো ধনীদের চেয়ে টিকাদানে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। টিকা মজুত করে রাখার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস গত সোমবার ধনী দেশগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সব দুর্দশাগ্রস্ত মানুষকে সুরক্ষা দিতে চাই।’

কোভ্যাক্স কর্মসূচির আওতায় জুনের আগে বাংলাদেশ পাবে ১ কোটি ৯ লাখ ৮ হাজার টিকা। এ ছাড়া বেশি টিকা পেতে যাওয়া অপর দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার, নাইজেরিয়া ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৬ হাজার, ইন্দোনেশিয়া ১ কোটি ১৭ লাখ ৪ হাজার ৮০০ ও ব্রাজিল ৯১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ টিকা পাবে।

তালিকায় এর পরে পাঁচটি দেশ রয়েছে। এর মধ্যে ইথিওপিয়া ৭৬ লাখ ২০ হাজার, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো ৫৯ লাখ ২৮ হাজার, মেক্সিকো ৫৫ লাখ ৩২ হাজার, মিসর ৪৩ লাখ ৮৯ হাজার ৬০০ ও ভিয়েতনাম ৪১ লাখ ৭৬ হাজার টিকা পাবে।

ইরান, মিয়ানমার, কেনিয়া ও উগান্ডাও টিকা পাওয়ার তালিকায় রয়েছে। প্রতিটি দেশ ৩০ লাখের বেশি টিকা পাবে। মে মাসের শেষ দিকে ভারতও কোভ্যাক্সের টিকার বড় সরবরাহ পেতে পারে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ টুভালু ৪ হাজার ৮০০ ডোজ টিকা পাবে। নাউরো ও মোনাকো পাবে মাত্র ৭ হাজার ২০০ ডোজ টিকা।কোভ্যাক্স কর্মসূচিতে এ বছর শেষ হওয়ার আগে ৯২টি দরিদ্র দেশের ২৭ শতাংশ জনগণকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

কোভ্যাক্স প্রথম দফায় অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ডের ২৩ কোটি ৭ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করবে। ফাইজার ও বায়োএনটেকের ১২ লাখ ডোজ টিকাও এর মধ্যে থাকবে। তবে ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকা বিশেষ তাপমাত্রায় সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। দুই ধরনের টিকার ক্ষেত্রেই দুটি ডোজ নেওয়া প্রয়োজন।

ঘানা, আইভরি কোস্ট, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও কলম্বিয়া প্রথম দফায় কোভ্যাক্সের টিকা পেয়েছে। গতকাল নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, কম্বোডিয়াতেও কোভ্যাক্সের প্রথম দফার টিকা পৌঁছেছে। কঙ্গোতেও টিকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।আজ বুধবার সেনেগালে প্রথম দফায় টিকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ সপ্তাহেই আরও ২০টি দেশে কোভ্যাক্সের টিকা পৌঁছানোর কথা।

কিছু ধনী দেশ কোভ্যাক্সের টিকা বিতরণের তালিকায় ছিল। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ২২ লাখ ডোজ, কানাডা ১৬ লাখ, সৌদি আরব ১৫ লাখ, সিঙ্গাপুর ২ লাখ ৪৫ হাজার ও নিউজিল্যান্ড ২ লাখ ১১ হাজার টিকা পাওয়ার কথা। কোভ্যাক্স কর্মসূচির আওতায় যেসব টিকা বিতরণ করা হবে তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত হতে হবে।নোভাভ্যাক্স কোভ্যাক্সকে ১১০ কোটি ডোজ টিকা দেবে। সানোফি-জিএসকে, জনসন অ্যান্ড জনসনের সঙ্গেও কোভ্যাক্সের চুক্তি রয়েছে।

১২ জন করোনায় আক্রান্ত একজনের মৃত্যু, টিকা নেওয়ার পর


গত এক সপ্তাহে উপজেলার ১০৬ জন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৯ জনের শরীরে।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার পর ১২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই ১২ জনের মধ্যে ১ জন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা নিয়েছেন—এমন এক ব্যক্তির শরীরেও ফের করোনা শনাক্ত হয়েছে। টিকা নেওয়ার পর করোনায় আক্রান্ত ১২ জনের একটি তালিকা করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ ধরে এখানে করোনা আক্রান্তের হার বাড়ছে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। এ জন্য মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কিন্তু টিকা নেওয়া থেকে বিরত থাকা যাবে না।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেন, করোনার শুরু থেকেই কিশোরগঞ্জকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়ে জেলার শীর্ষে ভৈরব উপজেলা। এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯৮৬ জনের নমুনা থেকে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮২৬ জনের। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যেতে শুরু করে। আগস্টে এসে পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

গত মঙ্গলবার ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে উপজেলার ১০৬ জন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৯ জনের শরীরে। অথচ এক মাস আগেও বেশির ভাগ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা থাকত শূন্য। নমুনা দিতে আসা লোকজনের সংখ্যাও ছিল খুবই কম।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গত ৭ ফেব্রুয়ারিতে গণটিকা গ্রহণ শুরু হওয়ার পর ভৈরবে টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৭ হাজার ৮৬১ জন। আর গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৫ হাজার ৪৬১ জন। ভৈরবে টিকাকেন্দ্র করা হয়েছে স্থানীয় ট্রমা সেন্টার হাসপাতালে। আক্রান্ত ১২ জনের সবাই ওই কেন্দ্রে থেকে টিকা নিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, টিকা নেওয়ার পর মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম শামিম আহমেদ (৬৭)। তিনি পৌর শহরের ভৈরবপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। শামীম আহমেদ টিকা নেন ৮ ফেব্রুয়ারি। ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং শরীরে কোভিডের উপসর্গ দেখা যায়। ওই দিনই তিনি কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে পরীক্ষার পর ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর করোনা শনাক্ত হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন ওই হাসপাতালে তিনি মারা যান। এরপর স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, শামিম আহমেদের উচ্চ রক্তচাপ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ছিল। মৃত্যুসনদে এই তথ্য উল্লেখ করা আছে। শামিম আহমেদের মৃত্যু নিয়ে ভৈরবের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়াল সভা করেছেন।এ ছাড়া ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি টিকা নেওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথমবার আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি সুস্থ হয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর।আর ভৈরব পৌর শহরের পলতাকান্দা এলাকার এক দম্পতি টিকা নেন ৯ ফেব্রুয়ারি।

২২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) তাঁদের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। এই দম্পতির এক ছেলে ও ছেলের স্ত্রীও আক্রান্ত হয়েছেন। ওই দম্পতির মেয়ে প্রথম আলোকে বলেন, টিকা নেওয়ার পর তাঁর মা–বাবা কয়েকটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।

ভৈরবের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা খোরশেদ আলম শঙ্কিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্যা হলো টিকা গ্রহণ করার পর ব্যক্তিটি নিজেকে শতভাগ নিরাপদ ভেবে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।’

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি ভৈরবে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী জমায়েতগুলোতে প্রচুর মানুষ অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য সামাজিক জমায়েতও নিয়মিত হচ্ছে। মানুষ মাস্কও পরছেন না, স্বাস্থ্যবিধির কিছুই মানা হচ্ছে না। যার কারণে করোনা আবারও দ্রুত ছড়ানোর শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন মজিবুর রহমান বলেন, বলা আছে আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠার এক মাসের আগে কেউ টিকা নিতে পারবেন না। এখন সমস্যা হয়েছে অনেকে আক্রান্ত হয়েও টিকা নিচ্ছেন। কারণ, শরীরে ভাইরাস প্রবেশের তিন দিনের আগে উপসর্গ দৃশ্যমান হয় না। এই সময়টার মধ্যে নেওয়া ব্যক্তিরা টিকা গ্রহণের পরও পজিটিভ হওয়া স্বাভাবিক। আবার টিকা নেওয়ার পর অনেকে নিজেদের নিরাপদ ভেবে অতি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে টিকার কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা আমাদের টিকাবিধি না বোঝার।’


ভয় নয়, টিকা জরুরি

সম্প্রতি সরকারের উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা করোনার টিকা নেওয়ার পর করোনায় আক্রান্ত হন। ওই কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ১০ ফেব্রুয়ারি সচিবালয় ক্লিনিক থেকে তিনি করোনা টিকার প্রথম ডোজ নেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর জ্বর দেখা দেয়।তিনি সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) যোগাযোগ করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি আইইডিসিআরের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁর নমুনা সংগ্রহ করেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি আইইডিসিআর জানায়, ওই কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত।

টিকা নেওয়ার পরও মানুষ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই কর্মকর্তার আক্রান্ত হওয়ার দুটি ব্যাখ্যা থাকতে পারে। প্রথমত, তিনি হয়তো আগেই সংক্রমিত ছিলেন, কিন্তু রোগের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। দ্বিতীয়ত, টিকা নেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে ১৪ থেকে ২১ দিন সময়ের প্রয়োজন হয়। টিকা নেওয়ার পর ও অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার আগেই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ক্ষেত্রে সেটিও হতে পারে।’টিকা নেওয়ার পর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা আরও দেশে ঘটেছে। ৪ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসা সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে সাড়ে সাত লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৫৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনার টিকা নেওয়ার কারণে কোভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে কোভিশিল্ড টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার ন্যূনতম ১৪ দিন পর থেকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধসক্ষমতা তৈরি হয়। এ সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই করোনার টিকা নেওয়ার পরও মাস্ক ব্যবহারসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট নজরুল ইসলাম ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোকে বলেন, শরীরে করোনার জীবাণু প্রবেশের পর যদি তাঁরা টিকা নেন, তাহলে সেটা কাজ না–ও করতে পারে। কারণ, ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের পর এর সুপ্তিকাল ১৫ দিন। তার আগেই তাঁরা আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। টিকার বুস্টিং ডোজ বা দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে। তবে কারও যদি নানা শারীরিক সমস্যা বা ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল থাকে, তাহলে তিনি আবারও আক্রান্ত হতে পারেন। তবে সে সংখ্যা ১০ হাজারে একজন হতে পারে।